দুই ইউপি নির্বাচন: সংঘর্ষ, প্রচার ক্যাম্প ভাঙচুর

বরগুনা সদর ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জাফরের প্রচার ক্যাম্প ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

দুই ইউপি নির্বাচন: সংঘর্ষ, প্রচার ক্যাম্প ভাঙচুর

বরগুনা সদর ইউপিতে দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করেন বিদ্রোহী প্রার্থী।

বরগুনা সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু জাফর ও জহিরুল ইসলাম সৌরভের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

এ সময় জাফরের প্রচার ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে।

অন্যদিকে, জেলার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকতারুজ্জামান বাদল খানের বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি, মারধর ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ মোহসিন।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনা সদর ইউনিয়নের ঢলুয়া এলাকায় বরগুনা-বরইতলা সড়কে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আবু জাফরের সমর্থকেরা মানববন্ধন করেন।

আবু জাফর জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ঢলুয়ায় তার প্রচার ক্যাম্পে ভাঙচুর করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সৌরভের সমর্থকরা।

মানববন্ধনে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সৌরভ নিজে তার সমর্থকদের নিয়ে জাফরের প্রচার ক্যাম্পে ভাঙচুর চালান। এ সময় তারা জাফরের সমর্থকদের গালাগালি ও হুমকি দেন।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, সৌরভ ও তার ছোট ভাই জিয়াউল হাসান সরাসরি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, সৌরভ এলাকার শিশুদের টাকা দিয়ে তার প্রচারের কাজে ব্যবহার করেছেন।

তবে সৌরভ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জাফরের সমর্থকরা তার ছোট ভাই আজহারিকে মারধর করে আহত করেছেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর জাফরের লোকেরা নিজেদের প্রচার ক্যাম্প ভাঙচুর করে নাটক সাজিয়েছেন।

এদিকে, চাওড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতারুজ্জামান বাদল খানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন, সমর্থক ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মহসীন।

দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহসিন বলেন, ২৩ মার্চ বিকেলে তালুকদার বাজার যাওয়ার পথে পাতাকাটা এলাকায় বাদলের সমর্থকদের হামলায় তার সাত কর্মী আহত হন। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া ওই সময়ে দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন বাদলের সমর্থকরা।

তিনি বলেন, বাদল নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রাত ৯টা পর্যন্ত মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালান।

‘ব্রিজের নামে গায়েবি প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আলোচিত এই বাদল। আমি ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে তিনি আরও বেশি ক্ষুব্ধ।’

এ বিষয়ে আকতারুজ্জামান বাদল খান বলেন, ‘মহসিনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। নৌকার বিরুদ্ধে যাওয়ায় এলাকায় তার ভোটার-সমর্থক নেই। এসব কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন আমার বিরুদ্ধে এসব অপ্রচার চালাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনেই প্রচার চালিয়ে আসছি এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই মাঠে আছি।’

আরও পড়ুন:
পেয়েও পেলেন না তিনি
ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা, আহত ১০

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাতে বাড়ি ফেরার পথে কুপিয়ে হত্যা

রাতে বাড়ি ফেরার পথে কুপিয়ে হত্যা

রাতে স্থানীয় একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা খোকা শেখকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া নিতে বলেন। তবে সেখানে আর নেয়া যায়নি। পথেই প্রাণ হারান তিনি।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে খোকা শেখ নামে এক স্থানীয় মাতবরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার রাতে কামারখন্দ উপজেলার স্বল্প মাহমুদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খোকা শেখ ওই গ্রামের মৃত সাবের আলী শেখের ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, রাতে স্থানীয় একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা খোকা শেখকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বগুড়ায় জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসক। সেখানে নেয়ার পথে মারা যান খোকা।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম রাকিবুল হুদা নিউজবাংলাকে জানান, খোকা শেখকে হত্যার ঘটনায় রাতে তার মরদেহ থানায় আনা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পেয়েও পেলেন না তিনি
ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা, আহত ১০

শেয়ার করুন

নিজ ঘরে কিশোরের গলাকাটা মরদেহ

নিজ ঘরে কিশোরের গলাকাটা মরদেহ

সালাউদ্দীনের স্বজনদের বিলাপ। ছবি: নিউজবাংলা

‘কে বা কারা হত্যায় জড়িত এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খুঁজে বের করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশেমপুর মালিপাড়া এলাকায় নিজের ঘর থেকে সালাউদ্দীন আহমেদ নামে এক কিশোরের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। সেখান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, কিশোরদের মধ্যে কোন্দলের জেরে প্রাণ দিতে হয়েছে সালাউদ্দীনকে।

নিহতের বাবা বাবু সরদার জানান, গত রাতে সালাউদ্দীন ও তার বন্ধু রসুলপুরের সাগর হোসেন একই কক্ষে ছিল। দুপুরের দিকে সাগরের বাবা সহিদুল ইসলাম তাকে সালাউদ্দীনের খোঁজ নিতে বলেন। তিনি তখন বাড়িতে গিয়ে তার ছেলের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

সালাউদ্দীনকে রাতে সাগর হোসেনই হত্যা করেছে, এমন অভিযোগ করে তার বিচার দাবি করেছেন নিহতের বোন রীতামনি। তিনি বলেন, সব সময় একসঙ্গে ঘুরত সাগর ও সালাউদ্দীন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাগর ও সালাউদ্দীনের নেতৃত্বে এলাকায় একটা ‘কিশোর গ্যাং’ গড়ে উঠেছে। তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়াত।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বুরহানউদ্দিন বলেন, ‘সাগর ও সালাউদ্দিন মাদকাসক্ত। মাদকের ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে সাগর তার বন্ধু সালাউদ্দিনকে গলা কেটে হত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় রসুলপুরের রফিকুল ইসলাম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সাগরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামসুল হক শামস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘কে বা কারা হত্যায় জড়িত এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খুঁজে বের করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’

সিটি কলেজ এলাকায় কিশোরদের অপরাধমূলক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে বলে শোনা যাচ্ছে। সালাউদ্দীন হত্যায় বিষয়টি সামনে এসেছে। এটি পুলিশের মাথায় রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পেয়েও পেলেন না তিনি
ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা, আহত ১০

শেয়ার করুন

ফার্মেসিতে ঢুকে ছুরি মেরে হত্যা

ফার্মেসিতে ঢুকে ছুরি মেরে হত্যা

পুলিশ জানায়, হৃদয় হাসান তার ফার্মেসিতেই বসে ছিলেন। রাত পৌনে ৮টার দিকে একই এলাকার সুমন নামে এক যুবক সেখানে গিয়ে তার বুকে চাকু মেরে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় একটি ওষুধের দোকানে ঢুকে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার রাতে শহরের নামেসংকরবাটি ঝাপাইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম হৃদয় হাসান। তিনি ওই এলাকার মেসবাউল হকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, হৃদয় হাসান তার ফার্মেসিতে বসে ছিলেন। রাত পৌনে ৮টার দিকে একই এলাকার সুমন নামে এক যুবক সেখানে গিয়ে তার বুকে চাকু মেয়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা হৃদয়কে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যা ঘটেছে ধরে নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে হৃদয়ের সঙ্গে সুমনের কোন ধরনের সম্পর্ক ছিল, সেটি এখনও জানা যায়নি। তবে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে।

আরও পড়ুন:
পেয়েও পেলেন না তিনি
ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা, আহত ১০

শেয়ার করুন

চিকিৎসককে নগ্ন ছবি পাঠিয়ে যুবক কারাগারে

চিকিৎসককে নগ্ন ছবি পাঠিয়ে যুবক কারাগারে

রাশেদ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ওই চিকিৎসককে বিরক্ত করতেন। তাকে নগ্ন ছবি ও অশালীন বার্তা পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি পরিচয় লুকাতে একটি ফেক (ভুয়া) ফেসবুক আইডি ব্যবহার করতেন: পুলিশ।

বগুড়ায় এক নারী চিকিৎসকের ম্যাসেঞ্জারে নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগে যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন ওই চিকিৎসক।

জেলার বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে ওই চিকিৎসক শেরপুর থানায় মামলা করেন। এরপর উপজেলার মির্জাপুর গ্রাম থেকে আসামি রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাশেদ ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।

মামলায় বলা হয়, রাশেদ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ওই চিকিৎসককে বিরক্ত করতেন। তাকে নগ্ন ছবি ও অশালীন বার্তা পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন।

রাশেদ তার পরিচয় লুকাতে একটি ফেক (ভুয়া) ফেসবুক আইডি ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিভিন্ন কৌশলে তাকে চিহ্নিত করে শেরপুর থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী চিকিৎসক।

শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাশেদকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন:
পেয়েও পেলেন না তিনি
ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা, আহত ১০

শেয়ার করুন

কীভাবে মারা গেল সেই তিমিগুলো

কীভাবে মারা গেল সেই তিমিগুলো

শুক্রবার ভেসে আসা মৃত তিমি। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা দুইটি বিষয় সামনে রেখে তিমির নমুনাগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। সেগুলো হচ্ছে- বিষাক্ত কোনো কিছু খেয়ে তিমিটি মারা গেছে নাকি প্লাস্টিক জাতীয় কোনো বস্তু খেয়ে মারা গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই ‍দুইটি কারণ আমরা খুঁজে পাইনি। আঘাতের কারণে মারা গেছে কি না সেটি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে। তিমির মূলত ময়নাতদন্ত করবে বনবিভাগের অধীনে ভেটেরিনারি সার্জনরা। এই রিপোর্ট পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

কক্সবাজার সাগরে ভেসে আসা মৃত দুইটি তিমিকে হত্যা করা হয়েছে নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবাদীরা দাবি করেছেন, তিমিগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। তবে মৎস্য অফিস বলছে, ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না তিমিগুলোর মৃত্যুর কারণ।

মৃত দুইটি তিমির নমুনা সংগ্রহ করেছেন মৎস্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আশরাফুল হক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার তীরে আসা তিমির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছি। সেটির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তিমিটি ব্রাইডস হোয়েল প্রজাতির।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দুইটি বিষয় সামনে রেখে তিমির নমুনাগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। সেগুলো হচ্ছে- বিষাক্ত কোনো কিছু খেয়ে তিমিটি মারা গেছে নাকি প্লাস্টিক জাতীয় কোনো বস্তু খেয়ে মারা গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই ‍দুইটি কারণ আমরা খুঁজে পাইনি। আঘাতের কারণে মারা গেছে কি না সেটি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে। তিমির মূলত ময়নাতদন্ত করবে বনবিভাগের অধীনে ভেটেরিনারি সার্জনরা। এই রিপোর্ট পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

তিমি, ডলফিন জাতীয় প্রাণী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার যে ধরনের যন্ত্র দরকার সেই ধরনের জিনিসপত্র দেশে নেই বা থাকলে সেটি খুবই কম। তিমিগুলোর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে এটি বড় সমস্যা বলেও জানান এই মৎস্য বিশেষজ্ঞ।

পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শার্মা বলেন, তিমিগুলোর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। তিনি বলেন, ‘এসব তিমির গায়ে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। তাই তিমিগুলো মেরে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছি।’

তিমি বেশ বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবেই পরিচিত। পানিতে থাকলেও বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকে তারা। এ কারণে মাছের মতো বেশিক্ষণ পানির নিচে ডুব দিয়ে থাকতে পারে না। পানির উপরিভাগেও বিচরণ আছে তাদের। স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানি পছন্দ করে প্রাণীটি।

মৃত তিমি
শনিবার হিমছড়ি পয়েন্টে ভেসে আসা আরেকটি মৃত তিমি

তীরে ভেসে আসা তিমিগুলো বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে বসবাস করে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘চতুর শিকারী না হলে তিমি মারা সহজ নয়। কারণ, বিশালদেহী তিমি শিকারীকে ঘায়েল করতে পারে। সাধারণত তিমিকে হত্যার জন্য প্রাণীটির ঘাড়ের কাছে আঘাত করা হয়। এতে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মারা যায়।’

নিষিদ্ধ হলেও তিমি কেন হত্যা করা হয়, তার কারণ জানিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ‘এদের চর্বি অনেক মূল্যবান। এ ছাড়া খাদ্য হিসেবেও মাংস ব্যবহৃত হয়। খাদ্য ও চর্বিসহ অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করাই এই তিমি মেরে ফেলার অন্যতম কারণ।‘

হত্যার উদ্দেশ্য ছাড়াও অন্য আঘাতেও তিমি মারা যেতে পারে বলে জানান এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে অনেক জেলে মাছ ধরে। জেলেদের জালে তিমি আটকে যাওয়ার খবর আমরা মাঝেমাঝে পাই। জেলেদের জালে আটকে অনেক তিমি আহত হয়। পরে ধীরে ধীরে সেটি মারা যায়। এরপর তিমির দেহ ভেসে তীরে চলে আসতে পারে।’

গবেষণার কাজে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ঘুরে দেখেছেন প্রকৃতি বিষয়ক সাংবাদিক ও অ্যাক্টভিস্ট হোসেন সোহেল। তিনি বলেন, ‘ব্রাইডস হোয়েল প্রজাতির তিমি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে দেখা যায়।

‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ছোট একটি জায়গা যার পরিধি ১৪ কিলোমিটার কিন্তু সেখানে ভিড় করে শত শত বাণিজ্যিক ও উডেন বোট। কাঠের বোটের ৬০ ফুট লম্বা আর বাণিজ্যিক ফিশিং বোটে প্রায় ২০০ ফুট লম্বা নানান আকৃতির জাল ফেলা হয় সাগরগর্ভে।

‘যুগ যুগ ধরে অন্যদেশের জেলেরা সোয়াচে মাছ ধরে চলেছে। সেখানে দিনরাত ফিশিং চলে। সেই সোয়াচে জায়গা জুড়ে রয়েছে তিমির ঝাঁক। আমি নিজের চোখে সোয়াচে দেখেছি বাচ্চাসহ একটি বড় তিমি। দিনরাত যদি ফিশিং হয় তাহলে সেখানে বাস করা তিমি কীভাবে থাকবে?’

তিমিগুলোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে হোসেন সোহেল বলেন, ‘এইসব মৃত তিমি কোথায় থেকে আসছে নাকি সোয়াচ থেকে মরে ভেসে আসছে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। মনগড়া পোস্টমর্টেম ও তদন্ত প্রতিবেদন দিলে হবে না। এইসব প্রাণী হত্যার ক্ষেত্রে প্রায় দেখা যায় বা তদন্তে লেখা থাকে হার্ট অ্যাটাক, হিট স্ট্রোক, বয়স্ক, বার্ধক্যজনিত রোগসহ আরও কিছু। জেলেদের জালে অথবা কীভাবে একের পর এক প্রাণীগুলো মারা যায় তা খুঁজে বের করতে হবে।’

২০১৮ সালে মে মাসে কুয়াকাটা সৈকতে মৃত অবস্থায় ভেসে আসে বড় আকারের একটি ব্রাইডস হোয়েল। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিন উপকূল ঘেঁষে সাগরে ভাসতে দেখা যায় আরও একটি মৃত ব্রাইডস হোয়েল। একই বছর জুনে টেকনাফে আরও একটি ব্রাইডস হোয়েল ভেসে আসে।

আরও পড়ুন:
পেয়েও পেলেন না তিনি
ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা, আহত ১০

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম

মা জেব্রা ও শাবক উভয়েই সুস্থ রয়েছে। মাসহ শাবকটি অন্যান্য জেব্রার সঙ্গে বেষ্টনীর বিভিন্ন অংশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মা জেব্রার পুষ্টিমানের কথা বিবেচনায় খাদ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের জেব্রা পরিবারে নতুন শাবকের জন্ম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শাবকের জন্ম হলেও পার্ক কর্তৃপক্ষ শনিবার গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ করে।

নতুন অতিথিসহ পার্কের জেব্রা পরিবারের সংখ্যা ২৫টিতে দাঁড়াল।

জন্মের কিছু সময় পর থেকেই মা জেব্রা ও সদ্য জন্ম নেয়া শাবকটিকে বেষ্টনীতে বিচরণ করতে দেখা গেছে। নতুন শাবকের আগমনে জেব্রা পরিবার ছাড়াও পার্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ।

পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক সারোয়ার হোসেন জানান, মা জেব্রা ও শাবক উভয়েই সুস্থ রয়েছে। মাসহ শাবকটি অন্যান্য জেব্রার সঙ্গে বেষ্টনীর বিভিন্ন অংশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মা জেব্রার পুষ্টিমানের কথা বিবেচনায় খাদ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

জেব্রার প্রধান খাবার ঘাস। বর্তমানে ঘাসের পাশাপাশি মা জেব্রাকে ছোলা, গাজর ও ভূষি দেয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় শাবকটি পুরুষ না মাদি তা এখনও জানা যায়নি।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নিবিড় পরিচর্যায় বর্তমানে সাফারি পার্কে দেশীয় পরিবেশে নানা ধরনের বিদেশি প্রাণী থেকে নিয়মিত বাচ্চা পাওয়া যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় জেব্রা হতে বাচ্চা পাওয়া গেছে।’

আরও প্রাণীর জন্মের মধ্য দিয়ে পার্কটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা কমে আসবে বলেও আশা করছেন এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
পেয়েও পেলেন না তিনি
ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা, আহত ১০

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আইজিপির কাছে বিসিক চেয়ারম্যানের চিঠি

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আইজিপির কাছে বিসিক চেয়ারম্যানের চিঠি

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক প্রকল্পের কাজে সাব কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। আবার তার বিরুদ্ধেই উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও বিসিক চেয়ারম্যান দাখিল করেছেন অভিযোগ।

সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্পপার্ক প্রকল্পে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহমেদসহ তিন জনের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিসিক চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান এক লিখিত অভিযোগে জানান, সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্ক স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। চার শ একর জমির ওপর নির্মিত শিল্প পার্কটির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। দেশী-বিদেশি আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কমপক্ষে একলাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

এ প্রকল্পের বাউন্ডারি ওয়াল, রাস্তা, অফিস ভবন, ড্রেন-কালভার্টসহ বিভিন্ন কাজের মালামাল প্রবেশে স্থানীয়ভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। চাঁদাবাজি, অযাচিত উৎপাতের কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব কাজে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ, ছোবহান আলী ও রফিক গং বাহিনী জড়িত বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে করা এসব লিখিত অভিযোগের কপি পাঠানো হয়েছে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য বরাবর। প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

বিসিক চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান ২৩ মার্চ এ অভিযোগে স্বাক্ষর করলেও আলোচনায় এসেছে গতকাল শনিবার।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে শনিবার সন্ধ্যায় বিসিক শিল্পপার্ক সিরাজগঞ্জের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সাজিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিসিক শিল্পপার্কের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি ঢাকা অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমি শুনেছি। ঢাকা অফিস প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

অভিযুক্ত সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ বলেন, ‘প্রকল্পের বাউন্ডারি ওয়াল, রাস্তা, অফিস ভবন, ড্রেন-কালভার্ট কাজের সাব ঠিকাদার আমি নিজেই। এখানে চাঁদা বা হুমকির প্রশ্নই ওঠেনা। প্রকল্পের মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাজেদ অ্যান্ড সন্স আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিতে পারে।’

আরও পড়ুন:
পেয়েও পেলেন না তিনি
ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা, আহত ১০

শেয়ার করুন