নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে

নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে

মৃত নীলগাইটি যাচ্ছে টাঙ্গাইলের জাদুঘরে। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকা থেকে বুধবার মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নীলগাইটি। পশুটির ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বন বিভাগ। এটিকে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে পাঠানো হচ্ছে।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় উদ্ধার সেই মৃত নীলগাইটি রাখা হবে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর বঙ্গবন্ধু আঞ্চলিক জাদুঘরে।

দিনাজপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা বশিরুল-আল-মামুন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, শুরুতে প্রাণীটির ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়। মৃত নীলগাইটি বঙ্গবন্ধু আঞ্চলিক জাদুঘরে রাখা হবে।

আটোয়ারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের খচপাড়া এলাকা থেকে বুধবার বিলুপ্ত প্রজাতির মৃত নীলগাই উদ্ধার করে পুলিশ।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইজার উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, তোড়েয়া ইউনিয়নের দাড়খোর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে নীলগাইটি বাংলাদেশে এলে স্থানীয় লোকজন এটিকে ধরার চেষ্টা করেন। পরে প্রাণীটি পালিয়ে প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূরে খচপাড়া এলাকায় চলে যায়।

সেখান থেকে স্থানীয় লোকজন নীলগাইটিকে আহত অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই পশুটি মারা যায়। শ্বাসকষ্টের কারণে এটি মারা যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল।

পরে বন বিভাগের কাছে মৃত প্রাণীটি হস্তান্তর করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রোমানিয়ায় বন্দি: মুক্তিপণের টাকা দিতে ভিডিওবার্তায় আকুতি

রোমানিয়ায় বন্দি: মুক্তিপণের টাকা দিতে ভিডিওবার্তায় আকুতি

রোমানিয়ায় দালালদের হাতে আটক পাঁচ যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

দালাল চক্রের হাতে বন্দি ৫ যুবকের পরিবার জানিয়েছে, রোমানিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে পাঁচ যুবকের পরিবারের কাছ থেকে এরই মধ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্রটি। আরও টাকার জন্য এখন রোমানিয়ার অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

‘আমরা পাঁচজন রোমানিয়ায় দালালদের হাতে আটকা আছি। একটা রুমের মধ্যে আমাগো আটকে রাখছে। আমাগো ১৫ দিন ধইরা খাওন দেয় না। যেমনেই হোক, আম্মেরা আমাগো বাঁচান। এইডাই আম্মেগো কাছে আমাগো আবেদন। যেমনেই হোক, আমাগোর পাঁচটা জীবন বাঁচান।’

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় এভাবেই পরিবারের কাছে বাঁচার আকুতি জানান ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় দালালদের হাতে বন্দি মাদারীপুরের পাঁচ যুবকের একজন।

বন্দি পাঁচজন হলেন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার প্রয়াত সৈয়দ সালামের ছেলে তানভীর হোসেন, সদর উপজেলার বাবুল মাতুব্বরের ছেলে বায়েজিদ মাতুব্বর, মজিবর হাওলাদারের ছেলে রাশেদ হাওলাদার ও প্রয়াত তারেক হাওলাদারের ছেলে মোফাজ্জেল হাওলাদার এবং খোয়াজপুর ইউনিয়নের জাহান মুনশির ছেলে মিলন মুনশি।

তাদের পরিবার নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, রোমানিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে পাঁচ যুবকের পরিবারের কাছ থেকে এরই মধ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্রটি। আরও টাকার জন্য এখন রোমানিয়ার অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

নির্যাতনের সেই ছবি ও ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাদের কাছে পাঠাচ্ছে দালাল চক্রটি। বাঁচার আকুতি জানানো ১ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ভিডিওবার্তাটি তারা এভাবে পাঠিয়েছেন।

ওই ভিডিও পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেছে ভুক্তভোগী একটি পরিবার। এতে স্থানীয় ছয় দালালকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর প্রধান আসামি আল-আমিন নামে একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

এজাহার থেকে জানা যায়, দালালদের মাধ্যমে গত আগস্টে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যান ওই পাঁচ যুবক।

এ চক্রের হোতা মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজিরহাওলা এলাকার আল-আমিন। তাকে সহযোগিতা করেন সদর উপজেলার রাস্তি এলাকার শামিম আকন ও তার স্ত্রী সুমি বেগম, একই এলাকার সিরাজ আকন, সদরের হাজিরহাওলা এলাকার জাফর ব্যাপারী ও তার স্ত্রী রীনা বেগম এবং হাজিরহাওলা এলাকার সিরাজ আকনের স্ত্রী রানু বেগম।

চক্রটি ওই পাঁচ যুবককে গ্রিস থেকে রোমানিয়া হয়ে ইতালি নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আগস্টেই তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নেয়।

টাকা দেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তাদের গ্রিস থেকে রোমানিয়ায় নিয়ে যায় চক্রটি। তবে সেখানে তাদের আটকে রেখে এখন জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চাচ্ছে।

রোমানিয়ায় বন্দি বায়েজিদের মা মাজেদা বেগম বলেন, ‘দালালরা মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলায়া আমার পোলারে বন্দি করে রাখছে। আরও ১০ লাখ টাকা না দিলে আমার পোলারে মাইরা ফেলাবে। আমি এহন এত টাকা কই পামু? কে দেবে আমারে টাকা?’

অভিযোগের বিষয়ে আল-আমিনের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ‘আমি আমার বাবার বাড়িতে আছি। আল-আমিন কার থেকে কী টাকা এনেছে, জানি না।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় ১০ বাংলাদেশি বন্দি আছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। রোমানিয়ার পাঁচজন সম্প্রতি দালালদের খপ্পরে পড়েছে বলে আমরা জেনেছি।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘মানবপাচার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। কেউ অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

‘রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় বন্দি করার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যত শক্তিশালীই হোক না কেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

এসপির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য: প্রত্যাহার চেয়ে স্মারকলিপি

এসপির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য: প্রত্যাহার চেয়ে স্মারকলিপি

জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) মেলা সম্পর্কে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের ডাকেন এসপি নাছির। এ সময় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত না হওয়ায় এসপি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধরে এনে পিটিয়ে চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন।

সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হুমকির অভিযোগে জামালপুরের পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলার সাংবাদিকরা।

জামালপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদার নেতৃত্বে সাংবাদিকরা প্রথমে রোববার দুপুর ১২টার দিকে সার্কিট হাউসে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমাবেশ করে পুলিশ সুপার নাছির উদ্দীন আহমেদের প্রত্যাহার চেয়ে বেলা ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন সাংবাদিকরা।

এর আগে তারা নাছির উদ্দীন আহমেদের প্রত্যাহার চেয়ে শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের দয়াময়ী চত্বরে মানববন্ধন করেন।

এতে যোগ দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

মানববন্ধনে জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) মেলা সম্পর্কে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের ডাকেন এসপি নাছির। এ সময় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত না হওয়ায় এসপি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধরে এনে পিটিয়ে চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য এসপিকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

বাসই প্রাণ কাড়ল শ্রমিকের

বাসই প্রাণ কাড়ল শ্রমিকের

খন্দকার সাখাওয়াত হোসেন জানান, খোরশেদ আলম দুপুর ১টার দিকে বাসস্ট্যান্ডের ভেতর একটি পার্কিং করা বাসের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় নেত্র পরিবহনের ‘সিয়াম-শারমিন’ নামক একটি বাসের চালক তার বাসটিকে স্ট্যান্ডের ভেতর থেকে মূল সড়কে নেয়ার চেষ্টা করেন। তখন দুই বাসের মাঝখানে খোরশেদ চাপা পড়েন।

বাসের সুপারভাইজারের কাজ করতেন খোরশেদ আলম। দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

নেত্রকোণা শহরের পারলা এলাকার আন্তজেলা বাসস্ট্যান্ডে রোববার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত খোরশেদের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মোগলটোলা গ্রামে।

নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, খোরশেদ আলম দুপুর ১টার দিকে বাসস্ট্যান্ডের ভেতর একটি পার্কিং করা বাসের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় নেত্র পরিবহনের ‘সিয়াম-শারমিন’ নামক একটি বাসের চালক তার বাসটিকে স্ট্যান্ডের ভেতর থেকে মূল সড়কে নেয়ার চেষ্টা করেন।

তখন দুই বাসের মাঝখানে খোরশেদ চাপা পড়েন। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ আরও জানান, নিহত খোরাশেদের স্বজনদের খবর পাঠানো হয়েছে। তারা এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপাতত তার মরদেহটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে পাওয়া একটি সাপ। ছবি: নিউজবাংলা

আকবর হোসেন নামের এক কৃষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে কী যেন কামড় দিল, বুঝতে পারিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বললেন বিষধর সাপে কামড়েছে। আট দিন হাসপাতালে ছিলাম।’

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে হঠাৎ বেড়েছে সাপের উপদ্রব। শীতল রক্তের প্রাণীটির এখন শীতনিদ্রার সময়, অথচ সেই সময়েই গ্রামের ঘরে-বাইরে সবখানেই দেখা মিলছে তাদের।

ঘর, বিছানা থেকে শুরু করে ক্ষেত-খামার, পুকুর, রাস্তা কোনো স্থানই বাদ নেই। এরই মধ্যে গ্রামের ১০-১২ জনকে সাপে কামড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

এলাকাবাসী নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, মাসখানেক ধরে গ্রামে হঠাৎ বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এতে তাদের অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। আবার ক্ষেতে সাপ পাওয়ায় ফসল তোলার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হওয়ায় আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি খাল খননের সময় ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলার পর সাপের উপদ্রব বেড়েছে।

সারোয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘গ্রামে একটি প্রাচীন খাল ছিল। কৃষি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ ঠিক রাখতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (বিএডিসি) খালটি খনন করছে। এর অংশ হিসেবে কয়েক মাস আগে তাদের গ্রামের পাশের রায়খালী খালপাড়ের জঙ্গল কেটে ফেলা হয়।

‘এরপর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ কৃষি জমিতে, উঠানে, রাস্তায় ও বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। চারদিকে সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবশ্য আগের তুলনায় এখন কিছুটা কমে এসেছে। আমরা ব্যাপারটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

বাবুল চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রাতে ঘুমাতে গিয়ে ঘরের চাল থেকে বিছানায় পড়ে বিষধর এক সাপ। রাতভর ঘরের কেউ ঘুমাতে পারিনি।’

তাপস নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়ার টেবিলে গিয়ে দেখি চেয়ারের নিচে ফনা তুলে আছে একটি সাপ। চিৎকার দিতেই বাড়ির অন্যরা ছুটে এসে পিটিয়ে মারার পর স্বস্তি পাই।’

আকবর হোসেন নামের এক কৃষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে কী যেন কামড় দিল, বুঝতে পারিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বললেন বিষধর সাপে কামড়েছে। আট দিন হাসপাতালে ছিলাম। এখন ক্ষেতে যেতে ভয় পাচ্ছি। শুধু আমি না, সাপের ভয়ে এখন কেউ জমিতে নামতে চাচ্ছে না।’

দক্ষিণ সারোয়াতলীর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সুরেষ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি জমির পাশাপাশি বাড়িঘরেও সাপ দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে এখানকার ১০ থেকে ১২ জনকে সাপ কামড়েছে। কৃষকরা ধান কাটতে জমিতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ জানান, আবাসস্থলে আঘাত আসার কারণেই সাপগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাচ্ছে। উষ্ণ স্থানে আশ্রয় পাওয়ার আশায় তারা এখন বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে।

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুন নাহার জানান, তিনি খোঁজ নিয়েছেন। ওই এলাকার ঝোপ-জঙ্গল কাটা বন্ধ রাখতেও বলেছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে প্রতিবছর বর্ষায় প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে অন্তত ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

ভোট না দেয়ায় ভিক্ষুককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ভোট না দেয়ায় ভিক্ষুককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের খৈয়রভাঙ্গা এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী খলিল খান। ছবি: নিউজবাংলা

খলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমি মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষা করতে যাই। ভিক্ষা করেই আমার সংসার চলে। বাসস্ট্যান্ডে একা পেয়ে ওই সময় সোহরাব খানের সামনেই তার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়।’

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুক।

নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে শনিবার রাতে সদর থানায় লিখিত অভিযোগটি দেন ভিক্ষুক খলিল খান। তার বাড়ি মস্তফাপুর ইউনিয়নের খৈয়রভাঙ্গা এলাকায়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ নভেম্বর মস্তফাপুর ইউনিয়নে ভোট হয়। নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন সোহরাব খান। আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পরাজিত হন।

নির্বাচনে মজিবরকে সমর্থন দেন ভিক্ষুক খলিল। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সকালে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় খলিলকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা চালান সোহরাবের ভাই আনোয়োর খান ও তার ছেলে সজিব খানসহ বেশ কয়েকজন।

এ ঘটনায় খলিল নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দেন।

খলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমি মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষা করতে যাই। ভিক্ষা করেই আমার সংসার চলে। বাসস্ট্যান্ডে একা পেয়ে ওই সময় সোহরাব খানের সামনেই তার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে সবাই মিলে মারধর করে।’

চেয়ারম্যান সোহরাব খান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ভিক্ষুককে আমি মারধর কেন করব। আমি কিছু করিনি। তবে ওই ভিক্ষুকের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছিল, যা পুলিশের এসআই খসরুজ্জামান এসে মীমাংসা করে দিয়েছেন।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, থানায় এ বিষয় অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মস্তফা রাসেল বলেন, ‘থানায় যদি অভিযোগ দেয়, তাহলে ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ  

গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

 

এই অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

যুবকের বাবা খায়রুল প্রধান বলেন, ‘শনিবার সকালে দোকান খুলতে বাজারের উদ্দেশে বের হয় হাবিবুল। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। বাজারে গিয়ে দেখি দোকান খোলা। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। রোববার স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।’

গাজীপুরের শ্রীপুরে গাছের সঙ্গে দড়ি বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কাওরাইদ ইউনিয়নের পন্ডিতের ভিটা এলাকা থেকে রোববার সকাল ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত যুবকের নাম হাবিবুল বাশার। ৩৫ বছরের হাবিবুলের বাড়ি কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামে। কাওরাইদ বাজারে তার একটি ফার্মেসি আছে।

এসব নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন।

যুবকের বাবা খায়রুল প্রধান বলেন, ‘শনিবার সকালে দোকান খুলতে বাজারের উদ্দেশে বের হয় হাবিবুল। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। বাজারে গিয়ে দেখি দোকান খোলা। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। রোববার স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।’

স্থানীয় আলফাজ মিয়া বলেন, ‘মরদেহের হাঁটু মাটিতে লেগে ছিল, গলায় দড়ি পেঁচানো। মনে হচ্ছে এটা পরিকল্পিত হত্যা।’

ওসি ইমাম হোসেন বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে মরদেহ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে আ. লীগ নেতা বহিষ্কার

অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে আ. লীগ নেতা বহিষ্কার

সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সদর উপজেলার পড়পাড়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন আব্দুল হক।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শনিবার রাতে সাটুরিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আব্দুল হককে বহিষ্কার করে।

বহিষ্কারপত্রে বলা হয়, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় ধানকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সদর উপজেলার পড়পাড়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন আব্দুল হক।

তিনি জানান, রাতে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আব্দুল হককে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে আব্দুল হক বলেন, ‘বহিষ্কারের আগে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ঘটনার মীমাংসা করেছিলেন। তবু আব্দুল মজিদ ফটোর ব্যক্তিগত কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে নয়।’

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন