× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

সারা দেশ
জন্মসনদ জটিলতায় আটকে গেছে উপবৃত্তি
hear-news
player
print-icon

জন্মসনদ জটিলতায় আটকে গেছে উপবৃত্তি

জন্মসনদ-জটিলতায়-আটকে-গেছে-উপবৃত্তি
ভোলার দৌলতখান উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা
ভোলার চরপাতা ইউপি সচিব অরুন জানান, কিছুদিন আগে নিবন্ধন সার্ভারে সমস্যার কারণে অনেকে সঠিক সময়ে জন্মসনদ পাননি। এ ছাড়া এবার সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে হলে বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক। অনেক অভিভাবক সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে আসলেও তাদের জন্মসনদ না থাকায় বিপাকে পড়েন।

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় জন্মসনদ দিতে না পারায় আটকে গেছে প্রাথমিকের ৩ হাজার ৫৩৩ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি। সার্ভার জটিলতা এবং নিয়মের বেড়াজালে এসব শিক্ষার্থী জন্মসনদ দিতে পারেনি।

ইউনিয়ন পরিষদে জন্মসনদ নিতে যাওয়া ফারজানা, রিপা আক্তার ও মো. রিয়াদ নামে তিন অভিভাবক জানান, উপবৃত্তির জন্য স্কুলে সন্তানদের জন্মসনদ জমা দিতে বলেছেন শিক্ষকরা। তবে কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও সার্ভার জটিলতায় সঠিক সময়ে জন্মসনদ পাননি।

উপজেলার চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অরুন বলেন, ‘কিছুদিন আগে জন্মসনদ নিবন্ধন সার্ভারে সমস্যার কারণে এ জটিলতা হয়েছে। তবে আমাদের কাছে যতজন জন্মসনদ নেয়ার জন্য এসেছেন, আমরা সবাইকে দেয়ার চেষ্টা করেছি।

‘এবার সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে হলে বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক। অনেক অভিভাবক সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে আসলেও তাদের জন্মসনদ না থাকায় জটিলতায় পড়েন।’

দৌলতখান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহিবুর রহমান জানান, অনেক অভিভাবক এখনও তাদের সন্তানের জন্মসনদ দিতে পারেনি। তাই তাদের সন্তানদের উপবৃত্তি আটকে গেছে। তার বিদ্যালয়েই এমন সংখ্যা শতাধিক।

দৌলতখান উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জানা যায়, উপজেলার ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ১৯ হাজার ৪৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৩৩ শিক্ষার্থী জন্মসনদ জমা দিতে না পারায় উপবৃত্তির টাকা দেয়া যায়নি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হোসেন জানান, ‘জন্মসনদের কারণে দৌলতখানে প্রাথমিকের সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন।’

আরও পড়ুন:
শিশুদের উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

সারা দেশ
Boda boat sinking death toll rises to 41

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩
বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নৌকার ৪৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়।

তিনি জানান, নৌকাডুবির ঘটনার দ্বিতীয় দিন দিনাজপুরের খানসামার আত্রাই নদীর জিয়া সেতুর নিচ থেকে ৮ জনের, বোদায় ৮ জনের ও দেবীগঞ্জে ২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, প্রায় ৪০ জন এখনও নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৫টায় দ্বিতীয় দিনের মতো নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রংপুর, কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী থেকে ডুবুরিদল এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস।

‘ঘটনাস্থল করতোয়ার আউলিয়ার ঘাট থেকে ৩০ কিলোমিটার ভাটির দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টহল দিচ্ছেন, নজর রাখছেন।’

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

এই প্রাণহানির জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) জহুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলে মারওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশ ছিল। তারা সবাই ওই নৌকায় এত লোক উঠতে নিষেধ করেছিলেন।

‘গতকাল বৃষ্টি হওয়ার কারণে নদীতে পানি বেশি ছিল, স্রোতও বেশি ছিল। নিষেধ করতে করতে সবাই উঠে যায়। যেহেতু ধর্মীয় বিষয় সবাই উঠতে চাইছিলেন। এরপর মাঝনদীতে গিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি।’

মৃত ৪৩ জনের মধ্যে ১২ জনই শিশু বলে জানান তিনি। আর ২২ জন নারী ও ৯ জন আছেন পুরুষ।

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩

নৌকার বেঁচে যাওয়া যাত্রী মাড়েয়া বামনপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র রায় বলেন, ‘নৌকায় দেড়শরও বেশি যাত্রী ছিল। আমরা উঠার পরপরই নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। এ সময় মানুষজন নৌকার মধ্যেই হুড়োহুড়ি শুরু করে।

‘যে পাশেই যাচ্ছিলাম, সে পাশেই নৌকায় পানি ঢুকছিল। আমরা ৫ বন্ধু ছিলাম। কোনোমতে সাঁতার কেটে প্রাণে বেঁচে যাই। অন্য যাত্রীরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি করছিল। ওই মুহূর্তের বর্ণনা করতে পারব না। তবে এত মানুষ মারা যাবে, তা বুঝতে পারিনি।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ঢাকা সদর দপ্তরের পরিচালক অপারেশন লেঃ কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পানিতে ডুবে থাকা যে কোনো মানুষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভেসে উঠবে। সে মোতাবেক ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পযর্ন্ত আমাদের অভিযান চলবে।’

এদিকে এই দুর্ঘটনা তদন্তে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথৈ আদিত্যকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ দুই শিশু
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, ৩ জন নিখোঁজ
নৌকাডুবির ৩ দিন পর মিলল শিশুর মরদেহ
গড়াই নদীতে নৌকাডুবি: নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে ডুবুরিদল

মন্তব্য

সারা দেশ
3 policemen were dismissed in the case of rape and video recording

ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণে চুরির মামলা নিয়ে বরখাস্ত ৩ পুলিশ

ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণে চুরির মামলা নিয়ে বরখাস্ত ৩ পুলিশ বাঙ্গরা বাজার থানা। ছবি: সংগৃহীত
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গর্ভবতী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও ধর্ষণের ঘটনায় গাফিলতির কারণে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তিন পুলিশ সদস্যক ক্লোজড করা হয়েছে।’

অভিযোগ ছিল, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চাপিতলা গ্রামে এক গর্ভবতী গৃহবধূকে ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। অথচ এ ঘটনাটিকে একটি চুরির মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুরাদনগর উপজলার বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি ইকবাল হোসেন।

সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই ওমর ফারুক, এএসআই আতাউর রহমান এবং কনস্টেবল মামুন।

নির্যাতিতার স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলার চাপিতলা গ্রামে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গৃহবধূর মা ও ছোট সন্তানকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয় দেয় ৮-১০ জনের একটি দল। পরে ওই গৃহবধূকে পাশের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে তারা।

এ সময় বিবস্ত্র অবস্থায় ভুক্তভোগীর ভিডিওচিত্রও ধারণ করে দলটি। শুধু তা-ই নয়, দুর্বৃত্তরা ওই গৃহবধূর গর্ভে থাকা সন্তানকে নষ্ট করতে পেটে লাথিও মারে।

এ ঘটনার পরদিন গত ১৬ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ করতে গেলে আসল ঘটনাকে আড়াল করে সাধারণ চুরির মামলা নিয়ে সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযাগ ওঠে ওই তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় রোববার বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই পুলিশ সদস্যদর বাঙ্গরা বাজার থানা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু
সাফজয়ী আঁখির বাড়িতে পুলিশ: এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত অর্ধশত
বিচারকের মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার জামিন
বিজিবি-রেল পুলিশের হাতাহাতির ঘটনা তদন্তে কমিটি

মন্তব্য

সারা দেশ
Controversial Name for Best Education Officer

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা পদক তালিকায় বিতর্কিত নাম

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা পদক তালিকায় বিতর্কিত নাম আবদুল আমিন। ছবি সংগৃহীত
সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে আবদুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করার বিষয়টি আমি অবগত নই। কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নওগাঁয় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২২ তালিকায় বিতর্কিত কর্মকর্তার নাম সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে।

বিতর্কিত ওই কর্মকর্তা আবদুল আমিন সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজিসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এরপরই তার নাম সুপারিশ করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই কমিটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যোগ্যজনই যেন পুরস্কার পান সে দাবি করেছেন জেলার সুধীজনরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ ক্যাটাগরিতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেয়া হয়। একটি নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, বিদ্যালয়, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ অবদান রাখায় সম্মানিত করা হয়।

২০১৩ সালে পদক নীতিমালা হওয়ার পর ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২১ সালে সংশোধন করা হয়। দেশের প্রতি জেলায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিতদের প্রতি বছর শিক্ষা পদক দিয়ে আসছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের আব্দুল আমিন ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে নওগাঁ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তার আগেও তিনি বিভিন্ন উপজেলায় একই পদে কর্মরত ছিলেন।

সদর উপজেলায় যোগ দেয়ার পর থেকেই তিনি নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ খাত থেকে উৎকোচ নিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

গত ২৪ এপ্রিল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সদর উপজেলার মঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান। তাৎক্ষণিক অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনও করেন জেলা প্রশাসক।

তবে অভিযোগের ৫ মাস পেরোলেও অজানা কারণে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা দেয়া হয়নি। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য থাকায় আমিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত পিছিয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।

এরইমধ্যে চলতি বছর জেলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক দিতে শ্রেষ্ঠ তালিকায় উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি আব্দুল আমিনের নাম সুপারিশ করে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানান।

মঙ্গলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান বলেন, ‘আব্দুল আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার পর থেকেই আমাকে শোকজসহ স্কুলে এসে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতার সুবাদে তিনি সব স্কুল থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করেন। প্রতিটা স্কুল থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেন। এ ছাড়া তিনি বদলি ব্যবসা করেন। এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকর্তা কোনভাবেই পদকে ভূষিত হতে পারেন না।’

সুপারিশের তালিকা থেকে বিতর্কিত এই কর্মকর্তার নাম বাদ দেয়ার পাশাপাশি তার অনিয়ম ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চান এই শিক্ষক।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আমিন বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ পদকের তালিকায় আমার নাম আছে এমন কথা আমিও শুনেছি। তবে বিষয়টি অফিস থেকে এখনো আমাকে জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ আমার যোগ্যতা দেখেই আমাকে পদক দেবেন। বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে চাঁদা আদায়সহ অন্য যেসব অভিযোগ, সেগুলো সঠিক নয়।’

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক নওগাঁ সদরের যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভিন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আব্দুল আমিনের চলতি বছরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল বলেই তার নাম সুপারিশ করে কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে এমন বিষয় আমার জানা ছিল না।’

কমিটির আরেক সদস্য সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে আবদুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করার বিষয়টি আমি অবগত নই। কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে নামটি আমাদের কাছে এসেছে। এখনো কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষায় যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন যোগ্যদেরকে মূল্যায়ন করেই পদক দেয়া হবে। শীঘ্রই তালিকাটি প্রকাশ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
যেখানেই যান, সেখানেই ‘ঘুষ-অনিয়মে’ সালাম

মন্তব্য

সারা দেশ
GD of Rangpur Mahanagar A League leader seeking security

নিরাপত্তা চেয়ে রংপুর মহানগর আ. লীগ নেতার জিডি

নিরাপত্তা চেয়ে রংপুর মহানগর আ. লীগ নেতার জিডি তুষার কান্তি মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত
‘জনসংযোগ করে এবং দলীয় কাজ শেষে বাসায় ফিরতে দেরি হয়ে যায়। কোনও কোনও সময় রাত ১টারও বেশি হয়ে যায়। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমার ওপর হামলা চালিয়ে জানমালের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।’

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল।

কোতয়ালী থানায় রোববার রাত ৯টার দিকে জিডি করেন তিনি।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জিডিতে তুষার কান্তি উল্লেখ করেছেন, ‘এর আগে জামায়াত-শিবির কর্মীরা আমার ওপর হামলা করেছে। চলতি বছরের শেষে রংপুর সিটি করপোরেশনে আমি আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

‘সেই আলোকে সিটি করপোরেশন এলাকার ১৯৬টি মৌজা, ৯৫২টি পাড়া ও ১৫০টি হাট বাজারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছি। বর্তমানে সিটি করপোরেশন এলাকায় নৌকার গণজোয়ার তৈরির পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত সুনাম তৈরি হয়েছে। এই গণজোয়ারে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।’

জিডিতে তিনি আরও বলেন, ‘জনসংযোগ করে এবং দলীয় কাজ শেষে বাসায় ফিরতে দেরি হয়ে যায়। কোনও কোনও সময় রাত ১টারও বেশি হয়ে যায়। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমার ওপর হামলা চালিয়ে জানমালের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।’

তুষার কান্তি মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রোববার রাতে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছি।’

ওসি মাহফুজার রহমান বলেন, ‘উনি নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতি নিরাপদ মনে করে আইএমএফ
বিশ্বে প্রবৃদ্ধি কমবে, বাংলাদেশে নয়: বিশ্বব্যাংক
চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭.২৫%: বিবিএস
আ.লীগ নেতাকে ‘রাজাকারপুত্র’ বলায় সা. সম্পাদকের নামে জিডি
ভারতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস

মন্তব্য

সারা দেশ
The irregularities seen by the doctor in the hospital did not change that much

হাসপাতালে চিকিৎসকের দেখে আসা অনিয়ম পাল্টায়নি এতটুকু

হাসপাতালে চিকিৎসকের দেখে আসা অনিয়ম পাল্টায়নি এতটুকু রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: নিউজবাংলা
সরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের পদে পদে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চিত্র তার মাকে ভর্তি করতে গিয়ে দেখে এসেছেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। নিজের কর্মস্থলে এই অনিয়ম নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু তাতে হাসপাতালের চিত্র পাল্টায়নি। ঊর্ধ্বগতি

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীদের পদে পদে যে হয়রানিতে পড়তে হয়, তার স্বরূপ দেখে এসে একজন চিকিৎসক লিখিত অভিযোগ করার পরেও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিত্র পাল্টায়নি এতটুকু। ওয়ার্ড বয়, নার্সদের ঘুষ না দিলে তাদের কাছ থেকে সেবা পাওয়া যায় না এখনও।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অর্থো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এবিএম রাশেদুল আমীর তার মাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়ে সেবার আসল চিত্র দেখে আসেন।

এরপর প্রথমে ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা লেখেন এই চিকিৎক। পরে আসার সে পোস্ট ডিলিটও করে দেন। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হৈচৈ পড়ে এবং রংপুরে আলোড়ন তৈরি হয়। এর কারণে বিভাগীয় শহরের এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এই ধরনের ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা নিয়মিত পড়েন।

চিকিৎসকের অভিযোগ পাওয়ার পর দুই চুক্তিভিক্তিক কর্মচারী মাসুদ ও ঝর্ণাকে বহিস্কার ছাড়াও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে, সেগুলো এখনও চছে সেই আগের মতোই।

গত দুই দিন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেছে।

সেই চিকিৎসক যা দেখে আসেন

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যালেরেই চিকিৎসক এবিএম রাশেদুল আমীরের মাকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান অন্য স্বজনরা। হাসপাতালে ভর্তি ফি ২৫ টাকা হলেও ১০ গুণ ২৫০ টাকা চাওয়া হয় তাদের কাছ থেকে।

স্বজনরা এরপর চিকিৎসকের পরিচয় জানালে তো নেমে আসে ৫০ টাকায়, তবু তা ছিল নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ।

ভর্তির পর রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউতে পাঠানো হলে সেখানেও দিতে হয় ২০০ টাকা নেয়। সেখানে স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় দেয়ার পর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

এর মধ্যে সেই চিকিৎসক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার মাকে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টেপে টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। ওই কর্মচারী নিজে মাসুদ নামে পরিচয় দেয়। আমি বিষয়টি একসময় ভিডিও করি। সেটি আমার ফেসবুকে পোস্ট করি।’

পরে সেই ভিডিও ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেন চিকিৎসক রাশেদুল আর লিখিত অভিযোগ দেন হাসপাতাল পরিচালকের কাছে।

