এক ভবনে পোশাক কারখানার দুই গুদামে আগুন নিয়ে রহস্য

এক ভবনে পোশাক কারখানার দুই গুদামে আগুন নিয়ে রহস্য

ফায়ার সার্ভিস বলছে, সাত তলার ছাদে থাকা গুদামের আগুন তারা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এর পরেই হঠাৎ নিচতলার গুদাম কক্ষে সব পুড়ে যায়, যা রহস্যজনক।

ঢাকার সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানা ভবনে দুটি গুদামে আগুনের ঘটনায় রহস্য দেখছে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক ও ফায়ার সার্ভিস।

কারখানার সাত তলার গুদামে আগুন নিভতে না নিভতে মাঝের ছয় তলা অক্ষত থাকা অবস্থায় নিচ তলার গুদামে সব কিছু পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আগামী ১৩ এপ্রিল কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা রয়েছে। এর আগে আগুন লাগার পর তাদের মধ্যে ধারণা জন্মেছে মালিকপক্ষ ক্ষতি দেখিয়ে বেতন পরিশোধ না করার অজুহাত দেখাতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, সাত তলার ছাদে থাকা গুদামের আগুন তারা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এর পরেই হঠাৎ নিচতলার গুদাম কক্ষে সব পুড়ে যায়, যা রহস্যজনক।

শনিবার ভোরে জিরাবো এলাকার সিলভার অ্যাপারেলস লিমিটেডে আগুনের খবর পেয়ে পৌনে ছয়টায় ফায়ার ইউনিট কারখানায় পৌঁছায়। কারখানার সাত তলায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ছয়টি ইউনিট।

মূলত কারখানা কর্তৃপক্ষ সাত তলার ছাদে টিনশেডের মাধ্যমে এই গুদাম তৈরি করেছে। চার হাজার বর্গফুটের গুদামটির এক পাশে অল্প পরিসরে ছিল ক্যান্টিন।

ছাদের আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘণ্টাখানেক কাজ করার পরেই নিচতলার গুদামে আবার আগুন লাগে বলে জানায় কারখানার লোকজন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দুই হাজার বর্গফুটের এই গুদামের আগুনও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আগুনের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

কারখানাটির অপারেটর মমিন শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাগো বেতন দেয়ার কথা আছিল ১০ তারিখ। এখন আমাগো বেতন দেয়ার কথা ১৩ তারিখ। আইজকা ফ্যাক্টরির এই অবস্থা, এখন আমাগো তো বেতন দিব না। ক্ষতি হইছে মনে করেন অল্প। কিন্তু বিশাল আকারে ক্ষতি দেখায়া বেতন না দিয়া গেটে তালা দিয়া দিব।

‘প্রত্যেক মাসে আগে সেলারি দিত ১৫ তারিখ। তারপর আমরা বলেকয়ে ১০ তারিখ আনছি। এখন বেতন না পাইলে আমাগো মনে করেন থালা-বাটি নিয়া পথে নামতে হইব।’

শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা স্বাধীন বাংলা গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের আশুলিয়া শাখার সভাপতি আল কামরান বলেন, ‘আজকের আগুনের চিত্রটা একটু ভিন্ন ধরনের। আগুন লাগার খবরে আমরা সকাল থেকেই কারখানার সামনে। আমাদের একটা প্রশ্ন আগুনটা লাগল উপরে। সেই আগুনটা কীভাবে আবার নিচে চলে আসল?

‘এই কারখানায় অনেক শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে। আর যেহেতু করোনা আর শ্রমিকদের বেতন সংশ্লিষ্ট বিষয়, তাই অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, এটা তদন্ত করে দেখা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের সিলভার গ্যালারি নামে আরেকটি কারখানা আছে। ওই কারখানাটায় আগামী ১২ এপ্রিল বেতন দেয়ার কথা। কিন্তু ওই কারখানাটি কিন্তু তারা ইতোমধ্যেই ক্লোজ করছে।’

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাত তলা বিল্ডিংয়ের উপরে তারা এক শেড করছে। চার হাজার স্কয়ার ফুটের কিছু অংশ খালি ছিল। এর মধ্যে কিছু অংশে গার্মেন্টের মালপত্র রাখত। আর কিছু অংশে ওয়ার্কারদের খাওয়ার ক্যান্টিন। আর নিচতলার দুই হাজার স্কয়ার ফুটের গুদামে মালপত্র রাখা ছিল। কিছু ফেব্রিকস রাখা ছিল সেগুলো পুড়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রথমে সাত তলায় আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলাম। এক ঘণ্টা পর নিচতলার ওয়্যারহাউজ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল প্রচুর। তখন দেখলাম যে, সেখানেও আগুন। তখন আমি একটু বিপদেই পড়েছিলাম।’

সাত তলা থেকে আগুন কীভাবে নিচতলায় ছড়ালো এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ড্রাক লাইনগুলোর ফাঁক দিয়ে (ইলেকট্রিক্যাল লাইন) আগুন নিচতলায় আসতে পারে। তবে আমরা তদন্ত করে বুঝতে পারব কিসের কারণে। এটা আপাতত নিশ্চিত না। কী কারণে আগুনটা লাগছে সেটা আমিও স্পেসিফিক বলতে পারতেছি না। এটার একটা তদন্ত কমিটি হবে অবশ্যই।

‘যদি এরা (কারখানা কর্তৃপক্ষ) আবেদন করে তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি হবে। আর তারা না করলে সেটা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ডিসিশন নেবে।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে মো. লিটন নামে কারখানাটির এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

তবে কারখানার ডিএমডি এস এম শাহজামান রওশন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে। উপরে প্রায় ১৫-২০ লাখ পিস মাল ছিল কাটিং করা। কোনো লোকজন কারখানায় ছিল না। তাই কেউ আহত হয়নি। আমরাও ইনভেস্টিগেশন করতেছি।’

নাশকতা বা পরিকল্পিত কি না এমন প্রশ্নে বলেন, ‘আমি কখনই এটা মনে করি না। তারপরও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কী কারণে কীভাবে হইছে আমি বুঝতে পারব। ইলেকট্রিক লাইন থেকেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।’

আরও পড়ুন:
বহুতল ভবনে পোশাক কারখানায় আগুন
গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৩ বাস
রেলসেতুর স্লিপারে আগুনের রহস্য কী?
আগুনে পুড়ল পোশাক কারখানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মজুত শেষ, সিলেটে টিকা দেয়া বন্ধ

মজুত শেষ, সিলেটে টিকা দেয়া বন্ধ

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মজয় দত্ত বলেন, সিলেটে টিকার মজুত ফুরিয়ে গেছে। গত বুধবার থেকে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন করে টিকা এলে আবার টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।

সিলেটে ফুরিয়ে গেছে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন-কোভিশিল্ডের মজুত। ঈদের দুদিন আগ থেকেই সিলেট জেলায় টিকা দেয়া বন্ধ রয়েছে। টিকাদান বন্ধ রয়েছে সুনামগঞ্জেও। তবে সিলেট বিভাগের অন্য দুই জেলা মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে সামান্য পরিমাণ মজুত রয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টিকার মজুত শেষ হয়ে আসায় ঈদের দুই দিন আগে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন এ রকম প্রতিদিন যদি ১ হাজারের বেশি মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়, তাহলে আগামী ২ দিনের মধ্যে মজুত শেষ হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, রোববার টিকা কেন্দ্রে উপস্থিত সব গ্রহীতাকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়নি। দেশে নতুন করে টিকা না আসা পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের জন্য নিবন্ধিতদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মজয় দত্ত বলেন, সিলেটে টিকার মজুত ফুরিয়ে গেছে। গত বুধবার থেকে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন করে টিকা এলে আবার টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।

তবে কিছু টিকা এখনও মজুত রয়েছে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ নিউজবাংলাকে বলেন, এখনও ৩৬০ ভায়াল করোনার টিকা হাতে রয়েছে, যা দিয়ে আরও ৩-৪ দিন চলবে।

হবিগঞ্জে রোববার পর্যন্ত টিকার মজুত ছিল ৬০৮ ভায়াল অর্থাৎ ৬ হাজার ৮০ ডোজ।

মজুত টিকায় আরও এক সপ্তাহ চলবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন কেএম মুস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, দ্বিতীয় দফায় হবিগঞ্জে টিকা এসেছিল ৩৬ হাজার ডোজ। এ ছাড়া সিলেট থেকে আনা হয় ৪ হাজার ডোজ।

অপরদিকে, সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন জানান, সুনামগঞ্জে ৫০০-৬০০ ভায়ালের মতো টিকা মজুত রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় মজুত সামান্য হওয়ায় বর্তমানে টিকা প্রদান বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি ভায়ালে ১০টি করে ডোজ থাকে।

করোনা টিকার সংকটের কারণে গত ২৬ এপ্রিল ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাংলাদেশে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট গত মার্চে বাংলাদেশে ভ্যাকসিনটির চালান বন্ধ করে দেয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি থেকে দুই চালান ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসে।

আরও পড়ুন:
বহুতল ভবনে পোশাক কারখানায় আগুন
গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৩ বাস
রেলসেতুর স্লিপারে আগুনের রহস্য কী?
আগুনে পুড়ল পোশাক কারখানা

শেয়ার করুন

বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী

বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী

ইউএনও সোহেল রানা জানান, প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে মেয়ের বাবাসহ আত্মীয় স্বজন পালিয়ে যান। এ সময় কিশোরীর মায়ের কাছ থেকে সবার সামনে ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে দশম শ্রেণিতে পড়া এক কিশোরী।

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের ব্যাস্তপুর গ্রামে রোববার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন ইউএনও সোহেল রানা।

ইউএনও জানান, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বাল্যবিবাহের খবর পান তিনি। ব্যাস্তপুর গ্রামে ওই কিশোরীর পরিবার একই ইউনিয়নের বারোমারা গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ের আয়োজন করে। তিনি দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পপি রানী তালুকদার ও পুলিশ নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির হন।

সোহেল রানা জানান, প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে মেয়ের বাবাসহ আত্মীয় স্বজন পালিয়ে যান। এ সময় কিশোরীর মায়ের কাছ থেকে সবার সামনে ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
বহুতল ভবনে পোশাক কারখানায় আগুন
গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৩ বাস
রেলসেতুর স্লিপারে আগুনের রহস্য কী?
আগুনে পুড়ল পোশাক কারখানা

শেয়ার করুন

নামাজ পড়ে শিশুরা পেল সাইকেল উপহার

নামাজ পড়ে শিশুরা পেল সাইকেল উপহার

চরফ্যাশনে টানা ৪০দিন জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে উপহার হিসেবে ৪০ শিশু পেয়েছে বাইসাইকেল। ছবি: নিউজবাংলা

ভোলার চরফ্যাশনে শিশুদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরস্কারের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক রতন। তার এ ঘোষণায় উৎসাহিত হয়ে এলাকার অনেক শিশু নামাজ পড়তে শুরু করে।

টানা ৪০ দিন জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে উপহার হিসেবে ৪০ শিশু পেয়েছে বাইসাইকেল।

ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভার করিমজান মহিলা মাদ্রাসামাঠে রোববার বিকেলে তাদের এই উপহার দেয়া হয়।

শিশুদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরস্কারের ঘোষণা দেন চরফ্যাশনের ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক রতন। তার এ ঘোষণায় উৎসাহিত হয়ে এলাকার অনেক শিশু-কিশোর নামাজ পড়তে শুরু করে।

টানা ৪০ দিন নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়া ৪০ শিশুকে পুরস্কারের সাইকেল দেন ওবায়দুল।

এ সময় ওবায়দুল বলেন, ঘোষণার পর থেকে শতাধিক শিশু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়া শুরু করে। প্রতি ওয়াক্তে তাদের হিসাব রাখা হয়।

যাচাই বাছাই শেষে ২ রাউন্ডে ৪০ শিশুকে ৪০টি বাইসাইকেল উপহার দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বহুতল ভবনে পোশাক কারখানায় আগুন
গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৩ বাস
রেলসেতুর স্লিপারে আগুনের রহস্য কী?
আগুনে পুড়ল পোশাক কারখানা

শেয়ার করুন

জমি নিয়ে বিরোধ, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ‘হত্যা’

জমি নিয়ে বিরোধ, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ‘হত্যা’

নিহত ফজলুর ছেলে গিয়াস তরফদার বলেন, ‘দেলোয়ার গাজীর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিকেলে দেলোয়ার গাজী, আব্দুল্লাহ গাজী ও তাদের সহযোগীদের হামলায় আমার বাবা মারা যান।’

বাগেরহাট সদরে জমি নিয়ে সংঘর্ষে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ফজলু তরফদার নামে একজনকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলার ডেমা মিঠাপুকুর দক্ষিণপাড় এলাকায় রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ফজলু ডেমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার ডেমা গ্রামে বিকেলে ৬০ বছর বয়সী ফজলু তরফদার বিরোধপূর্ণ জমিতে গাছের তালশাঁস কাটতে যান। এ সময় প্রতিবেশী দেলোয়ার গাজী বাধা দিলে দুই জনের মধ্যে মারপিট হয়। ফজলুর দায়ের কোপে দেলোয়ার আহত হন। খবর পেয়ে দেলোয়ারের লোকজন এসে ফজলুর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। পরিবারের লোকজন ফজলুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দেলোয়ার গাজীর অবস্থাও আশংকাজনক বলে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছে।

ফজলুর ছেলে গিয়াস তরফদার বলেন, ‘দেলোয়ার গাজীর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। আমার বাবা জমির একটি তালগাছের তালশাঁস কাটতে গেলে দেলোয়ার গাজী ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ গাজীসহ কয়েকজন বাধা দেয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে দেলোয়ার গাজী, আব্দুল্লাহ গাজী ও তাদের সহযোগীদের হামলায় আমার বাবা মারা যান।’

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর শাফিন মাহামুদ জানান, ডেমা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ফজলু তরফদার নিহত হন। এ সময় আহত দেলোয়ার গাজীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বহুতল ভবনে পোশাক কারখানায় আগুন
গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৩ বাস
রেলসেতুর স্লিপারে আগুনের রহস্য কী?
আগুনে পুড়ল পোশাক কারখানা

শেয়ার করুন

সৈকতে হাজারো মানুষ

সৈকতে হাজারো মানুষ

কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী, হিমছড়ি ও দরিয়া নগর পয়েন্টে দেখা গেছে হাজারো মানুষ। মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না তারা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ।

প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও ঈদের ছুটিতে সমুদ্রসৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রেও নামছেন অনেকে।

রোববার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী, হিমছড়ি ও দরিয়া নগর পয়েন্টে দেখা গেছে হাজারো মানুষ। মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না তারা।

লকডাউনের কারণে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি ফটকগুলোতে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। সৈকতমুখী মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে সচেতনতামূলক মাইকিংও করা হচ্ছে। বাধা দেয়া হচ্ছে সৈকতে নামতে।

প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ডে অবশ্য খুব একটা কাজ হচ্ছে না। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী ও ডায়াবেটিক পয়েন্টে নামতে না দিলেও অন্যান্য স্থানে নজরদারি কম থাকায় ঠিকই সমুদ্রে নামছেন অনেকে।

সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী ও ডায়াবেটিক পয়েন্টে নামতে বাধা দেয় নিরাপত্তারক্ষীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি, দরিয়া নগর, ইনানী, পটুয়ারটেকসহ বেশ কিছু স্থানে প্রশাসনের নজরদারি কম দেখা গেছে। এসব জায়গায় দলে দলে সমুদ্রে নেমেছেন দর্শনার্থীরা। প্রশাসনের লোকজন আসলে তারা উঠে গেছেন, তবে পরক্ষণেই আবার নেমেছেন জলে।

দর্শনার্থীরা বলছেন, ঈদ আনন্দ উপভোগে সৈকতে ছুটে এসেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পর্যটক বলেন, ‘ঈদের সময় একটু বাড়তি আনন্দের জন্য কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আসলাম। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৈকতে বেড়াচ্ছি।’

আরেক পর্যটক বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও বের হওয়া যাচ্ছিল না। বাচ্চারাও কান্না করছে। তাই বাচ্চাদের নিয়ে সৈকতে বেড়াতে আসলাম।’

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৈকতে দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করলেও ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, সব স্থান কড়া নজরদারিতে রয়েছে। সৈকতে নামতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া জানান, সৈকতমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রতিটি পয়েন্টে টহল বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও দর্শনার্থীদের ঘরে ফেরাতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে সচেতনতামূলক মাইকিং।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, সৈকতে কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত কক্সবাজার জেলার সমন্বয়ক হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে পর্যটকদের আসা ঠেকাতে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শহরবাসীকে ঠেকানো যাচ্ছে না।

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে পহেলা এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ কমলেই পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়ার বিষয়ে চিন্তা করা হবে।

আরও পড়ুন:
বহুতল ভবনে পোশাক কারখানায় আগুন
গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৩ বাস
রেলসেতুর স্লিপারে আগুনের রহস্য কী?
আগুনে পুড়ল পোশাক কারখানা

শেয়ার করুন

আম পাড়া নিয়ে সংঘর্ষ: ছোট ভাই নিহত, আহত বড় ভাই 

আম পাড়া নিয়ে সংঘর্ষ: ছোট ভাই নিহত, আহত বড় ভাই 

নিহত এরশাদ আলম

কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের জমি থেকে আম পেড়ে নেয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় এরশাদ ও নাসের। এ সময় অস্ত্র দিয়ে তার ছোট ভাই এরশাদ ও বড় ভাই নাসেরকে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এরশাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় আম পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এরশাদ আলম নামের একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তার বড় ভাই মো. নাসের।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোরন খাইন এলাকায় এরশাদ ও নাসেরের বাবা আব্দুর সবুর সাওদাগর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

এরশাদের মেজ ভাই দিদার আলম নিউজবাংলাকে জানান, তারা তাদের জমিতে একটি বাড়ি তৈরির কাজ করছিলেন। কিন্তু ওই জমি নিজেদের দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন একই এলাকার আব্দুর রহিম, আব্দুর নূর, আব্দুল আজিজসহ কয়েকজন।

তিনি আরও জানান, রোববার কয়েকজন দুর্বৃত্ত ওই জমি থেকে আম পেড়ে নেয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় এরশাদ ও নাসের। এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে অস্ত্র দিয়ে তার ছোট ভাই এরশাদ ও বড় ভাই নাসেরকে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এরশাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া জানান, রাত ৮টার দিকে আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আহত নাসেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন:
বহুতল ভবনে পোশাক কারখানায় আগুন
গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৩ বাস
রেলসেতুর স্লিপারে আগুনের রহস্য কী?
আগুনে পুড়ল পোশাক কারখানা

শেয়ার করুন

চোর সন্দেহে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

চোর সন্দেহে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

ওই কিশোরের বাবা বলেন, ‘ভাই রে আমি ফতিবন্ধী মানুষ। ভিক্ষা কইরা খাই। আইজ আমার পোলারে চুর বানাইছে। আমি বিচার চাই। আমার পোলা চোর না।’

কুমিল্লার মুরাদনগরে চোর সন্দেহে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতনের শিকার কিশোরের বাবা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি ভিক্ষা করে সংসার চালান। ভুক্তভোগী কিশোর বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করে।

উপজেলার দক্ষিণ নোয়াগাঁও গ্রামে গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন জানান, গত বুধবার রাতে নোয়াগাঁও গ্রামের কামারচর মোড় এলাকায় সজিব নামের একজনের দোকান থেকে একটি মোবাইল ফোন ও কিছু টাকা চুরি হয়। চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার সকালে মো. আশিক, মো. রুবেল ও মো. কামালসহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক ওই কিশোরকে আশিকের বাড়িতে নিয়ে যায়।

সেখানে গাছের সঙ্গে বেঁধে তাকে নির্যাতন করা হয়।

পরে একই এলাকার অন্য এক কিশোরের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এরপর এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ওই কিশোরের বাবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাই রে আমি ফতিবন্ধী মানুষ। ভিক্ষা কইরা খাই। আইজ আমার পোলারে চুর বানাইছে। আমি বিচার চাই। আমার পোলা চোর না।’

স্থানীয়দের সহায়তায় কিশোরের মা রোববার সকালে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান জানান, মামলার পর রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে হোসেন নামের একজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এদিকে আশিকের বাবা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যার দোকানে চুরি হয়েছে তারাই সোহাগকে আটক করে নির্যাতন করেছে।

আরও পড়ুন:
বহুতল ভবনে পোশাক কারখানায় আগুন
গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৩ বাস
রেলসেতুর স্লিপারে আগুনের রহস্য কী?
আগুনে পুড়ল পোশাক কারখানা

শেয়ার করুন