শিশুবক্তার মাদ্রাসা

‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলামের মারকাজুন নূর আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার তালাবন্ধ দরজা। ছবি: নিউজবাংলা

‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মাদ্রাসায় তালা

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত ২৫ মার্চ বাড়িয়ালী-নলজানী ঈদগাহ মাঠে ওই মাদ্রাসার হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান উপলক্ষে শানে রিসালাত মহাসম্মেলন নামে একটি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রফিকুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন। ওই অনুষ্ঠানের পর দিন থেকে মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে।’

গাজীপুরে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলামের মাদ্রাসার মূল দরজার ভেতর দিকে একাধিক তালা ঝুলতে দেখা গেছে। তবে কে, কবে তালা দিয়েছে সে বিষয়ে জানে না কেউ। মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররাই বা কোথায় সেটিও অজানা।

মারকাজুন নূর আল ইসলামিয়া নামে ওই আবাসিক মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও পরিচালক শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম।

মহানগরের বাড়িয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে এই মাদ্রাসায় বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে গিয়ে দেখা যায় সেটি তালাবদ্ধ।

বাড়িয়ালী গ্রামের আব্দুল মোতালেব হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, গত তিনদিন ধরে মাদ্রাসায় কোনো ছাত্র বা হুজুরকে ঢুকতে, বের হতে দেখা যায়নি। খোঁজ নেয়ার জন্য গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে তালা দেয়া।

তিনি নিশ্চিত করেন, ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার এটিই একমাত্র দরজা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত ২৫ মার্চ বাড়িয়ালী-নলজানী ঈদগাহ মাঠে ওই মাদ্রাসার হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান উপলক্ষে শানে রিসালাত মহাসম্মেলন নামে একটি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রফিকুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন। ওই অনুষ্ঠানের পর দিন থেকে মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে।’

মাদ্রাসাটির ছাত্র ও শিক্ষক বেশির ভাগই রফিকুলের নিজ জেলার বলেও জানান মো. সেলিম।

গত এক বছর ধরে আমিনুল হোসেন নামের কালীগঞ্জের এক প্রবাসীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছেন। সেখানে আবাসিক, অনাবাসিক ও ডে-কেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে নুরানী মক্তব, নাযেরা, হিফজ বিভাগ ছাড়াও প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রফিকুল ইসলামকে নেত্রকোণা থেকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) ইলতুৎ মিশ জানান, ‘গত ১০ ফেব্রুয়ারি মহানগরের বোর্ড বাজারের কলমেশ্বর এলাকায় একটি কারখানা চত্বরে ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বুধবার রাত সোয়া দুইটার দিকে গাছা থানায় মামলা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/২৮/৩১ ধারায় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ ইত্যাদি অপরাধের বর্ণনা ও শাস্তির কথা রয়েছে।

২৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে-

(ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে, এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যাহা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন করিবার অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন, বা

(খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণু করিবার, বা বিভ্রান্তি ছড়াইবার, বা তদুদ্দেশ্যে, অপপ্রচার বা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ, বা প্রচার করেন বা করিতে সহায়তা করেন,

তা হলে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

২৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

২৫ (৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

আইনের ২৮ ধারায় ওয়েবসাইট বা কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার ইত্যাদি অপরাধের বর্ণনা ও শাস্তির কথা রয়েছে।

২৮ (১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যাহা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

২৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

২৮ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

আইনের ৩১ ধারায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর মতো অপরাধ ও দণ্ড সম্পর্কে বলা আছে।

৩১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যাহা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

৩১(২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

৩১(৩) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গাছা থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) আবদুল্লাই ইবনে সাঈকে। তবে মামলাটি নিজেরা তদন্তের জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

গাজীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরিফুল ইসলামের আদালতে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে তোলা হলে শুনানি শেষে বিচারক রফিকুলকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর দুপুরে তাকে জেলা কারাগারে নেয়া হয়েছে।

এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের সময় রফিকুলকে আটক করেছিল রমনা থানার পুলিশ। সেখানে তিনি মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন, আর এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না।

আরও পড়ুন:
‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ র‍্যাবের
রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি: ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল আটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ

তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকায় প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। এ ছাড়া ৫ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

দেশের বৃহত্তম তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে চলতি বছরের জুনে। নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে সেচের পানি নিশ্চিত করতে ১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক সভায় সম্প্রতি প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে শুরু হয়ে শেষ হবার কথা রয়েছে ২০২৪ সালের শেষের দিকে। ফলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের এলাকা ৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর এবং সেচযোগ্য এলাকা ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে তিস্তা কমান্ড এলাকায় প্রথম পর্যায়ে সেচ কাঠামোসহ প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর সেচ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে কমান্ড এলাকায় ৫ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর ছাড়াও আরও ৪ লাখ ২৮ হাজার ৫৯৪ হেক্টর সেচযোগ্য এলাকা সেচসুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, প্রকল্পটির আওতায় ৭৬৬ কিলোমিটার সেচখালের ডাইক শক্তিশালী করা হবে। ৭২ কিলোমিটার সেচপাইপ স্থাপন করা হবে। স্লোপ প্রোটেকশন দেওয়া হবে ১০ দশমিক ০৮ কিলোমিটার।

বাইপাস সেচখাল নির্মাণ করা হবে ৭ দশমিক ১৩ কিলোমিটার। ২৭টি কালভার্ট নির্মাণ, জলাধার পুনঃখনন ২৭০ হেক্টর এবং সাড়ে ৯ কিলোমিটারের চ্যানেল পুনঃখনন করা হবে।


তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে রংপুরে

এ ছাড়া ৫২ কিলোমিটার পরিদর্শন রাস্তা মেরামত, ২০টি রেগুলেটর নির্মাণ ছাড়াও ৮৭ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মনে করে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় ফসলের নিবিড়তা ২৩১ থেকে ২৬৮ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। এ ছাড়া ৫ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশনসুবিধাসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার সেচখাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর, রংপুর জেলা সদর, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া এবং দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর, খানসামাসহ ১২ উপজেলায় প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আমন মৌসুমে সম্পূরক সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, সেচের কারণে প্রকল্প এলাকায় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বার্ষিক গড়ে ১০ লাখ মেট্রিক টন। প্রতিবছর ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে ১ কেটি ১৩ লাখ লিটার, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। ফসলের নিবিড়তা ১৮০ থেকে ২৩৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্প এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এলাকাভেদে ১ মিটার থেকে ৩ দশমিক ৫০ মিটার ওপরে ওঠায় বনায়ন বৃদ্ধিসহ অভ্যন্তরীণ নদীগুলোয় সারা বছর পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে রংপুরে

তিনি বলেন, প্রধান সেচখালগুলোর উভয় ডাইকে (পাড়) ব্যাপক হারে বনায়নের ফলে জীববৈচিত্র্যের উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০ কিলোমিটার সেচখাল, ৪৫ হেক্টর এলাকা সিল্টট্রাপে (বালুর সঙ্গে পানি আসে কিন্তু পানি এবং বালু আলাদা হয়) মৎস্য চাষ হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতিপ্রসাদ ঘোষ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ পেয়েছি। দ্রুত দরপত্র আহ্বান এবং কাজ শুরু হবে।’

জ্যোতিপ্রসাদ ঘোষ বলেন, তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলে কৃষিতে বিপ্লবের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রকল্প এলাকায় পরিবেশ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের অধিকতর উন্নতিকরণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত কয়েক লাখ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে।

আরও পড়ুন:
‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ র‍্যাবের
রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি: ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল আটক

শেয়ার করুন

পুকুরে ভেসে উঠল আলীর নিথর দেহ

পুকুরে ভেসে উঠল আলীর নিথর দেহ

২২ মাসের শিশু আলী হোসেন।

মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের উত্তর বানিয়াপাড়া (আসামপাড়া) গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের ছেলে আলী বৃহস্প্রতিবার সকালে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে শুক্রবার ঝিনাইগাতী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুর বাবা জসিম।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর বানিয়াপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পরিত্যক্ত পুকুর থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

২২ মাসের আলী হোসেনের মরদেহ রোববার বিকেলে উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের উত্তর বানিয়াপাড়া (আসামপাড়া) গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের ছেলে আলী বৃহস্প্রতিবার সকালে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে শুক্রবার ঝিনাইগাতী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুর বাবা জসিম।

এর পরই আলীর সন্ধানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় একই গ্রামের চান মিয়ার পরিত্যক্ত পুকুরে ভেসে ওঠে শিশুটির মরদেহ। পরে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, এএসপি (নালিতাবাড়ি সার্কেল) আফরুজা সুলতানা ও ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান।

শিশুর বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘যেখান থেকে ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে তো বড়দের যাওয়াই অনেক কষ্টের। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ‘বেশ কিছু বিষয় নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ র‍্যাবের
রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি: ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল আটক

শেয়ার করুন

গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫

গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫

দগ্ধদের মধ্যে একজন। ছবি: নিউজবাংলা

‘শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরের বাকলিয়ায় তাস খেলার সময় গ্যাস লাইট দিয়ে সিগারেটে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছিলেন একজন। এ সময় গ্যাস লাইটটি বিস্ফোরিত হয়ে কক্ষে আগুন লেগে যায়। এতে দগ্ধ হন পাঁচজন।’

চট্টগ্রামে গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।

নগরের বাকলিয়া থানার ভড়াপুকুর পাড় এলাকায় শনিবার রাত ৮টার দিকে তাস খেলার সময় সিগারেটে আগুন ধরাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মধু সুদন দত্ত, যদু বিশ্বাস, পংকজ দে, কিশোর কুমার এবং প্রদীপ দাস।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ভড়াপুকুর পাড় এলাকায় তাস খেলার সময় গ্যাস লাইট দিয়ে সিগারেটে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছিলেন একজন। এ সময় গ্যাস লাইট বিস্ফোরিত হয়ে কক্ষে আগুন লেগে যায়। এতে দগ্ধ হন পাঁচজন।’

তিনি আরও জানান, ‘দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের ৩৬ নম্বর বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে প্রদীপ দাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

আরও পড়ুন:
‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ র‍্যাবের
রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি: ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল আটক

শেয়ার করুন

বদমেজাজের জন্য বাবাকে হত্যার স্বীকারোক্তি আদালতে

বদমেজাজের জন্য বাবাকে হত্যার স্বীকারোক্তি আদালতে

বাবা হত্যায় গ্রেপ্তার সোহান। ছবি: নিউজবাংলা

আদালতে স্বীকারোক্তিতে সোহান জানান, তার বাবা ক্যানসার ছাড়াও নানা রোগে ভুগছিলেন। সবার সঙ্গে বদমেজাজে কথা বলতেন। তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতেন। এসব কারণে তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন।

মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতেন। পাশাপাশি বাড়ির সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। এ কারণে বাবাকে হত্যার কথা জানিয়ে আদালতে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন এক যুবক।

তার নাম মো. সোহান। শনিবার যশোরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গৌতম মল্লিক তার জবানবন্দি নেন। পরে মা-ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন তিনি।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই নিহতের বড় ভাই আবেদ আলী চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন।

ওই দিন সকালে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাবরকাটি গ্রামের নিজ ঘর থেকে ৪৪ বছর বয়সী আহাদ আলীর মর‌দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আহাদ আলী এক সময় ট্রাক চালাতেন। তাকে খুনের অভিযোগে স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ছেলেকে আটক করে পুলিশ।

আদালতে স্বীকারোক্তিতে সোহান জানান, তার বাবা ক্যানসার ছাড়াও নানা রোগে ভুগছিলেন। সবার সঙ্গে বদমেজাজে কথা বলতেন। তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতেন। এসব কারণে তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন।

বুধবার রাতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন গৃহকর্তা আহাদ। ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা ছিল। বাঁশের মাথায় ছু‌রি বেঁধে জানালার ফাঁক দি‌য়ে রা‌তে বাবাকে আঘাত করেন সোহান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার।

আঘাত করার পর ছুরিটি ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন সোহান।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ছেলে-মেয়েরা যে ঘরে থাকে। তার পাশের ঘরে বুধবার রাতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন আহাদ আলী।

ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলে ছেলে-মেয়েরা ডাক দেয়। সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তারা দেখে, আহাদ আলীর বুকে ছুরি মারা এবং শরীর রক্তাক্ত। বাবার মরদেহ দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মরদেহের সুরতহাল রি‌পোর্ট এবং ঘটনাস্থ‌ল প‌রিদর্শনে সন্দেহ হয় হত্যায় প‌রিবারের লোকজন জ‌ড়িত। সন্দেহ থেকেই পু‌লিশ আহাদ আলীর স্ত্রী জেস‌মিন আক্তার, ছে‌লে সোহান ওরফে হারুন ও মেয়েকে জিজ্ঞাসাবা‌দের জন্য হেফাজ‌তে নেয়। পরে তারা সব স্বীকার করলে জবানবন্দি দিতে আদালতে তোলা হয়।

আরও পড়ুন:
‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ র‍্যাবের
রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি: ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল আটক

শেয়ার করুন

জমি দখলে বাধা দেয়ায় ‘হামলার শিকার’ বীর মুক্তিযোদ্ধা

জমি দখলে বাধা দেয়ায় ‘হামলার শিকার’ বীর মুক্তিযোদ্ধা

শনিবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার বাজার রেলগেট এলাকার নুর ইসলামের নেতৃত্বে তার ছেলে পার্থ ইসলাম, শাহিনুর ইসলাম, মো. বাচ্চু, মো. শামিম, আতিউর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধার জমিটি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম ও তার ছেলে বাঁধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

নীলফামারীর ডোমারে নিজের জমি দখলে বাধা দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সকালে ডোমার শহরের চিকনমাটি ধনীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তানভির ইসলাম সিদ্দিকী। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা শরীফুল।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চিকনমাটি মৌজার ১৪ শতকের মধ্যে ছয় শতক জমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভোগ-দখল করে আসছেন। ওই জমির একাংশে তাদের পরিবারের অনেকের কবরও রয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার বাজার রেলগেট এলাকার নুর ইসলামের নেতৃত্বে তার ছেলে পার্থ ইসলাম, শাহিনুর ইসলাম, মো. বাচ্চু, মো. শামিম, আতিউর রহমান ওই জমিটি দখলের চেষ্টা করে।

এ সময় বীরমুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম ও তার ছেলে বাঁধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে তারা লাঠি দিয়ে শরিফুল ইসলামকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

আসামি নুর ইসলাম তার বুকের উপর উঠে গলাটিপে ধরে ও নাকে ঘুষি মারে। এ সময় এলাকাবাসী ছুটে এসে শরিফুল ইসলামকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ র‍্যাবের
রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি: ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল আটক

শেয়ার করুন

হাওরে ঘুরতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

হাওরে ঘুরতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

ডুবে যাওয়া যুবকের মরদেহ ঘোড়াউত্রা নদী থেকে উদ্ধার করছে ডুবুরিরা। ছবি: নিউজবাংলা

হাওরের নদীতে গোসল করবেন বলে বাড়ি থেকে পাঁচ বন্ধুর সবাই বাড়তি কাপড়ও এনেছিলেন সঙ্গে করে। পরে ঢাকী সেতুর নিচে পরিষ্কার পানি দেখে গোসলের ইচ্ছা হয় তাদের। পানিতে নেমে অনেকক্ষণ সাঁতার কাটেন তারা। দুপুর দুইটার দিকে নদী পার হওয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। পাঁচজনের মধ্যে চারজন নদী পার হতে পারলেও অর্ধেক নদীতে গিয়ে ডুবে যান মাজহারুল।

ঈদের ছুটিতে হাওরের সৌন্দর্য্য ‍উপভোগ করতে এসে প্রাণ হারালেন এক যুবক।

ওই যুবক মারা গেছেন নদীতে সাঁতরানোর সময়। বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলছিল কারা আগে নদী পার হতে পারবেন। তিনি মাঝ নদী পর্যন্ত যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার করে মরদেহ।

তার নাম মাজহারুল ইসলাম। ২৮ বছর বয়সী এই যুবক করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের সাইটুটা এলাকার বাসিন্দা।

শনিবার বিকেল চারটার দিকে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঢাকী সেতুর নিচে ঘোড়াউত্রা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট।

নিহতের বন্ধু সোহাগ মিয়া জানান, মাজহারুল ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঈদে বাড়ি এসেছিলেন। সকালে তারা সিদ্ধান্ত নেন হাওরে ঘুরতে আসবেন।

হাওরের নদীতে গোসল করবেন বলে বাড়ি থেকে পাঁচ বন্ধুর সবাই বাড়তি কাপড়ও এনেছিলেন সঙ্গে করে। পরে ঢাকী সেতুর নিচে পরিষ্কার পানি দেখে গোসলের ইচ্ছা হয় তাদের।

পানিতে নেমে অনেকক্ষণ সাঁতার কাটেন তারা। দুপুর দুইটার দিকে নদী পার হওয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। পাঁচজনের মধ্যে চারজন নদী পার হতে পারলেও অর্ধেক নদীতে গিয়ে ডুবে যান মাজহারুল। তাকে খুঁজেও না পেয়ে খবর দেন ফায়ার সার্ভিসে।

হাওরে ঘুরতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে
যুবকের ডুবে যাওয়ার খবরে নদী তীরে ভিড় করে শত শত মানুষ

মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের কর্মকর্তা আল-আমিন জানান, বাহিনীটির ডুবুরি দল প্রায় দুই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মাঝ নদীর তলদেশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

সাঁতার জানা মাজহারুল কীভাবে ডুবে গেলেন- তার ব্যাখ্যায় আল আমিন বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকতেন। সাঁতার জানলেও চর্চা ছিল না। নদীটা একেবারে সরু ছিল না। মাঝ নদীতে যাওয়ার পর হাঁপিয়ে উঠেন বলে ধারণা করছি।’

মিঠামইন থানার উপপরিদর্শক আল মামুন হাওলাদার জানান, মরদেহ উদ্ধার করার পর তার পরিবারের লোকজন এসে শনাক্ত করে। এরপর মরদেহটি থানায় নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ র‍্যাবের
রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি: ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল আটক

শেয়ার করুন

ধর্ষণ মামলায় মাওলানা গ্রেপ্তার

ধর্ষণ মামলায় মাওলানা গ্রেপ্তার

কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় জানান, ধর্ষণের অভিযোগে মাওলানাকে আসামি করে শনিবার মামলা করেছেন তরুণীর স্বামী। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় এক মাওলানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার একটি ভাড়া বাসা থেকে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করা হয়। পরে গৃহবধূর স্বামীর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলায় বলা হয়, ঈদের কিছু দিন আগে ওই তরুণীকে নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন তার স্বামী। গৃহবধূকে ‘জ্বিনে আছর’ করেছে জানিয়ে শুক্রবার রাতে স্থানীয় ওই মাওলানাকে ডেকে আনেন স্বামী ও তার বন্ধুরা। ঘরে ঢোকার একটু পর তরুণী ছাড়া সবাইকে বাইরে যেতে বলেন মাওলানা।

সবাই বাইরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মেয়েটির চিৎকারে ভেতরে ঢোকেন স্বামী ও তার বন্ধুরা। সেখানে তরুণীকে অস্বাভাবিক অবস্থায় পান তারা। পরে ধর্ষণের অভিযোগে মাওলানাকে মারধরের পর কুলাউড়া থানা পুলিশে দেয়া হয়।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় নিউজবাংলাকে জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাওলানাকে আসামি করে শনিবার মামলা করেছেন তরুণীর স্বামী। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ র‍্যাবের
রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি: ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল আটক

শেয়ার করুন