মুসাকে নিয়ে পুলিশ লুকোচুরি করছে: দাবি স্ত্রীর

চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু

মুসাকে নিয়ে পুলিশ লুকোচুরি করছে: দাবি স্ত্রীর

পান্না আক্তার বলেন, ২০১৬ সালের ২২ জুন আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার সামনে থেকে পুলিশ মুসাকে তুলে নিয়ে গেছিল। তিনি বলেন, নগরীর কাটগড় থেকে পুলিশ পরিচয়ে মুসাকে তুলে নেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সে সময় গণমাধ্যমে মুখ খুলতে চাইলে, বাবুলের ঘনিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে ভয়ভীতি দেখান।

চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলাম মুসাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী পান্না আক্তার। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি স্বীকার না করায় মুসার বর্তমান অবস্থান নিয়ে উদ্বেগে আছেন তার স্ত্রী।

পান্না আক্তার বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেছেন, পুলিশ মুসার গ্রেপ্তার নিয়ে লুকোচুরি করছে।

তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই বলেছে, মুসা পলাতক। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

পান্না আক্তার বলেন, ২০১৬ সালের ২২ জুন আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার সামনে থেকে পুলিশ মুসাকে তুলে নিয়ে গেছিল।

তিনি বলেন, নগরীর কাটগড় থেকে পুলিশ পরিচয়ে মুসাকে তুলে নেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সে সময় গণমাধ্যমে মুখ খুলতে চাইলে, বাবুলের ঘনিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে ভয়ভীতি দেখান।

পান্না বলেন, আমার স্বামী যদি সত্যিই দোষী হয়ে থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক। আর তিনি যদি দোষী হয় তা হলে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কেন আদালতে তোলা হচ্ছে না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেছেন, মিতু হত্যার আসামি মুসা পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মুসার স্ত্রীর দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, আসামি গ্রেপ্তার করলে তাকে তো আমরা আদালতে তুলতাম এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নিতাম। এগুলোর কোনোটাই হয়নি।

মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তের রহস্যে ঘুরপাক খাচ্ছে কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসার নাম। এই হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে বাবুল আকতারের বিশ্বস্ত সোর্স ছিলেন মুসা। তাকে দিয়েই পুরো হত্যা মিশন সম্পন্ন করা হয় বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে।

মুসার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে দীর্ঘদিন পর এসে মুসা ২০০৪ সালে রাঙ্গুনিয়া এলাকায় বালুর ব্যবসা শুরু করেন। ২০০৯ সালের দিকে ওই এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন বাবুল আকতার। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেওয়ার সূত্র ধরে বাবুলের সঙ্গে মুসার সম্পর্ক হয়। এক সময় মুসা বাবুলের বিশ্বস্ত বনে যান।

মিতু হত্যার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ যাদের চিহ্নিত করেছিল, তাদের একজন হলেন মুসা। আদালতে মিতু হত্যার আসামি ওয়াসিমের দেওয়া জবানদন্দিতেও মুসার নাম এসেছিল।

পিবিআই বলছে, মুসাই সেদিন মিতুকে হত্যার নেতৃত্ব দেন। কিন্তু মুসার খোঁজ না মেলায় হত্যার কারণ উদঘাটন করতে পারেননি পুলিশ।

এদিকে তদন্তের সময় পুলিশকে বাবুল আকতার জানিয়েছেন, তিনি মুসাকে চেনেন না। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রিমান্ডে মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম শিকদার মুসাকে নিজের সোর্স হিসেবে স্বীকার করেছেন সাবেক এসপি বাবুল আকতার।

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন মিতু। ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল আকতার। হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রামে ফিরে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে তিনি মামলা করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মা-হারা শিশুটি বাঁচল না নিজেও

মা-হারা শিশুটি বাঁচল না নিজেও

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে প্রথমে সোনিয়া জান্নাত মারা যান। এর আধা ঘণ্টা পর তার দুই বছরের কন্যা হুমাসা জান্নাতের মৃত্যু হয়।

গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ গৃহবধূ ও তার শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে প্রথমে সোনিয়া জান্নাত মারা যান। এর আধা ঘণ্টা পর তার দুই বছরের কন্যা হুমাসা জান্নাতের মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক আব্দুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের বহুতল ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ভবনের মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান, পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন পোশাক কারখানার কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা। প্রতিদিনের মতো স্ত্রী-সন্তানকে বাসায় রেখে শনিবার সকালে কর্মস্থলে চলে যান তিনি।

বেলা ১১টার দিকে মোস্তফার বাসায় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে ও আগুন ধরে যায়। এতে আসবাবসহ মালামাল ছিটকে যায় এবং মোস্তফার স্ত্রী ও মেয়ে দগ্ধ হয়।

প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসী ও পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভান। দগ্ধ মা ও মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় আল হেরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক আব্দুল খান জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে সোনিয়া জান্নাত মারা যান। মায়ের মৃত্যুর কিছু সময় পর তার শিশুসন্তানটিও মারা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের শ্রীপুর স্টেশনের কর্মকর্তা মো. রায়হান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে পুরো ঘরে গ্যাস জমে যায়। চুলা জ্বালানোর সময় ওই গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এলে দুর্ঘটনা ঘটে।

শেয়ার করুন

ট্রেন থেকে পড়ে শিশু নিহত

ট্রেন থেকে পড়ে শিশু নিহত

স্টেশন মাস্টার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি শ্রীপুরের ২৩২/৩-৪ নং কিলোমিটার এলাকা অর্থাৎ শ্রীপুর-বরমী সড়কের গেট পার হচ্ছিল। গেটটি পার হওয়ার পরই একজনের কাটা দেহ পড়ে থাকতে দেখে ওই গেটে দায়িত্বরত গেটম্যান।’

গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে ১২ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে।

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হারুন অর রশিদ জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুটি মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি শ্রীপুরের ২৩২/৩-৪ নং কিলোমিটার এলাকা অর্থাৎ শ্রীপুর-বরমী সড়কের গেট পার হচ্ছিল। গেটটি পার হওয়ার পরই একজনের কাটা দেহ পড়ে থাকতে দেখে ওই গেটে দায়িত্বরত গেটম্যান। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ট্রেনের কোনো বগি ও জোড়া থেকে সে পড়ে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শিশুটি।’

নিহত শিশুটির পরিচয় জানাতে পারেন নি স্টেশন মাস্টার।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল হক বলেন, ‘ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হওয়ার খবরে ঘটনাস্থলে জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জে হেরোইনসহ মাদককারবারি আটক

মানিকগঞ্জে হেরোইনসহ মাদককারবারি আটক

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেউথা এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজিবকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সাড়ে ৭ গ্রাম হেরোইন জব্দ হয়।

মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় সজিব হোসেন নামের এক মাদককারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেউথা এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সজিবের কাছ থেকে সাড়ে ৭ গ্রাম হেরোইন জব্দ হয়।

আটক সজিব পৌরসভার চর বেউথা এলাকার বাসিন্দা।

র‌্যাব-৪ এর মানিকগঞ্জের কোম্পানী কমান্ডার এএসপি উনু মং এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার বেউথা এলাকা থেকে সজিবকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে সাড়ে ৭ গ্রাম হেরোইন জব্দ হয়েছে। সজিবের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মাদক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন

টানা বর্ষণে ছন্দপতন

টানা বর্ষণে ছন্দপতন

‘সকালে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হইছি। বৃষ্টি যখন কম হচ্চে তখন দুই-একজন প্যাসেঞ্জার পাচ্চি। রাস্তায় লোক নেই। ভাড়া-ভুতি কম হচ্চে।’

আষাঢ়ের টানা বর্ষণে ঝিনাইদহে স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটেছে। শুক্র ও শনিবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

দুই দিন ধরেই কখনও ভারী, কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শহরবাসী। অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন তারা।

আবার জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে বৃষ্টির কারণে অনেকে আটকা পড়েন শহরে। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন দোকানে তাদের দীর্ঘক্ষণ আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

তবে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজের সন্ধানে বের হয়ে কাজ না পেয়ে অনেককেই বসে থাকতে দেখা গেছে।

শৈলকুপা উপজেলার ভাটই গ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মুদি দোকানের মালামাল কিনতি শহরে আসলাম। এত বৃষ্টি হচ্চে যে মুকামে যেতেই পারছিনে। আবার দোকানও খুলছে না। দুই দিন ধরে বৃষ্টি হচ্চে।’

