সড়কে চলছে ‘গর্ত সংস্কার’, উল্টে যাচ্ছে যানবাহন

কুষ্টিয়ার লাহিনী-সান্দিয়ারা সড়কের সংস্কার কাজে ‘উপকার’ পাচ্ছেন না লোকজন। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কে চলছে ‘গর্ত সংস্কার’, উল্টে যাচ্ছে যানবাহন

এলজিইডির রক্ষণাবেক্ষণ ফান্ড থেকে বড় বড় গর্তগুলোর মেরামতকাজ করা হচ্ছে। মূল সড়ক ঠিক করতে এখন এডিবির অনুমতি লাগবে। নতুন টেন্ডারের পর রাস্তার কাজ শুরু করা যাবে।

কুষ্টিয়ার লাহিনী-সান্দিয়ারা সড়কের সংস্কারকাজে ‘উপকার’ পাচ্ছেন না লোকজন। নষ্ট সড়কের বেহাল দশা কাটাতে চলছে মাটি, বালু ও খোয়া দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা। কিন্তু তাও বৃথা যাচ্ছে নানা কারণে।

ধুলাবালিতে একাকার হয়ে থাকা সড়কে বৃষ্টির পানি জমলেই হয়ে উঠছে কর্দমাক্ত। খানাখন্দে পড়ে উল্টে যাচ্ছে অটোরিকশাসহ যানবাহন। স্বল্প বাজেটে সড়ক সংস্কার করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হচ্ছে।

এলাকার লোকজন জানান, কুষ্টিয়া শহরতলির লাহিনী থেকে কুমারখালী উপজেলার সান্দিয়ারা পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়ক তিন বছর ধরে একেবারে বেহাল। এ সড়কটি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার লাঙ্গলবন্ধ পর্যন্ত গেছে। প্রায় ১২ লাখ মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে এই সড়কের উপরিভাগের পিচ, পাথর, ইটের আবরণ উঠে গেছে। দেখে মনে হয় রাস্তায় ইট আর বালুর মিশ্রণ বিছিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে আবার কিছুদূর পরপরই গর্ত। খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় পড়ছে অটোরিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন। মানুষ আহত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে মালামাল।

সড়কে চলছে ‘গর্ত সংস্কার’, উল্টে যাচ্ছে যানবাহন

সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, কুষ্টিয়ার লাহিনী প্রান্ত থেকে কিছুদূর এগোলেই আর সড়কের পিচ চোখে পড়ে না। জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্ত। ইটের রঙের মতো লালচে ধুলা ছড়িয়ে আছে সড়কজুড়ে। যানবাহন গেলেই ধুলা উড়ে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের প্রধান খালের উত্তর পাড়ের ওপর দিয়ে নির্মাণ করা এই সড়ক নিয়ে বিস্তর অভিযোগ এলাকারবাসীর।

অটোরিকশা চালক মো. রাকিব বলেন, ‘এই রোডে আমাদের খুবই সমস্যা, যাত্রী নিয়ে যখন যাই উল্টে পড়ে। যেখানে গর্ত ছিল সেখানে সংস্কারের নামে ইট ফেলে দিয়ে চলে গেছে।’

অটোরিকশাচালক খবির উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তা উঁচু-নিচু হয়ে গেছে, কেউ ঠিক করছে না। রাস্তা যদি কোনোমতে সমান করে দিত তাহলেও আমরা চলতে পারতাম।’

সড়কে চলছে ‘গর্ত সংস্কার’, উল্টে যাচ্ছে যানবাহন

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাত্তার বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও ইট-বালু ফেলতে দেখা গেছে। কিছুটা সমান হয়েছিল, আবার যা তা-ই হয়ে গেছে। সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী।’

বহলা গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘একটানা চার কিলোমিটার রাস্তা ভাঙা। তারপর কিছুটা ভালো, আবার ভাঙা। এ পথে চলতে গিয়ে মানুষসহ উল্টে পড়ছে রিকশা-ভ্যান ও ছোট যানবাহন।’

