১৪ লাখ ইট ‘লুট’ নিয়ে বির্তকে ছাত্রলীগ নেতা

১৪ লাখ ইট ‘লুট’ নিয়ে বির্তকে ছাত্রলীগ নেতা

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হাছান। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্রলীগ নেতার ভয়ে ইটভাটায় যাচ্ছেন না মালিক। ইট কিনতে যারা আগাম টাকা দিয়েছেন, তারা ঘুরছেন। ইট না দিলে টাকা ফেরত চাচ্ছেন অনেকে। এই অবস্থায় মালিক পড়েছেন বিপাকে।

ইটভাটা মালিককে প্রাণনাশের হুমকি ও ১৪ লাখ ইট লুটের অভিযোগ উঠেছে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদারের বিরুদ্ধে।

তিনি বৈরাগপুরের নিউ পরফুল ব্রিকস থেকে এই ইট লুট করেছেন বলে অভিযোগ ভাটা মালিক মাহমুদুল হাছানের। তবে শামীম দাবি করেছেন, তিন লাখ ইট কিনতে তিনি সাত লাখ টাকা আগাম দিয়েছেন। সব ইট বুঝে পাননি।

স্থানীয়ভাবে ‘হুজুর’ হিসেবে পরিচিত ইটভাটা মালিক হাফেজ মাহমুদুল হাছান দীর্ঘদিন ধরে ইটের ব্যবসা করেন। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে ইটের ভাটায় যাননি। সে সময়ে ম্যানেজারের মাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতা শামীম ইট লুট করেন বলে অভিযোগ হাছানের।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হাছান বলেন, ‘ইট কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ছাত্রলীগের শামীম মজুমদার। এরপর তিনি দফায় দফায় ইটভাটায় হানা দিয়ে রসিদ ছাড়াই ইট নিতে থাকেন। চুক্তিবদ্ধ তিন লাখের বেশি ইট নেয়ার পর তাকে মানা করা হয়। এখনও ইট নেয়া শেষ হয়নি, এমন কথা জিজ্ঞেস করতেই প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেন শামীম।’

হাছান মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ফুলগাজীর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আলিম তাকে ডেকে নিয়ে নিষেধ করেন অন্য কাউকে ইট দিতে। অব্যাহত হুমকি ও প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে তিনি ২৩ মার্চ আত্মগোপনে চলে যান। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়ায় ইটভাটায় যাননি।

এ দিকে হাছানের অনুপস্থিতিতে অন্য ক্রেতারা বসে ইট সরবরাহের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেন। সেখানকার চুক্তিপত্রে ছাত্রলীগ নেতা শামীমও স্বাক্ষর করেন। পরে চুক্তিপত্র না মেনে শামীম ইটভাটার ম্যানেজার সপ্তম সাহার সঙ্গে আঁতাত করে এক মাস ধরে ১৪ লাখ ইট লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন হাছান মাহমুদ।

ইট লুটে বাধা দিতে গেল তার স্ত্রীকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। আর্থিক সংকটে বর্তমানে ইটভাটার প্রায় অর্ধশত শ্রমিকের বেতন বকেয়া রয়েছে। অন্যদিকে ইটের ক্রেতারাও পড়েছেন বিপাকে। কেউ বাড়ি তৈরি, কেউ রাস্তা নির্মাণের জন্য ইট কিনতে আগাম টাকা দিয়েছেন। তারা এখন নিউ পরফুল ব্রিকফিল্ডে ইটের জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। কিন্তু শামীম সব ইট নিয়ে যাওয়ায় এখন কেউই পাওনা ইট পাচ্ছেন না।

ইটভাটার মালিক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শামীমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট ব্রিকফিল্ড মালিকরা। গত বছর একই কায়দায় পাশের এস আলম ব্রিকফিল্ডের ইট লুট করে নেন শামীম। তখন পুলিশ ইটবোঝাই চারটি ট্রাক আটক করেছিল। পরে রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা হয়।’

ইট লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা শামীম মজুমদার বলেন, ‘আমি তিন লাখ ইটের জন্য কয়েকটি কিস্তিতে সাত লাখ টাকা দিয়েছি। এর মধ্যে কিছু ইট নিয়েছি। কিন্তু এখনও বেশির ভাগ ইট পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে মালিক পালিয়েছেন। তাই ইট অথবা টাকা কীভাবে পাব তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার বলেন, ‘আমিও ইটের জন্য বেশ কিছু টাকা অগ্রিম দিয়েছি। তবে শামীমের কোনো কাজের সাথে আমি জড়িত না।’

আরও পড়ুন:
জসীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা তরুণীর আত্মহত্যার হুমকি
সেই ছাত্রলীগ নেতা জসীম ‘অধরা’
ছাত্রলীগের সেই ধনকুবের নেতা বহিষ্কার
ছাত্রলীগ সভাপতির জেলাতেই সম্মেলন ছাড়া ১০ বছর
ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

শেরপুরের একটি বেদেপল্লী। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা এখানে আসার পর থেকে লকডাউন। করোনাও বেশি হওয়ায় কোথাও মজমা বসাতে পারি না। খাদ্যের অভাবে সাপগুলোও মরে গেছে। নতুন করে সাপও ধরতে পারছি না। সাপ খেলাও দেখাতে পারছি না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

বিভিন্ন গ্রাম্য হাট ও বাজারে ঘুরে সাপ ও বানরের খেলা এবং তাবিজ বিক্রি করতেন শেরপুরের শতাধিক বেদে পরিবারের পুরুষরা। নারীরাও বসে থাকতেন না। তারাও গ্রামে গ্রামে ঘুরে জাদু দেখানো, কবিরাজী চিকিৎসা ও তাবিজ বিক্রি করে আয় করতেন।

নারী পুরুষ উভয়ের আয়ে কিছুটা টানাটানি থাকলেও বেশ ভালোভাবেই চলত তাদের সংসার। তবে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আয় না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় সরকারি সহায়তাও পান না তারা ঠিকমতো। পাচ্ছেন না করোনাকালীন প্রণোদনাও।

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র সেতুর পাশেই বসবাস করছে বেদেপল্লির ৪০টি পরিবার। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরও প্রায় ৬০টি পরিবার।

এসব বেদেরা জানান, করোনার কারণে শেরপুরে চলমান লকডাউন ছাড়াও অনেক দিন ধরেই হাট-বাজারে লোক সমাগম নিষিদ্ধ রয়েছে। তাই এখন সাপ ও বানরের খেলা এবং তাবিজ বিক্রির জন্য বসতে পারছেন না পুরুষরা। খাবারের অভাবে তাদের ধরা অনেক সাপ মারা গেছে। নতুন সাপও ধরতে পারছেন না।

নারীও করোনার কারণে বাড়ি বাড়ি যেতে পারছেন না। এতে তাদের আয়ও বন্ধ। এমন অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন তারা।

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

বেদে সর্দার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এখানে আসার পর থেকে লকডাউন। করোনাও বেশি হওয়ায় কোথাও মজমা বসাতে পারি না।

‘খাদ্যের অভাবে সাপগুলোও মরে গেছে। নতুন করে সাপও ধরতে পারছি না। সাপ খেলাও দেখাতে পারছি না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

সোহেল নামের একজন যশোর থেকে এসেছেন ব্রহ্মপুত্র সেতুর পাশের বেদেপল্লীতে।

তিনি বলেন, ‘আমি হাটে-বাজারে বান্দরের খেলা দেখিয়ে যা আয়-রোজগার করি, তাই দিয়ে সংসার চালাই। এহন তো কোনো মজমা বসাবার পারি না। এহন খুব কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি। কেউ তো আমাগো সাহায্যও দেয় না। এহন আমরা কী কইরা চলি।’

বেদেনি মারুফা বলেন, ‘আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরি আর ম্যাজিক খেলা দেখাই। কোমর-হাঁটুর বিষ-বেদনা সারানোর চিকিৎসা করি। কিন্তু করোনার কারণে এহন আমাগো কেউ বাড়িতেই ঢুকতে দিবার চায় না।

‘এহন আমাগো কামাই বন্ধ। খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। হুনতাছি সরকার সবারেই সাহায্য করতাছে। আমাগো তো কোনো সাহায্য করতাছে না।’

আরেক বেদেনি রীনা বেগম বলেন, ‘কি আর কমু, আমাগো দুঃখ দেহে কেডা। কত যে কষ্ট করতাছি। কেউ তো আমাগো সাহায্য করতাছে না।

‘আমাগো তো কোনো জাগা-জমি নাই। যেহানে পারি সেহানেই তাহি। কামাই না অইলে খামু কি গো। মানুষ তো আমাগোরে বাড়ি যাইবার দিবার চায় না। বাজারেও মজমা বসান যায় না। এহন আমরা কী করমু?’

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকবর আলী বলেন, ‘আমরা এসব বেদে পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। কিন্তু তাদের জন্য কোনো বরাদ্ধ না থাকায় আর্থিক সহায়তা করতে পারছি না।

‘তবে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক স্যার আশ্বাস দিয়েছেন তাদের জন্য সাহায্যের একটা ব্যবস্থা করবেন।’

শেরপুর সদর উপজেলার ইউএনও ফিরোজ আল মামুন জানান, তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা বরাদ্দেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
জসীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা তরুণীর আত্মহত্যার হুমকি
সেই ছাত্রলীগ নেতা জসীম ‘অধরা’
ছাত্রলীগের সেই ধনকুবের নেতা বহিষ্কার
ছাত্রলীগ সভাপতির জেলাতেই সম্মেলন ছাড়া ১০ বছর
ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

‘ফেসবুক পোস্ট’ নিয়ে বিরোধ, স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

‘ফেসবুক পোস্ট’ নিয়ে বিরোধ, স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

সানির সঙ্গে রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল উত্তর পাড়ার মাহাফুজ নামের এক যুবকের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধ ছিল। রাতে বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে গেলে সানিকে কুপিয়ে হত্যা করে মাহাফুজ ও তার পক্ষের লোকজন।

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মোহাম্মদ সানি নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত হয়েছে হীরা নামে আরেক তরুণ।

উপজেলার গোলান্দাইল বেড়িবাঁধ এলাকায় সোমবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সানি গোলাকান্দাইল বিজয়নগড় এলাকার মিল্লাত হোসেনের ছেলে। স্থানীয় একটি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল সে।

হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে রূপগঞ্জ পুলিশ।

রূপগঞ্জ থানার ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, সানির সঙ্গে গোলাকান্দাইল উত্তর পাড়ার মাহাফুজ নামের এক যুবকের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধ ছিল। রাত ৮টার দিকে সানিসহ কয়েকজন গোলাকান্দাইল বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে যায়।

ওই সময় মাহাফুজ তার লোকজন নিয়ে সানি ও হীরাকে কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত হীরাকে পরে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ময়নাতদন্তের জন্য সানির মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
জসীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা তরুণীর আত্মহত্যার হুমকি
সেই ছাত্রলীগ নেতা জসীম ‘অধরা’
ছাত্রলীগের সেই ধনকুবের নেতা বহিষ্কার
ছাত্রলীগ সভাপতির জেলাতেই সম্মেলন ছাড়া ১০ বছর
ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

সিলেটে দ্রুত বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ফলে হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সঙ্কট। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) পাশপাশি সাধারণ শয্যাও খালি মিলছে না। ফলে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। রোগী নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে স্বজনদের।

এ অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ৭০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে যুক্ত হয়েছে আরও ১০টি আইসিইউ।

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার সকাল থেকে এসব শয্যায় রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে।

ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

এসব শয্যা ও আইসিইউ বাড়ানোর ফলে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ওসমানীর সক্ষমতা বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

নতুন করে ১০টি যুক্ত হওয়ার আগে করোনা রোগীদের জন্য সিলেটের সরকারি দুটি হাসপাতালে ২৩টি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা ছিল। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে করোনা চিকিৎসায় জেলায় আইসিইউ শয্যা রয়েছে আরও ৮০-৯০টি।

নগরের সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৬০টি সাধারণ শয্যা ছিলো। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে আরও প্রায় ২০০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা পেতে বিভিন্ন হাসপাতালে ধর্না দিতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। সবগুলো হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ ইউনিট রোগীতে পূর্ণ রয়েছে। এ অবস্থায় ওসমানীতে শয্যা ও আইসিইউ দুটিই বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি, সিলেটের সভাপতি এবং নুরজাহান হাসপাতালের চেয়ারম্যান নাসিম আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি আমরা করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু রোগীর চাপ প্রতিদিন এত বেশি বাড়ছে যে আমরা উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় সরকারি চিকিৎসাসেবা আরও অনেক বাড়ানো প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
জসীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা তরুণীর আত্মহত্যার হুমকি
সেই ছাত্রলীগ নেতা জসীম ‘অধরা’
ছাত্রলীগের সেই ধনকুবের নেতা বহিষ্কার
ছাত্রলীগ সভাপতির জেলাতেই সম্মেলন ছাড়া ১০ বছর
ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

স্ত্রী না ফেরার অভিমানে ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রী না ফেরার অভিমানে ‘আত্মহত্যা’

‘প্রায় আট মাস আগে জিহান সদর উপজেলার লতিফপুর কলোনী এলাকার মুসকান খাতুন নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। এক পর্যায়ে মুসকান অভিমানে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। তার চলে যাওয়ার তিনমাস অতিবাহিত হলেও তিনি শ্বশুর বাড়ি ফিরছিলেন না।’

বগুড়ার সদর উপজেলায় স্ত্রী ছেড়ে চলে যাওয়ায় মাহমুদুল হাসান জিহান নামে এক যুবক গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আগের রাত রাত ১১ থেকে সোমবার সকাল ৯ টার মধ্যে কোনো এক সময় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে সদর থানার পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন।

মৃত জিহান সদরের গোকুল স্কুলপাড়া এলাকার জোবায়ের রহমানের ছেলে।

এসআই শরিফুল বলেন, প্রায় আট মাস আগে জিহান সদর উপজেলার লতিফপুর কলোনী এলাকার মুসকান খাতুন নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত।

এক পর্যায়ে মুসকান অভিমানে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। তার চলে যাওয়ার তিনমাস অতিবাহিত হলেও তিনি শ্বশুর বাড়ি ফিরছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই মুঠোফোনে বাগবিতণ্ডা হতো।

জিহানের পরিবারে বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শরিফুল বলেন, ‘স্ত্রী ফিরে না আসায় নিজ ঘরের সিলিংফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন জিহান।’

তিনি বলেন, সোমবার সকালে জিহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জসীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা তরুণীর আত্মহত্যার হুমকি
সেই ছাত্রলীগ নেতা জসীম ‘অধরা’
ছাত্রলীগের সেই ধনকুবের নেতা বহিষ্কার
ছাত্রলীগ সভাপতির জেলাতেই সম্মেলন ছাড়া ১০ বছর
ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতার ‘হামলায়’ আহত এসআই বদলি

যুবলীগ নেতার ‘হামলায়’ আহত এসআই বদলি

গত ১২ জুলাই শাল্লা থানার পাশে পুলিশ এসআই শাহ আলীর ওপর হামলার ঘটনায় ঘটে। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় উপজেলা যুবলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী অপুকে। তবে পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে ইসলামের গ্রেপ্তার নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করায় ফাঁসানো হয় অপুকে।

সুনামগঞ্জের শাল্লায় যুবলীগ নেতার হামলায় আহত পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলীকে বদলি করা হয়েছে। তবে এটি কোনো শাস্তি নয় বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সোমবার রাতে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। তবে কোথায় বদলি করা হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটি আমাদের পুলিশে নির্ধারিত নিয়মেই হয়েছে, এটা কোন শাস্তিমূলক বদলি না, যেহেতু সে ওই এলাকায় আক্রমণের শিকার এবং স্থানীয় এক অংশের ক্ষোভ রয়েছে সেজন্য তাকে বদলি করা হয়।’

গত ১২ জুলাই শাল্লা থানার পাশে পুলিশ এসআই শাহ আলীর ওপর হামলার ঘটনায় ঘটে। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় উপজেলা যুবলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী অপুকে।

তবে পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে ইসলামের গ্রেপ্তার নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করায় ফাঁসানো হয় অপুকে।

অপুর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনাটি সাজানো। হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে প্রচারিত একটি সংবাদের লিংক ফেসবুকে শেয়ার করার জেরে তাকে ফাঁসানো হয়। তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে নির্যাতনও করা হয়।

আরও পড়ুন:
জসীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা তরুণীর আত্মহত্যার হুমকি
সেই ছাত্রলীগ নেতা জসীম ‘অধরা’
ছাত্রলীগের সেই ধনকুবের নেতা বহিষ্কার
ছাত্রলীগ সভাপতির জেলাতেই সম্মেলন ছাড়া ১০ বছর
ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 

নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার পর এক ব্যক্তিকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

পৌর শহরে একটি বাসায় মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন সেই বৃদ্ধ। মেয়ের স্বামী খুলনায় কাজ করেন। গত ৩০ জুলাই রাতে তিনি মেয়েকে ধর্ষণ করেন। পরের দিন রাতে আবারও একই ঘটনা ঘটাতে গেলে মেয়ে চিৎকার করলে তিনি ফিরে আসেন।

পাঁচ সন্তানের জননী নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার পর কারাগারে এক বাবা।

রোববার গভীর রাতে মেয়ে মামলা করার পর তাকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতে তোলা হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান বলে জানিয়েছেন মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধুরী।

তিনি জানান, পৌর শহরে একটি বাসায় মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন সেই বৃদ্ধ। মেয়ের স্বামী খুলনায় কাজ করেন। গত ৩০ জুলাই রাতে তিনি মেয়েকে ধর্ষণ করেন। পরের দিন রাতে আবারও একই ঘটনা ঘটাতে গেলে মেয়ে চিৎকার করলে তিনি ফিরে আসেন।

পরে তিনি এই ঘটনাটি প্রথমে বাড়িওয়ালাকে জানান। সেই বাড়িওয়ালাই তাকে নিয়ে থানায় আসেন।

মামলার পর রাতেই এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।

আরও পড়ুন:
জসীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা তরুণীর আত্মহত্যার হুমকি
সেই ছাত্রলীগ নেতা জসীম ‘অধরা’
ছাত্রলীগের সেই ধনকুবের নেতা বহিষ্কার
ছাত্রলীগ সভাপতির জেলাতেই সম্মেলন ছাড়া ১০ বছর
ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

কুকুরের দুধপানে বড় হচ্ছে বিড়াল ছানা

কুকুরের দুধপানে বড় হচ্ছে বিড়াল ছানা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কুকুড়ের দুধ পান করে বড় হচ্ছে বিড়াল ছানা।

আশিষ চন্দ বর্মনের বাড়িতে বসবাস ওই কুকুর আর বিড়ালের। সম্প্রতি সেখানেই একটি মা বিড়াল দুইটি ছানা প্রসব করার পর মারা যায়। ওই মা বিড়ালের মৃত্যু আর দুধপানের অভাবে দুটি ছানার একটি মারা যায়। তবে এরই মধ্যে বেঁচে থাকা ওই বিড়াল ছানাটিকে দুধ খাওয়ানো শুরু করে একটি মা কুকুর। এভাবেই মা কুকুরটির স্নেহ আর দুধ পানে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে ওই বিড়াল ছানাটি।

কুকুরের দুধ পান করে বড় হচ্ছে একটি বিড়াল ছানা। বিরল এ ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে।

অবাক করা এ দৃশ্যটি দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে ভিড় করছেন ওই বাড়িতে। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ এই তথ্য খুব একটি বিস্মিত হয়নি। তারা বলছে, প্রাণীকূলের মধ্যে এই ধরনের ভালোবাসা বিরল নয়।

উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আশিষ চন্দ বর্মনের বাড়িতে বসবাস ওই কুকুর আর বিড়ালের। সম্প্রতি সেখানেই একটি মা বিড়াল দুইটি ছানা প্রসব করার পর মারা যায়।

ওই মা বিড়ালের মৃত্যু আর দুধপানের অভাবে দুটি ছানার একটি মারা যায়। তবে এরই মধ্যে বেঁচে থাকা ওই বিড়াল ছানাটিকে দুধ খাওয়ানো শুরু করে একটি মা কুকুর। এভাবেই মা কুকুরটির স্নেহ আর দুধ পানে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে ওই বিড়াল ছানাটি।

ওষুধ বিক্রেতা আশিষ চন্দ বর্মন বলেন, ‘আমরা কুকুর বা বিড়াল পুষি না। তবে দীর্ঘদিন ধরে আমার বাড়িতে একটি কুকুর ও বিড়াল বসবাস করে আসছে। হঠাৎ একদিন ওই বিড়ালটি দুটি বাচ্চা জন্মদিয়ে মারা যায়।

‘এরপর থেকে দেখছি মা হারা ওই বিড়াল ছানাটি কুকুরের দুধপান করছে। তবে প্রায়ই দেখছি কুকুরটি দুধে মুখ দিয়ে রাখছে বিড়াল ছানাটি। রীতিমত খেলা করে ওই কুকুর আর বিড়ালের ছানাটি।’

কাকরাজান ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং ওই গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি প্রথমে আমার বিশ্বাস হয়নি। এ কারণে আমি নিজে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি সত্যিই বিড়াল ছানাটি কুকুরের দুধ খাচ্ছে। এটি সত্যিই আশ্চর্য হওয়ার মতো একটি বিষয়।’

সখীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জলিল জানান, ‘এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। একটি প্রাণির সাথে অপর একটি প্রাণির ভালোবাসায় এটি হতেই পারে। যেহেতু তারা একই বাড়িতে থাকে এবং একই মালিকের খাবার খায়।’

আরও পড়ুন:
জসীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা তরুণীর আত্মহত্যার হুমকি
সেই ছাত্রলীগ নেতা জসীম ‘অধরা’
ছাত্রলীগের সেই ধনকুবের নেতা বহিষ্কার
ছাত্রলীগ সভাপতির জেলাতেই সম্মেলন ছাড়া ১০ বছর
ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিল ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন