সাভারে আগুন

আশুলিয়ার শিমুলিয়া বাজারে আগুন লেগে পুড়ে গেছে ১০টি দোকান। ছবি: নিউজবাংলা

আগুনে পুড়ল পোশাক কারখানা

সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কারখানায় আগুন লাগার সময় ভেতরে কোনো শ্রমিক ছিল না। তাই কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।’

ঢাকার সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আগুন লেগে পুড়ে গেছে গুদামে রাখা কাপড়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় শমীর প্লাজার আট তলা ভবনের সপ্তম তলায় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিটওয়্যার লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ও সাভার ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত নয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সময় ভেতরে কোনো শ্রমিক ছিল না। তাই কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে গোডাউনে রাখা তৈরি পোশাক সব পুড়ে গেছে।’

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ার শিমুলিয়া বাজারে আগুন লেগে দশটি দোকান পুড়ে গেছে।

সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, একটি ছিঁড়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত। বাজারটিতে কমপক্ষে ১৫০ দোকান ছিল। আগুন সব দোকানে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ফায়ার সার্ভিসের তিন ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত দুইটার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে।

আরও পড়ুন:
পেট্রল উৎপাদনকারী প্ল্যান্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কয়েলের আগুনে সর্বস্বান্ত আসমা
গাজীপুরে সুতা কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে 
স্ত্রী-ছেলেকে ঘরে রেখে আগুন দেয়ার অভিযোগ
লালখানে আগুনে পুড়েছে ৫ দোকান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শ্বশুরবাড়িতে এসে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

শ্বশুরবাড়িতে এসে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জুয়েল জানান, শিবলু মিয়া কয়েক দিন আগে বনগ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনদের সঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলতে যান তিনি। এ সময় বজ্রপাতে তিনজন আহত হন।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে শ্বশুরবাড়িতে এসে ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে শিবলু মিয়া নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন দুজন।

উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের বনগ্রাম গ্রামে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

২২ বছর বয়সী শিবলু মিয়া টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান গ্রামের বাসিন্দা। আহত দুজন হলেন রনি ও জীবন।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জুয়েল জানান, শিবলু মিয়া কয়েক দিন আগে বনগ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনদের সঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলতে যান তিনি। এ সময় বজ্রপাতে শিবলু মিয়াসহ তিনজন আহত হন।

পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক শিবলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
পেট্রল উৎপাদনকারী প্ল্যান্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কয়েলের আগুনে সর্বস্বান্ত আসমা
গাজীপুরে সুতা কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে 
স্ত্রী-ছেলেকে ঘরে রেখে আগুন দেয়ার অভিযোগ
লালখানে আগুনে পুড়েছে ৫ দোকান

শেয়ার করুন

ভারতীয় সন্দেহে আটক যুবকের বাড়ি জামালপুরেই

ভারতীয় সন্দেহে আটক যুবকের বাড়ি জামালপুরেই

ভারতীয় সন্দেহে আটক করা হয়েছিল সুমন মিয়াকে। ছবি: নিউজবাংলা

‘সুমন মিয়া ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পলবান্ধা গ্রামের মৃত তালেব মেম্বারের ছেলে। সোমবার সকালে মা জরিফুল বেগম ও স্ত্রী আকলিমা বেগমের সঙ্গে ঝগড়া করে বকশিগঞ্জে আসেন তিনি।’

জামালপুরের বকশিগঞ্জে ভারতীয় নাগরিক সন্দেহে আটক যুবকের বাড়ি এই জেলার ইসলামপুর উপজেলায়।

তার নাম সুমন মিয়া। ২০ বছরের সুমন ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পলবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বকশিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট।

সোমবার রাতে উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে সুমন মিয়াকে আটক করে স্থানীয়রা। আটকের ১৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে সুমন মিয়াকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, সোমবার রাতে সীমান্ত এলাকায় এক যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের জানানো হয় তিনি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার কোতোয়ালি থানার এশকোশ গ্রামের বাসিন্দা।

বকশিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুমন মিয়াকে আটক করে করোনা শনাক্তের পরীক্ষার পর বকশিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশনে রাখা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

‘সুমন মিয়া ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পলবান্ধা গ্রামের মৃত তালেব মেম্বারের ছেলে। সোমবার সকালে মা জরিফুল বেগম ও স্ত্রী আকলিমা বেগমের সঙ্গে ঝগড়া করে বকশিগঞ্জে আসেন তিনি। স্থানীয়রা তাকে আটক করলে ঘাবড়ে গিয়ে তার বাড়ি ভারতে বলেছিলেন। মঙ্গলবার রাত আটটায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পেট্রল উৎপাদনকারী প্ল্যান্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কয়েলের আগুনে সর্বস্বান্ত আসমা
গাজীপুরে সুতা কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে 
স্ত্রী-ছেলেকে ঘরে রেখে আগুন দেয়ার অভিযোগ
লালখানে আগুনে পুড়েছে ৫ দোকান

শেয়ার করুন

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’, বাবা গ্রেপ্তার

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’, বাবা গ্রেপ্তার

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মজিবুল হক জানান, তিন দিনের জন্য বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সী ওই মেয়ের মা। এ সময় রোববার রাতে তিনি মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করেন।

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মেয়েকে ধর্ষণ মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের পাহাড় থেকে তাকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মজিবুল হক নিউজবাংলাকে জানান, তিন দিনের জন্য বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সী ওই মেয়ের মা। এ সময় রোববার রাতে তিনি মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করেন।

এর আগে তিনি মাদক মামলায় তিনবার জেলে গেছেন।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন বলেন, ‘সোমবার আমরা ভিকটিমকে উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে নিই। এরপর সে বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি জানান, মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে তার বাবাকে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পেট্রল উৎপাদনকারী প্ল্যান্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কয়েলের আগুনে সর্বস্বান্ত আসমা
গাজীপুরে সুতা কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে 
স্ত্রী-ছেলেকে ঘরে রেখে আগুন দেয়ার অভিযোগ
লালখানে আগুনে পুড়েছে ৫ দোকান

শেয়ার করুন

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

আরও পড়ুন:
পেট্রল উৎপাদনকারী প্ল্যান্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কয়েলের আগুনে সর্বস্বান্ত আসমা
গাজীপুরে সুতা কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে 
স্ত্রী-ছেলেকে ঘরে রেখে আগুন দেয়ার অভিযোগ
লালখানে আগুনে পুড়েছে ৫ দোকান

শেয়ার করুন

২৮ বছর পর গ্রেপ্তার সাজাপ্রাপ্ত আসামি

২৮ বছর পর গ্রেপ্তার 
সাজাপ্রাপ্ত আসামি

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪-এর সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডাকাতির অভিযোগে ১৯৯২ সালের ১০ ডিসেম্বর থানায় একটি মামলা হয়। এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়ে এত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে নাম-পরিচয় গোপন রেখে পলাতক ছিলেন হাসেম।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডাকাতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামিকে ২৮ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। এত বছর নিজের পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেপ্তার আসামির নাম হাসেম। তিনি তারাকান্দা উপজেলার কুঠুরাগাঁও গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার বিকেলে র‌্যাব-১৪-এর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কাঞ্চনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪-এর সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডাকাতির অভিযোগে ১৯৯২ সালের ১০ ডিসেম্বর থানায় একটি মামলা হয়। এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়ে এত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে নাম-পরিচয় গোপন রেখে পলাতক ছিলেন হাসেম।

রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার উপস্থিতি জানতে পেরে র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-৩ ভৈরব ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কাঞ্চনপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ বছর বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাসেম পলাতক ছিলেন। তাকে গৌরীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পেট্রল উৎপাদনকারী প্ল্যান্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কয়েলের আগুনে সর্বস্বান্ত আসমা
গাজীপুরে সুতা কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে 
স্ত্রী-ছেলেকে ঘরে রেখে আগুন দেয়ার অভিযোগ
লালখানে আগুনে পুড়েছে ৫ দোকান

শেয়ার করুন

সিলেট-৩: মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৬ জন

সিলেট-৩: মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৬ জন

আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা শফি আহমদ চোধুরী ছাড়া তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারা হলেন জাহেদুর রহমান মাসুম, জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া এবং ফাহমিদা হোসেন রুমা। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার জমা দেয়ার শেষ দিনে তারা সশরীরে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে হাজির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় প্রার্থীদের সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা শফি আহমদ চোধুরী ছাড়া তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারা হলেন জাহেদুর রহমান মাসুম, জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া এবং ফাহমিদা হোসেন রুমা। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

সিলেটের জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের এই ছয়জনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখন জমা দেয়া মনোনয়নগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৮ জুলাই এ আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন:
পেট্রল উৎপাদনকারী প্ল্যান্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কয়েলের আগুনে সর্বস্বান্ত আসমা
গাজীপুরে সুতা কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে 
স্ত্রী-ছেলেকে ঘরে রেখে আগুন দেয়ার অভিযোগ
লালখানে আগুনে পুড়েছে ৫ দোকান

শেয়ার করুন

অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ

অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ

রাজশাহীতে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ কোভিড অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। ছবি: নিউজবাংলা

আরএমপি কমিশনার বলেন, ‘কোভিড আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের রোগী বা তার স্বজনরা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নম্বরে কল করলে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ পুলিশ সদস্য রোগীর ঠিকানায় উপস্থিত হবেন। সঙ্গে যাবেন একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক গিয়ে রোগীকে পরীক্ষা করে অক্সিজেন দেবেন।’

পুলিশের নম্বরে ফোন দিলেই করোনা রোগীর বাড়ি পৌঁছে যাবে অক্সিজেন। পুলিশের সঙ্গে যাবেন একজন চিকিৎসক।

রাজশাহী মহানগরের করোনা রোগীদের বিনা মূল্যের এই সেবা দিতে চালু করা হয়েছে পুলিশ কোভিড অক্সিজেন ব্যাংক।

নগর পুলিশ কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এই ব্যাংকের উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

অক্সিজেন সরবরাহের এ সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরএমপি থেকে একটি ফোন নম্বর দেয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘কোভিড আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের রোগী বা তার স্বজনরা কন্ট্রোল রুমের নম্বরে কল করলে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ পুলিশ সদস্য রোগীর ঠিকানায় উপস্থিত হবেন। সঙ্গে যাবেন একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক গিয়ে রোগীকে পরীক্ষা করে অক্সিজেন দেবেন। তারা রোগীকে অক্সিজেনসহ চিকিৎসা সেবা দেবেন।’

পুলিশ কমিশনার আবু কালাম বলেন, ‘এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে ইন্সপেক্টরসহ ১০ জনকে সিলিন্ডার ব্যবহার, স্পিড মাত্রা নির্ধারণ ও রিফিল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনকে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।’

৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও শিগগিরই তা ১০০ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অক্সিজেন ব্যাংক উদ্বোধনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমপি কর্মকর্তা সুজায়েত ইসলাম, মজিদ আলী, রশীদুল হাসান, সাজিদ হোসেনসহ অনেকে।

আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের দেয়া কন্ট্রোল রুমের নম্বরটি হলো ০১৩২০-০৬৩৯৯৮।

ঈদের পর করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেসামাল হয়ে পড়েছে। সাধারণ ওয়ার্ডগুলো একের পর এক করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে; সম্প্রসারণ হতে হতে এখন হাসপাতালের এক-চতুর্থাংশ করোনা ইউনিটে রূপান্তর হয়েছে। তারপরও বেড সংকুলান করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
পেট্রল উৎপাদনকারী প্ল্যান্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কয়েলের আগুনে সর্বস্বান্ত আসমা
গাজীপুরে সুতা কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে 
স্ত্রী-ছেলেকে ঘরে রেখে আগুন দেয়ার অভিযোগ
লালখানে আগুনে পুড়েছে ৫ দোকান

শেয়ার করুন