লুকিয়ে থেকে বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা

লুকিয়ে থেকে বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা

রাসেল রানা মাদকাসক্ত। তার আসক্তি আছে জুয়া খেলায়। এসব কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আর এই অবস্থায় বন্ধুদের পরিকল্পনায় স্বেচ্ছায় অন্তরালে গিয়ে বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন।

অপহরণের নাটক সাজিয়ে বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে ধরা পড়েছে ছেলে।

বাবা সিদ্দিক রহমান বদলগাছী থানায় তার ছেলে রাসেল রানাকে অপহরণের অভিযোগ করলে তদন্তে বের হয়ে আসে সব কিছু।

রাসেল রানার পাশাপাশি তার সহযোগী ফয়সাল আহম্মেদ ফাহিমকে আটক করে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসেন পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া।

তিনি জানান, বদলগাছীর গোয়ালভিটা গ্রামের সিদ্দিক রহমানের বড় ছেলে রাসেল রানা গত ৯ মে সকাল ১০টায় স্থানীয় সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। ১১ মে পর্যন্ত তার খোঁজ না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সিদ্দিক।

এরই মধ্যে রাসেল রানা তার ছোট ভাইকে ফোন করে জানান বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা না পাঠালে তাকে মেরে ফেলা হবে। টাকা চেয়ে তিনি বার বার ফোনও করে।

এরপর বদলগাছী ও পাশের জেলা জয়পুরহাটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ।

বুধবার রাত একটার দিকে রাসেলকে বদলগাছীর পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে জয়পুরহাট জেলা সদর থেকে আটক করা হয় ফয়সাল
আহম্মেদ ফাহিমকে।

এসপি জানান, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ নাটকের তথ্য বেরিয়ে আসে।

উপজেলার রামপুর গ্রামের নাজমুল হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করে রাসেল রানা, ফয়সাল আহম্মেদ ফাহিম ও সাখাওয়াত হোসেনসহ আরও কয়েকজন অপহণের নাটক সাজিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেন। ঘটনায় থানার মামলা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, রাসেল রানা মাদকাসক্ত। তার আসক্তি আছে জুয়া খেলায়। এসব কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আর এই অবস্থায় বন্ধুদের পরিকল্পনায় স্বেচ্ছায় অন্তরালে গিয়ে বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য