নেত্রকোনার সীমান্তে বিজিবির ভারতীয় মদ জব্দ

জব্দ করা ভারতীয় মদ। ছবি: নিউজবাংলা

নেত্রকোনার সীমান্তে বিজিবির ভারতীয় মদ জব্দ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর বিওপি’র সুবেদার হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে একটি টহল দলের ছয় সদস্য বুধবার মধ্যরাতে আড়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালান।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ জব্দ করেছে।

বিজিবি ৩১ নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন দুর্গাপুরের আড়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই অভিযান চালানোর সময় ১৪৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবি ৩১ নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক নুরুদ্দীন মাকসুদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযান ও মদ জব্দের কথা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর বিওপি’র সুবেদার হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে একটি টহল দলের ছয় সদস্য বুধবার মধ্যরাতে আড়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালান।

এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৪৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে টহল দলটি।

জব্দ করা মদের আনুমানিক মূল্য হবে ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি শাহ নূর এ আলম সাধারণ ডায়েরি করার কথা নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ময়মনসিংহে ইউএনওর গাড়িতে হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

ময়মনসিংহে ইউএনওর গাড়িতে হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ইউএনও সাইফুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় বাধা দেয়ায় মর্তুজা আলী লোকজন নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ইউএনওর গাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে আহত হন ইউএনওর গাড়িচালক সোহাগ মিয়া, অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম ও আনসার সদস্য রাসেল মিয়া।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মর্তুজা আলী মন্ডল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে দ্রুত বিচার আইনে মামলা মামলাটি করেন ইউএনও’র গাড়িচালক সোহাগ মিয়া। এতে বালু ব্যবসায়ী মর্তুজা আলীসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলায় বাধা দেয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে এ হামলা চালানো হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার বলেন, বালু ব্যবসায়ী মর্তুজা আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ইউএনও সাইফুল নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের চরকালিবাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্প পরিদর্শনে যান তিনি। ফেরার পথে জানতে পারেন মতুর্জা আলীর লোকজন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু তোলায় বাধা দিলে মর্তুজা আলী লোকজন নিয়ে তার বাড়ি সামনের রাস্তা অবরোধ করে গাড়িতে হামলা চালান। তাদের বাধা দিতে গিয়ে আহত হন গাড়িচালক সোহাগ মিয়া, অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম ও আনসার সদস্য রাসেল মিয়া।

ময়মনসিংহ সদর সার্কেল এএসপি আলাউদ্দিন জানান, মর্তুজা আলীকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

নি‌জেই খাল প‌রিষ্কার করেন মেয়র সাদিক

নি‌জেই খাল প‌রিষ্কার করেন মেয়র সাদিক

বরিশালের সাগরদি খাল নি‌জেই ভেকু মেশিন দি‌য়ে প‌রিষ্কার করছেন সি‌টি মেয়র সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ। ছবি: নিউজবাংলা

ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পোরেশনের প‌রিচ্ছন্ন কর্মকর্তা র‌বিউল ইসলাম নিউজবাংলা‌কে ব‌লেন, ‘বর্তমা‌নে চৌমাথা থে‌কে কালুশাহ সড়ক সংলগ্ন সাগরদী খাল এবং চাঁদমারী খা‌ল প‌রিষ্কা‌রের কাজ চল‌ছে। এরপর জেল খাল এবং লাকু‌টিয়া খা‌ল উদ্ধা‌রের কাজ শুরু হ‌বে।’

বরিশালে খাল উদ্ধার ও প‌রিষ্কারে মন্ত্রণালয় থে‌কে বরাদ্দ না পেয়ে নিজস্ব উ‌দ্যোগেই কাজ শুরু ক‌রে‌ছিল সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌ন। কাজ পরিদর্শনে গিয়ে প্রায়শ নিজেই খাল পরিষ্কার করছেন মেয়র সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ।

