‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

নছিমনচালককে তিন দিন আটকে রাখার ঘটনায় কারণ দর্শনোর নোটিশ দেয়া হয়েছে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নিজ কার্যালয়ে তিন দিন নছিমনচালককে আটকে রাখার ঘটনায় ভুল স্বীকার করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। বিষয়টি নিয়ে তিনি অনুতপ্ত বলে জানান। এদিকে ঘটনার জন্য ইউএনও রুহুল আমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার।

ইউএনও রুহুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি অনুতপ্ত। এটা ভুল ছিল। আমি আসলে কাজটি না বুঝে করেছি। সমস্যা তৈরি করেছে আমার অফিসের স্টাফরা। নছিমনচালক ধারদেনা করে ২০ হাজার টাকা এনেছিলেন ক্ষতিপূরণের জন্য। কিন্তু আমি মানবিক কারণে সে টাকাও রাখিনি। এ ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আমাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নছিমনচালক আরিফকে বৃহস্পতিবার ছেড়ে দিয়েছি। কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ অথবা মুচলেকা নেয়া হয়নি। আবার তার অভিভাবক আসার জন্য অপেক্ষাও করা হয়নি। অফিস স্টাফদের কারণে আমাকে চাপে পড়তে হয়েছে। আমি তো অমানবিক কোনো কাজ করিনি। তাকে মারধর করা হয়নি। তাকে তো আমি কারাদণ্ড দিইনি। তার বাবা-মা আসার অপেক্ষায় শুধু আটকে রেখেছিলাম। অভিভাবক আসলে তাদের হাতে তুলে দিতাম।’

এদিকে নছিমনচালক আরিফ বলেন, ‘ইউএনও অফিসের লোকজন একটি ভিডিও ধারণ করে। অফিসে শুধু আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল, মারধর করা হয়নি এবং নিয়মিত খাবার দেয়া হয়েছে বলে তারা স্বীকারোক্তি নেয়। আমাকে ইউএনও মারধর করেননি, এ কথা সত্য। কিন্তু আটকে রাখায় তিন দিন আমার খুব কষ্ট হয়েছে।’

আরিফের বাবা ইউসুফ বলেন, ‘আরিফ বাংলাবাজার এলাকায় মাছের ব্যবসা করে। কিন্তু করোনায় ব্যবসা খারাপ হওয়ায় ভাড়ায় নছিমন চালাচ্ছিল। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরদিন ইউএনও অফিসে গিয়েছিলাম। তখন গাড়িচালকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন ইউএনও।’

গত সোমবার ভোলা সদর উপজেলা থেকে চরফ্যাশনে যাচ্ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন। বাংলাবাজার এলাকায় ইউএনওর গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে একটি নছিমনের। দুর্ঘটনার পর নছিমনচালক আরিফকে আটক করে নেয়া হয় চরফ্যাশন উপজেলায়। প্রথমে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হলেও ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য পরে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে একটি কক্ষে আরিফকে আটকে রাখা হয়। আরিফকে তিন দিন আটকে রাখার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর বহনকারী স্পিডবোটের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু
মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাওয়ায় ইউএনও অবরুদ্ধ
পতাকা অবমাননা মামলা: ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ
ইউএনওর ওপর হামলা: রবিউলের বিচার শুরু
উপজেলায় ইউএনওর ক্ষমতা কেন বেশি: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাল টাকা চক্রের ৪ সদস্য কারাগারে

জাল টাকা চক্রের ৪ সদস্য কারাগারে

ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার জাল টাকা তৈরি চক্রের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার লাহেরীপাড়া এলাকা থেকে ওই চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০টি ১০০০ টাকার ও ৪০টি ৫০০ টাকার জাল নোট। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার জাল টাকা তৈরি চক্রের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন রুবেল, আবু সাঈদ, শাহীন শাহিদ ও আশিকুল ইসলাম ইসাহাক। তারা ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম।

এর আগে, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার লাহেরীপাড়া এলাকা থেকে ওই চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০টি ১০০০ টাকার ও ৪০টি ৫০০ টাকার জাল নোট।

পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ ডিবির ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি জাল টাকার কারবার করে আসছিল। বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে তারা জাল নোটগুলো ছড়িয়ে দিত। তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছে অনেকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চার ব্যক্তিকে বুধবার বিকেলে আটক করা হয়।’

এ চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর বহনকারী স্পিডবোটের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু
মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাওয়ায় ইউএনও অবরুদ্ধ
পতাকা অবমাননা মামলা: ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ
ইউএনওর ওপর হামলা: রবিউলের বিচার শুরু
উপজেলায় ইউএনওর ক্ষমতা কেন বেশি: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

মাদক রোধে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা প্রয়োজন: খাদ্যমন্ত্রী

মাদক রোধে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা প্রয়োজন: খাদ্যমন্ত্রী

সাপাহারে বৃহস্পতিবার উন্নয়ন কর্মসূচির প্রণোদনা বিতরণ করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের চিন্তাচেতনা স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। সংস্কৃতিবান্ধব বর্তমান সরকার সংস্কৃতিকর্মীদের বিষয়ে আন্তরিক। সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।

মাদক রোধে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁর সাপাহার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের চিন্তাচেতনা স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। সংস্কৃতিবান্ধব বর্তমান সরকার সংস্কৃতিকর্মীদের বিষয়ে আন্তরিক। সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, বিবাহ রেজিস্ট্রার ও প্রশাসনকে সোচ্চার হতে হবে। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

মাদকের ভয়াল থাবা সমাজকে পঙ্গু করে দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদক রুখতে হবে। বাল্যবিবাহ ও মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ভূমিকা গ্রহণে প্রশাসনসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিতে দেশে খাদ্যসংকট হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত সব সেক্টরে প্রণোদনা দিয়েছেন। মানুষের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রেখেছেন। খাদ্যের অভাব হলে ৩৩৩ নম্বরে ফোন দিলে দরিদ্রদের খাদ্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দরিদ্রদের মোবাইলে সহায়তার টাকা পৌঁছে গেছে। এটাই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মামুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাজান আলী মন্ডল, আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী, সহকারী পুলিশ সুপার বিনয় কুমার সরকার ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আমেনা খাতুন ।

পরে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ মুক্তমঞ্চ উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর বহনকারী স্পিডবোটের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু
মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাওয়ায় ইউএনও অবরুদ্ধ
পতাকা অবমাননা মামলা: ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ
ইউএনওর ওপর হামলা: রবিউলের বিচার শুরু
উপজেলায় ইউএনওর ক্ষমতা কেন বেশি: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

বিদ্যালয়টির যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল হওয়ায় ভোটকেন্দ্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার বলেন, ‘কেন্দ্রটি সরাতে এলাকাবাসী আমাকে বারবার অনুরোধ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’

বর্ষা বা জোয়ারের সময় পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। যাতায়াতেও পোহাতে হয় অসহনীয় দুর্ভোগ। স্কুলটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেখান থেকে কেন্দ্রটি সরানোর দাবি উঠেছে।

এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। জানিয়েছেন, শিগগিরই সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন।

দুই থেকে আড়াই শ ভোটারের সই করা আবেদনে বলা হয়, লোহালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে সম্পূর্ণ অনুপযোগী। বর্ষা বা জোয়ারের সময় বিদ্যালয়টির সামনে হাঁটু পানি জমে থাকে।

এ ছাড়া কেন্দ্রের দুই পাশের রাস্তা দুটি কর্দমাক্ত হয়ে থাকে। ওই কেন্দ্রে চলাচল করতে হয় হেঁটে। কেন্দ্রটি ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রটি সরিয়ে ১৫৪ নম্বর মধ্য কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আজাহার উদ্দিন খান বলেন, ‘কেন্দ্রের এক পাশের রাস্তা ভাঙা। হেইহানে কলা ও সুবারি গাছ দিয়া বানানো হাক্কা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই কারণে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়া কম।’

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

জাকির হোসেন মোল্লা নামের একজন বলেন, ‘ভোটারদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেব। এরপরও কেন্দ্র পরিবর্তন না হলে, আন্দোলন ছাড়া উপায় থাকবে না।’

লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার বলেন, ‘কেন্দ্রটি সরাতে এলাকাবাসী বারবার অনুরোধ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের বলেছি, ভোটারদের সুবিধার জন্য কেন্দ্রটি যেন সরিয়ে নেয়া হয়।’

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

এ বিষয়ে জানতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খান আবি সাহানুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খালিদ বিন রউফ জানান, ভোটারদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছি। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠাব। সেখান থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ বলেন, ‘চলাচলে সমস্যা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হলে কেন্দ্র পরিবর্তনের সুপারিশ করব। এরই মধ্যে অফিসারকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি।’

গত মার্চে কয়েক ধাপে সবগুলো উপজেলায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর ৩ মার্চ প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের তফসিল ঘোষণা হয়। ভোট হয় ২০ সেপ্টেম্বর।

আগামী সপ্তাহে এই উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর বহনকারী স্পিডবোটের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু
মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাওয়ায় ইউএনও অবরুদ্ধ
পতাকা অবমাননা মামলা: ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ
ইউএনওর ওপর হামলা: রবিউলের বিচার শুরু
উপজেলায় ইউএনওর ক্ষমতা কেন বেশি: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ৩ যুবক আটক

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ৩ যুবক আটক

আড়াইহাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক জোবায়ের হোসেন জানান, সকাল ১০টা থেকে শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা পুরিন্দা এলাকার নান্নু মিয়ার তালাবদ্ধ ঘরের জানালা দিয়ে তার বিবস্ত্র দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা বড় বাড়ি এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরই তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ।

আটক তিনজন হলেন মো. সামাদ, মো. সোহেল ও মো. শিমুল।

আড়াইহাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক জোবায়ের হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকাল ১০টা থেকে শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা পুরিন্দা এলাকার নান্নু মিয়ার তালাবদ্ধ ঘরের জানালা দিয়ে তার বিবস্ত্র দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পুলিশ গিয়ে শিশুটির গলায় গামছা বাঁধা ও বেল্ট দিয়ে দুই পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ পরিদর্শক জানান, ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর বহনকারী স্পিডবোটের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু
মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাওয়ায় ইউএনও অবরুদ্ধ
পতাকা অবমাননা মামলা: ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ
ইউএনওর ওপর হামলা: রবিউলের বিচার শুরু
উপজেলায় ইউএনওর ক্ষমতা কেন বেশি: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

ঠিকাদারকে কুপিয়ে জখম: কারাগারে ১২ আসামি

ঠিকাদারকে কুপিয়ে জখম: কারাগারে ১২ আসামি

বরগুনায় ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদকে কুপিয়ে জখমের মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

১২ জুন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম মুছা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খাঁন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম ওসমানী হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ।  

বরগুনার আমতলীতে এক ঠিকাদারকে কুপিয়ে জখমের মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১২ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নাহিদ হাসান বৃহস্পতিবার সকালে এ আদেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আরিফুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে তোলার পর জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে রাত ৮টার দিকে আজাদ ও হাসান মৃধা নামের দুই ব্যক্তি ঠিকাদারির কাজে উপজেলার আমতলী সদর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামে যান। সেখানে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

এক পর্যায়ে তাদের শারিকখালী খাল পাড়ে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা আজাদ ও হাসানকে উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় ১২ জুন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম মুছা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খাঁন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম ওসমানী হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ।

আইনজীবী আরিফুল হাসান জানান, ২৬ আগস্ট আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ২৮ দিনের আগাম জামিন নেন। পরে বাদীপক্ষ সুপ্রীম কোর্টে আগাম জামিনের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করলে ৮ সেপ্টেম্বর আদালতের চেম্বার বিচারক জামিনের মেয়াদ কমিয়ে ১৪ দিন ঠিক করেন।

মেয়াদ শেষে বৃহস্পতিবার আসামিরা ফের জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আজাদের মামা ও আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, ‘চাঁদা না দেয়ায় আসামিরা আমার ভাগনেকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করে। তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। আমি ন্যায় বিচার চাই। ’

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম মুছা। আদালত থেকে কারাগারে নেয়ার পথে তিনি জানান, আমতলীর মেয়রের ভাগনে আজাদ রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ঘটনার দিন তিনি আমতলী মাতৃছায়া কাপড়ের দোকানে ছিলেন বলেও দাবি করেন।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর বহনকারী স্পিডবোটের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু
মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাওয়ায় ইউএনও অবরুদ্ধ
পতাকা অবমাননা মামলা: ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ
ইউএনওর ওপর হামলা: রবিউলের বিচার শুরু
উপজেলায় ইউএনওর ক্ষমতা কেন বেশি: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

জনগণের চাওয়া অনুযায়ী ভোটের পরিবেশ

জনগণের চাওয়া অনুযায়ী ভোটের পরিবেশ

আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: নিউজবাংলা

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। ভোট দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, আপনারা গণতন্ত্র চান। ভোটের জন্য জনগণ যেভাবে চায় সেভাবে পরিবেশ করে দেয়া হবে।’

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণ যেভাবে চায় ভোটের পরিবেশ সেভাবে করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, সেতু ও সড়ক নির্মাণসহ ৩৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। ভোট দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, আপনারা গণতন্ত্র চান। ভোটের জন্য জনগণ যেভাবে চায় সেভাবে পরিবেশ করে দেয়া হবে।’

সমাবেশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘ষড়যন্ত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়েছি। আর ষড়যন্ত্র করতে দেয়া হবে না। সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মানবিক কারণে বাসায় দেয়া হয়েছে। তিনি কোভিড আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যান। ডাক্তাররা ওনাকে (খালেদা জিয়া) ভালো করেছেন।

‘বিএনপি এখনও বলছে আমরা নাকি ভয় পাই। তাই খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেই না। দেশের চিকিৎসায় যদি তিনি ভালো হন, তাহলে কেন বিদেশ যাবেন। আমরা যদি দেশেই মানুষকে সুস্থ করতে পারি, তাহলে বিদেশে যাওয়ার কি দরকার আছে, আপনারাই বলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘লকডাউনে যারা ঘর থেকে বের হতে পারেননি, সবার জন্য প্রণোদনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সবার জন্য এক লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জমসেদ শাহ্, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান পিয়ারা আক্তার পিওনা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন বেগ শাপলু ও সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন নয়ন।

উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, মন্ত্রীর একান্ত সচিব নূর কুতুবুল আলম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান, কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর বহনকারী স্পিডবোটের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু
মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাওয়ায় ইউএনও অবরুদ্ধ
পতাকা অবমাননা মামলা: ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ
ইউএনওর ওপর হামলা: রবিউলের বিচার শুরু
উপজেলায় ইউএনওর ক্ষমতা কেন বেশি: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

বাসচালক হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান রিমান্ডে

বাসচালক হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান রিমান্ডে

নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পলাশ মোল্লা। ছবি: নিউজবাংলা

নিহত বাসচালক লিয়াকত শিকদারের স্ত্রী মামলার বাদী আসমা খাতুন জানান, তাদের বাড়ি নড়াইল শহরের পাশের সীমাখালী গ্রামে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২৮ আগস্ট তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নড়াইলে বাসচালক হত্যা মামলার প্রধান আসামি সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

সদর আমলি আদালতের বিচারক হেলাল উদ্দিন বুধবার দুপুর দুইটার দিকে আউড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান পলাশ মোল্লাকে রিমান্ডে পাঠান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার ওসি তুষার কুমার মণ্ডল পলাশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

নিহত বাসচালক লিয়াকত শিকদারের স্ত্রী মামলার বাদী আসমা খাতুন নিউজবাংলাকে জানান, তাদের বাড়ি নড়াইল শহরের পাশের সীমাখালী গ্রামে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২৮ আগস্ট তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় তিনি ১৭ জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

ওসি তুষার জানান, প্রথমে সীমাখালী গ্রাম থেকে এই মামলার আসামি নাসিম শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত সোমবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে পুলিশ পলাশসহ আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চেয়ারম্যান পলাশের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পলাশ বাদে গ্রেপ্তার বাকি তিনজনই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার থেকে পলাশকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর বহনকারী স্পিডবোটের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু
মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাওয়ায় ইউএনও অবরুদ্ধ
পতাকা অবমাননা মামলা: ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ
ইউএনওর ওপর হামলা: রবিউলের বিচার শুরু
উপজেলায় ইউএনওর ক্ষমতা কেন বেশি: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন