বারোমাসি আমবাগান করে স্বাবলম্বী

তিন তরুণ উদ্যোক্তা

বারোমাসি আমবাগান করে স্বাবলম্বী

করোনা মহামারি দেখা দিলে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফেরেন তারা। এরপর তারা আবার মন দেন বাগান করার দিকে। এরপর তাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তারা এই বারোমাসি আম বাগান থেকে এখন প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় লাখ টাকা।

শুরুটা ২০১৯ সালের মার্চে। মাত্র চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন আম ও পেয়ারা গাছের চারা রোপন। প্রথমে পাঁচশ আম ও আড়াইশ পেয়ারা গাছের চারা রোপন করেন তারা। এরপর দেড় বছরের নিবিড় পরিচর্যায় তা রূপ নেয় পরিপূর্ণ বাগানে।

এই বাগানের বারোমাসি আম ও পেয়ারা বিক্রি করে প্রতি মাসে এখন তাদের আয় হচ্ছে প্রায় লাখ টাকা।

এই তিন জন হচ্ছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ছোট ছত্রগাছা গ্রামের রুবেল মন্ডল, মাসুদ রানা ও জাহিদ হাসান জয়। তিন জনই পড়ালেখা করেছেন পলিটেকনিক্যাল কলেজে।

এদের মধ্যে রুবেল মন্ডল ২০১৮ সালে ঢাকা পলিটেকনিক্যাল থেকে (ইলেকট্রিক্যাল) ডিপ্লোমা ও মাসুদ রানা টেক্সটাইল ট্রেড নিয়ে বেসরকারি বগুড়া বিট পলিটেকনিক্যাল থেকে ডিপ্লোমা শেষ করেন। জাহিদ হাসান জয় গত বছরে ঢাকার শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক্যাল থেকে শেষ করেন ডিপ্লোমা।

এই তিন তরুণ প্রথমে চার বিঘা জমিতে আমের চারা রোপন করেন। পাশাপাশি রোপন করেন সুস্বাদু ফল পেয়ারা গাছের চারাও। শুরু থেকে নিজেরাই করেছেন বাগান পরিচর্যার কাজ। জমি নিড়ানি থেকে শুরু করে চারা রোপন; কিংবা খুঁটি পোতা থেকে বাগান ঘেরা, সবই করেন এই তিন তরুণ।

তবে এক সময় তিন তরুণের পক্ষে বাগান পরিচর্যা করা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। তখন তারা নিজেরা কাজ করার পাশাপাশি দিনপ্রতি তিনশ টাকায় একজন শ্রমিক নিয়োগ করেন। কিন্তু মাস শেষে সেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিতে না পারায় তিন তরুণ চাকরি নেন ঢাকায় পোশাক কারখানায়। সেই চাকরির বেতনের টাকায় শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিতে সক্ষম হন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

আম বাগান

পরে করোনা মহামারি দেখা দিলে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফেরেন তারা। এরপর তারা আবার মন দেন বাগান করার দিকে। এরপর তাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তারা এই বারোমাসি আমবাগান থেকে এখন প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় লাখ টাকা।

রুবেল মিয়া বলেন, ‘আগে থেকেই তিন বন্ধু মিলে একটা কিছু করব এমন ভাবনা ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১০ মার্চ আমরা তিন বন্ধু প্রথম আম বাগান করার সিদ্ধান্ত নেই। এরপর থাই কাটিমন জাতের চারা লাগানোর পরিকল্পনা করি।

‘চার বিঘা জমিতে প্রথমে পাঁচশ আম ও আড়াইশ পেঁয়ারার চারা রোপন করি। এরপর করোনার সময়টাতে গ্রামে ফিরে বাগান পরিচর্যায় লেগে পড়ি। এখন বাগানের আম-পেয়ারা বিক্রি করে পরিবারসহ নিজেরা ভালভাবে চলতে পারছি। আমরা এই বাগান করে এখন স্বাবলম্বী।’

আরেক উদ্যেক্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘এই বাগান দাঁড় করতে যা ব্যয় হয়েছে তার জন্য আমরা কোনো ঋণ নিইনি। এটি দাঁড় করতে নিজেরাই পরিশ্রম করেছি। যার কারণে আমরা এখন ভালো ফল পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, এ ধরনের বাগান যে কেউ চাইলে করতে পারবে। এই বাগান করে ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। কেননা, এই আম ঋতু ছাড়াও বারো মাসে পাওয়া যায়। আমরা পাইকারি দরে প্রতি মণ আম বিক্রি করছি ২০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি আমের দাম পড়ছে পাঁচশ টাকা।’

জাহিদ হাসান জয় বলেন, ‘এখানে চার বিঘা জমিতে প্রায় সাড়ে সাতশ গাছ আছে। এগুলো হচ্ছে থাইল্যান্ডের থাই কাটিমন চারা। এই গাছ বছরে তিনবার ফলন দেয়। তবে প্রথম দেড় বছর উচ্চ ফলনের আশায় কোনো ফল নিইনি আমরা। গত চার মাস হলো ফল বিক্রি শুরু করি আমরা। এখন পর্যন্ত প্রায় পনেরো মণ আম বিক্রি করে তিন লাখ টাকা আয় করেছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সিজনাল আমবাগান করার চেয়ে বারোমাসি আম বাগান করে লাভ বেশি হয়। কারণ অফ সিজনে দাম বেশি পাওয়া যায়।’

জয় জানান, আম ও পেয়ারা বিক্রি করে লাখ টাকা আয়ের পাশাপাশি তারা কলম কেটে বিক্রি করছেন গাছের চারাও। এক একটি আমের চারা বিক্রি হচ্ছে দুইশ টাকা। যা মাস শেষে আয়ের আরেকটি বড় অংশ যোগ হচ্ছে তাদের। এসব চারা তারা বিক্রি করছেন গাইবান্ধা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আম

এ বিষয়ে ওই এলাকার সমাজসেবক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার এই তিন যুবক পলিটেকনিক্যাল থেকে ডিপ্লোমা শেষ করেছে। তাদের এ উদ্যোগে আমি খুশি। আমি নিজেও এ ধরনের বাগান করার পরিকল্পনা করছি। এটা এ অঞ্চলের প্রথমে আম বাগান যা বারোমাসই ফল দিচ্ছে।

‘আমি মনে করি, কৃষি বিভাগের এসব তরুণ উদ্যেক্তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো দরকার। সরকার অনেককেই ভর্তুকি দিচ্ছে। সে রকম এদেরকে ভর্তুকি বা ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করা দরকার।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. খাজানুর রহমান বলেন, ‘ধাপেরহাটের তিনজন তরুণ উদ্যোক্তা পত্র-পত্রিকা দেখে বারোমাসি কাটিমন আমের চারা সংগ্রহ করে চুয়াডাঙ্গা থেকে। কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তায় আজ তারা আম চাষে স্বাবলম্বী। এই বাগান থেকে তারা প্রতি সপ্তাহে ২০-২৫ হাজার টাকার আম বিক্রি করছে। উপজেলায় এ রকম আরও উদ্যোক্তা আমরা খুঁজছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

একই ঘরে মিলল নিখোঁজ ২ শিশু, একটি মৃত

একই ঘরে মিলল নিখোঁজ ২ শিশু, একটি মৃত

২৩ দিনের শিশু মাহিন, নিখোঁজ হয়েছিল চার দিন আগে। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শিশু চোর চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে, যাদের পাঁচজনই নারী।

সিরাজগঞ্জে হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ দুই শিশুকে পাওয়া গেছে জেলার আলোকদিয়া গ্রামের এক বাড়িতে। তবে শিশু দুটির একটি মারা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শিশু চোর চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে, যাদের পাঁচজনই নারী।

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে শনিবার চুরি হওয়া একদিন বয়সী সামিউলকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

আর চার দিন আগে সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া শিশু মাহিনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ২৩ দিন।

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী নিউজবাংলাকে জানান, আলোকদিয়ার একটি ঘর থেকে রাত পৌনে ১১টার দিকে সামিউল ও মাহিনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশু চোর চক্রের পাঁচ নারী ও এক পুরুষ সদস্যকে আটক করা হয়।

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে শনিবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে শিশু সামিউলকে চুরি করা হয়।

শিশুটি তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের আব্দুল মাজেদ ও সবিতা খাতুন দম্পতির প্রথম ছেলে সন্তান। এক যুগ অপেক্ষার পর এই সন্তান আসে তাদের ঘরে।

এ ঘটনায় হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজের কয়েকটি ক্লিপ নিউজবাংলার হাতে আসে। প্রায় দেড় মিনিটের ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটির নানীর সঙ্গে কথা বলছেন খয়েরি রংয়ের বোরকা পরা এক নারী। এক পর্যায়ে শিশুকে কোলে নেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা তাকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় পায়চারী করেন। এর পর সুযোগ বুঝে কৌশলে নবজাতককে নিয়ে সটকে পড়েন।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে শিশু মাহিনকে চুরি করা হয়।

হাসপাতালের ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বোরকা পরা দুই নারী শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হিজাবে মুখ ঢাকা থাকায় এবং সিসিটিভির ফুটেজ স্পষ্ট না হওয়ায় তাদের চেহারা বোঝা যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা চয়ন ইসলাম পাঁচ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। পরে সন্দেহভাজন এক জনকে আটক করে পুলিশ।

শেয়ার করুন

গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী পলাতক

গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ, স্বামী পলাতক

পাঁচ মাস আগে রূপাটি গ্রামের রাজু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সালমার। বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়িতে আসা-যাওয়া নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয়।

মাগুরা সদর উপজেলার শ্বশুরবাড়ি থেকে সালমা খাতুন নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার জগদাল ইউনিয়নের রুপাটী গ্রাম থেকে শনিবার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর থেকে ওই গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আত্মগোপন করেছেন। সালমার পরিবারের সদস্যদের দাবি, সালমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তারা জানান, পাঁচ মাস আগে রূপাটি গ্রামের রাজু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সালমার। বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়িতে আসা-যাওয়া নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয়।

সালমার দাদা পিকুল হোসেন জানান, শনিবার সকাল ৮টার দিকে ফোন করে তাদেরকে জানানো হয়, সালমা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সালমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা।

তিনি আরও জানান, তারা গিয়ে ওই বাড়িতে সালমার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাননি।

সালমাকে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলতে সালমার স্বামী রাজুকে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা জানা যাবে।

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় ২ মাস নিষিদ্ধ মাছ ধরা

লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় ২ মাস নিষিদ্ধ মাছ ধরা

মেঘনা নদীতে দুই মাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে সব ধরনের মাছ শিকার। ছবি: নিউজবাংলা

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে জাটকা সংরক্ষণ করে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

জেলা মৎস্য অফিস জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রায় ৬৫ হাজার জেলে রয়েছে। এসব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার একশ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

এই একশ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জেলামৎস্য কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন জানান, ইলিশের উৎপাদন ও জাটকা সংরক্ষণের জন্যই দুই মাস নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

ট্রাক্টরের ধাক্কায় বাইকচালক নিহত

ট্রাক্টরের ধাক্কায় বাইকচালক নিহত

বাঁধন ও নিলয় দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট বাজার থেকে মোটরসাইকেলে সৈয়দপুরে যাচ্ছিলেন। পথে পুলহাট বাজারে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক্টর ওই মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ট্রাক্টরের ধাক্কায় বাঁধন ইসলাম নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।

এ দুর্ঘটনায় নিলয় ইসলাম নামের আরেক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের পুলহাট বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বাঁধন ইসলামের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার রাবেয়া মোড়ের বানিয়াপাড়ায়।আহত নিলয় ইসলামের বাড়িও একই এলাকায়।

গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আইনুল হক শাহ জানান, বাঁধন ও নিলয় খানসামা উপজেলার পাকেরহাট বাজার থেকে মোটরসাইকেলে সৈয়দপুরে যাচ্ছিলেন। পথে পুলহাট বাজারে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক্টর ওই মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা বাঁধন ও নিলয়কে উদ্ধার করে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক বাঁধনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিলয় ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

আ. লীগ কোনোদিন ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারেনি: খুলনায় শাহজাহান ওমর

আ. লীগ কোনোদিন ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারেনি: খুলনায় শাহজাহান ওমর

খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খুলনার মহাসমাবেশে কর্মীদের আসতে পথে পথে বাধা দিয়েছে। তারপরও হাজার হাজার জনতা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সরকার পতনের ডাক দিয়েছে। তিনি বলেন, এ বছরই সরকারের শেষ সময়।

আওয়ামী লীগ কোনোদিন জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর।

শনিবার বিকেলে নগরীর কে ডি ঘোষ রোড বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বীরউত্তম খেতাব বাতিলের ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদ ও দলীয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশের ছয় সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের নেতৃত্বে এ মহাসমাবেশ হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নিতাই রায় চোধুরী ও যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

প্রধান বক্তা ছিলেন বরিশাল সিটির মেয়র প্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরোয়ার, রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, চট্টগ্রামের ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা উত্তরের তাবিথ আওয়াল ও ঢাকা দক্ষিণের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি এ মহাসমাবেশের আয়োজন করে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খুলনার মহাসমাবেশে কর্মীদের আসতে পথে পথে বাধা দিয়েছে। তারপরও হাজার হাজার জনতা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সরকার পতনের ডাক দিয়েছে। তিনি বলেন, এ বছরই সরকারের শেষ সময়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। ১৬ কোটি মানুষ ভোট দিতে পারছেন না। রাতের অন্ধকারে জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিয়ে দলের এমপি বানিয়েছেন। তারাই ব্যাংক লুট করছেন। শেয়ারের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ প্রশাসন দেশকে সর্বনাশের দিকে নিয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সমাবেশ পণ্ড করার জন্য পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়-ভীতি এবং দুদিনে ৩১ জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের খাবার হোটেলে পুলিশ তালা দিয়েছে। খেয়াঘাট-বাস বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও মহাসমাবেশ সফল করেছে।

তিনি আগামীতে নির্বাচনকে অর্থবহ করতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের দাবি জানান।

মহাসমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক হুইপ মশিউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুজ্জামান খান শিমুল, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সাংসদ সোহরাব উদ্দীন, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবৃদ শামীমুর রহমান শামীমসহ অনেকে।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, নগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, জেলা শাখার শেখ আবু হোসেন বাবু ও নগরের আসাদুজ্জামান মুরাদ।

এর আগে, সকাল থেকে খুলনায় ছিল পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায় বাস চলাচল। সকাল থেকে বন্ধ হয় লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল। সব মিলে আটকা পড়ে বিভিন্ন কাজে খুলনায় আসা সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে খুলনার বাইরে যারা নিয়মিত অফিস করেন, তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগও ছিল চরমে। তবে, সমাবেশ শেষে সন্ধ্যার পর থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সরঞ্জামবাহী ভটভটি ও ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১

নির্বাচনি সরঞ্জামবাহী ভটভটি ও ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১

জয়পুরহাট শহরের বাজলা স্কুলের সামনে পৌরসভা নির্বাচনের সরঞ্জামবাহী একটি ভটভটির সঙ্গে একটি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভ্যান চালক নাসির উদ্দিন নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাজলা স্কুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন জয়পুরহাট সদর থানার আলমগীর জাহান।

নিহত নাসির উদ্দিন সদর উপজেলার মাধায়নগর গ্রামের ছুমির উদ্দিন ছেলে।

ভ্যানযাত্রীদের বরাত ওসি আলমগীর জানান, আগামীকাল জয়পুরহাট সদর পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার দুপুরে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে একটি ভটভটি তালিমুল ইসলাম একাডেমি কেন্দ্রে যাচ্ছিল। পথে সদর রাস্তার পাশের বাজলা স্কুলের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক নাসির মারা যান।

মরদেহটি জয়পুরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

ধর্ষণের শিকার কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা: কিশোর গ্রেপ্তার

ধর্ষণের শিকার কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা:  কিশোর গ্রেপ্তার

পুলিশ জানিয়েছে, পাশাপাশি বাড়িতে থাকতো দু’জন। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক। এক পর্যায়ে ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে অভিযুক্ত কিশোর।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় শুক্রবার রাতে এক কিশোর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলম ওই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গীতে জাতীয় কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তা ছাড়া আদালতে ২২ ধারায় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে ওই কিশোরী।

এর আগে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ১৩ বছরের ওই কিশোরকে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, কিশোরী ও কিশোর পাশাপাশি বাড়িতে থাকত। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক। একপর্যায়ে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে ওই কিশোর।

পরে ওই কিশোর ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি পাল্টে অন্য এলাকায় চলে যায়। এর মধ্যে ভুক্তভোগী কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। তখন তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন স্বজনরা।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবার করা মামলা কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের আদালত পুলিশের উপপরির্দশক শাহিন উল্লাহ জানিয়েছেন, আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ভুক্তভোগী কিশোরী। আদালতের নির্দেশে কিশোরকে কাল রোববার টঙ্গীতে পাঠানো হবে। রাতে তাকে জেলহাজতে রাখা হবে।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg