মুক্তিযুদ্ধের প্রথম কিশোর শহীদ

শহীদ শঙ্কু স্মৃতিস্তম্ভ

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম কিশোর শহীদ

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তৈরি গেজেটে ক্যাটাগরিগত সমস্যার কারণে শঙ্কুর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে শহীদ হওয়ার পরও বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি জোটেনি তার কপালে।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে দোকানের ঝাপের লাঠি হাতে মিছিলে অংশ নিয়েছিল ১৩ বছর বয়সী শঙ্কু সমাজদার। রংপুরে একাত্তরের ৩ মার্চ অবাঙালীদের গুলিতে প্রাণ হারায় এই কিশোর।

দেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ শঙ্কু। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তৈরি গেজেটে ক্যাটাগরিগত সমস্যার কারণে শঙ্কুর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে শহীদ হওয়ার পরও বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি জোটেনি তার কপালে।

শঙ্কুর সঙ্গে মিছিলে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন বলেন, দেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ শঙ্কু। ওই সময় রংপুরের কৈলাশ রঞ্জন বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শঙ্কু যদি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি না পায় তাহলে তা আমাদের দোষ, আমাদের অবহেলা। সেই প্রথম শহীদ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ চান শঙ্কুর মিছিলে থাকা এই বীরযোদ্ধা।

তিনি বলেন, ‘৩ মার্চ আমাদের মিছিলটি যখন রেলস্টেশন হয়ে শহরের দিকে আসতেছিলো, তখন উর্দুতে লেখা একটা সাইনবোর্ড চোখে পড়ে আমাদের। বর্তমান ঘোড়াপীর মাজারের সামনে অবাঙালি সরফরাজ খানের বাসায় (বর্তমান আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়) উর্দুতে লেখা ওই বোর্ড নামাতে যায় মিছিলে থাকা শংকু সমাজদার, শরিফুল আলমসহ কয়েকজন। তখনই সরফরাজ খানের বাড়ি থেকে গুলি চালালে শঙ্কু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।’

তিনি জানান, শঙ্কুকে গুলি চালানো হয়েছে এবং সে মারা গেছে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা রংপুরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কমিশনার মুসলিমউদ্দিন শঙ্কুকে কোলে নিয়ে একটি মিছিল বের করেন। এই মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে মানুষ ক্ষেপে যায় এবং শহরে পাকিস্তানি বিহারিদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণের শুরুতে বলেছিলেন, ‘আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরে আমার ভায়ের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজপথ’। তিনি কার জন্য বলেছিলেন এই কথা? শহীদ শঙ্কুর প্রসঙ্গেই বঙ্গবন্ধু দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন রংপুরকে নিয়ে।”

‘আমরা কী বলবো? অনেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছেন, হয়েছেন। অথচ ক্যাটাগরির দোয়াই দিয়ে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিকের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না দেয়াটা লজ্জাজনক।’

রংপুর জেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু নিউজবাংলাকে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে ২০১২ সালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছিল রংপুরের শঙ্কু সমাজদার। পরে ক্যাটগরির মধ্যে পড়ে না বলে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়।

এ নিয়ে ক্ষোভে আর দুঃখ আছে শঙ্কু সমাজদারের মা দীপালি সমাজদারের।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবা (শঙ্কু ) খুব ভালো আছিল, ওইদিন সকালে মুই বাবাক নাস্তা দিয়ে কং, বাইরে যাসনে বাবা, খুব গ্যামজ্যাম চলোছে। মোর কতা শুনিল নে, একটা মিছিল বের হইচে এই কতা শুনিয়া বাড়ি থেকে দৌড় দিয়ে বাহির হয়া যায়া পাশের একটা দোকানের ঝাপের নাটি নিয়ে মিছিলোত যায়। একনা পর শুনি মোর বাবা নাই। বাবা, মুই শেখের বেটির ( প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার) সাথে দেকা করবেন চাং, মুই আর কয়দিন বাঁচিম? মোর বেটাক যেন ওমরা মুক্তিযোদ্ধা বানায়।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, শঙ্কুর মাকে ৩ মার্চ নগদ ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও তার মা জানিয়েছেন, তাঁর বাড়ির সীমানা প্রাচীরটা যেন করে দেয়া হয়। আমরা খুব দ্রুত সেটা করে দেব। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন তার নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন বলেও জানান ডিসি।

