বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে হামলা, ১৬ জেলে আহত

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে হামলা, ১৬ জেলে আহত

মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক ও মাঝি ফিরোজ মিয়া জানান, গত ২৫ এপ্রিল ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান তারা। ২৯ এপ্রিল বিকেলে সমুদ্রে জাল ফেলে অপেক্ষা করছিলেন। রাত আটটার দিকে এফবি সালমান-৩ এর জেলেরা তাদের ট্রলারে হামলা চালান।

বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলারে হামলায় ১৬ জেলে আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বরগুনায় বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বুধবার সন্ধ্যায় হামলার অভিযোগ দেন এফবি মায়ের দোয়া নামে একটি ট্রলারের জেলেরা।

জেলেরা জানান, এফবি সালমান-৩ নামে একটি মাছ ধরার জাহাজের জেলেরা গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে তাদের ট্রলারে হামলা চালায়। মারধরের পর তারা কয়েক লাখ টাকার জাল ও মাছ নিয়ে যায়।

উপকূলীয় ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক ও মাঝি ফিরোজ মিয়া জানান, গত ২৫ এপ্রিল ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান তারা। ২৯ এপ্রিল বিকেলে সমুদ্রে জাল ফেলে অপেক্ষা করছিলেন। রাত আটটার দিকে এফবি সালমান-৩ এর জেলেরা তাদের ট্রলারে হামলা চালান।

তিনি দাবি করেন, হামলার পর ওই জাহাজের জেলেরা তাদের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল এবং মাছ নিয়ে গেছেন।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ঘাটে এসে জেলেরা তাদের ওপর হামলার ঘটনা জানান। তারা তাৎক্ষণিক ওই মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলতে পারেননি।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ট্রলার মালিক সমিতি ও ফিশিং ভেসেল মালিক সমিতির সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান গোলাম মোস্তফা।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন জানান, থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীর জমিতে ‘ময়লা ফেলায়’ পিটিয়ে হত্যা
মাটি কাটায় বাধা পেয়ে হামলা
হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, ‘গুজব’ বলে ফের হামলা
সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলা, রাতে পুকুরে বিষ
হবিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জয়পুরহাটে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৯৬

জয়পুরহাটে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৯৬

জয়পুরহাটে করোনা পরীক্ষা করার জন্য উপসর্গ নিয়ে নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে ভিড় করছেন অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা

সিভিল সার্জন জানান, আরও চার জনের মৃত্যুসহ জয়পুরহাটে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। এক হাজার ১৩৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও কোয়ারেন্টিনে আছেন।

জয়পুরহাটে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আক্রান্তের পাশাপাশি বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। করোনা পরীক্ষা করার জন্য উপসর্গ নিয়ে নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে ভিড় করছেন অনেকে।

জয়পুরহাটে একদিনে করোনা আক্রান্ত চার রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।

রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ওয়াজেদ আলী।

তিনি জানান, আরও চার জনের মৃত্যুসহ জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে জয়পুরহাটে এক হাজার ১৩৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও কোয়ারেন্টিনে আছেন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় ৩৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯৬ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তের হার শতকরা ২৫ দশমিক ১০ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীর জমিতে ‘ময়লা ফেলায়’ পিটিয়ে হত্যা
মাটি কাটায় বাধা পেয়ে হামলা
হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, ‘গুজব’ বলে ফের হামলা
সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলা, রাতে পুকুরে বিষ
হবিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

ফেন্সিডিল হাতে নিয়ে যুবকের সেলফি

ফেন্সিডিল হাতে নিয়ে যুবকের সেলফি

দিলদার নামে এক যুবক শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছবিটি আপ করার পরপরই সেটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে। রোববার বিকেলে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে দিলদারের সন্ধানে মাঠে নামে তারা।

পাঁচবিবি উপজেলায় সীমান্তবর্তী এলাকার খোরদা গ্রামের দিলদার হোসেন (২২) ফেন্সিডিল হাতে নিয়ে সেলফি তুলে সে ছবি ফেসবুকে দিয়ে সোরগোল ফেলে দিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে ছবিটি আপ করার পরপরই সেটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে। রোববার বিকেলে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে দিলদারের সন্ধানে মাঠে নামে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন জানান, মাদক কারবারীরা দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্ত এলাকায় একটি চক্র গড়ে তুলেছে। তারা অনেকটায় বেপরোয়া প্রকৃতির। লোক-লজ্জার তোয়াক্কা না করে নিজেদের মাদক কারবারি হিসেবে পরিচয় দিতে নানা পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় মাদকসেবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি দিলদার তার ফেসবুক আইডি থেকে এমন বিতর্তিক ছবি পোস্ট করেছেন।

স্থানীয় লোকজন আরও জানান, দিলদার মাদক নিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনে বের হয়ে আসেন। জামিনে বেরিয়ে আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, ‘দিলদার হোসেন ফেন্সিডিল হাতে নিয়ে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলে শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে পোস্ট করে। বিষয়টি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এর আগে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‘ছাড়া পেয়ে দিলদার যা করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। সেসহ এলাকার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীর জমিতে ‘ময়লা ফেলায়’ পিটিয়ে হত্যা
মাটি কাটায় বাধা পেয়ে হামলা
হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, ‘গুজব’ বলে ফের হামলা
সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলা, রাতে পুকুরে বিষ
হবিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!

কাঁচামালের কন্টেইনারে অজগর!

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, ‘বোয়া কনস্ট্রিক্টর’ জাতের এ সাপটি লম্বায় ৫-৬ ফুট। সাপটির ওজন চার কেজি ও এর বয়স প্রায় সাত মাস। সাপটি তিন-চার মাস না খেয়ে থাকায় বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।’

কলম্বিয়া থেকে আসা ইস্পাতের কাঁচামালের কনটেইনার থেকে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে গাজীপুর বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

রোববার দুপুরে টঙ্গীর আনোয়ার ইস্পাত কারখানা চত্বরের একটি কনটেইনার থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেলে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় অজগরটি।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান বলেন, কলম্বিয়া থেকে কনটেইনারে করে আমদানি করা ইস্পাতের কাঁচামাল কারখানায় আসতে প্রায় চার মাস সময় লাগে। শনিবার ওই কনটেইনার আনলোড করতে গেলে সাপটি নজরে আসে। পরে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটে খবর দিলে তারা সাপটি উদ্ধার করে।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, ‘বোয়া কনস্ট্রিক্টর’ জাতের এ সাপটি লম্বায় ৫-৬ ফুট। সাপটির ওজন চার কেজি ও এর বয়স প্রায় সাত মাস। সাপটি তিন-চার মাস না খেয়ে থাকায় বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, অজগরটি অসুস্থ থাকায় সেটি পার্কের ভেতরে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীর জমিতে ‘ময়লা ফেলায়’ পিটিয়ে হত্যা
মাটি কাটায় বাধা পেয়ে হামলা
হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, ‘গুজব’ বলে ফের হামলা
সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলা, রাতে পুকুরে বিষ
হবিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

তিস্তায় পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি

তিস্তায় পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ সূত্র জানায়, ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে রোববার সকাল ৬টা ও ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এরপর থেকে দফায় দফায় বাড়তে থাকে পানি।

নীলফামারীতে উজানে ভারি বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ সূত্র জানায়, ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে রোববার সকাল ৬টা ও ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সেখানে নদীর পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার।

এরপর থেকে দফায় দফায় বাড়তে থাকে পানি। ওই পয়েন্টে বেলা ১২টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার, বিকাল ৩টায় ১৫ সেন্টিমিটার এবং সন্ধ্যা ছয়টায় ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

তিস্তার ব্যারাজ এলাকার জেলে আকবার আলী বলেন, ‘তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে মাছ ধরতে পারছি না। আর জালেও মাছ উঠছে না।’

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোববার সকাল থেকে দফায় দফায় পানি বেড়ে সন্ধ্যা ছয়টায় ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।’

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীর জমিতে ‘ময়লা ফেলায়’ পিটিয়ে হত্যা
মাটি কাটায় বাধা পেয়ে হামলা
হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, ‘গুজব’ বলে ফের হামলা
সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলা, রাতে পুকুরে বিষ
হবিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’

‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’

ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালক সুজন মিস্ত্রি বলেন, ‘ভ্যানে ব্যাটারির মেশিন লাগাইছি দুই মাস হইছে। এনজিও দিয়া লোন লইয়া অনেক কষ্ট কইরা এইটা করছি। এহন এই ভ্যান চলতে না দেলে কি করমু মাথায় কিছু ঢোকে না।’

সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশালের রিকশা চালকরা। ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করা হলে তারা আন্দোলন এবং অনশনের হুমকি দিয়েছেন। করোনা মহামারির সময় বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করে এই রিকশা বন্ধ করে সরকার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন রিকশা শ্রমিক নেতারা।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সারা দেশে রিকশা-ভ্যানের ভেতরে ব্যাটারিচালিত মোটর লাগিয়ে রাস্তায় চলছে। সামনের চাকায় শুধু ব্রেক। পেছনের চাকায় কোনো ব্রেক নাই কিংবা ব্রেকের ব্যবস্থা থাকলেও অপ্রতুল। সেগুলো যখন ব্রেক করে প্যাসেঞ্জারসহ গাড়ি উল্টে যায়। এ দৃশ্য আমরা দেখেছি। আমরা দেখেছি হাইওয়েতেও এ রিকশা চলে এসেছে।’

জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে ৮ হাজারের মতো ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রতিনিয়ত যাত্রী পরিবহন করে থাকে।

এ রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কী করবেন – এমন প্রশ্নে বরিশাল নগরীর চকের পুল এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থাকা জাফর সিকদার বলেন, ‘মোরা গ্রামের মানু। কামের খোঁজে বরিশালে আইয়া কোনো কাম কাইজ না পাইয়া এহন রিকশা চালাইতেছি ম্যাট্রিক পাস কইরাও। যদি এই রিকশা না চালাই হেলে খামুডা কী? খালি তো এইডা বন্ধ করে, ওইডা বন্ধ করে। কিছু তো খুইলা দেতে পারে না। মোগো তো বাঁচতে হইবে, নাকি এহন চুরি ডাহাতি করতে নামমু?’

নতুন বাজার এলাকায় বসে কথা হয় রিকশা চালক মাইদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ‘প্রথমে যে সময় প্যাডেল রিকশা চালাইতাম তহন যারা ব্যাটারির রিকশা চালাইতো তারা আন্দোলন কইরা শহরের মধ্যে ওই রিকশা চালাইতে পারার একটা পারমিশন পাইছিল। একসময় দেখলাম প্যাডেল রিকশা কইমা যাইয়া ব্যাটারির রিকশা বাড়তেছে, তহন মুইও ব্যাটারির রিকশা চালাইন্না শুরু করলাম। আর এহন আবার এই রিকশা বন্ধ করার ডিসিশন নেছে। বোঝলাম না কিছু, একবার চালানের পারমিশন, আরেকবার বন্ধ করার ডিসিশন দেয় কেমনে? এই করোনার মধ্যে যদি রিকশা বন্ধ কইরা দেয়, তয়তো না খাইয়া মরা ছাড়া উপায় নাই?’

ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালক সুজন মিস্ত্রি বলেন, ‘ভ্যানে ব্যাটারির মেশিন লাগাইছি দুই মাস হইছে। এনজিও দিয়া লোন লইয়া অনেক কষ্ট কইরা এইটা করছি। এহন এই ভ্যান চলতে না দেলে কি করমু মাথায় কিছু ঢোকে না।’

‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’


বরগুনা জেলায় ৬ উপজেলা ও সদর মিলিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ৫ হাজার। ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্তের খবরে মাথায় হাত এসব রিকশা চালকদের।

মাইঠা চৌমুহনী এলাকার মোহাম্মদ কুদ্দুস বলেন, ‘ডেইলি দুইশ টাহা মালিকরে ভাড়া দিয়া রিকশাডা চালাই। বেইন্নাকালে নামি আর রাইতে বাড়ি যাই। ভাড়া দিয়া যা থাহে হেইয়াইদ্দা গুরাগারা লইয়া খাই। এইডা বন্দ অইলে খামু কী?’

ঢলুয়া ইউনিয়নের চালক জসিম মিয়া বলেন, ‘রিকশাডা চালাইয়া মোর সংসার চলে, এহন যদি সরকার এডা বন্দ হরে তয় কি খামু? ভাইব্বা চিন্তা সরকার কথা কয় না কেয়া?’

বরিশাল ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক চালক সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শাহজাহান মিস্ত্রি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দিন ধরে বরিশালে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতির জন্য আন্দোলন করেছি। রাস্তায় পুলিশের হামলার শিকার হয়েছি। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের কোনো ভিত্তি নেই। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পেট বাঁচাতে আন্দোলনে নামব।’

দীর্ঘবছর যাবৎ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের পক্ষে আন্দোলনকারী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. মণীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি গণবিরোধী। কোভিডকালীন বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে সরকার কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়? এই রিকশাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার চালক কীভাবে তাদের সংসারের ভরন-পোষণ চালাবে? শুধু বন্ধ করলেই হবে না, মানুষের কথা চিন্তা করতে হবে। আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে লাগাতার আন্দোলন করব। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করা তো চলবেই না, বরং এই রিকশাগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার জোর দাবি থাকবে আমাদের।’

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীর জমিতে ‘ময়লা ফেলায়’ পিটিয়ে হত্যা
মাটি কাটায় বাধা পেয়ে হামলা
হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, ‘গুজব’ বলে ফের হামলা
সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলা, রাতে পুকুরে বিষ
হবিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

বাজারে হাঁড়িভাঙ্গা

বাজারে হাঁড়িভাঙ্গা

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট সাইজের আমের দাম বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ১৪০০-১৫০০ টাকা, মাঝারি আম সর্বোচ্চ ২২০০ টাকা আর বড় আম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকা পর্যন্ত।

আঁশবিহীন, স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারে এসেছে। রংপুরের বিভিন্ন হাটে-ঘাটে, ছোট-বড় বাজারে, রাস্তার মোড়ে, রিকশা, ভ্যানে, বাইসাইকেলে করে চাষি, ফড়িয়ারা আম বিক্রি করছেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাজার কিছুটা চড়া।

নগরীর লালবাগ এলাকায় রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আয়োজনে রোববার বিকেলে এই আম বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান।

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, জুনের শেষ সপ্তাহে অর্থাৎ ২০ জুনের পর এই হাঁড়িভাঙ্গা আম পরিপক্ব হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ জুনের পর আম নামাতে চাষিদের অনুরোধ করা হয়।

আমচাষি মজিবর রহমান বলেন, ‘এবার তো বারবার ঝড় হইচে। যে সময়টা ঝড় হইচে তখন আমের গুটি আসছিল। ঝড়ে ওই গুটি পড়ি গেছিল। আমগাছে সেই আগের মতন আম নাই। তা ছাড়া তো গাছোত পরিচর্যা করতে লাগছে, ওষুধ দিতে লাগছে। খরচ বেশি পড়ছে। একটু দাম না নিলে তো লাভ হবে না...।’

আব্দুল মিয়া নামে এক আমচাষি বলেন, ‘গত দুই দিন আগে আমের দাম কম আছিল, এখন দামটা বাড়ছে। গত বছর পোত্তম (প্রথম) দিকে যে আম আচিল ১৪০০-১৬০০ টাকা মণ, আইজ সেই আম বেচনোং ১৮০০-১৯০০ টাকা। দাম আরও বাড়বে। শুনবেনজি পোস্ট অফিসোত করি নাকি আম পাডাইবে সরকার। তাহলে তো ভালো হইবে।’


বাজারে হাঁড়িভাঙ্গা


আমের মৌসুমি ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আইজ আম কিনচি ১৮০০ টাকা মণ দরে, বিক্রি করনোং ২২০০ পর্যন্ত। দাম এবার একনা বেশি। বেশি দাম ছাড়া বাগানমালিকরা বেচপার চায় না। খরচ বেলে বেশি হইচে ওই জন্যে দাম কম।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট সাইজের আমের দাম বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ১৪০০-১৫০০ টাকা, মাঝারি আম সর্বোচ্চ ২২০০ টাকা আর বড় আম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকা পর্যন্ত।

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘চাষিরা যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম নির্বিঘ্নে পাঠাতে পারেন, সে জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। আশা করছি, চাষিরা হয়রানির শিকার হবেন না।’

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘অন্যান্য বছর বিআরটিসিতে আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। তাতে করে খরচ যে খুব একটা কমবেশি তা হয়নি। সে কারণে বিকল্প ব্যবস্থা করব। এ ছাড়া ডাক বিভাগের মাধ্যমে আম পাঠানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সড়কে আমের গাড়িতে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর রয়েছে। আমরা সেই নির্দেশনা দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীর জমিতে ‘ময়লা ফেলায়’ পিটিয়ে হত্যা
মাটি কাটায় বাধা পেয়ে হামলা
হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, ‘গুজব’ বলে ফের হামলা
সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলা, রাতে পুকুরে বিষ
হবিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭০ ভরি স্বর্ণ জব্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭০ ভরি স্বর্ণ জব্দ

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কুতুপালং পাঁচ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের  মো. আইয়ুবের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঘরের মাটি খুঁড়ে তিনটি স্বর্ণের বার, ১৯টি স্বর্ণের আংটি, দুই জোড়া কানের দুলসহ ৭০ ভরি স্বর্ণের গয়নার পাশাপাশি ২৬ লাখ তিন হাজার ১২০ টাকা ও ৩১ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ কিয়াত (মিয়ানমারের মুদ্রা) জব্দ করা হয়।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারসহ বিপুল দেশি ও বিদেশি মুদ্রা জব্দ করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

এ সময় বাড়ির মালিক মো. আইয়ুব ও তার স্ত্রী নুরে নেচ্ছাকে আটক করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ১৪ এপিবিএন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক।

এতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কুতুপালং পাঁচ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. আইয়ুবের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঘরের মাটি খুঁড়ে তিনটি স্বর্ণের বার, ১৯টি স্বর্ণের আংটি, দুই জোড়া কানের দুলসহ ৭০ ভরি স্বর্ণের গয়নার পাশাপাশি ২৬ লাখ তিন হাজার ১২০ টাকা ও ৩১ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ কিয়াত (মিয়ানমারের মুদ্রা) জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় উখিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ১৪ এপিবিএন পুলিশ।

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীর জমিতে ‘ময়লা ফেলায়’ পিটিয়ে হত্যা
মাটি কাটায় বাধা পেয়ে হামলা
হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, ‘গুজব’ বলে ফের হামলা
সন্ধ্যায় বাড়িতে হামলা, রাতে পুকুরে বিষ
হবিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন