ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলই যাতায়াতে ভরসা

player
ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলই যাতায়াতে ভরসা

লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলের ভাঙা রাস্তায় চলাচলে মোটরসাইকেলই এখন ভরসা। ছবি:নিউজবাংলা

চলাচলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এখন আর পোহাতে হচ্ছে না লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের। তাদের কষ্ট লাঘব করেছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল। পাশাপাশি কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক বেকার তরুণ ও যুবকের।

লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলে অধিকাংশ রাস্তাই মাটির। পাকা সড়কগুলোও বেহাল। ভাঙা ও উঁচুনিচু। এ কারণে গণপরিবহন দূরে থাক, রিকশাও খুব একটা চলে না। এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের তাই কোথাও যেতে ভরসা ছিল দুই পা।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হতো রোগী নিয়ে। হেঁটেই যেতে হতো হাসপাতালে। যানবাহন পেলেও তাতে অনেক দেরি হতো।

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি অবশ্য এখন আর পোহাতে হচ্ছে না চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের। তাদের এ কষ্ট লাঘব করেছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল। পাশাপাশি কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক বেকার তরুণ ও যুবকের।

এক সময় কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন এ এলাকার অনেক যুবক। ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে তারাই এখন স্বাবলম্বী।

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো এমনই এক জন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মধ্য চর রমনি মোহন এলাকার সেলিম উদ্দিন।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, মোটরসাইকেলের আয় দিয়ে স্বাচ্ছন্দে চলছে তার সংসার। দৈনিক খরচের পাশাপাশি সঞ্চয়ও করতে পারছেন। যদিও এক সময় তার দিন কাটত অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে।

এ পেশায় আসার কারণ সম্পর্কে জানান, কয়েক বছর আগে বরিশালে একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। একদিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একজন মোটরসাইকেল চালক তাকে ভাড়ায় গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়ার কথা বলেন। তবে তখন তিনি বিষয়টি জানতেন না। তাই ওই চালককে যাবেন না বলে দেন। কিন্তু পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে টাকা কামাই করার বিষয়টি তার মাথায় ঢোকে।

সেলিম আরও জানান, বরিশাল থেকে ফেরার পর তিনি রিকশা চালানো শুরু করেন। পরে এলাকার বাজারে মানিক মিয়া নামের বিদেশফেরত একজনকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতে দেখেন। তার সঙ্গে কথা বলে একটি মোটরসাইকেল কেনেন। এরপর ৭ বছর ধরে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন তিনি।ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলই যাতায়াতে ভরসা

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন সেলিমের মতো এই এলাকার অনেক যুবক। কেউ নগদ টাকায়, আবার কেউ কিস্তিতে কিনেছেন মোটরসাইকেল। বিকল্প এই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অনেকেই এখন স্বাবলম্বী।

জেলা সদরের মজুচৌধুরীর হাট, কমলনগরের মতিরহাট, রামগতির আলেকজান্ডারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় যাত্রীবাহী এসব মোটরসাইকেল দেখা যায়।

মো. মিলন নামের মজু চৌধুরীর হাট এলাকার এক চালক বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রী আনা-নেয়া করে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন। এই আয় দিয়ে সংসার চালানো ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ দেয়ার পরও কিছু সঞ্চয় করেন।

চর রমনি মোহন এলাকার বাসিন্দা নজরুল জানান, এখানকার বেশির ভাগ রাস্তা সরু ও মাটির। পাকা রাস্তাগুলোও গর্তে ভরা। ফলে যাত্রীবাহী গাড়ি চলে না। মাঝেমধ্যে চললেও, গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে বেশি। ভাড়াও গুনতে হয় দ্বিগুণ।

তিনি আরও জানান, এখন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল পাওয়া যায় রাতদিন যেকোনো সময়। এতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানো যায়। ভাড়াও লাগে কম।

তবে ভাড়ায় চলা এসব গাড়ির বেশির ভাগেরই নেই রেজিস্ট্রেশন। চালকদেরও নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স, মাথায়ও থাকে না হেলমেট। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয়দের দাবি, এসব চালকদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। এতে যাত্রীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।

রিপন নামের এক চালক জানান, অধিকাংশ চালক ধারদেনা বা কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনেন। এ কারণে অনেক চালকের পক্ষে রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হয় না। এ জন্য প্রায়ই তাদের জরিমানা গুনতে হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, কাগজপত্র ঠিক থাকলেও ট্রাফিক পুলিশ অনেক সময় তাদের হয়রানি করে। টাকা দাবি করে। সেই টাকা না দিলে গাড়ি জব্দ করে নিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যথাযথ সহযোগিতা পেলে এই পেশার মাধ্যমে অনেকের বেকারত্ব দূর হবে বলেও আশা করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
রামগঞ্জে প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বাচ্চুর
লক্ষ্মীপুরের তাহেরের অনিয়ম তদন্তে সমবায় অধিদপ্তর
ব্যবসায়ীকে হত্যার পর টাকা লুট
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর পেটানোর অভিযোগ, আটক ১

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১০০ গ্রাম হেরোইনের মামলায় ১০ বছর পর যাবজ্জীবন

১০০ গ্রাম হেরোইনের মামলায় ১০ বছর পর যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ফাইল ছবি

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ছাড়াও শরিফুলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক মামলায় শরিফুল ইসলাম (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

১০ বছর আগে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক ও মামলার পর রোববার এর রায় হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর পশ্চিম পাঠানপাড়া এলাকার মোস্তাবের হোসেনের ছেলে।

রোববার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রবিউল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ছাড়াও শরীফুলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত সরকারি কৌশলী (এপিপি) আঞ্জুমান আরা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২০১১ সালের ১৬ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর অক্ট্রয় মোড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয় শরিফুলকে। পরে ওইদিনই তার নামে সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম মামলা করেন।

সাইফুল ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল শরিফুলকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ ও শুনানী শেষে শরিফুলকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর পর দণ্ড দেন আদালত।

আরও পড়ুন:
রামগঞ্জে প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বাচ্চুর
লক্ষ্মীপুরের তাহেরের অনিয়ম তদন্তে সমবায় অধিদপ্তর
ব্যবসায়ীকে হত্যার পর টাকা লুট
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর পেটানোর অভিযোগ, আটক ১

শেয়ার করুন

‘তারা পাসপোর্ট তৈরির নামে অতিরিক্ত ফি হাতিয়ে নিতেন’

‘তারা পাসপোর্ট তৈরির নামে অতিরিক্ত ফি হাতিয়ে নিতেন’

কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট ও টাকাসহ দালাল চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব কমান্ডার সাকিব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পাসপোর্ট দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট তৈরি করে দেয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে স্বীকার করেন।

কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট ও টাকাসহ দালাল চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সদর উপজেলার নোয়াপাড়ায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস প্রাঙ্গণে রোববার দুপুরে অভিযানে যায় র‍্যাব।

সন্ধ্যায় অভিযান শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৪৪টি পাসপোর্ট, ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, ৭২৮টি পাসপোর্টের ব্যক্তিগত ডেলিভারি স্লিপ এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দাউদকান্দির মিজানুর রহমান, বুড়িচংয়ের আবিদপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিন, আদর্শ সদর উপজেলার ছোটরা গ্রামের জহিরুল হক, শাসনগাছার মোশারফ হোসেন শফিক, ছোটরা এলাকার জামাল মিয়া, গুনানন্দি গ্রামের মো. নাছির, সদর দক্ষিণ উপজেলার দয়াপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিন, রাজাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও দেবিদ্বারের ছোটরা গ্রামের মো. রনি।

র‌্যাব কমান্ডার সাকিব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পাসপোর্ট দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট তৈরি করে দেয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে স্বীকার করেন।

রোববার সন্ধ্যায় মামলা করে আসামিদের কোতোয়ালি ও সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সহিদুর রহমান ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী জানান, সোমবার সকালে আসামিদের আদালতে নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
রামগঞ্জে প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বাচ্চুর
লক্ষ্মীপুরের তাহেরের অনিয়ম তদন্তে সমবায় অধিদপ্তর
ব্যবসায়ীকে হত্যার পর টাকা লুট
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর পেটানোর অভিযোগ, আটক ১

শেয়ার করুন

শাবি উপাচার্য ভবন পানি-বিদ্যুৎহীন

শাবি উপাচার্য ভবন পানি-বিদ্যুৎহীন

শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।’

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে এই জরুরি পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্দোলকারী শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন।

অনশনের পরও উপাচার্য (ভিসি) পদত্যাগ না করলে তাকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে রোববার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ।

এর আগে শিক্ষার্থীরা তাদের মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, রোববারের পর থেকে উপাচার্যের বাসভবনে পুলিশ ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারবেন না। তার বাসায় পানি, বিদ্যুৎসহ সব পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এসে শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।

‘তখন তার বাসার জরুরি পরিষেবাও (পানি, বিদ্যুৎ) বন্ধ করে দেব আমরা। আর আজ থেকে পুলিশ ছাড়া কেউ তার বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন না।’

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার থেকে একই স্থানে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘এই উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। অনশনের চেয়ে বড় কোনো অহিংস আন্দোলন হতে পারে না। আমরা এটিই চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
রামগঞ্জে প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বাচ্চুর
লক্ষ্মীপুরের তাহেরের অনিয়ম তদন্তে সমবায় অধিদপ্তর
ব্যবসায়ীকে হত্যার পর টাকা লুট
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর পেটানোর অভিযোগ, আটক ১

শেয়ার করুন

সুমিত্রা-রুপাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

সুমিত্রা-রুপাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

সুমিত্রা-রুপাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা

বাপ-দাদার ভিটেমাটি থাকতেও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুমিত্রা রানী ও তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক পরিবারের শখের বাগানবাড়ি বানাতে গিয়ে উচ্ছেদ করা হয় ওই পরিবারটিকে।

ভিটেমাটি হারানো সেই সুমিত্রা-রুপাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ফরিদপুর ও শরীয়তপুর জেলার নেতারা।

রোববার দুপুরে ওই বাড়িটি পরিদর্শনে যান তারা।

এ সময় শরীয়তপুর পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু মহাজোট সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরে ওই পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র দিয়ে পাশে দাঁড়ায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ফরিদপুর জেলা।

নগদ ৭ হাজার টাকা, চাল, ডাল, তেল ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী, পরিধেয় পোশাক ও শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল দেয়া হয়।

এ ছাড়া ওই পরিবারের তিন কন্যার পড়াশোনার জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ভবতোষ কুমার বসু রায়।

এ সময় ভবতোষ কুমার বসু জানান, গত শনিবার সুমিত্রা-রুপাদের ভিটেমাটি হারানোর বিষয়ে নিউজবাংলার সংবাদটি তার নজরে আসে।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি অমানবিক। পরিবারটিতে সবাই নারী সদস্য। একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সমস্যা, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে তারা। অসহায় এই পরিবারটি যেন তাদের জমি ফিরে পায় সে জন্য আমাদের সংগঠন থেকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে।’

এর আগে গত শনিবার নিউজবাংলায় ‘সুমিত্রা রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি’ শিরোনামে খবরটি প্রকাশিত হয়।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গামানিক মৌজার মধুপুর গ্রামে ৩০ একর জমির ওপর একটি বাগানবাড়ি নির্মাণ করেছে প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদারের পরিবার।

অভিযোগ উঠেছে, এই বাগানবাড়ি বানাতে গিয়ে একটি হিন্দু পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করেছে সিকদার রিয়েল এস্টেট।

পরে নানা ঘাত-প্রতিঘাতে ওই পরিবারের দুই পুরুষ সদস্যের মৃত্যু হলে ভাইয়ের তিন মেয়েকে নিয়ে ডিঙ্গামানিক গ্রামের কাদির শেখের পরিত্যক্ত রান্নাঘরে আশ্রয় নেন সুমিত্রা।

আরও পড়ুন:
রামগঞ্জে প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বাচ্চুর
লক্ষ্মীপুরের তাহেরের অনিয়ম তদন্তে সমবায় অধিদপ্তর
ব্যবসায়ীকে হত্যার পর টাকা লুট
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর পেটানোর অভিযোগ, আটক ১

শেয়ার করুন

থানায় ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা, চা- চকলেটে আপ্যায়ন

থানায় ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা, চা- চকলেটে আপ্যায়ন

সেবাপ্রার্থীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায়। ছবি: নিউজবাংলা

চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সেবাপ্রার্থীদের আপ্যায়ন করা শুরু হয় ২০২০ সালে। এবার তাদের অভ্যর্থনা জানাতে দেয়া হচ্ছে ফুল।

গোলাপ ফুল হাতে থানার ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে দুই পুলিশ। সেবাপ্রার্থীরা থানায় প্রবেশ করতেই তাকে সেই ফুল দিয়ে জানানো হচ্ছে অভ্যর্থনা। ভেতরে গেলে তাদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে চা ও চকলেট দিয়ে।

এটি চুয়াডাঙ্গা সদর থানার চিত্র। পুলিশের এই উদ্যোগে মুগ্ধ সেবাপ্রার্থীরা। থানার ওসি জানিয়েছেন, সেবাপ্রার্থীদের মনে পুলিশি সেবা নিয়ে যে ভয় বা অস্বস্তি আছে, তা দূর করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌমিতা খাতুন সকালে সদর থানায় গিয়ে চমকে যান। তিনি বলেন, ‘আমার এসএসসি পরীক্ষার মূল সনদ হারিয়ে গেছে। এ কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে এসেছি। থানায় সেবা নিতে পুলিশ কোনো টাকা নেয়নি বরং ফুল দিয়ে বরণ ও চকলেট দিয়ে আপ্যায়ন করেছে।

‘আসলে পুলিশ বা থানা সম্পর্কে আমাদের নেতিবাচক ধারণা ছিল, কিন্তু থানায় সেবা নিতে এসে সে ধারণা ভেঙে গেল। আমি সত্যিই খুব খুশি এমন সেবা পেয়ে।’

৬৫ বছরে আব্দুল হান্নানের বাড়ি সদর উপজেলার জাফরপুর গ্রামে। তিনি বলেন, ‘থানায় একটি অভিযোগ দিতে এসেছিলাম। থানায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পুলিশ সদস্যরা। আমাকে চেয়ার বসালেন ওসি সাহেব। আগে চা খাওয়ালেন। পরে কথা শুনলেন। কাজ শেষে যাওয়ার সময় চকলেট খাওয়ালেন ওসি সাহেব।’

থানায় ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা, চা- চকলেটে আপ্যায়ন

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারি থেকে থানায় চকলেট দিয়ে আপ্যায়নের রীতি চালু করেন উপপরিদর্শক শামীম হাসান। ২০২১ সালে ওসি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি চকলেটের সঙ্গে চা যোগ করেন। আর রোববার থেকে শুরু হলো ফুল দেয়া।

ওসি বলেন, ‘আমরা পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ভেতরে থাকা ভুয় ভীতি দূর করতে চাই। তাই এই আয়োজন। থানায় আগত প্রত্যেক সেবাপ্রার্থীকেই এভাবে অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে। পুলিশকে আরও জনবান্ধব করতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
রামগঞ্জে প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বাচ্চুর
লক্ষ্মীপুরের তাহেরের অনিয়ম তদন্তে সমবায় অধিদপ্তর
ব্যবসায়ীকে হত্যার পর টাকা লুট
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর পেটানোর অভিযোগ, আটক ১

শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের মামলায় কুড়িগ্রামের এএসআইয়ের নামে পরোয়ানা

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের মামলায় কুড়িগ্রামের এএসআইয়ের নামে পরোয়ানা

বাদীর অভিযোগ, একটি জিডির তদন্তে গিয়ে পঞ্চগড় সদর থানার তৎকালীন এএসআই জলিল তার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলেন, যা পরে শারীরীক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়।

পঞ্চগড়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরি ও ধর্ষণের অভিযোগে এক নারীর করা মামলায় কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শকের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার রোববার দুপুরে এই পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানার আসামি হলেন কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল জলিল। তিনি আগে পঞ্চগড় সদর থানায় ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী মেহেদী হাসান মিলন।

বাদী এজাহারে অভিযোগ করেছেন, জমির বিরোধ নিয়ে তিনি ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল পঞ্চগর সদর থানায় সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন। সে সময় থানা এএসআই ছিলেন জলিল।

বাদীর অভিযোগ, জিডির তদন্ত করতে গিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলেন জলিল। এরপর ভুয়া কাবিবনামা তৈরি করে শারীরীক সম্পর্কেও তাকে জড়ান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ওই নারী জানান, বিয়ের কাবিননামা চাইলে জলিল তা অস্বীকার করেন। এ কারণে প্রতারণা ও বিয়ের কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগে তিনি ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর জলিলের নামে পঞ্চগড় নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন।

আদালত মামলা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেন। গত ২০ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জলিলের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আরও পড়ুন:
রামগঞ্জে প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বাচ্চুর
লক্ষ্মীপুরের তাহেরের অনিয়ম তদন্তে সমবায় অধিদপ্তর
ব্যবসায়ীকে হত্যার পর টাকা লুট
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর পেটানোর অভিযোগ, আটক ১

শেয়ার করুন

শাবি ভিসির পদত্যাগ চেয়ে রাবি শিক্ষকের প্রতিবাদ

শাবি ভিসির পদত্যাগ চেয়ে রাবি শিক্ষকের প্রতিবাদ

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে রাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ খানের প্রতিবাদ। ছবি: নিউজবাংলা

শাবি ভিসিকে উদ্দেশ করে রাবি শিক্ষক বলেন, ‘ফরিদ স্যারকে বলছি, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। শিক্ষক সমাজকে জাতির কাছে কলঙ্কিত করবেন না, ছোট করবেন না। আপনার শিক্ষকতা জীবনের অর্জনকে হেয় হতে দেবেন না।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে রোববার বেলা ১১টায় তিনি অবস্থান নেন। দাঁড়িয়ে নীরব এই কর্মসূচি চলে বেলা ১টা পর্যন্ত। প্রতিবাদ জানানো ওই শিক্ষকের নাম ড. ফরিদ খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক।

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এবং ভিসি ফরিদ স্যারের পদত্যাগের দাবিতে এই প্রতিবাদ।

‘একজন শিক্ষক হিসেবে, একজন অভিভাবক হিসেবে আমি ভীষণ লজ্জিত ও ব্যথিত। একজন শিক্ষকের কারণে আমাদের সন্তানদের জীবন সংকটাপন্ন। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে দাবি জীবনকে হার মানায়, সে দাবি কখনই অযৌক্তিক হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে শিক্ষাঙ্গনে কোনো পদই বড় হতে পারে না। তাই বিবেকের তাড়নায় দাঁড়ালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই নীরবতার ভাষা লক্ষ শিক্ষকের, লক্ষ অভিভাবকের ক্ষোভের ভাষা, বিবেকের ভাষা। একজন অভিভাবক যখন দাঙ্গা পুলিশ ডেকে এনে সন্তানদের শায়েস্তা করেন, তখন তিনি আর অভিভাবক থাকেন না, হয়ে যান একজন শাসক, নির্মম শাসক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শাসক চাই না, চাই অভিভাবক।’

শাবি ভিসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ফরিদ স্যারকে বলছি, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। শিক্ষক সমাজকে জাতির কাছে কলঙ্কিত করবেন না, ছোট করবেন না। আপনার শিক্ষকতা জীবনের অর্জনকে হেয় হতে দেবেন না।

‘শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে আপনার প্রশংসিত ভূমিকাকে খাটো করবেন না। আবারও বলছি পদত্যাগ করুন। সন্তানদের বাঁচান। সন্তানদের কাছে হার মানা কোনো লজ্জার নয়, বরং আনন্দের। আমাদের সন্তানরা আজ প্রতিবাদ করতে শিখেছে।’

আরও পড়ুন:
রামগঞ্জে প্রচারে হামলার অভিযোগ বিএনপির বাচ্চুর
লক্ষ্মীপুরের তাহেরের অনিয়ম তদন্তে সমবায় অধিদপ্তর
ব্যবসায়ীকে হত্যার পর টাকা লুট
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর পেটানোর অভিযোগ, আটক ১

শেয়ার করুন