ছেলের মৃত্যুতে চোখের পানি শুকালেও শুকায়নি হৃদয়ের ক্ষত

পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সোহেল

ছেলের মৃত্যুতে চোখের পানি শুকালেও শুকায়নি হৃদয়ের ক্ষত

২০১৭ সালের ২৫ মার্চ রাত ৮টায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত হওয়ার পর রাত ১টা ৪০ মিনিটের সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সোহেল।

সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গিদের বোমা বিষ্ফোরণে পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সোহেল নিহত হওয়ার ঘটনার চার বছর পূর্ণ হয়েছে। ছেলের মৃত্যুতে মা ফিরোজা খাতুনের চোখের পানি শুকালেও এখনও শুকায়নি হৃদয়ের ক্ষত।

ছেলের প্রাণ এভাবে ঝরে যেতে পারে, তা কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মা। তাই মৃত্যুর আগে ছেলের প্রকৃত খুনিদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে কঠিন শাস্তির দাবি জানান ফিরোজা খাতুন।

২০১৭ সালের ২৫ মার্চ রাত ৮টায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত হওয়ার পর রাত ১টা ৪০ মিনিটের সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সোহেল।

২৬ মার্চ নিহত পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সোহেলের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। এই উপলক্ষে নোয়াখালীর সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়ায় তার গ্রামের বাড়িতে কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম সোহেল পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের ডা. নুরুল ইসলামের ছেলে। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সোহেল ছিলেন চতুর্থ। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মনিরুল ইসলাম সোহেল। তার মৃত্যুতে পরিবারের আয়ের চাকা বন্ধ হয়ে যায়।

সোহেল এবং তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তারের রয়েছে মোজ্জাকেরুল ইসলাম পারাভী নামের ছয় বছরের একটি পুত্র সন্তান। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী পারভীন আক্তারকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরি দেওয়া হয়। আদর-ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ রাখলেও বাবার শূন্যতা আজও তাড়া করে বেড়ায় শিশু পারাভীকে।

নিহত পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সোহেলের মা ফিরোজা খাতুন বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর কী অসহায় অবস্থায় আছি সেটা বুঝাতে পারবো না। আমার সন্তানের প্রকৃত খুনিদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি দেয়া হোক। যাতে এভাবে আর কোন মায়ের বুক খালি না হয়।

তিনি আরো বলেন, ছেলের মৃত্যুর পরে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমার পুত্রবধূ ও আমার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম শামীমের জন্য চাকরি চেয়েছিলাম। সরকার পুত্রবধূকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিলেও ছেলে শামীমের কোন চাকরির ব্যবস্থা হয়নি।

মনিরুল ইসলাম সোহেলের স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, তিনি জেলা শহর মাইজদীতে একটি ফ্ল্যাটে রয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি শাখায় তাকে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য আটক: র‌্যাব
আনসার আল ইসলামের এক সদস্য আটক
‘আল্লাহর দলের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিজু উৎসব হবে অনেক প্রথা বাদ দিয়ে

বিজু উৎসব হবে অনেক প্রথা বাদ দিয়ে

সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে থেকে উৎসব পালন করতে বলা হয়েছে। ফুলবিজুতে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানো হলেও কোনো জনসমাগম হবে না।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারে পাহাড়ে উদযাপিত হবে বিজু উৎসব। প্রতি বছর এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয় পাহাড়িদের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব বিজুর নানা আয়োজন।

করোনা মহামারি মধ্যে গত বছর পাহাড়ে এ উৎসব হয়নি। এবারও ঐতিহ্যবাহী নানা প্রথা বাদ দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে বিজু উৎসব করতে আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিলর প্রোডাকশনের সহসভাপতি পারমিতা চাকমা।

তিনি বলেন, সোমবার সকালে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে শুরু হবে বিজু উৎসব। তবে সবকিছু হবে জনসমাগম ছাড়া। এ ছাড়া বিজু উৎসবের প্রধান আর্কষণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা হবে না। সরকারের নির্দেশনা মেনে অনলাইনের মাধ্যেমে এবছরের হিলর প্রোডাকশনের একটা স্বল্পদৈর্ঘ্য মুক্তি দেয়া হচ্ছে। স্বৈল্পদৈর্ঘ্য ফিল্মের নাম ‘চাগুরী’, যার বাংলা অর্থ চাকরি।

এদিকে জনসমাগম ছাড়া নিজ নিজ বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে বিজু উৎসব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। একজনের বাড়িতে অন্য পরিবারের লোকজন যাতে না আসে, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আয়োজন, উৎসব থাকলে তা অনলাইনে করতে হবে।

বিজু, সাংগ্রাই, সাংক্রান, সাংক্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু ২০২১ উদযাপন কমিটির সদস্য ও পার্বত্য অঞ্চলের বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার কারণে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি স্থগিত করা হয়েছে। তবে বিজু উৎসবের প্রকাশনা বের হবে।

সোমবার পালিত হবে বিজু উৎসবের ফুলবিজু। সকালে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া পানিতে ফুল ভাসিয়ে নিবেদন করা হবে পুষ্পাঞ্জলি। মঙ্গলবার পালিত হবে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ মূলবিজু। এরপর বুধবার গোজ্জেপোজ্জে দিন পালিত হবে।

ফুলবিজুর দিনে সকাল ও সন্ধ্যায় পাহাড়িদের ঘরে ঘরে জ্বালানো হবে মঙ্গলপ্রদীপ।


উৎসবটিকে চাকমারা বিজু হিসেবে পালন করলেও মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক নামে পালন করে। এর প্রথম দিন চাকমারা ফুলবিজু, মারমারা পাইংছোয়াই, ত্রিপুরারা হারি বৈসুক, দ্বিতীয় দিন চাকমারা মুলবিজু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা, ত্রিপুরারা বৈসুকমা এবং তৃতীয় দিন চাকমারা গোজ্যেপোজ্যে দিন, মারমারা সাংগ্রাই আপ্যাইং ও ত্রিপুরারা বিসিকাতাল নামে পালন করে থাকে ঘরে ঘরে। এটি পাহাড়ি জনগণের প্রাণের উৎসব।

প্রত্যেক বছর উৎসবে প্রাণে প্রাণে তৈরি হয় উচ্ছ্বাসের বন্যা। সম্মিলন ঘটে পাহাড়ে বসবাসকারী সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের। এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর তিন দিনব্যাপী প্রধান সামাজিক উৎসব।

প্রত্যেক বছর এ উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে। এসব বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্যে থাকে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী খেলাধূলা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গ্রামীণ পালাগান, পাজন ও পিঠা উৎসব, নিজস্ব সংস্কৃতির প্রদর্শনী, নাট্যমঞ্চ, চলচ্চিত্র ও সাময়িকী প্রকাশনা। জানুয়ারি থেকেই এসব কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়। এবারও আগে থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেও বৈশ্বিক প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে তা বাতিল করতে হয়েছে বহু সংগঠনকে।

আরও পড়ুন:
আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য আটক: র‌্যাব
আনসার আল ইসলামের এক সদস্য আটক
‘আল্লাহর দলের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম

মা জেব্রা ও শাবক উভয়েই সুস্থ রয়েছে। মাসহ শাবকটি অন্যান্য জেব্রার সঙ্গে বেষ্টনীর বিভিন্ন অংশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মা জেব্রার পুষ্টিমানের কথা বিবেচনায় খাদ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের জেব্রা পরিবারে নতুন শাবকের জন্ম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শাবকের জন্ম হলেও পার্ক কর্তৃপক্ষ শনিবার গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ করে।

নতুন অতিথিসহ পার্কের জেব্রা পরিবারের সংখ্যা ২৫টিতে দাঁড়াল।

জন্মের কিছু সময় পর থেকেই মা জেব্রা ও সদ্য জন্ম নেয়া শাবকটিকে বেষ্টনীতে বিচরণ করতে দেখা গেছে। নতুন শাবকের আগমনে জেব্রা পরিবার ছাড়াও পার্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ।

পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক সারোয়ার হোসেন জানান, মা জেব্রা ও শাবক উভয়েই সুস্থ রয়েছে। মাসহ শাবকটি অন্যান্য জেব্রার সঙ্গে বেষ্টনীর বিভিন্ন অংশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মা জেব্রার পুষ্টিমানের কথা বিবেচনায় খাদ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

জেব্রার প্রধান খাবার ঘাস। বর্তমানে ঘাসের পাশাপাশি মা জেব্রাকে ছোলা, গাজর ও ভূষি দেয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় শাবকটি পুরুষ না মাদি তা এখনও জানা যায়নি।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নিবিড় পরিচর্যায় বর্তমানে সাফারি পার্কে দেশীয় পরিবেশে নানা ধরনের বিদেশি প্রাণী থেকে নিয়মিত বাচ্চা পাওয়া যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় জেব্রা হতে বাচ্চা পাওয়া গেছে।’

আরও প্রাণীর জন্মের মধ্য দিয়ে পার্কটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা কমে আসবে বলেও আশা করছেন এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য আটক: র‌্যাব
আনসার আল ইসলামের এক সদস্য আটক
‘আল্লাহর দলের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু 

ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু 

পারিবারিক কলহে স্ত্রী হাসিনাকে মারপিট করেন সারোয়ার। ঘুম থেকে উঠে ছেলে নয়ন মারপিট করেন বাবাকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সারোয়ার।

পারিবারিক কলহের জেরে যশোরে ছেলের লাঠির আঘাতে সারোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছেলে নয়ন হোসেনকে আটক করা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া কালীবটতলা এলাকায় নিজ বাড়িতে মারপিটের শিকার হন সারোয়ার হোসেন। আহত অবস্থায় তাকে রাতেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শনিবার সকাল ১১টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে নেয়ার পথে মারা যান সারোয়ার।

নিহতের ভগ্নিপতি এসকেন্দার ব্যাপারী জানান, শুক্রবার রাতে সারোয়ার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরলে স্ত্রী হাসিনা বেগমের সঙ্গে তর্ক হয়। পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে হাসিনাকে মারপিট করেন সারোয়ার।

এ সময় ঘুমিয়ে থাকা ছেলে নয়নকে ডেকে হাসিনা ঘটনা জানান। ঘুম থেকে উঠে নয়ন ঘরের দরজার ডাসা দিয়ে বাবাকে আঘাত করেন। হাসপাতালে নেয়া হলে শনিবার তার মৃত্যু হয়।

যশোর কোতয়ালী থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। ছেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করায় বাবা মারা গেছেন। অভিযুক্ত নয়নকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য আটক: র‌্যাব
আনসার আল ইসলামের এক সদস্য আটক
‘আল্লাহর দলের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

লাইট বন্ধ নিয়ে তর্কাতর্কির পর আনসার সদস্য হত্যা

লাইট বন্ধ নিয়ে তর্কাতর্কির পর আনসার সদস্য হত্যা

হত্যার শিকার আনসার সদস্য মিজানুর রহমান মিজান। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহীর হেতেমখাঁ এলাকায় ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পাশে রেজা নামে এক ব্যক্তির দোকান আছে। লকডাউন চলার কারণে মিজানুর ওই দোকানিকে লাইট বন্ধ করে ব্যবসা করতে বলেন। এ নিয়ে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। মিজানুর রহমানকে হত্যা করা হয় এর জেরে।

