নুসরাত হত্যা

নুসরাত জাহান রাফি। ছবি: সংগৃহীত

নুসরাত হত্যার ২ বছর: মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর চান স্বজনরা

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় সহপাঠীরা। সেখানে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেয়ার জন্য তাকে চাপ দেয়া হয়। রাজি না হওয়ায় নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানো হয়।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার দুই বছর পূর্ণ হলো শনিবার।

আলোচিত এ ঘটনার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন নুসরাতের স্বজনরা।

হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, হাইকোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে ডেথ রেফারেন্স।

২০১৯ সালের মার্চে ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনে নুসরাত। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়; গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে।

এরপর ওই বছরের ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় সহপাঠীরা। সেখানে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেয়ার জন্য তাকে চাপ দেয়া হয়। রাজি না হওয়ায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়।

এতে পুড়ে যায় নুসরাতের শরীরের ৮৫ শতাংশ। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল অধ্যক্ষ সিরাজকে প্রধান আসামি করে আটজনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলা হয়ে যায়।

বিচারিক কার্যক্রম

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহমেদ জানান, ২৮ মে অভিযোগপত্র জমা দেয়ার পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার পাশাপাশি যুক্তিতর্ক হয়।

২৪ অক্টোবর ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

দণ্ডিত চার আসামি আইনজীবীর মাধ্যমে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন। বাকি ১২ জন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল করেছেন।

২৯ অক্টোবর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স বা মৃত্যুদণ্ডাদেশের অনুমোদন চেয়ে হাইকোর্টে মামলাটি পাঠানো হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহমেদ জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার যাবতীয় নথির পেপারবুক ছাপানো হয়েছিল। পরে তা শুনানির জন্য বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকারের বেঞ্চকে দেয়া হয়। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেই বেঞ্চ বাতিল হয়ে যাওয়ায় শুনানি হয়নি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হবে। মহামারির সময়ে রাষ্ট্র কিছু আসামিকে সাধারণ ক্ষমা করলেও এই মামলার আসামিরা এই ক্ষমার আওতায় আসবেন না।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর ও সাবেক পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকসুদ আলম, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।

নুসরাত হত্যার ২ বছর: মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর চান স্বজনরা
সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা

ফেনী জেলা কারাগারের সুপার আনোয়ার ফারুকী জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রুহুল আমিন ও মোকসুদ আলমকে ফেনী কারাগারে রাখা হয়েছে। কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি আছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। বাকিদের রাখা হয়েছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার জানান, করোনায় মারা গেলে মনকে সান্ত্বনা দেয়া যেত। কিন্তু খুনিরা নির্মমভাবে হাত বেঁধে জীবিত অবস্থায় তাকে হত্যা করেছে। তাদের ফাঁসির দণ্ড দ্রুত কার্যকর করা হোক।

তিনি বলেন, দুটি বছর নির্ঘুম রাত পার করছেন। মেয়ের ঘরেই তিনি ঘুমান। মেয়ের মৃত্যু যন্ত্রণার সেই চারটি দিন ছিল তার কাছে বিভীষিকার। সেই ভয়াল দিনগুলো চোখে ভেসে এলে আর ঘুমাতে পারেন না।

মামলার বাদী নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘আমরা বিচারিক আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি। উচ্চ আদালতেও আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশী।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুনি ও তাদের স্বজনরা ফেসবুকে ফেক আইডির মাধ্যমে আমাদের পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লায় উপনির্বাচন: প্রার্থী শুধু নৌকা লাঙলের

কুমিল্লায় উপনির্বাচন: প্রার্থী শুধু নৌকা লাঙলের

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম খাঁন। ছবি: নিউজবাংলা

কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন আটজন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেন শুধু আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শুধু আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

মঙ্গলবার শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দেন নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খাঁন ও লাঙলের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের কাছে দুপুর সাড়ে ১২টায় মনোনয়নপত্র জমা দেন বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসেম খাঁন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন দুপুর ১২টায় মনোনয়নপত্র দেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া সিদ্দিকা এবং নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বুলবুল আহাম্মদের কাছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর নৌকার প্রার্থী আবুল হাসেম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষ নেতৃত্বে দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করে ফেলেছেন। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এ দেশ সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ায় রূপান্তরিত হবে।’

উপনির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি এ সময় কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আশা, প্রার্থী বেশি না থাকায় আবুল হাসেম সহজ জয় তুলে নেবেন।

এদিকে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের এ উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৮ জন।

তারা হলেন নৌকার প্রার্থী আবুল হাশেম খাঁন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন, আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আবদুল মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক এহতেশামুল হাসান রুমি।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মাহতাব হোসেন, আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল হক ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিনও মনোনয়নপত্র নেন।

কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, শেষ দিন পর্যন্ত দুই প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের একজন নৌকা ও অন্যজন লাঙল প্রতীকের প্রার্থী।

শূন্য হওয়া এ সংসদীয় আসনে গত ২ জুন উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

তফসিল অনুযায়ী, মনোয়নপত্র বাছাই ১৭ জুন ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ জুন। ২৪ জুন প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর ভোট হবে আগামী ২৮ জুলাই।

শেয়ার করুন

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

শেয়ার করুন

শ্বশুরবাড়িতে এসে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

শ্বশুরবাড়িতে এসে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জুয়েল জানান, শিবলু মিয়া কয়েক দিন আগে বনগ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনদের সঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলতে যান তিনি। এ সময় বজ্রপাতে তিনজন আহত হন।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে শ্বশুরবাড়িতে এসে ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে শিবলু মিয়া নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন দুজন।

উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের বনগ্রাম গ্রামে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

২২ বছর বয়সী শিবলু মিয়া টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান গ্রামের বাসিন্দা। আহত দুজন হলেন রনি ও জীবন।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জুয়েল জানান, শিবলু মিয়া কয়েক দিন আগে বনগ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনদের সঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলতে যান তিনি। এ সময় বজ্রপাতে শিবলু মিয়াসহ তিনজন আহত হন।

পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক শিবলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

ভারতীয় সন্দেহে আটক যুবকের বাড়ি জামালপুরেই

ভারতীয় সন্দেহে আটক যুবকের বাড়ি জামালপুরেই

ভারতীয় সন্দেহে আটক করা হয়েছিল সুমন মিয়াকে। ছবি: নিউজবাংলা

‘সুমন মিয়া ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পলবান্ধা গ্রামের মৃত তালেব মেম্বারের ছেলে। সোমবার সকালে মা জরিফুল বেগম ও স্ত্রী আকলিমা বেগমের সঙ্গে ঝগড়া করে বকশিগঞ্জে আসেন তিনি।’

জামালপুরের বকশিগঞ্জে ভারতীয় নাগরিক সন্দেহে আটক যুবকের বাড়ি এই জেলার ইসলামপুর উপজেলায়।

তার নাম সুমন মিয়া। ২০ বছরের সুমন ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পলবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বকশিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট।

সোমবার রাতে উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে সুমন মিয়াকে আটক করে স্থানীয়রা। আটকের ১৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে সুমন মিয়াকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, সোমবার রাতে সীমান্ত এলাকায় এক যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের জানানো হয় তিনি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার কোতোয়ালি থানার এশকোশ গ্রামের বাসিন্দা।

বকশিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুমন মিয়াকে আটক করে করোনা শনাক্তের পরীক্ষার পর বকশিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশনে রাখা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

‘সুমন মিয়া ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পলবান্ধা গ্রামের মৃত তালেব মেম্বারের ছেলে। সোমবার সকালে মা জরিফুল বেগম ও স্ত্রী আকলিমা বেগমের সঙ্গে ঝগড়া করে বকশিগঞ্জে আসেন তিনি। স্থানীয়রা তাকে আটক করলে ঘাবড়ে গিয়ে তার বাড়ি ভারতে বলেছিলেন। মঙ্গলবার রাত আটটায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’, বাবা গ্রেপ্তার

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’, বাবা গ্রেপ্তার

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মজিবুল হক জানান, তিন দিনের জন্য বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সী ওই মেয়ের মা। এ সময় রোববার রাতে তিনি মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করেন।

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মেয়েকে ধর্ষণ মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের পাহাড় থেকে তাকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মজিবুল হক নিউজবাংলাকে জানান, তিন দিনের জন্য বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সী ওই মেয়ের মা। এ সময় রোববার রাতে তিনি মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করেন।

এর আগে তিনি মাদক মামলায় তিনবার জেলে গেছেন।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন বলেন, ‘সোমবার আমরা ভিকটিমকে উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে নিই। এরপর সে বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি জানান, মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে তার বাবাকে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

২৮ বছর পর গ্রেপ্তার সাজাপ্রাপ্ত আসামি

২৮ বছর পর গ্রেপ্তার 
সাজাপ্রাপ্ত আসামি

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪-এর সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডাকাতির অভিযোগে ১৯৯২ সালের ১০ ডিসেম্বর থানায় একটি মামলা হয়। এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়ে এত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে নাম-পরিচয় গোপন রেখে পলাতক ছিলেন হাসেম।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডাকাতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামিকে ২৮ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। এত বছর নিজের পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেপ্তার আসামির নাম হাসেম। তিনি তারাকান্দা উপজেলার কুঠুরাগাঁও গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার বিকেলে র‌্যাব-১৪-এর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কাঞ্চনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪-এর সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডাকাতির অভিযোগে ১৯৯২ সালের ১০ ডিসেম্বর থানায় একটি মামলা হয়। এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়ে এত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে নাম-পরিচয় গোপন রেখে পলাতক ছিলেন হাসেম।

রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার উপস্থিতি জানতে পেরে র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-৩ ভৈরব ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কাঞ্চনপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ বছর বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাসেম পলাতক ছিলেন। তাকে গৌরীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

সিলেট-৩: মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৬ জন

সিলেট-৩: মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৬ জন

আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা শফি আহমদ চোধুরী ছাড়া তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারা হলেন জাহেদুর রহমান মাসুম, জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া এবং ফাহমিদা হোসেন রুমা। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার জমা দেয়ার শেষ দিনে তারা সশরীরে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে হাজির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় প্রার্থীদের সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা শফি আহমদ চোধুরী ছাড়া তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারা হলেন জাহেদুর রহমান মাসুম, জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া এবং ফাহমিদা হোসেন রুমা। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

সিলেটের জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের এই ছয়জনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখন জমা দেয়া মনোনয়নগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৮ জুলাই এ আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা।

শেয়ার করুন