অনিয়ম: বিদ্যুতের সাব-স্টেশন নির্মাণ বন্ধ করে দিল স্থানীয়রা

অনিয়ম: বিদ্যুতের সাব-স্টেশন নির্মাণ বন্ধ করে দিল স্থানীয়রা

‘বেজ ঢালাইয়ের কাজে আস্তর বালু না দিয়ে বিডি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। মোটা দানার আস্তর বালুর দাম বিডি বালুর চাইতে দ্বিগুণ বেশি। এ কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আস্তর বালু না দিয়ে বিডি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। তা ছাড়া সিমেন্টের পরিমাণ দেয়া হয়েছে কম। এ কারণে আস্তর করা বালুর জমাটবাঁধা টুকরা হাতে নিয়ে চাপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে গুঁড়া হয়ে যায়।’

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ এনে বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী।

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, সিমেন্ট কম দেয়ার অভিযোগ আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। আর স্থানীয়দের দৃষ্টি এড়াতে সেখানে কাজ চলছিল গভীর রাতে।

ইটনা-বড়িবাড়ী সড়কে সড়কেরহাটিতে ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশনটির নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি ভরাট, সীমানা দেয়াল নির্মাণ, মাটির নিচ থেকে বেজমেন্ট কলাম নির্মাণসহ প্রতিটি বিষয়ে দরপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

স্থানীয়রা আপত্তি জানালেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা থামেনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দল বেঁধে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এলাকাবাসী।

তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে সবকিছু দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এখন সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছে।

৪০ শতাংশ জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে সাব-স্টেশনটি। প্রকল্পটির সিভিল ওয়ার্ক বা অবকাঠামোগত কাজের জন্য বরাদ্দ আছে ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি এই নির্মাণকাজ শুরু হয়।
অনিয়ম: বিদ্যুতের সাব-স্টেশন নির্মাণ বন্ধ করে দিল স্থানীয়রা

এর আগে সানরাইজ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছিল। তাদের কাজের অগ্রগতি সুবিধাজনক না হওয়ায় তাদের কাছ থেকে নিয়ে সেই কাজ দেয়া হয় এনার্জিপ্যাককে। আগামী ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু কাজের অগ্রগতি খুব একটা ভালো নয়।

স্থানীয় এক নির্মাণ শ্রমিক মো. কাঞ্চন বলেন, ‘আমি একদিন প্রতিবাদ করছিলাম। পরে আমারে ধমকায়া বিদায় করছে। সাইনবোর্ড দেহায়া কয়, এইহানো কিতা লেখা, দেখছস? মানে এইহান অনুমতি ছাড়া ডুহা নিষেদ। বাড়তি কতা কইলে ঝামেলা অইব। পরে আমি হেনতে আয়া পড়ি।’

এই প্রকল্পের একজন শ্রমিক জানান, সিমেন্ট, বালু, পাথরের মিশ্রণের অনুপাত হচ্ছে ১: ১.৫: ৩। অর্থাৎ সিমেন্টের দেড়গুণ বালু আর তিন ‍গুণ পাথর। তবে তারা তিন বস্তা বালু এবং চার বস্তা পাথরের সঙ্গে এক বস্তা সিমেন্ট ব্যবহার করছেন।

যে মানের বালু ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো এখানে ব্যবহার হওয়ার কথা না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

ইটনা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তাপস রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিডিউলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে এই সামগ্রীই। বেজ ঢালাইয়ের কাজে আস্তর বালু না দিয়ে বিডি বালু ব্যবহার করা হয়েছে।

‘মোটা দানার আস্তর বালুর দাম বিডি বালুর চাইতে দ্বিগুণ বেশি। এ কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আস্তর বালু না দিয়ে বিডি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। তা ছাড়া সিমেন্টের পরিমাণ দেয়া হয়েছে কম। এ কারণে আস্তর করা বালুর জমাটবাঁধা টুকরা হাতে নিয়ে চাপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে গুঁড়া হয়ে যায়।’

উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েত কবীর জানান, বিদ্যুতের টাওয়ার স্থাপনের জন্য মাটির নিচ থেকে রড দ্বারা আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে বেজ কলাম বসানো হয়েছে। কিন্তু বেজ কলামগুলোতে রডের পরিমাণ কম দেয়া হয়েছে এবং পাথরের সঙ্গে ইটের খোসা ও সিলিকেট বালুর সঙ্গে বিডি বালু মিক্সড করে ঢালাই দেয়া হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী বেজ ঢালাই করার সময় স্টিলবোর্ড ব্যবহার করার কথা থাকলেও তারা সে কাজ চালিয়ে দিচ্ছে বাজারের পরিত্যক্ত কাঠ দিয়ে।
অনিয়ম: বিদ্যুতের সাব-স্টেশন নির্মাণ বন্ধ করে দিল স্থানীয়রা

তিনি বলেন, ‘দিনের বেলায় নির্মাণকাজে অনিয়ম করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এ জন্য তারা রাতের আঁধারে ঢালাইয়ের কাজ করতে চেয়েছিল। পরে ঢালাই মেশিনের শব্দ শুনে স্থানীয়রা এখানে এসে দেখে কোন ইঞ্জিনিয়ার বা কোম্পানির কোনো লোক সেখানে উপস্থিত নেই। শ্রমিকরা তাদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন।’

তবে এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সাব-অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নিম্নমানের কোনো সামগ্রী আমরা ব্যবহার করিনি। আমরা আমাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী গুণগত মান ঠিক রেখেই কাজ করছি।’

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো প্রকার অনিয়ম করার সুযোগ নাই। কারণ সেখানে কাজ তদারকি করার জন্য আমাদের প্রতিনিধি রয়েছে।’

রাত ১১ টার পরে ঢালাই করার কোনো নিয়ম আছে কি না- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সব কাজ দিনে করার নির্দেশ রয়েছে। তবে কেন তারা রাতে কাজ করেছিল সেই বিষয়ে খোঁজ নেব। আর কোনো প্রকার নিম্নমানের সামগ্রী যেন ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে আমরা খেয়াল রাখব।’

স্থানীয়রা কেন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের সঙ্গে কর্মচারীদের খানিকটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এখন সেটার মীমাংসা হয়েছে।’

এই কর্মকর্তা জানান, এই সাব-স্টেশনের প্রকল্পে একটি অফিস কক্ষ কন্ট্রোলরুম ভবন, সাব-স্টেশন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা লোডশেডিং, লো-ভোল্টেজ এবং সিস্টেম লস এবং ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে।

আরও পড়ুন:
ভিজিডির কার্ডে অনিয়ম, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শিল্পীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কাদের হাতে
খামারিদের পৌনে দুই কোটি টাকা প্রণোদনায় অনিয়ম
জেলেদের সহায়তা তালিকায় অনিয়মের সত্যতা মিলল
রেলওয়ের কলোনিতে বসবাস বহিরাগতদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি মহিদুল জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

গাজীপুরের পূবাইলে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর ৬ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পূবাইল থানাধীন মাজুখান গ্রামের সালাম মুন্সীর বাড়ির সামনে থেকে রোববার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতের নাম মো. সিহাব। সিহাব পূবাইল থানার মাজুখান গ্রামের মো. জুয়েলের ছেলে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিদুল।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে সিহাবের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

সিহাবের বাবা জুয়েল জানান, নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখোঁজি করেও সিহাবের সন্ধান না পেয়ে রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম।

সিহাবকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি বলেন, শিশুটির বাবা-মা সাত মাস ধরে আলাদা থাকেন। শিশুটি মাজুখান এলাকায় তার বাবার সঙ্গে থাকত। শনিবার দুপুরে নিখোঁজের পর রোববার ভোরে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ভিজিডির কার্ডে অনিয়ম, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শিল্পীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কাদের হাতে
খামারিদের পৌনে দুই কোটি টাকা প্রণোদনায় অনিয়ম
জেলেদের সহায়তা তালিকায় অনিয়মের সত্যতা মিলল
রেলওয়ের কলোনিতে বসবাস বহিরাগতদের

