ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

‘বুধবার রাত ৩টার দিকে মই দিয়ে বাড়ির ছাদে ওঠেন মানিক মিয়া। পরে সিঁড়িঘর থেকে ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূর কক্ষে গিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তাকে। এ সময় তার চিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্যরা এগিয়ে আসে। পরে মানিক দৌড়ে পালিয়ে যান।’

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একই এলাকার মানিক মিয়া নামের এক যুবক তাকে কুপিয়েছেন।

উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার একটি বাড়িতে বুধবার রাত ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে নিউজবাংলাকে জানান ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম।

নিহত খুকি আক্তার প্রবাসী ইছা মিয়ার স্ত্রী। যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি খুকির শ্বশুরবাড়ি।

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি রবিউল বলেন, ‘বুধবার রাত ৩টার দিকে মই দিয়ে বাড়ির ছাদে ওঠেন মানিক মিয়া। পরে সিঁড়িঘর দিয়ে ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূর কক্ষে গিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। তার চিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্যরা সে ঘরে গেলে মানিক পালিয়ে যান।’

তিনি জানান, গুরুর অবস্থায় খুকিকে নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ওসি রবিউল আরও বলেন, ‘মানিক মিয়ার বাড়ি একই এলাকায়। তার সঙ্গে খুকির টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানতে পেরেছি। তা ছাড়া পালিয়ে যাওয়ার সময় মানিক মিয়াকে খুকির পরিবারের কয়েকজন সদস্য চিহ্নিত করেছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মানিককে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
অটোচালক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঘরে ঢোকা চোর কাটল ইমামের পায়ের রগ

ঘরে ঢোকা চোর কাটল ইমামের পায়ের রগ

আহত পলাশকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন পলাশ। গভীর রাতে ঘরে চোর ঢুকে দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালানোর সময় পলাশের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি চোরকে জাপটে ধরলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ধারাল কিছু দিয়ে পলাশের বাম পায়ের গোঁড়ালির রগ কেটে দিয়ে ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় চোর।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ঘরে চুরি করতে ঢুকে পলাশ মিয়া নামে যুবকের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে এক চোর।

উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়ীয়া গ্রামে রোববার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত পলাশ হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করেন।

তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রোববার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন পলাশ। গভীর রাতে ঘরে চোর ঢুকে দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালানোর সময় পলাশের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি চোরকে জাপটে ধরলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

একপর্যায়ে ধারাল কিছু দিয়ে পলাশের বাম পায়ের গোঁড়ালির রগ কেটে দিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় চোর। পরে পলাশের চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।

সোনাতলা থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, চোর শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। থানায় এখনও মামলা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘পলাশের বাম পায়ের গোঁড়ালির ওপরে ক্ষত রয়েছে। রগ পুরোপুরি কেটে গেছে, বিষয়টা এমন নয়।’

আরও পড়ুন:
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
অটোচালক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

শেয়ার করুন

কোড বললেই ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে ইয়াবা

কোড বললেই ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে ইয়াবা

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং আবু সওদাগরের কলোনির গেটের সামনে চলে ইয়াবা বেচাকেনা। ছবি: নিউজবাংলা

ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববার ওইস্থানে ইয়াবা বেচাকেনার সময় নিলুফাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাকিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং আবু সওদাগরের কলোনির গেটের সামনে চলে ইয়াবা বেচাকেনা। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শুরুতে দুই টোকা দিতে হয়। এরপর ভেতর থেকে আওয়াজ আস কে। তখন বলতে হয় নির্দিষ্ট গোপন কোড। কোড বললেই ছোট ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে ইয়াবা।

কোডিং পদ্ধতিতে ইয়াবা বিক্রির সময় দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে আবু সওদাগরের কলোনি গেট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন লাকী আক্তার ও নিলুফা বেগম। লাকীর বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ছয়টি এবং নিলুফার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আবু সওদাগরের কলোনির গেটের সামনে তারা ইয়াবা বিক্রি করতেন। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শুরুতে দুই টোকা দিলে ভেতর থেকে আওয়াজ আস কে। তখন গোপন কোড বললেই ছোট ছিদ্র দিয়ে বের করে দেন ইয়াবা।’

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববার ওইস্থানে ইয়াবা বেচাকেনার সময় নিলুফাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাকিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’

ওসি আরো বলেন, ‘ তাদের যে কোড ওয়ার্ড, সেটা একেক সময় একেক রকম হতো। যেমন, গতকাল ছিল 'বিস্কুট'। নির্দিষ্ট সংখ্যক বিস্কুট বলার পর সেই সংখ্যক ইয়াবাই বের হয়। এর আগে 'গরুর গোশত' 'হাড্ডি' ' বিচি' ইত্যাদি কোড ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।’

গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে তাদেরকে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নিলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
অটোচালক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

শেয়ার করুন

আইসিইউ অচল, কেন্দ্রীয় অক্সিজেনও নেই হাসপাতালে

আইসিইউ অচল, কেন্দ্রীয় অক্সিজেনও নেই হাসপাতালে

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের সেবা দেয়া যাচ্ছে না। ছবি: নিউজবাংলা

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সালেহ মোহাম্মদ জানান, আইসিইউ পরিচালনায় সহায়তা দিতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে। তাদের সঙ্গে চুক্তির পরও কেবল কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের সেবা দেয়া যাচ্ছে না।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে অচল পড়ে আছে চার শয্যার আইসিইউ ইউনিট। কাজে আসছে না ভেন্টিলেটর, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলাসহ মুমূর্ষু করোনা রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় উপকরণও।

প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রাংশ থাকার পরও চালু করা যায়নি কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। এতে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না জেলার প্রধান এ হাসপাতালে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্য চারটি শয্যা ও চারটি কার্ডিয়াক মনিটর আনা হয়। চলতি বছরের ফেব্রয়ারিতে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য দরপত্র হয়। জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল এখনও প্ল্যান্টের নির্মাণ কাজই শুরু করতে পারেনি।

ওয়ার্ডগুলোতে পাইপলাইন এবং তরল অক্সিজেন ট্যাংকারের কাজ শুধু শেষ হয়েছে। এখন তরল অক্সিজেন পাওয়া গেলেই কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল হোসেন জানান, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের জন্য লিকুইড অক্সিজেন কাঠামো নির্মাণ ১৫ দিন আগে শেষ হয়েছে। তবে লিকুইড অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় এটি চালু করা যাচ্ছে না।

হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে বড় সিলিন্ডার সংযোগ দিয়ে মেডিফোল্ড পদ্ধতিতে হাই-ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানান তিনি।

তরল অক্সিজেনের মাধ্যমে কবে নাগাদ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পাবনা হাসপাতালে লিকুইড ট্যাংকার ও পাইপ লাইন সংযোগের কাজ শেষ। তবে যেসব হাসপাতালে অক্সিজেন ট্যাংকারে সরবরাহ চালু আছে তাদেরই আমরা পর্যাপ্ত তরল অক্সিজেন দিতে পারছি না। পাবনায় কবে চালু করা যাবে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সালেহ মোহাম্মদ আলী জানান, করোনা রোগীদের সেবা দিতে হাসপাতালে ১৫০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইসিইউ পরিচালনায় সহায়তা দিতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে। তাদের সঙ্গে চুক্তির পরও কেবল কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের আইসিইউ, এইচডিইউ সুবিধা দেয়া যাচ্ছে না।

পাবনার সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, তরল অক্সিজেন বরাদ্দ পেলে জেলায় করোনা রোগীদের সর্বোচ্চ আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হবে। তরল অক্সিজেন বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তরল অক্সিজেন পাওয়া যাবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, পাবনায় করোনা রোগীর সংখ্যা রোববার ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৪১৫ জন শনাক্ত হয়েছেন জুলাইয়ে।

আরও পড়ুন:
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
অটোচালক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

শেয়ার করুন

পরিত্যক্ত ঘরেই প্রাণ গেল প্রিয় শিক্ষকের

পরিত্যক্ত ঘরেই প্রাণ গেল প্রিয় শিক্ষকের

পরিত্যক্ত ঘরে শিক্ষক জয়নুল আবেদিন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বুড়িরবাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই পরিত্যক্ত ঘরে থাকতেন শিক্ষক জয়নুল। অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচায় পরিত্যক্ত একটি ঘরেই ১৫ বছরের বেশি কাটিয়ে দেন শিক্ষক জয়নুল আবেদিন। সেই ঘরেই সোমবার ভোরে মারা যান তিনি।

এলাকার প্রিয় এই শিক্ষক ৮৫ বছর বয়সেও ছিলেন অবিবাহিত। ছিল না পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আচকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মণ।

সুব্রত কুমার বর্মণ জানান, চাঁদপুরে জন্ম হলেও জয়নুল মাস্টার পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে দিনাজপুরে চলে যান। এরপর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে পড়া শেষে প্রথমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন।

১৯৭৫ সালে উপজেলার খড়িবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আদর্শ শিক্ষক হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পান। তবে কয়েক বছর পর মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বুড়িরবাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই পরিত্যক্ত ঘরেই থাকতেন তিনি। অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে বয়স্কভাতার একটি কার্ড করে দেন। একইসঙ্গে একটি ঘর বানিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। তিনি সে ঘর নিতে রাজি হননি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সকালে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জয়নুল মাস্টারকে তিনি অনেকবার ডাকেন। সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে তাকে মৃত দেখতে পান।

তিনি আরও বলেন, মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ আসতে রাজি হয়নি। এ জন্য নিজেদের উদ্যোগেই পরিত্যক্ত ওই ঘরের পাশেই তাকে দাফন করা।

আরও পড়ুন:
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
অটোচালক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

শেয়ার করুন

ডেঙ্গুর রোগী ময়মনসিংহেও

ডেঙ্গুর রোগী ময়মনসিংহেও

আক্রান্তরা হলেন মহানগরের নওমহল এলাকার খায়রুল বাসার, উপজেলা সদরের পরানগঞ্জের ওহাব আলী, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আইনজীবী আতিকুর রহমান। অপরজন একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।।

