কষ্টি নয় সাধারণ পাথর

পঞ্চগড়ের চাওয়াই নদী থেকে একটি পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কষ্টি নয় সাধারণ পাথর

চাওয়াই নদী থেকে পাথর তোলার সময় শ্রমিকরা পানির নিচে বিরাট আকৃতির ওই পাথরটির সন্ধান পান। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, এটি কষ্টিপাথর। কিন্তু উদ্ধারের পর জানা গেল তা সাধারণ পাথর।

পঞ্চগড়ের চাওয়াই নদীর তীরে দুই দিন ধরে হাজারও উৎসুক মানুষের ভিড়। নদীর গভীরে থাকা বিশাল আকৃতির একটি পাথরকে ঘিরে ছিল ঔৎসুক্য।

সদর উপজেলার সালটিয়াপাড়া এলাকায় বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাথরটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয় লোকজনের ধারণা ছিল, এটি কষ্টিপাথর। কিন্তু উদ্ধারের পর জানা গেল, তা সাধারণ পাথর। এর ওজন প্রায় ৪০ মণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, চাওয়াই নদী থেকে শ্রমিকরা পাথর তোলার সময় পানির নিচে বিরাট ওই পাথরটির সন্ধান পান। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ সেটি দেখতে জড়ো হয় ওই স্থানে।

কিন্তু পানির বেশ গভীরে থাকায় পাথরটি ওঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। স্থানীয় লোকজন বুধবার সকালে মেশিন দিয়ে পানি তুলতে শুরু করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পঞ্চগড় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।



পরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে উদ্ধারে যোগ দেয় পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস। বিকেলে পাথরটি উদ্ধার করেন তারা।

ইউএনও আরিফ বলেন, ‘স্থানীয়রা কষ্টি ভেবে পাথরটি উত্তোলনের চেষ্টা করেন। পরে আমরা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাথরটি উদ্ধার করি। এর ওজন প্রায় ৪০ মন।

‘প্রত্নতাত্ত্বিকদের পাথরটি আমরা দেখিয়েছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন পাথরটি সাধারণ পাথর। এত বড় পাথর হওয়ায় এটি নিয়ে লোকজনের আগ্রহ আছে। এ কারণে এটি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংরক্ষণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ইটভাটার মাটির স্তূপে কষ্টিপাথরের ভাঙা মূর্তি
কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ গ্রেপ্তার ২
ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলনে বাধা কাটল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাজে ফিরতে পিকআপে যাত্রা, দুর্ঘটনায় ঝরল ৩ প্রাণ

কাজে ফিরতে পিকআপে যাত্রা, দুর্ঘটনায় ঝরল ৩ প্রাণ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপভ্যানে থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুনিম সারোয়ার বলেন, ‘অতিরিক্ত গতিতে ছিল পিকআপ ভ্যানটি। রাতের কোনো এক সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা কোনো ভারি যানে ধাক্কা দেয়। এতে দুর্ঘটনাটি ঘটে।’

রাজধানীতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন নাজমা খাতুন। ঈদের ছুটিতে সাত বছরের মেয়ে লালমনিকে নিয়ে শেরপুর সদরের বাঘেরচরে বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকা ফিরছিলেন তিনি। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ভাইয়ের সঙ্গে উঠেছিলেন বেগুনবোঝাই পিকআপ ভ্যানে। সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই ও মেয়েসহ প্রাণ গেল তার।

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে, রোববার গভীর রাতে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালের রায়মনি এলাকায় যায়। রাস্তার পাশে তারা দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া পিকআপ ভ্যান ও চারজনকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। এর মধ্যে শিশুসহ তিনজনকে পাওয়া যায় মৃত অবস্থায়।

আহত অবস্থায় পিকআপচালক সাদা মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি জানান, নিহতরা হলেন নাজমা খাতুন, তার মেয়ে লালমনি ও ভাই আমিনুল ইসলাম আমানু। তারা শেরপুর থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন।

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুনিম সারোয়ার বলেন, ‘অতিরিক্ত গতিতে ছিল পিকআপ ভ্যানটি। রাতের কোনো এক সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা কোনো ভারি যানে ধাক্কা দেয়। এতে দুর্ঘটনাটি ঘটে।’

ওসি মাইন বলেন, পিকআপের সামনের অংশ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে কোনো ট্রাকে এটি ধাক্কা লেগেছে।