শেয়ার করুন

টেকনাফের পাহাড় থেকে উদ্ধার অপহরণ হওয়া ৩ যুবক

টেকনাফের পাহাড় থেকে উদ্ধার অপহরণ হওয়া ৩ যুবক

অপহরণের ২ দিন পর র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার হন এই তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, নির্মাণ কাজ দেয়ার কথা বলে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ডেকে নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। স্বজনদের ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণও চাওয়া হয়। 

কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে অপহরণ হওয়া তিন বাংলাদেশি যুবককে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। তবে সেখান থেকে কাউকে আটক করা যায়নি। র‍্যাব জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদের অপহরণ করেছে।

উদ্ধার যুবকরা হলেন নোয়াখালীর হাতিয়ার আজিজুল ইসলাম, নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারের আল আমিন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের মুক্তার হোসেন মৃধা।

নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শনিবার দুপুরে তাদের উদ্ধার করা হলেও বিষয়টি রোববার দুপুরে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানান, নির্মাণ কাজ দেয়ার কথা বলে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ডেকে নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। স্বজনদের ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণও চাওয়া হয়।

অপহরণ হওয়া আজিজুল ইসলামের ভাই হাসান মো. সায়েম ঘটনাটি র‍্যাবকে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নয়াপাড়ার ওই পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়।

র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় তিনজনকে।

র‍্যাব কর্মকর্তা শেখ সাদী আরও জানান, এ ঘটনায় আজিজুলে ভাই টেকনাফ থানায় মামলা করেছেন। অপহরণকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
ভিজিডির কার্ডে অনিয়ম, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শিল্পীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কাদের হাতে
খামারিদের পৌনে দুই কোটি টাকা প্রণোদনায় অনিয়ম
জেলেদের সহায়তা তালিকায় অনিয়মের সত্যতা মিলল
রেলওয়ের কলোনিতে বসবাস বহিরাগতদের

শেয়ার করুন

সৌদিতে ক্রেন থেকে পড়ে নোয়াখালীর যুবক নিহত

সৌদিতে ক্রেন থেকে পড়ে নোয়াখালীর যুবক নিহত

সৌদি আরবে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে নোয়াখালীর এক যুবক নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইউপি সদস্য সবুজ বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো ক্রেনে উঠে কাজ করছিলেন আরজু। হঠাৎ সেফটি বেল্ট ছিঁড়ে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আরজুকে মৃত ঘোষণা করেন।’

সৌদি আরবে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে নোয়াখালীর এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের রিয়াদের আল দোয়াদমি এলাকায় শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল খায়ের সবুজ রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহত ২৫ বছর বয়সী মো. শেখ ফরিদ আরজুর বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি সৌদিতে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন।

ইউপি সদস্য সবুজ বলেন, ‘এক বছর আগে জীবিকার তাগিদে আরজু সৌদিতে যান। প্রতিদিনের মতো ক্রেনে উঠে কাজ করার সময় হঠাৎ সেফটি বেল্ট ছিঁড়ে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আরজুকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এমন দুঃসংবাদে শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার ও এলাকাবাসী।

এর আগে সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এক যুবক নিহত হন। নিহত তামজিরুল ইসলাম তিনি জিদান বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন।

আরও পড়ুন:
ভিজিডির কার্ডে অনিয়ম, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শিল্পীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কাদের হাতে
খামারিদের পৌনে দুই কোটি টাকা প্রণোদনায় অনিয়ম
জেলেদের সহায়তা তালিকায় অনিয়মের সত্যতা মিলল
রেলওয়ের কলোনিতে বসবাস বহিরাগতদের

শেয়ার করুন

উৎসব তৈরির কারিগররা কতটুকু আনন্দে

উৎসব তৈরির কারিগররা কতটুকু আনন্দে

শেষ সময়ে রাজবাড়ীর শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। ছবি: নিউজবাংলা।

চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব শিল্পী মূলত কোনো প্রতিষ্ঠানিকভাবে বেড়ে ওঠেন না। যার কারণে কারও নজরে থাকেন না। তারা মূলত জাত শিল্পী। এদের কোনো ট্রেনার নাই। সব রকম সুবিধাবঞ্চিত তারা। প্রতিমা তৈরি করে যে সম্মানি পান তা খুব লজ্জাজনক। আনন্দ তৈরি করে নিজেরাই নিরানন্দ জীবন যাপন করেন।'

শেষ সময়ে রাজবাড়ী জেলার শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

রাজবাড়ীতে এবার ৪৪১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

পৌর শহরের দুধ বাজার মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করেছেন দুলাল পাল। কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি জানান, করোনার কারণে গেল দুবছর পূজার আড়ম্বর না থাকায় তাদের আয়ের পথ বন্ধ ছিল। এবারও করোনার কারণে মানুষের হাতে পয়সা নেই। যার কারণে পূজার খরচ কমাতে হচ্ছে।

দুলাল পাল জানান, এবার পূজায় তার দুইটা প্রতিমা তৈরির অর্ডার আছে। তবে বাজেট খুব কম। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য বাজেট নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। বাদবাকি টাকা আমি ও আমার সহকারীরা ভাগ করে নিই। এতে অবশিষ্ট বেশি টাকা থাকে না। সারা বছরের এই সময়েই আমাদের আয়ের একটা বড় উৎস দুর্গাপূজা।

উৎসব তৈরির কারিগররা কতটুকু আনন্দে

দুলাল পালের সহযোগী উত্তম বলেন, ‘আমরা প্রতিমা তৈরি করে যে পয়সা পাই তাতে সংসার চলে না। প্রতিদিনের শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা করে পেলেও ১৫ দিনে ৭-৮ হাজার টাকা আয় হয়। ২০ হাজার টাকার একটা মন্দিরের অর্ডার নিলে যাতায়াত খরচ, মাটি খরচ, রং খরচ বাদ দিলে আমাদের হাতে কয় টাকা থাকে? তার ওপর প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণে মাটির বাসন কেউ ব্যবহার করে না। সারা বছর এটাই আমাদের আয়ের বড় উৎস। উৎসবানন্দ তৈরি করতে আমরাই আনন্দহীন হয়ে পড়ছি।‘

প্রতিমা তৈরির আরেকজন কারিগর পলাশ পাল বলেন, ‘দিন দিন আমাদের অবস্থা খারাপই হচ্ছে। সারা বছর তেমন ইনকাম থাকে না। এই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করেই কিছু আয় হয়। বিগত বছরের তুলনায় এবার আয় কম হচ্ছে। আমাদের সন্তান আর এ পেশায় আগ্রহী হচ্ছে না। তা ছাড়া, দিন দিন মাটির পরিবর্তে শোলা ধান, প্লাস্টিকের বোতলসহ নানা উপকরণে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে থিম পূজার নামে। এগুলো কতটুকু শাস্ত্রসিদ্ধ তা পণ্ডিতরা ভালো বলতে পারবেন। যদি ও আমাদের দেশে এর ব্যবহার এখনও তেমন করে শুরু হয় নাই। এগুলো ব্যবহারে মাটির ব্যবহার কমে গেলে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।‘

পলাশ পালের সহযোগী উজ্জ্বল কুমার পাল বলেন, ‘আমরা ৭টি মন্দিরের কাজ নিয়েছি। এই মন্দিরের আয় দিয়েই চলে সারা বছর। তবে এবার করোনার জন্য সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। গতবারের থেকে অনেক কম রেটে কাজ করতে হচ্ছে। আগে যে কাজ ৪০ হাজারে করেছি এবার সেটা ৩০ হাজার ২০ হাজারেও করতে হচ্ছে। এদিকে আবার সরঞ্জামাদির দামও বেশি। রাত-দিন একনাগারে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের তো এই কাজ ছাড়া কোনো কাজ নেই। তা ছাড়া, আমাদের খোঁজখবরও কেউ রাখে না।‘

উৎসব তৈরির কারিগররা কতটুকু আনন্দে

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজার উৎসব পালনে মণ্ডপগুলোতে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বৈঠকের প্রস্ততি নিয়েছি।‘

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে অনুদান পাওয়ার কথা সেটা পেয়ে থাকি প্রতিবছরই।‘

প্রতিমা তৈরির যারা কারিগর তারা আনন্দ তৈরি করে নিজেরাই নিরানন্দ জীবন যাপন করছেন।

এ বিষয়ে চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব শিল্পী মূলত কোনো প্রতিষ্ঠানিকভাবে বেড়ে ওঠে না। যার কারণে কারও নজরে থাকেন না। তারা মূলত জাত শিল্পী। এদের কোনো ট্রেনার নাই। সব রকম সুবিধাবঞ্চিত তারা। প্রতিমা তৈরি করে যে সম্মানি পান তা খুব লজ্জাজনক। আনন্দ তৈরি করে নিজেরাই নিরানন্দ জীবন যাপন করেন।'

আরও পড়ুন:
ভিজিডির কার্ডে অনিয়ম, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শিল্পীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কাদের হাতে
খামারিদের পৌনে দুই কোটি টাকা প্রণোদনায় অনিয়ম
জেলেদের সহায়তা তালিকায় অনিয়মের সত্যতা মিলল
রেলওয়ের কলোনিতে বসবাস বহিরাগতদের

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় মামুনুলদের মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ ডিসেম্বর

কুমিল্লায় মামুনুলদের মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ ডিসেম্বর

কুমিল্লার আদালতে হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কুমিল্লার চান্দিনার জোয়াগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় দুই দিনের মাহফিলের আয়োজন করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী। ওই সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।

প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া মাহফিল আয়োজন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে কুমিল্লায় করা মামলায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও সংগঠনটির নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর পরবর্তী হাজিরার তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ঠিক করেছে আদালত।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-৭-এর বিচারক ইরফানুল হক চৌধুরী রোববার দুপুর ১২টার দিকে এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুরুল ইসলাম।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কুমিল্লার চান্দিনার জোয়াগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় দুই দিনের মাহফিলের আয়োজন করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী। ওই সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।

এ ঘটনায় ১৭ ডিসেম্বর আয়োজক ও অতিথিসহ ছয়জনের নামে পুলিশ মামলা করে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালত চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেয়। মামুনুল হককে আদালতে তোলার খবরে আদালত চত্বরে ভিড় করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

কুমিল্লায় মামুনুলদের মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ ডিসেম্বর

আদালতে হাজিরা দিতে আসা দেবিদ্বার উপজেলার মাসুম মিয়া বলেন, ‘শুনলাম মামুনুল হককে আনা হবে। আমার হাজিরা আছিল ১০টায়। হাজিরা শেষ। এখন মামুনুল হকরে দেহনের লাইগ্যা খাড়াইয়া আছি।’

কুমিল্লা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ জানান, মামলায় হাজিরা দিতে গত শুক্রবার মামুনুল হক ও খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ জানান, সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালত চত্বরে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
ভিজিডির কার্ডে অনিয়ম, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শিল্পীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কাদের হাতে
খামারিদের পৌনে দুই কোটি টাকা প্রণোদনায় অনিয়ম
জেলেদের সহায়তা তালিকায় অনিয়মের সত্যতা মিলল
রেলওয়ের কলোনিতে বসবাস বহিরাগতদের

শেয়ার করুন

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে

এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাহমিদা খাতুন বলে, ‘আমার বোন কলেজে এখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। ও যখন কলেজে যায় তখন আমার স্কুলের পোশাক পরে আসতে হচ্ছে। অথচ আমরা দুইবোন এক বছরের ছোট-বড়। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে আমাদের মাঝে প্রায় দুই বছরের ব্যবধান করে দিয়েছে। যা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।’

স্কুলের পোশাক পরে বিষণ্ণ মুখে বিদ্যালয়ের সামনে বসে আছে রিমন। আটসাট জামাটি বলে দিচ্ছে এটি বেশ পুরোনো।

রিমনের এখন থাকার কথা কলেজে। এবার এসএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় সে আর কলেজে উঠতে পারেনি। করোনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় তাকে আসতে হয়েছে স্কুলে।

মাগুরা শিবরামপুর স্কুলের রিমনের মতো প্রায় সব হাইস্কুল পর্যায়ে এই চিত্র উঠে এসেছে। করোনার কারণে এসএসসি পিছিয়ে যাওয়ায় বিমর্ষ পরীক্ষার্থীরা।

রিমন বিশ্বাস বলে, ‘আমার আগের ব্যাচ অটোপাসে এখন কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে। কদিন পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবে। অথচ আমরা অটোপাস পাইনি, আবার এসএসসি পরীক্ষাটাও সময়মতো পেলাম না। স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এখানে আসতে হলো হাজিরা দিতে। আমরা প্রস্তুতি ক্লাস পাচ্ছি। তবু মনের ভেতরে কলেজের ওঠার ইচ্ছা ভর করে আছে।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্য নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা হবে। আপাতত সেই লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে মাগুরার হাইস্কুল পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলো। তবে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই ব্যবধান নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী অর্পিতা জানায়, স্কুলে গেলেও পড়ায় মন বসছে না। বছরের শুরুতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো ছিল। সেই পরীক্ষাটা বছর শেষের দিকেও না হওয়ায় সে হতাশ।

অর্পিতা বলে, ‘যেখানে এতদিনে আমাদের কলেজে পড়ার করার কথা, নতুন করে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করার কথা, সেখানে আমরা স্কুলেই পড়ে আছি। এটা খুবই বিব্রতকর।’

ফাহমিদা খাতুন নামে আরেক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের কলেজে যাওয়ার কথা এখন থেকে তিন মাস আগে। অন্তত শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী ধরলে এটাই সময়। কলেজে এখন প্রথম বর্ষ নামে কোনো বিভাগ নাই। কারণ আমরাই এই প্রথম বর্ষ।

‘আমার বোন কলেজে এখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। ও যখন কলেজে যায় তখন আমার স্কুলের পোশাক পড়ে আসতে হচ্ছে। অথচ আমরা দুইবোন এক বছরের ছোট-বড়। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে আমাদের মাঝে প্রায় দুই বছরের ব্যবধান করে দিয়েছে। যা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।’

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে


মাগুরা সরকারি মডেল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী নিরব বলে, ‘এসএসসি পরীক্ষা সময় মতো না নেয়ায় আমাদের বয়সের সময় তো আর থেমে নেই। আমার বন্ধুরা দেখেন সবাই বড় হয়ে গেছে। আমাদের আর স্কুলের মতো আচার-আচরণ নেই। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা কলেজে যেতে চাই। ঠিক সময় পরীক্ষা এবার না হলে স্কুল ছেড়ে দেব ভাবছি।’

শিক্ষাবর্ষের এই জটে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা শিক্ষকদেরও।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীদের বয়স অনুসারে ক্লাসে পড়াশোনা নিয়ে কিছুটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে। যেমন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কলেজে যাবার কথা আগেই। হয়তো সামনেই পরীক্ষা। এরপর ফল বের হয়ে কলেজে যেতে সামনের বছর হয়ে যেতে পারে। তখন আবার আর একটি এসএসসি ব্যাচ আমরা পেয়ে যাব। এভাবে কলেজে গিয়েও একটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।’

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোর্য়াদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার এসএসসি ব্যাচ নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবু আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।

‘প্রাণঘাতী করোনা থেকে বেঁচে থাকাটাই আসলে আমাদের প্রধান কাজ হয়ে গেছে। সেখানে শিক্ষা জীবনে একটু পরিবির্তন মেনে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ভিজিডির কার্ডে অনিয়ম, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শিল্পীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কাদের হাতে
খামারিদের পৌনে দুই কোটি টাকা প্রণোদনায় অনিয়ম
জেলেদের সহায়তা তালিকায় অনিয়মের সত্যতা মিলল
রেলওয়ের কলোনিতে বসবাস বহিরাগতদের

শেয়ার করুন

ধামাকার পরিচালকের বিরুদ্ধে টঙ্গীতে প্রতারণার মামলা

ধামাকার পরিচালকের বিরুদ্ধে টঙ্গীতে প্রতারণার মামলা

মামলার বাদী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি তার অর্ডার কনফার্ম করে এবং কনফার্ম ইনভয়েস জিমেইল আইডিতে পাঠায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত ৪৫ দিনেও আমার পণ্য সরবরাহ করেনি। ৫০ দিন পর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে আমাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এক মাস অপেক্ষা করার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তার সই করা ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি চেক দেয়া হয়। ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায় অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।’

প্রতারণার অভিযোগ এনে ধামাকা শপিং ডটকমের চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী।

থানার উত্তর আউচপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামীম খান বৃহস্পতিবার এই মামলা করলেও শনিবার রাতে তা জানাজানি হয়।

শামীম পোশাক কারখানার পার্টস ব্যবসায়ী।

আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিমউদ্দিন চিস্তী, চেয়ারম্যান এম আলী ওরফে মোজতবা আলী, সিইও সিরাজুল ইসলাম রানা, প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা দেবকর দে শুভ, নাজিম উদ্দিন আসিফ, হেড অব অ্যাকাউন্টস্ সাফোয়ান আহমেদ, ডেপুটি ম্যানেজার আমিরুল হোসাইন, আসিফ চিশতী, সিস্টেম ক্যাটাগরি হেড ইমতিয়াজ হাসান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম স্বপন ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরোধ বারান রয়।

মামলার বাদী বলেন, ‘গত ২০ মার্চ ধামাকা শপিং ডটকমের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভার্চুয়াল সিগনেচার কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কেনার অফার দেয়া হয়। অনলাইনে অফারটি দেখে আমি প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করি। যোগাযোগ করার পর আমাকে জানানো হয়, পণ্য অর্ডার করলে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। সে অনুযায়ী আমি ৮৪টি ইনভয়েসের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ইনভয়েসে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করি।

‘প্রতিষ্ঠানটি তার অর্ডার কনফার্ম করে এবং কনফার্ম ইনভয়েস জিমেইল আইডিতে পাঠায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত ৪৫ দিনেও আমার পণ্য সরবরাহ করেনি। ৫০ দিন পর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে আমাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এক মাস অপেক্ষা করার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তার সই করা ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি চেক দেয়া হয়। ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।

‘৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের সিও মামলার ৩ নম্বর আসামি সিরাজুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি টাকা না দিয়ে তাকে হুমকি দেন। ৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে গিয়ে দেখি অফিস তালাবদ্ধ।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ধামাকা অনলাইন শপিংয়ের ১১ জনের বিরুদ্ধে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতারণার মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন:
ভিজিডির কার্ডে অনিয়ম, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শিল্পীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কাদের হাতে
খামারিদের পৌনে দুই কোটি টাকা প্রণোদনায় অনিয়ম
জেলেদের সহায়তা তালিকায় অনিয়মের সত্যতা মিলল
রেলওয়ের কলোনিতে বসবাস বহিরাগতদের

শেয়ার করুন