বেইলি ব্রিজের পাটাতন ধসে ৮ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

কমলগঞ্জে খিন্নী ছড়া নদীর ওপর বেইলি ব্রিজের খুলে যাওয়া পাটাতন মেরামত সম্পন্ন করেছেন সওজের টেকনিশিয়ানরা। ছবি: নিউজবাংলা

বেইলি ব্রিজের পাটাতন ধসে ৮ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কাছে বেইলি ব্রিজটির তিনটি পাটাতন খুলে পড়ে। এতে শমশেরনগর-কমলগঞ্জ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো মানুষ।

মৌলভীবাজারে খিন্নী ছড়া নদীর ওপর বেইলি ব্রিজের তিনটি পাটাতন খুলে পড়ায় শমশেরনগর-কমলগঞ্জ সড়কে ৮ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় লোকজন জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কাছে বেইলি ব্রিজটির তিনটি পাটাতন খুলে পড়ে। এতে শমশেরনগর-কমলগঞ্জ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর দেড়টার দিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের টেকনিশিয়ানরা পাটাতন মেরামত সম্পন্ন করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় ৮ ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাজারো মানুষকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, পাথরবোঝাই একটি ভারী ট্রাক পারাপারের সময় পাটাতন খুলে যায়। এই সেতুতে প্রায়ই পাটাতন খুলে পড়ে।

তিনি বলেন, এ সড়ক দিয়ে কুলাউড়া, ব্রাহ্মণবাজার ও রবিরবাজার থেকে প্রতিদিন শত শত গাড়ি চলাচল করে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ এরই মধ্য সেতু মেরামতের কাজ শুরু করেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী (এসও) পার্থ সরকার নিউজবাংলাকে জানান, এই বেইলি ব্রিজ দিয়ে গাড়ির বডিসহ ৫ থেকে ৭ টন যান চলাচলের কথা। কিন্তু চালকরা নির্দেশ না মেনে অধিক ওজনের গাড়ি নিয়ে চলাচল করায় এ ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

সওজের প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, শিগগিরই এখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মার্কেটে আগুন, পুড়ে ছাই ২৫টি দোকান

মার্কেটে আগুন, পুড়ে ছাই ২৫টি দোকান

রংপুর নগরীতে শাহ জামাল মার্কেটে আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকান। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক অহিদুল ইসলাম জানান, পৌনে দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের নড়বড়ে লাইন থেকে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

রংপুর নগরীর শাহ জামাল মার্কেটে আগুনে অন্তত ২০টি দোকান ও ৫টি গুদাম পুড়ে গেছে।

নগরীর স্টেশন রোড এলাকার ওই মার্কেটে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লাগা আগুন নেভাতে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক অহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, পৌনে দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

অহিদুল বলেন, ‘আগুনের সূত্রপাত তদন্ত না করে বলা যাবে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের নড়বড়ে লাইন থেকে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে।’

মার্কেটের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ব্যাপারী বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মার্কেটের পেছনে কাপড়ের দোকানে আগুন লাগে। মার্কেটে দ্রুতই তা ছড়িয়ে যায়।

‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে মার্কেটের কর্মচারী আফজাল আমাকে জানালে আমি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। তারা এসে প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে।’

পুড়ে যাওয়া একটি দোকানের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘গুদামগুলোতে রেডিমেট শার্ট, জামা, মেয়েদের কাপড়, বোরখাসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের দোকান ছিল। এছাড়াও কাপড়ের চারটি গোডাউন ছিল। আমাদের সব শেষ। নতুন করে ব্যবসা করতে যে পুঁজির প্রয়োজন তা আমরা পারব না। ঘুড়েও দাঁড়াতে পারব না।’

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে দোকান পুড়ে যাওয়ায় তাদের কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি দেখব, পারলে সহযোগিতা করা হবে।’

শেয়ার করুন

আ. লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আহত ৪

আ. লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আহত ৪

আহত পীযূষের পরিবারের অভিযোগ, রাস্তায় বালু রাখা নিয়ে পীযূষের সঙ্গে পৌর আওয়ামী লীগের নেতা মুসলিম মিয়ার ছেলে সুমনের কথা কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর মুসলিম মিয়া, তার দুই ছেলে মামুন মিয়া, সুমন মিয়াসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পীযূষের বাড়িতে হামলা চালায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তায় বালু ফেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক পরিবারের বাবা-মা-শিশু ও গৃহকর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির দুই ছেলের বিরুদ্ধে।

শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন পীযূষ মল্লিক, তার স্ত্রী রিতা রানী মল্লিক, ৯ বছরের ছেলে প্রাঞ্জল মল্লিক ও গৃহকর্মী পুষ্প রানী। পুষ্প প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। বাকিরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পীযূষের বাসার ওপরতলায় থাকা আইনজীবী মো. আজিজ নিউজবাংলাকে জানান, পৌর আওয়ামী লীগের নেতা মুসলিম মিয়া ও পীযূষ মল্লিক একই এলাকায় থাকেন। সেখানে নিজেদের জমিতে চারতলা বাড়ি তৈরির কাজ করছেন পীযূষ ও তার দুই ভাই। ওই কাজের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাকে করে আনা বালু রাখা হয় মুসলিম মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তায়।

পীযূষের অভিযোগ, সেখানে বালু রাখতে ট্রাকচালককে বাধা দেন মুসলিম মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া। এ নিয়ে পীযূষের সঙ্গে সুমনের কথা কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর মুসলিম মিয়া, তার দুই ছেলে মামুন মিয়া, সুমন মিয়াসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পীযূষের বাড়িতে গিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। বাধা দিতে গেলে আহত হন তার স্ত্রী ও গৃহকর্মী। আহত হয় তাদের ৯ বছরের ছেলেও।

এরপর ঘরের আসবাব ভাঙচুর করে পীযূষের টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মামুন মিয়া বলেন, বালু ফেলা নিয়ে সুমনের সঙ্গে পীযূষের কথা কাটাকাটি হয়। পীযূষ সুমনকে গালাগাল করে লাঠি নিয়ে মারতে আসেন। তখন সুমন তাকে চড়থাপ্পড় মারে। তবে বাড়িতে গিয়ে সবাইকে মেরে আহত করার বিষয়টি সত্য নয়।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে আমি দুই-তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে পীযূষের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে থাকা একজনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক নারী ঘরের ভেতরে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছেন। আমরা কাউকে মারধর করিনি।’

এদিকে মো. আজিজ বলেন, ‘শব্দ শুনে আমি নিচে যাই। সেখানে পীযূষ ও তার স্ত্রীকে মারধর করতে দেখেছি। তাদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমার গায়েও কিল-ঘুষি পড়ে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনও তারা কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

গভীর রাতে আগুনে পুড়ল ২৫টি দোকান

গভীর রাতে আগুনে পুড়ল ২৫টি দোকান

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাজারে লাগা আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকান। ছবি: নিউজবাংলা

রায়পুর ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ ওয়াসি আজাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি চায়ের দোকানে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। আশপাশের দোকানগুলো কাঠ ও টিনের হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আগুনে পুড়ে গেছে বাজারের ২৫টি দোকান।

উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলের খাসেরহাট বাজারে সোমবার গভীর রাতে আগুন লাগে।

রায়পুর ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ ওয়াসি আজাদ বলেন, রাত ৩টার দিকে বাজারে আগুন লাগার খবর পেয়ে সেখানে যান তারা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়।

ওয়াসি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আবু তাহের নামে এক ব্যক্তির চায়ের দোকানে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। আশপাশের দোকানগুলো কাঠ ও টিনের হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পুড়ে যাওয়া দোকানের ব্যবসায়ীরা জানান, সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা।

আগুনের খবরে রাতেই ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।

শেয়ার করুন

বিজিবি-মাদক কারবারি গোলাগুলি, ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

বিজিবি-মাদক কারবারি গোলাগুলি, ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানায় বিজিবি। ছবি: নিউজবাংলা

তিন থেকে চার চোরাকারবারি সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশের দিকে আসতে থাকে। বিজিবি টহল দল চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা তাদের দিকে গুলি ছোড়ে। তখন বিজিবিও পাল্টা গুলি করে।

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মাদক চোরাকারবারিদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

গোলাগুলি শেষে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি।

৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ সোমবার রাতে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সোমবার বিজিবি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কয়েকজন ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ আসতে পারে। তাদের ধরতে রেজু আমতলী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার ৪ নম্বর রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের জলিলের গোদা এলাকায় ফাঁদ পেতে অবস্থান নেয়। এরপর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিন থেকে চারজন চোরাকারবারি সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশের দিকে আসতে থাকে।

আলী হায়দার আরও জানান, বিজিবি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা তাদের দিকে গুলি ছোড়ে। তখন বিজিবিও পাল্টা গুলি করে। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ফেলে পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে তাদের ব্যাগ তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

কলেজছাত্রীর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালালেন ২ যুবক

কলেজছাত্রীর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালালেন ২ যুবক

রংপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে মারা যাওয়া রুবাইয়া ইয়াসমিন রিমু। ছবি: নিউজবাংলা

তালেব আলী বলেন, ‘অনেক দিন থেকে ফয়সাল হামার নাতনি খোনাক ডিস্টাব করে। পেমের পোস্তাব দেয়, রাস্তাত খারাপ কতা কয়। এই কতা হামার বড় নাতি ইমন শুনিয়া ফয়সালোক ভয় দেকায়। আজ ওমরা মোর নাতকির মাই ফেলাইল। মুই এর বিচার চাং।’

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অপহরণ করে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নিহত রুবাইয়া ইয়াসমিন রিমু কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

স্বজনরা বলছেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার টেংগনমারী বাজার থেকে তাকে অপহরণ করে রিজভী ও ফয়সাল। পথে তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে গুরুতর আহত করেন। পরে মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান তারা।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত কর্মচারী সাইফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই যুবক একটি অ্যাম্বুলেন্সে একটি মেয়েকে নিয়ে আসে। মেয়েটির মাথায় রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

‘আমরা তাকে ভর্তি করে নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে রেফার্ড করি। হাসপাতালের এক ট্রলি কর্মচারী মেয়েটিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। লিফটে ওঠার সময় মেয়েটি মারা যান। এ সময় ছেলে দুটি সেখান থেকে পালিয়ে যান।’

তিনি বলেন, ‘এ খবর আমাদের দিলে আমরা ছেলে দুটিকে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। না পেয়ে সর্দার অফিসে জানাই। সর্দার অফিস লাশ মর্গে রেখে দেয়।’

হাসপাতালে উপস্থিত রিমুর নানা তালেব আলী নিউজবাংলাকে জানান, কলেজ বন্ধ থাকায় জলঢাকায় থেকে প্রাইভেট পড়ছিল রিমু। বাড়ি থাকি ঠেংগন মারিতে প্রাইভেট পড়তে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী খোকন মিয়ার বরাত দিয়ে রিমুর নানা জানান, রিমু প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার সময় রিজভী ও ফয়সাল তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তোলেন। রিজভী মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। ফয়সাল মোটরসাইকেলের পেছনে এবং তার পেছনে ছিলেন রিমু। কিছু দূর যাওয়ার পর রিমুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন তারা। এ সময় গ্রামের মানুষ তাদের ঘিরে ধরে। পরে তারা রিমুকে জলঢাকা হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখান থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে।

তালেব আলী বলেন, ‘অনেক দিন থেকে ফয়সাল হামার নাতনি খোনাক ডিস্টাব করে। পেমের পোস্তাব দেয়, রাস্তাত খারাপ কতা কয়। এই কতা হামার বড় নাতি ইমন শুনিয়া ফয়সালোক ভয় দেকায়। আজ ওমরা মোর নাতকির মাই ফেলাইল। মুই এর বিচার চাং।’

জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ ভূরুঙ্গামারীবাসী

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ ভূরুঙ্গামারীবাসী

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় একাধিক গ্রাহক পেয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল। অস্বাভাবিক বিলের কারণে প্রতিদিনই উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বাড়ছে গ্রাহকের ভিড়। সংশোধনও করা হয়েছে একাধিক বিল।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় পশ্চিমছাট গোপালপুর গ্রামের খাদেমুল হকের শান্ত অ্যান্ড ব্রাদার্স চালকলে জানুয়ারি মাসে বিদ্যুৎ-সংযোগ ছিল না। ট্রান্সফরমারের সমস্যা থাকায় সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়।

জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিলেও পূর্ববর্তী ও বর্তমান রিডিংয়ের স্থানে দেখানো হয়েছে শূন্য ইউনিট। অথচ তার নামে বিল করা হয়েছে ১ হাজার ২০৩ টাকা।

উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে এমন ভুতুড়ে বিল করার অভিযোগ অনেক। অস্বাভাবিক বিলের কারণে প্রতিদিনই উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বাড়ছে গ্রাহকের ভিড়। সংশোধনও করা হয়েছে একাধিক বিল।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম স্বদেশ কুমারের দাবি অবশ্য এমন বিলের সংখ্যা বেশি নয়। যেগুলো এসেছে, তা সংশোধনও করা হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের আব্দুর রউফ জানান, বিদ্যুৎ বিলে ব্যবহৃত ইউনিট শূন্য দেখালেও বিল করা হয়েছে ২৪ হাজার ৭৯৫ টাকা। এমন ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা।

উপজেলার দক্ষিণ ছাট গোপালপুরে কৃষক সাইফুর রহমান অভিযোগ করেন, জানুয়ারি মাসের তার সেচযন্ত্রের অনুকূলে বিল করা হয়েছে ২২ হাজার ৯৩৫ টাকা। তার মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার ইউনিট যোগ করে এই বিল করা হয়েছে।

আন্ধারীঝাড়ের খামার বেলদহ গ্রামের শাহ আলম বলেন, ‘আমাকে জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৯৫৯ টাকা। আমরা সাধারণ মানুষ এত টাকা কেমনে দিব ভেবে পাচ্ছি না। বিদ্যুৎ-সংযোগ নেয়াটাই অপরাধ হয়েছে।’

আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, সরকার কৃষকদের সুবিধার্থে বিদ্যুৎ দিয়েছে। কিন্তু এটিই সাধারণ কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে মিটার রিডিং না করে অফিসে বসেই এমন ভুয়া বিল দেয়া হচ্ছে।

গ্রাহক আমির হোসেন বলেন, বিল সংশোধনের জন্য সব কাজ ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। নিয়মিত এমন বিল দেয়া হচ্ছে। এসব বিলের অতিরিক্ত টাকা অসাধু কর্মকর্তারা পকেটে ভরছেন।

ভূরুঙ্গামারী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম কাওসার আলী জানান, এ ধরনের বিদ্যুৎ বিল ভুল থেকে হয়ে থাকতে পারে। যেসব গ্রাহকের ত্রুটি হয়েছে, সেগুলো সংশোধন করে দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেয়া হয়। ফলে অর্থ পকেটে ভরার অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম স্বদেশ কুমার বলেন, ‘অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেয়ার বিষয়ে সচরাচর অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। মিটার একটি যন্ত্র, সেখানেও ত্রুটি হতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় চোখের দেখারও ভুল থেকে এমনটি হতে পারে। যে দুই-একটা এসেছে, সেগুলো আমরা ঠিক করে দিয়েছি।’

শেয়ার করুন

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলন্ত প্রাইভেটকারে আগুন

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলন্ত প্রাইভেটকারে আগুন

পুড়ে যাওয়া প্রাইভেট কার

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচাগামী লেনে একটি চলন্ত প্রাইভেটকারে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। পরে সাভার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়। ততক্ষণে গাড়িটি পুরো পুড়ে যায়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি চলন্ত প্রাইভেটকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সাভার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন জানান, এসির কমপ্রেসার বেশি গরম হয়ে প্রাইভেটকারটিতে আগুন লাগতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচাগামী লেনে চলন্ত প্রাইভেটকারটিতে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। পরে সাভার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়। তবে সেই সময়ে পুড়ে যায় গাড়িটি। এই ঘটনায় মহাসড়কের আরিচাগামী লেনে প্রায় ২০ মিনিট যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগুন নেভায় বলে জানায় ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg