চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

হামলার বিচারের দাবিতে শনিবার মানববন্ধন কর্মসচি পালন করেন চমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ছবি: নিউজবাংলা

চমেক ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মো. ওসমান গণি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। দাবি মানার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এখনও দাবি মানা হয়নি, তাই আমরা কর্মবিরতি পালন করছি।’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে চিকিৎসা বন্ধ রেখে চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবারের ওই হামলার বিচারসহ কয়েক দফা দাবিতে বুধবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা। আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

তাদের দাবিগুলো হলো সংঘর্ষের সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হওয়ার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি প্রদান, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের বহিষ্কার এবং ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসে ইন্টার্নদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেয়া।

চমেক ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) আহ্বায়ক মো. ওসমান গণি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দাবি না মানলে আমরা কাজে যোগ দিব না।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। দাবি মানার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এখনও দাবি মানা হয়নি, তাই আমরা কর্মবিরতি পালন করছি।’

এই বিষয়ে জানার জন্য চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ূন কবীরকে ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা যোগ না দেয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবায় এর প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিসিন বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, ‘ইন্টার্নরা রোগীর ছোটখাটো বিষয়গুলো দেখেন। তারা না থাকায় এসব চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।’

তবে কর্মবিরতির কারণে করোনা ইউনিটের চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

চমেক হাসপাতালে প্রায় ৩০০ ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। গত বছরের আগস্ট মাসেও মারামারির পর একবার তারা কর্মবিরতি পালন করেন।

মঙ্গলবার রাতে চমেক ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। এদের মধ্যে দুজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও রয়েছেন।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় দুটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষই দুটি মামলা করেছে। অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা
সচিবালয়ের মতো পদ দাবিতে কর্মবিরতিতে কর্মচারীরা
গাড়ির চাকা বন্ধ, হবিগঞ্জে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

মাগুরায় ‘রাজনৈতিক প্রভাবকে’ কেন্দ্র করে হতাহতদের নেয়া হয় সদর হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, জগদল ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় বিবাদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পাল্টাপাল্টি প্রার্থী দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা।

মাগুরা সদরের জগদল ইউনিয়নে সংঘর্ষে চার খুনের কারণ হিসেবে পুলিশ ও স্থানীয়দের কথায় উঠে এসেছে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা দাবি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিবাদমান দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। আর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কথায় উঠে এসেছে নির্বাচনের খরচ যোগাতে চাঁদা দাবির তথ্য। দোষ প্রতিপক্ষের উপর চাপাতে নিজ পক্ষের লোকজনকে হত্যার অভিযোগও উঠেছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, ওই গ্রামে বিবাদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নিবার্চনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নজরুল ফের প্রার্থী হয়েছেন। এই ওয়ার্ডে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। নজরুলের বিরোধী পক্ষ হওয়ায় হাসানকে সমর্থন দেয় সবুর মোল্লা ও তার পক্ষ। এ নিয়ে নজরুল ও সবুর মোল্লার পক্ষে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়।

সেই বিরোধের জের ধরেই এ নজরুল ও সবুরের পক্ষের মধ্যে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা। এতে দুই ভাই সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লা, তাদের চাচাত ভাই রহমান মোল্লা এবং মো. ইমরান নামে একজন নিহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই ঘটনার পর গ্রামের সবাইকে পুলিশের নজরদারিতে আনা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনও কেউ মামলা করেনি। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মামলা না হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

নিহত তিন ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের কথায়ও উঠে এসেছে আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি। এ ছাড়া সবুর মোল্লার স্বজনরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য চাওয়া চাঁদা না দেয়ায় নজরুলের পক্ষ তাদের উপর হামলা চালায়।

আর নিহত ইমরানের পরিবার জানিয়েছে, ইমরান নিজের পক্ষের হওয়ার পরও নজরুল তাকে হত্যা করে দোষ প্রতিপক্ষের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা তাদের।

শনিবার জগদলের দক্ষিণপাড়ায় নিহত সবুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক মানুষ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’
মাগুরায় সংঘর্ষে নিহত সবুরের পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও শোকের ছায়া

কবির মোল্লার মেয়ে চাদনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমার বাবা আর এই বাড়িতে নেই।’

ঘটনার দিনের বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন বাবা পাশের বাড়িতে একটা দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর আমরা সেখানে খেতে যাই। তখন বাড়ির পাশে রাস্তার উপরে বাবাকে খুব চিন্তিত মনে হয়। হঠাৎ শুনলাম আমাদের বাড়ির কাইকে সামনের হাকিমের মোড়ে কারা যেন মারধর করছে।

‘তখন বাবার ফোনে একটা কল আসে। বাবা সেই ফোন পেয়ে চলে যায়। এরপর আমার বাবা আর জীবিত ফেরেননি। গলা কাটা অবস্থায় আমার বাবাকে এলাকাবাসী হাকিমের মোড় থেকে উদ্ধার করে।’

সবুর মোল্লার ভাইয়ের ছেলে মাহফুজ ইয়াসিন অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকবার ইউপি সদস্য হওয়ায় নজরুলের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে গিয়েছিল। তারা এর প্রতিবাদ করায় বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নজরুল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নজরুল মেম্বার আগে বিএনপি করত। ২০১২ সালেও তিনি জগদল ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে নিজের দল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মিশে যান। স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিকুল হাসানের অন্যতম শক্তি এই নজরুল। নজরুল ছাড়া চেয়ারম্যানের কোনো ক্ষমতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এবার পরিষদ নির্বাচনে আমাদের এলাকার ভোটার টানতে আমার চাচা সবুর মোল্লাকে বলা হয়। আমার চাচা শান্তি চান, তাই তাদের অন্যায় সহ্য করেও কিছু বলেননি।

‘এ ছাড়া নির্বাচনের খরচ যোগাতে আমার দুই চাচা নিহত সবুর ও কবির মোল্লার কাছে চার লাখ টাকা চাদা দাবি করেন নজরুল মেম্বার। তা দিতে না পারায় তারা আরও ক্ষেপে যায়। এই নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়। তবে চেয়ারম্যান তাদের পক্ষ নেয়।’

সবুর মোল্লার আরেক ভাইয়ের মেয়ে মোছা. মুরশিদা বলেন, ‘২০০৩ সালে আমার বাবা জরিপ মোল্লাকে বাড়ির সামনে ভোরবেলা ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে এই নজরুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। সেই ঘটনায় নজরুল মেম্বারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়।

‘তবে সেই মামলার সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল এবং নজরুল তখন মেম্বারসহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকায় মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। তাই বাবার হত্যার বিচার আমরা আপসের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলি।’

সবুর মোল্লার স্ত্রী মিলিনা খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী এলাকায় সুনামের সাথে বিভিন্ন সালিশ বিচার করত। সবাই সম্মান করত। এটাতে তার জনপ্রিয়তা ছিল। এ জন্য বহু মানুষ আমাদের কথা মতো চলত। তাই ভোটের সময় আসলি নজরুল মেম্বার আমাদের তাদেরকে সমর্থন দিতে বলত। কিন্তু এবার তারা চাঁদাও চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদা না দেয়ার জন্য তারা এই খুন করল। এই খুনের সাথে জড়িত এই নজরুল মেম্বার। সে ১৮ বছর আগেও আমার স্বামীর ভাই জরিপ মোল্লাকে কুপিয়ে খুন করে। একই ঘটনায় এবার আমার স্বামীসহ তার আপন ভাই ও চাচাত ভাইকে আমরা হারালাম।

‘ওদের সবার আমি ফাঁসি চাই। সেই সাথে এই চেয়ারম্যান ওই নজরুল মেম্বারকে সব রকম সুযোগ দিয়ে আসছে তারেও আইনের আওতায় আনা হোক।’

তিন ভাই ছাড়া নিহত আরেকজন ইমরান। মাত্র পাঁচ মাস বিয়ে করেছিলেন ইমরান। এইচএসসি শেষ করে ইমরান স্কেভেটর মেশিন চালাতেন। ঘটনার দিন চিৎকার শুনতে পেয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল মেম্বারের বাড়ির পাশে হাকিম মোড়ে যান ইমরান। পরে বাড়ির লোকজন জানতে পারেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইমরানের পরিবার জানায়, ইমরানসহ তারা সবাই নজরুলের দল করতেন। তাদের পাশেই নজরুল মেম্বারের বাড়ি।

ইমরানকে কারা হত্যা করেছে এমন প্রশ্নে তারা জানান, নজরুল মেম্বারের লোকেরাই তাকে ধরে আমাদের রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।

ইমরানের ভাবি জানান, ‘নজরুল মেম্বার নিজের দোষ আড়াল করতে নিজের পক্ষের ইমরানকে খুন করিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরুল সুবিধাবাদী। তিনি যে দল ক্ষমতায় সেই দল করেন। বিএনপি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। এরপর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার বিপরীতে কেউ প্রার্থী হলে তিনি মেনে নিতে পারেন না।

তারা আরও অভিযোগ করেন, এবার নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। তিনিও আওয়ামী লীগ করেন। একই গ্রামের পাশের ওয়ার্ডের সবুর মোল্লা ও তার পরিবার হাসানকে সমর্থন দেয়ায় নজরুল মেম্বার হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

শনিবার সকালে নজরুল মেম্বারের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাড়ি থেকে ফ্রিজ, টিভিসহ আসবাবপত্র ভ্যানে করে সরাতে দেখা যায়। পরে পুলিশ বাধা দিলে ভ্যানচালক চলে যান।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তাই নিজেদের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এটা হতে পারে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী দেওয়া নিয়ে সেটা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, আমরা এই খুনের ঘটনাটি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখছি। গতকালের পর থেকে এই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে। এলাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মামলা হলে সে মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নেব।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা
সচিবালয়ের মতো পদ দাবিতে কর্মবিরতিতে কর্মচারীরা
গাড়ির চাকা বন্ধ, হবিগঞ্জে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

বেনাপোল বন্দরে ফের শুরু আমদানি-রপ্তানি

বেনাপোল বন্দরে ফের শুরু আমদানি-রপ্তানি

চার দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দরে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চার দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল ও পেট্রোপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে দুই বন্দর এলাকাতেই।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান।

তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

ভারতের পেট্রাপোল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে এই চার দিন বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে পণ্য খালাস এবং চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচলও স্বাভাবিক ছিল বলে জানান বেনপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সুজন।

বেনাপোল বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর হয়ে পণ্য বাংলাদেশে আসতে সময় কম লাগায় আমদানিকারকরা এই বন্দর দিয়েই অধিকাংশ পণ্য আমদানি করেন।

গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল, ওষুধের কাঁচামাল, কেমিক্যাল, মোটর পার্টসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়।

বাংলাদেশ থেকেও পাট ও পাটজাত পণ্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, সয়াবিনজাতীয় পণ্য, ভুসিসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়।

চার দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই পাশের বন্দর এলাকায় সৃষ্টি হয় পণ্যজট। শনিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে এটি কমতে শুরু করে।

বেনাপোল কাস্টমস কার্গো কর্মকর্তা সাইফুর রহমান মামুন জানান, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৮৫টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল হয়ে দেশে এসেছে। এ সময়ে ৩৫টি ট্রাক রপ্তানি পণ্য নিয়ে পেট্রপোল বন্দর হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা
সচিবালয়ের মতো পদ দাবিতে কর্মবিরতিতে কর্মচারীরা
গাড়ির চাকা বন্ধ, হবিগঞ্জে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের আহত নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম হামলা চালায়।’

টাঙ্গাইলের বাসাইলে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বাজারের পাশে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইশরাক আল হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিক এবং সদস্য মো. ছাব্বির ও মো. সানী।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনূর রশিদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আহত সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

স্থানীয়রা আহত চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম সজিব জানান, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মাথা ও হাতে দায়ের কোপের চিহ্ন আছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য হাবলা ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়াকে ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি।

ওসি হারুনূর রশিদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা
সচিবালয়ের মতো পদ দাবিতে কর্মবিরতিতে কর্মচারীরা
গাড়ির চাকা বন্ধ, হবিগঞ্জে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

বরিশালের গৌরনদীতে ফেসবুকে কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের মন্দির ও বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল।

বরিশালের গৌরনদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের তিনটি মন্দির ও কিছু বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল কাজিরপাড় গ্রামে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এসব হামলা হয়।

এ ঘটনায় ফেসবুকে কমেন্টকারী যুবক মহানন্দ বৈদ্যকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় লোকজন।

আটক মহানন্দ বৈদ্য কাজিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পবিত্র কোরআন নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করেন মহানন্দ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি স্থানীয় কিছু মুসলমানের নজরে এলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসলিমরা মহানন্দকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পরে ওই রাতেই স্থানীয় কয়েকজন মিলে ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরি মন্দির এবং জগদীশ বৈদ্যর বাড়ির হরি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ওই এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত বালা জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা মুসলমানদের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কোরআন শরিফ নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর হামলা হয়েছে।

প্রশান্ত বলেন, মন্তব্যকারী যে সম্প্রদায়েরই হোক, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা
সচিবালয়ের মতো পদ দাবিতে কর্মবিরতিতে কর্মচারীরা
গাড়ির চাকা বন্ধ, হবিগঞ্জে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

সুনামগঞ্জে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।’

আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

তাহিরপুর উপজেলার শহীদ সিরাজ লেকে (নীলাদ্রি লেক) শনিবার দুপুরে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান ডিসি জাহাঙ্গীর হোসেন।

ডিসি বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।

‘আমরা পর্যটকদের একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দেব। তারা লগি-বৈঠার নৌকা নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাবেন। এটি কার্যকর হলে হাওরবাসীদের জীবনমান উন্নত হবে। তাদের কর্মসংস্থানও বাড়বে।’

উদ্বোধন শেষে ডিসি হাওর এলাকার প্লাস্টিক ও ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করেন এবং বিভিন্ন নৌকায় সচেতনতামূলক বিলবোর্ড টানান।

ডিসি জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সুনামগঞ্জ হাওর বেষ্টিত একটি জেলা। টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে বিগত সময়ে অনেক পর্যটক এসেছেন।

‘তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাওরে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্লেট, ময়লা-আবর্জনা ফেলে যান, যার কারণে এখানে পরিবেশদূষণ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে হাওরের জীববৈচিত্র্য। আমরা এগুলো আর মেনে নেব না। নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে সব পর্যটকদের সর্তক করে দিতে চাই আমরা।’

জেলা প্রশাসক জানান, তাদের এ অভিযান চলতে থাকবে। এছাড়া হাওরের মাঝিদের তালিকা করে নিবন্ধনের আওতায় এনে মাঝিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এছাড়া এখন থেকে সব নৌকায় একটি করে ডাস্টবিন থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। যারা এ নির্দেশনা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ডিসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কর, হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, ইউপি চেয়ারম্যান খসরুল আলমসহ অনেকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর ও তার আশপাশের হাওর এলাকার পরিবেশদূষণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা
সচিবালয়ের মতো পদ দাবিতে কর্মবিরতিতে কর্মচারীরা
গাড়ির চাকা বন্ধ, হবিগঞ্জে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

পানিতে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু

পানিতে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু

আখাউড়া থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বাড়ির পাশে দুই ভাইবোন খেলছিল। অনেকক্ষণ তাদের না দেখে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এরপর স্থানীয়রা বাড়ির সামনের পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু হয়েছে।

আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের দিঘীরজান গ্রামে শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুই ভাইবোন হলো সাত বছর বয়সী আয়েশা ও পাঁচ বছর বয়সী স্বাদ।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাড়ির পাশে দুই ভাইবোন খেলছিল। অনেকক্ষণ তাদের না দেখে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এরপর স্থানীয়রা বাড়ির সামনের পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, মরদেহগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা
সচিবালয়ের মতো পদ দাবিতে কর্মবিরতিতে কর্মচারীরা
গাড়ির চাকা বন্ধ, হবিগঞ্জে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

দাঁড়ানো ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৬

দাঁড়ানো ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৬

ময়মনসিংহের ত্রিশালে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন। ছবি: নিউজবাংলা

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের সাবস্টেশন অফিসার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, হজু মিয়া বিয়ে করেন শেরপুরের নকলা উপজেলায়। স্ত্রীসহ দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঢাকা থেকে শেরপুরগামী বাসে উঠেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ত্রিশালের চেলেরঘাট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বালুভর্তি ট্রাককে দ্রুত গতির বাসটি ধাক্কা দেয়।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ত্রিশালের চেলেরঘাট এলাকায় বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র রায়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার হাটপাগলা গ্রামের হজু মিয়া, তার স্ত্রী ফাতেমা, সাত বছরের মেয়ে আজমিনা ও ১০ বছরের আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া মারা গেছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার মিরাজ মিয়া।

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের সাবস্টেশন অফিসার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, হজু মিয়া বিয়ে করেন শেরপুরের নকলা উপজেলায়। স্ত্রীসহ দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঢাকা থেকে শেরপুরগামী বাসে উঠেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ত্রিশালের চেলেরঘাট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বালুভর্তি ট্রাককে দ্রুত গতির বাসটি ধাক্কা দেয়। তখন বাসটির পেছনে আরও একটি বাস ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। ওই বাসের কেউ আহত হয়নি। কিন্তু ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়া বাসটির পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এতে বাসের পাঁচ যাত্রীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আহত অবস্থায় ১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলেও বাসের চালককে পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে জানানো হয়েছে। তারা আসলেই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা
সচিবালয়ের মতো পদ দাবিতে কর্মবিরতিতে কর্মচারীরা
গাড়ির চাকা বন্ধ, হবিগঞ্জে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন