করোনা ইউনিটের ভিডিও করায় সাংবাদিক লাঞ্ছিত

করোনা ইউনিটের ভিডিও করায় সাংবাদিক লাঞ্ছিত

ক্যামেরাপারসনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় শের-ই- বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আতাউল্লাহর সঙ্গে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন যমুনা টিভির বরিশাল ব্যুরো প্রধান কাওছার হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

যমুনা টিভির বরিশাল ব্যুরো প্রধান কাওছার হোসেন বলেন, করোনা ইউনিটে আমরা শুধু রোগীদের নয়, চিকিৎসক ও নার্সদের যে ভোগান্তি হচ্ছে তা নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই ওই চিকিৎসক ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন। পরে ক্যামেরা ও বুম ফেরত দেয়া হয়। তবে ক্যামেরার সঙ্গে থাকা মেমোরি কার্ডটি খোয়া গেছে।

বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির ক্যামেরাপারসনকে লাঞ্ছিত এবং তার ক্যামেরা ও বুম আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

খবর শুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে এটিএন বাংলার ক্যামেরাপারসন আলাউদ্দিন এবং মোহনা টিভির ক্যামেরাপারসন মো. সুজনকে ধাওয়া করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

লাঞ্ছনার শিকার যমুনা টিভির ক্যামেরাপারসন আনিসুর রহমান বলেন, করোনা ইউনিটে রোগীদের নানা ভোগান্তিসহ চিকিৎসক ও নার্সদের যে সমস্যা হচ্ছে সেই সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন তৈরির জন্য যমুনা টিভির বরিশাল ব্যুরো প্রধান কাওছার হোসেনের সঙ্গে দুপুরে হাসপাতোলে যাই।

নিচ তলা ও দ্বিতীয় তলার ভিডিও করা শেষে তৃতীয় তলায় কাজ করার সময় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক এ এইচ এম আতাউল্লাহ ভিডিও করতে নিষেধ করেন। তখন আমরা ক্যামেরা অফ করে দেই।

এরপর ডা. আতাউল্লাহ বিষয়টি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান শাহীনকে জানালে তিনি ক্যামেরা আটকে রাখতে বলেন। এরপর তারা আমাকে লাঞ্ছিত করেন এবং একপর্যায়ে বুম ও ক্যামেরা রেখে দেন ডা. আতাউল্লাহ।

যমুনা টিভির বরিশাল ব্যুরো প্রধান কাওছার হোসেন বলেন, করোনা ইউনিটে আমরা শুধু রোগীদের নয়, চিকিৎসক ও নার্সদের যে ভোগান্তি হচ্ছে তা নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই ওই চিকিৎসক ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন। পরে ক্যামেরা ও বুম ফেরত দেয়া হয়। তবে ক্যামেরার সঙ্গে থাকা মেমোরি কার্ডটি খোয়া গেছে। হাসপাতালের পরিচালক অবশ্য ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে এটিএন বাংলার ক্যামেরাপারসন আলাউদ্দিন ও মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন সুজন বলেন, আনিসুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার খবর শুনে তারা ঘটনাস্থলে গেলে ওই চিকিৎসক করোনা ইউনিটের নিচে এসে তাদের ধাওয়া করেন।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগীদের ভোগান্তির চিত্র সংবলিত রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ায় স্থানীয় সাংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম কড়া ভাষায় সতর্ক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এতে গণমাধ্যমের উপর ক্ষুব্ধ ছিল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান শাহীন। আর সেই ক্ষোভ থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা সূত্রটির।

এই বিষয়ে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে। আমি সবার পক্ষ হয়ে ক্ষমা চেয়েছি। নানা চিন্তায় মাথা ঠিক ছিল না।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটনাটি ঘটেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাগরে জেলেদের সংঘর্ষে প্রাণহানি

সাগরে জেলেদের সংঘর্ষে প্রাণহানি

খানখানাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন জানান, সাগরে মাছ ধরা নিয়ে আনোয়ারার গহিরা এলাকার ও বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়ায় এতে থাকা পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক জেলে নিহত হয়েছেন। সাগরে ডুবে নিখোঁজ আরও পাঁচ জেলে।