ঢাকায় উদ্বেগ তৈরি করা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চারজন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত চারজন ভর্তি হয়েছেন, যাদের একজন আবার স্থানীয় একটি উপজেলার বাসিন্দা। অন্য তিনজন ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন।

আক্রান্তরা হলেন মহানগরের নওমহল এলাকার খায়রুল বাসার, উপজেলা সদরের পরানগঞ্জের ওহাব আলী, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আইনজীবী আতিকুর রহমান। অপরজন একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ভর্তি হন গত ২৭ জুলাই, খায়রুল বাসার আসেন পরদিন আর ওহাব আলী ভর্তি হন গত ৩০ জুলাই। তবে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তির তারিখ ও তার নাম জানা যায়নি।

হাসপাতালের ডেঙ্গুবিষয়ক ফোকাল পার্সন হরিমোহন পন্ডিত নিউটন জানান, হাসপাতালের তৃতীয়তলার ১৫ নম্বর মেডিসিন ইউনিটে তিনজন ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতেন।

আরও পড়ুন:
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
অটোচালক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

শেয়ার করুন

তাস খেলে আটক উপজেলা চেয়ারম্যান, মুচলেকায় মুক্তি

তাস খেলে আটক উপজেলা চেয়ারম্যান, মুচলেকায় মুক্তি

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা বলেন, নয়াকান্দি বাজারে বসে তাস খেলছিল রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়াসহ কয়েকজন। পরে খেলতে শুরু করেন তিনিও। এ সময় তাদের আটক করা হয়। 

মানিকগঞ্জ তাস খেলা অবস্থায় তিন সঙ্গীসহ আটক হওয়ার পর মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা। তবে আটক ও ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি র‌্যাবের পক্ষ থেকে গোপন করা হয়েছে।

রোববার রাতে পৌর এলাকার নয়াকান্দি বাজারে একটি টংঘর থেকে তাস খেলা অবস্থায় তাদের আটক করা হয়।

তারা হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা, পার্শ্ববতী বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়া।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা বলেন, নয়াকান্দি বাজারে বসে তাস খেলছিল রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়াসহ কয়েকজন। পরে খেলতে শুরু করেন তিনিও।

তিনি জানান, সেখান থেকে র‌্যাব সদস্যরা হাতকড়া পরিয়ে তাদের আটক করে। খবর পেয়ে স্থানীয় নয়াকান্দি জামে মসজিদের সভাপতি দেওয়ান আব্দুল মতিন ও নয়াকান্দি বাজার সমিতির পক্ষে দেলোয়ার হোসেন মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে রাখেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই ও মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, র‌্যাব সদস্যরা তাকে ফোন করে জানালে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে র‌্যাবের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ছাড়ানো হয়।

র‌্যাব-৪-এর মানিকগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ জানান, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাস খেলা অবস্থায় তাদের আটক করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পরিচয় পাওয়ার তাদের হ্যান্ডকাফ খুলে দেয়া হয়। তিনি যে জনপ্রতিনিধি তা জানা ছিল না।’

আরও পড়ুন:
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
অটোচালক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

শেয়ার করুন

ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মধুখালীতে খুন হওয়া সাদ্দামের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলতাফ শেখের ৬ ছেলে। ২২ জুলাই মারা যান আলতাফ শেখ। শুক্রবার তার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা। রোববার আলতাফ শেখের চতুর্থ সন্তান আনিছ শেখ ছোট ভাই সাদ্দামকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

ফরিদপুরের মধুখালীতে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দাড়ির পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম সাদ্দাম শেখ। গ্রামের মৃত আলতাফ শেখের পঞ্চম সন্তান তিনি। গ্রামেই কৃষি কাজ করতেন। ছয় মাস আগে বিয়ে করেন সাদ্দাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলতাফ শেখের ৬ ছেলে। ২২ জুলাই মারা যান আলতাফ শেখ। শুক্রবার তার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা। রোববার আলতাফ শেখের চতুর্থ সন্তান আনিছ শেখ ছোট ভাই সাদ্দামকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, আনিছ মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা চলছে।

সাদ্দামের বড় ভাই আওয়াল শেখ জানান, আনিছ দীর্ঘদিন ধরেই মানসিকভাবে অসুস্থ।

রোববার রাতে হঠাৎ করেই সে পাগলামি শুরু করে। এসময় তাকে থামাতে গেলে আনিছ বাঁশের মোথা দিয়ে সাদ্দামকে পিটিয়ে আহত করে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাদ্দামের স্ত্রী মদিনা বেগম বলেন, বিয়ের মাত্র ছয় মাস হয়েছিল। এর মধ্যেই স্বামীকে হারাতে হলো।

জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসহাক আলী মোল্যা বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বড় ভাই ছোট ভাইকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি হৃদয়বিদারক।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, রাতেই আনিছকে আটক করা হয়েছে। তবে সে মানসিক ভারসাম্যহীন। সাদ্দামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন
অটোচালক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

শেয়ার করুন