লাহিনীর বাসিন্দা আফরিন সাগর বলেন, ‘রাস্তা একেবারেই ভাঙা। সব মিলিয়ে এ সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে জীবন দুর্বিষহ। মাস্ক ছাড়া এই রাস্তায় যাওয়াই যায় না। মাঝেমধ্যেই মোটরসাইকেল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

সড়কে চলছে ‘গর্ত সংস্কার’, উল্টে যাচ্ছে যানবাহন

কুমারখালী চাপড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হাসান রিন্টু বলেন, ‘এভাবে রাস্তা মেরামত করে লাভ হচ্ছে না, নতুন করে নির্মাণ করা দরকার। যে সংস্কারকাজ হচ্ছে, তা শুধুই টাকা নষ্ট।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মণ্ডল জানান, সড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য কাজ পেয়েছিল রাফিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। কুমারখালীর লাহিনী-সান্দিয়ারার ১৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং সদরের বিত্তিপাড়া-জমজমির ১৭ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণের জন্য তাদের কার্যাদেশ দেয়া হয়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে মোট ৩০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়।

সড়কে চলছে ‘গর্ত সংস্কার’, উল্টে যাচ্ছে যানবাহন

২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাদের কাজ শুরুর কথা ছিল। অল্প কিছু কাজ করতেই করোনা পরিস্থিতিসহ নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় এলজিইডি আগের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন টেন্ডারের অনুমোদন চেয়ে এডিবিকে চিঠি দিয়েছে। এডিবি থেকে অনুমতি পাওয়া গেলেই আবার নতুন টেন্ডারের মাধমে কাজ শুরু করা যাবে।

সড়কের বর্তমান হাল প্রসঙ্গে প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘মানুষের ভোগান্তি বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ রক্ষণাবেক্ষণ ফান্ড থেকে বড়বড় গর্তগুলোর মেরামতকাজ করা হচ্ছে। নতুন টেন্ডার না করা পর্যন্ত এর বাইরে কিছু করা সম্ভব না।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পোশাকশ্রমিককে ‘ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৩

পোশাকশ্রমিককে ‘ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৩

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২২ জুন রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই সহকর্মী তাকে তুলে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের আরেক সহযোগী আসে। তিনজনই ওই নারীকে ধর্ষণ করে।

ঢাকার সাভারে পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগে তার সহকর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার রাতে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি ২২ জুনের। হেমায়েতপুরের একটি বাড়িতে ওই নারীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারের বরাতে ওসি জানান, হেমায়েতপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন ওই নারী। ২২ জুন রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই সহকর্মী তাকে তুলে ওই বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের আরেক সহযোগী আসে। তিনজনই ওই নারীকে ধর্ষণ করে।

ওসি মাইনুল বলেন, বুধবার ওই নারীর মা থানায় এসে তিনজনকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা করেন। আসামিদের বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হবে। ওই নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

শ্রমিকের বদলে যন্ত্র, কাটা পড়ছে গাছ

শ্রমিকের বদলে যন্ত্র, কাটা পড়ছে গাছ

হতদরিদ্র প্রকল্পের নীতিমালায় বলা আছে, কাজ করাতে হবে শ্রমিকদের দিয়েই। তবে এলাকাবাসী বলছেন, চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার হোসেন শ্রমিকদের বাদ দিয়ে যন্ত্র ভাড়া করেছেন। সেই যন্ত্র দিয়ে খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বিচারে খননের সময় কেটে ফেলা হচ্ছে মূল্যবান গাছও।

ফেনীর সোনাগাজীতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে শ্রমিক নিয়োগের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তবে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধি বলছেন, বর্ষা মৌসুমে খননকাজ লেবার দিয়ে করা সম্ভব নয়।

হতদরিদ্র প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরসাহাভিকারী গ্রাম ও চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মোহনায় শকুনিয়া শাখা খালে খনন চলছে। এই কাজের জন্য বরাদ্দ এসেছে তিন লাখ টাকা।

হতদরিদ্র প্রকল্পের নীতিমালায় বলা আছে, কাজ করাতে হবে শ্রমিকদের দিয়েই। তবে এলাকাবাসী বলছেন, চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার হোসেন শ্রমিকদের বাদ দিয়ে যন্ত্র ভাড়া করেছেন। সেই যন্ত্র দিয়ে খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বিচারের খননের সময় কেটে ফেলা হচ্ছে মূল্যবান গাছও।

সিরাজুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, কয়েক দিনে মেশিনে খালের দুই পাড়ের কয়েক হাজার গাছ কাটা পড়েছে। পিকআপপ্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে খনন করা মাটি। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান সিরাজুল ইসলাম।

অভিযোগে তিনি বলেন, খালের পাড়ে তার কিছু গাছ আছে। সেগুলো না কাটতে অনুরোধ করলে দেলোয়ার ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তার ২ হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

শ্রমিকের বদলে যন্ত্র, কাটা পড়ছে গাছ

একই ধরনের অভিযোগ উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের নূর আলম সুমন, দক্ষিণ চরসাহাভিকারী গ্রামের রবিন্দ্র কুমার দাস, আবু তাহের, রতন চন্দ্র দাস, পরিমল চন্দ্র দাস, হরলাল চন্দ্র দাস, চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মহেশ্চর গ্রামের সুধীর চন্দ্র দাস, মতি লাল দাস ও তুষার চন্দ্র দাসসহ অনেকের।

এ বিষয়ে ইউএনও জহিরুল হায়াৎ বলেন, ‘গ্রামবাসীর একটি লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। হতদরিদ্রদের দিয়ে কাজ করানোর কথা রয়েছে প্রকল্পের বিধিতে। অথচ তিনি তা অনুসরণ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করতে প্রকল্প পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি প্রতিবেদন দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তবে সব অভিযোগ নাকচ করেছেন ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে লেবার দিয়ে খাল সংস্কার কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে যন্ত্র দিয়ে খাল খনন করেছি।’

চরদরবেশ ইউপির চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ভূট্টো জানান, ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন।

শেয়ার করুন

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে দুই বোনের বিক্ষোভ

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে দুই বোনের বিক্ষোভ

কাদের মির্জা। ফাইল ছবি

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বসুরহাট থানা সংলগ্ন রোকেয়া বেগমের মালিকানাধীন এইচ.আর ভবনে কাদের মির্জার অনুসারীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।     

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীরা তার বোন রোকেয়া বেগমের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই হামলার প্রতিবাদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন কাদের মির্জার দুই বোন।

বসুরহাট থানার সামনের সড়কে কাদের মির্জার বড় বোন তাহেরা বেগম ও ছোট বোন রোকেয়া বেগম উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশ) নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বুধবার রাত ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এ সময় তারা কাদের মির্জার শাস্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন।

বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনের পর থেকে ছোট বোন রোকেয়া বেগমের ছেলে ফখরুল ইসলাম রাহাত এবং বড় বোন তাহেরা বেগমের ছেলে মাহবুবুর রশীদ মঞ্জুর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে কাদের মির্জার।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বসুরহাট থানা সংলগ্ন সেতুমন্ত্রীর বোন রোকেয়া বেগমের মালিকানাধীন এইচ.আর ভবনে কাদের মির্জার অনুসারীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রোকেয়া বেগম।

রোকেয়া বেগম জানান, মির্জার বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে আর কে আছে হামলা করার? মির্জাই তো এখন গডফাদার। পুলিশ তাকে প্রটেকশন দিচ্ছে, সে বিশাল ক্ষমতাধর।

‘মির্জার বাহিনী বাসায় হামলা করে আমার ছেলে রাহাতকে খুঁজতে থাকে। আমি তাদেরকে বলি আমি মন্ত্রীকে ফোন দিচ্ছি, তারা বলে মন্ত্রী কী করবে? তোর ছেলেকে বাইর করি দে, তখন দেখবি কি করি। এ সময় হামলাকারীরা বাসায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

রোকেয়া বেগমের ছেলে ফখরুল ইসলাম রাহাত অভিযোগ করেন, কোম্পানীগঞ্জে আ. লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্ছা রাসেলের নেতৃত্বে তার বাসায় হামলা হয়েছে।

এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এটি তাদের সাজানো নাটক হতে পারে। কোম্পানীগঞ্জের শান্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, কয়েকজন লোক রোকেয়া বেগমের বাসার গেইটে লাথি মেরে গালমন্দ করেছে-এই ধরনের একটা সংবাদ আমরা পেয়েছি। আামি ঘটনাস্থলে আছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

মোটরপার্টসের সঙ্গে ভায়াগ্রা আনার অভিযোগ

মোটরপার্টসের সঙ্গে ভায়াগ্রা আনার অভিযোগ

বেনাপোল কাস্টম হাউসের ‍উপকমিশনার অনুপম চাকমা জানান, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভায়াগ্রার চালানটি আমদানি করে যশোরের মামনি এন্টারপ্রাইজ। পণ্যটি বন্দর থেকে ছাড় করানোর চেষ্টা করছিল বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমিন ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস।

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মোটরপার্টসের সঙ্গে আনা ২৬ কেজি যৌন উত্তেজক ওষুধ ভায়াগ্রার চালান আটক করেছেন কাস্টমস সদস্যরা।

বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার।

তিনি জানান, রোববার বিকালে বেনাপোল বন্দরের ৪২ নম্বর পণ্যাগার থেকে ভায়াগ্রা চালানটি জব্দ করা হয়। পড়ে কাস্টমসের ল্যাবে প্রাথমিক পরীক্ষায় এটি ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ‍উপকমিশনার অনুপম চাকমা জানান, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভায়াগ্রার চালানটি আমদানি করে যশোরের মামনি এন্টারপ্রাইজ। পণ্যটি বন্দর থেকে ছাড় করানোর চেষ্টা করছিলেন বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমিন ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস।

তিনি বলেন, ‘৩১ মে ওই আমদানিকারক মোটরপার্টস অ্যান্ড আদার্স ঘোষণায় ভারত থেকে ৩০১ প্যাকেজ পণ্য আমদানি করে বেনাপোল বন্দরের ৪২ নম্বর পণ্যাগারে রাখেন। পরে পরীক্ষায় দেখা যায়, ৩০১ প্যাকেজের মধ্যে ১১৪ নম্বর প্যাকেজে পাউডার জাতীয় ২৬.২১ কেজি পণ্য রয়েছে। সেটি কাস্টমস হাউজের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করে ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়।’

বেনাপোল কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম বলেন, ‘কাস্টমস হাউজে প্রাথমিক পরীক্ষায় ভায়াগ্রা শনাক্ত হয়েছে। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২০১৯ সালে বেনাপোল বন্দরে সাড়ে ১২ কোটি টাকা দামের আড়াই মেট্রিক টন ভায়াগ্রা আটক করে কাস্টমস। তবে আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় বৈধ পথে থামেনি ভায়াগ্রা আমদানি।

শেয়ার করুন

অন্তঃসত্ত্বাকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

অন্তঃসত্ত্বাকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ভুল চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

স্বজনদের অভিযোগ, রিক্তাকে দুপুরে অস্ত্রোপচারের জন্য আল খলিল হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এ সময় গাইনি চিকিৎসক সায়মা রহমান ইমা অর্ধেক অস্ত্রোপাচার করে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ভুল চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পৌর এলাকার আল খলিল হাসপাতালে বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

অন্তঃসত্ত্বা রিক্তা আক্তার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের শাকিল মিয়ার স্ত্রী।

স্বজনদের অভিযোগ, রিক্তাকে দুপুরে অস্ত্রোপচারের জন্য আল খলিল হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এ সময় গাইনি চিকিৎসক সায়মা রহমান ইমা অর্ধেক অস্ত্রোপাচার করে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ মানিক মিয়া জানান, রিক্তাকে সকালে শহরের আল বারাকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করলে রিপোর্ট ভালো আসে এবং সেই রিপোর্ট নিয়ে আল খলিল হাসপাতালে চলে আসেন অস্ত্রোপচারের জন্য। কিন্তু যখন চিকিৎসক সায়মা রহমান অস্ত্রোপচার করা শুরু করেন তখন তিনি দেখেন যে রিপোর্টে যা লেখা হয়েছে তার সঙ্গে বাচ্চার অবস্থানের মিল নেই। রোগীর পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা হাসপাতালে ঝামেলা করে। পরে আমরা নিজ দায়িত্বে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই।

এ বিষয়ে চিকিৎসক সায়মা রহমানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সদর মডেল থানার ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুল চিকিৎসার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

কনস্টেবলের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়নি সেই কিশোরী

কনস্টেবলের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়নি সেই কিশোরী

জামিন পাওয়ার পর স্বজনদের মাঝে তৌহিদুল ইসলাম শাওন। ছবি: নিউজবাংলা

মামলায় যেসব তারিখে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব তারিখে অভিযুক্ত শাওন চাকরিতে কর্মরত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতে প্রতিবেদন দিয়ছেন। এ ছাড়া ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে, শাওন ওই কন্যাসন্তানের পিতা নন। আর এ কারণে ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ জেবুন্নেছা বুধবার শাওনকে জামিন দেন।

ফেনীর ফুলগাজীতে তৌহিদুল ইসলাম শাওন নামে একজন পুলিশ কনস্টেবলের ধর্ষণে এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, ডিএনএ টেস্টে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। জামিন পেয়েছেন সেই পুলিশ কনস্টেবল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফুলগাজী উপজেলার ওই কিশোরী গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এই সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে যখন এলাকায় কানাঘুষা চলছে তখন ওই কিশোরীর মা গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাদী হয়ে ফুলগাজি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলায় ফুলগাজীর বশিকপুর এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম শাওনসহ চারজনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন শাওনের বাবা আমিনুল ইসলাম, মা শানু ও মামা ফিরোজ আহম্মদ বাবু।

এরপর ফুলগাজী থানা পুলিশ ২৭ ফেব্রুয়ারি ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে মার্চ অন্য ৩ আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও শাওন জামিন পান না। গ্রেপ্তার হওয়ার পর শাওনকে চাকরি থেকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক ছোটন জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই নারীর মা ফুলগাজী থানায় মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, শাওন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একদিন ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে ফেনী শহরের কোনো একটি বাসায় নিয়ে ফলের রসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে আরও কয়েকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে তার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

মামলায় যেসব তারিখে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব তারিখে অভিযুক্ত শাওন চাকরিতে কর্মরত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতে প্রতিবেদন দিয়ছেন। এ ছাড়া ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে, শাওন ওই কন্যাসন্তানের পিতা নন। আর এ কারণে ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ জেবুন্নেছা বুধবার শাওনকে জামিন দেন।

ফজলুল হক ছোটন আরও বলেন, আমি বাদীর শাস্তি চাই। শাওনের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই। ওই কিশোরী তার সন্তানকে দত্তক দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে।

শাওনের মা সাহেনা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে সাজানো মামলায় অসম্মান করা হয়েছে। চাকরিচ্যূত করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সাজানো মামলার বাদীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

শাওনের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেও পুলিশে চাকরি করেছি। আমার ছেলে পুলিশ। তারা শুধু আমাদের অসম্মান করেননি। গোটা পুলিশ পরিবারকে অসম্মান করেছেন। আমি তাদের শাস্তি চাই। ওই পরিবার অনেক মানুষকে মামলায় ফাঁসিয়েছে। তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করা উচিত।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী নূরুল আফসার মুকুল দাবি করেন ডিএনএ টেস্টে অসংগতি আছে। আমরা ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় আবেদন করেছি। তিনি আরও বলেন, তা হলে এই সন্তানের পিতা কে তা সরকারকে বের করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করার দাবি করেছেন তিনি।

সোহরাব হোসেন নামে ফুলগাজী এলাকার এক ব্যক্তি এলাকার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, ওই কিশোরীর বাবা তার বন্ধু ছিলেন। ২০১৭ সালে এই কিশোরী যখন ১০ বছরের শিশু তখন পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে কিশোরীর বাবা তার বিরুদ্ধে তার মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় তিনি ৩৩ মাস হাজতবাসের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। সেই মামলা এখন চলমান রয়েছে ফেনীর নারী ও শিশু আদালতে।

শেয়ার করুন

লকডাউনের দ্বিতীয় দিন: কঠোর ভূমিকায় প্রশাসন

লকডাউনের দ্বিতীয় দিন: কঠোর ভূমিকায় প্রশাসন

লকডাউন বাস্তবায়নে গাজীপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশী চৌকি বসিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রমিকরা ক্ষোভের সাথে জানান, কারখানা খোলা কিন্তু সড়কে কোনো গণপরিবহন নেই। সড়কে কিছু সিএনজি ও অটোরিকশা চললেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। উত্তরা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তায় যেতে জনপ্রতি ২০ টাকার ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেয়া লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে গাজীপুরের প্রশাসন।

জেলায় লকডাউনের প্রথম দিনে ঢিলেঢালাভাব থাকলেও বুধবার দ্বিতীয় দিনে পুলিশের তৎপরতা ছিল একটু বেশি। সকাল থেকে রাজধানীর প্রবেশমুখ আব্দুল্লাহপুর, কামাড়পাড়া ও টঙ্গী ব্রিজ এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক তল্লাশি চৌকি দেখা গেছে।

এছাড়া নরসিংদী হয়ে গাজীপুরে ঢুকতে ঘোড়াশাল ব্রিজ, ময়মনসিংহ সীমানায় শ্রীপুরের জৈনা বাজার, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর ও জয়দেবপুর চৌরাস্তা এলাকায় পুলিশের একাধিক তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।

রাজধানী থেকে সারাদেশকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করে সোমবার গাজীপুরসহ সাতটি জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার।

মঙ্গলবার রাত থেকে রাজধানীর সঙ্গে বন্ধ রয়েছে সারাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ফলে রাজধানীর সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সারাদেশ।

চেকপোস্টে জরুরি সেবা ও পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ছাড়া সব ধরনের যানবাহন আটকে দিচ্ছে পুলিশ। তবে নানা কারণ দেখিয়ে পুলিশের তল্লাশি চৌকি পেরোতে চাইছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পোশাক কারখানার শিপমেন্ট ও হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলছেন তারা।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানী ও গাজীপুরের প্রবেশমুখ টঙ্গী বাজারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুপাশে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সেখানে পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ শুধুমাত্র জরুরি সেবা অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যানগুলো তল্লাশি চৌকি পার হতে দিচ্ছেন। এছাড়া সব ধরনের যানবাহন রাজধানী থেকে গাজীপুরে প্রবেশ এবং গাজীপুর থেকে রাজধানীতে প্রবেশের সময় বাধার সম্মুখীন হতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার বাধার মুখে পড়ে গাড়ি থেকে নেমে কিছুদূর সামনে এগিয়ে আবার সিএনজি ও অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

দুপুরে বাধার মুখে পড়ে গাড়ি থেকে নেমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বেশ কয়েকজনকে কথা বলতে দেখা যায়। বিভিন্ন পোশাক কারখানার কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কেউ কেউ গাজীপুরে ঢোকার অনুমতি চাইলেও কঠোর ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ। শুধু পোশাক কারখানার পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া সকল ব্যক্তিগত গাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি।

সুইসটেক প্রিন্টার্স লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠান থেকে পোশাক কারখানার মালামাল নিয়ে ঢাকা থেকে গাজীপুরের মাওনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন কাভার্ডভ্যান চালক শাহীন। আব্দুল্লাহপুর পেরিয়ে গাজীপুরে ঢুকতেই টঙ্গী ব্রিজে তাকে আটকে দেয় পুলিশ।

সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়েও গাজীপুরে ঢোকার অনুমতি পাননি তিনি।

শাহিন বলেন, ‘ঢাকা থেকে গাজীপুরের মাওনার একটি পোশাক কারখানার জন্য লেভেল ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে মাওনা যাচ্ছিলাম। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট কিছুতেই গাজীপুরে ঢুকতে দিচ্ছেন না।

শেরপুর থেকে ৪২তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন সামান্তা ফেরদৌস। ২০ জুন তারিখ ছিল মৌখিক পরীক্ষার নির্ধারিত দিন। পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়।

বুধবার ঢাকা থেকে শেরপুর ফেরার পথে গাজীপুরের প্রবেশমুখ টঙ্গী বাজারে তার গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। পরে সামান্তা ফেরদৌস গাড়ি থেকে নেমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদের সঙ্গে কথা বলে নিজেকে বিসিএস পরীক্ষার্থী পরিচয় দেন। কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সাব্বির ছিলেন কঠোর।

গাজীপুর লকডাউনের আওতায় জানিয়ে ওই পরীক্ষার্থীকে বিকল্প রাস্তায় গন্তব্যে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এসময় বেশ কিছুক্ষণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিসিএস পরীক্ষার্থী সামান্তার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আটকা পড়েন ট্রাস্ট নীটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নুকুল কুমার মাহাতু।

এসময় তিনি পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিজিএমইএর একটি প্রত্যয়নপত্র দেখান। বিজিএমইএ সচিব কমডোর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (অব.) স্বাক্ষরিত ওই প্রত্যয়নপত্রে ট্রাস্ট নীটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজের বেশ কয়েকটি গাড়ির নম্বর উল্লেখ করে গাড়িগুলোকে লকডাউন থাকার সময় গার্মেন্টস শিল্পের জরুরি রপ্তানি কাজে চলাচলের অনুমতি প্রদান ও সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ওই প্রত্যয়নপত্র প্রত্যাখ্যান করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

লকডাউনের দ্বিতীয় দিন: কঠোর ভূমিকায় প্রশাসন

এসময় ট্রাস্ট নীটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নুকুল কুমার মাহাতু ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘আমি একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আমি কারখানায় যেতে না পারলে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যাবে। বিজিএমইএ থেকে শিল্প ও পোশাক কারখানা সংশ্লিষ্ট সকলকে লকডাউনে চলাচলের অনুমতি দিলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে কোনোভাবেই গাজীপুরে ঢুকতে দিচ্ছেন না।’

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকার পাশের জেলা গাজীপুর লকডাউন করা হয়েছে। এসময়ে পণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন চলাচলের অনুমতি থাকলেও অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হয়েছেন। প্রথম দিন আমরা মানুষকে লকডাউন মেনে চলার জন্য সচেতনতামূলক কাজ করেছি। কিন্তু নানা অজুহাতে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হচ্ছে। তাই আমাদেরকে কঠোর হতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র পণ্যবাহী ও জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত পরিবহনকে আমরা সড়কে চলাচল করতে দিচ্ছি। কোনো ব্যক্তিগত পরিবহন চলাচল করতে দেয়া হবেনা। আমরা অনুরোধ করব, আগামি ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর করার জন্য সকলে যেন তাদের প্রয়োজনীয় কাজ বিকল্প উপায়ে করেন।’

এদিকে শিল্পকারখানা অধ্যুষিত গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলো লকডাউনে খোলা থাকায় সকাল থেকেই সড়কে দেখা গেছে শ্রমিকদের। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে এবং রিকশায় চড়ে তাদের কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে। বিকেলে কারখানা ছুটির পর ফের শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে এবং ছোট ছোট যানবাহনে চড়ে বাসায় ফিরতে দেখা গেছে।

একাধিক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কারখানা খোলা কিন্তু সড়কে কোনো গণপরিবহন নেই। সড়কে কিছু সিএনজি ও অটোরিকশা চললেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। উত্তরা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তায় যেতে জনপ্রতি ২০ টাকার ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। ফলে নিরুপায় হয়ে পায়ে হেঁটে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. খাইরুজ্জামান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজীপুরে ২৯৩ জনের দেহে নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে আরও ৬০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মোট শনাক্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৯৬ জন।

তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় গাজীপুরে নতুন করে আরও একজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২২৮ জনে। সংক্রমণের দিক থেকে গাজীপুরে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকা।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউন বাস্তবায়নে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কেউ বাইরে চলাচল করলে জরিমানা গুনতে হচ্ছে।’

শেয়ার করুন