বঙ্গোপসাগরের বাঁশখালীর খানখানাবাদ অংশে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছির উদ্দিনের বাড়ি খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদম রসুল এলাকায়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, সাগরে মাছ ধরা নিয়ে আনোয়ারার গহিরা এলাকার ও বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়ায় এতে থাকা পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

নিহত নাছিরের মরদেহ তীরে আনতেও বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির বলেন, ‘সংঘর্ষে বোট ডুবে এক জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছি। এখনও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারিনি।’

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য পেয়েছে পিবিআই

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য পেয়েছে পিবিআই

স্ত্রী মিতু নিহতের পর এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবুল আক্তার। ফাইল ছবি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে গায়ত্রীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এজন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ প্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে গায়ত্রীর বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পক্ষ থেকে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি, যা মামলার তদন্ত কাজকে এগিয়ে নেবে। তবে গায়ত্রী বর্তমানে কোথায় আছেন সেটি নিয়ে আমাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি।’

২৩ মে গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি দিয়েছিল পিবিআই। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ওই চিঠির উত্তর পায় সংস্থাটি।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে গায়ত্রীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এজন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ প্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে গায়ত্রীর বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

এর আগে বাবলুকে দেয়া গায়ত্রীর দুটি বই ফরেনসিক পরীক্ষার কথা জানিয়েছে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বই ল্যাবে পাঠানোর জন্য শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বই দুটি আমরা জব্দ করেছি। এগুলোতে কিছু লিখিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো পরকীয়ার সম্পর্ক নির্দেশ করে। মামলার তদন্তের স্বার্থে বই দুটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এজন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। আমরা শিগগিরই পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করব।’

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের সঙ্গে গায়ত্রীর পরকীয়া ছিল বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকার সময় ২০১৩ সালে ইউএনএইচসিআরের কর্মীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বাবুল। এ নিয়ে মিতুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বাবুলের। মিতুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনও করেন বাবুল।

২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে ছিলেন বাবুল। এসময় বাবুলের মোবাইল ফোনটি চট্টগ্রামের বাসায় ছিল। ওই মোবাইল ফোনে মোট ২৯ বার ম্যাসেজ দেন বাবুলের কথিত প্রেমিকা।

পিবিআই কর্মকর্তা জানান, বাবুলকে উপহার দেয়া গায়ত্রীর একটি বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে ‘05/10/13, Coxs Bazar, Bangladesh. Hope the memory of me offering you this personal gist. shall eternalize our wonderful bond, love you..’

শেষ পৃষ্ঠায় বাবুল আক্তার নিজের হাতে ইংরেজিতে তার কথিত প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা লেখেন।

তিনি লিখেছেন (বাবুল) ‘First Meet: 11 Sep, 2013, First Beach walk 8th Oct 2013, G Birth day 10 October, First kissed 05 October 2013, Temple Ramu Prayed together, 13 October 2013, Ramu Rubber Garden Chakaria night beach walk.’

এজাহারে বলা হয়েছে, এই পরকীয়া প্রেমের কারণে বাবুল-মিতুর দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছে। মিতু বাবুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় ।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

শেয়ার করুন

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে ১ ছাত্রের মৃত্যু, অসুস্থ ১৭

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে ১ ছাত্রের মৃত্যু, অসুস্থ ১৭

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি দুই ছাত্র। ছবি: নিউজবাংলা

অসুস্থ ছাত্ররা জানায়, দুপুরের দিকে মাদ্রাসায় ছাগলের মাংস রান্না হয়। দুপুরে আবাসিক বিভাগের ২০ ছাত্র ওই মাংস দিয়ে ভাত খায়। এশার নামাজের পর একই মাংস দিয়ে ১৮ ছাত্র রাতের খাবার খায়। ওই সময় মাংসে কিছুটা উটকো গন্ধ ছিল। মাংস মুখে নেয়ার পর মুখ অনেকটা তেতো হয়ে যায় এবং মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে মাদ্রাসায় খাবার খেয়ে নিশান নূর হাদী নামের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

অসুস্থ আরও ১৬ ছাত্রকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিফাত হোসেন নামে এক ছাত্রকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

সোমবার রাতে উপজেলার পূর্ব একলাশপুর গ্রামের মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্স ও এতিমখানায় ছাত্ররা রাতের খাবার খাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে।

মৃত নিশান উপজেলার পূর্ব একলাশপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। সে ওই মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ওই খাবারে বিষ মেশানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অসুস্থ ছাত্রদের স্বজনরা। এ অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে নিশানের চাচা আহসান উল্যাহ বেগমগঞ্জ থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ ওই মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক, তিন শিক্ষক ও কমিটির দুই সদস্যকে আটক করেছে।

আটক ছয়জন হলেন সোনাইমুড়ী উপজেলার ঘোষকামতা গ্রামের হাফেজ মো. দাউদ ইব্রাহীম, সুবর্ণচর উপজেলার মাওলানা মাইনুদ্দীন, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মাওলানা জহিরুল ইসলাম, হাতিয়া উপজেলার চর কৈলাশ গ্রামের হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান হাসান, বেগমগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামের হাফেজ বেলাল হোসাইন ও বেগমগঞ্জ পূর্ব একলাশপুর গ্রামের হাফেজ মো. ইসমাঈল।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মোজ্জামেল হোসেন, পারভেজ, আবদুর রহিম, আশিক, মেহেরাজ, শান্ত ও নুর হাসানসহ ১৬ ছাত্র জানায়, সোমবার দুপুরের দিকে মাদ্রাসায় ছাগলের মাংস রান্না হয়। দুপুরে আবাসিক বিভাগের ২০ ছাত্র ওই মাংস দিয়ে ভাত খায়। তখন মাংসে ঝোল কম ছিল।

এশার নামাজের পর একই মাংস দিয়ে ১৮ ছাত্র রাতের খাবার খায়। রাতে মাংসে ঝোল ছিল। এ ছাড়া মাংসে কিছুটা উটকো গন্ধ ছিল। মাংস মুখে নেয়ার পর মুখ অনেকটা তেতো হয়ে যায় এবং মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের সবারই পেটে ব্যথা ও বমি শুরু হয়।

মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে ১ ছাত্রের মৃত্যু, অসুস্থ ১৭

মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক হাফেজ মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ছাত্রদের অসুস্থতার কথা শুনে স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসককে মাদ্রাসায় ডেকে আনা হয়। তিনি অসুস্থ ছাত্রদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এর মধ্যে অসুস্থ ছাত্র নিশানের মৃত্যু হয়। পরে দ্রুত অন্য ছাত্রদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, তাদের মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে প্রতিদিন ৭০ জন ছাত্র খাবার খায়। রাতে ১৮ জন খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের আর ওই খাবার দেয়া হয়নি।

ফেরদৌসী আক্তার, আমির হোসেনসহ হাসপাতালে উপস্থিত ছাত্রদের অভিভাবকরা জানান, এর আগে ওই মাদ্রাসায় বাচ্চাদের খাবারে এ ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। দুপুরেও একই খাবার খেয়েছে বাচ্চারা, তখনও কোনো সমস্যা হয়নি।

তারা অভিযোগ করেন, রাতে খাবারের সঙ্গে কেউ বিষাক্ত কোনো দ্রব্য মিশিয়ে দিয়েছে, না হলে একসঙ্গে খাবার খাওয়া সব বাচ্চার এ সমস্যা হতো না।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তারা।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম জানান, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে ছাত্ররা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অসুস্থদের মধ্যে নিশানকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ১৭ ছাত্রের মধ্যে রিফাত হোসেন নামে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ১৬ জনের অবস্থা উন্নতির দিকে। তবে শঙ্কামুক্ত কি না, ২৪ ঘণ্টার আগে তা বলা যাচ্ছে না।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাতের ওই খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিশানের চাচার করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার জানান, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

শেয়ার করুন

‘ওভারটেক করতে গিয়ে’ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

‘ওভারটেক করতে গিয়ে’ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাকি মোটরসাইকেলে কুমিল্লা সেনানিবাসের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে ময়নামতির রাফি উল্লাহর মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়।

কুমিল্লায় একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবপুর এলাকায় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকি চন্দ্র সিংহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক। তার বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর এলাকার চৌকিদারি বাড়ি এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাকি মোটরসাইকেলে কুমিল্লা সেনানিবাসের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে ময়নামতির রাফি উল্লাহর মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়।

‘ওভারটেক করতে গিয়ে’ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ময়নামতি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রাকির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাফিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী হাসান উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, তিনি খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান। বিষয়টি যেহেতু হাইওয়ে পুলিশের, তাই তাদের খবর দেয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুর রশিদ জানান, মোটরসাইকেল দুটি ফাঁড়িতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

শেয়ার করুন

‘অক্সিজেনের জন্য হাসপাতালে হাহাকার’, বাইরে বিক্ষোভ

‘অক্সিজেনের জন্য হাসপাতালে হাহাকার’, বাইরে বিক্ষোভ

করোনা ইউনিটে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের দাবিতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছে বাসদ। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে ডা. মনীষা বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের অভাবে রোগীদের মধ্যে হাহাকার চলছে। একটি সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের অভাবে রোগীদের মধ্যে হাহাকার চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

করোনা ইউনিটে শিগগির নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহের দাবিতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছে বাসদ।

করোনা ইউনিটের সামনে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিক্ষোভ শেষে সমাবেশ করে বাসদের বরিশাল জেলা শাখা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা বাসদের আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন। বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা শাখার সদস্য রিতা ব্যাপারীসহ রোগীদের স্বজনরা।

সমাবেশে ডা. মনীষা বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের অভাবে রোগীদের মধ্যে হাহাকার চলছে। হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট চালু না হওয়ায় রিফিল করতে অনেক সময় লাগছে। ১টি সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য রোগীদের ৬ থেকে ৭ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বরিশালে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পেছনে অক্সিজেনের এই সংকট অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহসহ কেন্দ্রীয় প্লান্ট স্থাপন করে রোগীদের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দেন তিনি।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল হাসপাতালের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

শেয়ার করুন

ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর, ঠিকাদার কারাগারে

ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর, ঠিকাদার কারাগারে

পটুয়াখালীতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে মারধরের মামলায় রাহাত চৌধুরী নামের এক ঠিকাদারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

গলাচিপা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম কবির জানান, রাহাত চৌধুরী এর আগেও ২০১৫ সালে গলাচিপা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকেও (বর্তমানে অবসরে) লাঞ্ছিত করেছিলেন। তার বাবা প্রভাবশালী হওয়ায় ওই সময় ঘটনা আপস-মীমাংসা হয়েছিল।

পটুয়াখালীতে ঋণ না দেয়ায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে মারধরের মামলায় কারাগারে গেলেন এক ঠিকাদার।

মঙ্গলবার পটুয়াখালীর গলাচিপার বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক ঠিকাদার আবদুল্লাহ আল মামুন রাহাত চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ারুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অগ্রণী ব্যাংকের গলাচিপা শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও ব্যবস্থাপক নাজমুল হাসানকে মারধর করেন ঠিকাদার রাহাত চৌধুরী। ওই দিন বিকেলে আপস-মীমাংসার কথা বলে ব্যাংকে ডেকে এনে গলাচিপা থানার পুলিশ রাহাত চৌধুরীকে আটক করে। রাতে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন নাজমুল হাসান।

মামলার বরাত দিয়ে নাজমুল হাসান জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার ব্যবসায়ী মেসার্স চৌধুরী ট্রেড লিংকের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাহাত চৌধুরী ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কক্ষে ঢোকেন। এ সময় তিনি আগের করা ৬০ লাখ টাকার ঋণের পর আরও ৪০ লাখ টাকা বর্ধিত ঋণ না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হন।

তিনি আরও জানান, রাহাত চৌধুরীর আগের ৬০ লাখ টাকা ঋণের পর আরও ৪০ লাখ টাকার বাড়তি যে ঋণ নিতে চান, তা তার জামানতে ঋণের আওতাবহির্ভূত। এ কথা শুনে রাহাত চৌধুরী শাখা ব্যবস্থাপক নাজমুলের জামার কলার ধরে মারধর করে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে পেপার ওয়েট দিয়ে টেবিলের গ্লাস ভাঙচুর ও কাগজপত্র নষ্ট করেন। এ সময় ব্যবস্থাপকের চিৎকার শুনে ব্যাংকের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরে গলাচিপা থানার পুলিশ ব্যাংক পরিদর্শন করে। এর আগেই রাহাত চৌধুরী সেখান থেকে পালিয়ে যান।

গলাচিপা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম কবির জানান, বেলা ৩টার দিকে আপস-মীমাংসার কথা বলে রাহাত চৌধুরী ওই ব্যাংকে গেলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি জানান, রাহাত চৌধুরী এর আগেও ২০১৫ সালে গলাচিপা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকেও (বর্তমানে অবসরে) লাঞ্ছিত করেছিলেন। তার বাবা প্রভাবশালী হওয়ায় ওই সময় ঘটনা আপস-মীমাংসা হয়েছিল।

গলাচিপা থানার ওসি জানান, মারধরের ঘটনায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নাজমুল হাসান মামলা করেছেন। ওই মামলায় রাহাত চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে গলাচিপা বিচারিক হাকিম আদালতে নেয়া হয়। বিচারক শান্তনু কুমার মণ্ডল জামিনের আবেদন বাতিল করে তাকে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শেয়ার করুন

‘রাজবাড়ী শহর বিলীন হলে দায় নেবে কে’

‘রাজবাড়ী শহর বিলীন হলে দায় নেবে কে’

রাজবাড়ীতে পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরীর সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় রাজবাড়ী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক বিশ্বাস বলেন, ‘যদি এরই মধ্যে রাজবাড়ী শহর ভেঙে যায়, এর দায় নেবে কে?’

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর বহুমুখী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভয়াবহ ভাঙনে মুহূর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী রক্ষায় ব্যবহৃত হাজার হাজার ব্লক।

ভাঙতে ভাঙতে রাজবাড়ী শহর পদ্মায় বিলীন হয়ে গেলে দায় কে নেবে- এমন প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক বিশ্বাস।

দফায় দফায় ভাঙনে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি বিরাজ করছে আতঙ্ক।

মঙ্গলবার সকালে পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘রাজবাড়ী শহর রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’

তার সঙ্গে ছিলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক বিশ্বাসসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম ও আব্দুল আহাদ।

প্রকৌশলীদের সঙ্গে পরামর্শ করে এমপি সালমা বলেন, ‘নদীভাঙন প্রতিরোধে আমরা সতর্ক আছি।’

উপজেলা চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক বিশ্বাস এ সময় বলেন, ‘যদি এরই মধ্যে রাজবাড়ী শহর ভেঙে যায়, এর দায় কে নেবে।’

এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ আস্থা নিয়ে বলছি, সেটা হতে দেব না। নদীর গতিবিধি, মাটির ধরন সবকিছু পরীক্ষা করেই প্রকল্প তৈরি এবং বাজেট করা হয়।’

এই প্রকল্পে কি সেটা মানা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রকল্প ২০১৭ সালের, ২০২১ সালে নদীর অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এরই মধ্যেই আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবগত করেছি।’

রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ জানান, ২০১৮ সালে ৩৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার তীর সংরক্ষণে সাড়ে চার কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজটি খুলনা শিপইয়ার্ড পেলেও তারা ডিবিএল নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করে। ২০২০ সালে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে সম্ভব হয়নি।

এরই মধ্যে ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ।

নদীর প্রকৃতি ও আচরণে সিমেন্টের ব্লক, জিও ব্যাগ কোনো কাজে আসবে না বলে জানান অনেকে।

স্থানীয় লোকজন জানান, যদি বালির বস্তা ফেলেই নদীর তীর রক্ষা করা হয়, তাহলে এত টাকার প্রজেক্টের কী দরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, নদীর গভীরতা অনুসারে সাইড ওয়াল হয়নি। ব্লক ডাম্পিং যে অনুসারে করা হয়, সেটা হলে এই ভাঙন হতো না। প্রয়োজন ছিল ঘূর্ণায়মান এলাকায় স্পার্ক করে বড় ব্লক দেয়া।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর রক্ষা বাঁধের কাজে ত্রুটি রয়েছে। ফলে গোদার বাজারের একটু উজানে নদীর ডান তীর প্রতিরক্ষা কাজের ব্লক দুই মাস না যেতেই ধসে গেছে।

তারা আরও জানান, যেভাবে ধস শুরু হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা দ্রুত সংস্কার না করা হলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। রাজবাড়ী শহর পড়বে হুমকির মুখে।

শেয়ার করুন