টানা বর্ষণে ছন্দপতন

সদর উপজেলার হাটগোপালপুর এলাকার মসিউর রহমান বলেন, ‘সকালে শহরে আসিছি একজনের সাথে দেখা করার জন্যি। মাহেন্দ্র থেকে নেমে আর কোথাও যাতি পারছিনে। সকাল থেকেই খুব বৃষ্টি হচ্চে। এখন ভিজতি ভিজতিই কাজ সারে বাড়ি যাতি হবি।’

শহরের রিকশাচালক সাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হইছি। বৃষ্টি যখন কম হচ্চে তখন দুই একজন প্যাসেঞ্জার পাচ্চি। রাস্তায় লোক নেই। ভাড়া-ভুতি কম হচ্চে।’

শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বসে থাকা দিনমজুর আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে এখানে কাজের জন্যি আসি। আজ সকালে এসে বসে আছি। কোনো লোক কামের জন্য নিতি আসছে না। আর একটু সময় বসে থাকব। কাম না পালি বাড়ি ফিরে যাতি হবে। কী আর করব।’

এদিকে অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে আউশ ধানের বীজতলা। নষ্ট হচ্ছে মরিচ, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, পানি জমে থাকলে গাছ নষ্ট হওয়াসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ফসলের জমিতে যেন পানি না জমে, এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। জমিতে পানি জমলে দ্রুত তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।

মাদারীপুর: টানা বর্ষণে একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছেন মাদারীপুর জেলাবাসী।

তিন দিনের প্রবল বর্ষণে মাদারীপুর সদর, রাজৈর ও টেকেরহাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে গেছে খাল, বিল, নালা ও পুকুর।

এদিকে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজৈর পৌরসভার পূর্ব স্বরমঙ্গল এলাকা এবং টেকেরহাট বন্দর বাজারে হাঁটুপানি জমে। এতে জনসাধারণ চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহায়।

এলাকাবাসী জানান, ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আবার বেশ কিছু স্থানে ড্রেন না থাকায় পানি জমে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ঘরে আটকা পড়ায় শ্রমজীবী মানুষ কাজ না করতে পেরে অর্ধাহারে-আনাহারে জীবনযাপন করছে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শেয়ার করুন

লরিচাপায় স্ত্রী নিহত, স্বামী হাসপাতালে

লরিচাপায় স্ত্রী নিহত, স্বামী হাসপাতালে

টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় শারমিনদের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় লরিটি। ধাক্কায় শারমিন নিচে পড়ে গিয়ে লরির চাকায় পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

গাজীপুরের টঙ্গীতে লরিচাপায় শারমিন আক্তার নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী মোটরসাইকেলচালক ইলিয়াস মোর্শেদ।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজ গেট এলাকায় শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শারমিনের বাড়ি ফেনীর পরশুরাম থানার গুথুমা গ্রামে। তিনি স্বামী ইলিয়াসের সঙ্গে গাজীপুরের বাসন এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশ তার মরদেহটি উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ছাড়া লরিটি জব্দ ও চালক রাজিবকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় শারমিনদের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় লরিটি। ধাক্কায় শারমিন নিচে পড়ে গিয়ে লরির চাকায় পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় লোকজন পরে গুরুতর আহতাবস্থায় তার স্বামী ইলিয়াসকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, নিহতের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

ওবায়দুল কাদেরকে কটূক্তি, নোবিপ্রবি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ওবায়দুল কাদেরকে কটূক্তি, নোবিপ্রবি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

জিয়াউর রহমান সম্রাট। ফাইল ছবি

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৭ জুন রাত ১২টা ৮ মিনিটের দিকে জিয়াউর রহমান সম্রাট তার ফেসবুকে ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ ধরনের স্ট্যাটাস মন্ত্রীর মানসম্মান ক্ষুণ্ন করে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য ও কটূক্তি করায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিকেলে ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

উপজেলার উত্তর লামছি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নোবিপ্রবির ডিপিডি দপ্তরের সহকারী পরিচালক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বডুয়া।

তিনি জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য ও কটূক্তি করায় শুক্রবার রাতে কবিরহাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৭ জুন রাত ১২টা ৮ মিনিটের দিকে জিয়াউর রহমান সম্রাট তার ফেসবুকে ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ ধরনের স্ট্যাটাস মন্ত্রীর মানসম্মান ক্ষুণ্ন করে।

বিবাদী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়ে রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেছেন।

জিয়াউর রহমান সম্রাট অবশ্য দাবি করছেন, ফেসবুকের ওই আইডি তার হলেও স্ট্যাটাসটি তিনি দেননি। বিষয়টি তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সম্রাটের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি

‘আমি আজীবন ছাত্রলীগ করেছি। রাজপথে থেকে মিটিং মিছিল করেছি। আমাকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল হীনস্বার্থ হাসিলে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে। যুবদলের যে রায়হান রনির কথা বলা হচ্ছে, সে ব্যক্তি আমি নই। আমি যদি বিএনপির কোনো কর্মী হতাম, তাহলে কোথাও না কোথাও তাদের সঙ্গে আমার ছবি থাকত। আমি এই ভিত্তিহীন মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাই।’

সদ্য ঘোষিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পান ছাত্রদলের প্রথম সারির এক নেতা। জানাজানি হওয়ার পর শনিবার ওই বিতর্কিত নেতাকে বিতাড়িত করেছে উভয় দলই।

অভিযোগ, রায়হান রনি নামের ওই নেতা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা অবস্থাতেই উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পান।

রায়হান রনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার আলফাডাঙ্গা মৌজার বাসিন্দা। পড়াশোনা করেন যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে।

ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে ২৩ জানুয়ারি ২১ সদস্যবিশিষ্ট আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। ওই কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছে রায়হান রনির নাম।

অপরদিকে গত ১২ জুন আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে আংশিক কমিটি অনুমোদন করে জেলা ছাত্রলীগ। ঘোষিত ওই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে মোহাম্মদ রায়হান রনির নাম।

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি।

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি


এ নিয়ে মোহাম্মদ রায়হান রনি বলেন, ছাত্রদলের রায়হান রনি আর তিনি এক ব্যক্তি নন। তিনি আজীবন ছাত্রলীগ করেছেন, ছাত্রদল তিনি করেননি। ছাত্রদলের রায়হান রনিকে তিনি চেনেনও না।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদ চৌধুরী রিয়ান জানান, তার জানামতে ছাত্রদলের রায়হান রনি আর ছাত্রলীগের রায়হান রনি এক ব্যক্তি নন। তারপরও কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে এই দুই রনি একজনই তাহলে রায়হান রনির বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ছাত্রলীগে কোনো বিতর্কিত লোকের স্থান হবে, না এমনকি অন্য যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠন করে ছাত্রলীগে আসা যাবে না।

অবশ্য এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার বিকেলে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদ চৌধুরী রিয়ান ও সধারণ সম্পাদক ফাহিম আহম্মেদের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদ রায়হান রনিকে (সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আলফাডাঙ্গা পৌর শাখা) নিজ পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।’

শনিবার অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস বলেন, ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শচ্যুতির অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মোহাম্মদ রায়হান রনি, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, আলফাডাঙ্গা পৌর শাখাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হলো।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, ‘জেলা থেকে কখন কী কমিটি ঘোষণা করে, আমাদের কাছ থেকে মতামত বা পরামর্শও নেয় না। ছাত্রলীগের এই কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রেও আমার কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেয়া হয়নি। এখন শুনছি, ছাত্রদলের এক নেতা কমিটির বড় পদ পেয়েছেন।’

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দুই-ই হারালেন সেই রনি


এদিকে নিজেকে শুধু ছাত্রলীগ নেতা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দা মোহাম্মদ রায়হান রনি। শনিবার দুপুরে আলফাডাঙ্গা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি আজীবন ছাত্রলীগ করেছি। রাজপথে থেকে মিটিং মিছিল করেছি। আমাকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল হীনস্বার্থ হাসিলে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে। যুবদলের যে রায়হান রনির কথা বলা হচ্ছে, সে ব্যক্তি আমি নই। আমি যদি বিএনপির কোনো কর্মী হতাম, তাহলে কোথাও না কোথাও তাদের সঙ্গে আমার ছবি থাকত। আমি এই ভিত্তিহীন মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গার পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমানসহ নেতারা।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লা আল মিলন জানান, ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি।

শেয়ার করুন