চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা বেড়ে ১৮

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা বেড়ে ১৮

‘গত বছর বিশ্বব্যাপী যখন করোনা ছড়িয়ে পড়ে তখন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কোনো আইসিইউ শয্যা ছিল না। এটি এখন একটি বিশেষায়িত করোনা হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। এক বছরের ভেতর এমন যুগান্তকারী পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।’

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা আরও আটটি বাড়ানো হয়েছে। আগে থেকে ১০ শয্যার ইউনিটে এখন থেকে ১৮ জন রোগী রাখা যাবে।

২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বৃহস্পতিবার নতুন আটটি আইসিইউ শয্যার উদ্বোধন করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হাসান শাহরিয়ার কবীর, সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম আকতার চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আসিফ খান, ফিল্ড হাসপাতালের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর বিশ্বব্যাপী যখন করোনা ছড়িয়ে পড়ে তখন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কোনো আইসিইউ শয্যা ছিল না। এটি এখন একটি বিশেষায়িত করোনা হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। এক বছরের ভেতর এমন যুগান্তকারী পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।’

চিকিৎসক এবং নার্সদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক সময় এখানে না বলে এসেও স্বাস্থ্যকর্মীদের পেয়েছি। দেশের অনেক জায়গায় যেখানে চিকিৎসক-নার্সের সংকট, সেখানে এখানকার সবাইকে সব সময় হাসপাতালে দেখি আমি। তাই আপনাদের বিশেষ ধন্যবাদ।’

দেশের চিকিৎসকরা আগের তুলনায় অভিজ্ঞ উল্লেখ করে উপমন্ত্রী বলেন, ‘এক বছর আগে যখন করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে, তখন পরিস্থিতি ছিল অন্য রকম। তখন আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সংকট ছিল। এখন তা কেটে গেছে। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার জন্য মাস্কের বিকল্প নেই উল্লেখ করে সবাইকে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন নওফেল।

আরও পড়ুন:
সেই ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না চবি
চট্টগ্রামে আরেক মাদ্রাসায় পিটুনি, শিক্ষক আটক
চট্টগ্রামে মাদক মামলায় দুই ভাইয়ের জেল
অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ
দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে চায়ের নিলাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নৌকায় ৫ ভোট

নৌকায় ৫ ভোট

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলছেন, কেন্দ্রেটি স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের বাড়ির কাছে। তিনি সেখানে প্রভাব বিস্তার করে ভোট জালিয়াতি করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন বলছেন, কোনো প্রকার জালিয়াতি হয়নি। নৌকার প্রার্থীর বাড়ির কাছের কেন্দ্রে তিনিও নামমাত্র ভোট পেয়েছেন।

সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদের একটি ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে মাত্র পাঁচটি ভোট পড়েছে।

ইউনিয়নে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিষয়টি নিয়ে বিকর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের এমন ফল দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলছেন, কেন্দ্রেটি স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের বাড়ির কাছে। তিনি সেখানে প্রভাব বিস্তার করে ভোট জালিয়াতি করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন বলছেন, কোনো প্রকার জালিয়াতি হয়নি। নৌকার প্রার্থীর বাড়ির কাছের কেন্দ্রে তিনিও নামমাত্র ভোট পেয়েছেন।

জেলা নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রাথমিক চূড়ান্ত ফলে দেখা যায়, বুড়িরচর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান ৭ হাজার ৩০২ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৫০ ভোট। ৬৪৮ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি।

গত সোমবার দেশের ২০৪টি ইউনিয়নের মতো বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়নেও সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। ইউনিয়নের মোট ১১টি ভোটকেন্দ্র।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের বাড়ির কাছের মধ্য বুড়িরচর কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২ হাজার ৩৯১টি। এর মধ্যে হুমায়ুন কবীর আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩৮৩ ভোট। এই কেন্দ্রে মাত্র ৫টি ভোট পড়েছে নৌকায়। বাকি তিনটি ভোট পড়েছে হাতপাখা প্রতীকে।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির বড় লবণগোলা কেন্দ্র মাত্র ছয়টি ভোট পেয়েছেন, যে কেন্দ্রটি নৌকার প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির কাছে। এখানে নৌকায় ভোট পড়েছে এক হাজার ১৯৩ ভোট।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি যে ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী সেই ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে নৌকায় মাত্র পাঁচ ভোট পড়া নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাকর্মী। কেউ কেউ বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। অভিযোগ করেছেন, ভোট জালিয়াতির।

তাদের একজন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওলি উল্লাহ ওলি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। কারণ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ওই কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি করে নির্বাচিত হয়েছেন।’

ওলি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে জানতে পারি, নিজ এলাকার কেন্দ্র হওয়ায় ভোটের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রভাব বিস্তার করে ভোট আদায় করেছে। আমি নিজেও ভোটের দিন ওই কেন্দ্রে গিয়ে অনিয়ম টের পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দিয়ে বেশ কিছু জাল ভোটার কেন্দ্র থেকে বের করে দেই।’

তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রভাবে নৌকার সাধারণ ভোটাররা ভীত সন্ত্রস্ত্র থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, ‘ভোটের দিন বিকেল ৩টার দিকে ওই কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বেশ কিছু জাল ভোটার চিহ্নিত করা হয় এবং তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।’

নৌকার প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রটি স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের নিজ বাড়ির এলাকার। হুমায়ুন কবীর নির্বাচনের শুরু থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করেছেন। ভোটের দিন তিনি নৌকার এজেন্টদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করে ওই কেন্দ্রে প্রচুর জাল ভোট আদায় করেছেন।

‘যার প্রমাণ কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৬০০ ভোটের ২ হাজার ৩৯৩ ভোট কাস্ট হওয়া। জাল ভোটের খবর পেয়ে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তা নিয়ে বেশ কিছু জাল ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছি।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমার এলাকার কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি আমি। এ কারণে বেশি ভোট কাস্ট হয়েছে। ভোটাররা নৌকায় যে ভোট দিয়েছেন তিনি তাই পেয়েছেন। এখানে কোনো জাল ভোট পড়েনি; প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও ঘটেনি। নৌকার প্রার্থীর বাড়ির কাছের কেন্দ্রেও তো আমি নামমাত্র ভোট পেয়েছি।

আরও পড়ুন:
সেই ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না চবি
চট্টগ্রামে আরেক মাদ্রাসায় পিটুনি, শিক্ষক আটক
চট্টগ্রামে মাদক মামলায় দুই ভাইয়ের জেল
অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ
দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে চায়ের নিলাম

শেয়ার করুন

দর্শনা দিয়ে দেশে ফিরলেন ১৩ বাংলাদেশি

দর্শনা দিয়ে দেশে ফিরলেন ১৩ বাংলাদেশি

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নতুন অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিয়ে বুধবারা ১৩ জন বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ১৩ বাংলাদেশি। এ নিয়ে গত ৩৭ দিনে ওই চেকপোস্ট দিয়ে মোট এক হাজার জন দেশে ফিরলেন।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভারতের গেদে চেকপোস্ট হয়ে দেশ প্রবেশ করেন ওই বাংলাদেশিরা।

দেশে প্রবেশের পর ওই চেকপোস্টেই অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল। তবে এদিন তাদের মধ্যে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নতুন অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিয়ে বুধবারা ১৩ জন বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

তবে কেউ করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়নি। সেখান থেকে নির্ধারিত পরিবহনযোগে ২৭ জনকে জেলা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ও ৭ জনকে স্থানীয় হোটেল ভিআইপিতে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশের অভিবাসনবিষয়ক শাখা (ইমিগ্রেশন) ও শুল্ক বিভাগের (কাস্টমস) আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে ভারতফেরতদের নির্ধারিত পরিবহনযোগে (মাইক্রোবাস) জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

আরও পড়ুন:
সেই ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না চবি
চট্টগ্রামে আরেক মাদ্রাসায় পিটুনি, শিক্ষক আটক
চট্টগ্রামে মাদক মামলায় দুই ভাইয়ের জেল
অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ
দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে চায়ের নিলাম

শেয়ার করুন

‘লকডাউনের সময়ে কিস্তির জন্য জবরদস্তি নয়’

‘লকডাউনের সময়ে কিস্তির জন্য জবরদস্তি নয়’

১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি না হওয়ায় বুধবার বিকেলে সভা করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। 

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাজশাহীতে বিশেষ বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ে কিস্তি আদায়ের জন্য এনজিওগুলো জবরদস্তি করতে পারবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি না হওয়ায় বুধবার বিকেলে সভা করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহীতে গত ১১ তারিখ থেকে লকডাউন চলছে। আমরা এটিকে সর্বাত্মক লকডাউন বলে ঘোষণা করেছি। আমাদের গড় আক্রান্ত ২০ শতাংশের বেশি। কোনো কোনো দিন এটি ৩০ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে।

‘লকডাউন শুধুমাত্র শহরে দিচ্ছি। এটি সিটি করপোরেশন এলাকায়। তবে, মহানগর থেকে সব উপজেলার যোগাযোগ বন্ধ রাখা হচ্ছে। কয়েক দিনে এটি কিছুটা শিথিল হয়েছিল। তবে আরও কঠোর হবে। বিনা কারণে কেউ আর শহরে আসতে পারবে না। আমাদের জেলা থেকে কোনো গাড়ি ঢাকাতে যায় না। কোনো মার্কেট খোলা নেই।’

জেলা প্রশাসক বলেন, লকডাউন চলাকালে কিস্তি আদায়ের জন্য এনজিওর পক্ষ থেকে জবরদস্তি করা যাবে না। লকডাউন কার্যকরে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

ঈদের পর থেকে রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় গত ১১ জুন সিটি করপোরেশন এলাকায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এর পর গত ১৬ জুন সেটি আরেক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৪ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। বুধবার আরেক দফা বাড়িয়ে আগামী ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত করা হলো।

আরও পড়ুন:
সেই ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না চবি
চট্টগ্রামে আরেক মাদ্রাসায় পিটুনি, শিক্ষক আটক
চট্টগ্রামে মাদক মামলায় দুই ভাইয়ের জেল
অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ
দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে চায়ের নিলাম

শেয়ার করুন

সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ভাতা পরিশোধের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

সাড়ে ১৪ লাখ টাকার ভাতা পরিশোধের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

বকেয়া পরিশোধের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষক রাহুল দাশ বলেন, ‘আমরা সবাই নতুন চাকরি পেয়েছি। আমাদের বেতন মাত্র সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। এই বেতনে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ডিপিএড প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছে।’

প্রশিক্ষণের মেয়াদ শেষ হলেও ভাতার টাকা না পাওয়ায় মানববন্ধন করেছেন হবিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা।

বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ পিটিআইয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েকশ শিক্ষক অংশ নেন।

তাদের দাবি, প্রশিক্ষণ চলার সময় প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। প্রথম ছয় মাসের ভাতা বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে ১৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও দেয়া হয়নি পরের এক বছরের কোনো টাকা।

এতে ছয় মাসের মোট বকেয়া পড়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক বছরের ভাতা বাবদ প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর বকেয়া পড়েছে ৩৬ হাজার টাকা।

হবিগঞ্জ পিটিআই জানা জানিয়েছে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)।

প্রশিক্ষণে জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। প্রথম অবস্থায় ক্লাসে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও করোনা মহামারি শুরু হলে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এ প্রশিক্ষণ চলে জুন মাস পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের লিখিত পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। ২৪ জুন থেকে তাদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে।

ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব পাল বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ শুরু হলে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় অনেক প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ভালো মোবাইল-ল্যাপটপ না থাকায় বিপাকে পড়েন। অনেকে ধারদেনা ও ঋণ করে এসব উপকরণ কিনেছেন।’

ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ থাকলেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আমরা হলে বসে পরীক্ষা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘২৫ জুন থেকে আমাদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর আমরা আর ডিপিএডের কেউ না। অথচ আমাদের এক বছরের ভাতার টাকা এখনও দেয়া হয়নি। আমাদের আগের প্রশিক্ষণার্থীরা যদি এ টাকা পান তাহলে আমরা কেন পাব না?’

নবীগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সাদিক মিয়া বলেন, ‘আমাদেরকে ভাতা থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু আমরা সেটা বুঝতে পেরেও কোনো ধরনের আন্দোলন করছি না। আমাদের প্রাপ্য ভাতাটুকু বুঝিয়ে দেয়া হোক। অন্যথায় বাধ্য হয়ে আন্দোলনের ডাক দিতে হবে।’

সদর উপজেলার গদাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খন্দকার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘অনলাইনে প্রশিক্ষণ নেয়া কতটা কষ্ট আর ব্যয়বহুল সেটা কেবল আমরাই জানি। একটি ক্লাস করতে এক গিগাবাইট ডাটা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন চারটি করে ক্লাস করতে হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কম্পিউটারের সামনে সারাদিন বসে থাকতে গিয়ে চোখের কতটা ক্ষতি হয়েছে সেটা কেবল আমরাই জানি। কিন্তু এরপরও যদি আমাদের ন্যায্য টাকাটা না পাই তাহলে কষ্টের কথা কাকে বলব?’

শিক্ষক রাহুল দাশ বলেন, ‘আমরা সবাই নতুন চাকরি পেয়েছি। আমাদের বেতন মাত্র সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। এই বেতনে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ডিপিএড প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমাদের প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ল্যাপটপ কিনতে হয়েছে। অনেকের গ্রামের ভালো নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে শহরে বাসা ভাড়া করে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। যে কারণে অনেক শিক্ষক এখনও ঋণগ্রস্থ।’

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট রওশনারা খাতুন বলেন, ‘ডিপিএডের প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ চলার সময় একটা ভাতা পান। এ বছর মন্ত্রণালয় থেকে ভাতা দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে তারা আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম সরাসরি মন্ত্রণালয়ে অথবা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার জন্য। কারণ এ বিষয়ে আমার কোনো ক্ষমতা নেই।’

আরও পড়ুন:
সেই ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না চবি
চট্টগ্রামে আরেক মাদ্রাসায় পিটুনি, শিক্ষক আটক
চট্টগ্রামে মাদক মামলায় দুই ভাইয়ের জেল
অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ
দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে চায়ের নিলাম

শেয়ার করুন

ঘুষ নেয়ায় সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত

ঘুষ নেয়ায় সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত

এর আগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মুকুল। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার বিকেলে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম আব্দুর রফেলের কাছে ঘুষ চাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে ওই আইন কর্মকর্তার ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন মুকুল।

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ বুধবার সকালে তাকে বরখাস্ত করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম আব্দুর রফেলের কাছে ঘুষ চাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে ওই আইন কর্মকর্তার ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন মুকুল।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রফেল ঘটনাটি ফেসবুকে শেয়ার করলে আলোচিত হয়।

সাবরেজিস্ট্রার তার অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা ও দলিল লেখককে ডেকে ঘটনাটি মিটমাট করে দেয়ার অনুরোধ জানান। এরপর আব্দুর রফেলকে ফোন দিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। বারবার তাকে ফোন দিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে তিনি টাকা ফেরত না নিয়ে ঢাকা চলে যান।

কুষ্টিয়ার সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ বলেন, ‘বি এম আব্দুর রফেল আমার দপ্তরে আসার পর দ্রুত ওনার কাজ করে দিই। পরে শুনেছি তার কাছে কয়েকজন টাকা চেয়েছিলেন। আমি তখন অফিস ফির টাকা বাদে বাকি টাকা ফেরত দিতে বলেছি। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মুকুলকে। রফিকুলের সঙ্গে বাকি যারা ছিলেন, তারা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী না হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি।’

সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম আব্দুর রফেল জানান, জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহের কার্যালয়ে যান। সেখানে তার সঙ্গে বড় ভাই ছিলেন। দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর অফিসের ক্লার্ক মুকুল ও সহযোগী আক্কাস তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এ সময় ওই আইন কর্মকর্তা টাকার রসিদ দাবি করেন। রেজিস্ট্রার অফিসের ওই দুই কর্মচারী রসিদ দিতে অপারগতা জানালে বি এম রফেল নিজের পরিচয়পত্র দেখান। এ সময় ওই দুই কর্মচারী ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন।

তারা বলেন, এটা এখানকার নিয়ম। বি এম রফেল এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রেজিস্ট্রি অফিস ত্যাগ করলে তার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন মুকুল।

বি এম রফেল বলেন, ‘এখানে যে কী ভোগান্তি, তা নিজে প্রত্যক্ষ করলাম আজ।’ আমার যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে পাবলিক কী পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হয়, তা সহজেই বোঝা যায়।’

পরে বি এম রফেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা সরকারি অফিস। আমিও একজন কর্মকর্তা। পরিচয় দেয়ার পরও তারা টাকা দাবি করেন। এটা কি কারও দেখার নেই? আমি খুবই মর্মাহত বিষয়টি নিয়ে। এটার একটা সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। আমি পরিচয় দিলে ন্যূনতম সম্মানও উনি দেখাননি।’

এর আগে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর ঘুষের ১ লাখ ৪ হাজার টাকাসহ সদর সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ ও তার অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলকে আটক করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আরও পড়ুন:
সেই ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না চবি
চট্টগ্রামে আরেক মাদ্রাসায় পিটুনি, শিক্ষক আটক
চট্টগ্রামে মাদক মামলায় দুই ভাইয়ের জেল
অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ
দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে চায়ের নিলাম

শেয়ার করুন

শিশু ধর্ষণচেষ্টা, থানায় মামলা

শিশু ধর্ষণচেষ্টা, থানায় মামলা

প্রতীকী ছবি

ওই ব্যক্তির সঙ্গে শিশুটির বাবার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। ওই ব্যক্তি টাকা নিয়ে ফেরত দিতে গড়িমসি করায় কয়েক দিন আগে ওই শিশুর বাবার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি শিশুটির ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কচাকাটা থানায় শিশুটির বাবা মামলা করেছেন। তবে নিউজবাংলাকে বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম।

ওসি মাহবুবুল জানান, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকেলে উপজেলার বল্লভের খাস ইউনিয়নের একটি গ্রামে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই ব্যক্তির সঙ্গে শিশুটির বাবার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। ওই ব্যক্তি টাকা নিয়ে ফেরত দিতে গড়িমসি করায় কয়েক দিন আগে ওই শিশুর বাবার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি শিশুটির ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন। এরপরই সোমবার বিকেলে মেয়েটি মাঠে ছাগল চরিয়ে বাড়ি ফেরার সময় ওই ব্যক্তি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে ধর্ষণচেষ্টা করেন। সে সময় শিশুটির ফুফু ও ওই ব্যক্তির ভাবি ঘটনাস্থলে চলে আসেন। ওই ব্যক্তি তাদের দেখতে পেয়ে ঘরের বেড়া ভেঙে পালিয়ে যান।

ওসি মাহবুবুল আলম জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটির বাবা একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাতে মামলা করা হয়। ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
সেই ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না চবি
চট্টগ্রামে আরেক মাদ্রাসায় পিটুনি, শিক্ষক আটক
চট্টগ্রামে মাদক মামলায় দুই ভাইয়ের জেল
অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ
দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে চায়ের নিলাম

শেয়ার করুন

পরিবেশ কর্মকর্তার বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতন, থানায় স্ত্রী

পরিবেশ কর্মকর্তার বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতন, থানায় স্ত্রী

অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ফারাহানা আলম।

কিশোরীর বরাত দিয়ে শাহপরান থানার পুলিশ জানায়, মারধরের পর গৃহকর্মী রুনাকে বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। নির্যাতনের সময় তার শরীরে মরিচের গুঁড়াও ছিটিয়ে দেয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের পরিচালকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ অভিযোগে ফারহানা আলম চৌধুরী নামের ওই নারীকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

পেশায় ব্যাংকার ফারহানা পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের পরিচালক এমরান হোসেনের স্ত্রী। নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার একটি বাসায় থাকেন তারা।

ওই বাসা থেকেই বুধবার বিকেলে তাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আর দুপুরে বাসার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় নির্যাতিত কিশোরী রুনা আক্তারকে।

পুলিশ জানায়, কিশোরী গৃহকর্মীকে বাথরুমে তালাবদ্ধ করে শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ফারহানার বিরুদ্ধে। থানায় এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, উপশহরের ই-ব্লকের ২১ নম্বর বাসায় (ফিরোজা মঞ্জিল) পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান সপরিবারে থাকেন। বুধবার সকাল থেকে ওই বাসার ভেতরে কিশোরীর কান্না শুনতে পান প্রতিবেশীরা। বুধবার দুপুরে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে গৃহকর্মী কিশোরীকে উদ্ধার করে।

কিশোরীর বরাত দিয়ে শাহপরান থানার পুলিশ জানায়, মারধরের পর গৃহকর্মী রুনাকে বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। নির্যাতনের সময় তার শরীরে মরিচের গুঁড়াও ছিটিয়ে দেয়া হয়।

দুপুরে রুনাকে উদ্ধারের পর বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান হোসেনের স্ত্রী ফারহানাকে শাহপরান থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটিকে আমরা উদ্ধার করেছি। ওই বাসার গৃহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’

আরও পড়ুন:
সেই ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না চবি
চট্টগ্রামে আরেক মাদ্রাসায় পিটুনি, শিক্ষক আটক
চট্টগ্রামে মাদক মামলায় দুই ভাইয়ের জেল
অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ
দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে চায়ের নিলাম

শেয়ার করুন