শুক্রবার সকালেও কালুশাহ সড়ক এলাকার সাগরদি খাল ভেকু মেশিন দি‌য়ে প‌রিষ্কার করেন তিনি।

গত সপ্তা‌হে নগরীর চৌমাথা এলাকা থে‌কে খাল প‌রিষ্কারের এ কার্যক্রম উ‌দ্বোধন ক‌রেন মেয়র। এরপর প‌রিদর্শনে গিয়ে তিন-চারদিন নি‌জেই খাল প‌রিষ্কা‌রের কাজ ক‌রেন।

সি‌টি কর‌পো‌রেশন বল‌ছে প্রথ‌মে দুটি খাল প‌রিষ্কা‌রের টা‌র্গেট নেয়া হ‌লেও পর্যায়ক্রমে সব খাল প‌রিষ্কার ও দখলমুক্ত করা হ‌বে। মন্ত্রণাল‌য়ে প্রকল্প জমা দেয়া হ‌লেও তা‌তে সাড়া না পাওয়ায় নগরবাসীর দু‌র্ভো‌গের কথা ‌চিন্তা ক‌রে খাল উদ্ধা‌রের উ‌দ্যোগ নেন মেয়র।

কালুশাহ সড়ক এলাকার বা‌সিন্দা আ‌রিফুর রহমান ব‌লেন, ‘মেয়র খাল প‌রিষ্কা‌রের কাজ তদা‌রকির পাশাপাশি প‌রিচ্ছন্নকর্মী‌দের সহায়তা ক‌রেন। ভেকু মে‌শিন দি‌য়ে দীর্ঘ সময় খা‌লের আবর্জনা প‌রিষ্কার ক‌রেন। যা দে‌খতে আশপা‌শের মানুষও ভিড় জমায়।’

ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পোরেশনের প‌রিচ্ছন্ন কর্মকর্তা র‌বিউল ইসলাম নিউজবাংলা‌কে জানান, বর্তমা‌নে চৌমাথা থে‌কে কালুশাহ সড়ক সংলগ্ন সাগরদী খাল এবং চাঁদমারী খা‌ল প‌রিষ্কা‌রের কাজ চল‌ছে। এরপর জেল খাল এবং লাকু‌টিয়া খা‌ল উদ্ধা‌রের কাজ শুরু হ‌বে। মেয়র প্রতি‌দিনই কাজ প‌রিদর্শন কর‌ছেন।

তিনি আরও জানান, ৭০ জন প‌রিচ্ছন্নকর্মী আর চার‌টি ভেকু মে‌শিন দি‌য়ে কাজ চল‌ছে। শ‌নিবার থে‌কে খালের পার থেকে দখলদার‌দের উ‌চ্ছেদ করা শুরু হবে। এক মাসব‌্যাপী কাজ চলার কথা বলা হ‌লেও এই কাজ আগস্ট পর্যন্ত চল‌বে।

ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের মেয়র সেরনিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ ব‌লেন, ‘খাল রক্ষার এক‌টি প্রকল্প মন্ত্রণাল‌য়ে জমা র‌য়ে‌ছে। ত‌বে বর্ষা মৌসু‌মে খালগু‌লো প‌রিষ্কার না থাক‌লে জলাবদ্ধতায় সমস‌্যার ম‌ধ্যে পড়বে নগরবাসী। সেই কথা চিন্তা ক‌রে নগরীর খালগু‌লো প‌রিষ্কা‌রের উ‌দ্যোগ নেয়া হ‌য়ে‌ছে। খালগু‌লো‌তে পা‌নি প্রবাহ বৃ‌দ্ধি পে‌লে জলাবদ্ধতার শঙ্কা থাক‌বে না।’

শেয়ার করুন

ঘরে ঢুকে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’, যুবক গ্রেপ্তার

ঘরে ঢুকে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’, যুবক গ্রেপ্তার

বুধবার রাতে ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে কৌশলে ঘরে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান নয়ন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘরে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর-থানা পুলিশ।

শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে ওই কিশোরী বিচারক মুহাম্মদ শাকিল আহম্মদ কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়।

গ্রেপ্তার যুবকের নাম নয়ন দাস। বাড়ি উপজেলার ঋষিপাড়া এলাকায়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিপক সাহা নিউজবাংলাকে জানান, কিশোরীর সঙ্গে নয়নের ঘনিষ্ঠতা ছিল। বুধবার রাতে ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে কৌশলে ঘরে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান নয়ন। কিশোরীর স্বজনরা ‍বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে এলে কিশোরী তাদের কাছে ঘটনা খুলে বলে। পরে শুক্রবার সকালে কিশোরীর বাবা মামলা করেন। দুপুরে নয়ন দাসকে ঋষিপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার আসামি নয়ন দাসকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তা ছাড়া ওই কিশোরী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

শেয়ার করুন

হেফাজতের তাণ্ডব: সাবেক সাংসদ শাহীনুর কারাগারে

হেফাজতের তাণ্ডব: সাবেক সাংসদ  শাহীনুর কারাগারে

সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে বিরোধিতা করে হেফাজত নেতা-কর্মীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। ভূমি অফিসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটনার মামলায় শাহীনুর পাশাকে বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সিলেট থেকে গ্রেপ্তার শাহীনুর পাশা হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় একটি মামলার আসামি হিসেবে শুক্রবার আদালতে হাজির করা হয়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়শা বেগম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিআইডির পুলিশ সুপার শাহারিয়ার রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সিলেট থেকে শাহীনুর পাশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক কাজী মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘সিআইডি শাহীনুর পাশাকে আদালতে হাজির করেছিল। বিকেলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে বিরোধিতা করে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এ সময় সদর উপজেলার ভূমি অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়। এ মামলার পলাতক আসামি শাহীনুরকে বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শেয়ার করুন

মেয়েদের পছন্দ সারারা-গাউন

মেয়েদের পছন্দ সারারা-গাউন

চট্টগ্রামে গণপরিবহন খুলে দেয়ার পর বেচাকেনা বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

অন্য বছরের মতো এবার বাজার তেমন জমজমাট না। করোনা আর লকডাউনের ধাক্কা লেগেছে বাজারে। যদিও বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় লোক সমাগম কিছুটা বেড়েছে।

চট্টগ্রামের ফিনলে স্কয়ারে দুই মেয়েকে নিয়ে ঈদের শপিং করতে এসেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দেলোয়ার সাইদ। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া দুই মেয়ের পছন্দ সম্পর্কে বাবা বলেন, ‌বড় মেয়ে কিনেছে ভারতীয় সারারা আর ছোটজনের পছন্দ হয়েছে পাকিস্তানি গাউন।

চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে এবারের ঈদে মেয়েদের পোশাকের মধ্যে এই দুই ধরনের জামাই রয়েছে পছন্দের শীর্ষে। কিশোরী-তরুণীদের মন কেড়ে নিয়েছে এই ড্রেস।

বৃহস্পতিবার নগরীর ফিনলে স্কয়ার, শপিং কমপ্লেক্স, রিয়াজুদ্দিন বাজার, আফমি প্লাজাসহবেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখে যায় মেয়েদের পছন্দের এই প্রবণতা।

তবে অন্য বছরের মতো এবার বাজার তেমন জমজমাট না। করোনা আর লকডাউনের ধাক্কা লেগেছে বাজারে। যদিও বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় লোক সমাগম কিছুটা বেড়েছে।

একই সঙ্গে বেড়েছে বিক্রি। বেশি বিক্রি হচ্ছে মেয়েদের পোশাক। সারারা ও গাউন ছাড়াও ঘারারা, বার্বি গাউন, প্যাবলন, লেহেঙ্গাসহ রেডিমেড পোশাক প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ী ইকবাল হায়দার বলছেন, এবার সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাকের মধ্যে আছে পাকিস্তানি, ইরানি ও ভারতীয় গাউন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, বেচাবিক্রি তো ঠান্ডাই, তবে এখন পর্যন্ত যা বিক্রি করেছি তার মধ্যে ইরানি ও পাকিস্তানি গাউন বেশি বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া ভারতীয় গাউনেও আগ্রহ আছে মেয়েদের।

একমাত্র কলেজপড়ুয়া মেয়েকে ঈদের নতুন জামা কিনে দিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগরীর আফমি প্লাজায় এসেছেন মোহসেনা মানহা। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়ের পছন্দমত ইরানি সারারা ড্রেস কিনে দিয়েছি। ও যেহেতু পছন্দ করে নিয়েছে তাতে আমার আপত্তি নেই।’

পছন্দের পোশাক সারারা। ছবি: নিউজবাংলা

ফিনলে স্কয়ারে গিয়ে দেখা গেল ঈদের নতুন জামা কিনতে এসে রেডিমেড পোশাক প্যাবলন কিনেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, আমার ফ্রেন্ডদের অনেকে সারারা ও ঘারারা নিয়েছে। এগুলো নতুন পোশাক বলা হলেও এগুলো আসলে পুরোন। তবে এখন নতুন করে জনপ্রিয় হয়েছে। সারারা আমার ভালো লাগেনি বলে নিইনি, আমি প্যাবলন নিয়েছি।

ব্যবসায়ীরা জানান, লকডাউনের কারণে এবারও মন্দা চলছে ঈদ বাজারে। নগরীর ফিনলে স্কয়ারের কাপড় ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, গত বছর করোনার কারণে আমাদের অনেক লোকসান হয়েছে। তাই একবারের ঈদে সেটা পুষিয়ে নেয়ের চিন্তা ছিল আমাদের। কিন্তু আবারও করোনা বেড়ে যাওয়ায় লকডাউনের কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছি আমরা। ক্রেতা তো খুব একটা নাই, যা আছে তাদের মধ্যে মেয়েদের পছন্দের তালিকায় এবার রয়েছে রেডিমেড পোশাক। এর মধ্যে রয়েছে সারারা, ঘারারা লেহেঙ্গা ইত্যাদি।

এসময় মার্কেট খোলা রাখার শর্ত হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বলা হলেও তা মানতে দেখা যায়নি অনেক দোকানিকে।তবে প্রায় সব মার্কেটের প্রবেশ পথে থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করে ক্রেতাদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে তবেই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খুরশীদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর এবং জেলার সব উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ দোকান রয়েছে। এর মধ্যে পোশাকের দোকান আছে প্রায় ৬০ হাজার।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম শহরে প্রতি বছর ঈদ বাজারে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

চট্টগ্রাম সম্মিলিত হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি মো. মিরন হোসেন মিলন বলেন, 'চট্টগ্রাম নগরীতে ২২ হাজার ভ্রাম্যমাণ দোকান (হকার) রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার হকার পোশাক, জুতা, কসমেটিকস পণ্য বিক্রি করে।

চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, চট্টগ্রামে ২ হাজার ৫০০ ফ্যাশন ও বুটিক হাউস রয়েছে।

শেয়ার করুন

করোনা: বন্ধ নৌযান, কর্মহীন নৌ-শ্রমিক

করোনা: বন্ধ নৌযান, কর্মহীন নৌ-শ্রমিক

দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে রাজধানীসহ অন্যান্য রুটে যোগাযোগের অন্যতম সহজ মাধ্যম নৌপথ। প্রতিদিন নৌপথে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ লঞ্চে করে ভোলাতে যাতায়াত করে। আর ঈদ মৌসুমে তার দ্বিগুণ মানুষ লঞ্চে করে বাড়ি ফেরে। এ জেলার একটি বড় অংশের জীবিকা লঞ্চকে কেন্দ্র করে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে লঞ্চ বন্ধ থাকায় ঘাটগুলোতে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই।

করোনার প্রভাবে চলমান লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়েছে ভোলা-ঢাকা রুটে নৌ চলাচল। বন্ধ রয়েছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন। ফলে নৌযানের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিক, ঘাট সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে।

এই দুর্দিনে মালিক পক্ষ কিংবা শ্রমিক সংগঠন কাউকেই পাশে পাচ্ছে না তারা। প্রায় এক মাস ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন লঞ্চের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের। বেশির ভাগ শ্রমিকই পাননি সরকারের সহায়তা।

লঞ্চ মালিকদের দাবি, দিনের পর দিন লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের আয় বন্ধ। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না তারা।

তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত নৌ শ্রমিকসহ সকল শ্রমিকদের পৌঁছে দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ উপহার।

করোনা: বন্ধ নৌযান, কর্মহীন নৌ-শ্রমিক

দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে রাজধানীসহ অন্যান্য রুটে যোগাযোগের অন্যতম সহজ মাধ্যম নৌপথ। প্রতিদিন নৌপথে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ লঞ্চে করে ভোলাতে যাতায়াত করে। আবার ভোলা থেকে হাজারো মানুষ লঞ্চে করে বরিশাল কিংবা লক্ষীপুর হয়ে বিভিন্ন জেলায় যায়।

আর ঈদ মৌসুমে তার দ্বিগুণ মানুষ লঞ্চে করে বাড়ি ফিরে থাকেন। এই জেলার একটি বড় অংশের জীবিকা লঞ্চকে কেন্দ্র করে। জীবিকার ব্যবস্থা হতো লঞ্চ শ্রমিক, কুলি, ঘাট ব্যবসায়ী ও ঘাটের ইজারাদারদের। তবে করোনা পরিস্থিতিতে লঞ্চ বন্ধ থাকায় ঘাটগুলোতে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই।

করোনা: বন্ধ নৌযান, কর্মহীন নৌ-শ্রমিক

ভোলার মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেশন কোম্পানির লঞ্চ কর্ণফুলী-১১-এর স্টাফ আবু সাইদ বলেন, ‘আমরা যারা লঞ্চ স্টাফ বা লঞ্চের মালিক তারা দুইটা ঈদের আশায় থাকি। এ সময় অনেক যাত্রী লঞ্চে করে যাতায়াত করেন। সিট ভাড়া দিয়ে বা কাজ করে যাত্রীদের কাছ থেকে টিপস পাই।

‘আবার মালিক ঈদ উপলক্ষে কিছু টাকা বোনাস দেয়। কিন্তু গত বছর করোনার কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। এ বছরও তাই। তা হলে আমরা স্টাফ বা লঞ্চ শ্রমিকরা কিভাবে চলমু।’

এম ভি ভোলা লঞ্চের স্টাফ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘করোনার কারণে লঞ্চের মালিক ঠিকমতো বেতন দিতে পারেন না। লঞ্চ চালাতে পারেন না। খাওয়া দাওয়ায় অসুবিধা। সামনে ঈদ আসতেছে। কোন কূল কিনারা পাচ্ছিনা।

‘শুনছি প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহার হিসাবে শ্রমিকদের ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দিবে, সরকার বলছে ত্রাণ সবার ঘরে পৌঁছে দেবে কিন্তু এখনও কোনো কিছুই পাই নাই।’

করোনা: বন্ধ নৌযান, কর্মহীন নৌ-শ্রমিক

ভোলার নিউ শপিং কর্ণারের স্বত্তাধিকারী মো. জিতু বলেন, ‘লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বেশি সমস্য হচ্ছে। সীমিত পরিসরে দোকানপাট খুলে দেয়ায় দোকানে কাস্টমারের জামাকাপড় কেনার চাহিদা বাড়ছে।

‘কিন্তু রাজধানী থেকে মালামাল আনার ইচ্ছা থাকলেও আনতে পারছি না। স্থল পথে খরচ বেশি লাগে, মালামাল এনে পোষায় না। আমাদের জন্য লঞ্চযোগে মালামাল আনা নেয়া করা সবচেয়ে সহজ।’

শুধু নৌ শ্রমিকরাই নন. ঘাটে থাকা দোকান ও হোটেল ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা। খেয়াঘাট এলাকার দোকানদার মাকসুদ বলেন, ‘লঞ্চ চলাচলের ওপর আমাদের ব্যবসা অনেকটা নির্ভরশীল। লঞ্চ চললে ব্যবসা ভালো। লঞ্চ না চললে লোকসান। করোনার কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় আমাদের দোকানের বেচাকেনা কমে গেছে। অনেক পণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।’

মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেশন কোম্পানির লঞ্চ মালিক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘লঞ্চ ব্যবসা বন্ধ থাকায় ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছি না ঠিকমতো।’

ভোলা জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, ‘করোনার লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত নৌশ্রমিক থেকে শুরু করে দিন মজুরসহ সকল শ্রমিককে আমরা প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দেয়া চেষ্টা করব।’

ভোলা জেলার ২৩টি ঘাট থেকে ছোট বড় প্রায় ৪৬টি লঞ্চ প্রতিদিন ঢাকা-ভোলা রুটে চলাচল করে থাকে। এতে ঘাটে কর্মসংস্থান হয় প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিকের।

শেয়ার করুন

ভ্যানের ধাক্কায় মাথায় চোট, হাসপাতালে মৃত্যু

ভ্যানের ধাক্কায় মাথায় চোট, হাসপাতালে মৃত্যু

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাইকুল ইসলাম জানান, মাথার ভিতরে অধিক রক্তক্ষরনে অবস্থা সংকটাপন্ন হলে বেলা আড়াইটার দিকে সুফিয়ার মারা যান।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোটরচালিত ভ্যানের ধাক্কায় সুফিয়া খাতুন নামের এক নারী মাথায় গুরুতর চোট পান। পরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়।

উপজেলার মুন্সিগঞ্জ সরদার গ্যারাজ এলাকায় শুক্রবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সুফিয়া খাতুনের বাড়ি উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ গ্রামে।

সুফিয়ার স্বামী ওয়াজেদ আলী নিউজবাংলাকে জানান, সকালে গোমানতলী গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে মুন্সিগঞ্জের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন সুফিয়া। পথে সরদার গ্যারাজ এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় একটি মোটরভ্যান তাকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এতে মাথায় গুরুতর চোট পান।

সুফিয়াকে প্রথমে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে বেলা আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাইকুল ইসলাম জানান, মাথার ভেতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সুফিয়া মারা গেছেন।

তবে তার বোন আসিয়া খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক সফিকুল ইসলামের ক্লিনিকে নিলে রফিকুল ইসলাম নামের এক ডাক্তার সুফিয়ার মাথায় সেলাই করেন। এ সময় ওষুধ দিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ওই চিকিৎসক। সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় তার বোনের মৃত্যু হয়েছে।’

পল্লি চিকিৎসক সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ক্লিনিকে ছিলাম না। আমার সহকারী রফিকুল আহত ওই নারীর চিকিৎসা দিয়েছিলেন।’

আহত নারীর চিকিৎসা দেয়ার কথা স্বীকার করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক রক্ত ঝরতে থাকায় রোগীর স্বজনদের চাপে আমি তার মাথায় সেলাই দিতে বাধ্য হই। প্রয়োজনে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও তারা (রোগীর স্বজনরা) আমার কথা না শুনে সময় নষ্ট করেন।’

এ ছাড়া রোগীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন রফিকুল ইসলাম।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো, নাজমুল হুদা জানান, নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন