খালাসের রায়ের আড়াই বছর পর মুক্ত

খালাসের রায়ের আড়াই বছর পর মুক্ত

ইমামুল হোসেন তারা মিয়া অবিভক্ত নগরকান্দা-সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি সালথার গট্টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানও। কারামুক্ত হয়ে বুধবার বিকেলে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে এলাকায় ফেরেন তিনি।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া এক আসামি উচ্চ আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন ২০১৮ সালে। কিন্তু নথিপত্রে ছিল ত্রুটি। এতে আটকে যায় কারামুক্তির প্রক্রিয়া। এভাবে কেটেছে আড়াই বছর। অবশেষে বুধবার ছাড়া পেয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরে। ইউপি চেয়ারম্যান মলয় বোস হত্যা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা ইমামুল হোসেন তারা মিয়া বেলা ১১টার দিকে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।

ইমামুল হোসেন তারা মিয়া অবিভক্ত নগরকান্দা-সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি সালথার গট্টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানও।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মলয় বোস হত্যা মামলার রায়ে ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ তারা মিয়াসহ ৯ জনকে ফাঁসি দিয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে তিনি ওই মামলায় খালাস পান। তবে নথিপত্রে ত্রুটি থাকায় বন্দি থাকেন তিনি। অবশেষে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে তার মুক্তির আদেশ সংক্রান্ত নথি ফরিদপুর কারাগারে পৌঁছায়।

জেলা কারাগার সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ফরিদপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসেন। দুপুরে সালথা উপজেলার নকুলহাটি বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মোল্লার নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলিম মোল্লা, আটঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান ও ফেলু মোল্লা, উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ আবু মঈন বিজয়সহ আরও অনেকে।

এরপর বুধবার বিকেলে তিনি বিশাল গাড়িবহর নিয়ে এলাকায় ফেরেন।

ফরিদপুরের আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মলয় কুমার বোসকে ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মলয় আটঘর ইউনিয়নের সাড়ুকদিয়া গ্রামের মৃত মনিন্দ্রনাথ বোসের ছেলে।

হত্যার দুই দিন পর ৯ ফেব্রুয়ারি মলয় বোসের স্ত্রী ববিতা বোস আওয়ামী লীগ নেতা তারা মিয়াকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নামে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ স্থানান্তর করা হয়।

বিচার শেষে ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া একজনকে ২ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়।

যারা ফাঁসির দণ্ড পান তারা হলেন-ইমামুল হোসেন তারা মিয়া, বকুল মাতুব্বর, মিজানুর মোল্লা, মামুন মাতুব্বর, হাশেম মোল্লা, মোশারফ হোসেন মোল্লা, মনিরুজ্জামান শেখ, উজ্জ্বল বেপারী ও বেলায়েত হোসেন বেলা।

আসামিদের মধ্যে আজাদ মোল্লা, সোহেল মিয়া, আমিনুর মাতুব্বর, সত্তার মোল্লা, নজরুল শেখ, নসরু খান, হাতেম মোল্লা, অলিয়ার রহমান অলি, ইমরান মাতুব্বর, আক্কাস শিকদার, মিরাজ সরদার, সেন্টু মাতুব্বরকে যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেন বিচারক।

২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর ৯ আসামির মধ্যে ৫ জনকে ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাকি ৪ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মবিনের হাইকোর্ট এ রায় দেয়।

আরও পড়ুন:
গাজীপুরে যুবলীগ নেতা হত্যায় ৫ আসামির ফাঁসি বহাল
ইটনায় জেলেকে পিটিয়ে হত্যায় মামলা
গলা কেটে হত্যা: তিনজনের যাবজ্জীবন
চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
কলেজছাত্র সুদর্শন হত্যা মামলায় মা-ছেলের যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

মন্তব্য