‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের

হালকা বাতাসেই উড়ে গেছে ঘরের চাল। ছবি: নিউজবাংলা

‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের

পুরনো ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বাড়ি, ইউএনওর নির্দেশে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে তোলা হয়েছে বালু।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য দিনাজপুর জেলায় নির্মাণ করা হয়েছে চার সহস্রাধিক বাড়ি। কিন্তু বাড়িগুলো নির্মাণের পর থেকেই নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি ফুলবাড়ীতে হালকা বাতাসে কয়েকটি বাড়ির ছাদ উড়ে যায়। রড ব্যবহার না করায় ভেঙে গেছে পিলার। রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ সংযোগও এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি।

ফলে যে সব ভূমিহীন পরিবার বাড়িগুলোতে উঠেছেন তারা থাকতে চাইছেন না। আর যারা এখনও বাড়িতে ওঠেননি তাদের মধ্যে ওঠার বিষয়ে অনীহা তৈরি হয়েছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য চার হাজার ৭৬৪টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়।

দিনাজপুর জেলায় প্রথম ধাপে নির্মিত বাড়িগুলোর নাম দেয়া হয় ‘জয় বাংলা পল্লী’। এর মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলায় ২৮০টি, বিরলে ৫৫৬টি, বোচাগঞ্জে ৪৩০টি, কাহারোলে ১৩৯, বীরগঞ্জে ৩৫০টি, খানসামায় ৪১০টি, চিরিরবন্দরে ২১৫টি, পার্বতীপুরে ২৬২টি, ফুলবাড়ীতে ৭৬৯টি, নবাবগঞ্জে ২২৬টি, বিরামপুরে ৪১৫টি, হাকিমপুরে ১৪৫টি ও ঘোড়াঘাটে ৫৬৭টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।

‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
ব্যবহার করা হয়েছে পুরোন ইট। ছবি: নিউজবাংলা

বাড়ির বর্গায় শিশু, কড়াইসহ বিভিন্ন ভালো মানের গাছের কাঠ ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ বাড়ি নির্মাণে ইউক্যালিপটাস কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে হস্তান্তরের আগেই বাড়ির বর্গার কাঠ ফেটে গেছে।

সোমবার গভীর রাতে ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুরে জয়বাংলা পল্লীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে নবনির্মিত ছয়টি ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। এই উপজেলার ওপর দিয়ে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে বৃষ্টির সঙ্গে হালকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এই ঝড়োবাতাসে ওই এলাকার আশেপাশের কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও নবনির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছয়টি ঘরের বারান্দাসহ ঘরের ছাউনির টিন ও বর্গা উড়ে যায়। ভেঙে যায় ঘরের বারান্দার পিলার। বসবাসের শুরুতেই ঘর ভেঙে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সেখানে বসবাসকারীরা।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, গত সোমবার রাতে ফুলবাড়ীর ওপর দিয়ে যে বাতাস বয়ে গেছে, সেটির গতি ছিল ঘন্টায় ৩১ কিলোমিটার। যা খুবই সামান্য। এটিকে ঝড়ো হাওয়াও বলা যাবে না।

ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়া বিউটি বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোক সরকার ঘর দিলো কিন্তু এটা কেংকা ঘর? এনা বাতাসোত মোর ঘরের চালা উঁড়ি গিয়া পুকুরোত পড়ল। ছোলপোল নিয়া আল্লাহকে ডাকছিনু। আল্লাহ রহম কর, প্রাণে বাঁচি গেলে মুই আর ওই ঘরোত থাকিম না। মোর ছোলপোলকে রক্ষা কর। মুই মনোত নিসো, মাঠোত থাকিম তাও এঙ্কা ঘরোত যাম না আর। মুই মোর ছোলপোলকে হারাতে চাও না। এগলা মানসোক মারার জন্য করসে।’

‘জয় বাংলা পল্লী’তে উঠতে অনীহা ভূমিহীনদের
হালকা বাতাসেই উড়ে যায় ঘরের চাল। ছবি: নিউজবাংলা

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুজিববর্ষে উপহার পাওয়া ঘরগুলো ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো সরকারি খরচেই মেরামত করে দেয়া হয়েছে। যারা ঘরগুলো পেয়েছে তারা ঘরগুলোতে উঠছে না। আমরা যে ছোট ছোট তালা লাগিয়ে দিয়েছি তা তারা খুলে দরজা জানালা খুলে রাখে। একারণে ঝড়ের সময় ঘরে বাতাস ঢুকে চালাসহ উড়ে গেছে। আমরা সেগুলো মেরামত করে দিয়েছি।’

গত বছর শুরু হওয়া এই উপজেলার ২নং ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের সরদডাঙ্গার গ্রামে ১০০টি বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজ শুরুর পর থেকে এই জায়গায় বাড়ি নির্মাণের নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাড়িগুলোর মধ্যে বহু বাড়ির ভিতসহ ওয়ালের গাঁথুনিতে ব্যবহার করা হয় পুরাতন ইট। এ ছাড়া বাড়ির বিভিন্ন ঢালাইকাজে ব্যবহার করা হয় পুরাতন ইটের খোয়া।

বাড়ির নির্মাণে দামি সিমেন্ট বাদ দিয়ে নিম্নমানের সিমেন্টের ব্যবহার হয়। এ ছাড়া নিয়ম রয়েছে বাড়িগুলো ভিত হিসেবে ১০ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি দিতে হবে- কিন্তু সদরডাঙ্গায় বেশির ভাগ বাড়ি ভিত ছাড়াই নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া বারান্দায় ১০ ইঞ্চি গাথুনির নিয়ম থাকলেও বেশির ভাগ বাড়িতে ৫ ইঞ্চি গাঁথুনি দেয়া হয়। একইভাবে উপজেলার অন্যান্য জায়গায় বাড়ি নির্মাণে নানান অনিয়ম পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সদরডাঙ্গায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাবের মো. সোয়াইবের নির্দেশে পাশ্ববর্তী পুনর্ভবা নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসানো হয়। আর এই ড্রেজার দিয়ে উত্তোলিত বালু পাইপযোগে ব্যক্তিগত কৃষকদের জমির ওপর দিয়ে যায় প্রকল্পের স্থানে। কিন্তু নিয়ম রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যবহৃত বালু যেকোনো ঘাট থেকে আনতে হবে। কিন্তু এই প্রকল্পে তা করা হয়নি।

আব্দুর রাজ্জাককে ফোন করা হলে এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

বিরল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাবের মো. সোয়াইব নিউজবাংলাকে বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের বিল কমিটির মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কোনো ঘাট ছাড়া অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি নিউজবাংলাকে জানান, এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো অনিয়মের অভিযোগ আসেনি। যদি অভিযোগ আসে তা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া ফুলবাড়ীতে টিনের চালা উড়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫
মুজিববর্ষ: নওগাঁয় ঘরহীন মানুষের হাসিমুখ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমিই খাচ্ছি সকল টাকা, তাতে কী? মার্কেটের দোতালায় মাদ্রাসা নির্মান করা হবে সময় হলে। এমপি কিছু টিআর বরাদ্দ দিয়েছে। বাকি টাকা হলে কাজ শেষ করে মাদ্রাসা চালু করা হবে।’

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ব্রিটিশ আমলের একটি কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট নির্মাণ ও এর ভাড়ার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাত বছর ধরে মাদ্রাসা ও সরকারি জায়গায় মার্কেট বানিয়ে ভাড়া তুলছেন গোলাম আকন্দ।

তারা জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার প্রবেশদ্বার সমেশপুর বাজারে ব্রিটিশ আমলে সরকারি জায়গায় সমেশপুর দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর হাজী আজগড় আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি মাদ্রাসার পাশে থাকা তার ২০ শতক জায়গা দান করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় এলাকাবাসী আরও ৪৫ শতক জায়গা এই মাদ্রাসাকে দান করেন। মাদ্রাসার উন্নয়ন আর খরচ জোগাতে বেলকুচি-কড্ডার মোড় আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে ১২টি দোকান করে ভাড়া দেয় মাদ্রাসা কমিটি। ধীরে ধীরে মাদ্রাসার লেখাপড়ার মান ভালো হলে বাড়তে থাকে ছাত্রসংখ্যা।

একটি টিনেরচালা ঘরে মাদ্রাসার চার জন শিক্ষক প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে পড়াতে ও আবাসিক সুবিধা দিতে সমস্যার মুখে পড়েন।

এর সমাধানের কথা বলে হাজী আজগড় আলীর দান করা ২০ শতক জায়গার ওপর একটি তিনতলা মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ।

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা
রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার নামে থাকা ৪৫ ডিসিমাল জায়গা ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করে কাজ শুরু করেন ওই দুই নেতা। এরই মধ্যে সরকারিভাবে ও স্থানীয়দের অনুদান মেলে আরও ২৮ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এই ভবনটি নির্মাণের কথা বলে সাময়িকভাবে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয় কমিটি।

তারা বলছেন, মাদ্রাসা ভবনের নিচতলা নির্মাণ শেষ হলে সেখানে শ্রেণিকক্ষ না বানিয়ে মার্কেট হিসেবে ২৮টি দোকান করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভাড়া দেন মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ।

সমেশপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় এই মাদ্রাসায় মক্তব পড়েছি। উন্নয়নের কথা বলে নেতারা মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়ে মার্কেট বানিয়ে প্রতিমাসে ভাড়া তুলে ভাগ বাটোয়ারা করে খাচ্ছে। অথচ মাদ্রাসা চালু করছে না। স্থানীয় এমপির মদদে তারা এসব অপকর্ম করতে পারছে।’

রাজাপুর গ্রামের আক্তার হোসেন বলেন, ‘মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে ভিক্ষা করে টাকা তুলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করে সওয়াবের আশায় আর এরা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তি করে মার্কেট নির্মাণ করে মাদ্রাসার নামে প্রকল্প এনে লুটেপুটে খাচ্ছে। এরা মারা গেলে কবরে কী জবাব দেবে? আমরা দ্রুত এই মাদ্রাসা চালু দেখতে চাই।’

মাদ্রাসা মার্কেটের দোকানদার সঞ্জয় সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সমেশপুর দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসা নেই, তবুও মার্কেটের দোকানের অ্যাডভান্স ও সব ভাড়া নেন আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ। আমি প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা ভাড়া দেই আর অ্যাডভান্স দিয়েছি দুই লাখ টাকা।’

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা


আরেক দোকানদার সামাদ ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে এসেছি, তবুও নেতাকে ভাড়া দিতে হয় প্রতি মাসে। আমার কাছ থেকে দুইবার মাদ্রাসার ঘর নির্মাণের কথা বলে দেড় লাখ টাকা অ্যাডভান্স নিয়েছে। আমরা এখানে অসহায়। ব্যবসা-বাণিজ্য করে খাই, তাদের সাথে ঝগড়া করে তো এখানে থাকতে পারব না। তাই তাদের কথামতোই চলতে হয়।’

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল হাকিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে একবারও কমিটি নিয়ে কোনো মিটিং করেনি। পরে আমরা কমিটির সাথে তিন বার মিটিং করার জন্য সাধারণ সভা করি। এতে কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ উপস্থিত হননি।

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের আয়-ব্যয় সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা। সে এখন মাদ্রাসা চালু করবে কিনা তাও জানিনা। কারণ সে আমাদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।’

মার্কেটে সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহে গেলে নিউজবাংলার প্রতিবেদকের ক্যামেরা দেখে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোহাম্মদের ভাই আব্দুল হাই আকন্দ ক্যামেরা বন্ধ করে চলে যেতে হুঁশিয়ারি দেন।

মার্কেটের টাকা আত্মসাৎ নিয়ে সংবাদ প্রচার করলে অনেক খারাপ পরিণতি হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, রাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমিই খাচ্ছি সকল টাকা, তাতে কী? মার্কেটের দোতালায় মাদ্রাসা নির্মান করা হবে সময় হলে। এমপি কিছু টিআর বরাদ্দ দিয়েছে। বাকি টাকা হলে কাজ শেষ করে মাদ্রাসা চালু করা হবে।’

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা


তিনি বলেন, ‘আমি এই মাদ্রাসার মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক টাকা ঋণ করেছি। ঋণ শোধ করে মার্কেটের দোতালায় যে পিলার দেখছেন সেখানে ছাদ করেই মাদ্রাসা চালু করব। আমাকে নিয়ে এসব লিখে-টিকে কিছুই করতে পারবেন না।’

রাজাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সোনিয়া সবুর আকন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাদ্রাসা নেই তবুও সরকারি অনুদান ও মার্কেটের সকল টাকা আত্মসাৎ করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছিনা। স্থানীয় এমপির ছত্রছায়ায় থাকায় তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে। আমি বারবার চেষ্ট করেও এই কমিটির কোনো মিটিং করাতে পারিনি।

‘তাই বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা চাই এই ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাটি দ্রুত চালু হোক।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মমিন মণ্ডলকে তার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।

বেলকুচির সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম রবিন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি তাই ভালো করে জানিনা। তবে এলাকাবাসী ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের কিছু লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেছি। আমরা যৌথভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘যদি মাদ্রাসা না থাকে তাহলে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়া হবে।’

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি এখনও অবগত নই। সহকারী কমিশনারকে পাঠিয়ে তদন্ত করে দেখছি। ঘটনা সত্য হলে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫
মুজিববর্ষ: নওগাঁয় ঘরহীন মানুষের হাসিমুখ

শেয়ার করুন

করোনা: তাড়িয়েছেন বাড়িওয়ালা, আমবাগানে রাতযাপন

করোনা: তাড়িয়েছেন বাড়িওয়ালা,  আমবাগানে রাতযাপন

করোনার কারণে সোহরাবকে তার বাবা জায়গা দেননি বাড়িতে। অবশেষে পুলিশ উদ্ধার করে তার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে।

করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ভাড়াবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বাড়ির মালিক। বাবার বাড়িতে গিয়েও জায়গা হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে নিয়ে দুই রাত কাটল আমবাগানে।

শেষ পর্যন্ত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা পেয়ে অবশেষে বাবার বাড়িতে তার জায়গা হয়েছে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে খাদ্যসহায়তা।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামে। ওই গ্রামের খয়বর আলীর ছেলে সোহরাব আলী (৩৫) পেশায় অটো মেকানিক। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দিনমজুরের কাজও করেন তিনি। দুই স্ত্রীর মধ্যে ছোট স্ত্রীকে নিয়ে আলীপুর বাজারের পাশেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন সোহরাব।

সোহরাব আলী জানান, হঠাৎ সর্দিজ্বর হওয়ায় গত মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে নমুনা পরীক্ষার পর তার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তবে তার স্ত্রীর করোনা হয়নি।

করোনা পজিটিভ হওয়ার পর সোহরাব আলী তার ভাড়াবাড়িতে গেলে বাড়ির মালিক তাকে সেখানে থাকতে দিতে রাজি হননি। এরপর সোহরাব তার বাবার বাড়িতে যান থাকার জন্য। কিন্তু বাবা খয়বর আলীসহ পরিবারের অন্যরাও সেখানে জায়গা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

বাধ্য হয়ে সোহরাব তার স্ত্রীকে নিয়ে বাবার বাড়ির পাশের একটি আমবাগানে টিনের ছাপরাঘরে আশ্রয় নেন।

করোনা: তাড়িয়েছেন বাড়িওয়ালা,  আমবাগানে রাতযাপন


দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন সোহরাব আলী। সেখানে তিনি জানান, তিনি বাড়িতে জায়গা পাননি। তার খাবারের প্রয়োজন। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানান, ৯৯৯ হটলাইনে ফোন পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। বাড়িতে জায়গা না পাওয়ায় আমবাগানে একটি টিনের ছাপরাঘরের নিচে তারা অবস্থান করছিলেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সোহরাব আলীকে স্ত্রীসহ উদ্ধার করে তার বাবার বাড়িতে একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সেখানে তার হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়েছে। তাকে খাদ্যসামগ্রীও দেয়া হয়েছে। তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫
মুজিববর্ষ: নওগাঁয় ঘরহীন মানুষের হাসিমুখ

শেয়ার করুন

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ উদ্বোধনের পর এক মাসের কম সময়ে ট্রেনটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি আম পরিবহন করেছে।

রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

জেলার রেলস্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ মে এই ম্যাঙ্গো ট্রেন উদ্বোধন করেন। গত ২১ জুন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এই ট্রেনের মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ (৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি) আম পরিবহন করা হয়েছে মাত্র ২৬ দিনে। গত বছর গোটা আম মৌসুমে ট্রেনে আম গিয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭২ কেজি।

তিনি মনে করেন, খরচ কম হওয়ায় ট্রেনে আম পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে বাগানমালিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের।

উদ্বোধনের পর থেকেই সপ্তাহের সাত দিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন। প্রথম দিন ৯৬০ কেজি আম নিয়ে যাত্রা করলেও দিন যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে পরিমাণ।

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে বুকিং দিতে রেলস্টেশনে এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের অনুপনগর গ্রামের নাঈম আলী। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে আম সরবরাহ করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে নাঈম বলেন, ‘আমি এক ক্যারেট (২৫ কেজি) আম পাঠালাম (ঢাকায়) ৫০ টাকায়। যেখানে কুরিয়ারে এক কেজি আমেই লাগত ১২ টাকা। ট্রেনের আরেকটা সুবিধা হলো, পরের দিনই আম পৌঁছে যাচ্ছে। সেখানে কুরিয়ারে অনেক সময় দুই-তিন লেগে যায়। অনেক সময় আম পচেও যায়। অন্যদিকে ট্রেনে আম খুব সুন্দর থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আম পৌঁছানোর পর স্টেশন থেকে গ্রাহককে ফোন করে খবরটা জানানো হলে আরও ভালো হতো। ঠিক যেমন কুরিয়ার সার্ভিসের ক্ষেত্রে হয়।’

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা


স্পেশাল ট্রেনে আম বুকিং দিতে এসেছিলেন সাহাদাত হোসেন নামে সদর উপজেলার আরেক লোক। তিনি ঢাকায় মামার বাসায় আম পাঠাতে চান।

নিউজবাংলাকে সাহাদত বলেন, ‘কোনো কোনো কুরিয়ারে ঢাকায় এক কেজি আম পাঠাতে ১৫ টাকা লেগে যায়। অন্যদিকে ট্রেনে কুলি খরচসহ দুই টাকাতেই আম পাঠাতে পারছি। ট্রেনে বেশি সুবিধা, তাই ট্রেনেই পাঠাচ্ছি। এর আগেও একবার ১০ মণ আম পাঠিয়েছি।’

করোনার কারণে অনেক দিন রেলসেবা বন্ধ ছিল। এতে দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন কুলি, মজুর ও শ্রমিকরা। ম্যাঙ্গো ট্রেনের কারণে কাজ ফিরে পাওয়ায় তারাও এখন বেশ খুশি।

রেলস্টেশনে প্রায় ৩৬ বছর ধরে কুলির কাজ করেন আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে কোনো কাজ ছিল না। ম্যাঙ্গো ট্রেন চালু হওয়ায় কাজের সুযোগ হয়্যাছে, হ্যামরা খুশি… এ্যাতে খুশি, আল্লাহ আছে, আলহামদুল্লিহ, ভালো আছি।’

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহনের সুযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকেন্দ্রিক বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনের মাধ্যমে প্রতি কেজি আম ১ টাকা ৩০ পয়সায় পরিবহনের সুযোগ এখানকার আমচাষিরা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, সারা বছরই এ সেবা অব্যাহত রাখবে রেলওয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাল্টা, পেয়ারাসহ অন্য কৃষি পণ্য পরিবহনে সারা বছরই এমন সেবা চালু থাকলে উপকৃত হবে কৃষি খাত।’

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫
মুজিববর্ষ: নওগাঁয় ঘরহীন মানুষের হাসিমুখ

শেয়ার করুন

ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার করলেন স্বেচ্ছাসেবীরা

ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার করলেন স্বেচ্ছাসেবীরা

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতুর নিচের সড়ক সংস্কারে নামেন নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যান সংঘের কর্মীরা। ছবিটি বৃহস্পতিবার সকালে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের কারণে নতুন বাজার থেকে সমবায় কমপ্লেক্স পর্যন্ত অংশ চলাচলের অনুপযোগী ছিল। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন।

খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল গাজীপুরের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতুর নিচের সড়ক। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটু পানি জমে বেশ কয়েকটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়কটি সংস্কার শুরু করেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের ১৫ কর্মী। একই সময়ে সংস্কারে আসেন সড়ক ও জনপদের লোকজনও। পরে যৌথভাবে ইট ও বালি দিয়ে ভাঙা গর্তগুলো ভরাট করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, বিসিক শিল্পনগরীসহ কালীগঞ্জ-নরসিংদী যাতায়াতের অন্যতম সড়ক এটি। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার গাড়ি যাতায়াত করে এ সড়কে। গর্তে পড়ে অহরহ ঘটছিল দুর্ঘটনা।

সবশেষ গত বুধবার বিকেলে সড়কের গর্তে পড়ে উল্টে যায় দুটি মালবাহী পিকআপ ও ট্রাক। এতে রাত পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। উল্টে যাওয়া মালবাহী পিকআপের ছবি ফেসবুকে দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এক পর্যায় বিষয়টি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের নজরে আসে। তিনি নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সদস্যদের ডেকে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্করের নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ রাতেই সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তাদের দ্রুত সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দিলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাজ শুরু হয়।

নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের কারণে নতুন বাজার থেকে সমবায় কমপ্লেক্স পর্যন্ত অংশ চলাচলের অনুপযোগী ছিল। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের টঙ্গী জোনের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল সড়কটিতে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে সংস্কার শুরু হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের স্বেচ্ছাসেবীরা সহযোগিতা করেছে।

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫
মুজিববর্ষ: নওগাঁয় ঘরহীন মানুষের হাসিমুখ

শেয়ার করুন

ভাড়াটে খুনি দিয়ে ছেলেকে খুন!

ভাড়াটে খুনি দিয়ে ছেলেকে খুন!

সুরুজ মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে জানান, মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত ছিলেন। তার কারণে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছিলেন। মোহাম্মদ আলী কোনো উপায় না দেখে সুরুজ মিয়া ও সেকানদার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি তাদের ২০ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে খুন করতে বলেন। কথামতো সুরুজ মিয়া ২১ মে রাতে জাহাঙ্গীরকে মোবাইল ফোনে ৫০০ টাকা দেয়ার কথা বলে মাহারাম নদীর তীরে নিয়ে যান।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

গত ২১ মে গভীর রাতে খুন হন মোহাম্মদ আলীর ২৮ বছর বয়সী ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ভাড়াটে দুই খুনিকে দিয়ে নিজের ছেলেকে খুন করান মোহাম্মদ আলী।

খুনের রহস্য উন্মোচনের বিষয়ে তিনি জানান, জাহাঙ্গীর আলমকে খুনের ঘটনায় তার বাবা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে একই এলাকার আহসান হাবিব, মো. সোলাইমান ও তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সন্দেহ বাড়তে থাকে।

এসপি বলেন, তাহিরপুর থানার পুলিশ গোপনে ঘটনা তদন্ত করতে শুরু করে। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসে। বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে একই এলাকার সুরুজ মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুরুজ মিয়া স্বীকার করেন, কীভাবে তিনি ও সেকানদার আলী মিলে জাহাঙ্গীরকে খুন করেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুরুজ মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে জানান, মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত ছিলেন। তার কারণে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছিলেন। মোহাম্মদ আলী কোনো উপায় না দেখে সুরুজ মিয়া ও সেকানদার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি তাদের ২০ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে খুন করতে বলেন। কথামতো সুরুজ মিয়া ২১ মে রাতে জাহাঙ্গীরকে মোবাইল ফোনে ৫০০ টাকা দেয়ার কথা বলে মাহারাম নদীর তীরে নিয়ে যান।

সেখানে পেশাদার খুনি সেকানদারকে নিয়ে নৃশংসভাবে জাহাঙ্গীরকে খুন করেন তিনি। পরে মোবাইল ফোনে জাহাঙ্গীর আলমের বাবাকে খুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেকানদার আলীকে পুলিশ গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে আটক করে। আটক সুরুজ মিয়া ও সেকানদার দুজন খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। দুজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক খুনে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মিজানুর বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বাবা মোহাম্মদ আলীই এই হত্যা মামলার বাদী। মোহাম্মদ আলী নিজের ছেলের খুনের ঘটনায় জড়িত বিধায় তার বিরুদ্ধেই নতুন করে হত্যা মামলা হচ্ছে। মোহাম্মদ আলীর করা মামলার আসামিদের অব্যাহতি দেয়ার ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫
মুজিববর্ষ: নওগাঁয় ঘরহীন মানুষের হাসিমুখ

শেয়ার করুন

উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে

উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে

‘আমাদের ঘরবাড়ি নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী আমাগো ঘর দিছে। তিন দিন ধরে আমাদের ঘরে মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। পাঁচজন বিধবা মানুষ আমারা এখানে থাকি। পানিবন্দি হয়ে প্রায় অনাহারে আছি। সাপ বা বিভিন্ন পোকামাকড় আক্রমণ করছে।’

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের সবগুলো নতুন ঘর পানিতে ভাসছে। ফলে কয়েকদিন ধরে সেখানে থাকা নয়টি পরিবার চরম দুর্ভোগে আছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে এমন নিচু জায়গাতে ঘর করা নিয়ে স্থানীয় লোকজন শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, ঘর তৈরিতে মাটির নিচে ইট ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া নিম্নমানের ইট, বালি-রড, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারে করা হয়েছে। এ জন্য তারা দায়ী করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা পারভীনকে।

তবে কোনো কিছু আমলে না নিয়ে তৎকালীন ইউএনও সেখানে ঘর নির্মাণ করেন। আড়িয়া ইউনিয়নে পলিপাড়ায় পাশে খাসজমিতে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ১৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নয়টি পরিবারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব ঘর তৈরি করা হয়।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হজুর আলী বলেন, অল্প বৃষ্টিতে পানি ঘরে ঢুকে গেছে। রান্নাঘর, যাতায়াত রাস্তা, টিউবওয়েল, বাথরুম পানিতে ডুবে আছে।

এই জলমগ্ন দশা নিরসনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ।

আয়শা বেগম বলেন, ‘আমাদের ঘরবাড়ি নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী আমাগো ঘর দিছে। তিন দিন ধরে আমাদের ঘরে মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। পাঁচজন বিধবা মানুষ আমারা এখানে থাকি। পানিবন্দি হয়ে প্রায় অনাহারে আছি। সাপ বা বিভিন্ন পোকামাকড় আক্রমণ করছে।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গৃহহীনদের জন্যে দুর্যোগ সহনীয় ঘরগুলো দুর্যোগ আসার আগেই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাবে। খুব নিচু জায়গায় ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।’

ফেসবুকে ভোগান্তির বিষয়টি জানার পরপরই বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ইউএনও আসিফি আহমেদ। ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউএনও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের একটি বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পানি নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর এলাকায় মাটি কেটে জায়গাটা উঁচু করা হবে।

‘প্রতিবাদ হয়েছিল তখন-ই’ আমলে নেয়নি কেউ

শাজাহানপুর উপজেলায় প্রথম ধাপে মোট ১৩ গৃহহীন পরিবারের কাছে ২৩ জানুয়ারি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে মাঝিরা ইউনিয়নের দোমনপুকুর ঘর পায় চারটি পরিবার।

উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে


অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ঘর তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ঘরে নিম্ন মানের ইট ব্যবহার করার কারণে দ্রুত প্লাস্টার করা হয়েছে।

এ নিয়ে প্রতিবাদ হলেও ইউএনও তার ক্ষমতাবলে তুলনামূলক নিচু জায়গাতেই ঘর নির্মাণ করে যান। তখন ইউএনও কারও ফোন ধরতেন না।

তবে এবার গণমাধ্যমকর্মীর ফোন ধরেন মাহমুদা পারভীন। বলেন, ‘ঘর পানিতে ভাসছে এমন বিষয় তো আমাকে এখনো কেউ জানায়নি। সুতরাং এ বিষয়ে আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

২৩ জানুয়ারি জেলা প্রশসাক জিয়াউল হক বলেছিলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া নেয়া হবে।

তবে ঘরগুলো পানিতে ভাসমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ঘর নির্মাণ করার জন্য এমন নিচু জায়গা সিলেকশন করা ঠিক হয়নি। যেহেতু ঘর হয়ে গেছে এখন তো বিকল্প উপায় বের করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫
মুজিববর্ষ: নওগাঁয় ঘরহীন মানুষের হাসিমুখ

শেয়ার করুন

শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে কিশোর নিখোঁজ

শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে কিশোর নিখোঁজ

শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ কিশোর বিশ্বজিত। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্বজিতের বন্ধু বিজয়ের জন্মদিন। এ উপলক্ষে তারা কয়েকজন বন্ধু শীতলক্ষ্যায় গোসল করতে যায়। এক পর্যায়ে বিশ্বজিত পানিতে তলিয়ে যায়।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে বিশ্বজিত বাসফোর নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহ্-সিমেন্ট ঘাট এলাকায় নিখোঁজ হয় সে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছেন সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান।

১৭ বছরের বিশ্বজিত শ্রীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিনয় বাসফোরের ছেলে। সে গত বছর শ্রীপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্বজিতের বন্ধু বিজয়ের জন্মদিন। এ উপলক্ষে তারা কয়েকজন বন্ধু শীতলক্ষ্যায় গোসল করতে যায়। এক পর্যায়ে বিশ্বজিত পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় বন্ধুরা নদীতে তাকে খুঁজে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, নদীতে নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি।

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার
উপহারের ঘর নিয়ে অভিযোগ: যুবলীগ নেতাকে তুলে নিলেন ইউএনও
‘তোমরা তো একটা মরার জায়গা পাইছ’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৫
মুজিববর্ষ: নওগাঁয় ঘরহীন মানুষের হাসিমুখ

শেয়ার করুন