রাজশাহী মহানগরীতে লকডাউনে দোকানে লাইট বন্ধ করা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে এক আনসার সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার রাত ৮টার দিকে মহানগরীর হেতেমখাঁ এলাকায় ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভেতর আনসারদের একটি কোয়ার্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান মিজান। নগরীর হেতেমখাঁ সবজিপাড়া মহল্লায় তার বাড়ি।

মিজানুর আনসার বাহিনীর হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন। বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসেও তিনি আনসার বাহিনীর দলে ছিলেন। খেলা শেষে সম্প্রতি ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন।

তিনি ভালো বাস্কেটবলও খেলতেন।

পুলিশ জানায়, ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পাশে রেজা নামে এক ব্যক্তির দোকান আছে। লকডাউন চলার কারণে মিজানুর ওই দোকানিকে লাইট বন্ধ করে ব্যবসা করতে বলেন।

কেন লাইট বন্ধ করতে হবে এই প্রশ্ন তুলে মিজানুরের সঙ্গে তর্কে জড়ান তার বন্ধু মাধব। মাধবের বাড়িও হেতেমখাঁ এলাকায়। এ সময় তাদের দুজনের হাতাহাতিও হয়। তখন অন্য বন্ধুরা তাদের থামান।

এরপর মিজানুর প্লান্টের ভেতরের এলাকায় ঢুকে অন্যদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর সেখানেই ছুরিকাঘাতের শিকার হন মিজানুর।

ঘটনার পরপরই কয়েকজন তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিজানুরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা মাধবের বাড়িতে হামলার প্রস্তুতি নেন। কয়েকজন গিয়ে মাধবের বাড়ির গেট ধাক্কাধাক্কি করে এবং তাকে আটকের দাবিতে নানা শ্লোগান দিতে থাকে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, মিজানুরের বুকের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। অপ্রীতিকর আর কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সেটি দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য আটক: র‌্যাব
আনসার আল ইসলামের এক সদস্য আটক
‘আল্লাহর দলের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

ধামরাইয়ের ‘পদ্মা সেতু’

ধামরাইয়ের ‘পদ্মা সেতু’

মডেল ‘পদ্মা সেতু’র নির্মাণকাজ শেষ করেছে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

‘প্রথম যেদিনকা পদ্মা সেতুর স্প্যান বসে, ওদিন থাইকাই আমি অনুপ্রাণিত। আমি ওইরকম একটা সেতু করতে চাই। ২০১৮ সালে আমি সেতুর কাজ শুরু করি, তা টিকাইতে পারি নাই। তখন মাটি দিয়া বানাইছিলাম, ভাইঙ্গা গেছে। আবার বৃষ্টির পানিতেও গইলা গেছিল। এ বছর মাটির ওপর হালকা করে সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার করে দিছি। যাতে সেতুর মাটি গলে না যায়।’

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে, তা দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় পদ্মার দুই পাড়ে। এরই মাঝে মডেল ‘পদ্মা সেতু’র নির্মাণকাজ শেষ করেছে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।

ধামরাইয়ের স্কুল শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেনের গড়া সেই পদ্মা সেতু দেখতেও মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। মাটি ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি সেতুতে নানা কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মূল সেতুর অবয়ব ও সৌন্দর্য। সেতুটি দেখতে প্রতিদিনই ঢাকার ধামরাইয়ে শিক্ষার্থীর বাড়িতে ভিড় করছেন অনেকেই।

উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘরের পাশেই বাঁশ ও মাটির কাঠামোতে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে বানানো হয়েছে পদ্মা সেতু। মূল সেতু ছাড়াও রেললাইন, ল্যাম্পপোস্টসহ অনেক কিছু রয়েছে এই ডামি সেতুতে। রাতের বেলা ল্যাম্পপোস্টগুলোতে আলো জ্বললে অনেক সুন্দর হয়ে উঠে সোহাগের স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

স্কুলছাত্র সোহাগ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথম যেদিনকা পদ্মা সেতুর স্প্যান বসে, ওদিন থাইকাই আমি অনুপ্রাণিত। আমি ওইরকম একটা সেতু করতে চাই। ২০১৮ সালে আমি সেতুর কাজ শুরু করি, তা টিকাইতে পারি নাই। তখন মাটি দিয়া বানাইছিলাম, ভাইঙ্গা গেছে। আবার বৃষ্টির পানিতেও গইলা গেছিল। এ বছর মাটির ওপর হালকা করে সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার করে দিছি। যাতে সেতুর মাটি গলে না যায়।’


উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সোহাগ বলেন, ‘আমি দশম শ্রেণিতে বাণিজ্য বিভাগে পড়ালেখা করতাছি। বাড়ির কাজের পাশাপাশি আমি এই পদ্মা সেতু তৈরি করছি। এতদিন পর এটা বানাইতে পাইরা আমার খুব ভাল লাগতেছে। বাড়ির কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমি ওইটা করছি। অনেক লোক আসতেছে দেখতে। যেই দেখতেছে সেই প্রশংসা করতাছে।’

সুতিপাড়া ইউনিয়নের গার্মেন্ট শ্রমিক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে শুনলাম পদ্মা সেতু তৈরি করছে একটা ছেলে। ব্রিজটা দেখে অনেক সুন্দর লাগল। রেল লাইন আর যে কয়টা রাস্তা সব করছে।’

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের হাতকোড়া গ্রামের সেলিম মৃধা বলেন, ‘আসল যে পদ্মা সেতু আছে এবং এটা একই রকম। আমি তার কাজে খুব সন্তুষ্ট। দেখে খুশি হইছি।’

সোহাগের বাবা সুলতান উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলে মাটি দিয়া যাই করছে, সব সময় লোকজন আসে দেকতে। সবাই ভাল বলতাছে। আমার খুব আনন্দ লাগতাছে।’

সুতিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি নিজে গিয়া পদ্মা সেতুটা দেইখা আসছি। অনেক সুন্দর হয়েছে কাজটা। প্রতিদিনই লোকজন সেতুটা দেখতে আসতেছে। আমরা এলাকাবাসী ওরে নিয়া গর্বিত।’

আরও পড়ুন:
আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য আটক: র‌্যাব
আনসার আল ইসলামের এক সদস্য আটক
‘আল্লাহর দলের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

করোনা: চট্টগ্রামে ৩৭ মামলায় জরিমানা ৬৬ হাজার

করোনা: চট্টগ্রামে ৩৭ মামলায় জরিমানা ৬৬ হাজার

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি নির্দেশনা পালন নিশ্চিতে নগরীর খুলশী, বায়েজিদ, পতেঙ্গা, ইপিজেড, বন্দর, পাহাড়তলী, হালিশহর, আকবরশাহ, পাঁচলাইশ, চাঁন্দগাও, চকবাজার এবং বাকলিয়া এলাকায় জেলা প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্বাস্থ্যবিধি ও করোনাকালে সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করায় চট্টগ্রামে ৩৭ মামলায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের পাঁচ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা চালিয়ে এই জরিমানা করে।

ম্যাজিস্ট্রেটরা হলেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী, নাজমা বিনতে আমিন, ফাহমিদা আফরোজ, হুছাইন মুহাম্মদ এবং প্রতীক দত্ত।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি নির্দেশনা পালন নিশ্চিতে নগরীর খুলশী, বায়েজিদ, পতেঙ্গা, ইপিজেড, বন্দর, পাহাড়তলী, হালিশহর, আকবরশাহ, পাঁচলাইশ, চাঁন্দগাও, চকবাজার এবং বাকলিয়া এলাকায় জেলা প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জরিমানা করা ছাড়াও জনসাধারণের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়।’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের এই অভিযান নিয়মিত চলবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য আটক: র‌্যাব
আনসার আল ইসলামের এক সদস্য আটক
‘আল্লাহর দলের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

নিজেকে ‘জীবিত’ করতে দপ্তর থেকে দপ্তরে ধরনা

নিজেকে ‘জীবিত’ করতে দপ্তর থেকে দপ্তরে ধরনা

বিধবা ভাতা আসছে না দেখে সরকারি দপ্তরে খোঁজ নিয়ে শানু বেগম দেখেন, নথিপত্রে তাকে ‘মৃত’ দেখানো হচ্ছে।

দুই সপ্তাহ ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ছোটাছুটি করছেন শানু বেগম। নিজেকে ‘জীবিত করে’ তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। কেননা বরিশালের মুলাদী উপজেলার ৬৫ বছরের এ বৃদ্ধা সরকারি নথিতে ‘মৃত’।

তিনি আশ্বাস পেয়েছেন বটে। কিন্তু নথিপত্রে ‘জীবিত’ হতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মার্চ মাসের শেষ দিকে মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বিধবা ভাতা বিষয়ে খোঁজ নিতে যান শানু বেগম। সেখানে তার নামধাম না থাকায় খোঁজ নিতে স্থানীয় উপজেলা নির্বাচন অফিসে যেতে বলা হয় তাকে। উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পর শানু বেগম জানতে পারেন, কাগজপত্রে তাকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। তবে কীভাবে জীবিত থেকেও ‘মৃত’ হলেন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা তাকে কেউ দিতে পারেনি।

শানু বেগম জানান, বছর খানেক আগে থে‌কে তিনি বিধবা ভাতা বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ তার পরিচিতদের সবাই ঠিকঠাক মতো ভাতা পাচ্ছে। কেন তিনি পাচ্ছেন না, জানতে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এবং সেখান থেকে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে যান।

শানু বেগম জানান, কাগজপত্রে ‘মৃত’ হওয়া আসলেই দুঃখজনক। তথ্যের ভুলের কারণে সরকারি সব সুবিধা থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। মেয়েদের কোনোভাবে বিয়ে দিতে পারলেও তার দুই ছেলে বেকার। এই ভাতা অনেক উপকা‌রে আসে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকার অসহায় বিধবাদের মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা দেয়, যা প্রতি তিন মাস পরপর বিতরণ হয়। চলতি অর্থবছর ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪৯ লাখ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মন্টু বিশ্বাস জানান, তিনি বিষয়টি জানেন এবং সমস্যা সমাধানে উপজেলা নির্বাচন অফিস ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

জানা গে‌ছে, ২০১৯ সা‌লের ভোটার তা‌লিকা হালনাগাদ করার সময় তথ্য সংগ্রহকারী চরক‌মিশনার বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিজাম উ‌দ্দিন ওই নারী‌কে মৃত উ‌ল্লেখ ক‌রেন। ত‌বে নিজাম উ‌দ্দিন দাবি ক‌রে‌ছেন, হালনাগাদ কার্যক্রমের আ‌গেই শানু বেগম ভোটার তালিকায় মৃত ছি‌লেন আর সেটাই তিনি হালনাগা‌দে উ‌ল্লেখ করেছেন।

এ বিষ‌য়ে উপ‌জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শওকত আলীর সঙ্গে একা‌ধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, বিষয়‌টি সম্প‌র্কে তিনি কিছুই জা‌নিনা। এমন হ‌য়ে থাক‌লে উপ‌জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কা‌ছে লি‌খিত দি‌তে হবে। আর তা‌তে এই সমস্যার সমাধান হ‌বে।

বরিশাল জেলা স‌চেতন নাগ‌রিক ক‌মি‌টির সভাপতি শাহ সাজেদা ব‌লেন, যিনি জী‌বিত, তা‌কে মৃত হি‌সে‌বে কীভাবে দেখানো হ‌লো? বিষয়টি অমানবিক এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার হওয়া উচিৎ। শানু বেগমের সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য আটক: র‌্যাব
আনসার আল ইসলামের এক সদস্য আটক
‘আল্লাহর দলের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন