রইল শুধু ৬ বছরের রুমি

রইল শুধু ৬ বছরের রুমি

শেরপুর সদরের মির্জাপুরে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশারটির ছয় যাত্রী নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার সকালে শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কের বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার সাত আরোহীর মধ্যে ছয় যাত্রীই নিহত হয়েছেন। বেঁচে আছে শিশু রুমি।

মা রোকসানা মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন। তবে বেঁচে রয়েছে রোকসানার ছয় বছরের শিশুকন্যা রুমি। শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।

রোববার সকালে শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কের বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার সাত আরোহীর মধ্যে ছয় যাত্রীই নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ নিহত যাত্রীর নাম মামুন মিয়া। তিনি নালিতাবাড়ীর বাসিন্দা ছিলেন।

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক খায়রুল কবির সুমন জানান, মামুন মিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

বাকি পাচঁ জন হলেন অটোরিকশার চালক নালিতাবাড়ীর বন্ধধারা গ্রামের জাবেদ আলী, রাজনগর ইউনিয়নের চাঁদগাওয়ের নায়েব আলীর ছেলে সেলিম, নিহত সেলিমের স্ত্রী ময়না, একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রোকসানা বেগম, মৃত কেতু মিয়ার ছেলে লাল মিয়া।



সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন দেবনাথ জানান, অটোরিকশাটি নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজার থেকে শেরপুর শহরের দিকে আসছিল। তাতে চালক জাবেদ আলীসহ সাত আরোহী ছিলেন। পথে মির্জাপুর এলাকায় নাকুগাঁওগামী ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়।

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা তিন জন নিহত হন। আহতদের চার জনকে সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে এক জনের মৃত্যু হয়। বিকেলে সদর হাসপাতালেই মারা যান আরও একজন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নান মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। কিন্তু ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডেঙ্গুর রোগী ময়মনসিংহেও

ডেঙ্গুর রোগী ময়মনসিংহেও

আক্রান্তরা হলেন মহানগরের নওমহল এলাকার খায়রুল বাসার, উপজেলা সদরের পরানগঞ্জের ওহাব আলী, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আইনজীবী আতিকুর রহমান। অপরজন একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।।

ঢাকায় উদ্বেগ তৈরি করা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চারজন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত চারজন ভর্তি হয়েছেন, যাদের একজন আবার স্থানীয় একটি উপজেলার বাসিন্দা। অন্য তিনজন ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন।

আক্রান্তরা হলেন মহানগরের নওমহল এলাকার খায়রুল বাসার, উপজেলা সদরের পরানগঞ্জের ওহাব আলী, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আইনজীবী আতিকুর রহমান। অপরজন একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ভর্তি হন গত ২৭ জুলাই, খায়রুল বাসার আসেন পরদিন আর ওহাব আলী ভর্তি হন গত ৩০ জুলাই। তবে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তির তারিখ ও তার নাম জানা যায়নি।

হাসপাতালের ডেঙ্গুবিষয়ক ফোকাল পার্সন হরিমোহন পন্ডিত নিউটন জানান, হাসপাতালের তৃতীয়তলার ১৫ নম্বর মেডিসিন ইউনিটে তিনজন ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতেন।

শেয়ার করুন

তাস খেলে আটক উপজেলা চেয়ারম্যান, মুচলেকায় মুক্তি

তাস খেলে আটক উপজেলা চেয়ারম্যান, মুচলেকায় মুক্তি

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা বলেন, নয়াকান্দি বাজারে বসে তাস খেলছিল রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়াসহ কয়েকজন। পরে খেলতে শুরু করেন তিনিও। এ সময় তাদের আটক করা হয়। 

মানিকগঞ্জ তাস খেলা অবস্থায় তিন সঙ্গীসহ আটক হওয়ার পর মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা। তবে আটক ও ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি র‌্যাবের পক্ষ থেকে গোপন করা হয়েছে।

রোববার রাতে পৌর এলাকার নয়াকান্দি বাজারে একটি টংঘর থেকে তাস খেলা অবস্থায় তাদের আটক করা হয়।

তারা হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা, পার্শ্ববতী বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়া।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা বলেন, নয়াকান্দি বাজারে বসে তাস খেলছিল রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়াসহ কয়েকজন। পরে খেলতে শুরু করেন তিনিও।

তিনি জানান, সেখান থেকে র‌্যাব সদস্যরা হাতকড়া পরিয়ে তাদের আটক করে। খবর পেয়ে স্থানীয় নয়াকান্দি জামে মসজিদের সভাপতি দেওয়ান আব্দুল মতিন ও নয়াকান্দি বাজার সমিতির পক্ষে দেলোয়ার হোসেন মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে রাখেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই ও মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, র‌্যাব সদস্যরা তাকে ফোন করে জানালে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে র‌্যাবের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ছাড়ানো হয়।

র‌্যাব-৪-এর মানিকগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ জানান, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাস খেলা অবস্থায় তাদের আটক করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পরিচয় পাওয়ার তাদের হ্যান্ডকাফ খুলে দেয়া হয়। তিনি যে জনপ্রতিনিধি তা জানা ছিল না।’

শেয়ার করুন

‘পিটিয়ে হত্যার’ পর মরদেহের মুখে বিষ

‘পিটিয়ে হত্যার’ পর মরদেহের মুখে বিষ

বাচ্চাকে নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে স্বামী শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে মর্জিনাকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বাড়িতে ফেরত নিয়ে এসে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ঘরের সব আসবাবপত্র নিয়ে পালিয়ে যান স্বামী শফিকুল ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহের মুখে বিষ ঢেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

রোববার গভীর রাতে উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের দুলালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

সোমবার সকালে উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের দুলালী গ্রাম থেকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শ্বশুর আজিজারকে আটক করে আনা হয়।

সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ে মর্জিনা বেগমের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয় শফিকুল ইসলামের। তাদের সংসারে কিরণবালা নামের এক মেয়ের জন্ম হয়।

রোববার বিকেলে কিরণ বালা বাড়ির উঠানে মলত্যাগ করে। কিন্তু তা পরিষ্কার করতে দেরি হওয়ায় মর্জিনাকে গালমন্দ করেন শাশুড়ি ও দেবর। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় তাদের মধ্যে।

সন্ধ্যায় আবারও তাদের মধ্যে বাচ্চাকে নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে স্বামী শফিকুল ইসলাম মর্জিনাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরে মরদেহ বাড়িতে ফেরত নিয়ে এসে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ঘরের সব আসবাবপত্র নিয়ে পালিয়ে যান স্বামী শফিকুল ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানায় মেয়েকে হত্যার অভিযোগ দেন মর্জিনার বাবা মজিবর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে তুচ্ছ ঘটনায় পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যার কথা বলে বাড়ির সবাই পালিয়ে যায়।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মর্জিনার শ্বশুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

নবজাতক রেখে মা-বাবা উধাও, দত্তক নিতে ভিড়

নবজাতক রেখে মা-বাবা উধাও, দত্তক নিতে ভিড়

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্মের পর এক নবজাতককে ফেলে চলে গেছেন তাদের বাবা মা। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতায় নবজাতকের মায়ের নাম অর্চনা বড়ুয়া ও বাবার নাম সুবোধ বড়ুয়া বলে লিপিবদ্ধ করা হয়। তাদের ঠিকানা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের জলদী লেখা আছে। তবে সেই এলাকায় গিয়ে এই নামে কাউকে পাওয়া যায় না।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্মের পর এক মেয়ে নবজাতককে ফেলে রেখে চলে গেছেন তাদের বাবা মা। হাসপাতালে তারা যে নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করেছেন, এলাকায় গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বাবা মা ছেড়ে গেলেও শিশুটিকে আপন করে নিতে হাসপাতালে এসে ধরনা দিচ্ছেন নিঃসন্তান দম্পতিরা। তবে আদালতের আদেশ ছাড়া কাউকে শিশুটি দেয়া যাবে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ আছে। তাকে দেখভাল করছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতায় নবজাতকের মায়ের নাম অর্চনা বড়ুয়া ও বাবার নাম সুবোধ বড়ুয়া বলে লিপিবদ্ধ করা হয়। তাদের ঠিকানা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের জলদী লেখা আছে।

বাঁশখালী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন বড়ুয়া বলেন, ‘ওই নবজাতকের পিতা-মাতার সঠিক সন্ধানে পুলিশ ও পৌরসভার লোকজন অনেক অনুসন্ধান চালিয়েছে। অর্চনা বড়ুয়া নামে আমার ওয়ার্ডের উত্তর জলদী বড়ুয়া পাড়া এলাকায় কাউকে পাওয়া যায়নি।’

বাবা মা পরিত্যাগ করলেও শিশুটিকে আপন করে নেয়ার মানুষের অভাব নেই। নিঃসন্তান বেশ কয়েকজন দম্পতি ওই নবজাতককে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সকাল থেকেই বাচ্চাটি নেয়ার জন্য অনেকে ভিড় জমায় হাসপাতালে।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিউর রহমান মজুমদার বলেন, ‘রোববার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে নবজাতকের জন্ম হয়। এরপর তার বাবা মা নবজাতককে রেখে চলে যান। বর্তমানে ওই নবজাতক হাসপাতালের হেফাজতে রয়েছে। সুস্থ আছে।’

বাচ্চাটিকে নিয়ে কী করা হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলে, ‘আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া দত্তক দেয়া যায় না। আমরা শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে ফেরত দেয়ার চেষ্টা করছি।’

কোনো শিশুকে দত্তক নিতে হলে আদালতে আবেদন করতে হয়। আর স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন বিচারক।

শেয়ার করুন

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

শেরপুরের একটি বেদেপল্লী। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা এখানে আসার পর থেকে লকডাউন। করোনাও বেশি হওয়ায় কোথাও মজমা বসাতে পারি না। খাদ্যের অভাবে সাপগুলোও মরে গেছে। নতুন করে সাপও ধরতে পারছি না। সাপ খেলাও দেখাতে পারছি না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

বিভিন্ন গ্রাম্য হাট ও বাজারে ঘুরে সাপ ও বানরের খেলা এবং তাবিজ বিক্রি করতেন শেরপুরের শতাধিক বেদে পরিবারের পুরুষরা। নারীরাও বসে থাকতেন না। তারাও গ্রামে গ্রামে ঘুরে জাদু দেখানো, কবিরাজী চিকিৎসা ও তাবিজ বিক্রি করে আয় করতেন।

নারী পুরুষ উভয়ের আয়ে কিছুটা টানাটানি থাকলেও বেশ ভালোভাবেই চলত তাদের সংসার। তবে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আয় না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় সরকারি সহায়তাও পান না তারা ঠিকমতো। পাচ্ছেন না করোনাকালীন প্রণোদনাও।

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র সেতুর পাশেই বসবাস করছে বেদেপল্লির ৪০টি পরিবার। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরও প্রায় ৬০টি পরিবার।

এসব বেদেরা জানান, করোনার কারণে শেরপুরে চলমান লকডাউন ছাড়াও অনেক দিন ধরেই হাট-বাজারে লোক সমাগম নিষিদ্ধ রয়েছে। তাই এখন সাপ ও বানরের খেলা এবং তাবিজ বিক্রির জন্য বসতে পারছেন না পুরুষরা। খাবারের অভাবে তাদের ধরা অনেক সাপ মারা গেছে। নতুন সাপও ধরতে পারছেন না।

নারীও করোনার কারণে বাড়ি বাড়ি যেতে পারছেন না। এতে তাদের আয়ও বন্ধ। এমন অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন তারা।

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

বেদে সর্দার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এখানে আসার পর থেকে লকডাউন। করোনাও বেশি হওয়ায় কোথাও মজমা বসাতে পারি না।

‘খাদ্যের অভাবে সাপগুলোও মরে গেছে। নতুন করে সাপও ধরতে পারছি না। সাপ খেলাও দেখাতে পারছি না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

সোহেল নামের একজন যশোর থেকে এসেছেন ব্রহ্মপুত্র সেতুর পাশের বেদেপল্লীতে।

তিনি বলেন, ‘আমি হাটে-বাজারে বান্দরের খেলা দেখিয়ে যা আয়-রোজগার করি, তাই দিয়ে সংসার চালাই। এহন তো কোনো মজমা বসাবার পারি না। এহন খুব কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি। কেউ তো আমাগো সাহায্যও দেয় না। এহন আমরা কী কইরা চলি।’

বেদেনি মারুফা বলেন, ‘আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরি আর ম্যাজিক খেলা দেখাই। কোমর-হাঁটুর বিষ-বেদনা সারানোর চিকিৎসা করি। কিন্তু করোনার কারণে এহন আমাগো কেউ বাড়িতেই ঢুকতে দিবার চায় না।

‘এহন আমাগো কামাই বন্ধ। খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। হুনতাছি সরকার সবারেই সাহায্য করতাছে। আমাগো তো কোনো সাহায্য করতাছে না।’

আরেক বেদেনি রীনা বেগম বলেন, ‘কি আর কমু, আমাগো দুঃখ দেহে কেডা। কত যে কষ্ট করতাছি। কেউ তো আমাগো সাহায্য করতাছে না।

‘আমাগো তো কোনো জাগা-জমি নাই। যেহানে পারি সেহানেই তাহি। কামাই না অইলে খামু কি গো। মানুষ তো আমাগোরে বাড়ি যাইবার দিবার চায় না। বাজারেও মজমা বসান যায় না। এহন আমরা কী করমু?’

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকবর আলী বলেন, ‘আমরা এসব বেদে পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। কিন্তু তাদের জন্য কোনো বরাদ্ধ না থাকায় আর্থিক সহায়তা করতে পারছি না।

‘তবে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক স্যার আশ্বাস দিয়েছেন তাদের জন্য সাহায্যের একটা ব্যবস্থা করবেন।’

শেরপুর সদর উপজেলার ইউএনও ফিরোজ আল মামুন জানান, তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা বরাদ্দেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

‘ফেসবুক পোস্ট’ নিয়ে বিরোধ, স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

‘ফেসবুক পোস্ট’ নিয়ে বিরোধ, স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

সানির সঙ্গে রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল উত্তর পাড়ার মাহাফুজ নামের এক যুবকের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধ ছিল। রাতে বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে গেলে সানিকে কুপিয়ে হত্যা করে মাহাফুজ ও তার পক্ষের লোকজন।

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মোহাম্মদ সানি নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত হয়েছে হীরা নামে আরেক তরুণ।

উপজেলার গোলান্দাইল বেড়িবাঁধ এলাকায় সোমবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সানি গোলাকান্দাইল বিজয়নগড় এলাকার মিল্লাত হোসেনের ছেলে। স্থানীয় একটি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল সে।

হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে রূপগঞ্জ পুলিশ।

রূপগঞ্জ থানার ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, সানির সঙ্গে গোলাকান্দাইল উত্তর পাড়ার মাহাফুজ নামের এক যুবকের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধ ছিল। রাত ৮টার দিকে সানিসহ কয়েকজন গোলাকান্দাইল বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে যায়।

ওই সময় মাহাফুজ তার লোকজন নিয়ে সানি ও হীরাকে কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত হীরাকে পরে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ময়নাতদন্তের জন্য সানির মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

সিলেটে দ্রুত বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ফলে হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সঙ্কট। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) পাশপাশি সাধারণ শয্যাও খালি মিলছে না। ফলে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। রোগী নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে স্বজনদের।

এ অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ৭০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে যুক্ত হয়েছে আরও ১০টি আইসিইউ।

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার সকাল থেকে এসব শয্যায় রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে।

ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

এসব শয্যা ও আইসিইউ বাড়ানোর ফলে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ওসমানীর সক্ষমতা বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

নতুন করে ১০টি যুক্ত হওয়ার আগে করোনা রোগীদের জন্য সিলেটের সরকারি দুটি হাসপাতালে ২৩টি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা ছিল। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে করোনা চিকিৎসায় জেলায় আইসিইউ শয্যা রয়েছে আরও ৮০-৯০টি।

নগরের সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৬০টি সাধারণ শয্যা ছিলো। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে আরও প্রায় ২০০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা পেতে বিভিন্ন হাসপাতালে ধর্না দিতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। সবগুলো হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ ইউনিট রোগীতে পূর্ণ রয়েছে। এ অবস্থায় ওসমানীতে শয্যা ও আইসিইউ দুটিই বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি, সিলেটের সভাপতি এবং নুরজাহান হাসপাতালের চেয়ারম্যান নাসিম আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি আমরা করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু রোগীর চাপ প্রতিদিন এত বেশি বাড়ছে যে আমরা উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় সরকারি চিকিৎসাসেবা আরও অনেক বাড়ানো প্রয়োজন।’

শেয়ার করুন