‘যতক্ষণ জ্ঞান থাকত, ততক্ষণ পেটাত’

বীর মুক্তিযোদ্ধা এম জি কবির বুলু। ছবি: নিউজবাংলা

‘যতক্ষণ জ্ঞান থাকত, ততক্ষণ পেটাত’

সেই টর্চার সেলে এক দুই দিন নয়, টানা ১৯ দিন পাকিস্তানী হানাদারদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা এম জি কবির বুলু ও আনোয়ার হোসেনকে।

একাত্তরের ১৬ জুলাই সকাল। একটি স্টেনগান, ম্যাগাজিন, হ্যান্ড গ্রেনেডসহ নৌকায় করে আগৈলঝাড়া থেকে এম জি কবির বুলু ও সহযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন যাত্রা শুরু করেন চর কমিশনারের উদ্দেশে। সঙ্গে ছিলেন নৌকার মাঝি মেহের আলী।

পথে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর খালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তারা। ওই দিনই তাদের নেয়া হয় গৌরনদী কলেজের সেনাক্যাম্পে। সেখান থেকে বাটাজোর সেনাক্যাম্প ও পরে বরিশাল নগরীর ওয়াপদা কলোনির টর্চার সেলে।

সেই টর্চার সেলে এক দুই দিন নয়, টানা ১৯ দিন পাকিস্তানী হানাদারদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা এম জি কবির বুলু ও আনোয়ার হোসেনকে।

এম জি কবির বুলু জানান, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে করা হতো নির্যাতন। পাক বাহিনীর কথা না শুনলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যেত কয়েকগুন।

যতক্ষণ জ্ঞান থাকত, ততক্ষণ পেটানো হতো। জ্ঞান হারানোর ভান করে থাকতেন বুলু। নির্যাতনের এক পর্যায়ে সইতে না পেরে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আত্মহত্যা পাপ ভেবে স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তরুণ ওই মুক্তিযোদ্ধা।

তবুও মুখ খোলেননি বুলু। যন্ত্রণায় ছটফট করলেও মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে সহ্য করেন নির্যাতন। টানা ১৯ দিন টর্চার সেলে নির্যাতনের পর পাঠানো হয় কারাগারে, সেখানে তিন মাস সইতে হয় আরও নির্যাতন।

মুক্তিযোদ্ধা এম জি কবির বুলু বলেন, ‘থানায় নিয়ে আমার হাত ওরা পেছন থেকে বেঁধে দিল। আমি চার কালেমা পড়ে নিই। তারপর কিছুক্ষণ পেটায় তারা। গ্রেনেড ও স্টেনগান উদ্ধার হয়েছে, এ খবর পেয়ে পাকিস্তানি সেনারা তুলে নিয়ে যায় গৌরনদী কলেজে।

“নিচ তলাতে জেরা চলে, বলে, ‘ঘাবড়াও মাত, তোমকো ছোড় দুঙ্গা, সব সাফ সাফ বাতাও।’ মনে মনে বললাম, ‘আল্লাহ, তুমি আমার জবান নিয়া যাও। জবান থেকে যেন কোনো কথা না বেরোয়।”

বুলু বলেন, ‘দোতলায় নিয়ে এক ক্যাপ্টেন মুখে ও পেটে ঘুষি দিতে থাকে। কলেজের পশ্চিম পাশের রুমে আমাদের পা দুটি বেঁধে পায়ের পাতায় পেটাতে শুরু করে। পা ফুলে গেলে তাতে ওরা বেয়নেট দিয়ে খোঁচা দেয়। পিনপিন করে পা দিয়ে রক্ত পড়তে লাগল।

‘পরে ৩০ জন মিলে ৩ জনকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পিটাতে থাকে। শুরু করে আবারও জেরা। গালি দিয়ে বলে, সাফ সাফ বাতাও। এ মেজর জলিল কাহা, মঞ্জু কাহা, মুক্তি কাহা, সাফ সাফ বাতাও।’

‘আমি বলি, ‘কুছ নেহি জানতা।’

যতক্ষণ জ্ঞান থাকতো, ততক্ষণ পেটাতো
একাত্তরে পাক হানাদারের কাছে স্টেনগান, ম্যাগাজিন ও গ্রেনেড নিয়ে ধরা পড়ার পর যেসব নির্যাতন সইতে হয়েছিল তা বলছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির বুলু

