‌জোর করে গর্ভপাতের চেষ্টা, সেই নারীর সন্তান নষ্ট

‌জোর করে গর্ভপাতের চেষ্টা, সেই নারীর সন্তান নষ্ট

গর্ভের সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় জিয়াসমিন। ছবি: নিউজবাংলা

গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় গত ২৪ জানুয়ারি সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ২০ নম্বর শয্যায় ভর্তি হন সাটুরিয়া উপজেলার গর্জনা গ্রামের জিয়াসমিন আক্তার। সেখানে এক নার্সের বিরুদ্ধে জোর করে তার গর্ভপাতের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

প্রথম সন্তান নিয়ে অনেক পরিকল্পনা ছিল জিয়াসমিনের। নাম ভেবে রেখেছিলেন ‘মাহির’। কিন্তু যে সন্তানকে নিয়ে এত স্বপ্ন, সে-ই কোলে আসেনি তার।

পাঁচ মাসের গর্ভেই নষ্ট হয়েছে ভ্রূণ। মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জিয়াসমিনের গর্ভপাত হয় শনিবার ভোরে।

গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় গত ২৪ জানুয়ারি সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ২০ নম্বর শয্যায় ভর্তি হন সাটুরিয়া উপজেলার গর্জনা গ্রামের জিয়াসমিন আক্তার। সেখানে এক নার্সের বিরুদ্ধে জোর করে গর্ভপাতের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন তিনি।

জিয়াসমিনের মা নূরজাহান বলেন, তার মেয়ের অনাগত সন্তানকে নিয়ে নানা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু ওই নার্সের কারণে সব শেষ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘যারা আমার মেয়ের সন্তানকে নষ্ট করল, আমি তাদের সঠিক বিচার চাই।’

জিয়াসমিনের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার দুপুরে তাকে শয্যা থেকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যান নার্স ফাতেমা আক্তার। সেখানে জোর করে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেন তিনি।

হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ রুমা বলেন, গাইনি ওয়ার্ডে ২১ নম্বর বেডের রোগীকে গর্ভপাত (ডিঅ্যান্ডসি) করানোর কথা ছিল। কিন্তু ২০ ও ২১ বেডে পাশাপাশি হওয়ায় হয়তো ভুলে জিয়াসমিনকে গর্ভপাতের জন্য নেয়া হয়।

এ ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন জিয়াসমিন। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশাদ উল্লাহ জানান, শুক্রবার রাতে জিয়াসমিনের তলপেটে ব্যথা ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গর্ভেই ভ্রূণ নষ্ট হওয়ায় শনিবার ভোরে তার গর্ভপাত করানো হয়।

এ ঘটনায় বুধবার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন জিয়াসমিনের চাচা লুৎফর রহমান। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করেন আরশাদ।

আরও পড়ুন:
ইসলামী হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা: বিএমএর পাল্টা অভিযোগ
হার্নিয়া বাম পাশে, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাটল ডান পাশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য