এর আগে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের এক অনুষ্ঠানে সরকারি নির্দেশে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় রংপুর জেলা প্রশাসন নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় তার পৈত্রিক ভিটাসংলগ্ন বেদখল হয়ে যাওয়া ১০ শতক জমি উদ্ধার করে জমির দলিলপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লজ্জাবতী বানর গেল কাপ্তাইয়ের জঙ্গলে

লজ্জাবতী বানর গেল কাপ্তাইয়ের জঙ্গলে

লজ্জাবতীকে অবমুক্ত করা হয়েছে জঙ্গলে। ছবি: নিউজবাংলা

বানরের এই প্রজাতিটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ আইইউসিএনের লাল তালিকাভুক্ত। বাংলাদেশের ১৯৭৪  ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে ‘লজ্জাবতী’ নামের বিপন্ন প্রজাতির একটি বানরকে। বনবিভাগ জানায়, সোমবার রাতে এটিকে কাপ্তাইয়ের একটি রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়।

বনবিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মহসিন তালুকদার বলেন, সোমবার রাতে কাপ্তাইয়ের কেপিএম এলাকার সিয়াম ও রবিন নামের দুই তরুণ বানরটিকে দেখে। কেপিএম পশ্চিম ড্রাইভার কলোনির রাস্তার পাশে থাকা গাছে এটি বসে ছিল বলে তারা জানায়।

তারা বানরটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। তারাই পরে কাপ্তাই থানায় ফোন করে খবরটি জানায়।

পুলিশ সদস্যরা মঙ্গলবার ভোররাতে গিয়ে বানরটি থানায় নিয়ে আসে ও বন বিভাগকে খবর দেয়। বন কর্মকর্তা মহসিন থানায় গেলে ওসি নাসির উদ্দীন তার কাছে বানরটি হস্তান্তর করেন।

মহসিন বলেন, বানরটি পথ হারিয়ে লোকালয়ে চলে এসেছে। এটি সুস্থ আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান শাহের নির্দেশে এটিকে জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়।

বানরটি সম্পর্ক তিনি জানান, এর ইংরেজি নাম Bengal Slow Loris বা Northern Slow Loris, বৈজ্ঞানিক নাম Nycticebus Bengalensis। দেশে এটি লজ্জাবতী বা লাজুক বানর নামে পরিচিত।

বানরের এই প্রজাতিটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ আইইউসিএনের লাল তালিকাভুক্ত।

বাংলাদেশের ১৯৭৪ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

লজ্জাবতী বানর সাধারণত গাছের উঁচু শাখায় থাকতে পছন্দ করে।

শেয়ার করুন

ডায়রিয়ার প্রকোপ: ‘৯০ টাকার স্যালাইন ১২০’

ডায়রিয়ার প্রকোপ: ‘৯০ টাকার স্যালাইন ১২০’

হাসপাতালে সামনের ওষুধের দোকানের মালিকরা বলছেন, স্যালাইনের দাম বেড়েছে। তবে নগরীর অন্য এলাকার দোকানের মালিকদের বক্তব্য, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে স্যালাইন।

ব‌রিশাল সদরের জাগুয়া ইউ‌নিয়‌নের আব্দুর রব ডায়‌রিয়ায় আক্রান্ত হ‌য়ে সদর হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছেন রোববার। বেড না পেয়ে চি‌কিৎসা নি‌চ্ছেন হাসপাতা‌লের মা‌ঠে।

ভ‌্যান চালক আব্দুর র‌বের অভি‌যোগ, হাসপাতাল থেকে দেয়া হচ্ছে না স্যালাইন, কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল দিয়া এক‌টা স‌্যালাইন দেছেল‌ শরী‌রে দেয়ার লইগ্গা। স‌্যালাইন শেষ হওয়ার পর নার্সগো ধা‌রে চাইছেলাম, হেরা কই‌ছে এহা‌নে নাই। কইলো ফা‌র্মেসি দিয়া কিন্না আনেন।

‘সরকা‌রি হাসপাতা‌লে যদি স‌্যালাইন না থা‌হে তয় মো‌গো মতো গরীব মাইনষে কেম‌নে চি‌কিৎসা নিমু। প‌রে হেই কথা মত দুইটা স‌্যালাইন কেনা লাগ‌ছে।’

আব্দুর রবসহ হাসপাতালে ভ‌র্তি অন্য ডায়রিয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে হাসপাতালের বাইরের ওষুধের দোকানগুলো বেশি দামে স্যালাইন বিক্রি করছে। ৯০ টাকার স্যালাইন কারও কাছে চাওয়া হচ্ছে ১২০ বা ১৩০ টাকা, কারও কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকাও।

স‌রেজ‌মি‌নে সোমবার সকা‌লে সদর হাসপাতা‌লের সাম‌নে দেখা গেল, ডায়রিয়া রোগীর স্বজনরা স্যালাইনের জন্য ভিড় করে আছেন ওষুধের দোকানগুলোতে।

বরিশালে স্যালাইন সংকট

জা‌কিয়া বেগম না‌মে এক রোগীর স্বজন‌ অভিযোগ করেন, ‘এম‌নেই কো‌নো সিট পাই নাই। হের উপর স‌্যালাইনডাও কেনা লা‌গে য‌দি তয় কি‌ চি‌কিৎসা দেয় বু‌ঝিনা।

‘স‌্যালাই‌নের আসল দাম ৯০ টাহা, আর হেই স‌্যালাইন ফার্মেসি ওয়ালারা সি‌ন্ডি‌কেট কইরা ১৩০ টাহায় বে‌চে। এহা‌নের ডাক্তার নার্সরা একটা বা দু্ইটা দিয়াই কয় নাই শেষ স‌্যালাইন।’

হাসপাতা‌লের সামনের দি সেবা মে‌ডি‌ক্যাল হ‌ল নামের ওষুধের দোকানের কর্মচারি মো. বদরু‌দ্দোজার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন স্যালাইনের দাম বেশি রাখা হচ্ছে।

তিনি ব‌লেন, ‘হাজার মি‌লির ক‌লেরা স‌্যালাইন রেট ৯০ টাকা ক‌রেই। ত‌বে প্রোডাকশন কম থাকায় কোম্পানি অনেক বে‌শি দা‌মে বি‌ক্রি ক‌রে‌ছে‌। তাই আমা‌দেরও বেশি দামে বি‌ক্রি কর‌তে হ‌য়ে‌ছে।’

হাজরা মে‌ডি‌ক্যাল হ‌লের মো. শুভ ব‌লেন, ‘৫০০ মিলির ক‌লেরা স‌্যালাই‌নের দাম ৭০ টাকা আর হাজার মিলির কোম্পানি রেট ৯০ টাকা। অনেকে বে‌শি দাম রে‌খে‌ছে। কিন্তু আমরা তা ক‌রি‌নি।’

বরিশালে স্যালাইন সংকট

নগরীর অন্য এলাকার ওষুধের দোকানে গিয়ে জানা গেল, স্যালাইনের দাম বাড়েনি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বিএম ক‌লেজ এলাকার মা মে‌ডি‌ক্যাল হ‌লের মা‌লিক মো. কা‌দের ব‌লেন, ‘ক‌লেরা স‌্যালাইনের দাম বা‌ড়ে‌নি। যারা বে‌শি দাম নি‌চ্ছে তারা অবৈধভাবে তা নি‌চ্ছে।’

এদিকে, রোগীদের স্যালাইন বেশি কিনতে হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের আবা‌সিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল ব‌লেন, ‘স্বাভা‌বিকভা‌বে একজন রোগী‌কে তিন থে‌কে চারটি স‌্যালাইন আমরা দি‌য়ে থা‌কি। এর বেশি স‌্যালাইন লাগলে তা‌দের কিন‌তে হয় বাই‌রে থে‌কে। এম‌নি‌তে স্যালাইনের কোনো সংকট নেই আমা‌দের।’

ওষুধের দোকানের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্যলাইনের সংকট দেখিয়ে নার্সরা রোগীদের তা কিনতে বাধ্য করছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

বরিশাল বিভাগে কয়েকদিন ধরেই বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। এতে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বিগ্ন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বরিশালে এর আগে এমন ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যায়নি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছি আমরা। শহরের মানুষ তেমন আক্রান্ত না হলেও, বেশি আক্রান্ত হচ্ছে উপকূল ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ।’

তিনি জানান, অতিরিক্ত গরমে স্বস্তি পেতে মানুষ পান্তা কিংবা শরবত খাচ্ছে বেশি। এসব তৈরিতে দূষিত পানি ব্যবহারের কারণেই ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে বলে তার মত।

বাসুদেব কুমার দাস গত রোববার জানিয়েছিলেন, বরিশাল বিভাগে এ বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের ২০ তারিখ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। সব থেকে বেশি আক্রান্ত দ্বীপ জেলা ভোলায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৪২১। পটুয়াখালীতে আক্রান্ত ৬ হাজার ৭৩৭, পিরোজপুরে ৩ হাজার ৭৫০, বরগুনায় ৪ হাজার ৩৫৩ এবং ঝালকাঠিতে আক্রান্ত ২ হাজার ৯৯৮ জন।

জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের তথ্য অনুযায়ী সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪ জন ডায়া‌রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভ‌র্তি হন। জায়গা সল্পতার কার‌ণে অনেককে মা‌ঠে, ভ‌্যানে, গাছ তলায় বা ড্রেনের পা‌শে চি‌কিৎসা নি‌তে দেখা গে‌ছে।

শেয়ার করুন

লিচুগাছের আম ছিঁড়ল কে

লিচুগাছের আম ছিঁড়ল কে

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের ভাতিজা আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ গাছের মালিকের। ছবি: নিউজবাংলা

আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাত্র দুইজন ছিলাম। আমি বয়স্ক মানুষ, শক্তি দিয়ে কি তাদের সাথে পারব? আবার তার চাচা মেম্বার মানুষ।’

লিচুগাছে ধরা সেই আমটি ছিঁড়ে গাছের নিচে ফেলে রেখে গেছে দুই তরুণ। এমন অভিযোগ গাছের মালিক আবদুর রহমানের।

নিউজবাংলার ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মঙ্গলবার সকালে লাইভ করার পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের ভাতিজা আমটি ছিঁড়ে নিয়েছে বলে জানান গাছের মালিক।

আবদুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, সকালে সফিকুল ইসলাম সিকিম মেম্বারের ভাতিজা সোহেল রানা আসে আমটি দেখতে। ফিরে যাওয়ার পথে একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে তর্ক হলে বিষয়টি সে তার চাচা সিকিম মেম্বারকে জানায়।

পরে মেম্বারের সঙ্গে তার দুই ভাতিজাসহ আরও দুইজন সেখানে উপস্থিত হয়। এরপর মেম্বারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় আবদুর রহমানের। এক পর্যায়ে একজন গাছ থেকে আমটি ছিঁড়ে নিচে ফেলে চলে যায়।

আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাত্র দুইজন ছিলাম। আমি বয়স্ক মানুষ, শক্তি দিয়ে কি তাদের সাথে পারব? আবার তার চাচা মেম্বার মানুষ।’

এ বিষয়ে বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে বিভিন্ন জেলার মানুষসহ সাংবাদিকরা বার বার ফোন দিয়ে বিরক্ত করছে। সকালে আমি সেখানে গিয়ে আবদুর রহমানকে বলেছি, যাতে সেখানে একটু ভিড় কম হয়। এখন করোনার সময়, এমনি দেশের অবস্থা ভালো না।

‘এরপর সে আমাকে বলে আপনারা মেম্বার-চেয়ারম্যান কী করেন? এসব আপনারা সামলাতে পারেন না? এর মাঝে কে আমটি ছিঁড়েছে, আমি চিনি না তাদের। কারণ তারা তো আর আমার সঙ্গে যায়নি। এখন আবদুর রহমান আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পড়া আমটি দেখতে গিয়েছিলাম। যারা এ আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে তারা মোটেও ভাল কাজ করেনি। এটা ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের নতুন একটা খোঁজ ছিল। আম গাছটি যেহেতু ছোট আমরা গাছটিকে পর্যবেক্ষণে রাখব।

এর আগে গত রোববার লিচুগাছে আমটি দেখতে পায় আবদুর রহমানের নাতি হৃদয়। তার কাছ থেকেই পাড়ার লোকজন এই বিরল গাছের বিষয়টি জানতে পারে।

শেয়ার করুন

দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ট্রাকচালক

দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ট্রাকচালক

বাগেরহাটের ফকিরহাটে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে এক ট্রাকের চালক নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক গোলাম সরোয়ার বলেন, মোল্লাহাট থেকে সিমেন্টবাহী একটি ট্রাক বাগেরহাটের কাটাখালী এলাকায় যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা খেজুরবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে আমিরুল ইসলাম নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

উপজেলার খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের পালপাড়ায় মঙ্গলবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আমিরুল ইসলামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, মোল্লাহাট থেকে সিমেন্টবাহী একটি ট্রাক বাগেরহাটের কাটাখালী এলাকায় যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা খেজুরবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে খেজুরবাহী ট্রাকের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত দুইজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আমিরুলের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় ট্রাক-লরির সংঘর্ষে নিহত ৩

কুমিল্লায় ট্রাক-লরির সংঘর্ষে নিহত ৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে দুর্ঘটনাকবলিত লরি ও ট্রাক উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মিয়াবাজার হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আছাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে ট্রাকের চালক ও হেলপার মারা যান। এ সময় আহত এক মোটরসাইকেলচালককে হাসপাতালে নিলে তিনিও মারা যান। এখন পর্যন্ত কারও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ট্রাক ও লরির সংঘর্ষে চালক, হেলপারসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ৭ জন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের আটগ্রাম এলাকায় মঙ্গলবার বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, চৌদ্দগ্রামের উনকোট গ্রামের লরি চালক রাসেল, ট্রাকের হেলপার চট্টগ্রামের মিরেরশরাই উপজেলার করেরহাটের আলমগীর হোসেন ও মোটরসাইকেল চালক পেয়ার আহম্মেদ।

আহতরা হলেন, ট্রাক চালক শহীদ, লরির হেলপার শাহাদাত, স্থানীয় রাজন, জামাল, রেদোয়ান, মামুন ও রাজিব।

প্রত্যক্ষদর্শীরা নিউজবাংলাকে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আটগ্রাম পুরাতন রাস্তার মাথায় একটি ট্রাক (ফেনী-ট-১১-০০৪৬) দাঁড়িয়ে ছিল। ঢাকামুখী একটি লরি (ঢাকামেট্রো-ঢ-৬২-০০১৬) ট্রাকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় পাশে থাকা মোটরসাইকেলের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে লরিটি সড়কের পাশে থাকা দোকানে ঢুকে যায়।

এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আছাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে ট্রাকের চালক ও হেলপার মারা যান। এ সময় আহত মোটরসাইকেলচালককে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। দুর্ঘটনাকবলিত লরি ও ট্রাক উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।

শেয়ার করুন

দাফনের ৩ মাস পর তোলা হলো নারীর মরদেহ

দাফনের ৩ মাস পর তোলা হলো নারীর মরদেহ

আদালতের নির্দেশে তদন্তের জন্য এক নারীর মরদেহ কবর থেকে তোলা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোরশেদা খানম জানান, গত ১৭ জানুয়ারি ওই নারীর ‍মৃত্যু হয়। তখন অভিযোগ না দিয়ে দুলনের পরিবার মরদেহ দাফন করে। পরে তাদের সন্দেহ হয়, দুলনের স্বামী আব্দুল কাইয়ুম মারধর করে তাকে হত্যা করেছে।

দাফনের তিন মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তোলা হলো নেত্রকোণা সদরের দুলন আক্তার নামের এক নারীর মরদেহ।

সদর উপজেলার কাইলাটী ইউনিয়নের দরুনবালী এলাকার একটি কবরস্থান থেকে মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহটি তোলা করা হয়।

তাকে হত্যা করা হয়েছে সন্দেহে স্বজনরা আদালতে মামলা করলে তদন্তের জন্য বিচারক মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোরশেদা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১৭ জানুয়ারি ওই নারীর ‍মৃত্যু হয়। তখন অভিযোগ না দিয়ে দুলনের পরিবার মরদেহ দাফন করে। পরে তাদের সন্দেহ হয়, দুলনের স্বামী আব্দুল কাইয়ুম মারধর করে তাকে হত্যা করেছে।

দুলনের মা আলোয়া আক্তার গত ১২ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আব্দুল কাইয়ুমসহ তিনজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। অন্য আসাসিরা হরেন, কাইয়ুমের দ্বিতীয় স্ত্রী রুমা আক্তার ও তার মা বেগম আক্তার।

সেদিনই আব্দুল কাইয়ুমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এএসপি মোরশেদা জানান, মামলায় বলা হয়েছে সদর উপজেলার কাইলাটী ইউনিয়নের দরুনবালী গ্রামের আব্দুর কাইয়ুমের সঙ্গে ২০১৪ সালে বিয়ে হয় বারহাট্টা নোয়াগাঁও গ্রামের দুলন আক্তারের। এরপর থেকেই দুলনের কাছে যৌতুক চাইতেন কাইয়ুম।

যৌতুক না পেয়ে দুলনকে প্রায়ই মারধর করা হতো। সবশেষ গত ১৭ জানুয়ারিতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

দুলনের মৃত্যুর একমাস পর কাইয়ুম কলমাকান্দা উপজেলার রুমা আক্তারকে বিয়ে করেন। এরপরই দুলনের পরিবারের সন্দেহ হয়, তাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বরিশালে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

বরিশালে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসীম উ‌দ্দি‌ন। ছবি: নিউজবাংলা

অভিযোগকারী তরুণী জসীমকে বিয়ের চাপ দিলে চলতি বছরের ৫ মার্চ তাকে দুই দিনের মধ্যে বিয়ের কথা জানান। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও বিয়ে করেন না। একসময় জানান, তিনি বিবাহিত এবং ওই তরুণীকে তার বিয়ে করা সম্ভব নয়।

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেছেন বরিশালের এক তরুণী।

ব‌রিশাল মহানগর পু‌লি‌শের এয়ার‌পোর্ট থানায় সোমবার রাতে মামলার আবেদন করেন ওই তরুণী।

অভিযুক্ত জসীম উ‌দ্দি‌ন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি।

অভিযোগে ওই তরুণী জানান, ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাসায় ঢুকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জসীম তাকে ধর্ষণ করেন। এতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে জসীম তাকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়াতে থাকেন এবং একপর্যায়ে ব‌রিশাল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করান।

এরপর জসীম তাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। তরুণী তাকে বিয়ের চাপ দিলে চলতি বছরের ৫ মার্চ জসীম তাকে দুই দিনের মধ্যে বিয়ের কথা জানান। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও বিয়ে করেন না। একসময় জানান, তিনি বিবাহিত এবং ওই তরুণীকে তার বিয়ে করা সম্ভব নয়।

এ ঘটনার পর অভিযোগকারী মামলার সিদ্ধান্ত নেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কম‌লেশ চন্দ্র হালদার ‌নিউজবাংলা‌কে জানান, অভিযোগ নেয়া হয়েছে। তবে সত্যতা যাচাইয়ের পর মামলা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জসীম উদ্দিন জানান, তিনি বিবাহিত। গত রোববার তার বিয়ে হয়েছে। অভিযোগকারী তার আত্মীয়। রাজনৈতিক কারণে ওই মেয়েকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন