নেত্রকোণায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে  শিশুর মৃত্যু 

নেত্রকোণায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে  শিশুর মৃত্যু 

খালিয়াজুরী থানার ওসি মজিবুর রহমান শিশুটির পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, বাড়ির পাশে মাটির গর্তে বৃষ্টির পানি জমে ছিল। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শিশুটি সেখানে একা খেলা করছিল। এক সময় সবার অগোচরে শিশুটি ওই গর্তে পড়ে যায়।

নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে ঘরের পাশে থাকা পানিভর্তি গর্তে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

শিশুটি উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের ফতুয়া গ্রামের পালোয়ান মিয়ার দেড়বছর বয়সী ছেলে ওবায়দুল্লাহ ।

খালিয়াজুরী থানার ওসি মজিবুর রহমান শিশুটির পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, বাড়ির পাশে মাটির গর্তে বৃষ্টির পানি জমে ছিল। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শিশুটি সেখানে একা খেলা করছিল।

এক সময় সবার অগোচরে শিশুটি ওই গর্তে পড়ে যায়। পরিবারের লোকজন শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করে। এক পর্যায়ে গর্ত থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

শিশুটিকে দ্রুত খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর সেখানকার চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সোনালী আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক

সোনালী আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক

ভাল দাম পেয়ে পাট চাষে ঝুঁকছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুরের অনেক চাষি। ছবি: নিউজবাংলা

নাগরপুরের কৃষকরা জানান, বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরে সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্ষার পানি আসার পর তারা পাট কাটা শুরু করেন। ওই পানিতেই জাগ দেন। গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাড়ির পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। ভাল দাম পেয়ে পাট চাষে ঝুঁকছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুরের অনেক চাষি। এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট তোলায় ব্যস্ত কিষাণ-কিষাণি, এনিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে গ্রামে।

নাগরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, গত বছরের চেয়ে এবার পাট চাষ বেড়েছে। উপজেলায় এক হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আগের বছর আবাদ হয়েছিল এক হাজার ৩৩১ হেক্টর জমিতে।

অন্য ফসলের চেয়ে পাটের জমিতে শ্রমিকের মজুরিসহ অন্য খরচ কম। এতে লাভ বেশি হওয়ায় উপজেলার কৃষকদের মাঝে পাট চাষের আগ্রহ বেড়েছে। গত মৌসুমের শেষের দিকে পাটের দাম দাঁড়িয়েছিল মন প্রতি ছয় হাজার টাকায়।

সোনালী আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক
পাটের আঁশ শুকাতে দিচ্ছেন কৃষক

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, প্রকৃতি ও বাজার চাষিদের অনুকূলে হওয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নাগরপুরে প্রতিবছরই বাড়ছে। এ বছর আবাদ করা পাটগাছ কেটে কৃষকরা এরই মধ্যে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান চাষিরা।

নাগরপুর উপজেলা অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় কম-বেশি সব ইউনিয়নে পাটের আবাদ হয়ে থাকে। বাজার দর অনুযায়ী উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে পাটের ভালো লাভ পাচ্ছেন কৃষকরা।

তারা জানান, বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরে সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্ষার পানি আসার পর তারা পাট কাটা শুরু করেন। ওই পানিতেই জাগ দেন। গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাড়ির পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নাগরপুরের গয়হাটা ইউনিয়নের চাষি রবি মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এর মধ্যে রয়েছে বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা ও রোদে শুকিয়ে ঘরে তোলা পর্যন্ত আনুষাঙ্গিক খরচ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর আমি দুই জাতের পাটের আবাদ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস পাট বীজসহ বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এলাকায় পাটের হাট হিসাবে প্রায় প্রতিটি বাজার পরিচিত হলেও গয়হাটার হাট উল্লেখযোগ্য। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে বেপারিরা এসে পাট কিনে নিয়ে যান।’

সোনালী আঁশের সুদিন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কৃষক
পাট কাটতে ব্যস্ত কৃষক

পাট চাষি হাসমত আলী বলেন, ‘ধানের মতো পাটের বাজারও যেন সিন্ডিকেটের দখলে চলে না যায়। সেজন্য সরকারিভাবে পাটের দাম নির্ধারণ ও ক্রয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন শাকিল নিউজবাংলাকে জানান, পাটের জমিতে শ্রমিক কম লাগে, জমির আগাছা ওষুধ প্রয়োগ করেই নির্মূল সম্ভব। সব মিলিয়ে পাটের দাম বেড়েছে। পাট ছাড়ানোর পর কাঠি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব কারণে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষকরা পাট চাষে ঝুঁকছেন।

বর্তমান বাজারদরে বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল পাট চাষ করে কৃষকের লোকসান হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই বলে জানান কৃষিবিদ ইমরান।

শেয়ার করুন

ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর অনাস্থা

ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর অনাস্থা

কুষ্টিয়া সদরের বটতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোমিন মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

গত সপ্তাহে মেম্বাররা তাদের ১৭ মাসের বকেয়া সম্মানী ভাতা পরিশোধ না করায় জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া সদরের বটতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোমিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন ১১ জন মেম্বার।

জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলামের কাছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই অনাস্থা প্রস্তাবটি দেয়া হয়।

এরপর মেম্বাররা এ বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেও অনাস্থা প্রস্তাবের প্রতিলিপি দেয়া হয়। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান মেম্বাররা।

গত সপ্তাহে মেম্বাররা তাদের ১৭ মাসের বকেয়া সম্মানী ভাতা পরিশোধ না করায় জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন।

মেম্বার ফরিদ আহমেদ বলেন, এই ইউনিয়নে ধান-চালের মোকাম থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা কর পাওয়া যায়। অথচ মেম্বারদের সম্মানী বাবদ বছরে ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন না চেয়ারম্যান। পেশী শক্তি ব্যবহার করে তিনি ইউনিয়নকে অকার্যকর করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন মেম্বাররা।

শেয়ার করুন

আড়াইহাজারে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

আড়াইহাজারে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

আড়াইহাজার থানার ওসি জানান, সকালে ঘরের বেড়া ঠিক করছিলেন আব্দুল করিম ভূইয়া ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম। এ সময় প্রতিবেশী আত্মীয় ইমান আলী বাধা দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ইমান দা দিয়ে করিম ও তার স্ত্রীকে আঘাত করেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। এর আগে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার ভিটিকলাগাছিয়া এলাকায় হামলার ওই ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা।

স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সকালে ঘরের বেড়া ঠিক করছিলেন আব্দুল করিম ভূইয়া ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম। এ সময় প্রতিবেশী আত্মীয় ইমান আলী বাধা দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ইমান দা দিয়ে করিম ও তার স্ত্রীকে আঘাত করেন।

তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে হালিমাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে দুপুরে হালিমার মৃত্যু হয়।

ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি করিমের মেয়ের দেবর। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।

শেয়ার করুন

পাবনায় ভ্যাকসিন ছাড়াই খালি সিরিঞ্জ পুশ, দুই নার্স প্রত্যাহার

পাবনায় ভ্যাকসিন ছাড়াই খালি সিরিঞ্জ পুশ, দুই নার্স প্রত্যাহার

ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, জেলায় টিকাদানে নিযুক্তরা সবাই স্টাফ নার্স ও অভিজ্ঞ। স্বাস্থ্যকর্মীরাও প্রশিক্ষিত। এ ধরনের ভুল হওয়ার কথা নয়। তারপরও ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করেন তিনি।

পাবনায় এক মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিন ছাড়াই খালি সিরিঞ্জ পুশের অভিযোগে দুই নার্সকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের টিকা কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।

যাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন মেরিনা ও মিতা।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক কে এম আবু জাফর নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানান, নার্সরা তাকে জানিয়েছে খালি সিরিঞ্জ পুশের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল হান্নান জানান, তার মেয়ে সাবাহ মরিয়াম ঢাকার একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। বুধবার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে হাসপাতালে যান সাবাহ। এ সময় নার্সরা তার হাতে একটি খালি সিরিঞ্জ পুশ করে। বিষয়টি নজরে এলে প্রতিবাদ জানান তিনি। তখন তাড়াহুড়ো করে সিরিঞ্জ বের করায় রক্ত বের হয়। পরে ভ্যাকসিনসহ আরেকটি সিরিঞ্জ পুশ করা হয় অন্যহাতে।

তিনি আরও জানান, তার মেয়ে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত বুঝতে পারে। এটিকে গুরুতর অপরাধ ও কর্তব্যে অবহেলা মনে করে তিনি বলেন, নার্সরা কেন এমন করলেন, তা তার বোধগম্য নয়।

তবে এ ঘটনায় নার্সদের কোনো অবহেলা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখার কথা জানান ডা. আবু জাফর।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। এরপরও পাবনা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি টিকা কেন্দ্রে সার্বিক নজরদারিও বাড়ানো কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, জেলায় টিকাদানে নিযুক্তরা সবাই স্টাফ নার্স ও অভিজ্ঞ। স্বাস্থ্যকর্মীরাও প্রশিক্ষিত। এ ধরনের ভুল হওয়ার কথা নয়। তারপরও ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করেন তিনি।

এর আগে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ নম্বর বুথে রোববার অন্তত ২০ জনের দেহে করোনার টিকা না দিয়েই কেবল সিরিঞ্জের সুঁই পুশ করার অভিযোগ ওঠে। সেখানে টিকাদানের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন। এ ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর ভাষ্য, বেশি মানুষের চাপে তাড়াহুড়োর মাঝে ‘অনিচ্ছাকৃত’ ঘটনাটি ঘটেছে।

শেয়ার করুন

টঙ্গীতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫ পুলিশ

টঙ্গীতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫ পুলিশ

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি তৈরি পোশাক কারখানার কয়েক শ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে টঙ্গীর ভাদাম এলাকায় ক্রসলাইন নিট ফেব্রিক্স লিমিটেড কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। পুলিশ তাদের থামাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৫৮টি ফাঁকা গুলি, ২১ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

এ ঘটনায় আহতদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন শিল্প পুলিশের (টঙ্গী জোন) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এমদাদুল হক, কনস্টেবল মেহেদী, সাব্বির, আশরাফুল ও মারুফ তমাল।

আহত আনসার সদস্যরা হলেন মোয়াজ্জেম হোসেন, রেজাউল করিম, মোহাম্মদ আলী মোল্লা।

তবে আহত শ্রমিকদের পরিচয় জানা যায়নি।

ক্রসলাইন নিট ফেব্রিক্স লিমিটেডের কয়েকজন শ্রমিক জানান, কারখানার ১৬ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার থেকে কয়েক শ শ্রমিক বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করছিলেন।

বিষয়টি সমাধানের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ বুধবার সময় ঠিক করে দেয়। কিন্তু বুধবার সকালে কাজে এলে বিষয়টি সমাধান না করায় দুপুরের পর আবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে।

পরে সন্ধ্যায় মালিকপক্ষ বৃহস্পতিবার সমাধান করবে বলে জানায়। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখেন। এ সময় তারা কারখানার ২ নম্বর গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (টঙ্গী জোন) আব্দুল জলিল জানান, আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধের নোটিশ দেয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কারখানার নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জোর করে কারখানার গেট ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করতে চান। এ সময় শ্রমিকদের বাধা দিলে পুলিশের ওপর তারা হামলা চালান। এ ঘটনায় পাঁচজন পুলিশ ও তিনজন আনসার সদস্য আহত হন। তাদের চিকিৎসা চলছে।

কারখানার শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের পর হঠাৎ কারখানা কর্তৃপক্ষ কয়েকজন শ্রমিককে ছাঁটাই করে। কিন্তু আমরা এই ছাঁটাই মানি না। বৃহস্পতিবার কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে আমরা শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে বহু শ্রমিক আহত হয়েছে।’

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকরা গতকাল (বুধবার) বিক্ষোভের সময় কারখানার বেশ কয়েকজন স্টাফকে মারধর করে। এ পরিস্থিতিতে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

পরিদর্শক আব্দুল জলিল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানার সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ৮০২, মৃত্যু ১৫ 

কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ৮০২, মৃত্যু ১৫ 

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিনই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। করোনার বরাদ্দকৃত আসনের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে।

কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন।

পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬১৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

শনাক্তদের মধ্যে ১৯০ জনই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা।

বাকিদের মধ্যে আদর্শ সদরের ২৭, সদর দক্ষিণের ২২, বুড়িচংয়ের ৩২, ব্রাহ্মণপাড়ার ৩৮, চান্দিনার ৩৫, চৌদ্দগ্রামের ৮৬, দেবিদ্বারের ৩২, দাউদকান্দির ৩৪, লাকসামের ৫৩, লালমাইয়ের ১১, নাঙ্গলকোটের ৭০, বরুড়ার ৬২, মনোহরগঞ্জের ২১, মুরাদনগরের ১২, মেঘনার ১৭, তিতাসের ৪০ জন এবং হোমনা উপজেলার ৩০ জন।

যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের চারজন এবং দাউদকান্দি, মুরাদনগরের দুইজন করে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে আদর্শ সদর, বুড়িচংয়, ব্রাহ্মণপাড়া, চৌদ্দগ্রাম, দেবিদ্বার, বরুড়া, মনোহরগঞ্জের একজন করে মারা গেছেন।

মৃতদের মধ্যে আটজন নারী এবং সাতজন পুরুষ।

জেলায় এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৭২জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৫৫ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হলেন ১৭ হাজার ৫৬০জন।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিনই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। করোনার বরাদ্দকৃত আসনের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ‘জেলায় শতভাগ টিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এখন প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস।’

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় চালানে ভারত থেকে এলো ১৯ ওয়াগন পাথর

দ্বিতীয় চালানে ভারত থেকে এলো ১৯ ওয়াগন পাথর

ভারতের হলদিবাড়ি রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে পাথরবোঝাই ১৯ ওয়াগনের একটি ট্রেন বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টায় চিলাহাটি এসে পৌঁছে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিটি ওয়াগনে গড়ে ৫৯ টন করে মোট এক হাজার ১২২ টন পাথর এসেছে। এই পাথর যাবে সৈয়দপুরে। ওয়াগন রেখে ভারতীয় ইঞ্জিনটি (লোক মোটিভ) ভারতে ফিরে গেছে।

ব্রডগেজ রেলপথে ভারত থেকে আরও ১৯ ওয়াগন পাথর এসেছে নীলফামারীর চিলাহাটিতে।

ভারতের হলদিবাড়ি রেলস্টেশন থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টায় চিলাহাটি স্টেশনে এসে পৌঁছায় এই পাথরের ওয়াগনগুলো।

প্রতিটি ওয়াগনে গড়ে ৫৯ টন করে মোট এক হাজার ১২২ টন পাথর এসেছে। ওয়াগন রেখে ভারতীয় ইঞ্জিনটি (লোক মোটিভ) ভারতে ফিরে গেছে।

চিলাহাটি রেলস্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, এর আগে ১ আগস্ট বিকেলে ভারত থেকে ৪০টি ওয়াগনে ২ হাজার ২৮৫ দশমিক ২০ টন পাথর নিয়ে পণ্যবাহী ট্রেন চিলাহাটি আসে। এসব পাথর যশোরের নওয়াপাড়ায় পাঠানো হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার যে ১৯টি ওয়াগনে পাথর এসেছে তা যাবে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। সেখানে পাথর খালাস করা হবে।

২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রেন উদ্বোধন করা হয়েছিল। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছিলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনের সাত মাস পর এ পথে পণ্য পরিবহনে উভয় দেশ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্কের আরও একটি নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হয়েছে। এখন থেকে এ পথে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে পন্য আমদানি-রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন