মাদ্রাসাশিক্ষকের ছাত্র পেটানোর ভিডিও ভাইরাল

প্রতীকী ছবি।

মাদ্রাসাশিক্ষকের ছাত্র পেটানোর ভিডিও ভাইরাল

এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সোমবার বিকাল ৫টার পর সালিশি বৈঠক ডেকে ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করে।

বাড়ির কাজ না করে না আনায় কওমি মাদ্রাসার দ্বিতীয় জামায়াতের এক শিশুশিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করেছেন শিক্ষক। পেটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সোমবার বিকাল ৫টার পর সালিশি বৈঠক ডেকে ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করে।

ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের ঢেবঢেবি বাজার কুলছুম ক্বওমি মাদ্রাসায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মারধরের ভিডিওটি দুই মিনিট ২০ সেকেন্ডের। ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার শিক্ষক আবু সাইদ টুপি মাথায় সাদা পাঞ্জাবি পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পড়া আদায় করছেন। তার বাম হাতে একটি খাতা বা বই, ডান হাতে একটি বেত। কিছুক্ষণ পর সাদা পাঞ্জাবি পরা একটি শিশুশিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে গুঁতো দিয়ে মাথা নিচু করে মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটাতে থাকেন তিনি।

ভিডিওটির সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী পাথরডুবী বাজারের বাসিন্দা এবং ঢেবঢেবি বাজারের ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেনের ছেলে লাল মিয়া। সাত বছর বয়সী ওই শিশুটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় জামায়াতের শিক্ষার্থী।

মোতালেব হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, ঘটনাটি ২৭ মার্চের। ছেলেকে বাড়ির কাজের জন্য নির্দিষ্ট একটি লেখা দেয়া হয়েছিল। সেই লেখা না এনে অন্য লেখা নিয়ে যাওয়ায় এমনভাবে পিটিয়েছেন ওই শিক্ষক। ছেলে বাড়িতে ভয়ে কিছু জানায়নি।

‘আমি সোমবার দুপুরে ফেসবুকে ভিডিওটি দেখে আঁতকে উঠি। বাড়িতে গিয়ে ছেলের কাছে সব ঘটনা শুনতে পাই। হুজুরের ভয়ে ছেলে এতদিন আমাদের বিষয়টি জানায়নি। ছেলের কাছে তিনি আরও জানতে পারেন, মারপিটের কথা কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলবে বলে হুজুর ভয় দেখিয়েছেন।’

মোতালেব হোসেন আরও বলেন, ‘আমার ছেলে ছাড়াও আরও তিন চারজন শিক্ষার্থীকে ওই হুজুর একইভাবে নির্যাতন করেছেন বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা সোমবার বিকেলে মিটমাট করার জন্য আমাকে ডাকে। কিন্তু আমি ওই বৈঠকে যেতে পারিনি।’

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আবু সাইদ জানান, ঘটনাটি প্রায় দেড় দুইমাস আগের। সেখানে দ্বিতীয় জামায়াতের নয়, তৃতীয় জামাতের শিক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষা চলার সময় এক শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে বেয়াদবি করায় তাকে একটু শাসন করেছি। বিষয়টি নিয়ে সে সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমাকে শাস্তি দিয়েছে।‘

এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান মৌলভি শিক্ষক মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক দেড় বছর ধরে এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। দ্বিতীয় জামায়াতের ওই শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়ে আজ বাদ আসর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী লাল মিয়ার চাচাকে নিয়ে একটা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে শিক্ষক আবু সাইদকে বহিস্কার করা হয়েছে।’

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, ঘটনার সত্যতা পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে মাদ্রাসা চালু রাখা এবং শিশু নির্যাতনের অভিযোগসহ দুটি মামলা করা হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঠিকাদারের মার খেয়েও ‘চুপ’ প্রকৌশলী

ঠিকাদারের মার খেয়েও ‘চুপ’ প্রকৌশলী

‘ঘুষখোর’ আখ্যা দিয়ে এলজিইডির প্রকৌশলীকে মারধর করেন ঠিকাদার। ছবি: নিউজবাংলা

‘মিজানুর রহমান একজন অসৎ কর্মকর্তা। ঘুষ ছাড়া তার কলম চলে না। ঘুষের জন্য তিনি আমার জামানতের টাকা আটকে রেখেছেন... আমি ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার কাজ করবেন না। এ জন্য আমি তাকে মেরেছি। পরে আবার তার পা ধরে মাফ চেয়েছি।’

বরগুনায় ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এলজিইডির প্রকৌশলীকে মারধর করেছেন এক ঠিকাদার। তবে প্রকৌশলী বলেছেন, ঘুষ নয় ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়েছে। ওই ঠিকাদার পরে তার কাছে ক্ষমা চাইলেও ঘুষের অভিযোগে অনঢ় রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার, বরগুনা সদরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ের সামনে।

সেখানে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে মারধর করেছেন ঠিকাদার ফরহাদ জমাদ্দার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন মিজানুর। সে সময় ঠিকাদার ফরহাদ হঠাৎই সেখানে গিয়ে তাকে ‘ঘুষখোর’ বলে গালমন্দ করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে মিজানকে মারধর করতে থাকেন তিনি। পরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও এলজিইডির কর্মচারীরা গিয়ে ফরহাদকে থামায়।

ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আহমদ সোহাগ বলেন, ‘উপজেলা পরিষদে আমাদের একটি মিটিং ছিল। তা শেষ করে বের হয়ে দেখি তারা মারামারি করছে। আমরা গিয়ে তাদের শান্ত করি। কেন তারা মারামারি করছিলেন তা আমি নিশ্চিত নই।’

ঘটনার সত্যতা প্রকৌশলী ও ঠিকাদার দুজনই স্বীকার করেছেন।

ঠিকাদার ফরহাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিজানুর রহমান একজন অসৎ কর্মকর্তা। ঘুষ ছাড়া তার কলম চলে না। ঘুষের জন্য তিনি আমার জামানতের টাকা আটকে রেখেছেন। বরগুনার অনেক ঠিকাদারের টাকা তিনি আটকে রেখেছেন। আবার অনেকে ঘুষ দিয়ে জামানতের টাকা পেয়েছেন। আমি ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার কাজ করবেন না। এ জন্য আমি তাকে মেরেছি। পরে আবার তার পা ধরে মাফ চেয়েছি।’

কখন ও কী কাজে মিজানুর ঘুষ নিয়েছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে চাননি ফরহাদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ঘুষের টাকায় বরগুনার আমতলার পাড় এলাকায় বহুতল বাড়ি নির্মাণ করেছেন মিজানুর, গড়েছেন অঢেল সম্পত্তি।

মারধরের শিকার প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ফরহাদের এসব অভিযোগ সত্য নয়।

তাহলে কেন মারধর করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফরহাদ আমার এলাকার বড় ভাই। কেন হঠাৎ তিনি আমাকে মারধর করলেন তা বুঝতে পারছি না। হয়ত ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।’

এ বিষয়ে কোথাও কোনো অভিযোগও করবেন না বলে জানিয়েছেন মিজানুর।

ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস কে আরিফুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নিবেন। একই কথা বলেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তরিকুল ইসলামও।

শেয়ার করুন

হাতিয়ায় আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

হাতিয়ায় আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

সংঘর্ষে নিহত ওয়ার্ড আ.লীগ নেতা (বাঁ থেকে উপরে) ও আহত ২ জন। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার সকালে চরচেঙ্গা বাজারে জেলেদের ত্রাণের চাল বিতরণ করছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম মালেশিয়া। তখন চাল দেয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলে স্থানীয় লোকজন। এর জেরে শুরু হয় সংঘর্ষ।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন চারজন।

হাতিয়ায় সোনাদিয়া ইউনিয়নের চর চেঙ্গা বাজারে শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত ব্যক্তির নাম জোবায়ের হোসেন। তিনি সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তিনি সদস্যপ্রার্থী ছিলেন। তিনি নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসানের সমর্থক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শুক্রবার সকালে চরচেঙ্গা বাজারে জেলেদের ত্রাণের চাল বিতরণ করছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম মালেশিয়া। তখন চাল দেয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলে স্থানীয় লোকজন।

এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসানের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। কয়েক রাউন্ড গুলিও চলে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা সেখানে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘সকালে চেয়ারম্যানের লোকজন বাজারে ত্রাণ বিতরণ করছিলেন। এ সময় আমার সমর্থক জোবায়ের ও ইরাক দোকানে বসা ছিল। কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের লোকজন দোকানে প্রবেশ করে জোবায়ের, তার ছেলে জীবন ও আমার কর্মী ইরাককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ওসি আবুল খায়ের জানান, জোবায়েরের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শেয়ার করুন

নিখোঁজের দুই দিন পর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের দুই দিন পর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার

মোটরসাইকেলে ভাড়ায় লোক নিয়ে বুধবার রাত ১০টার দিকে মোহনগঞ্জ সদর থেকে উপজেলার আদর্শনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন রাজীব। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে দুই দিন আগে নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার সোয়াইর ইউনিয়নের ভাটিয়া গ্রামের শেখ ইসলামের পুকুরপাড়ে শুক্রবার বেলা১ ১টার দিকে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রেজাউল করিম রাজীবের বাড়ি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দেওথান এলাকায়। তিনি মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ খান জানান, মোটরসাইকেলে ভাড়ায় লোক নিয়ে বুধবার রাত ১০টার দিকে মোহনগঞ্জ সদর থেকে উপজেলার আদর্শনগরের উদ্দেশে রওনা হন রাজীব। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভাটিয়া গ্রামের লোকজন পুকুরে মাটি খোঁড়ার সময় বস্তায় ভরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মাটি সরিয়ে সিমেন্টের বস্তায় ভরা রাজীবের মরদেহ উদ্ধার করে।

এরপরই ভাটিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আব্দুল কালাম মেম্বরের বাড়ি থেকে রাজীবের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। সেটি পরে জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে থানায় নেয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি।

ওসি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর মরদেহ এভাবে ফেলে রেখে গেছে বলে ধারণা করেন তিনি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শংকর কুমার দাস জানান, রাজীবকে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখে। এ হত্যাকাণ্ড কেন সংঘটিত হয়েছে, কারা জড়িত তা বের করতে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

শেয়ার করুন

‌বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দোকান কর্মচারীর মৃত্যু

‌বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দোকান কর্মচারীর মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যবসায়ী মতিয়ার মিয়া জানান, দুপুরে প্রতিষ্ঠানের দোতলা ভবনের নতুন টিনের শেডের উপর সিমেন্টের প্লাস্টারে পানি দিতে যান শাহনাজ। এ সময় অসাবধানতায় পল্লী বিদ্যুতের তারের সঙ্গে শাহনাজের শরীর স্পর্শ করে। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহনাজ খার বাড়ি একই উপজেলার আরামডাঙ্গা গ্রামে। সে কার্পাসডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী মতিয়ার মিয়ার রড সিমেন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

ব্যবসায়ী মতিয়ার মিয়া জানান, দুপুরে প্রতিষ্ঠানের দোতলা ভবনের নতুন টিনের শেডের উপর সিমেন্টের প্লাস্টারে পানি দিতে যান শাহনাজ। এ সময় অসাবধানতায় পল্লী বিদ্যুতের তারের সঙ্গে শাহনাজের শরীর স্পর্শ করে। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু এটি দুর্ঘটনা, তাই কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

আগুনে পুড়ে মরল সাত মাসের শিশু

আগুনে পুড়ে মরল সাত মাসের শিশু

আগুনে পুড়ে গেছে দিনমজুরের ঘর, মারা গেছে তার শিশুকন্যা। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় চেয়ারম্যান জানান, ছোট মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে ঘরে রেখে বড় মেয়েকে নিয়ে পাশের পুকুরের দিকে হাঁস দেখতে যান তাদের মা। তখনই হঠাৎ ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে তারা। প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিভলে ভেতরে পাওয়া যায় শিশুর মরদেহ।

ঝিনাইদহ সদরের একটি গ্রামে বসতবাড়িতে লাগা আগুনে পুড়ে মারা গেছে সাত মাসের শিশু।

সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ভাদালিডাঙ্গা গ্রামের পূর্বপাড়ায় শুক্রবার সকালে আগুনের এই ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর নাম তানিশা। সে ওই গ্রামের দিনমজুর ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে।

গান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মালিতা জানান, ইব্রাহিম সকালেই কাজের জন্য বের হয়ে যান। বাড়িতে ছিলেন তার স্ত্রী পাপিয়া খাতুন ও দুই মেয়ে। সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে ঘরে রেখে বড় মেয়েকে নিয়ে পাশের পুকুরের দিকে হাঁস দেখতে যান পাপিয়া। তখনই হঠাৎ ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে তারা। প্রতিবেশীরা গিয়ে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। খবর পেয়ে সেখানে যায় ফায়ার সার্ভিসও। প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি শামীমুল ইসলাম বলেন, আগুন নিভলে ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় শিশু তানিশার দগ্ধ মরদেহ। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনার পর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম শাহীন সেখানে যান। তারা ওই পরিবারকে সহায়তার জন্য অর্থ, টিন ও কম্বল দেন। জেলা প্রশাসক মজিবর রহমানও তাদের ২০ হাজার টাকা ও ২০ কেজি চাল পাঠান।

শেয়ার করুন

ভুট্টাক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

ভুট্টাক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

নাটোর সদরের আগদিঘা কাঁটাখালি গ্রামে মৃত ওহাব আলীর স্বজনদের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

নাটোর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মতিন জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমি থেকে বাড়ি ফেরার পথে অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’

নাটোরে ওহাব আলী মিয়াজী নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সদর উপজেলার আগদিঘা কাঁটাখালি গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শুক্রবার দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওহাব আলী মিয়াজীর বাড়ি একই এলাকায়। তার বয়স ৭০ বছর।

সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওহাব আলী মিয়াজী তার জমির ফসল দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। পরে আর বাড়ি ফিরে যাননি তিনি।

রাতে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা ভুট্টাক্ষেতে ওহাব আলীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

আব্দুল মতিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমি থেকে বাড়ি ফেরার পথে অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তারপরও মৃত্যুর কারণ বের করতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে সদর হাসপাতারে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণ, টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধার 

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণ, টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধার 

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণ হওয়া যুবক আবিরকে টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, মুক্তিপণ পাঠাতে বলা বিকাশ নাম্বারের জিপিএস ট্র্যাক করে একটি নির্জন এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আবিরকে উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণের টাঙ্গাইল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউপাড়া বাজার থেকে শুক্রবার ভোরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার মো. আবিরের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের হিরাজিল সিরাজ টাওয়ারে ভাড়া থাকেন।

র‍্যাবের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার এরশাদুল রহমান নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাসা থেকে আবিরকে অপহরণ করা হয়। এরপর একটি নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা বিকাশ করতে বলা হয়।

এরপর আবিরের পরিবার র‍্যাব-১২-এর কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করে।

অভিযোগে বলা হয়, এক বছর আগে মো. সুজন নামের এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে আবিরের বন্ধুত্ব হয়। কাপড়ের ব্যবসার কথা বলে সুজনই তাকে অপহরণ করেছে।

র‍্যাব জানায়, বিকাশ নাম্বারের জিপিএস ট্র্যাক করে তারা একটি নির্জন এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আবিরকে উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়েছে।

আবিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন