অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার

অপহরণের ২০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার

মেয়েটির বড় ভাই বলেন, ‘সকালে আমার মোবাইলে এসএমএস আসে একটি নাম্বার থেকে। এসএমএসে জানানো হয়, আমার বোনকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে মুক্ত করতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে বোনকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়।’

বরগুনা সদরে বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর পাশেরই আরেক বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক স্কুলছাত্রীকে।

বরগুনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের নিজ বাড়ির পাশের একটি খালি ঘর থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় ওই শিশুকে।

ওসি বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় মেয়েটি। তার বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোনে মঙ্গলবার সকালে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

ঘটনাটি থানায় জানানো হলে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় খুঁজে বের করা হয় মেয়েটিকে।

তার বড় ভাই বলেন, ‘সকালে আমার মোবাইলে এসএমএস আসে একটি নাম্বার থেকে। এসএমএসে জানানো হয়, আমার বোনকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে মুক্ত করতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে বোনকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়।’

সকাল ১০টার দিকে বরগুনা সদর সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসপি) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সঙ্গে যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ (ডিবি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

তারা ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

ওসি তারিকুল জানান, ওই স্কুলছাত্রীকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের ছেলেকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
অপহরণের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ

‘৯ মুরগি বিক্রির টাকায়’ স্পিডবোটের ভাড়া শোধ

মেহেন্দিগঞ্জ থেকে স্পিডবোটে করে বরিশালে রোগী আনছেন স্বজনরা। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দাদপুর এলাকার নারগিস বেগম পেটব্যথায় কাতর ছেলে ফাহাদকে নিয়ে বুধবার গিয়েছিলেন জেলা সদরের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে। এর আগে মুরগি বিক্রি করে স্পিডবোটের জন্য টাকা জোগাড় করতে হয় বলে জানান এ নারী।

‘হঠাৎ বুধবার রাত ৯টায় মোর ছোডো পোলায় পেটব্যথায় অসুস্থ হইয়া পড়লে পাতারহাটে যাইয়া স্পিডবোট ঠিক করার চেষ্টা করি। বরিশালে যাওয়ার লইগ্গা বোট ড্রাইভাররা প্রথমে ৮ হাজার টাহা চায় মোর ধারে। পরে অনেক দরাদরির পর ৬ হাজার টাহায় যাইতে রাজি হয়। ৯টা দেশি মুরগী ওই রাইতেই এক আত্মীয়র কাছে দিয়া ৬ হাজার টাহা জোগাড় কইরা এরপর বরিশালে আইসা হাসপাতলে ভর্তি করাই। হেয়ানেও তো অনেক খরচা হইছে।'

কথাগুলো বলছিলেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দাদপুর এলাকার নারগিস বেগম। পেটব্যথায় কাতর ছেলে ফাহাদকে নিয়ে বুধবার তিনি গিয়েছিলেন জেলা সদরের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে। এর আগে মুরগি বিক্রি করে স্পিডবোটের জন্য টাকা জোগাড় করতে হয় বলে জানান এ নারী।

নারগিস বলেন, ‘একটা জেলার মধ্যে যাতায়াতে যদি এত খরচা হয় তাইলে বোঝেন যাতায়াতের কী সমস্যা। রাইতে তো বরিশাল টু মেহেন্দিগঞ্জে কোনো লঞ্চও চলে না।

‘অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাহায় হাজার হাজার টাহা ভাড়া দিয়া স্পিডবোটে যাওয়া-আওয়া করতে হয় এই এলাকার মানুষগো। আর যে ভোগান্তিতে শেষকালে আমিও পড়ছি।’

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী ভোলা জেলার কয়েক লাখ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। দ্রুত বরিশালে আসতে মানুষ নদীপথে স্পিডবোট ব্যবহার করেন। তবে দিন বা রাতের যেকোনো সময় রোগী নিয়ে আসতে হলে পুরো বোটই ভাড়া নিতে হয় রোগীর স্বজনদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেহেন্দিগঞ্জ থেকে বরিশাল ও বরিশাল থেকে ভোলা রুটে কয়েক শ স্পিডবোট চলে। আর এসব স্পিডবোটে দিনে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বরিশালে যাতায়াত সম্ভব হলেও সন্ধ্যার পরই স্পিডবোট চালকরা যে যার মতো ভাড়া হাঁকিয়ে থাকেন। কেউ ৬ হাজার কেউ বা ৮ হাজার টাকা নেন।

এত টাকা চাওয়ার কারণ হিসেবে অনেকেই জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর যারা মেহেন্দিগঞ্জ বা ভোলা থেকে বরিশালে আসেন তারা সবাই জরুরি কাজ অথবা রোগী নিয়ে আসেন। এ কারণে ইচ্ছামতো ভাড়া চাইলেও তারা তা দিতে বাধ্য হন।

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হাজরা জানান, টমটম দুর্ঘটনায় জানুয়ারি মাসে তার বাবার পা ভেঙে যায়। এরপর ভোলা হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। চিকিৎসা করানোর টাকা না থাকায় জমি বিক্রি করেন। সেই টাকা নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে ভেদুরিয়া ঘাটে যান। ঘাটে স্পিড বোট ভাড়া করতে গিয়ে রীতিমতো বোকা হতে হয়েছে তাকে। বরিশাল যেতে তার কাছে ভাড়া চাওয়া হয় ৬ হাজার টাকা।

‘সিন্ডিকেট করে স্পিড বোট চালকরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে। এরপর টাকা ইনকাম করে দেদারছে। কোনো মানবিকতা নাই। রোগী নিয়ে আসলে এরা ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে বলে। এটার স্থায়ী সমাধান দরকার।’

বরিশাল থেকে ভোলা রুটের স্পিডবোট চালক সিদ্দিকুর বলেন, ‘বরিশালের ড্রাইভাররা কেউ এত ভাড়া রাহে না। এই কাম করে ভোলা আর মেহেন্দিগঞ্জের ড্রাইভাররা। ওগো নেতা, পুলিশ অনেক কিছু ম্যানেজ কইরা আওয়া লাগে তো। এর লইগ্গা এত ভাড়া রাহে।’

বরিশালের গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘স্পিডবোট চালানো নিয়ম এবং নির্দিষ্ট ভাড়ার মধ্যে আনা উচিত। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ও ভোলা জেলার পুরোটাই নদীবেষ্টিত। তা ছাড়া এখানকার বাসিন্দারা অর্থনৈতিকভাবে তেমন স্বচ্ছল নয়। কেউ অসুস্থ হলে কয়েক হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে বরিশালে আসতে হয়।

‘অনেকে জমি বিক্রি করে, কেউবা ধার-দেনা করে চিকিৎসা নিতে আসে বরিশালে। এসব এলাকার মানুষদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা দরকার। রোগী বহনের জন্য ভোলার কয়েকটি উপজেলা এবং মেহেন্দিগঞ্জে যদি কিছু স্পিডবোট দেয়া হয় তাহলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।’

এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জসীম উদ্দিন হায়দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের খবরে আমরা প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে থাকি। তবে স্পটে বসে যাত্রীরা সত্যি কথা বলতে চায় না।

‘কঠোর নজরদারি রয়েছে স্পিডবোট ঘাটগুলোতে। পাশাপাশি রোগীদের যাতায়াত সহজ করতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

বরিশাল ৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেহেন্দিগঞ্জের রোগী বরিশালে নেয়ার জন্য একটি বোট রয়েছে। তবে সেটা অচল। ডিজেল ইঞ্জিন এবং ধীরগতির হওয়ায় সেটা রোগীর স্বজনরা ব্যবহার করেন না।’

তিনি বলেন, ‘মেহেন্দিগঞ্জ সদরের মানুষ প্রয়োজনে ভাড়া বেশি দিয়ে হলেও দ্রুত বরিশাল যেতে পারেন। কিন্তু ভাসানচর, শ্রীপুর, আলিমাবাদ, গোবিন্দপুরসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ যদি অসুস্থ হয়ে বরিশালে যেতে চায়, তাহলে তাদের নেয়াটা রীতিমতো যুদ্ধের সমান। সেটা আর বলার অবকাশ রাখে না।

‘ভয়ানক নদী পাড়ি দিতে হয় তাদের। আমার এলাকার মানুষদের সুবিধার্থে রোগী পরিবহনে একটি দ্রুত গতির স্পিডবোট আনার চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
অপহরণের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি

শেয়ার করুন

তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ

তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকায় প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। এ ছাড়া ৫ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

দেশের বৃহত্তম তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে চলতি বছরের জুনে। নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে সেচের পানি নিশ্চিত করতে ১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক সভায় সম্প্রতি প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে শুরু হয়ে শেষ হবার কথা রয়েছে ২০২৪ সালের শেষের দিকে। ফলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের এলাকা ৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর এবং সেচযোগ্য এলাকা ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে তিস্তা কমান্ড এলাকায় প্রথম পর্যায়ে সেচ কাঠামোসহ প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর সেচ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে কমান্ড এলাকায় ৫ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর ছাড়াও আরও ৪ লাখ ২৮ হাজার ৫৯৪ হেক্টর সেচযোগ্য এলাকা সেচসুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, প্রকল্পটির আওতায় ৭৬৬ কিলোমিটার সেচখালের ডাইক শক্তিশালী করা হবে। ৭২ কিলোমিটার সেচপাইপ স্থাপন করা হবে। স্লোপ প্রোটেকশন দেওয়া হবে ১০ দশমিক ০৮ কিলোমিটার।

বাইপাস সেচখাল নির্মাণ করা হবে ৭ দশমিক ১৩ কিলোমিটার। ২৭টি কালভার্ট নির্মাণ, জলাধার পুনঃখনন ২৭০ হেক্টর এবং সাড়ে ৯ কিলোমিটারের চ্যানেল পুনঃখনন করা হবে।


তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে রংপুরে

এ ছাড়া ৫২ কিলোমিটার পরিদর্শন রাস্তা মেরামত, ২০টি রেগুলেটর নির্মাণ ছাড়াও ৮৭ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মনে করে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় ফসলের নিবিড়তা ২৩১ থেকে ২৬৮ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। এ ছাড়া ৫ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশনসুবিধাসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার সেচখাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর, রংপুর জেলা সদর, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া এবং দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর, খানসামাসহ ১২ উপজেলায় প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আমন মৌসুমে সম্পূরক সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, সেচের কারণে প্রকল্প এলাকায় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বার্ষিক গড়ে ১০ লাখ মেট্রিক টন। প্রতিবছর ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে ১ কেটি ১৩ লাখ লিটার, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। ফসলের নিবিড়তা ১৮০ থেকে ২৩৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্প এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এলাকাভেদে ১ মিটার থেকে ৩ দশমিক ৫০ মিটার ওপরে ওঠায় বনায়ন বৃদ্ধিসহ অভ্যন্তরীণ নদীগুলোয় সারা বছর পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে রংপুরে

তিনি বলেন, প্রধান সেচখালগুলোর উভয় ডাইকে (পাড়) ব্যাপক হারে বনায়নের ফলে জীববৈচিত্র্যের উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০ কিলোমিটার সেচখাল, ৪৫ হেক্টর এলাকা সিল্টট্রাপে (বালুর সঙ্গে পানি আসে কিন্তু পানি এবং বালু আলাদা হয়) মৎস্য চাষ হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতিপ্রসাদ ঘোষ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ পেয়েছি। দ্রুত দরপত্র আহ্বান এবং কাজ শুরু হবে।’

জ্যোতিপ্রসাদ ঘোষ বলেন, তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলে কৃষিতে বিপ্লবের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রকল্প এলাকায় পরিবেশ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের অধিকতর উন্নতিকরণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত কয়েক লাখ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে।

আরও পড়ুন:
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
অপহরণের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি

শেয়ার করুন

পুকুরে ভেসে উঠল আলীর নিথর দেহ

পুকুরে ভেসে উঠল আলীর নিথর দেহ

২২ মাসের শিশু আলী হোসেন।

মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের উত্তর বানিয়াপাড়া (আসামপাড়া) গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের ছেলে আলী বৃহস্প্রতিবার সকালে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে শুক্রবার ঝিনাইগাতী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুর বাবা জসিম।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর বানিয়াপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পরিত্যক্ত পুকুর থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

২২ মাসের আলী হোসেনের মরদেহ রোববার বিকেলে উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের উত্তর বানিয়াপাড়া (আসামপাড়া) গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের ছেলে আলী বৃহস্প্রতিবার সকালে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে শুক্রবার ঝিনাইগাতী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুর বাবা জসিম।

এর পরই আলীর সন্ধানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় একই গ্রামের চান মিয়ার পরিত্যক্ত পুকুরে ভেসে ওঠে শিশুটির মরদেহ। পরে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, এএসপি (নালিতাবাড়ি সার্কেল) আফরুজা সুলতানা ও ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান।

শিশুর বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘যেখান থেকে ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে তো বড়দের যাওয়াই অনেক কষ্টের। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ‘বেশ কিছু বিষয় নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
অপহরণের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি

শেয়ার করুন

গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫

গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫

দগ্ধদের মধ্যে একজন। ছবি: নিউজবাংলা

‘শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরের বাকলিয়ায় তাস খেলার সময় গ্যাস লাইট দিয়ে সিগারেটে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছিলেন একজন। এ সময় গ্যাস লাইটটি বিস্ফোরিত হয়ে কক্ষে আগুন লেগে যায়। এতে দগ্ধ হন পাঁচজন।’

চট্টগ্রামে গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।

নগরের বাকলিয়া থানার ভড়াপুকুর পাড় এলাকায় শনিবার রাত ৮টার দিকে তাস খেলার সময় সিগারেটে আগুন ধরাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মধু সুদন দত্ত, যদু বিশ্বাস, পংকজ দে, কিশোর কুমার এবং প্রদীপ দাস।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ভড়াপুকুর পাড় এলাকায় তাস খেলার সময় গ্যাস লাইট দিয়ে সিগারেটে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছিলেন একজন। এ সময় গ্যাস লাইট বিস্ফোরিত হয়ে কক্ষে আগুন লেগে যায়। এতে দগ্ধ হন পাঁচজন।’

তিনি আরও জানান, ‘দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের ৩৬ নম্বর বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে প্রদীপ দাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

আরও পড়ুন:
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
অপহরণের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি

শেয়ার করুন

বদমেজাজের জন্য বাবাকে হত্যার স্বীকারোক্তি আদালতে

বদমেজাজের জন্য বাবাকে হত্যার স্বীকারোক্তি আদালতে

বাবা হত্যায় গ্রেপ্তার সোহান। ছবি: নিউজবাংলা

আদালতে স্বীকারোক্তিতে সোহান জানান, তার বাবা ক্যানসার ছাড়াও নানা রোগে ভুগছিলেন। সবার সঙ্গে বদমেজাজে কথা বলতেন। তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতেন। এসব কারণে তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন।

মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতেন। পাশাপাশি বাড়ির সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। এ কারণে বাবাকে হত্যার কথা জানিয়ে আদালতে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন এক যুবক।

তার নাম মো. সোহান। শনিবার যশোরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গৌতম মল্লিক তার জবানবন্দি নেন। পরে মা-ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন তিনি।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই নিহতের বড় ভাই আবেদ আলী চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন।

ওই দিন সকালে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাবরকাটি গ্রামের নিজ ঘর থেকে ৪৪ বছর বয়সী আহাদ আলীর মর‌দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আহাদ আলী এক সময় ট্রাক চালাতেন। তাকে খুনের অভিযোগে স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ছেলেকে আটক করে পুলিশ।

আদালতে স্বীকারোক্তিতে সোহান জানান, তার বাবা ক্যানসার ছাড়াও নানা রোগে ভুগছিলেন। সবার সঙ্গে বদমেজাজে কথা বলতেন। তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতেন। এসব কারণে তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন।

বুধবার রাতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন গৃহকর্তা আহাদ। ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা ছিল। বাঁশের মাথায় ছু‌রি বেঁধে জানালার ফাঁক দি‌য়ে রা‌তে বাবাকে আঘাত করেন সোহান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার।

আঘাত করার পর ছুরিটি ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন সোহান।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ছেলে-মেয়েরা যে ঘরে থাকে। তার পাশের ঘরে বুধবার রাতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন আহাদ আলী।

ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলে ছেলে-মেয়েরা ডাক দেয়। সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তারা দেখে, আহাদ আলীর বুকে ছুরি মারা এবং শরীর রক্তাক্ত। বাবার মরদেহ দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মরদেহের সুরতহাল রি‌পোর্ট এবং ঘটনাস্থ‌ল প‌রিদর্শনে সন্দেহ হয় হত্যায় প‌রিবারের লোকজন জ‌ড়িত। সন্দেহ থেকেই পু‌লিশ আহাদ আলীর স্ত্রী জেস‌মিন আক্তার, ছে‌লে সোহান ওরফে হারুন ও মেয়েকে জিজ্ঞাসাবা‌দের জন্য হেফাজ‌তে নেয়। পরে তারা সব স্বীকার করলে জবানবন্দি দিতে আদালতে তোলা হয়।

আরও পড়ুন:
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
অপহরণের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি

শেয়ার করুন

জমি দখলে বাধা দেয়ায় ‘হামলার শিকার’ বীর মুক্তিযোদ্ধা

জমি দখলে বাধা দেয়ায় ‘হামলার শিকার’ বীর মুক্তিযোদ্ধা

শনিবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার বাজার রেলগেট এলাকার নুর ইসলামের নেতৃত্বে তার ছেলে পার্থ ইসলাম, শাহিনুর ইসলাম, মো. বাচ্চু, মো. শামিম, আতিউর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধার জমিটি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম ও তার ছেলে বাঁধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

নীলফামারীর ডোমারে নিজের জমি দখলে বাধা দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সকালে ডোমার শহরের চিকনমাটি ধনীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তানভির ইসলাম সিদ্দিকী। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা শরীফুল।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চিকনমাটি মৌজার ১৪ শতকের মধ্যে ছয় শতক জমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভোগ-দখল করে আসছেন। ওই জমির একাংশে তাদের পরিবারের অনেকের কবরও রয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার বাজার রেলগেট এলাকার নুর ইসলামের নেতৃত্বে তার ছেলে পার্থ ইসলাম, শাহিনুর ইসলাম, মো. বাচ্চু, মো. শামিম, আতিউর রহমান ওই জমিটি দখলের চেষ্টা করে।

এ সময় বীরমুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম ও তার ছেলে বাঁধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে তারা লাঠি দিয়ে শরিফুল ইসলামকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

আসামি নুর ইসলাম তার বুকের উপর উঠে গলাটিপে ধরে ও নাকে ঘুষি মারে। এ সময় এলাকাবাসী ছুটে এসে শরিফুল ইসলামকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
অপহরণের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি

শেয়ার করুন

হাওরে ঘুরতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

হাওরে ঘুরতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

ডুবে যাওয়া যুবকের মরদেহ ঘোড়াউত্রা নদী থেকে উদ্ধার করছে ডুবুরিরা। ছবি: নিউজবাংলা

হাওরের নদীতে গোসল করবেন বলে বাড়ি থেকে পাঁচ বন্ধুর সবাই বাড়তি কাপড়ও এনেছিলেন সঙ্গে করে। পরে ঢাকী সেতুর নিচে পরিষ্কার পানি দেখে গোসলের ইচ্ছা হয় তাদের। পানিতে নেমে অনেকক্ষণ সাঁতার কাটেন তারা। দুপুর দুইটার দিকে নদী পার হওয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। পাঁচজনের মধ্যে চারজন নদী পার হতে পারলেও অর্ধেক নদীতে গিয়ে ডুবে যান মাজহারুল।

ঈদের ছুটিতে হাওরের সৌন্দর্য্য ‍উপভোগ করতে এসে প্রাণ হারালেন এক যুবক।

ওই যুবক মারা গেছেন নদীতে সাঁতরানোর সময়। বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলছিল কারা আগে নদী পার হতে পারবেন। তিনি মাঝ নদী পর্যন্ত যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার করে মরদেহ।

তার নাম মাজহারুল ইসলাম। ২৮ বছর বয়সী এই যুবক করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের সাইটুটা এলাকার বাসিন্দা।

শনিবার বিকেল চারটার দিকে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঢাকী সেতুর নিচে ঘোড়াউত্রা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট।

নিহতের বন্ধু সোহাগ মিয়া জানান, মাজহারুল ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঈদে বাড়ি এসেছিলেন। সকালে তারা সিদ্ধান্ত নেন হাওরে ঘুরতে আসবেন।

হাওরের নদীতে গোসল করবেন বলে বাড়ি থেকে পাঁচ বন্ধুর সবাই বাড়তি কাপড়ও এনেছিলেন সঙ্গে করে। পরে ঢাকী সেতুর নিচে পরিষ্কার পানি দেখে গোসলের ইচ্ছা হয় তাদের।

পানিতে নেমে অনেকক্ষণ সাঁতার কাটেন তারা। দুপুর দুইটার দিকে নদী পার হওয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। পাঁচজনের মধ্যে চারজন নদী পার হতে পারলেও অর্ধেক নদীতে গিয়ে ডুবে যান মাজহারুল। তাকে খুঁজেও না পেয়ে খবর দেন ফায়ার সার্ভিসে।

হাওরে ঘুরতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে
যুবকের ডুবে যাওয়ার খবরে নদী তীরে ভিড় করে শত শত মানুষ

মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের কর্মকর্তা আল-আমিন জানান, বাহিনীটির ডুবুরি দল প্রায় দুই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মাঝ নদীর তলদেশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

সাঁতার জানা মাজহারুল কীভাবে ডুবে গেলেন- তার ব্যাখ্যায় আল আমিন বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকতেন। সাঁতার জানলেও চর্চা ছিল না। নদীটা একেবারে সরু ছিল না। মাঝ নদীতে যাওয়ার পর হাঁপিয়ে উঠেন বলে ধারণা করছি।’

মিঠামইন থানার উপপরিদর্শক আল মামুন হাওলাদার জানান, মরদেহ উদ্ধার করার পর তার পরিবারের লোকজন এসে শনাক্ত করে। এরপর মরদেহটি থানায় নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
বংশালে অপহরণ: ৩ শিশুর পরিচয় সন্ধানে পুলিশ
হোটেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ-চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
অপহরণের ৪ দিন পর শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
অপহরণের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি

শেয়ার করুন