দুদকে অভিযোগের স্তূপ, তদন্তে নেই অগ্রগতি

mymensing dudok

দুদকের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপপরিচালক ফারুক আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, ওই তিন জেলার ৩৬টি উপজেলা থেকে বছরে প্রায় ১২০০ অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন তিনিসহ আছেন মাত্র পাঁচ কর্মকর্তা, যার মধ্যে দুইজন অসুস্থ।

এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ কার্যালয়ে তিন কোটি টাকার সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ জমা পড়ে ২০১৮ সালে। সে বছরের সেপ্টেম্বরে তদন্ত শুরু করেন দুদক কর্মকর্তারা।

অনুসন্ধানে কেটে যায় দুই বছরেরও বেশি সময়। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয় রাজধানীতে দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। কিন্তু এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই। এখন পর্যন্ত হয়নি মামলা।

অনিয়ম-দুর্নীতির এ রকম আরও ৯৬টি ফাইল চাপা পড়ে আছে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে।

এমন অবস্থার জন্য সংস্থার উপপরিচালক ফারুক আহমেদ দায়ী করেন জনবল সংকটকে। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ-৯ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনের বিরুদ্ধে চার বছর আগে সাধারণ সহায়তার (জিআর) চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও নেয়া যায়নি আইনি পদক্ষেপ। জমে আছে ৩৪টি তদন্তাধীন ও ১০৪টি বিচারাধীন মামলাও।

ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলা নিয়ে ২০০৭ সালে গঠিত হয় দুদকের এই সমন্বিত জেলা কার্যালয়। তখন সাতজন কর্মকর্তার পদ নিয়ে যাত্রা করে এই সংস্থা।

উপপরিচালক ফারুক আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, ওই তিন জেলার ৩৬টি উপজেলা থেকে বছরে প্রায় ১২০০ অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে যাচাইবাছাই করে ৭০ থেকে ৮০টি অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয় কমিশন। এসব অভিযোগ ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন তিনিসহ আছেন মাত্র পাঁচ কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুইজন শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুসন্ধানমূলক কাজে অংশ নিতে পারেন না।

দুদকে অভিযোগের স্তূপ, তদন্তে নেই অগ্রগতি

ফারুক আরও জানান, জনবল সংকটের পাশাপাশি আছে প্রযুক্তিতে দুর্বলতা। আছে লজিস্টিক সাপোর্টসহ নানা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা। এসব কারণে তদন্তের চাকা ঘুরছে না। বছরের পর বছর অভিযোগ থাকছে ফাইলবন্দি।

একই ধরনের কথা বলেন ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন সূত্রধর। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা কম থাকায় কাজের চাপ বেড়ে যায়। নেই কোনো রাইটারও। তদন্ত থেকে শুরু করে সবকিছু নিজের দায়বদ্ধতা থেকে করতে হয়। রয়েছে আইনি সীমাবদ্ধতাও।

‘কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। কিন্তু এমনও কিছু কার্যক্রম থাকে যেখানে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করতে হয়। আবার লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ফলে আলোচিত অভিযোগের তদন্ত এগোচ্ছে না।’

তবে এসব সমস্যা নিয়ে মুখ খোলেননি ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক কামরুল হাসান। তিনি বলেন, কমিশনের অনুমতি ছাড়া তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

ময়মনসিংহ জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি মীর গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আলোচিত অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি। এ জন্য দুদককে আরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, নখহীন সংস্থা বানিয়ে লাভ নেই। তাই দুদকের সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য