নিহত নাজমার চাচা মোশাররফ হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, আমান কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। এলাকা থেকে কাঁচামাল কিনে তিনি ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতেন। তাই ঢাকায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

মোশাররফ জানান, রোববার রাতেও বেগুন নিয়ে পিকআপে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন আমান। নাজমার ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার কাজে যোগ দিতে ঢাকা ফেরার তাড়া ছিল। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় মেয়েকে নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে পিকআপে চড়েই তিনি রওনা দেন। পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিনজনেরই।

আরও পড়ুন:
ইটভাটার মাটির স্তূপে কষ্টিপাথরের ভাঙা মূর্তি
কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ গ্রেপ্তার ২
ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলনে বাধা কাটল

শেয়ার করুন

মজুত শেষ, সিলেটে টিকা দেয়া বন্ধ

মজুত শেষ, সিলেটে টিকা দেয়া বন্ধ

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মজয় দত্ত বলেন, সিলেটে টিকার মজুত ফুরিয়ে গেছে। গত বুধবার থেকে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন করে টিকা এলে আবার টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।

সিলেটে ফুরিয়ে গেছে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন-কোভিশিল্ডের মজুত। ঈদের দুদিন আগ থেকেই সিলেট জেলায় টিকা দেয়া বন্ধ রয়েছে। টিকাদান বন্ধ রয়েছে সুনামগঞ্জেও। তবে সিলেট বিভাগের অন্য দুই জেলা মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে সামান্য পরিমাণ মজুত রয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টিকার মজুত শেষ হয়ে আসায় ঈদের দুই দিন আগে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন এ রকম প্রতিদিন যদি ১ হাজারের বেশি মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়, তাহলে আগামী ২ দিনের মধ্যে মজুত শেষ হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, রোববার টিকা কেন্দ্রে উপস্থিত সব গ্রহীতাকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়নি। দেশে নতুন করে টিকা না আসা পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের জন্য নিবন্ধিতদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মজয় দত্ত বলেন, সিলেটে টিকার মজুত ফুরিয়ে গেছে। গত বুধবার থেকে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন করে টিকা এলে আবার টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।

তবে কিছু টিকা এখনও মজুত রয়েছে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ নিউজবাংলাকে বলেন, এখনও ৩৬০ ভায়াল করোনার টিকা হাতে রয়েছে, যা দিয়ে আরও ৩-৪ দিন চলবে।

হবিগঞ্জে রোববার পর্যন্ত টিকার মজুত ছিল ৬০৮ ভায়াল অর্থাৎ ৬ হাজার ৮০ ডোজ।

মজুত টিকায় আরও এক সপ্তাহ চলবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন কেএম মুস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, দ্বিতীয় দফায় হবিগঞ্জে টিকা এসেছিল ৩৬ হাজার ডোজ। এ ছাড়া সিলেট থেকে আনা হয় ৪ হাজার ডোজ।

অপরদিকে, সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন জানান, সুনামগঞ্জে ৫০০-৬০০ ভায়ালের মতো টিকা মজুত রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় মজুত সামান্য হওয়ায় বর্তমানে টিকা প্রদান বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি ভায়ালে ১০টি করে ডোজ থাকে।

করোনা টিকার সংকটের কারণে গত ২৬ এপ্রিল ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাংলাদেশে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট গত মার্চে বাংলাদেশে ভ্যাকসিনটির চালান বন্ধ করে দেয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি থেকে দুই চালান ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসে।

আরও পড়ুন:
ইটভাটার মাটির স্তূপে কষ্টিপাথরের ভাঙা মূর্তি
কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ গ্রেপ্তার ২
ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলনে বাধা কাটল

শেয়ার করুন

বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী

বিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী

ইউএনও সোহেল রানা জানান, প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে মেয়ের বাবাসহ আত্মীয় স্বজন পালিয়ে যান। এ সময় কিশোরীর মায়ের কাছ থেকে সবার সামনে ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে দশম শ্রেণিতে পড়া এক কিশোরী।

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের ব্যাস্তপুর গ্রামে রোববার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন ইউএনও সোহেল রানা।

ইউএনও জানান, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বাল্যবিবাহের খবর পান তিনি। ব্যাস্তপুর গ্রামে ওই কিশোরীর পরিবার একই ইউনিয়নের বারোমারা গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ের আয়োজন করে। তিনি দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পপি রানী তালুকদার ও পুলিশ নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির হন।

সোহেল রানা জানান, প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে মেয়ের বাবাসহ আত্মীয় স্বজন পালিয়ে যান। এ সময় কিশোরীর মায়ের কাছ থেকে সবার সামনে ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ইটভাটার মাটির স্তূপে কষ্টিপাথরের ভাঙা মূর্তি
কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ গ্রেপ্তার ২
ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলনে বাধা কাটল

শেয়ার করুন

নামাজ পড়ে শিশুরা পেল সাইকেল উপহার

নামাজ পড়ে শিশুরা পেল সাইকেল উপহার

চরফ্যাশনে টানা ৪০দিন জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে উপহার হিসেবে ৪০ শিশু পেয়েছে বাইসাইকেল। ছবি: নিউজবাংলা

ভোলার চরফ্যাশনে শিশুদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরস্কারের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক রতন। তার এ ঘোষণায় উৎসাহিত হয়ে এলাকার অনেক শিশু নামাজ পড়তে শুরু করে।

টানা ৪০ দিন জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে উপহার হিসেবে ৪০ শিশু পেয়েছে বাইসাইকেল।

ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভার করিমজান মহিলা মাদ্রাসামাঠে রোববার বিকেলে তাদের এই উপহার দেয়া হয়।

শিশুদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরস্কারের ঘোষণা দেন চরফ্যাশনের ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক রতন। তার এ ঘোষণায় উৎসাহিত হয়ে এলাকার অনেক শিশু-কিশোর নামাজ পড়তে শুরু করে।

টানা ৪০ দিন নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়া ৪০ শিশুকে পুরস্কারের সাইকেল দেন ওবায়দুল।

এ সময় ওবায়দুল বলেন, ঘোষণার পর থেকে শতাধিক শিশু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়া শুরু করে। প্রতি ওয়াক্তে তাদের হিসাব রাখা হয়।

যাচাই বাছাই শেষে ২ রাউন্ডে ৪০ শিশুকে ৪০টি বাইসাইকেল উপহার দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইটভাটার মাটির স্তূপে কষ্টিপাথরের ভাঙা মূর্তি
কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ গ্রেপ্তার ২
ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলনে বাধা কাটল

শেয়ার করুন

জমি নিয়ে বিরোধ, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ‘হত্যা’

জমি নিয়ে বিরোধ, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ‘হত্যা’

নিহত ফজলুর ছেলে গিয়াস তরফদার বলেন, ‘দেলোয়ার গাজীর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিকেলে দেলোয়ার গাজী, আব্দুল্লাহ গাজী ও তাদের সহযোগীদের হামলায় আমার বাবা মারা যান।’

বাগেরহাট সদরে জমি নিয়ে সংঘর্ষে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ফজলু তরফদার নামে একজনকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলার ডেমা মিঠাপুকুর দক্ষিণপাড় এলাকায় রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ফজলু ডেমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার ডেমা গ্রামে বিকেলে ৬০ বছর বয়সী ফজলু তরফদার বিরোধপূর্ণ জমিতে গাছের তালশাঁস কাটতে যান। এ সময় প্রতিবেশী দেলোয়ার গাজী বাধা দিলে দুই জনের মধ্যে মারপিট হয়। ফজলুর দায়ের কোপে দেলোয়ার আহত হন। খবর পেয়ে দেলোয়ারের লোকজন এসে ফজলুর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। পরিবারের লোকজন ফজলুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দেলোয়ার গাজীর অবস্থাও আশংকাজনক বলে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছে।

ফজলুর ছেলে গিয়াস তরফদার বলেন, ‘দেলোয়ার গাজীর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। আমার বাবা জমির একটি তালগাছের তালশাঁস কাটতে গেলে দেলোয়ার গাজী ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ গাজীসহ কয়েকজন বাধা দেয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে দেলোয়ার গাজী, আব্দুল্লাহ গাজী ও তাদের সহযোগীদের হামলায় আমার বাবা মারা যান।’

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর শাফিন মাহামুদ জানান, ডেমা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ফজলু তরফদার নিহত হন। এ সময় আহত দেলোয়ার গাজীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইটভাটার মাটির স্তূপে কষ্টিপাথরের ভাঙা মূর্তি
কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ গ্রেপ্তার ২
ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলনে বাধা কাটল

শেয়ার করুন

সৈকতে হাজারো মানুষ

সৈকতে হাজারো মানুষ

কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী, হিমছড়ি ও দরিয়া নগর পয়েন্টে দেখা গেছে হাজারো মানুষ। মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না তারা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ।

প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও ঈদের ছুটিতে সমুদ্রসৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রেও নামছেন অনেকে।

রোববার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী, হিমছড়ি ও দরিয়া নগর পয়েন্টে দেখা গেছে হাজারো মানুষ। মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না তারা।

লকডাউনের কারণে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি ফটকগুলোতে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। সৈকতমুখী মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে সচেতনতামূলক মাইকিংও করা হচ্ছে। বাধা দেয়া হচ্ছে সৈকতে নামতে।

প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ডে অবশ্য খুব একটা কাজ হচ্ছে না। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী ও ডায়াবেটিক পয়েন্টে নামতে না দিলেও অন্যান্য স্থানে নজরদারি কম থাকায় ঠিকই সমুদ্রে নামছেন অনেকে।

সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী ও ডায়াবেটিক পয়েন্টে নামতে বাধা দেয় নিরাপত্তারক্ষীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি, দরিয়া নগর, ইনানী, পটুয়ারটেকসহ বেশ কিছু স্থানে প্রশাসনের নজরদারি কম দেখা গেছে। এসব জায়গায় দলে দলে সমুদ্রে নেমেছেন দর্শনার্থীরা। প্রশাসনের লোকজন আসলে তারা উঠে গেছেন, তবে পরক্ষণেই আবার নেমেছেন জলে।

দর্শনার্থীরা বলছেন, ঈদ আনন্দ উপভোগে সৈকতে ছুটে এসেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পর্যটক বলেন, ‘ঈদের সময় একটু বাড়তি আনন্দের জন্য কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আসলাম। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৈকতে বেড়াচ্ছি।’

আরেক পর্যটক বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও বের হওয়া যাচ্ছিল না। বাচ্চারাও কান্না করছে। তাই বাচ্চাদের নিয়ে সৈকতে বেড়াতে আসলাম।’

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৈকতে দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করলেও ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, সব স্থান কড়া নজরদারিতে রয়েছে। সৈকতে নামতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া জানান, সৈকতমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রতিটি পয়েন্টে টহল বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও দর্শনার্থীদের ঘরে ফেরাতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে সচেতনতামূলক মাইকিং।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, সৈকতে কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত কক্সবাজার জেলার সমন্বয়ক হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে পর্যটকদের আসা ঠেকাতে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শহরবাসীকে ঠেকানো যাচ্ছে না।

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে পহেলা এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ কমলেই পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়ার বিষয়ে চিন্তা করা হবে।

আরও পড়ুন:
ইটভাটার মাটির স্তূপে কষ্টিপাথরের ভাঙা মূর্তি
কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ গ্রেপ্তার ২
ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলনে বাধা কাটল

শেয়ার করুন

আম পাড়া নিয়ে সংঘর্ষ: ছোট ভাই নিহত, আহত বড় ভাই 

আম পাড়া নিয়ে সংঘর্ষ: ছোট ভাই নিহত, আহত বড় ভাই 

নিহত এরশাদ আলম

কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের জমি থেকে আম পেড়ে নেয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় এরশাদ ও নাসের। এ সময় অস্ত্র দিয়ে তার ছোট ভাই এরশাদ ও বড় ভাই নাসেরকে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এরশাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় আম পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এরশাদ আলম নামের একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তার বড় ভাই মো. নাসের।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোরন খাইন এলাকায় এরশাদ ও নাসেরের বাবা আব্দুর সবুর সাওদাগর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

এরশাদের মেজ ভাই দিদার আলম নিউজবাংলাকে জানান, তারা তাদের জমিতে একটি বাড়ি তৈরির কাজ করছিলেন। কিন্তু ওই জমি নিজেদের দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন একই এলাকার আব্দুর রহিম, আব্দুর নূর, আব্দুল আজিজসহ কয়েকজন।

তিনি আরও জানান, রোববার কয়েকজন দুর্বৃত্ত ওই জমি থেকে আম পেড়ে নেয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় এরশাদ ও নাসের। এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে অস্ত্র দিয়ে তার ছোট ভাই এরশাদ ও বড় ভাই নাসেরকে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এরশাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া জানান, রাত ৮টার দিকে আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আহত নাসেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন:
ইটভাটার মাটির স্তূপে কষ্টিপাথরের ভাঙা মূর্তি
কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ গ্রেপ্তার ২
ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলনে বাধা কাটল

শেয়ার করুন