দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে আশার মরদেহ বাড়িতে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার রাত ১০টার দিকে আশাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ঘরের সামনে কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারী তার পূর্বপরিচিত।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক কিশোরীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

নিহত আশা আক্তার উপজেলা কোকডহরা ইউনিয়নের দত্তগ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

আশার মা সুফিয়া বেগম আহাজারি করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কে বা কারা আমার মেয়েকে মেরেছে আমি কিছুই বলতে পারছি না। আমাদের সঙ্গে তো কারও শত্রুতা নাই। তবে আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

এ বিষয়ে কোকডহরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঘটনা মেনে না যায় না। এর সঠিক তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দাবি করছি।’

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে আশাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ঘরের সামনে কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা আশার পূর্বপরিচিত। তবে কে বা কারা হত্যা করেছে সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি স্বজন ও এলাকাবাসী।

ঘটনার সময় আশার চিৎকারে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। রোববার দুপুরে মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ বাড়িতে নেয়া হয়।

ওসি আরও জানান, আশার মা সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
মা-মেয়েকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
সাবেক স্ত্রী-শ্যালিকাকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে পাওয়া একটি সাপ। ছবি: নিউজবাংলা

আকবর হোসেন নামের এক কৃষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে কী যেন কামড় দিল, বুঝতে পারিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বললেন বিষধর সাপে কামড়েছে। আট দিন হাসপাতালে ছিলাম।’

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে হঠাৎ বেড়েছে সাপের উপদ্রব। শীতল রক্তের প্রাণীটির এখন শীতনিদ্রার সময়, অথচ সেই সময়েই গ্রামের ঘরে-বাইরে সবখানেই দেখা মিলছে তাদের।

ঘর, বিছানা থেকে শুরু করে ক্ষেত-খামার, পুকুর, রাস্তা কোনো স্থানই বাদ নেই। এরই মধ্যে গ্রামের ১০-১২ জনকে সাপে কামড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

এলাকাবাসী নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, প্রায় মাসখানেক ধরে গ্রামে হঠাৎ বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এতে তাদের অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। আবার ক্ষেতে সাপ পাওয়ায় ফসল তোলার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হওয়ায় আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি খাল খননের সময় ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলার পর সাপের উপদ্রব বেড়েছে।

সারোয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘গ্রামে একটি প্রাচীন খাল ছিল। কৃষি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ ঠিক রাখতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (বিএডিসি) খালটি খনন করছে। এর অংশ হিসেবে কয়েক মাস আগে তাদের গ্রামের পাশের রায়খালী খালপাড়ের জঙ্গল কেটে ফেলা হয়।

‘এরপর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ কৃষি জমিতে, উঠানে, রাস্তায় ও বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। চারদিকে সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবশ্য আগের তুলনায় এখন কিছুটা কমে এসেছে। আমরা ব্যাপারটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

বাবুল চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রাতে ঘুমাতে গিয়ে ঘরের চাল থেকে বিছানায় পড়ে বিষধর এক সাপ। রাতভর ঘরের কেউ ঘুমাতে পারিনি।’

তাপস নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়ার টেবিলে গিয়ে দেখি চেয়ারের নিচে ফনা তুলে আছে একটি সাপ। চিৎকার দিতেই বাড়ির অন্যরা ছুটে এসে পিটিয়ে মারার পর স্বস্তি পাই।’

আকবর হোসেন নামের এক কৃষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে কী যেন কামড় দিল, বুঝতে পারিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বললেন বিষধর সাপে কামড়েছে। আট দিন হাসপাতালে ছিলাম। এখন ক্ষেতে যেতে ভয় পাচ্ছি। শুধু আমি না, সাপের ভয়ে এখন কেউ জমিতে নামতে চাচ্ছে না।’

দক্ষিণ সারোয়াতলীর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সুরেষ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি জমির পাশাপাশি বাড়িঘরেও সাপ দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে এখানকার ১০ থেকে ১২ জনকে সাপ কামড়েছে। কৃষকরা ধান কাটতে জমিতে যেতে ভয় পাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ জানান, আবাসস্থলে আঘাত আসার কারণেই সাপগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে। উষ্ণ স্থানে আশ্রয় পাওয়ার আশায় তারা এখন বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে।

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুন নাহার জানান, তিনি খোঁজ নিয়েছেন। ওই এলাকার ঝোপ-জঙ্গল কাটা বন্ধ রাখতেও বলেছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর বর্ষায় প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে অন্তত ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মা-মেয়েকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
সাবেক স্ত্রী-শ্যালিকাকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

৮ দফা দাবিতে দলিত সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

৮ দফা দাবিতে দলিত সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

রোববার দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন এবং দলিত সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন আয়োজিত মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

ডা. তাসুকুজ্জামান বলেন, “জাত-পাত ও পেশাভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে প্রস্তাবিত 'বৈষম্য বিলোপ আইন' দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। সরকারি চাকরিতে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু ও জাতীয় বাজেটে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।'

মাগুরায় বিশ্ব মর্যাদা দিবসে আট দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দলিত সম্প্রদায়ের সদস্যরা।

রোববার দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন এবং দলিত সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ।

সমাবেশে জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা ডা. তাসুকুজ্জামান বলেন, “জাত-পাত ও পেশাভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে প্রস্তাবিত ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। সরকারি চাকরিতে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু ও জাতীয় বাজেটে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।”

মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিডিআরএম জেলা শাখার আহ্বায়ক ও দলিত সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাস মন্টুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাড. সঞ্জয় রায় চৌধুরী, শামীম শরীফ, যুগ্ম-আহবায়ক অসীত কুমার দাস, সুবোধ বাগচি, এস এম তামিম হাসান, দেবেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, মিন্টু কুমার দাস, কমলেশ চন্দ্র ঘোষ, প্রভাত কুমার বিশ্বাস ও অধ্যাপক তপন বিশ্বাস ।

মানববন্ধন ও সমাবেশে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন এবং দলিত সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৪০ জন সদস্য অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:
মা-মেয়েকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
সাবেক স্ত্রী-শ্যালিকাকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

এসপির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য: প্রত্যাহার চেয়ে স্মারকলিপি

এসপির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য: প্রত্যাহার চেয়ে স্মারকলিপি

জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) মেলা সম্পর্কে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের ডাকেন এসপি নাছির। এ সময় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত না হওয়ায় এসপি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধরে এনে পিটিয়ে চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন।

সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হুমকির অভিযোগে জামালপুরের পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলার সাংবাদিকরা।

জামালপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদার নেতৃত্বে সাংবাদিকরা প্রথমে রোববার দুপুর ১২টার দিকে সার্কিট হাউসে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমাবেশ করে পুলিশ সুপার নাছির উদ্দীন আহমেদের প্রত্যাহার চেয়ে বেলা ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন সাংবাদিকরা।

এর আগে তারা নাছির উদ্দীন আহমেদের প্রত্যাহার চেয়ে শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের দয়াময়ী চত্বরে মানববন্ধন করেন।

এতে যোগ দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

মানববন্ধনে জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) মেলা সম্পর্কে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের ডাকেন এসপি নাছির। এ সময় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত না হওয়ায় এসপি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধরে এনে পিটিয়ে চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য এসপিকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

আরও পড়ুন:
মা-মেয়েকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
সাবেক স্ত্রী-শ্যালিকাকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

৬ ‘জঙ্গির’ নামে মামলা, প্রধান আসামি পলাতক

৬ ‘জঙ্গির’ নামে মামলা, প্রধান আসামি পলাতক

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের পুটিহারী এলাকার শরিফুল ইসলাম শরিফকে। তিনি পলাতক আছেন।

নীলফামারীতে ছয় ‘জঙ্গির’ নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে র‌্যাব।

রোববার সকাল ১০টার দিকে মামলাটি হয়। মামলার বাদী হয়েছেন র‌্যাব-১৩ রংপুরের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আব্দুল কাদের।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউপ।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের পুটিহারী এলাকার শরিফুল ইসলাম শরিফকে।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার সোনারায় ইউনিয়নের তেলিপাড়া উত্তর মুশরত কুখাপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম ও তার ভাই অহিদুল ইসলাম, সংগলশী ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সুজা, চড়াইখোলা ইউনিয়নের বন্দর চড়াইখোলা গ্রামের ওয়াহেদ আলী ও সোনারায় ভবানীমোড় এলাকার রজব আলীর ছেলে ও তেলিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম নূর আমিন।

র‌্যাব-১৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ জানান, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ জেএমবি সদস্যকে নীলফামারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জেএমবির সামরিক শাখার সক্রিয় সদস্য। তারা বোমা তৈরি করেছিলেন।

তিনি জানান, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং আর কারা জড়িত আছেন তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

ওসি আব্দুর রউপ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছয় জনের নামে মামলাটি করে র‌্যাব। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়জনকে আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে তোলা হবে এবং আদালতের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া পুটিহারী এলাকায় শনিবার সকালে শরিফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র এবং গুলি উদ্ধার করে র‌্যাবের বম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
মা-মেয়েকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
সাবেক স্ত্রী-শ্যালিকাকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

বরিশালে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশালে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশালে হাফ ভাড়া ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

আ‌লিসা মুনতাজ নামের এক শিক্ষার্থী ব‌লেন, ‘আমাদের কাছ থে‌কে জুলুম ক‌রে পুরো ভাড়া রাখা হ‌চ্ছে। এটা অ‌নৈ‌তিক। দাবি না মানা হ‌লে ক‌ঠোর আ‌ন্দোল‌নে যাবো।’

নৌপথসহ সব ধরনের গণপরিবহনে হাফ ভাড়া ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনের সড়কে রোববার দুপু‌র ১২টার দিকে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতীকী মরদেহ সামনে রেখে নিরাপদ সড়কের দাবি জানায় বিক্ষুব্ধরা।

এক পর্যায়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে তারা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

কর্মসূচীতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী আ‌লিসা মুনতাজ ব‌লেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থে‌কে জুলুম ক‌রে পুরো ভাড়া রাখা হ‌চ্ছে। এটা অ‌নৈ‌তিক। দাবি না মানা হ‌লে ক‌ঠোর আ‌ন্দোল‌নে যাবো।’

আরও পড়ুন:
মা-মেয়েকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
সাবেক স্ত্রী-শ্যালিকাকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

রোমানিয়ায় বন্দি: মুক্তিপণের টাকা দিতে ভিডিওবার্তায় আকুতি

রোমানিয়ায় বন্দি: মুক্তিপণের টাকা দিতে ভিডিওবার্তায় আকুতি

রোমানিয়ায় দালালদের হাতে আটক পাঁচ যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

দালাল চক্রের হাতে বন্দি ৫ যুবকের পরিবার জানিয়েছে, রোমানিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে পাঁচ যুবকের পরিবারের কাছ থেকে এরই মধ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্রটি। আরও টাকার জন্য এখন রোমানিয়ার অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

‘আমরা পাঁচজন রোমানিয়ায় দালালদের হাতে আটকা আছি। একটা রুমের মধ্যে আমাগো আটকে রাখছে। আমাগো ১৫ দিন ধইরা খাওন দেয় না। যেমনেই হোক, আম্মেরা আমাগো বাঁচান। এইডাই আম্মেগো কাছে আমাগো আবেদন। যেমনেই হোক, আমাগোর পাঁচটা জীবন বাঁচান।’

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় এভাবেই পরিবারের কাছে বাঁচার আকুতি জানান ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় দালালদের হাতে বন্দি মাদারীপুরের পাঁচ যুবকের একজন।

বন্দি পাঁচজন হলেন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার প্রয়াত সৈয়দ সালামের ছেলে তানভীর হোসেন, সদর উপজেলার বাবুল মাতুব্বরের ছেলে বায়েজিদ মাতুব্বর, মজিবর হাওলাদারের ছেলে রাশেদ হাওলাদার ও প্রয়াত তারেক হাওলাদারের ছেলে মোফাজ্জেল হাওলাদার এবং খোয়াজপুর ইউনিয়নের জাহান মুনশির ছেলে মিলন মুনশি।

তাদের পরিবার নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, রোমানিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে পাঁচ যুবকের পরিবারের কাছ থেকে এরই মধ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্রটি। আরও টাকার জন্য এখন রোমানিয়ার অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

নির্যাতনের সেই ছবি ও ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাদের কাছে পাঠাচ্ছে দালাল চক্রটি। বাঁচার আকুতি জানানো ১ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ভিডিওবার্তাটি তারা এভাবে পাঠিয়েছেন।

ওই ভিডিও পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেছে ভুক্তভোগী একটি পরিবার। এতে স্থানীয় ছয় দালালকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর প্রধান আসামি আল-আমিন নামে একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

এজাহার থেকে জানা যায়, দালালদের মাধ্যমে গত আগস্টে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যান ওই পাঁচ যুবক।

এ চক্রের হোতা মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজিরহাওলা এলাকার আল-আমিন। তাকে সহযোগিতা করেন সদর উপজেলার রাস্তি এলাকার শামিম আকন ও তার স্ত্রী সুমি বেগম, একই এলাকার সিরাজ আকন, সদরের হাজিরহাওলা এলাকার জাফর ব্যাপারী ও তার স্ত্রী রীনা বেগম এবং হাজিরহাওলা এলাকার সিরাজ আকনের স্ত্রী রানু বেগম।

চক্রটি ওই পাঁচ যুবককে গ্রিস থেকে রোমানিয়া হয়ে ইতালি নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আগস্টেই তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নেয়।

টাকা দেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তাদের গ্রিস থেকে রোমানিয়ায় নিয়ে যায় চক্রটি। তবে সেখানে তাদের আটকে রেখে এখন জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চাচ্ছে।

রোমানিয়ায় বন্দি বায়েজিদের মা মাজেদা বেগম বলেন, ‘দালালরা মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলায়া আমার পোলারে বন্দি করে রাখছে। আরও ১০ লাখ টাকা না দিলে আমার পোলারে মাইরা ফেলাবে। আমি এহন এত টাকা কই পামু? কে দেবে আমারে টাকা?’

অভিযোগের বিষয়ে আল-আমিনের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ‘আমি আমার বাবার বাড়িতে আছি। আল-আমিন কার থেকে কী টাকা এনেছে, জানি না।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় ১০ বাংলাদেশি বন্দি আছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। রোমানিয়ার পাঁচজন সম্প্রতি দালালদের খপ্পরে পড়েছে বলে আমরা জেনেছি।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘মানবপাচার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। কেউ অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

‘রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় বন্দি করার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যত শক্তিশালীই হোক না কেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

আরও পড়ুন:
মা-মেয়েকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
সাবেক স্ত্রী-শ্যালিকাকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তকে নৌকা, পরে সংশোধন

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তকে নৌকা, পরে সংশোধন

ছয় খুনের ফাঁসির আসামি আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকাশিত তালিকায় ভুল নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে। আমিনবাজার ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রাকিব হোসেন।

ঢাকার সাভারে ছয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ার পরপরই সেটি বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অসাবধানতাবশত ভুলের বিষয়টি জানানো হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সাভারের ১১ ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের তালিকাও আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যেখানে আমিনবাজার ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়।

সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় অসাবধানতাবশত আমিনবাজার ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে মনোনীত প্রার্থীর পরিবর্তে ভুল নাম লিপিবদ্ধ হয়। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রাকিব হোসেন।

২০১১ সালের ১৭ জুলাই সাভারের আমিনবাজারে ডাকাত আখ্যা দিয়ে ছয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলার ১০ বছর পর চলতি বছরের ২ ডিসেম্বর আমিনবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ ১৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় আরও ১৯ আসামিকে।

আরও পড়ুন:
মা-মেয়েকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
সাবেক স্ত্রী-শ্যালিকাকে ‘কুপিয়ে হত্যা’
ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন