নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণ, টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধার 

অপহৃত যুবক

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণ হওয়া যুবক আবিরকে টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, মুক্তিপণ পাঠাতে বলা বিকাশ নাম্বারের জিপিএস ট্র্যাক করে একটি নির্জন এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আবিরকে উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণের টাঙ্গাইল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউপাড়া বাজার থেকে শুক্রবার ভোরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার মো. আবিরের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের হিরাজিল সিরাজ টাওয়ারে ভাড়া থাকেন।

র‍্যাবের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার এরশাদুল রহমান নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাসা থেকে আবিরকে অপহরণ করা হয়। এরপর একটি নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা বিকাশ করতে বলা হয়।

এরপর আবিরের পরিবার র‍্যাব-১২-এর কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করে।

অভিযোগে বলা হয়, এক বছর আগে মো. সুজন নামের এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে আবিরের বন্ধুত্ব হয়। কাপড়ের ব্যবসার কথা বলে সুজনই তাকে অপহরণ করেছে।

র‍্যাব জানায়, বিকাশ নাম্বারের জিপিএস ট্র্যাক করে তারা একটি নির্জন এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আবিরকে উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়েছে।

আবিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই’

‘ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই’

ছুরিকাঘাতে নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী গোলাম রসুল। ছবি: নিউজবাংলা

রসুলের বাবা কাজী রওমোত বলেন, ‘আমার কোনো টাকা নাই। তাও আমি যেভাবেই হোক মামলা চালাবো। যতই ভয় দেখাক ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই।’

মাগুরা সদরের বেরইলপলিতা গ্রামে ছুরিকাঘাতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী খুনের মামলার ছয় দিন হয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত গোলাম রসুলের বাবা কাজী রওমোত ২৮ জুলাই বেলা তিনটার দিকে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। মামলার আসামি রসুলেরই ছয় সহপাঠী।

হত্যার সাতদিন হয়ে গেলেও মা সোহাগী বেগম এখনও ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। তিনি বারবার আহাজারি করে বলেন, ‘আমার বাজান মরে নাই। ওরে তোরা লুকায়ে রাখছিস।’

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৬ বছর বয়সী রসুল গঙ্গারাম কালীপ্রসন্ন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিল। তার বাবার স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান আছে।

২৭ জুলাই রাত পৌনে আটটার দিকে রসুল বাবার দোকান থেকে বাড়ির দিকে রওনা হয়। পথে বেরইলপলিতা দক্ষিণপাড়ায় নূর আলমের পাকা রাস্তার ব্রিজের পাশে তার বন্ধুরা তাকে থামায়।

সেখানে ফ্রি ফায়ার গেম নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। তারা তাকে মারধর করে। গেম নিয়ে আগে থেকেই রসুলের সঙ্গে বন্ধুদের বিরোধ ছিল। মারামারির একপর্যায়ে কেউ একজন তার বুকে ছুরিকাঘাত করে।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হলেও পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করেছিল তার বন্ধু দশম শ্রেণির এক ছাত্র। রসুল তার মেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড গোপনে ব্যবহার করে ফ্রি ফায়ার খেলত বলে সে প্রায়ই তাকে হুমকি দিত। এর জেরেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

রসুলের বড় বোন লিপিকা বেগম নিউজবাংলাকে জানান, রসুল তাদের দুইবোনের আদরের একমাত্র ভাই। সামনে বছর সে কলেজে যেত। স্বপ্ন ছিল, একদিন অভাবের এই সংসারের হাল ধরবে রসুল। বোনদের বিয়ের পর কে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করবে সেটিও তাদের ভাবিয়ে তুলছে।

লিপিকার অভিযোগ, ভাইয়ের মৃত্যুর পর ইদানীং অপরিচিত লোকজন তার বাবার দোকানে এসে শাসিয়ে যায়। তারা দরিদ্র মানুষ। ক্ষমতাসীনদের একটি বড় অংশ আসামিদের পক্ষ নিয়ে মামলা তুলে নিতে তাদের চাপ দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই খুন হওয়ার দুইদিন আগে কারা যেন তাকে উপজেলার মহম্মদপুরের পানিঘাটায় আটকে রেখেছিল। গলাও ছুরিও ধরেছিল। পুলিশ তাদের আটক করেছে বলে শুনেছি।’

এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে আটক করেনি।

রসুলের বাবা কাজী রওমোত বলেন, ‘আমার কোনো টাকা নাই। তাও আমি যেভাবেই হোক মামলা চালাবো। যতই ভয় দেখাক ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই।’

এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, অনেক কিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের বয়স কম। পুলিশ আসামিদের পরিবারকে নজরে রেখেছে। চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনার।

এই খুনের ঘটনার মূলে যে মোবাইল গেম ছিল সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ওসি।

আরও পড়ুন:
অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

খুলনা ও রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগী

খুলনা ও রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগী

কিছু দিন ধরে আতঙ্কজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা। ফাইল ছবি

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার ভর্তি হওয়া তিন রোগীর মধ্যে দুজনই শিশু। তাদের কারও বাড়ি খুলনা জেলার না হলেও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজশাহীতে ভর্তি রোগী অবশ্য ঢাকা থেকেই আক্রান্ত হন।

ঢাকায় উদ্বেগ তৈরি করা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এক রোগী ভর্তি হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার ভর্তি হওয়া তিন রোগীর মধ্যে দুজনই শিশু। তাদের কারও বাড়ি খুলনা জেলার না হলেও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী হিলাড়ি স্বপন কর্মকারও একইদিন বিকেলে সেখানে যান। তার বাড়ি রাজশাহীতে হলেও পড়াশোনার জন্য ঢাকায় ছিলেন। সেখান থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে ভর্তি তিন রোগী হলো বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ৩২ বছরের সজীব, রামপাল উপজেলার বাঁশতলি এলাকার অপু বিশ্বাসের চার বছরের ছেলে অতিস ও নড়াইল লোহাগড়ার লুটিয়া এলাকার কানু ঘোষের ১০ বছরের ছেলে লিংকন ঘোষ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘খুলনায় এখনও ডেঙ্গু প্রভাব বিস্তার করেনি। তবুও সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘প্রাথমিকভাবে ১০ শয্যার একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ‘খুলনায় এখনও ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। উপজেলাগুলোতে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী আসলে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু টেস্টও করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত কিটের ব্যবস্থা রাখা আছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি স্বপনের বাড়ি নগরীর ডিঙ্গাডোবা বাগানপাড়া এলাকায়। তিনি ঢাকায় নর্দান ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী। সোমবার ভোরে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছান। বিকেলেই হাসপাতালটিতে ভর্তি হন তিনি।

স্বপন জানান, তিনি নার্সিং কলেজের হোস্টেলে থাকেন। কয়েকদিন আগে তিনি অসুস্থ হওয়ায় সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে পজেটিভ রেজাল্ট আসে। এর পরই তিনি রাজশাহীতে চলে আসেন।

সোমবার রামেক হাসপাতালে ভর্তির পর ফের পরীক্ষা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখানেও পরীক্ষায় পজেটিভ এসেছে। এখন ডেঙ্গুর চিকিৎসা চলছে। তবে শারীরিকভাবে এখনও ভালো আছেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘তিনি ঢাকাতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখানে আসার পর আমরা তাকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।

‘চলতি মৌসুমে এই হাসপাতালে এটিই প্রথম ডেঙ্গু রোগী। আমরা তাকে সুরক্ষা দিয়ে রাখছি। বুধবার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড করার পর তাকে সেখানে রাখা হবে।’

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবশ্য আগেই প্রস্তুতি নিয়েছে। ঈদের আগে ঢাকা থেকে অনেকেই যাওয়ায় ডেঙ্গু ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় গত মাসের শেষ সপ্তাহেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়ে রাখে।

আরও পড়ুন:
অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

তিনি কখনও এসপি কখনও ডাক্তার

তিনি কখনও এসপি কখনও ডাক্তার

প্রতারণার অভিযোগে কামরুল হাসান সাদ্দাম নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ বলছে, প্রেমর সম্পর্কের এক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তুলে রাখতেন সাদ্দাম। পরে তাদের সেসব দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন।

কখনো পুলিশ সুপার, কখনো সেনা কর্মকর্তা আবার কখনো ডাক্তার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে বেড়ানো এক যুবককে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

নওগাঁ শহরের মল্লিকা ইন হোটেল থেকে সোমবার রাত ৮টার দিকে সদর থানা পুলিশ কামরুল হাসান সাদ্দামকে আটক করে।

২৮ বছর বয়সী সাদ্দাম যশোরের ঝিকরগাছা থানার আটুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, সাদ্দাম বিভিন্ন সময় নিজেকে পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, গোয়েন্দা পুলিশ, ডাক্তার, সেনাবাহিনীর অফিসার, বড় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সখ্যতা বাড়তেন।

প্রেমর সম্পর্কের এক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তুলে রাখতেন। পরে তাদের সেসব দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন।

এসপি মান্নান বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন নওগাঁর এক উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান। এ সুযোগে সাদ্দাম নিজেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে মোবাইলে মা-ছেলের সম্পর্ক গড়ে তুলে যাতায়াত শুরু করেন।

তাকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনি টিকিটসহ বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে গত বছরের নভেম্বরে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সাদ্দাম। এরপর থেকে তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন ওই নারী।

ওই ভাইস চেয়ারম্যান জানতে পারেন, সোমবার সাদ্দাম নওগাঁ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছেন। পরে তিনি থানাকে জানালে পুলিশ সাদ্দামকে আটক করে।

এসপি মান্নান জানান, এক বছর আগে শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করেন সাদ্দাম। পরে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে রাখেন। তাকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে দেড় লাখ টাকা ও দুইটি ফাঁকা চেক হাতিয়ে নেন।

এরপর মেয়েটির দোতলা বাড়ির দিকে নজর পড়ে সাদ্দামের। ফাঁকা চেক ও গোপনে ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করে গত রোববার তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেন।

পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিজ এলাকায় সাদ্দামের দুই স্ত্রীর সন্ধানে পায়। এ ছাড়া তার গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাদ্দাম। তিনি অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রা (বিট কয়েন) ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।

এসপি বলেন, সাদ্দামের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় দুইটি মামলা হয়েছে। আদালতে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম মামুন খান চিশতী, গাজিউর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন ও সদর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

সাগরে জেলেদের সংঘর্ষে প্রাণহানি

সাগরে জেলেদের সংঘর্ষে প্রাণহানি

খানখানাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন জানান, সাগরে মাছ ধরা নিয়ে আনোয়ারার গহিরা এলাকার ও বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়ায় এতে থাকা পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক জেলে নিহত হয়েছেন। সাগরে ডুবে নিখোঁজ আরও পাঁচ জেলে।

বঙ্গোপসাগরের বাঁশখালীর খানখানাবাদ অংশে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছির উদ্দিনের বাড়ি খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদম রসুল এলাকায়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, সাগরে মাছ ধরা নিয়ে আনোয়ারার গহিরা এলাকার ও বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়ায় এতে থাকা পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

নিহত নাছিরের মরদেহ তীরে আনতেও বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির বলেন, ‘সংঘর্ষে বোট ডুবে এক জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছি। এখনও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারিনি।’

আরও পড়ুন:
অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

স্ত্রী মিতু নিহতের পর এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবুল আক্তার। ফাইল ছবি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে গায়ত্রীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে গায়ত্রীর বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পক্ষ থেকে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি, যা মামলার তদন্তকাজকে এগিয়ে নেবে। তবে গায়ত্রী বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটি নিয়ে আমাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি।’

২৩ মে গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি দিয়েছিল পিবিআই। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ওই চিঠির উত্তর পায় সংস্থাটি।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে গায়ত্রীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে গায়ত্রীর বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

এর আগে বাবলুকে দেয়া গায়ত্রীর দুটি বই ফরেনসিক পরীক্ষার কথা জানিয়েছে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বই ল্যাবে পাঠানোর জন্য শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বই দুটি আমরা জব্দ করেছি। এগুলোতে কিছু লিখিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো পরকীয়ার সম্পর্ক নির্দেশ করে। মামলার তদন্তের স্বার্থে বই দুটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। আমরা শিগগিরই পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করব।’

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের সঙ্গে গায়ত্রীর পরকীয়া ছিল বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকার সময় ২০১৩ সালে ইউএনএইচসিআরের কর্মীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বাবুল। এ নিয়ে মিতুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বাবুলের। মিতুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনও করেন বাবুল।

২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে ছিলেন বাবুল। এ সময় বাবুলের মোবাইল ফোনটি চট্টগ্রামের বাসায় ছিল। ওই মোবাইল ফোনে মোট ২৯ বার ম্যাসেজ দেন বাবুলের কথিত প্রেমিকা।

পিবিআই কর্মকর্তা জানান, বাবুলকে উপহার দেয়া গায়ত্রীর একটি বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে ‘05/10/13, Coxs Bazar, Bangladesh. Hope the memory of me offering you this personal gist. shall eternalize our wonderful bond, love you...’

শেষ পৃষ্ঠায় বাবুল আক্তার নিজের হাতে ইংরেজিতে তার কথিত প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা লেখেন।

তিনি (বাবুল) লিখেছেন ‘First Meet: 11 Sep, 2013, First Beach walk 8th Oct 2013, G Birth day 10 October, First kissed 05 October 2013, Temple Ramu Prayed together, 13 October 2013, Ramu Rubber Garden Chakaria night beach walk.’

এজাহারে বলা হয়েছে, এই পরকীয়া প্রেমের কারণে বাবুল-মিতুর দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছে। মিতু বাবুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

২০ হাজারে নবজাতক ‘বেচে’ দিলেন বাবা

২০ হাজারে নবজাতক ‘বেচে’ দিলেন বাবা

২০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতক বিক্রির অভিযোগ। ছবি: নিউজবাংলা

নবজাতকের বাবার দাবি, আত্মীয়ের পুত্র সন্তান না থাকায় নিজের সন্তানকে তিনি দিয়ে দেন। ওই আত্মীয় চিকিৎসাবাবদ তাকে ২০ হাজার টাকা দেন বলে জানান।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে।

ঘটনার খবর আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অন্য এক মহিলার কাছ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়।

মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সৈয়দপুর শহরের নিচু কলোনির এক প্রসূতি প্রসব ব্যথা নিয়ে সকাল ৭টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছেলে সন্তান প্রসব করেন তিনি। তবে সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকে এক প্রতিবেশীর কাছে কুড়ি হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক ব্যক্তি জানান, মূল গেটে তিনি নবজাতকের বাবাকে এক নারীর সঙ্গে চুক্তি করতে দেখেন। চুক্তি শেষে ওই নারী নবজাতকের বাবাকে এক বান্ডেল টাকা দেন।

তবে নবজাতকের বাবার দাবি, আত্মীয়ের পুত্র সন্তান না থাকায় নিজের সন্তানকে তিনি দিয়ে দেন। ওই আত্মীয় চিকিৎসাবাবদ তাকে ২০ হাজার টাকা দেন বলে জানান।

হাসপাতালের তত্বাবধায়ক নবিউর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, বিষয়টি জানার পর সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ওমেদুল হাসান ও গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মাসুদা আফরোজসহ তিনি ওই মায়ের কাছে যান। তখন তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, ঘটনা জানাজানির পর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে অন্য এক নারীর কাছ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে ছাত্রের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৬

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে ছাত্রের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৬

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি দুই ছাত্র। ছবি: নিউজবাংলা

অসুস্থ ছাত্ররা জানায়, দুপুরের দিকে মাদ্রাসায় ছাগলের মাংস রান্না হয়। দুপুরে আবাসিক বিভাগের ২০ ছাত্র ওই মাংস দিয়ে ভাত খায়। এশার নামাজের পর একই মাংস দিয়ে ১৮ ছাত্র রাতের খাবার খায়। ওই সময় মাংসে কিছুটা উটকো গন্ধ ছিল। মাংস মুখে নেয়ার পর মুখ অনেকটা তেতো হয়ে যায় এবং মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে মাদ্রাসায় খাবার খেয়ে নিশান নূর হাদী নামের এক ছাত্রের মৃত্যু ও ১৭ জন অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে উপজেলার পূর্ব একলাশপুর গ্রামের মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্স ও এতিমখানায় ছাত্ররা রাতের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে নিশানসহ অন্যরা। পরে নিশানের মৃত্যুর হলে মঙ্গলবার বিকেলে তার চাচা আহসান উল্যাহ বেগমগঞ্জ থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেন।

এ মামলায় পুলিশ ওই মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক, তিন শিক্ষক ও কমিটির দুই সদস্যকে আটক করেছে।

তারা হলেন সোনাইমুড়ী উপজেলার ঘোষকামতা গ্রামের হাফেজ মো. দাউদ ইব্রাহীম, সুবর্ণচর উপজেলার মাওলানা মাইনুদ্দীন, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মাওলানা জহিরুল ইসলাম, হাতিয়া উপজেলার চর কৈলাশ গ্রামের হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান হাসান, বেগমগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামের হাফেজ বেলাল হোসাইন ও বেগমগঞ্জ পূর্ব একলাশপুর গ্রামের হাফেজ মো. ইসমাঈল।

মৃত নিশান উপজেলার পূর্ব একলাশপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। সে ওই মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এ ঘটনায় অসুস্থ ১৬ ছাত্রকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিফাত হোসেন নামে এক ছাত্রকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

অসুস্থ ছাত্রদের স্বজনদের অভিযোগ, ওই খাবারে বিষ মেশানো হয়েছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মোজ্জামেল হোসেন, পারভেজ, আবদুর রহিম, আশিক, মেহেরাজ, শান্ত ও নুর হাসানসহ ১৬ ছাত্র জানায়, সোমবার দুপুরের দিকে মাদ্রাসায় ছাগলের মাংস রান্না হয়। দুপুরে আবাসিক বিভাগের ২০ ছাত্র ওই মাংস দিয়ে ভাত খায়। তখন মাংসে ঝোল কম ছিল।

এশার নামাজের পর একই মাংস দিয়ে ১৮ ছাত্র রাতের খাবার খায়। রাতে মাংসে ঝোল ছিল। এ ছাড়া মাংসে কিছুটা উটকো গন্ধ ছিল। মাংস মুখে নেয়ার পর মুখ অনেকটা তেতো হয়ে যায় এবং মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের সবারই পেটে ব্যথা ও বমি শুরু হয়।

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে ছাত্রের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৬

মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক হাফেজ মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ছাত্রদের অসুস্থতার কথা শুনে স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসককে মাদ্রাসায় ডেকে আনা হয়। তিনি অসুস্থ ছাত্রদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এর মধ্যে অসুস্থ ছাত্র নিশানের মৃত্যু হয়। পরে দ্রুত অন্য ছাত্রদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, তাদের মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে প্রতিদিন ৭০ জন ছাত্র খাবার খায়। রাতে ১৮ জন খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের আর ওই খাবার দেয়া হয়নি।

ফেরদৌসী আক্তার, আমির হোসেনসহ হাসপাতালে উপস্থিত ছাত্রদের অভিভাবকরা জানান, এর আগে ওই মাদ্রাসায় বাচ্চাদের খাবারে এ ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। দুপুরেও একই খাবার খেয়েছে বাচ্চারা, তখনও কোনো সমস্যা হয়নি।

তারা অভিযোগ করেন, রাতে খাবারের সঙ্গে কেউ বিষাক্ত কোনো দ্রব্য মিশিয়ে দিয়েছে, না হলে একসঙ্গে খাবার খাওয়া সব বাচ্চার এ সমস্যা হতো না।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তারা।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম জানান, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে ছাত্ররা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অসুস্থদের মধ্যে নিশানকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ১৭ ছাত্রের মধ্যে রিফাত হোসেন নামে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ১৬ জনের অবস্থা উন্নতির দিকে। তবে শঙ্কামুক্ত কি না, ২৪ ঘণ্টার আগে তা বলা যাচ্ছে না।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাতের ওই খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিশানের চাচার করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার জানান, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আরও পড়ুন:
অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন