কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেনকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সোমবার পুলিশ তাকে আটক করে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহানের আদালত এ আদেশ দেয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শাহাদাতের আইনজীবী এস এম বদরুল আনোয়ার।

তিনি জানান, বুধবার মামলার শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে।

এর আগে শাহাদাতকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সোমবার পুলিশ তাকে আটক করে।

এদিকে বিএনপির ১৫ জন গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীকেও মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত করা হয়।

তাদের আইনজীবী জাহিদুল আলম জানান, ওই নেতা-কর্মীদের রিমান্ডের শুনানি হবে বুধবার।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে নগরের কাজির দেউড়ি, বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা হয়েছে। কোতোয়ালি থানায় মঙ্গলবার সকালে মামলা দুটি হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন। দুই মামলায় ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, বিএনপির কর্মসূচি পূর্ব নির্ধারিত ছিল। তারা মিছিল নিয়ে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখতে পেয়ে হঠাৎ ইট-পাটকেল এবং ককটেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এ সময় ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে চার নারীসহ ১৫ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়।

সংঘর্ষের সময় আগুন দেয়া হয় বাইক ও রিকশা ভ্যানে। এতে কাজির দেউড়ি ও নাসিমন ভবন এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
বিএনপির বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বিএনপির সমাবেশে সংঘর্ষ: পুলিশের মামলায় আসামি ৬০
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আটক
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড, আহত ৯

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আ. লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, আহত ৫

আ. লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, আহত ৫

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ছবি: নিউজবাংলা

লালমনিরহাটে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। তাদের সরদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লালমনিরহাটে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে।

শহরের বানিয়াপট্টি এলাকায় শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে ছাত্রলীগ সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি বানিয়া পট্টি এলাকায় পৌঁছালে বক্করের লোকজন এতে হামলা চালায়। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচজন আহত হন।

পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

আহত পাঁচজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ফরিদ হাসান সবুজের সঙ্গে বক্করের গ্রুপের কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। এরপর সবুজ তার বাড়িতে পালিয়ে গেলে তারা সেখানেও হামলা চালায়।

সেখানে সবুজের মা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমানের বোন ফাতেমা বেগমকে মারধর ও বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বক্কর ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান আওরঙ্গসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন সবুজ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রলীগের একটি অংশ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে। মামলা প্রত্যাহার করা না হলে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালেরও ঘোষণা দেয়া হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহা আলম নিউজবাংলাকে জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর থেকে বক্কর পলাতক বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
বিএনপির বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বিএনপির সমাবেশে সংঘর্ষ: পুলিশের মামলায় আসামি ৬০
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আটক
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড, আহত ৯

শেয়ার করুন

কীভাবে মারা গেল সেই তিমিগুলো

কীভাবে মারা গেল সেই তিমিগুলো

শুক্রবার ভেসে আসা মৃত তিমি। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা দুইটি বিষয় সামনে রেখে তিমির নমুনাগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। সেগুলো হচ্ছে- বিষাক্ত কোনো কিছু খেয়ে তিমিটি মারা গেছে নাকি প্লাস্টিক জাতীয় কোনো বস্তু খেয়ে মারা গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই ‍দুইটি কারণ আমরা খুঁজে পাইনি। আঘাতের কারণে মারা গেছে কি না সেটি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে। তিমির মূলত ময়নাতদন্ত করবে বনবিভাগের অধীনে ভেটেরিনারি সার্জনরা। এই রিপোর্ট পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

কক্সবাজার সাগরে ভেসে আসা মৃত দুইটি তিমিকে হত্যা করা হয়েছে নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবাদীরা দাবি করেছেন, তিমিগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। তবে মৎস্য অফিস বলছে, ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না তিমিগুলোর মৃত্যুর কারণ।

মৃত দুইটি তিমির নমুনা সংগ্রহ করেছেন মৎস্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আশরাফুল হক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার তীরে আসা তিমির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছি। সেটির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তিমিটি ব্রাইডস হোয়েল প্রজাতির।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দুইটি বিষয় সামনে রেখে তিমির নমুনাগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। সেগুলো হচ্ছে- বিষাক্ত কোনো কিছু খেয়ে তিমিটি মারা গেছে নাকি প্লাস্টিক জাতীয় কোনো বস্তু খেয়ে মারা গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই ‍দুইটি কারণ আমরা খুঁজে পাইনি। আঘাতের কারণে মারা গেছে কি না সেটি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে। তিমির মূলত ময়নাতদন্ত করবে বনবিভাগের অধীনে ভেটেরিনারি সার্জনরা। এই রিপোর্ট পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

তিমি, ডলফিন জাতীয় প্রাণী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার যে ধরনের যন্ত্র দরকার সেই ধরনের জিনিসপত্র দেশে নেই বা থাকলে সেটি খুবই কম। তিমিগুলোর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে এটি বড় সমস্যা বলেও জানান এই মৎস্য বিশেষজ্ঞ।

পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য নেচার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম রিয়াদের ধারণা, তিমিগুলোর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। তিনি বলেন, ‘এসব তিমির গায়ে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। তাই তিমিগুলো মেরে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছি।’

তিমি বেশ বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবেই পরিচিত। পানিতে থাকলেও বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকে তারা। এ কারণে মাছের মতো বেশিক্ষণ পানির নিচে ডুব দিয়ে থাকতে পারে না। পানির উপরিভাগেও বিচরণ আছে তাদের। স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানি পছন্দ করে প্রাণীটি।

মৃত তিমি
শনিবার হিমছড়ি পয়েন্টে ভেসে আসা আরেকটি মৃত তিমি

তীরে ভেসে আসা তিমিগুলো বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে বসবাস করে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘চতুর শিকারী না হলে তিমি মারা সহজ নয়। কারণ, বিশালদেহী তিমি শিকারীকে ঘায়েল করতে পারে। সাধারণত তিমিকে হত্যার জন্য প্রাণীটির ঘাড়ের কাছে আঘাত করা হয়। এতে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মারা যায়।’

নিষিদ্ধ হলেও তিমি কেন হত্যা করা হয়, তার কারণ জানিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ‘এদের চর্বি অনেক মূল্যবান। এ ছাড়া খাদ্য হিসেবেও মাংস ব্যবহৃত হয়। খাদ্য ও চর্বিসহ অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করাই এই তিমি মেরে ফেলার অন্যতম কারণ।‘

হত্যার উদ্দেশ্য ছাড়াও অন্য আঘাতেও তিনি মারা যেতে পারে বলে জানান এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে অনেক জেলে মাছ ধরে। জেলেদের জালে তিমি আটকে যাওয়ার খবর আমরা মাঝেমাঝে পাই। জেলেদের জালে আটকে অনেক তিমি আহত হয়। পরে ধীরে ধীরে সেটি মারা যায়। এরপর তিমির দেহ ভেসে তীরে চলে আসতে পারে।’

গবেষণার কাজে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ঘুরে দেখেছেন প্রকৃতি বিষয়ক সাংবাদিক ও অ্যাক্টভিস্ট হোসেন সোহেল। তিনি বলেন, ‘ব্রাইডস হোয়েল প্রজাতির তিমি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে দেখা যায়।

‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ছোট একটি জায়গা যার পরিধি ১৪ কিলোমিটার কিন্তু সেখানে ভিড় করে শত শত বাণিজ্যিক ও উডেন বোট। কাঠের বোটের ৬০ ফুট লম্বা আর বাণিজ্যিক ফিশিং বোটে প্রায় ২০০ ফুট লম্বা নানান আকৃতির জাল ফেলা হয় সাগরগর্ভে।

‘যুগ যুগ ধরে অন্যদেশের জেলেরা সোয়াচে মাছ ধরে চলেছে। সেখানে দিনরাত ফিশিং চলে। সেই সোয়াচে জায়গা জুড়ে রয়েছে তিমির ঝাঁক। আমি নিজের চোখে সোয়াচে দেখেছি বাচ্চাসহ একটি বড় তিমি। দিনরাত যদি ফিশিং হয় তাহলে সেখানে বাস করা তিমি কীভাবে থাকবে?’

তিমিগুলোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে হোসেন সোহেল বলেন, ‘এইসব মৃত তিমি কোথায় থেকে আসছে নাকি সোয়াচ থেকে মরে ভেসে আসছে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। মনগড়া পোস্টমর্টেম ও তদন্ত প্রতিবেদন দিলে হবে না। এইসব প্রাণী হত্যার ক্ষেত্রে প্রায় দেখা যায় বা তদন্তে লেখা থাকে হার্ট অ্যাটাক, হিট স্ট্রোক, বয়স্ক, বার্ধক্যজনিত রোগসহ আরও কিছু। জেলেদের জালে অথবা কীভাবে একের পর এক প্রাণীগুলো মারা যায় তা খুঁজে বের করতে হবে।’

২০১৮ সালে মে মাসে কুয়াকাটা সৈকতে মৃত অবস্থায় ভেসে আসে বড় আকারের একটি ব্রাইডস হোয়েল। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিন উপকূল ঘেঁষে সাগরে ভাসতে দেখা যায় আরও একটি মৃত ব্রাইডস হোয়েল। একই বছর জুনে টেকনাফে আরও একটি ব্রাইডস হোয়েল ভেসে আসে।

আরও পড়ুন:
বিএনপির বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বিএনপির সমাবেশে সংঘর্ষ: পুলিশের মামলায় আসামি ৬০
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আটক
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড, আহত ৯

শেয়ার করুন

বিস্ফোরণে দগ্ধ মিরকাদিম পৌর মেয়রের স্ত্রীর মৃত্যু

বিস্ফোরণে দগ্ধ মিরকাদিম পৌর মেয়রের স্ত্রীর মৃত্যু

বাড়ির গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে নিহত মিরকাদিম পৌর মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতের ছেলে রাশেদ মানিক নিউজবাংলাকে জানান, ‘শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তার মায়ের অবস্থা আশংকাজনক ছিল। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।’

বাড়ির গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌর মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তিনি মারা যান।

মেয়রের ছেলে রাশেদ মানিক নিউজবাংলাকে জানান, শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তার মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আর ১২ জনের মধ্যে ৯ জনকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

পৌরসভার কর্মকর্তা মনির হোসেনসহ দুইজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুস সালামের বাসায় বিস্ফোরণে চারজন কাউন্সিলরসহ ১৩ জন দগ্ধ হন। এ সময় পৌর মেয়র অক্ষত থাকলেও তার স্ত্রী গুরুত্বর আহত হন।

আহত চার কাউন্সিলর হচ্ছেন মো. সোহেল, মো. আওলাদ, দীন ইসলাম ও রহিম বাদশা।

আহত অন্যরা হলেন মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম, মো. মোশারফ, মনির হোসেন, শ্যামল দাস, পান্না, কালু, ইদ্রিস আলী, মঈনউদ্দিন ও মো. তাজুল।

মিরকাদিম পৌরসভার কাউন্সিলর রহিম বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, ‌‘পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে মেয়রের বাসার তৃতীয়তলার একটি কক্ষে আলোচনা করছিলাম আমরা। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

‘মুহূর্তে কক্ষের ভেতর আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণে কক্ষের আসবাবপত্র, জানালার কাচ ফেটে চুরমার হয়ে গেছে।’

বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, বিস্ফোরণের বিষয়টি নিয়ে রহস্য ও প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।

পরে সিআইডির বোমা নিষ্ক্রিয় টিম, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলের আলামত পরীক্ষার পর নিশ্চিত করেন, বিস্ফোরণটি বাড়ির গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিএনপির বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বিএনপির সমাবেশে সংঘর্ষ: পুলিশের মামলায় আসামি ৬০
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আটক
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড, আহত ৯

শেয়ার করুন

কারাগারে হাজতির মৃত্যু

কারাগারে হাজতির মৃত্যু

কাশিমপুর কারাগারের মৃত হাজতি জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার আবু সায়েম জানান, মাদক মামলায় বন্দি ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। শুক্রবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুসতাক আহমেদের মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীর আলম নামের আরেক হাজতির মৃত্যু হয়েছে।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।

৪২ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী দত্তপাড়া এলাকায়। তিনি মাদক মামলায় কাশিমপুর কারাগার-২ এ বন্দি ছিলেন। তার হাজতি নম্বর ছিল ২৩৫৪/২০।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার আবু সায়েম নিউজবাংলাকে জানান, মাদক মামলায় বন্দি ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। শুক্রবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে চিকিৎসক রাত পৌনে ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে জাহাঙ্গীরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি মুশতাক আহমেদ সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ অনুভব করলে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত ৮টা ২০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর দেড় মাস পর কারাগে আরেক হাজতির মৃত্যু হলো।

আরও পড়ুন:
বিএনপির বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বিএনপির সমাবেশে সংঘর্ষ: পুলিশের মামলায় আসামি ৬০
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আটক
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড, আহত ৯

শেয়ার করুন

পাটক্ষেতে কৃষকের মরদেহ

পাটক্ষেতে কৃষকের মরদেহ

অষ্টগ্রাম থানার ওসি জানান, কাকনের গলায় গামছার প্যাঁচের ও যৌনাঙ্গে খানিকটা কাটার দাগ আছে।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পাটক্ষেত থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের ঘোষহাটিতে ইউনুস মিয়ার পাটক্ষেত থেকে শনিবার সকাল সাতটার দিকে কাকন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কাকন মিয়ার বাড়ি ওই ইউনিয়নের পরশপাড়া এলাকায়।

কাকনের বড় ভাই জালু মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে খাওয়াদাওয়া করে বের হন কাকন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। সকালে খোঁজাখুঁজি করে পাটক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মোল্ল্যা নিউজবাংলাকে জানান, কাকনের গলায় গামছার প্যাঁচের ও যৌনাঙ্গে খানিকটা কাটার দাগ আছে।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।

আরও পড়ুন:
বিএনপির বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বিএনপির সমাবেশে সংঘর্ষ: পুলিশের মামলায় আসামি ৬০
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আটক
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড, আহত ৯

শেয়ার করুন

আ. লীগ নেতার বাড়িতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ

আ. লীগ নেতার বাড়িতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ

গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানাকে আটক করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

সদর থানার ওসি জানান, আর্থিক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে জুতা ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে।

সদর উপজেলার বল্লমঝার ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের মাসুদ রানার বাড়ি থেকে শনিবার দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রানা জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক।

জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীর বাড়ি জেলা শহরের থানাপাড়া এলাকায়। তিনি আফজাল সুজের ডিলার। শহরের স্টেশন রোডে তার দোকান আছে।

পরিবারের অভিযোগ, এক মাস আগে হাসান লালমনিরহাট যান। গত ৫ মার্চ তাকে সেখান থেকে অপহরণ করেন রানা। এরপর বিভিন্ন জায়গায় তাকে আটক রেখে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পসহ সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। এ ছাড়া তার পরিবারের কাছেও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

শনিবার সকালে রানার বাড়িতে হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান নিউজবাংলাকে জানান, আর্থিক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর স্থানীয়রা রানাকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রানাকে আটক করে।

তাদের অভিযোগ, রানা সুদের ব্যবসা করতেন। সুদ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই তিনি হাসানকে অপহরণ করেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সকালের দিকে হাসানের মোবাইল থেকে তার স্ত্রীর মোবাইলে একটি এসএমএস আসে। এতে লেখা ছিল, তার মৃত্যুর জন্য রানা দায়ী থাকবে।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
বিএনপির বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বিএনপির সমাবেশে সংঘর্ষ: পুলিশের মামলায় আসামি ৬০
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আটক
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড, আহত ৯

শেয়ার করুন

স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত কাশিমপুর কারাগারের সুপার

স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত কাশিমপুর কারাগারের সুপার

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার। ফাইল ছবি

কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার, তার স্ত্রী, শ্বশুর, জেলের রানার ও এক নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সবাই আইসোলেশনে আছেন।

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সুপার আব্দুল জলিল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে আক্রান্ত হয়েছেন তার স্ত্রী ও শ্বশুরও।

এ ছাড়া নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ এসেছে কারাগারের রানার মাহফুজুল হকের। তারা সবাই নিজেদের বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার আবু সায়েম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার আবু সায়েম জানান, করোনার লক্ষণ দেখা দিলে গত ২৭ মার্চ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য দেন জেল সুপার আব্দুল জলিল। পরে তার পরিবারের লোকজনের নমুনা পরীক্ষা করলে স্ত্রী ও শশুরের করোনা শনাক্ত হয়।

এ ছাড়াও কারাগারের রানার মাহফুজুল হক, কারা হাসপাতালের এক নার্সও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

২৮ মার্চ জেল সুপার রাজারবাগে সেন্ট্রাল পুলিশলাইন হাসপাতালে এবং অন্যরা হোম আইসোলেনে যান।

আইসোলেশনে থেকে নমুনা পরীক্ষায় কারাগারের রানার ও নার্সের নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ ফল আসে।

তাদের সবার রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপির বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বিএনপির সমাবেশে সংঘর্ষ: পুলিশের মামলায় আসামি ৬০
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আটক
পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির সমাবেশ পণ্ড, আহত ৯

শেয়ার করুন