‘এক দফা মারে। আবার জিগায়। বেয়নেট দিয়া হাতে পায়ে পোঁচ দেয় আর বলে, ‘বাতাও’। ওরা বাম কানে একটা বাড়ি দিতেই কানের পর্দা ফেটে রক্ত বেরিয়ে যায়। সারা জীবনের জন্য বাম কান বন্ধ হয়ে যায়।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আনোয়ারকে দেখে বলে, ‘তুম আর্মি হ্যায়, কমান্ডার হো।’ ওকে বাঁচাতে আমি চেঁচিয়ে বলি, ‘নেহি, ও আনসার হ্যায়। মাই কমান্ডার হ্যায়। ইয়ে স্টেনগান, ম্যাগাজিন, গ্রেনেড সব হামারা হ্যায়।’

“তুম কমান্ডার?’ শুরু হয় আরও টর্চার। ঘাড়ে একটা বাড়ি দেয়, চোখে কিছুই দেখি না। যন্ত্রণায় ছটফট করছি। চিৎকার করে কাঁদছি। ওই যন্ত্রণার কথা কীভাবে বুঝাব”, বলেন বুলু।

‘ওদের বলি, আমাকে একটা গুলি দাও। দুপুরের দিকে আমার নিথর দেহ দেয়ালে ঠেকিয়ে পিস্তল গলার কাছে ধরল এক মেজর। আমি তার চোখের দিকে চোখ রাখি। কিন্তু গুলি করল না।’

‘বেয়নেট দিয়ে গলায় একটা পোঁচ দিল মাত্র। টর্চারের যন্ত্রণা সইতে পারতাম না। কিন্তু তবুও মুখ খুলিনি। কতবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছি। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় তাও পারিনি।’

বুলু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিন জনকে এক রশিতে বেঁধে ওরা আমাদের একটা আর্মি ভ্যানে তুলে নেয়। বডিতে তখন ছোপ ছোপ রক্ত। একটু ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির ফোঁটা শরীরে পড়তেই জ্বালা করছিল। ওরা বলল, তোদের মেরে কুকুরকে খাওয়াব। আমাদের আনল বরিশাল ওয়াপদা ক্যান্টনমেন্টে। এক কর্নেল বলে, ঠিক হ্যায়, উস কো ভেজ দো।’

তিানি জানান, ১৫ জন আসামিকে ওরা একটা রুমে রাখল। তখনও কান দিয়ে ফোটা ফোটা রক্ত পড়ছে। স্টেটমেন্ট নিতে এক মেজর আসে কাঁচা লাঠি হাতে। পেটাল ঘণ্টাখানেক। শরীর তখন নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

বুলু নির্যাতনের কথা স্মরণ করে কাঁপছিলেন কথাগুলো বলার সময়। বলেন, ‘১৮ জুলাই ভোরে টর্চারে আনোয়ার মারা গেল। বুকের ভেতরটা তখন হু হু করে ওঠে। আহা রে, ওর মুখটা কীভাবে ভুলব! আনোয়ারের দুই হাত পা ধইরা ওরা ওয়াপদার খালে নিয়া ফালায়া দেয়।’

‘বরিশাল ক্যান্টনমেন্টে ১৯ দিন টর্চারের পর আমাকে প্রথম রাজেন্দ্র কলেজে এক রাত, এক‌টি সুগার মিলে এক রাত রেখে যশোর ক্যান্টনমেন্ট এবং পরে পাঠিয়ে দেয় সেন্ট্রাল জেলে। সেখানেও বেত মারত আর বলত, শালা, তোমকো খানা ইন্ডিয়া দিয়েগি।’

‘তখন চোখে দেখি না। কানে পুঁজ হয়ে গেছে। একেক রাতে তিন থেকে চারবার উঠিয়ে নিয়ে যেত। প্রতি বারই মনে হত আজই মেরে ফেলবে।’

এমজি কবির বুলু বরলেন, ‘২১ অক্টোবর পহেলা রমজানের দিন এক কয়েদি এসে বলল, রিলিজ। বিশ্বাস হয়নি। তার তিন মাস পর মুক্তি মেলে, মাঝি মেহেরকেও কিছুদিন পর ছেড়ে দেয়া হয়।’

মায়ের দোয়াতেই বেঁচে ছিলেন জানিয়ে বুলু বলেন, ‘ফিরে ঘরে যাইনি। আবার যাই যুদ্ধে। মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে গিয়ে আবারও যুদ্ধে অংশ নিই।’

৯নং সেক্টরের এই মুক্তিযোদ্ধা আরও জানান, একাত্তরের মে মাসে ক্যাম্প ছিল স্বরূপকাঠির কুড়িয়ানা স্কুল। তারা ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল ওই ক্যাম্পে ছিলেন। সেখানে বাউকাঠি এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়। যুদ্ধের পর দিন পাকিস্তানি সেনারা তাদের ক্যাম্প ঘেরাও করে। তারা অস্ত্র নিয়ে যে যার মতো পালিয়ে যান।

সেখান থেকেই বুলু এলএমজি নিয়ে চলে যান আগৈলঝাড়ায় গ্রামের বাড়ি। বাড়িতে অস্ত্রটা মাটিচাপা দিয়ে ফিরে যান সদর উপজেলার চরকমিশনার এলাকার করিম হাওলাদারের বাড়ি। সেখানে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা মিলে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। বাড়িতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে এলএমজিটা নিয়ে নৌকায় করে চরকমিশনারে যেতে ধরা পড়েন তারা।

আরও পড়ুন:
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদকে সম্মাননা
ঘরে ঘরে পতাকা বিলাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া 
কাফনের কাপড় পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: ৪৮ বছরেও বিচার হয়নি
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরিত্যক্ত ভবনের পানিতে শিশুর ভাসমান মরদেহ 

পরিত্যক্ত ভবনের পানিতে শিশুর ভাসমান মরদেহ 

পরিত্যক্ত ভবনের পানিতে ভাসছিল শিশুর মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

১০ বছর বয়সী শিশু ইমনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাকলিয়ায় থাকত। স্থানীয় পথশিশুদের সঙ্গে পুরোনো বোতল ও পরিত্যক্ত জিনিস কুড়াতো।

চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত ভবন থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নগরের চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার গণি কলোনির একটি পাঁচতলা পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনের নিচতলা থেকে শনিবার বেলা ১২টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

১০ বছর বয়সী ওই শিশুর নাম মো. ইমন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাকলিয়ায় থাকত। স্থানীয় পথশিশুদের সঙ্গে পুরোনো বোতল ও পরিত্যক্ত জিনিস কুড়াতো।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সাদী বলেন, ‘দুপুরে ওই ভবনের সামনে মানুষের জটলা দেখে আমিও যাই। গিয়ে দেখি ময়লা পানির মধ্যে শিশুটার মরদেহ ভাসছে। পানিতে একটা বিদ্যুতের তার ছিল।’

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খোন্দকার নিউজবাংলাকে জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে ওই ভবনের নিচতলায় পরিত্যক্ত জিনিস সংগ্রহ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।

আরও পড়ুন:
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদকে সম্মাননা
ঘরে ঘরে পতাকা বিলাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া 
কাফনের কাপড় পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: ৪৮ বছরেও বিচার হয়নি
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’

শেয়ার করুন

আ. লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, আহত ৫

আ. লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, আহত ৫

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ছবি: নিউজবাংলা

লালমনিরহাটে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লালমনিরহাটে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে।

শহরের বানিয়াপট্টি এলাকায় শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে ছাত্রলীগ সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি বানিয়া পট্টি এলাকায় পৌঁছালে বক্করের লোকজন এতে হামলা চালায়। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচজন আহত হন।

পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

আহত পাঁচজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ফরিদ হাসান সবুজের সঙ্গে বক্করের গ্রুপের কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। এরপর সবুজ তার বাড়িতে পালিয়ে গেলে তারা সেখানেও হামলা চালায়।

সেখানে সবুজের মা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমানের বোন ফাতেমা বেগমকে মারধর ও বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বক্কর ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান আওরঙ্গসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন সবুজ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রলীগের একটি অংশ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে। মামলা প্রত্যাহার করা না হলে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালেরও ঘোষণা দেয়া হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহা আলম নিউজবাংলাকে জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর থেকে বক্কর পলাতক বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদকে সম্মাননা
ঘরে ঘরে পতাকা বিলাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া 
কাফনের কাপড় পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: ৪৮ বছরেও বিচার হয়নি
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’

শেয়ার করুন

কীভাবে মারা গেল সেই তিমিগুলো

কীভাবে মারা গেল সেই তিমিগুলো

শুক্রবার ভেসে আসা মৃত তিমি। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা দুইটি বিষয় সামনে রেখে তিমির নমুনাগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। সেগুলো হচ্ছে- বিষাক্ত কোনো কিছু খেয়ে তিমিটি মারা গেছে নাকি প্লাস্টিক জাতীয় কোনো বস্তু খেয়ে মারা গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই ‍দুইটি কারণ আমরা খুঁজে পাইনি। আঘাতের কারণে মারা গেছে কি না সেটি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে। তিমির মূলত ময়নাতদন্ত করবে বনবিভাগের অধীনে ভেটেরিনারি সার্জনরা। এই রিপোর্ট পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

কক্সবাজার সাগরে ভেসে আসা মৃত দুইটি তিমিকে হত্যা করা হয়েছে নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবাদীরা দাবি করেছেন, তিমিগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। তবে মৎস্য অফিস বলছে, ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না তিমিগুলোর মৃত্যুর কারণ।

মৃত দুইটি তিমির নমুনা সংগ্রহ করেছেন মৎস্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আশরাফুল হক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার তীরে আসা তিমির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছি। সেটির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তিমিটি ব্রাইডস হোয়েল প্রজাতির।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দুইটি বিষয় সামনে রেখে তিমির নমুনাগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। সেগুলো হচ্ছে- বিষাক্ত কোনো কিছু খেয়ে তিমিটি মারা গেছে নাকি প্লাস্টিক জাতীয় কোনো বস্তু খেয়ে মারা গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই ‍দুইটি কারণ আমরা খুঁজে পাইনি। আঘাতের কারণে মারা গেছে কি না সেটি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে। তিমির মূলত ময়নাতদন্ত করবে বনবিভাগের অধীনে ভেটেরিনারি সার্জনরা। এই রিপোর্ট পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

তিমি, ডলফিন জাতীয় প্রাণী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার যে ধরনের যন্ত্র দরকার সেই ধরনের জিনিসপত্র দেশে নেই বা থাকলে সেটি খুবই কম। তিমিগুলোর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে এটি বড় সমস্যা বলেও জানান এই মৎস্য বিশেষজ্ঞ।

পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য নেচার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম রিয়াদের ধারণা, তিমিগুলোর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। তিনি বলেন, ‘এসব তিমির গায়ে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। তাই তিমিগুলো মেরে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছি।’

তিমি বেশ বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবেই পরিচিত। পানিতে থাকলেও বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকে তারা। এ কারণে মাছের মতো বেশিক্ষণ পানির নিচে ডুব দিয়ে থাকতে পারে না। পানির উপরিভাগেও বিচরণ আছে তাদের। স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানি পছন্দ করে প্রাণীটি।

মৃত তিমি
শনিবার হিমছড়ি পয়েন্টে ভেসে আসা আরেকটি মৃত তিমি

তীরে ভেসে আসা তিমিগুলো বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে বসবাস করে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘চতুর শিকারী না হলে তিমি মারা সহজ নয়। কারণ, বিশালদেহী তিমি শিকারীকে ঘায়েল করতে পারে। সাধারণত তিমিকে হত্যার জন্য প্রাণীটির ঘাড়ের কাছে আঘাত করা হয়। এতে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মারা যায়।’

নিষিদ্ধ হলেও তিমি কেন হত্যা করা হয়, তার কারণ জানিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ‘এদের চর্বি অনেক মূল্যবান। এ ছাড়া খাদ্য হিসেবেও মাংস ব্যবহৃত হয়। খাদ্য ও চর্বিসহ অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করাই এই তিমি মেরে ফেলার অন্যতম কারণ।‘

হত্যার উদ্দেশ্য ছাড়াও অন্য আঘাতেও তিনি মারা যেতে পারে বলে জানান এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে অনেক জেলে মাছ ধরে। জেলেদের জালে তিমি আটকে যাওয়ার খবর আমরা মাঝেমাঝে পাই। জেলেদের জালে আটকে অনেক তিমি আহত হয়। পরে ধীরে ধীরে সেটি মারা যায়। এরপর তিমির দেহ ভেসে তীরে চলে আসতে পারে।’

গবেষণার কাজে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ঘুরে দেখেছেন প্রকৃতি বিষয়ক সাংবাদিক ও অ্যাক্টভিস্ট হোসেন সোহেল। তিনি বলেন, ‘ব্রাইডস হোয়েল প্রজাতির তিমি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে দেখা যায়।

‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ছোট একটি জায়গা যার পরিধি ১৪ কিলোমিটার কিন্তু সেখানে ভিড় করে শত শত বাণিজ্যিক ও উডেন বোট। কাঠের বোটের ৬০ ফুট লম্বা আর বাণিজ্যিক ফিশিং বোটে প্রায় ২০০ ফুট লম্বা নানান আকৃতির জাল ফেলা হয় সাগরগর্ভে।

‘যুগ যুগ ধরে অন্যদেশের জেলেরা সোয়াচে মাছ ধরে চলেছে। সেখানে দিনরাত ফিশিং চলে। সেই সোয়াচে জায়গা জুড়ে রয়েছে তিমির ঝাঁক। আমি নিজের চোখে সোয়াচে দেখেছি বাচ্চাসহ একটি বড় তিমি। দিনরাত যদি ফিশিং হয় তাহলে সেখানে বাস করা তিমি কীভাবে থাকবে?’

তিমিগুলোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে হোসেন সোহেল বলেন, ‘এইসব মৃত তিমি কোথায় থেকে আসছে নাকি সোয়াচ থেকে মরে ভেসে আসছে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। মনগড়া পোস্টমর্টেম ও তদন্ত প্রতিবেদন দিলে হবে না। এইসব প্রাণী হত্যার ক্ষেত্রে প্রায় দেখা যায় বা তদন্তে লেখা থাকে হার্ট অ্যাটাক, হিট স্ট্রোক, বয়স্ক, বার্ধক্যজনিত রোগসহ আরও কিছু। জেলেদের জালে অথবা কীভাবে একের পর এক প্রাণীগুলো মারা যায় তা খুঁজে বের করতে হবে।’

২০১৮ সালে মে মাসে কুয়াকাটা সৈকতে মৃত অবস্থায় ভেসে আসে বড় আকারের একটি ব্রাইডস হোয়েল। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিন উপকূল ঘেঁষে সাগরে ভাসতে দেখা যায় আরও একটি মৃত ব্রাইডস হোয়েল। একই বছর জুনে টেকনাফে আরও একটি ব্রাইডস হোয়েল ভেসে আসে।

আরও পড়ুন:
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদকে সম্মাননা
ঘরে ঘরে পতাকা বিলাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া 
কাফনের কাপড় পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: ৪৮ বছরেও বিচার হয়নি
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’

শেয়ার করুন

বিস্ফোরণে দগ্ধ মিরকাদিম পৌর মেয়রের স্ত্রীর মৃত্যু

বিস্ফোরণে দগ্ধ মিরকাদিম পৌর মেয়রের স্ত্রীর মৃত্যু

বাড়ির গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে নিহত মিরকাদিম পৌর মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতের ছেলে রাশেদ মানিক নিউজবাংলাকে জানান, ‘শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তার মায়ের অবস্থা আশংকাজনক ছিল। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।’

বাড়ির গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌর মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তিনি মারা যান।

মেয়রের ছেলে রাশেদ মানিক নিউজবাংলাকে জানান, শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তার মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আর ১২ জনের মধ্যে ৯ জনকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

পৌরসভার কর্মকর্তা মনির হোসেনসহ দুইজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুস সালামের বাসায় বিস্ফোরণে চারজন কাউন্সিলরসহ ১৩ জন দগ্ধ হন। এ সময় পৌর মেয়র অক্ষত থাকলেও তার স্ত্রী গুরুত্বর আহত হন।

আহত চার কাউন্সিলর হচ্ছেন মো. সোহেল, মো. আওলাদ, দীন ইসলাম ও রহিম বাদশা।

আহত অন্যরা হলেন মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম, মো. মোশারফ, মনির হোসেন, শ্যামল দাস, পান্না, কালু, ইদ্রিস আলী, মঈনউদ্দিন ও মো. তাজুল।

মিরকাদিম পৌরসভার কাউন্সিলর রহিম বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, ‌‘পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে মেয়রের বাসার তৃতীয়তলার একটি কক্ষে আলোচনা করছিলাম আমরা। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

‘মুহূর্তে কক্ষের ভেতর আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণে কক্ষের আসবাবপত্র, জানালার কাচ ফেটে চুরমার হয়ে গেছে।’

বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, বিস্ফোরণের বিষয়টি নিয়ে রহস্য ও প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।

পরে সিআইডির বোমা নিষ্ক্রিয় টিম, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলের আলামত পরীক্ষার পর নিশ্চিত করেন, বিস্ফোরণটি বাড়ির গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদকে সম্মাননা
ঘরে ঘরে পতাকা বিলাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া 
কাফনের কাপড় পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: ৪৮ বছরেও বিচার হয়নি
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’

শেয়ার করুন

কারাগারে হাজতির মৃত্যু

কারাগারে হাজতির মৃত্যু

কাশিমপুর কারাগারের মৃত হাজতি জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার আবু সায়েম জানান, মাদক মামলায় বন্দি ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। শুক্রবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুসতাক আহমেদের মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীর আলম নামের আরেক হাজতির মৃত্যু হয়েছে।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।

৪২ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী দত্তপাড়া এলাকায়। তিনি মাদক মামলায় কাশিমপুর কারাগার-২ এ বন্দি ছিলেন। তার হাজতি নম্বর ছিল ২৩৫৪/২০।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার আবু সায়েম নিউজবাংলাকে জানান, মাদক মামলায় বন্দি ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। শুক্রবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে চিকিৎসক রাত পৌনে ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে জাহাঙ্গীরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি মুশতাক আহমেদ সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ অনুভব করলে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত ৮টা ২০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর দেড় মাস পর কারাগে আরেক হাজতির মৃত্যু হলো।

আরও পড়ুন:
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদকে সম্মাননা
ঘরে ঘরে পতাকা বিলাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া 
কাফনের কাপড় পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: ৪৮ বছরেও বিচার হয়নি
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’

শেয়ার করুন

পাটক্ষেতে কৃষকের মরদেহ

পাটক্ষেতে কৃষকের মরদেহ

অষ্টগ্রাম থানার ওসি জানান, কাকনের গলায় গামছার প্যাঁচের ও যৌনাঙ্গে খানিকটা কাটার দাগ আছে।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পাটক্ষেত থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের ঘোষহাটিতে ইউনুস মিয়ার পাটক্ষেত থেকে শনিবার সকাল সাতটার দিকে কাকন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কাকন মিয়ার বাড়ি ওই ইউনিয়নের পরশপাড়া এলাকায়।

কাকনের বড় ভাই জালু মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে খাওয়াদাওয়া করে বের হন কাকন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। সকালে খোঁজাখুঁজি করে পাটক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মোল্ল্যা নিউজবাংলাকে জানান, কাকনের গলায় গামছার প্যাঁচের ও যৌনাঙ্গে খানিকটা কাটার দাগ আছে।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।

আরও পড়ুন:
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদকে সম্মাননা
ঘরে ঘরে পতাকা বিলাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া 
কাফনের কাপড় পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: ৪৮ বছরেও বিচার হয়নি
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’

শেয়ার করুন

আ. লীগ নেতার বাড়িতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ

আ. লীগ নেতার বাড়িতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ

গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানাকে আটক করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

সদর থানার ওসি জানান, আর্থিক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে জুতা ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে।

সদর উপজেলার বল্লমঝার ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের মাসুদ রানার বাড়ি থেকে শনিবার দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রানা জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক।

জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীর বাড়ি জেলা শহরের থানাপাড়া এলাকায়। তিনি আফজাল সুজের ডিলার। শহরের স্টেশন রোডে তার দোকান আছে।

পরিবারের অভিযোগ, এক মাস আগে হাসান লালমনিরহাট যান। গত ৫ মার্চ তাকে সেখান থেকে অপহরণ করেন রানা। এরপর বিভিন্ন জায়গায় তাকে আটক রেখে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পসহ সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। এ ছাড়া তার পরিবারের কাছেও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

শনিবার সকালে রানার বাড়িতে হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান নিউজবাংলাকে জানান, আর্থিক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর স্থানীয়রা রানাকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রানাকে আটক করে।

তাদের অভিযোগ, রানা সুদের ব্যবসা করতেন। সুদ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই তিনি হাসানকে অপহরণ করেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সকালের দিকে হাসানের মোবাইল থেকে তার স্ত্রীর মোবাইলে একটি এসএমএস আসে। এতে লেখা ছিল, তার মৃত্যুর জন্য রানা দায়ী থাকবে।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদকে সম্মাননা
ঘরে ঘরে পতাকা বিলাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া 
কাফনের কাপড় পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: ৪৮ বছরেও বিচার হয়নি
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’

শেয়ার করুন