ঝড়ে ছেঁড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কাঠমিস্ত্রির মৃত্যু

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ঝড়ে ছেঁড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কাঠমিস্ত্রির মৃত্যু

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে নান্দাইলে প্রচণ্ড ঝড়ে রেন্ট্রি গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও ঝড় শেষে বিদ্যুৎ চলে আসে। সন্ধ্যায় ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পড়ে থাকা তারে আগুন জ্বলে উঠে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান  বিজন চন্দ্র।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ঝড়ে ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে বিজন চন্দ্র সূত্রধর নামে এক কাঠমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরেক কৃষক আহত হয়েছেন।

নিহত বিজন চন্দ্র সূত্রধরের বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খরমা গ্রামে। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

আহত কৃষকের নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি নান্দাইল উপজেলার বাসিন্দা।

পৌর শহরের মোরগ মহলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে নান্দাইলে প্রচণ্ড ঝড়ে রেন্ট্রি গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও ঝড় শেষে বিদ্যুৎ চলে আসে। সন্ধ্যায় ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পড়ে থাকা তারে আগুন জ্বলে উঠে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বিজন চন্দ্র।

স্থানীয়রা বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে সংযোগ বন্ধ করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রফিকুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মঞ্জুরুল হক বলেন, স্থানীয়রা দুইজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। অন্যজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘বঙ্গবন্ধুকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না’

‘বঙ্গবন্ধুকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মকবুল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা যদি বঙ্গবন্ধুকে মনে ধারণ করতে পারি, তার আদর্শকে সামনে রেখে যদি আমাদের পথ চলা হয়, তাহলে আমরা সোনার বাংলা গড়ার দিকে অনেকটা অগ্রসর হতে পারবো। যেদিন আমরা উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব, আমার মনে হয় সেদিন বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।’

বঙ্গবন্ধুকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মকবুল হোসেন।

টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শনিবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলেন তারা ভেবেছিলেন তাকে হত্যা করার মধ্য দিয়েই তার স্বপ্ন-আদর্শকে ধ্বংস করা যাবে। সেটি আসলে হয়নি। দেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ১৪ বছর জেল খেটেছেন, তাকে কোনভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব না।

‘আমরা যদি বঙ্গবন্ধুকে মনে ধারণ করতে পারি, তার আদর্শকে সামনে রেখে যদি আমাদের পথ চলা হয়, তাহলে আমরা সোনার বাংলা গড়ার দিকে অনেকটা অগ্রসর হতে পারবো। যেদিন আমরা উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব, আমার মনে হয় সেদিন বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।’

এর আগে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, সিনিয়র সহকারী সচিব আতাহার হোসেন, গোপালগঞ্জের এনডিসি মহসিন উদ্দিন, জেলা তথ্য অফিসার মঈনুল ইসলাম, সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিদারুল ইসলামসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

শেয়ার করুন

আ. লীগ নেতারা শটগান নিয়ে গণপূর্ত অফিসে

আ. লীগ নেতারা শটগান নিয়ে গণপূর্ত অফিসে

পাবনা গণপূর্ত বিভাগে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ঠিকাদারের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদাররা আমার রুমে এসেছিলেন। আমার টেবিলে অস্ত্র রেখে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এসেছেন বলে তারা জানান। খারাপ আচরণ বা গালাগালি করেননি।’

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের অফিসে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে।

৬ জুন গণপূর্ত কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়ায় শনিবার।

অস্ত্রের মহড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ভিডিওতে দৃশ্যমান আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলছেন, ‘ভুল হয়েছে’। তবে এ ঘটনা নিয়ে কোথাও অভিযোগ করেননি গণপূর্তের কর্মকর্তারা।

ভিডিওতে দেখা যায়, ৬ জুন দুপুর ১২টার দিকে পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেন দলবল নিয়ে গণপূর্ত ভবনে ঢোকেন। তার পেছনে শটগান হাতে ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী রেজা খান মামুন। অস্ত্র হাতে ঢুকতে দেখা যায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুকেও।

তখন তাদের কয়েকজন সঙ্গী বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তারা সবাই ভবন থেকে ১২টা ১২ মিনিটে বেরিয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্তের এক কর্মী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের মহড়ায় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। প্রভাববলয় তৈরি করে বিভিন্ন কাজের দরপত্র নিজেদের আয়ত্তে নিতে ক্ষমতাসীন দলের ঠিকাদার নেতারা চেষ্টা করেন। তাদের দাপটে অনেক ঠিকাদার দর প্রস্তাব জমা দিতে পারছেন না।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযোগ না দেয়ার বিষয়ে গণপূর্তের কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলেও কোনো হুমকি দেননি।

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদাররা আমার রুমে এসেছিলেন। আমার টেবিলে অস্ত্র রেখে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এসেছেন বলে তারা জানান। খারাপ আচরণ বা গালাগালি করেননি।’

বিল বা দরপত্রকে কেন্দ্র করে এ মহড়া কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাবনায় নতুন যোগ দিয়েছি। এসব বিষয়ে আমার জানা নেই।’

পাবনা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম। তবে সিসিটিভি ফুটেজে অস্ত্র হাতে অনেকে এসেছে দেখেছি। তারা আমাকে সরাসরি বা ফোনে কোনো হুমকি দেননি। কথাও হয়নি। তাই আমরা লিখিত অভিযোগ করিনি।’

দলবলে গণপূর্ত বিভাগে যাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার না। বিল সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে মামুন ও লালু আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এভাবে যাওয়া উচিত হয়নি।’

পৌর আওয়ামী লীগ নেতা মামুন বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে বৈধ অস্ত্র নিয়ে আমি ব্যবসায়িক কাজে ইটভাটায় যাচ্ছিলাম। পথে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে কথা বলতে গণপূর্ত বিভাগে যাই। তিনি না থাকায় আমরা ফিরে আসি। তাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি। প্রতিপক্ষ ঠিকাদাররা বিষয়টিকে অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করছেন।’

একই ধরনের কথা বলেছেন যুবলীগ নেতা শেখ লালু। তিনি বলেন, ‘ভুলবশত আমরা অস্ত্র নিয়ে অফিসে ঢুকে পড়েছিলাম।’

প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন কাজ নিজেদের দখলে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।

পাবনার পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পাবনার ডিসি কবীর মাহমুদ ঘটনাটি শুনেছেন জানিয়ে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টির তদন্ত করছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

আলাদা বগিতে ঢাকায় আসলেন করোনা আক্রান্ত ট্রেনচালক

আলাদা বগিতে ঢাকায় আসলেন করোনা আক্রান্ত ট্রেনচালক

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকার পথে শরিফুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ বলেন, ‘শরিফুল ইসলাম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বললেন, তাকে ঢাকায় নিতে হবে। এ জন্য চিত্রা এক্সপ্রেসে তার জন্য আলাদা একটি বগি যোগ করে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের এক ট্রেন চালককে আলাদা বগিতে করে ঢাকায় আনা হয়েছে।

শরিফুল ইসলাম নামের ওই চালককে শনিবার খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকায় নেয়া হয়। অতিরিক্ত একটি বগিতে তিনি একাই ঢাকায় যান।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুলনা- ঢাকা রুটে চলা ‘চিত্রা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে আলাদা একটি বগি যোগ করে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

আলাদা ওই বগিটিকে বলা হচ্ছে কোয়ারেন্টিন কোচ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিলেন শরিফুল ইসলাম। কোনোভাবেই তার জ্বর কমছিল না। তিন দিন আগে থেকে কাশি শুরু হওয়ার পর শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

শরিফুল ইসলামকে ঢাকার মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ বলেন, ‘শরিফুল ইসলাম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বললেন, তাকে ঢাকায় নিতে হবে। এ জন্য চিত্রা এক্সপ্রেসে তার জন্য আলাদা একটি বগি যোগ করে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা কোয়ারেন্টিন কোচ। করোনা রোগীদের জন্য এই কোচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকায় পৌঁছার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হবেন।’

শেয়ার করুন

আগুনে পুড়ে গেছে প্রবাসীর ২৭ বছরের স্বপ্ন

আগুনে পুড়ে গেছে প্রবাসীর ২৭ বছরের স্বপ্ন

আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল। ছবি: নিউজবাংলা

তিন মাস আগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিনিযোগে খেড়িহর বাজারে তোহা কনস্ট্রাকশন ও হার্ডওয়ার নামে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চালু করেন আনোয়ার হোসেন। শুক্রবার মধ্যরাতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগে। পুড়ে যায় প্রতিষ্ঠানের সব মালামাল।

স্বপ্ন ছিল দেশে স্বাধীনচেতা হয়ে নিজেই করবেন কিছু একটা। তা পূরণে পরাধীনতা স্বীকার করে দীর্ঘসময় কাজ করেছেন প্রবাসে। হাড়ভাঙা পরিশ্রমে কষ্টার্জিত টাকা পরিবারের ভরণপোষনের পাশাপাশি অল্প অল্প করে জমিয়েছেন নিজের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে। অবশেষে স্বপ্ন হলো সত্যি। নিজ গ্রামেই চালু করেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই সুখ বেশি দিন টিকল না। তিন মাসের ব্যবধানে আগুনে পুড়ে গেছে তার ২৭ বছরের স্বপ্ন।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খেড়িহর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। দীর্ঘ ২৭ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০১৮ সালে দেশে ফেরেন আনোয়ার হোসেন। নিজ গ্রামেই কিছু একটা করার চেষ্টা করছিলেন।

তিন মাস আগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিনিযোগে খেড়িহর বাজারে তোহা কনস্ট্রাকশন ও হার্ডওয়ার নামে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চালু করেন আনোয়ার হোসেন।

কিন্তু শুক্রবার মধ্যরাতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগে। পুড়ে যায় প্রতিষ্ঠানের সব মালামাল।

আনোয়ার হোসেন বলেন,‘শুক্রবার দোকানের কাজ শেষে রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই। রাত ৪টার সময় খবর পাই দোকানে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে দৌঁড়ে দোকানে আসি। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে দোকান ও গোডাউনে থাকা হার্ডওয়ার,সেনেটারী,ইলেকট্রিকস,রঙ ও প্লাষ্টিকের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

‘আগুন লাগার সময় বাজারে কারেন্ট ছিল না। তাই সর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সুযোগ নেই। তাছাড়া দোকানে কোনো দাহ্য পদার্থও ছিল না। এই আগুন উদ্দেশ্যমূলকভাবে লাগানো হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী মো.জুবায়ের,মো.আ.মমিন ও মো.ইমান আলীর সঙ্গে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব চলছিল। ওরাই আমার দোকানে আগুন দিয়েছে। তাদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।’

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন,‘প্রবাস জীবনের সব জমানো টাকা দিয়ে আমি এই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিপক্ষরা আমার দোকানে আগুন লাগিয়ে আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।’

আগুনে পুড়ে গেছে প্রবাসীর ২৭ বছরের স্বপ্ন

দোকানের মালিক রাসেল দেওয়ান বলেন,‘আনোয়ার হোসেন তিন মাস আগে আমার দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেন। শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে খেড়িহর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাইকে আগুন লাগার ঘটনাটি গ্রামবাসীকে জানানো হয়। এ সময় আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নেভায়।’

তিনি আরও বলেন,‘ রাত দুইটা থেকে বাজার এলাকায় কারেন্ট ছিল না। আগুন কেউ পরিকল্পিতভাবে লাগিয়েছে বলে সন্দেহ হচ্ছে।’

এই ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, সবার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে।’

শেয়ার করুন

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের কয়েদির মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের কয়েদির মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা কারাগারের জেলার শওকত জানান, মাদক মামলার আসামি রবিউলের মৃগীরোগ ছিল।  শনিবার বেলা ১১টা দিকে জেলখানার ভেতরে মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে রবিউল ইসলাম নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রবিউলের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিঅ্যান্ডবি পাড়ায়। তিনি মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা কারাগারের জেলার শওকত হোসেন মিয়া জানান, মাদক মামলায় এক বছরের সাজা হওয়ার পর ১৫ মে রবিউলকে কারাগারটিতে স্থানান্তর করা হয়। রবিউলের মৃগীরোগ ছিল। শনিবার বেলা ১১টা দিকে জেলখানার ভেতরে মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। এতে তার মাথায় আঘাত লাগে।

তিনি আরও জানান, গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির কার্যক্রম চলার সময় তার মৃত্যু হয়।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এই কারা কর্মকর্তা।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় রবিউলকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে ভর্তির জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর জরুরি বিভাগেই মারা যান তিনি।’

শেয়ার করুন

গাড়ির ধাক্কায় গেল পথচারীর প্রাণ

গাড়ির ধাক্কায় গেল পথচারীর প্রাণ

নিহত রামকৃষ্ণের ভাতিজা আশীস বলেন, ‘এক পথচারী জানিয়েছেন, একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রামে গাড়ির ধাক্কায় রামকৃষ্ণ নামের এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।

নগরের সাগরিকা এলাকায় শনিবার দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রামকৃষ্ণ সাতকানিয়ার ধর্মপুরের বণিকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি নগরীর সাগরিকা এলাকায় আকিজ বিড়ির বিক্রয়কর্মী ছিলেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শীলব্রত বড়ুয়া এ তথ্য জানান।

নিহত রামকৃষ্ণের ভাতিজা আশীস রাম শর্মা বলেন, ‘শনিবার দুপুরে আমরা খবর পেয়ে সাগরিকা গিয়ে দেখি উনি আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে আছেন। এক পথচারী আমাদের জানিয়েছেন, একটা গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

পুলিশ কর্মকর্তা শীলব্রত বড়ুয়া বলেন, ‘মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি।

ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বড়হরণ এলাকা থেকে শনিবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইনের পাশের খাদ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বড়হরণ এলাকা থেকে শনিবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল করিম জানান, স্থানীয়দের খবরে রেললাইনের পাশের খাদ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ট্রেন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন