বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের মাঠে শামিয়ানা টাঙিয়ে দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

বরিশাল বিভাগে ১৮ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজার ১১৪। সব থেকে বেশি আক্রান্ত দ্বীপ জেলা ভোলায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৪২১। পটুয়াখালীতে আক্রান্ত ৬ হাজার ৭৩৭, পিরোজপুরে ৩ হাজার ৭৫০, বরগুনায় ৪ হাজার ৩৫৩ এবং ঝালকাঠিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৯৯৮।

বরিশাল বিভাগে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। দিনে দিনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এতে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বিগ্ন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বরিশালে এর আগে এমন ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যায়নি। পান্তা কিংবা শরবতে দূষিত পানি ব্যবহারের কারণেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে বলে তাদের মত।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছি আমরা। শহরের মানুষ তেমন আক্রান্ত না হলেও, বেশি আক্রান্ত হচ্ছে উপকূল ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ।’

তিনি বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড গরম পড়ে। গরমে একটু আরাম পেতে গ্রাম ও উপকূলের মানুষ সাধারণত প্রচুর পান্তা খেয়ে থাকে। ফুটানো কিংবা চাপকলের বিশুদ্ধ পানি দিয়ে পান্তা তৈরি করলে কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু গ্রামের গৃহবধূরা পান্তা তৈরিতে সুপেয় পানি ব্যবহার করেন না। তারা পুকুর বা ডোবার দূষিত পানি ঢেলে দেন ভাতে। এই ‍দূষিত পানিই ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হিসেবে শনাক্ত করা গেছে।

স্বাস্থ্য পরিচালক আরও বলেন, ‘ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের আরেকটি কারণ আমরা লক্ষ করেছি। সেটা হলো, গরমের হাত থেকে স্বস্তি লাভ করতে অনেকে রাস্তার পাশে শরবত কিংবা বরফ দেয়া আখের রস পান করেন। শরবত বা বরফ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নদী বা খালের দূষিত পানি। মূলত যে বরফ মাছ সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়, সেই বরফই রাস্তার পাশের ওই শরবতে ব্যবহার করা হয়। তা পান করে অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি


বাসুদেব কুমার দাস জানান, বরিশাল বিভাগে ১৮ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজার ১১৪। সব থেকে বেশি আক্রান্ত দ্বীপ জেলা ভোলায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৪২১। পটুয়াখালীতে আক্রান্ত ৬ হাজার ৭৩৭, পিরোজপুরে ৩ হাজার ৭৫০, বরগুনায় ৪ হাজার ৩৫৩ এবং ঝালকাঠিতে আক্রান্ত ২ হাজার ৯৯৮ জন।

আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্য বিভাগের বরিশালের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মানুষ একটু সচেতন হলেই পানিবাহিত এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। পান্তা খেতে মানা নেই। তবে তা তৈরি করতে হবে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে। আর কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে স্যালাইন খেতে হবে। পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবারও খেতে হবে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অধ্যক্ষের ইন্ধনে শিক্ষার্থীকে ‘টর্চার সেলে’ মারপিট

অধ্যক্ষের ইন্ধনে শিক্ষার্থীকে ‘টর্চার সেলে’ মারপিট

শিক্ষার্থী স্বাধীনের অভিযোগ, অধ্যক্ষ বাহেজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে জেলা প্রশাসককে স্মরকলিপি দেয়ায় এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। একই কারণে এইচ এম সাব্বির নামে এক সহপাঠীকেও বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করেছে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।

পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ বাহেজ উদ্দিনের সামনেই এক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে তুলে ‘টর্চার সেলে’ নিয়ে মারপিট করে ছাদ থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগ এনে গত ২০ জুন পাবনা সদর থানায় মামলা করেছেন শরিফুল ইসলাম স্বাধীন নামে ওই শিক্ষার্থীর বাবা শাহজাহান আলী।

মামলায় অধ্যক্ষ বাহেজ উদ্দিন স্বাধীনকে ‘ক্যাম্পাসে কিছু না করে বাহিরে নিয়ে পেটাতে’ বলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যক্ষ বাহেজ অনার্স চতুর্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থীকে তার সামনে থেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও মারপিটের বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় তার কোনো ইন্ধন ছিল না বলেও দাবি অধ্যক্ষের।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী স্বাধীন বলছেন, অধ্যক্ষ বাহেজের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে জেলা প্রশাসককে স্মরকলিপি দেয়ায় এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। একই কারণে এইচ এম সাব্বির নামে এক সহপাঠীকেও বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করেছে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।

মামলায় বলা হয়, পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলাউদ্দিন সরদার মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার জন্য গত ১৫ জুন শিক্ষার্থীদের ডেকে পাঠান। শরিফুল ইসলাম স্বাধীনও স্যারের কথায় ক্যম্পাসে যান।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক আলাউদ্দিনের উপস্থিতিতে স্বাধীনকে জোর করে বের করে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুমন হোসেনের নেতৃত্বে কলেজ কমিটির সহসভাপতি রাজিব হোসেন আলিফ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির আহমেদ জয়, জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি তপু রায়হানসহ ৮-৯ জন বহিরাগত। এসময় পাশের একটি কক্ষে নিয়ে স্বাধীনকে মারপিট করতে থাকেন তারা। ছিনিয়ে নেয়া হয় তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক আলাউদ্দিন বিষয়টি তখনই অধ্যক্ষ বাহেজকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। তবে, তিনি স্বাধীনকে রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেননি। উল্টো সন্ত্রাসীদের বলেন, স্বাধীনকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে পেটাতে।

পরে সন্ত্রাসীরা স্বাধীনকে পাশের জুবলি ট্যাংক মার্কেটে নিয়ে মারপিট শেষে লাথি দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে এখন বাড়িতে বিশ্রামে আছেন স্বাধীন।

স্বাধীন বুধবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছর গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা দেয় সরকার। সাধারণ শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে, ওয়েবসাইটে কোনো নোটিশ না দিয়েই অধ্যক্ষ মহোদয় এক ঘনিষ্ঠজনের মাধ্যমে একটি তালিকা করে এই টাকা বিতরণ করেন।

‘আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষ স্যার আমাদের শিক্ষা জীবনে প্রভাব পড়বে বলেও হুমকি দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে স্মাকলিপিতে সই করা এইচ এম সাব্বির নামে এক সহপাঠীকেও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে। একই কারণে আমাকেও মারপিট করা হয়েছে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে যাইনি। ভাইভা নিয়ে আলোচনার জন্য ১৫ জুন স্যার ডেকে পাঠালে ক্যম্পাসে যাই। এ খবর পেয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে স্যারের সামনেই মারধর শুরু করে। আলাউদ্দিন স্যার বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারকে জানান।

‘অধ্যক্ষ স্যার এসে আমাকে রক্ষায় কোনো উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো বাইরে নিয়ে পেটাতে বলেন। আমি বারবার আকুতি জানালেও তিনি কর্ণপাত করেননি। এক পর্যায়ে জীবন রক্ষার্থে আমি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা আমাকে পাশের জুবলি ট্যাংক মার্কেটে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। পরে লাথি দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।’

স্বাধীন বলেন, ‘কলেজ ক্যম্পাসের আশেপাশে এই সন্ত্রাসীদের বেশ কয়েকটি টর্চার সেল আছে। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই এসব টর্চার সেলে নিয়ে মারপিট করা হয়।’

ঘটনার ব্যাপারে জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক আলাউদ্দিন সরদারের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের ডেকেছিলাম। শ্রেণিকক্ষে কথা বলার সময় অতর্কিত কয়েকজন যুবক এসে স্বাধীনকে ধরে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। ঝামেলা আঁচ করতে পেরে তখনই বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারকে অবহিত করি। স্যার এসে কী করেছেন আমার জানা নেই।’

মামলায় কলেজ ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুমন হোসেনকে এক নম্বর আসামি করা হলেও তিনি বলছেন, ঘটনায় তিনি জড়িত নন।

সুমন হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীন কলেজের একটি মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই জেরে তাকে কিছু জুনিয়র শিক্ষার্থী পিটিয়েছে বলে শুনেছি। আমি এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।’

সন্ত্রাসীদের হাতে শিক্ষার্থীকে তুলে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে অধ্যক্ষ।

নিউজবাংলাকে বাহেজ উদ্দিন বলেন, ‘কলেজে ঝামেলার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সে সময় স্বাধীনকে মারপিটের বিষয়ে জানতে চাইলে সে কিছু বলেনি। ওই শিক্ষার্থীরা পূর্বপরিচিত এবং বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। তারা স্বেচ্ছায় একসঙ্গে ক্যম্পাস থেকে বেরিয়ে গেছে। কলেজ ক্যম্পাসে মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। উপবৃত্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও সত্য নয়।’

পাবনার পুলিশ সুপার মোহা. মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

‘লকডাউনের সময়ে কিস্তির জন্য জবরদস্তি নয়’

‘লকডাউনের সময়ে কিস্তির জন্য জবরদস্তি নয়’

১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি না হওয়ায় বুধবার বিকেলে সভা করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। 

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাজশাহীতে বিশেষ বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ে কিস্তি আদায়ের জন্য এনজিওগুলো জবরদস্তি করতে পারবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি না হওয়ায় বুধবার বিকেলে সভা করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহীতে গত ১১ তারিখ থেকে লকডাউন চলছে। আমরা এটিকে সর্বাত্মক লকডাউন বলে ঘোষণা করেছি। আমাদের গড় আক্রান্ত ২০ শতাংশের বেশি। কোনো কোনো দিন এটি ৩০ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে।

‘লকডাউন শুধুমাত্র শহরে দিচ্ছি। এটি সিটি করপোরেশন এলাকায়। তবে, মহানগর থেকে সব উপজেলার যোগাযোগ বন্ধ রাখা হচ্ছে। কয়েক দিনে এটি কিছুটা শিথিল হয়েছিল। তবে আরও কঠোর হবে। বিনা কারণে কেউ আর শহরে আসতে পারবে না। আমাদের জেলা থেকে কোনো গাড়ি ঢাকাতে যায় না। কোনো মার্কেট খোলা নেই।’

জেলা প্রশাসক বলেন, লকডাউন চলাকালে কিস্তি আদায়ের জন্য এনজিওর পক্ষ থেকে জবরদস্তি করা যাবে না। লকডাউন কার্যকরে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

ঈদের পর থেকে রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় গত ১১ জুন সিটি করপোরেশন এলাকায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এর পর গত ১৬ জুন সেটি আরেক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৪ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। বুধবার আরেক দফা বাড়িয়ে আগামী ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত করা হলো।

শেয়ার করুন

সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ভাতা পরিশোধের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ভাতা পরিশোধের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

বকেয়া পরিশোধের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষক রাহুল দাশ বলেন, ‘আমরা সবাই নতুন চাকরি পেয়েছি। আমাদের বেতন মাত্র সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। এই বেতনে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ডিপিএড প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছে।’

প্রশিক্ষণের মেয়াদ শেষ হলেও ভাতার টাকা না পাওয়ায় মানববন্ধন করেছেন হবিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা।

বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ পিটিআইয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েকশ শিক্ষক অংশ নেন।

তাদের দাবি, প্রশিক্ষণ চলার সময় প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। প্রথম ছয় মাসের ভাতা বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে ১৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও দেয়া হয়নি পরের এক বছরের কোনো টাকা।

এতে ছয় মাসের মোট বকেয়া পড়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক বছরের ভাতা বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর বকেয়া পড়েছে ৩৬ হাজার টাকা।

হবিগঞ্জ পিটিআই জানা জানিয়েছে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)।

প্রশিক্ষণে জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। প্রথম অবস্থায় ক্লাসে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও করোনা মহামারি শুরু হলে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এ প্রশিক্ষণ চলে জুন মাস পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের লিখিত পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। ২৪ জুন থেকে তাদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে।

ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব পাল বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ শুরু হলে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় অনেক প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ভালো মোবাইল-ল্যাপটপ না থাকায় বিপাকে পড়েন। অনেকে ধারদেনা ও ঋণ করে এসব উপকরণ কিনেছেন।’

ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ থাকলেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আমরা হলে বসে পরীক্ষা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘২৫ জুন থেকে আমাদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর আমরা আর ডিপিএডের কেউ না। অথচ আমাদের এক বছরের ভাতার টাকা এখনও দেয়া হয়নি। আমাদের আগের প্রশিক্ষণার্থীরা যদি এ টাকা পান তাহলে আমরা কেন পাব না?’

নবীগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সাদিক মিয়া বলেন, ‘আমাদেরকে ভাতা থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু আমরা সেটা বুঝতে পেরেও কোনো ধরনের আন্দোলন করছি না। আমাদের প্রাপ্য ভাতাটুকু বুঝিয়ে দেয়া হোক। অন্যথায় বাধ্য হয়ে আন্দোলনের ডাক দিতে হবে।’

সদর উপজেলার গদাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খন্দকার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘অনলাইনে প্রশিক্ষণ নেয়া কতটা কষ্ট আর ব্যয়বহুল সেটা কেবল আমরাই জানি। একটি ক্লাস করতে এক গিগাবাইট ডাটা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন চারটি করে ক্লাস করতে হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কম্পিউটারের সামনে সারাদিন বসে থাকতে গিয়ে চোখের কতটা ক্ষতি হয়েছে সেটা কেবল আমরাই জানি। কিন্তু এরপরও যদি আমাদের ন্যায্য টাকাটা না পাই তাহলে কষ্টের কথা কাকে বলব?’

শিক্ষক রাহুল দাশ বলেন, ‘আমরা সবাই নতুন চাকরি পেয়েছি। আমাদের বেতন মাত্র সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। এই বেতনে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ডিপিএড প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ল্যাপটপ কিনতে হয়েছে। অনেকের গ্রামের ভালো নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে শহরে বাসা ভাড়া করে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। যে কারণে অনেক শিক্ষক এখনও ঋণগ্রস্থ।’

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট রওশনারা খাতুন বলেন, ‘ডিপিএডের প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ চলার সময় একটা ভাতা পান। এ বছর মন্ত্রণালয় থেকে ভাতা দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে তারা আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম সরাসরি মন্ত্রণালয়ে অথবা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য। কারণ এ বিষয়ে আমার কোনো ক্ষমতা নেই।’

শেয়ার করুন

ঘুষ নেয়ায় সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত

ঘুষ নেয়ায় সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত

এর আগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মুকুল। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার বিকেলে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম আব্দুর রফেলের কাছে ঘুষ চাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে ওই আইন কর্মকর্তার ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন মুকুল।

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ বুধবার সকালে তাকে বরখাস্ত করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম আব্দুর রফেলের কাছে ঘুষ চাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে ওই আইন কর্মকর্তার ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন মুকুল।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রফেল ঘটনাটি ফেসবুকে শেয়ার করলে আলোচিত হয়।

সাবরেজিস্ট্রার তার অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা ও দলিল লেখককে ডেকে ঘটনাটি মিটমাট করে দেয়ার অনুরোধ জানান। এরপর আব্দুর রফেলকে ফোন দিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। বারবার তাকে ফোন দিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে তিনি টাকা ফেরত না নিয়ে ঢাকা চলে যান।

কুষ্টিয়ার সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ বলেন, ‘বি এম আব্দুর রফেল আমার দপ্তরে আসার পর দ্রুত ওনার কাজ করে দিই। পরে শুনেছি তার কাছে কয়েকজন টাকা চেয়েছিলেন। আমি তখন অফিস ফির টাকা বাদে বাকি টাকা ফেরত দিতে বলেছি। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মুকুলকে। রফিকুলের সঙ্গে বাকি যারা ছিলেন, তারা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী না হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি।’

সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম আব্দুর রফেল জানান, জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহের কার্যালয়ে যান। সেখানে তার সঙ্গে বড় ভাই ছিলেন। দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর অফিসের ক্লার্ক মুকুল ও সহযোগী আক্কাস তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এ সময় ওই আইন কর্মকর্তা টাকার রসিদ দাবি করেন। রেজিস্ট্রার অফিসের ওই দুই কর্মচারী রসিদ দিতে অপারগতা জানালে বি এম রফেল নিজের পরিচয়পত্র দেখান। এ সময় ওই দুই কর্মচারী ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন।

তারা বলেন, এটা এখানকার নিয়ম। বি এম রফেল এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রেজিস্ট্রি অফিস ত্যাগ করলে তার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন মুকুল।

বি এম রফেল বলেন, ‘এখানে যে কী ভোগান্তি, তা নিজে প্রত্যক্ষ করলাম আজ।’ আমার যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে পাবলিক কী পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হয়, তা সহজেই বোঝা যায়।’

পরে বি এম রফেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা সরকারি অফিস। আমিও একজন কর্মকর্তা। পরিচয় দেয়ার পরও তারা টাকা দাবি করেন। এটা কি কারও দেখার নেই? আমি খুবই মর্মাহত বিষয়টি নিয়ে। এটার একটা সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। আমি পরিচয় দিলে ন্যূনতম সম্মানও উনি দেখাননি।’

এর আগে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর ঘুষের ১ লাখ ৪ হাজার টাকাসহ সদর সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ ও তার অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলকে আটক করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শেয়ার করুন

শিশু ধর্ষণচেষ্টা, থানায় মামলা

শিশু ধর্ষণচেষ্টা, থানায় মামলা

প্রতীকী ছবি

ওই ব্যক্তির সঙ্গে শিশুটির বাবার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। ওই ব্যক্তি টাকা নিয়ে ফেরত দিতে গড়িমসি করায় কয়েক দিন আগে ওই শিশুর বাবার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি শিশুটির ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কচাকাটা থানায় শিশুটির বাবা মামলা করেছেন। তবে নিউজবাংলাকে বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম।

ওসি মাহবুবুল জানান, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকেলে উপজেলার বল্লভের খাস ইউনিয়নের একটি গ্রামে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই ব্যক্তির সঙ্গে শিশুটির বাবার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। ওই ব্যক্তি টাকা নিয়ে ফেরত দিতে গড়িমসি করায় কয়েক দিন আগে ওই শিশুর বাবার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি শিশুটির ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন। এরপরই সোমবার বিকেলে মেয়েটি মাঠে ছাগল চরিয়ে বাড়ি ফেরার সময় ওই ব্যক্তি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে ধর্ষণচেষ্টা করেন। সে সময় শিশুটির ফুফু ও ওই ব্যক্তির ভাবি ঘটনাস্থলে চলে আসেন। ওই ব্যক্তি তাদের দেখতে পেয়ে ঘরের বেড়া ভেঙে পালিয়ে যান।

ওসি মাহবুবুল আলম জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটির বাবা একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাতে মামলা করা হয়। ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

পরিবেশ কর্মকর্তার বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতন, থানায় স্ত্রী

পরিবেশ কর্মকর্তার বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতন, থানায় স্ত্রী

অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ফারাহানা আলম।

কিশোরীর বরাত দিয়ে শাহপরান থানার পুলিশ জানায়, মারধরের পর গৃহকর্মী রুনাকে বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। নির্যাতনের সময় তার শরীরে মরিচের গুঁড়াও ছিটিয়ে দেয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের পরিচালকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ অভিযোগে ফারহানা আলম চৌধুরী নামের ওই নারীকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

পেশায় ব্যাংকার ফারহানা পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের পরিচালক এমরান হোসেনের স্ত্রী। নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার একটি বাসায় থাকেন তারা।

ওই বাসা থেকেই বুধবার বিকেলে তাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আর দুপুরে বাসার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় নির্যাতিত কিশোরী রুনা আক্তারকে।

পুলিশ জানায়, কিশোরী গৃহকর্মীকে বাথরুমে তালাবদ্ধ করে শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ফারহানার বিরুদ্ধে। থানায় এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, উপশহরের ই-ব্লকের ২১ নম্বর বাসায় (ফিরোজা মঞ্জিল) পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান সপরিবারে থাকেন। বুধবার সকাল থেকে ওই বাসার ভেতরে কিশোরীর কান্না শুনতে পান প্রতিবেশীরা। বুধবার দুপুরে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে গৃহকর্মী কিশোরীকে উদ্ধার করে।

কিশোরীর বরাত দিয়ে শাহপরান থানার পুলিশ জানায়, মারধরের পর গৃহকর্মী রুনাকে বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। নির্যাতনের সময় তার শরীরে মরিচের গুঁড়াও ছিটিয়ে দেয়া হয়।

দুপুরে রুনাকে উদ্ধারের পর বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান হোসেনের স্ত্রী ফারহানাকে শাহপরান থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটিকে আমরা উদ্ধার করেছি। ওই বাসার গৃহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’

শেয়ার করুন

হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব রিমান্ডে

হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব রিমান্ডে

হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির।

কোর্ট পরিদর্শক হুমায়ুন কবির বলেন, হেফাজত নেতা নাসিরকে হাটহাজারী থানায় করা একটি নাশকতার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠায়।

হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনিরকে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শাহরিয়ার ইকবালের আদালত বুধবার বিকেলে এ রিমান্ড মঞ্জুর করে।

চট্টগ্রাম জেলার কোর্ট পরিদর্শক হুমায়ুন কবির বলেন, হেফাজত নেতা নাসিরকে হাটহাজারী থানায় করা একটি নাশকতার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠায়।

হাটহাজারী সদর থেকে নাসিরকে গত সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে

হেফাজতর নেতাকর্মীরা থানা ভবন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস এবং ডাকবাংলোয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। তিন দিন ধরে হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় ৪ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে ১০টি মামলা করে পুলিশ। এতে জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ১৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ১০ মামলায় এ পর্যন্ত ৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শেয়ার করুন