এসব ঘটনায় যে হাসপাতালে নিজে চাকরি করেন, সেখানে মায়ের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে রিলিজ নিয়ে দেন তিনি। রোগী নিয়ে আসার সময় আবার চাওয়া হয়েছে টাকা, এবার আরও বেশি।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল বলেন, ‘হয়ত আমার অভিযোগ অনেকে নানাভাবে নিতে পারে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার যখন আমার মাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে চলে আসি তখনও ময়লা পরিষ্কার বাবদ আমার কাছে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক।’

পাঁচ দিন পর সেই একই চিত্র

চিকিৎসক রাশেদুলের হয়রানির পর কর্তৃপক্ষ আসলে কী করেছে, সেটি দেখতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার হাসপাতালের চিত্র পর্যবেক্ষণ করে নিউজবাংলা। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারনির্ধারিত ফির বাইরে টাকা না দিয়ে চিকিৎসা পাওয়ার কোনো সুযোগই নেই।

২১ দিন স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুর হাইল্যা গ্রামের রফিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার বিকালে হাসপাতাল ছাড়েন তিনি। এ সময় বিভিন্ন জনকে সাড়ে তিন শ টাকা বকশিস দিতে হয়েছে।

রফিকুল বলেন, ‘আমরা কেবিনে ছিলাম। সেখানে রুম পরিস্কারের জন্য ১০০, কাউকে দিতে হয়েছে ৫০, কাউকে দেড়শ।‘

কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকার তারা মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে লিটনকে শুক্রবার রাত ১০-১১ টার দিকে ভর্তি করাই। ভর্তির জন্য নিছে ১০০ টাকা, ঠেলাগাড়ির জন্য (ট্রলি) নিছে ২০০ ট্যাকা।’

বাড়তি টাকা দিয়ে রাগে গা জ্বলছে তার। বলেন, ‘এটা কোনো কথা হইল? ওমরা (তারা) কি বেতন ট্যাতন পায় না? আমারগুলের (আমাদের) ভরসায় থাকে...।’

লালমনিরহাটের সাহেব পাড়া গ্রামের আলী আকবর বলেন, ‘গত পরশু (বৃহস্পতিবার) আমার ভাইকে ভর্তি করেছি। ভর্তির জন্য নিছে ১০০ টাকা। আর ট্রলির জন্য নিয়েছে ১৫০ ট্যাকা। এটা কেন নেয় জানি না। প্রথমে কিছু বলে না। রোগী নিচ থেকে উপরে নিয়ে যাওয়ার পর বলে, মামা এত কষ্ট করলাম বকশিস দেন। পরে তাদের দিতে বাধ্য হই।’

তিনি জানান, প্রথমে ২০০ টাকা দাবি করছিল, তিনি দেন ১৫০।

রংপুরের তারাগঞ্জের সোহেল রানা বলেন, ‘২২ তারিখ আমার বোনকে ভর্তি করাইছি। ভর্তিতে নিছে ১০০ টাকা আর ট্রলির জন্য নিয়েছে ১২০ টাকা।’

প্রতিদিন কত আদায়, টাকা কারা নেন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন এই হাসপাতালে সর্বনিম্ম নতুন রোগী ভর্তি হয় ২৫০ জন। সর্বোচ্চ ৪৫০ জন ভর্তি হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩৭ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ভর্তি হয়েছেন ২৫৯ জন।

একেকজনের কাছে ভর্তিতে ৭৫ টাকা করে বাড়তি আদায় হলে ২২ সেপ্টেম্বর ২৫ হাজার ২৭৫ টাকা আর পরদিন ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা বাড়তি আদায় করা হয়।

যাদের ট্রলি বা হুইল চেয়ার লেগেছে, তাদের সবার কাছ থেকে বাড়তি আদায় করা হয়েছে অর্থ।

হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, এই বকশিস নিচ্ছেন মূলত চুক্তিভিক্তি কর্মচারী।

ওই কর্মচারী জানান, যখন কোন রোগী হাসপাতালে আসেন ভর্তি হতে আসেন, তখনই এই কর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে কী হয়েছে, বাড়ি কোথায়, কখন আসছেন ইত্যাদি ইত্যাদি বলতে থাকে। এভাবে ভর্তি শেষ করে যখন ১০০ টাকা চায়। অনেকে গরিব মানুষ দিতে চায় না। এ নিয়ে ঝামেলা হয়।

শনিবার হাসপাতালের মূল ফটকে কথা হয় এক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর সঙ্গে। তিনি নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘নাম বললে আমার চাকরি থাকবে না। আর চাকরি চলে গেলে আপনি নিয়েও দিতে পারবেন না। আমাদের সংসার চলবে কীভাবে? আমরা জোর করে কারও কাছে টাকা নেই না।’

তিনি বলেন, ‘আপনি বলেন, একজন রোগীকে ট্রলিতে করে নিচ তলা থেকে চার তলা পর্যন্ত নিয়ে যেতে কষ্ট আছে কি না...। আমরা চার তলায় হোক আর দোতলায় হোক, নিয়ে যাওয়ার পর বলি মামা বকসিশ দেন। এটা কি কোনো অপরাধ? কষ্ট করে তো টাকা নেই। জোর করে না।’

বিষয়টি জানতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (সরকারি) নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা সরকারি বেতন-বোনাস পাই। বকশিসের প্রয়োজন হয় না। চুক্তিভিত্তিক কিছু কর্মচারীরা এই কাজ করেন। দুর্নাম বা বদনাম হয় আমাদের।’

হাসপাতাল পরিচালক কী বলছেন

হাসপাতালে এই চিত্র কেন- জানতে চাইলে পরিচালক শরীফুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা আমার মতে ট্রেইনড না। হাসপাতালের সিস্টেম বা বিধি বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণে এ ধরনের কার্যক্রমে উৎসাহিত হচ্ছে। এই সিস্টেম থেকে আমরা বের হতে পারি এবং সরকারি কর্মচারীদের বিধি বিধান সেগুলো আছে, সেগুলো মানে তাহলে হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত হবে।’

এগুলো নিশ্চিত করাই তো আপনার দায়িত্ব- এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে পরিচালক বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদে কথা বলেছি। এখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে হাসপাতাল তীক্ষ্ণ তদারকি থাকবে। মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, চিকিৎসা সেবা পান সে বিষয়ে সবাইকে বলা হয়েছে।’

রোগী বা স্বজনদের অভিযোগ বা পরামর্শ জানানোর সুবিধার্থে একটি অভিযোগ বাক্স রাখার কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ কেউ অভিযোগ করলে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর মাধ্যমে সমাধান করা হবে।’

আরও পড়ুন:
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক
বন্ধ কক্ষে মিলল মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর মরদেহ

মন্তব্য

সারা দেশ
56 crore savings in work of 102 crore rupees

১০২ কোটি টাকার কাজে ৫৬ কোটি সাশ্রয়

১০২ কোটি টাকার কাজে ৫৬ কোটি সাশ্রয় নেত্রকোণা-কলমাকান্দা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা সাশ্রয় করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সড়ক উন্নয়নের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক দেখেন ১০২ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও মাত্র ৪৬ কোটি টাকায় ভূমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব। তিনি ওই ব্যয়ে ভূমি অধিগ্রহণ করায় এ কাজে ৫৬ কোটি টাকাই সাশ্রয় হয়।

নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে ১০২ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারের ৫৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। নেত্রকোণা-কলমাকান্দা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা সাশ্রয় করা হয়।

জেলা প্রশাসক জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উদ্যোগে নেত্রকোণার ঠাকুরাকোনা থেকে কলমাকান্দা সদর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে বছর চারেক ধরে। সড়ক উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ, সংস্কার ও ১১টি সেতু নির্মাণ বাবদ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় ধরা হয় ১০২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আর বাকি ২২৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয় সড়ক উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ ও সেতু নির্মাণের কাজে।

ইতোমধ্যে সড়কের ১১টি সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। করা হয়েছে সড়ক উন্নয়নের কাজও। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ না করার অজুহাতে সেতুগুলোর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ ও সড়ক প্রশস্তকরণের বেশ কিছু কাজ দীর্ঘদিন ধরে থেমে থাকায় প্রকল্পটির কাজ শেষ করা যাচ্ছিল না। আর এ কারণে অবসান হচ্ছিল না জনভোগান্তির।

সম্প্রতি নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে দ্রুত অধিগ্রহণের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু অধিগ্রহণের কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেন, অধিগ্রহণ বাবদ যে পরিমাণ টাকা বরাদ্দ আনা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত ভূমির দাম তার অধের্কেরও কম।

সন্দেহ দেখা দিলে তিনি ভূমি প্রশাসনের ১০ জন সার্ভেয়ারের মাধ্যমে একটি জরিপকাজ পরিচালনা করান। তাতে দেখা যায়, মাত্র ৪৬ কোটি টাকা হলেই ভূমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব। যথারীতি তিনি তাই করেন। ৪৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরে অধিগ্রহণের কাজ শেষ করেন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জমি বুঝিয়ে দেন।

জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগের কারণে ১০২ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণের কাজে ৫৬ কোটি টাকাই সাশ্রয় হয়।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ জানান, সাশ্রয় করা ৫৬ কোটি টাকা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা অধিগ্রহণ করা জমি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দিয়েছি। আশা করছি, তারা এখন দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্পটির কাজ শেষ করবে।’

এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শারিফ খান বলেন, ‘প্রকল্পটির প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছিল অনেক আগে। তখন জেলা প্রশাসনের মতামত নিয়েই ভূমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।’

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুজন) জেলা শাখার সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, ‘১০২ কোটি টাকার কাজে ৫৬ কোটি টাকা সাশ্রয় একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এতে প্রতীয়মান হয়, প্রকল্পটির প্রস্তাব তৈরির সময় যারা সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করেছিলেন, তারা ভুল করেছিলেন অথবা অনর্থক বেশি টাকা বরাদ্দ এনেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগের কারণে সরকারের এই বিপুল টাকা বেঁচে গেল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঠিকমতো মনিটর ও তদারিক করলে অনেক উন্নয়নকাজে এভাবে অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।’

আরও পড়ুন:
১৫ দিনেই স্থাপন সম্ভব, তবু পড়ে আছে ৯ মাস
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে আগুন!
উত্তরা লেক প্রকল্পের ব্যয় বাড়ল
সরকারি প্রকল্পের খরচ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে অপচয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মন্তব্য

সারা দেশ
Linguist Ranesh Maitra is no more

সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই

সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই রণেশ মৈত্র। ফাইল ছবি
১৯৩৩ সালের ৪ অক্টোবর রাজশাহী জেলার নহাটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রণেশ মৈত্র। পৈত্রিক বাসস্থান পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামে। ১৯৫১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল পত্রিকায় মাধ্যমেই তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু।

ভাষাসৈনিক, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবদিক রণেশ মৈত্র আর নেই।

সোমবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রণেশ মৈত্র পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রেসক্লাবের বর্তমানসাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর খবরে তার এক সন্তান অষ্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি পৌঁছানোর পর পারিবারিক সিদ্ধান্তে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

দেশবরেণ্য প্রবীণ সাংবদিক ও কলামিষ্ট রণেশ মৈত্রর খবর পাবনায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

১৯৩৩ সালের ৪ অক্টোবর রাজশাহী জেলার নহাটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রণেশ মৈত্র। পৈত্রিক বাসস্থান পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামে। ১৯৫১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল পত্রিকায় মাধ্যমেই তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু।

সর্বশেষ ১৯৯২ সালে দি নিউ নেশনের মফস্বল সম্পাদক হিসেবে যোগ দেয়ার পর ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দি ডেইলি স্টারের পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পরে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে দেশের শীর্ষ পত্রপত্রিকায় কলাম লিখে সারাদেশে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।

১৯৪৮ সালে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রণেশ মৈত্রের রাজনৈতিক জীবন। একই সময়ে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে জেল খেটেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
‘সাংবাদিকরা ভালো নেই’

মন্তব্য

p
উপরে