দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মেলে না টিসিবির পণ্য

মানিকগঞ্জে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরই মেলে টিসিবির পণ্য। ছবি: নিউজবাংলা

দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মেলে না টিসিবির পণ্য

মানিকগঞ্জের উকিয়ারা গ্রাম থেকে টিসিবির পণ্য নিতে আসা খোরশেদ আলম বলেন, ‘কম দামে সরকারি মাল নিতে আইসা দফারফা শেষ। হেই সকাল ১০টায় আইছি এখন বাজে ২টা। তারপরও মাল পাইলাম না। আর কোনোদিন মাল নিতে আসুম না। এই রইদে আমরা খামাখা হয়রানি হইতাছি।’

মানিকগঞ্জে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও টিসিবির পণ্য না পেয়ে অনেককে ফিরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পণ্য কিনতে আসা ব্যক্তিরা জানান, কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো যান তারা। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক সময় খালি হাতে তাদের বাড়ি ফিরতে হয়। পণ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় ডিলাররা স্বজনপ্রীতি করেন। আবার সিরিয়াল এগিয়ে অন্যরা পণ্য নিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন জানান, খোলা বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেশ কিছু দিন ধরেই জেলার নিম্ন ও স্বল্পআয়ের মানুষের ভিড় করছে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে। ক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় রাতেও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও লাইনের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। গাঁ ঘেষে দাঁড়িয়েই পণ্য নিচ্ছেন সবাই।

পৌরসভার বান্দুটিয়া এলাকার সাজেদা আক্তার বলেন, ‘তেল, চিনি ও ডাল নিতে আইছিলাম। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কিছুই পাই নাই। বেশ কয়েক দিন আগেও রাতের বেলায় আইসা খালি হাতে চলে গেছি। গরমের মধ্যে অপেক্ষা করে ঘুইরা যাইতেছি, খুব খারাপ লাগতেছে।’

একই এলাকার সৈয়দ নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ডিলারদের পরিচিত কেউ এলেই তাদের পণ্য দিয়ে দেয়। অথবা লাইন ভেঙে তাদের এগিয়ে দেয়া হয়। তারা নিরীহ মানুষ হওয়ায় কিছু বলতে পারেন না।

সদর উপজেলার কাফাটিয়া গ্রামের মরিয়ম আক্তার বলেন, ‘বাজারে তেল, চিনি, ডালের দাম বেশি। তাই একটু সাশ্রয়ের জন্য ১৪ কিলোমিটার দূর থেকে শহরে আসছি। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সাড়ে ৩ ঘণ্টার মতো অপেক্ষার পর দুই কেজি করে চিনি, ডাল ও তেল পাইছি।’

সাটুরিয়ায় নয়াডিঙ্গী এলাকার নারগিস আক্তার বলেন, ‘স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করে। একজনের আয়ে দুই সন্তানসহ চারজনের সংসার চলে না। শুনছি কম দামে এখানে চাল-ডাল পাওয়া যায়, তাই আইছি। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বইসা আছি। কখন যে পামু জানি না।’

সদরের উকিয়ারা গ্রামের খোরশেদ আলম বলেন, ‘কম দামে সরকারি মাল নিতে আইসা দফারফা শেষ। হেই সকাল ১০টায় আইছি এখন বাজে ২টা। তারপরেও মাল পাইলাম না। আর কোনোদিন মাল নিতে আসুম না। এই রইদে আমরা খামাখা হয়রানি হইতাছি।’

মানিকগঞ্জে টিসিবির এক ডিলার জানান, টিসিবি থেকে প্রতিদিন একজন ডিলার ১ হাজার কেজি পেঁয়াজ, ১ হাজার লিটার তেল, ৭০০ কেজি করে চিনি ও মসুর ডাল এবং ৪০০ কেজি ছোলা পায়। এসব পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৫৫ টাকা, পেঁয়াজ ২০ টাকা, ছোলা ৫৫ টাকা, খেজুর ৮০ টাকা এবং প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।

খোলা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, চিনি ৬৮-৭০ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা, মসুর ডাল ৭০-১০০ টাকা, খেজুর ৮৫-৮০০ টাকা এবং ১ লিটার সয়াবিন তেল ১১০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলায় টিসিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. নিজামুল ইসলাম জানান, টিসিবি তাদের যে পণ্য দেয় তাতে সাড়ে ৩০০ মানুষকে দিতে পারেন। কিন্তু পণ্য কিনতে আসেন ৫ শর বেশি মানুষ। তাই অনেকে খালি হাতে ঘুরে যান।

তিনি বলেন, ‘মানুষের মাঝে কোনো ধরনের ডিসিপ্লিন নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে ধাক্কা ধাক্কি করে। এখন সরকার যদি ডিলারদের বরাদ্দ আরেকটু বাড়ায়ে দেয় তাহলে ভালো হয়।’

আরও পড়ুন:
রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্কুলে না গিয়েও শিক্ষক বেতন নিচ্ছেন ৮ বছর!

স্কুলে না গিয়েও শিক্ষক বেতন নিচ্ছেন ৮ বছর!

ক্লাস না নিয়েও বেত তোলার অভিযোগ ওঠা জাহাঙ্গীর হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

অভিযুক্ত শিক্ষকের এক ভাই স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, অন্য ভাই অধ্যক্ষ। সহকারী শিক্ষক পদে রয়েছেন আরেক ভাই। অনেকটাই পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের মতো। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঢাকায় ব্যবসা করা জাহাঙ্গীর সহকারী শিক্ষক পদের বেতন তোলেন নিয়মিত।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় একজন স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি স্কুলে যান না, ক্লাস নেন না, অথচ ৮ বছর ধরে নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন।

ব্যবসার কাজে তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও রহস্যজনকভাবে হাজিরা খাতায় থাকে তার স্বাক্ষর।

ঘটনাটি কৈজুরি ইউনিয়নের চরকৈজুরি গ্রামের কৈজুরি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের। সেখানে অভিযুক্ত স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘ ৮ বছর ধরে স্কুল না করেই নিয়মিত বেতন ভাতা তুলছেন। তিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজটির সভাপতি ও কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের ভাই। তাদের আরেক ভাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক।

জাহাঙ্গীর ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় ব্যবসা করেন। আর স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক পদে নাম লিখে নিয়মিত বেতন ভাতা তুলছেন। কাগজে কলমে হাজিরা ঠিক থাকলেও তিনি কোনোদিন স্কুলে উপস্থিত থাকেন না। ক্লাস রুটিনে তার নামও নেই।

স্কুল শিক্ষকের অনিয়ম নিয়ে কৈজুরি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হারুনার রশিদ সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার, দূর্ণীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা, শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ হোসেন ও শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহাদাৎ হোসেন প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন। তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা প্রাথমিক তদন্ত। এ বিষয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন। তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অভিযোগকারী মো. হারুনার রশিদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হোসেন জীবনে কখনেও বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রদের ক্লাস নেননি। ক্লাস রুটিনে তার নামও নেই। তিনি ঢাকায় ব্যবসা করেন। এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ তার বড় ভাই আব্দুল খালেক। আর সভাপতি আপন সেজভাই সাইফুল ইসলাম। এ ছাড়া তার মেজভাই আব্দুল মালেক একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ঢাকার ব্যবসা আমার নয়, চতুর্থ ভাই মাওলানা মোস্তফা কামালের। তিনি পূর্ব চরকৈজুরি নতুনপাড়া মোশারফিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার সুপার। আমি মাঝেমধ্যে ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা দেখাশোনা করি।

‘চাকরির পাশাপাশি অনেকেই তো ব্যবসা করেন। আমি করলে দোষ কোথায়। আমার ভাইদের সাথে অভিযোগকারীর পূর্ব বিরোধ আছে। সে কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ করেছেন।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। তাই আগে কিছু বলা যাবে না।

আরও পড়ুন:
রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

শিশু বলাৎকারের অভিযোগে ৩ যুবক কারাগারে

শিশু বলাৎকারের অভিযোগে ৩ যুবক কারাগারে

বাজারে একটি ফলের দোকানে চাকরির সুবাদে তিন আসামিসহ শিশু একটি বাসায় ভাড়া থাকত। আসামিরা শিশুটিকে বেশ কয়েকবার বলাৎকার করেছে। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে যুবকদের গ্রেপ্তার করে।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ফল দোকানে কর্মরত এক শিশু শ্রমিককে বলাৎকারের অভিযোগ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামি মো. রাব্বির ও মো. সুমনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায়। আরেক আসামি দিদার হোসেনের বাড়ি সদর উপজেলার ১৯ নম্বর চরমটুয়া ইউনিয়নে। মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে পুলিশ উপজেলার চাটখিল বাজার থেকে তাদের আটক করে। পরে নির্যাতিত শিশুর বাবা শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে চাটখিল থানায় মামলা করেন।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, শিশুটি চাটখিল বাজারে একটি ফলের দোকানে চাকরির সুবাদে তিন আসামিসহ একটি বাসায় ভাড়া থাকত। সেখানে আসামিরা শিশুটিকে বেশ কয়েকবার বলাৎকার করেছে। এ ঘটনা কাউকে না জানাতে শিশুটিকে হুমকি দেয়া হয়।

চাটখিল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নির্যাতিত শিশুর বাবা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

সূর্যমুখীতে টেনে এনে চাষিকে ‘পানিতে ফেলল’ কৃষি বিভাগ 

সূর্যমুখীতে টেনে এনে চাষিকে ‘পানিতে ফেলল’ কৃষি বিভাগ 

বীজ সার দিয়ে সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ যোগালেও ফসল ওঠার পর কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না কৃষি বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

কিশোরগঞ্জে এই ফসলটির চাষ বাড়াতে নানাভাবে উৎসাহ দিয়ে কৃষকদের বিপাকে ফেলেছে কৃষি বিভাগ। ফলন ভালো হলেও বীজ ভাঙানোর সুবিধা নেই। এই অবস্থায় তারা ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। কৃষি বিভাগ বলছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তেল ভাঙানো হয়। তাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছে।

হাওরে সূর্যমুখী চাষ নিয়ে কয়েক মাস ধরে দর্শনার্থীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হলেও কৃষকের জন্য এই বীজ এখন তৈরি করেছে বিপত্তি।

কৃষি বিভাগ চাষিদের এই বীজ চাষে উৎসাহ দিয়েছে বিনা মূল্যে বীজ আর সার দিয়ে। কৃষক ঘরে ফসল তুলেছে যখন বীজ বিক্রি করতে পারছে না, তখন তাদের পাশে দাঁড়ায়নি কৃষি বিভাগ।

এই বীজ দিয়ে তেল ভাঙানোর ব্যবস্থা নেই জেলায়। বাজারে বীজ নিয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা যে দাম বলেন, তাতে চাষের খরচই ওঠে না। এ অবস্থায় কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।

চাষিদের এই ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক ছাইফুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সূর্যমুখীর বীজ এ মুহূর্তে বিক্রি করার করার ক্ষেত্রে সমস্যা হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো বিক্রির ব্যবস্থা আমরাই করে দেব। যে সমস্যা এখন হচ্ছে, সেটা কিছুদিনের মধ্যেই সমাধান হবে।’

কৃষকদের এই তথ্য জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। যদিও নিউজবাংলার সঙ্গে যে কজন চাষি কথা বলেছেন, তাদের কেউই এ ধরনের তথ্য দেননি।

কেবল হাওর নয়, জেলার ১৩টি উপজেলাতেই কম-বেশি চাষ হয়েছে। ৩৩৫ হেক্টর জমিতে এই তেলবীজের ক্ষেতগুলো গত কয়েক মাস ধরেই এলাকাবাসী ও দূরের মানুষদের আগ্রহের বস্তু হয়ে রয়েছে।

দল বেঁধে ছবি তুলতে গিয়ে কখনও কখনও গাছের ক্ষতিও করেছে তারা। কেউ আবার কৃষকের ক্ষতি করে ফুলও ছিঁড়ে নিয়ে এসেছে।

ফুল আসার পর কৃষকের বিরক্তি এ কারণে ছিল ছবি তুলতে আসা মানুষদের ভিড় নিয়ে। পাহারা দিয়েও রাখতে হতো জমি।

কদিন আগে কালবৈশাখি অনেক ক্ষেতের ফুল নষ্ট করে দিয়েছে। তবে যারা ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন, তারাও যে স্বস্তিতে আছেন, তা নয়।

নতুন ফসল হওয়ায় এই বীজ নিয়ে কী করতে হবে, তা-ও বুঝে উঠতে পারছে না কৃষকেরা। পাওয়া যাচ্ছে না ক্রেতা। বাজারে নিয়ে গেলেও কেউ জিজ্ঞেস করে না বলে জানিয়েছেন তারা।

বিক্রি না করতে পেরে বীজ ভাঙিয়ে তেল বানানোর চেষ্টাও সফল হচ্ছে না। যে মেশিন দিয়ে সরিষা ভাঙানো হয়, সেটা দিয়ে সূর্যমুখী ভাঙতে গেলে পরিমাণে অনেক কম তেল পাওয়া যাচ্ছে।

জেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সূর্যমুখী ভাঙানোর মেশিন কিশোরগঞ্জে নেই। পরিমাণে সঠিক তেল পেতে হলে বা বীজের ন্যায্যমূল্য পেতে চাইলে যেতে হবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে।

কিন্তু একেকজন কৃষকের যে পরিমাণ বীজ আছে, সেগুলো নিয়ে রূপগঞ্জে আসাও লাভজনক হওয়ার কথা না।

মিঠামইন উপজেলার মহিষারকান্দি বেড়িবাঁধ এলাকায় ৪০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন বাহাউদ্দীন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কৃষি অফিস আমরারে বিনা পয়সায় বীজ আর সার দিছে। এর লাইগ্যা সূর্যমুখির চাষ করছিলাম।

‘সারা বছর পাহারা দেয়া ফসল ঘর তুইল্যা বিপদে পড়ছি। ছয় মণ বীজ আছে আমার ঘরো। কিন্তু কেমনে কী করাম কিছুই বুঝতাছি না। কই বেচন যাইব এইডাও জানি না। কেউ জিগায়ও না।

‘উপায় না পায়া অহন এক কেজি, দুই কেজি কইরা যারা পক্ষী (পাখি) পালে হেরার কাছে বেচতাছি। ভাঙানোরও জাগাও পাইতাছি না।’

এই চাষি বলেন, ‘জমিত ফুল আওনের (আসার) পরে যেমনে মাইনষে দেখত আইছিন, সেইবালা (সে সময়) খুব ভালা লাগত। কিন্তু কেডা জানত, পরে এই অবস্থা হইব। এই ফসল ফলায়া আমি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত।’

ইটনা উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের ময়নাহাটি হাওরে এক একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন আবদুল হেকিম। তিনি বলেন, ‘ফসল বালাই অইছে। কিন্তু এই বীজ লইয়া কিবা কী করবাম তা বুঝতাছি না। ধানের বেপারী তো হারাদিনই আয়ে। কিন্তু সূর্যমুখী কিনত কেউ আয়ে না।’

পাকুন্দিয়া উপজেলার আদিত্যপাশা এলাকার কৃষক মো. শফিক ও জাকির হোসেন সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন ৩০ শতাংশ জমিতে। ফলন খুব খুব ভালো হয়েছে। তবে ক্রেতা পাচ্ছেন না তারাও।

মিঠামইনের কুনকুনি হাওরে তিন একর জমিতে ফসল ফলানো মজিবুর রহমান ফসল ঘরে তুলতে পারেননি কালবৈশাখির কারণে।

তিনি বলেন, ‘ঝড়ে আমার সব শেষ। জমিতে ফসল পাওনের কথা ৬০ মণ। পাইছি না ছয় মণও।’

মজিবুর জানান, তার ৪০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে এই ফসল চাষ করে।

নিকলী সদর ইউনিয়নের চারিদ্বার এলাকার পাটছাড়া কান্দায় ৭৫ শতাংশ জমিতে চাষ করেছিলেন মিয়া হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি ফসল ঘরই আনতাম পারছি না। জমিতেই শেষ। হেই বালায় পর্যটকদের ভিড় বেশি বাইড়া গেছিল। সামলাতাম না পাইরা না টেহা নেয়া ছবি তুলতাম দিছি।

‘চাষ করছিলাম ফসলের আশায়। কিন্তু আর কোনো উপায় আছিন না।’

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক ছাইফুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সূর্যমুখী পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ফসল হওয়ায় কৃষকেরা একটু সমস্যায় পড়েছে। তার মধ্যে আবার ঝড়েও ক্ষতি করেছে।’

‘সরিষা যে ঘানিতে ভাঙে সেখানেও সূর্যমুখী ভাঙানো যায় তবে পরিমাণে তেলটা কম পাওয়া যায়। সূর্যমুখী ভাঙানোর জন্য আলাদা স্পেশালাইজড মেশিন রয়েছে, তবে কিশোরগঞ্জে সেটা এখনও আসেনি।’

তাহলে কৃষক এখন কী করবে, এমন প্রশ্নে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটা অয়েল মিল রয়েছে। তারা বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী কিনে ভাঙায়। আমরা সেখানেও যোগাযোগ করছি। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, আমরা সেই উদ্যোগ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

এক ভবনে পোশাক কারখানার দুই গুদামে আগুন নিয়ে রহস্য

এক ভবনে পোশাক কারখানার দুই গুদামে আগুন নিয়ে রহস্য

ফায়ার সার্ভিস বলছে, সাত তলার ছাদে থাকা গুদামের আগুন তারা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এর পরেই হঠাৎ নিচতলার গুদাম কক্ষে সব পুড়ে যায়, যা রহস্যজনক।

ঢাকার সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানা ভবনে দুটি গুদামে আগুনের ঘটনায় রহস্য দেখছে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক ও ফায়ার সার্ভিস।

কারখানার সাত তলার গুদামে আগুন নিভতে না নিভতে মাঝের ছয় তলা অক্ষত থাকা অবস্থায় নিচ তলার গুদামে সব কিছু পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আগামী ১৩ এপ্রিল কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা রয়েছে। এর আগে আগুন লাগার পর তাদের মধ্যে ধারণা জন্মেছে মালিকপক্ষ ক্ষতি দেখিয়ে বেতন পরিশোধ না করার অজুহাত দেখাতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, সাত তলার ছাদে থাকা গুদামের আগুন তারা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এর পরেই হঠাৎ নিচতলার গুদাম কক্ষে সব পুড়ে যায়, যা রহস্যজনক।

শনিবার ভোরে জিরাবো এলাকার সিলভার অ্যাপারেলস লিমিটেডে আগুনের খবর পেয়ে পৌনে ছয়টায় ফায়ার ইউনিট কারখানায় পৌঁছায়। কারখানার সাত তলায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ছয়টি ইউনিট।

মূলত কারখানা কর্তৃপক্ষ সাত তলার ছাদে টিনশেডের মাধ্যমে এই গুদাম তৈরি করেছে। চার হাজার বর্গফুটের গুদামটির এক পাশে অল্প পরিসরে ছিল ক্যান্টিন।

ছাদের আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘণ্টাখানেক কাজ করার পরেই নিচতলার গুদামে আবার আগুন লাগে বলে জানায় কারখানার লোকজন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দুই হাজার বর্গফুটের এই গুদামের আগুনও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আগুনের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

কারখানাটির অপারেটর মমিন শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাগো বেতন দেয়ার কথা আছিল ১০ তারিখ। এখন আমাগো বেতন দেয়ার কথা ১৩ তারিখ। আইজকা ফ্যাক্টরির এই অবস্থা, এখন আমাগো তো বেতন দিব না। ক্ষতি হইছে মনে করেন অল্প। কিন্তু বিশাল আকারে ক্ষতি দেখায়া বেতন না দিয়া গেটে তালা দিয়া দিব।

‘প্রত্যেক মাসে আগে সেলারি দিত ১৫ তারিখ। তারপর আমরা বলেকয়ে ১০ তারিখ আনছি। এখন বেতন না পাইলে আমাগো মনে করেন থালা-বাটি নিয়া পথে নামতে হইব।’

শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা স্বাধীন বাংলা গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের আশুলিয়া শাখার সভাপতি আল কামরান বলেন, ‘আজকের আগুনের চিত্রটা একটু ভিন্ন ধরনের। আগুন লাগার খবরে আমরা সকাল থেকেই কারখানার সামনে। আমাদের একটা প্রশ্ন আগুনটা লাগল উপরে। সেই আগুনটা কীভাবে আবার নিচে চলে আসল?

‘এই কারখানায় অনেক শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে। আর যেহেতু করোনা আর শ্রমিকদের বেতন সংশ্লিষ্ট বিষয়, তাই অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, এটা তদন্ত করে দেখা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের সিলভার গ্যালারি নামে আরেকটি কারখানা আছে। ওই কারখানাটায় আগামী ১২ এপ্রিল বেতন দেয়ার কথা। কিন্তু ওই কারখানাটি কিন্তু তারা ইতোমধ্যেই ক্লোজ করছে।’

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাত তলা বিল্ডিংয়ের উপরে তারা এক শেড করছে। চার হাজার স্কয়ার ফুটের কিছু অংশ খালি ছিল। এর মধ্যে কিছু অংশে গার্মেন্টের মালপত্র রাখত। আর কিছু অংশে ওয়ার্কারদের খাওয়ার ক্যান্টিন। আর নিচতলার দুই হাজার স্কয়ার ফুটের গুদামে মালপত্র রাখা ছিল। কিছু ফেব্রিকস রাখা ছিল সেগুলো পুড়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রথমে সাত তলায় আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলাম। এক ঘণ্টা পর নিচতলার ওয়্যারহাউজ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল প্রচুর। তখন দেখলাম যে, সেখানেও আগুন। তখন আমি একটু বিপদেই পড়েছিলাম।’

সাত তলা থেকে আগুন কীভাবে নিচতলায় ছড়ালো এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ড্রাক লাইনগুলোর ফাঁক দিয়ে (ইলেকট্রিক্যাল লাইন) আগুন নিচতলায় আসতে পারে। তবে আমরা তদন্ত করে বুঝতে পারব কিসের কারণে। এটা আপাতত নিশ্চিত না। কী কারণে আগুনটা লাগছে সেটা আমিও স্পেসিফিক বলতে পারতেছি না। এটার একটা তদন্ত কমিটি হবে অবশ্যই।

‘যদি এরা (কারখানা কর্তৃপক্ষ) আবেদন করে তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি হবে। আর তারা না করলে সেটা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ডিসিশন নেবে।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে মো. লিটন নামে কারখানাটির এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

তবে কারখানার ডিএমডি এস এম শাহজামান রওশন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে। উপরে প্রায় ১৫-২০ লাখ পিস মাল ছিল কাটিং করা। কোনো লোকজন কারখানায় ছিল না। তাই কেউ আহত হয়নি। আমরাও ইনভেস্টিগেশন করতেছি।’

নাশকতা বা পরিকল্পিত কি না এমন প্রশ্নে বলেন, ‘আমি কখনই এটা মনে করি না। তারপরও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কী কারণে কীভাবে হইছে আমি বুঝতে পারব। ইলেকট্রিক লাইন থেকেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।’

আরও পড়ুন:
রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

ফ্ল্যাটে লিফটের নিচে মরদেহ, হত্যা বলে সন্দেহ

ফ্ল্যাটে লিফটের নিচে মরদেহ, হত্যা বলে সন্দেহ

পুলিশের ধারণা হত্যার পর দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে লিফট উপরে উঠিয়ে চাবি দিয়ে দরজা খুলে মরদেহ নিচে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় ফ্ল্যাটের দুই তত্ত্বাবধায়ককে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে।

গাজীপুরের টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকার একটি বাড়ির লিফটের নিচ থেকে ঝুট ব্যবসায়ীর অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর নাম কাজী আব্দুল হালিম।

শনিবার বিকেলে শরিফুল ইসলামের ভাড়া বাড়ির লিফটের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হালিম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চাপাচিল গ্রামের মিমির আলীর ছেলে।

হালিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বাড়ির দুই তত্ত্বাবধায়ক লিটন ও শরিফকে আটক করা হয়েছে।

এই ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হালিম তার বোনকে নিয়ে সেই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত বুধবার সকালে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।

শনিবার বাড়িতে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে তার সূত্র ধরে মরদেহটি বের হয়। পরে পুলিশে জানানো হয়।

নিহতের বোন বিলকিস বলেন, ‘গত শুক্রবার (২ এপ্রিল) আমার স্বামী মারা যান। এরপর সঙ্গ দিতে ভাই আমার বাসায় থাকত।’

নিহতের স্ত্রী লায়লা বেগম বলেন, ‘বুধবার থেকে হালিম নিখোঁজ হলে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। আজ দুপুরে পুলিশ মরদেহ শনাক্তের জন্য আমাকে ফোন করে।’

প্রাথমিক তদন্তের পর টঙ্গী থানা পুলিশ জানিয়েছে, হালিমকে হত্যা করার পর দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে লিফট উপরে উঠিয়ে চাবি দিয়ে দরজা খুলে মরদেহ নিচে ফেলে দেয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। আটক দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

আরও পড়ুন:
রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

রাতে বাড়ি ফেরার পথে কুপিয়ে হত্যা

রাতে বাড়ি ফেরার পথে কুপিয়ে হত্যা

রাতে স্থানীয় একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা খোকা শেখকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া নিতে বলেন। তবে সেখানে আর নেয়া যায়নি। পথেই প্রাণ হারান তিনি।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে খোকা শেখ নামে এক স্থানীয় মাতবরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার রাতে কামারখন্দ উপজেলার স্বল্প মাহমুদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খোকা শেখ ওই গ্রামের মৃত সাবের আলী শেখের ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, রাতে স্থানীয় একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা খোকা শেখকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বগুড়ায় জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসক। সেখানে নেয়ার পথে মারা যান খোকা।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম রাকিবুল হুদা নিউজবাংলাকে জানান, খোকা শেখকে হত্যার ঘটনায় রাতে তার মরদেহ থানায় আনা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন

নিজ ঘরে কিশোরের গলাকাটা মরদেহ

নিজ ঘরে কিশোরের গলাকাটা মরদেহ

সালাউদ্দীনের স্বজনদের বিলাপ। ছবি: নিউজবাংলা

‘কে বা কারা হত্যায় জড়িত এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খুঁজে বের করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশেমপুর মালিপাড়া এলাকায় নিজের ঘর থেকে সালাউদ্দীন আহমেদ নামে এক কিশোরের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। সেখান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, কিশোরদের মধ্যে কোন্দলের জেরে প্রাণ দিতে হয়েছে সালাউদ্দীনকে।

নিহতের বাবা বাবু সরদার জানান, গত রাতে সালাউদ্দীন ও তার বন্ধু রসুলপুরের সাগর হোসেন একই কক্ষে ছিল। দুপুরের দিকে সাগরের বাবা সহিদুল ইসলাম তাকে সালাউদ্দীনের খোঁজ নিতে বলেন। তিনি তখন বাড়িতে গিয়ে তার ছেলের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

সালাউদ্দীনকে রাতে সাগর হোসেনই হত্যা করেছে, এমন অভিযোগ করে তার বিচার দাবি করেছেন নিহতের বোন রীতামনি। তিনি বলেন, সব সময় একসঙ্গে ঘুরত সাগর ও সালাউদ্দীন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাগর ও সালাউদ্দীনের নেতৃত্বে এলাকায় একটা ‘কিশোর গ্যাং’ গড়ে উঠেছে। তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়াত।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বুরহানউদ্দিন বলেন, ‘সাগর ও সালাউদ্দিন মাদকাসক্ত। মাদকের ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে সাগর তার বন্ধু সালাউদ্দিনকে গলা কেটে হত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় রসুলপুরের রফিকুল ইসলাম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সাগরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামসুল হক শামস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘কে বা কারা হত্যায় জড়িত এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খুঁজে বের করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’

সিটি কলেজ এলাকায় কিশোরদের অপরাধমূলক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে বলে শোনা যাচ্ছে। সালাউদ্দীন হত্যায় বিষয়টি সামনে এসেছে। এটি পুলিশের মাথায় রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রমজান উপলক্ষে টিসিবির ৫০০ ট্রাক
পণ্যের দাম কমাতে পারে না কেন টিসিবি
 কম দামের পণ্যের আশায় হন্যে মানুষ
খোলাবাজারে পণ্য বাড়াচ্ছে সরকার
অনলাইনে পেঁয়াজ কবে থেকে জানে না টিসিবি

শেয়ার করুন