অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ

দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি অভয়ারণ্য।ছবি:নিউজবাংলা

অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ

সওজের উন্নয়ন প্রকল্পে বলা হয়,পটিয়া-অন্নদাদত্ত-হাইদগাঁও-রাঙ্গুনিয়া মহাসড়কটি নির্মাণ করা গেলে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মধ্যে সরাসরি সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি এলাকাকে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে। এই বনে দুর্লভ প্রজাতির বিভিন্ন গাছের পাশাপাশি বন্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ রয়েছে।

কিন্তু সংরক্ষিত এই বনের মধ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া-হাইদগাঁও দিয়ে রাঙ্গুনিয়া পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে চায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। এ জন্য ৩৩ লাখ ৫৯৫ টাকার একটি প্রকল্পও নেয়া হয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অনাপত্তিতে প্রকল্পটি ঝুলে গেছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

বন বিভাগের দাবি, সড়কটি নির্মাণ করা হলে বন্য প্রাণীর এই অভয়ারণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সওজকে বন বিভাগ জানায়, ১৯২৭ সালের (সংশোধিত) বন আইনে বন অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে রাস্তা নির্মাণ বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ির মধ্যে সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেটা ২০১০ সালে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত ঘোষণা করে সরকার। সেজন্য বন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে কোনো কার্যক্রম শুরু না করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে সওজকে।

সওজের দাবি, সড়কটি করলে লাখ লাখ মানুষ সুবিধা পাবে। চট্টগ্রামের সঙ্গে বান্দরবান ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ উন্নত হবে। এতে করে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সওজের উন্নয়ন প্রকল্পে বলা হয়, পটিয়া-অন্নদাদত্ত-হাইদগাঁও-রাঙ্গুনিয়া মহাসড়কটি নির্মাণ করা গেলে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মধ্যে সরাসরি সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

এটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের একটি প্রকল্প বিধায় এর আওতায় যেসব সড়ক ও সেতু নির্মাণ করা হবে, তাতে কোনো ধরনের টোল দিতে হবে না। পরিবহন পরিচালন ও ভ্রমণ ব্যয় সাশ্রয় বিবেচনায় অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে যাতায়াতকারীরা। প্রস্তাবিত প্রকল্পের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য।

দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সড়কটি পটিয়া-অন্নদাদত্ত-হাইদগাঁও-রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম খুরুশিয়া-কালিন্দিরানী সড়ক-দুধপুকুরিয়া-চন্দনাইশের ধোপাছড়ি-শঙ্খতীরের ডলুপাড়া-বালাঘাটা হয়ে বান্দরবানের সঙ্গে মিলিত হবে।

‘মহাসড়কটি নির্মাণ করা গেলে বান্দরবান-দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী, কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করা সহজ হবে। এসব এলাকার মানুষকে এখন বান্দরবান কিংবা কক্সবাজার যেতে হলে রাউজান, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম শহর ঘুরে যাতায়াত করতে হয়।

‘বান্দরবান থেকে চট্টগ্রামগামী বাস কিংবা পণ্যবাহী যান বর্তমানে সাতকানিয়ার কেরানীহাট-চন্দনাইশ হয়ে যাতায়াত করে। মহাসড়কটি নির্মাণ করা গেলে বান্দরবানের পর্যটন খাত এবং সেখানকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণেও আমূল পরিবর্তন আসবে।’

সুমন সিংহ বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার যে অংশে সড়ক নির্মাণ করা হবে সেখান থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে অভয়ারণ্য এলাকা অবস্থিত। বন বিভাগের যেটুকু অংশে সড়ক হবে, সেখানে তেমন কোনো গাছপালা নেই। তা ছাড়া পাহাড় কিংবা গাছপালা না কেটেই সড়কটি নির্মাণ করা যাবে। শুধু দক্ষিণ বন বিভাগের বাধার কারণে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটি আটকে আছে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দোহাজারী এলজিইডি থেকে পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া হয়ে বান্দরবান পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগকে।

প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী রাঙ্গুনিয়ার সংরক্ষিত দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়কটির একাংশ নির্মাণ করা হবে, যা পরিবেশ, বন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করবে। সেজন্য বন বিভাগ প্রস্তাবটিতে আপত্তি জানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সড়কটি নির্মাণ হলে এই সংরক্ষিত বনের প্রাণীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হবে। সংরক্ষিত বনের মধ্যে সড়ক নির্মাণ করা হলে সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাটসহ নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে উঠবে। অনুপ্রবেশকারীদের বনের মধ্যে প্রবেশ করে জবরদখলের প্রবণতাও বেড়ে যাবে। তখন সীমিত লোকবল দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। এ বনের অভ্যন্তরে অনেক দুর্লভ প্রজাতির গাছ আছে, সেগুলোও তখন রক্ষা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।’

অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে সড়ক, মুখোমুখি বন বিভাগ-সওজ

পরিবেশবাদীরাও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সড়ক নির্মাণকে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও পাখির জন্য বড় ধরনের হুমকি মনে করছেন।

পরিবেশবিদ ও বাংলাদেশ পরিবেশন আন্দোলনের (বাপা) সহসভাপতি ইদ্রিছ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ির বন্যপ্রাণীরা। এসব বন্য প্রাণী এবং দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষ বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করছে। সে জন্য এ অভয়ারণ্যে ও আশপাশেও কোনো সড়ক নির্মাণ না করার দাবি জানাচ্ছি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০১০ সালে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণার পর তৎকালীন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি একই সালের ৯ মে এ বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য উদ্বোধন করেন।

‘ইন্টিগ্রেটেড প্রটেক্টেড এরিয়া কো-ম্যানেজমেন্ট’ প্রজেক্টের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহযোগিতায় এ বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুধপুকুরিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম খুরুশিয়া, পশ্চিম ধোপাছড়ি ও জঙ্গল ধোপাছড়ি মৌজার ৪ হাজার ৭১৬ একর এলাকাজুড়ে রাঙ্গুনিয়া-চন্দনাইশ উপজেলার মাঝামাঝিতে এ অভয়ারণ্যটির অবস্থান। এ অভয়ারণ্যে প্রাকৃতিক ছড়া, বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি, আদিবাসী পল্লী, বুনো অর্কিড, শতবর্ষী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, নিবিড় বাঁশ বন ও ঘন বেত বাগান আছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’, দুদকের জালে ইসি কর্মকর্তা

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’, দুদকের জালে ইসি কর্মকর্তা

পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে রোহিঙ্গা নুর আলমকে স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, রোহিঙ্গা নুর আলমকে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয় পত্র দেয়া হয়। তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে তাকে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়। তখন পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল লতিফ শেখ।

কক্সবাজারে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’ নুর আলমকে ভোটার করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তাসহ ছয় জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুদক।

মঙ্গলবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন মামলাটি করেন।

রোহিঙ্গা নুর আলমকে এনআইডি, জন্মসনদ ও জাতীয়তা সনদ দেয়ার অভিযোগে মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

তারা হলেন চট্টগ্রাম নগরীর সাবেক পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও বর্তমানে পাবনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ, চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাবেক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোহাম্মদ শাহ জামাল, পাঁচলাইশ নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রুফ রিডার উৎপল বড়ুয়া ও রন্তু বড়ুয়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের (দক্ষিণ হালিশহর) তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেল, একই ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারী ফরহাদ হোসাইন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এনআইডি পেতে নুর আলম তার ঠিকানা চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের আমিন জুট মিল কলোনি উল্লেখ করে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী ওই ঠিকানায় নুর আলমের অবস্থানের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রত্যয়ন করেন।

পরে নুর আলম নিজেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ঠান্ডাছড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ করে আবেদন করেন। রাজানগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সামশুল আলমও ওই ঠিকানায় নুর আলম কখনও অবস্থান করেননি বলে প্রত্যয়ন করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, এক পর্যায় নুর আলমকে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ হলিশহর) থেকে জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয় পত্র দেয়া হয়। তৎকালীন কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেলের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে নুর আলমকে পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করে স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়। তখন পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল লতিফ শেখ।

নুর আলমকে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন ও স্মার্ট কার্ডের জন্য তথ্য সার্ভারে আপলোড এবং পরে স্মার্ট কার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী ও রাজানগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান সামশুল আলমের প্রত্যয়ন আমলে নেননি। এমনকি তাদের দেয়া তথ্য সংরক্ষণও করেননি।

দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা নুর আলমকে ভোটার তালিকাভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) সরবরাহের জন্য ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় আসামিরা অপরাধ করেছেন।

২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরা ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রোহিঙ্গা ‘ডাকাত’ নুর আলম। ওইদিন বিকেলে তাকে টেকনাফের রঙ্গিখালী উলুচামারী পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল টেকনাফ থানা পুলিশ। স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নুর আলম।

শেয়ার করুন

তিন সন্তানের জননীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার যুবক রিমান্ডে   

তিন সন্তানের জননীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার যুবক রিমান্ডে   

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মাজহারুল আমিন জানান, ওই নারী রোববার এনজিও থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন- এ অভিযোগ এনে সোমবার রাতে তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়। মামলায় একজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তিন সন্তানের জননীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামি সাহেদকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোরহানউদ্দিন থানার একটি দল সোমবার রাতে পৌর এলাকার নিজ বাসা থেকে ২৫ বছর বয়সী সাহেদকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার কামালের আদালতে হাজির করে ছয় দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের অনুমতি দেয়।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল আমিন জানান, ওই নারী রোববার এনজিও থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন- এ অভিযোগ এনে সোমবার রাতে তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়। মামলায় একজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার অপর দুই আসামি সুমন ও ইউসুফকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

কুমিল্লার লালমাইতে আঞ্চলিক স্কাউটস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

‘৭১ এর শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’

করোনা মহামারিতে অনেক দেশের অর্থনীতি ঝিমিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতিতে ভালো অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

কুমিল্লার লালমাইতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আঞ্চলিক স্কাউটস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে সরকার। করোনা মহামারিতে অনেক দেশের অর্থনীতি ঝিমিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতিতে ভালো অবস্থানে আছে।

‘৭১ এর শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্কাউটস লালমাই আঞ্চলিক কেন্দ্রটির মাধ্যমে এলাকার মানুষ আলোকিত হবে। স্কাউটসের মাধ্যমে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসা শেখাতে হবে। দেশের সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’

শেয়ার করুন

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

শেয়ার করুন

চবির ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার জন্য আবেদন করেননি

চবির ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার জন্য আবেদন করেননি

গত ৪ মার্চ দুই দিনের সময় দিয়ে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পৃথক দুটি অনলাইন ফরমে আবেদন করতে বলা হয়। এতে ২৭ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে টিকার জন্য আবেদন করেছে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন মাত্র ৪ হাজার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মাত্র ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসের টিকার জন্য আবেদন করেছেন।আবাসিক ও অনাবাসিক মিলে ২৭ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে টিকার জন্য আবেদন করেছে মাত্র ১৫ হাজার শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার জন্য আবেদন করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, গত মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও অনাবাসিক সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সে লক্ষ্যে গত ৪ মার্চ দুই দিনের সময় দিয়ে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পৃথক দুটি অনলাইন ফরমে আবেদন করতে বলা হয়। এতে ২৭ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে টিকার জন্য আবেদন করেছে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন মাত্র ৪ হাজার।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, আমাদের দেয়া নির্ধারিত সময়ে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী টিকার জন্য আবেদন করেছে। এদের মধ্যে ৪ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা এই তালিকা ইউজিসিতে পাঠিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও প্রধানমন্ত্রী জনগণকে টিকা দেয়ার ব্যাপারে খুব আন্তরিক। আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে চীন থেকে টিকা এলেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে। পরে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান জানান, দুপুরে শিশুটিকে পাশে রেখে মা সাথী আকতার কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণ পর রিহানকে না পাওয়া গেলে বাড়ির পাশের পুকুরে খোঁজা শুরু করে পরিবারের সদস্যরা। পরে পুকুরের একেবারে গভীর থেকে রিহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুকুরে ডুবে রিহান হোসেন নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার বটতলা এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

রিহান হোসেন দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাজিতপুর এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে। কামারপুকুর বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতো সে।

কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান জানান, দুপুরে শিশুটিকে পাশে রেখে মা সাথী আকতার কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণ পর রিহানকে না পাওয়া গেলে বাড়ির পাশের পুকুরে খোঁজা শুরু করে পরিবারের সদস্যরা।

পরে পুকুরের একেবারে গভীর থেকে রিহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

কার্ভাডভ্যানে ধাক্কা দিয়ে প্রাণ গেল ২ জনের

কার্ভাডভ্যানে ধাক্কা দিয়ে প্রাণ গেল ২ জনের

মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যান ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেলচালকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর-শরিয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে শরীয়তপুর থেকে একটি কাভার্ডভ্যান মাদারীপুরের দিকে আসছিল। কাভার্ডভ্যানটির পেছনেই ছিল মোটরসাইকেলটি। খোয়াজপুর মধ্যচক এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটি তাতে ধাক্কা দেয়।

মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যানে ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেলচালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন।

সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যচক এলাকায় মাদারীপুর-শরিয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন আব্দুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন। তাদের মধ্যে ২২ বছরের আব্দুর রহমান খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা। আর ইসমাইল হোসেনের বাড়ি শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর চরকুমারিয়া এলাকায়।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপংকর জানান, মাদারীপুর-শরিয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে শরীয়তপুর থেকে একটি কাভার্ডভ্যান মাদারীপুরের দিকে আসছিল। কাভার্ডভ্যানটির পেছনেই ছিল মোটরসাইকেলটি। খোয়াজপুর মধ্যচক এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটি তাতে ধাক্কা দেয়।

এতে সড়কে আছড়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক ও এক আরোহীর মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেলের অন্য আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা আসলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন