ভারতফেরত করোনা রোগীকে ছাড়পত্র: চিকিৎসককে শোকজ

ভারতফেরত করোনা রোগীকে ছাড়পত্র: চিকিৎসককে শোকজ

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক জানান, ‘অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে রিপোর্টে নেগেটিভ এলেও পিসিআর পদ্ধতির টেস্টে সোমবার আবু হেনার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে আবু হেনার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি হাসপাতালে তিনি নেই।’

ভারতে থেকে দেশে আসা আবু হেনা নামের এক করোনা রোগীকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে নিয়মবর্হিভূতভাবে ছাড়পত্র দেয়ায় সহকারী সার্জন গোলাম রাব্বানীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জরুরি সভায় তাকে শোকজ করা হয়।

ভারতফেরত আবু হেনা নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র চকদেব মহল্লার বাসিন্দা। বুধবার হেনাকে নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসার জন্য যান আবু হেনা। সেখানে ওপেন হার্ট সার্জারি শেষে ২৭ এপ্রিল বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে হাসপাতালে আইসোলেশনে ছিলেন।

৩০ এপ্রিল সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতালে অ্যান্টিজেন ও পিসিআর দুই পদ্ধতিতে করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে তাৎক্ষণিক রিপোর্টে নেগেটিভ আসে। তবে পরে পিসিআর টেস্টে পজিটিভ আসে।

চকদেব মহল্লার কাওসার ও একরামুল হকসহ কয়েকজন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জানতাম না হেনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এখন ভয় হচ্ছে, কারণ তার আমাদের অনেকে ঘোরাফেরা করেছে।’

আবু হেনা বলেন, ‘অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে রিপোর্টে নেগেটিভ আসা আর শারীরিক অসুস্থতা না থাকায় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ সবাইকে অনুরোধ করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে রোববার বাসায় আসি। এরপর থেকে সরকারি নিয়ম মেনে বাসাতেই হোম কোয়ারেন্টিনে আছি।’

বর্তমানে তার কোনো শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। তার পরিবারের লোকজনও সবাই ভালো আছেন বলে দাবি করেন আবু হেনা।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের সহকারী সার্জন গোলাম রাব্বানীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক জানান, ‘অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে রিপোর্টে নেগেটিভ এলেও পিসিআর পদ্ধতির টেস্টে সোমবার আবু হেনার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে আবু হেনার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি হাসপাতালে তিনি নেই।

‘এর পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আগের দিন রোববার সন্ধ্যায় আবু হেনাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী সার্জন গোলাম রাব্বানী।’

ভারতে করোনার মহামারি ভয়াবহতার বিষয়টি জানার পরও নিয়মবর্হিভূতভাবে কাউকে না জানিয়ে ছাড়পত্র দেয়ায় বুধবার জরুরি সভায় তাকে শোকজ করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে হাসপাতাল থেকে ঠিকানা নিয়ে আবু হেনার সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি ও তার পরিবারের লোকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ জানান, তিনি, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওসহ অন্যদের না জানিয়েই ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় গেছেন আবু হেনা। হেনার করোনা পজিটিভ আসার ঘটনাটি জানতে পেরে ও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ তিনি তার বাড়ি গেছেন। তাকে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার অনুরোধ জানালেও তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। বাসাতেই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ
৩৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু
টিকার দ্বিতীয় ডোজ: নেত্রকোণায় ঘাটতি প্রায় ১৮ হাজার
ভারতফেরতদের ৬০ জন করোনা আক্রান্ত
একমাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

কুমিল্লার লালমাইতে আঞ্চলিক স্কাউটস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

‘৭১ এর শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’

করোনা মহামারিতে অনেক দেশের অর্থনীতি ঝিমিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতিতে ভালো অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

কুমিল্লার লালমাইতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আঞ্চলিক স্কাউটস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে সরকার। করোনা মহামারিতে অনেক দেশের অর্থনীতি ঝিমিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতিতে ভালো অবস্থানে আছে।

‘৭১ এর শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্কাউটস লালমাই আঞ্চলিক কেন্দ্রটির মাধ্যমে এলাকার মানুষ আলোকিত হবে। স্কাউটসের মাধ্যমে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসা শেখাতে হবে। দেশের সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ
৩৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু
টিকার দ্বিতীয় ডোজ: নেত্রকোণায় ঘাটতি প্রায় ১৮ হাজার
ভারতফেরতদের ৬০ জন করোনা আক্রান্ত
একমাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু

শেয়ার করুন

চবির ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার জন্য আবেদন করেননি

চবির ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার জন্য আবেদন করেননি

গত ৪ মার্চ দুই দিনের সময় দিয়ে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পৃথক দুটি অনলাইন ফরমে আবেদন করতে বলা হয়। এতে ২৭ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে টিকার জন্য আবেদন করেছে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন মাত্র ৪ হাজার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মাত্র ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসের টিকার জন্য আবেদন করেছেন।আবাসিক ও অনাবাসিক মিলে ২৭ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে টিকার জন্য আবেদন করেছে মাত্র ১৫ হাজার শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার জন্য আবেদন করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, গত মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও অনাবাসিক সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সে লক্ষ্যে গত ৪ মার্চ দুই দিনের সময় দিয়ে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পৃথক দুটি অনলাইন ফরমে আবেদন করতে বলা হয়। এতে ২৭ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে টিকার জন্য আবেদন করেছে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন মাত্র ৪ হাজার।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, আমাদের দেয়া নির্ধারিত সময়ে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী টিকার জন্য আবেদন করেছে। এদের মধ্যে ৪ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা এই তালিকা ইউজিসিতে পাঠিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও প্রধানমন্ত্রী জনগণকে টিকা দেয়ার ব্যাপারে খুব আন্তরিক। আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে চীন থেকে টিকা এলেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে। পরে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ
৩৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু
টিকার দ্বিতীয় ডোজ: নেত্রকোণায় ঘাটতি প্রায় ১৮ হাজার
ভারতফেরতদের ৬০ জন করোনা আক্রান্ত
একমাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু

শেয়ার করুন

কার্ভাডভ্যানে ধাক্কা দিয়ে প্রাণ গেল ২ জনের

কার্ভাডভ্যানে ধাক্কা দিয়ে প্রাণ গেল ২ জনের

মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যান ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেলচালকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর-শরিয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে শরীয়তপুর থেকে একটি কাভার্ডভ্যান মাদারীপুরের দিকে আসছিল। কাভার্ডভ্যানটির পেছনেই ছিল মোটরসাইকেলটি। খোয়াজপুর মধ্যচক এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটি তাতে ধাক্কা দেয়।

মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যানে ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেলচালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন।

সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যচক এলাকায় মাদারীপুর-শরিয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন আব্দুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন। তাদের মধ্যে ২২ বছরের আব্দুর রহমান খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা। আর ইসমাইল হোসেনের বাড়ি শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর চরকুমারিয়া এলাকায়।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপংকর জানান, মাদারীপুর-শরিয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে শরীয়তপুর থেকে একটি কাভার্ডভ্যান মাদারীপুরের দিকে আসছিল। কাভার্ডভ্যানটির পেছনেই ছিল মোটরসাইকেলটি। খোয়াজপুর মধ্যচক এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটি তাতে ধাক্কা দেয়।

এতে সড়কে আছড়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক ও এক আরোহীর মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেলের অন্য আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা আসলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ
৩৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু
টিকার দ্বিতীয় ডোজ: নেত্রকোণায় ঘাটতি প্রায় ১৮ হাজার
ভারতফেরতদের ৬০ জন করোনা আক্রান্ত
একমাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু

শেয়ার করুন

‘রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি তুলে দেন ইসি কর্মী-জনপ্রতিনিধিরা’

‘রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি তুলে দেন ইসি কর্মী-জনপ্রতিনিধিরা’

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আসামিরা একে অপরের যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নেন। তারা রোহিঙ্গাদের ভুয়া পরিচয়, নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্ট কার্ড তাদের হাতে তুলে দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’

জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জাতীয়তা ও জন্ম নিবন্ধন সনদ তুলে দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের চার কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুই জনপ্রতিনিধিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন মঙ্গলবার বিকেলে মামলাটি করেন।

আসামিরা হলেন চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন, জেলা নির্বাচন অফিসের সাবেক অফিস সহায়ক নুর আহম্মদ, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন অফিসারের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (অস্থায়ী) সাইফুদ্দিন চৌধুরী, ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট (অস্থায়ী) সত্য সুন্দর দে।

আসামির মধ্যে জনপ্রতিনিধিরা হলেন হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জন্মসনদ প্রস্তুতকারী বেলাল উদ্দিনকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলায় আসামির তালিকায় আরও রয়েছেন ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুর ছালাম, আজিজুর রহমান এবং রোহিঙ্গা রমজান বিবি ও নজির আহম্মেদ।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ডবলমুরিং থানার নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা রমজান বিবিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ওই বছর ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে ফরম সরবরাহ করেন চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক নুর আহম্মদ।

নির্বাচন কমিশনের ল্যাপটপ ব্যবহার করে জয়নাল নিজ বাসায় ডাটা এন্ট্রি করেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করেন হাটহাজারী উপজেলার নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সাইফউদ্দিন চৌধুরী।

রোহিঙ্গা রমজান বিবি ও তার দুই মেয়ের পাসপোর্ট করার জন্য জাতীয়তা সনদপত্র ও জন্ম নিবন্ধন সনদ দেন হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নুরুল ইসলাম।

তাদের জন্মসনদ প্রস্তুতকারী হলেন মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ও মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আবছার। এতে সহযোগিতা করেন মোহাম্মদ আজিজুর রহমান ও তার বাবা আবদুর ছালাম।

মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আসামিরা একে অপরের যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নেন। তারা রোহিঙ্গাদের ভুয়া পরিচয়, নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্ট কার্ড তাদের হাতে তুলে দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’

তদন্তে আসামিদের অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে বলে জানান দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন।

আরও পড়ুন:
করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ
৩৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু
টিকার দ্বিতীয় ডোজ: নেত্রকোণায় ঘাটতি প্রায় ১৮ হাজার
ভারতফেরতদের ৬০ জন করোনা আক্রান্ত
একমাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় উপনির্বাচন: প্রার্থী শুধু নৌকা ও লাঙ্গলের

কুমিল্লায় উপনির্বাচন: প্রার্থী শুধু নৌকা ও লাঙ্গলের

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম খাঁন। ছবি: নিউজবাংলা

কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন আটজন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেন শুধু আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শুধু আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

মঙ্গলবার শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দেন নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান ও লাঙ্গলের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের কাছে দুপুর সাড়ে ১২টায় মনোনয়নপত্র জমা দেন বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসেম খান।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন দুপুর ১২টায় মনোনয়নপত্র দেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া সিদ্দিকা এবং নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বুলবুল আহাম্মদের কাছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর নৌকার প্রার্থী আবুল হাসেম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষ নেতৃত্বে দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করে ফেলেছেন। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এ দেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় রূপান্তরিত হবে।’

উপনির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি এ সময় কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আশা, প্রার্থী বেশি না থাকায় আবুল হাসেম সহজ জয় তুলে নেবেন।

এদিকে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের এই উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৮ জন।

তারা হলেন নৌকার প্রার্থী আবুল হাশেম খান, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন, আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আবদুল মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক এহতেশামুল হাসান রুমি।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মাহতাব হোসেন, আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল হক ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিনও মনোনয়নপত্র নেন।

কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, শেষ দিন পর্যন্ত দুই প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের একজন নৌকা ও অন্যজন লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী।

শূন্য হওয়া এ সংসদীয় আসনে গত ২ জুন উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

তফসিল অনুযায়ী, মনোয়নপত্র বাছাই ১৭ জুন ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ জুন। ২৪ জুন প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর ভোট হবে আগামী ২৮ জুলাই।

আরও পড়ুন:
করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ
৩৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু
টিকার দ্বিতীয় ডোজ: নেত্রকোণায় ঘাটতি প্রায় ১৮ হাজার
ভারতফেরতদের ৬০ জন করোনা আক্রান্ত
একমাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু

শেয়ার করুন

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ
৩৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু
টিকার দ্বিতীয় ডোজ: নেত্রকোণায় ঘাটতি প্রায় ১৮ হাজার
ভারতফেরতদের ৬০ জন করোনা আক্রান্ত
একমাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু

শেয়ার করুন

যশোরে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড

যশোরে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৭ শতাংশ। মঙ্গলবার মারা গেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত। বাকি দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫জন ভারতফেরত। এটি জেলায় একদিনের সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এই সময়ে মারা গেছেন তিনজন।

যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের একজনের বাড়ি শার্শা উপজেলায়। আরেকজন ঝিকরগাছার। তৃতীয় ব্যক্তির নাম জানা যায়নি।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৭ শতাংশ। মঙ্গলবার মারা গেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত। বাকি দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতির কারণে যশোর ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় লকডাউন চললেও তা মানছে না সাধারণ মানুষ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, লকডাউন কার্যকরে সব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত যশোরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৮৯ জনের। মারা গেছেন ৯১ জন। মঙ্গলবার তিনজনসহ গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৫জন।

আরও পড়ুন:
করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ
৩৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু
টিকার দ্বিতীয় ডোজ: নেত্রকোণায় ঘাটতি প্রায় ১৮ হাজার
ভারতফেরতদের ৬০ জন করোনা আক্রান্ত
একমাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু

শেয়ার করুন