‘ঘর প্যালে লিজের একটু মাথা গুঁজার ঠাঁই হোবে’

‘ঘর প্যালে লিজের একটু মাথা গুঁজার ঠাঁই হোবে’

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নওগাঁর ১১টি উপজেলায় নিজস্ব ঘর নেই এমন এক হাজার ৫৬টি পরিবারকে ঘর করে দেয়া হচ্ছে।

কেউ বসবাস করেন সরকারি খাস জমিতে, কেউ আবার অন্যের জমিতে। নওগাঁয় ভূমি ও গৃহহীন এমন এক হাজার ৫৬টি পরিবারের স্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে মুজিববর্ষে।

গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে। তবে এরপরও জেলায় গৃহহীন থাকছে আরও প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবার। তাদেরও পর্যায়ক্রমে ঘর করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নওগাঁর ১১টি উপজেলায় নিজস্ব ঘর নেই এমন এক হাজার ৫৬টি পরিবারকে এসব ঘর করে দেয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যেই এসব ঘর জমিসহ সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেয়া হবে। তবে উপকারভোগীদের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন দিয়ে বাস্তবায়নাধীন এসব ঘর করতে সব মিলিয়ে খরচ হচ্ছে ১৮ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। ঘরে রয়েছে দুইটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও বারান্দা।

‘ঘর প্যালে লিজের একটু মাথা গুঁজার ঠাঁই হোবে’

রাণীনগর উপজেলার বরগাছা ইউনিয়নের খাঁসগড় গ্রামের উপকারভোগী সেফাতুল্ল্যা প্রামাণিক বলেন, ‘হামার (আমার) লিজের (নিজের) কোনো ঘর ন্যাই। বউ, ছেলে-মেয়েক লিয়ে পরের জুমিত (জমিতে) পাটখড়ি ও পলিথিন দিয়া টং ঘর তুলে থ্যাকতাম (থাকতাম)। এখন এই ঘর প্যালে লিজের একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই হোবে।’

মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল গ্রামের রিকশাচালক জিয়াউল হক বলেন, ‘হামি ঢাকায় রিকশা চালাত্যাম। করোনার কারণে বাড়িত চলে আসি। হামার লিজের কোনো ঘর-জুমি নাই। মাইনষের জমিত টিন ঘির‍্যা কোনো রকমে বউ-বাচ্চা লিয়া থাকতে হচ্চে। এখন সরকার থ্যাকা দেয়া ঘর পামু, এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কী হবার পারে।’

নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এ কাজ বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা সারা দিন নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।’

‘ঘর প্যালে লিজের একটু মাথা গুঁজার ঠাঁই হোবে’

‘আগামী ১০ই জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে এসব বাড়ি নির্মাণের কাজ। এর পরই বাড়িগুলো গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হবে। প্রতিটা ঘরে স্যানিটেশন ও ইলেকট্রিসিটিসহ নাগরিক সুবিধা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নওগাঁর সব উপজেলায় নির্মাণরত এসব ঘরের কাজ পরিদর্শন করেছি। এ সময় উপকারভোগীদের মাঝে এই ঘর প্রাপ্তির খবরে যে আনন্দের ঝিলিক দেখতে পেয়েছি, সেই আনন্দ অশ্রু আমাদের আগামীর পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

প্রতীকী ছবি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

ঢাকার সাভারে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুরাগ নদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন।

তাদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম ভোলা দাশ। আহত দুইজনের নাম জানা যায়নি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

‘ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গাড়ির ভেতর থেকে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত দুইজনকে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।’

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, ‘পানিতে তলিয়ে যাওয়া প্রাইভেটকারের আহত দুই যাত্রীকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। পানির নিচে থাকা প্রাইভেটকারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

শেয়ার করুন

গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিল শিশু

গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিল শিশু

ওবায়দুর রহমান বলেন, এলাকার একটি হাওরে কয়েকজন লোক মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তখন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। পাশে বসে শিশুটি কাঁদছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ইয়াসমিন নামে এক গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে মদনপুর-যুগের হাওর নামক স্থান থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শ্রীরামপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহ ছিল। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিক কলহে গৃহবধূ ইয়াসমিন তার বাপের বাড়িতে চলে গেলেও দুই দিন আগে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এলাকার একটি হাওরে কয়েকজন লোক মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তখন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। পাশে বসে শিশুটি কাঁদছে।

‘জেলেদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।’

পুলিশের ওই এসআই বলেন, ‘তিন বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার নামের শিশুটি নিহত গৃহবধূর মেয়ে। গৃহবধূর বুকে, পিটে ও হাতে ছুরির আঘাত রয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে।’

মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা লাপাত্তা বলে জানায় পুলিশ।

শেয়ার করুন

স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান

স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান

স্কুলের মাঠ দখল করে সেখানে রোপন করা হয় কলাগাছ। ছবি: নিউজবাংলা

করোনায় বন্ধ থাকার সুযোগে স্কুলের মাঠে কলাগাছের চারা রোপন করেন ওই স্কুলের জমিদাতার নাতিরা। তাদের দাবি, জমির মালিকানা তাদের দাদি পিয়ারজান বিবির ছিল না। তাই তিনি জমি লিখে দিতে পারেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও জমিদাতার স্বজনদের মধ্যে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে কলাগাছের বাগান করেছেন জমিদাতার পরিবারের সদস্যরা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে পাঠদান চললেও, মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবিভাবকসহ স্থানীয়রা।

উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের কুতুবপুর পিয়ারজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে কলাগাছ লাগানোর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ জানালেও, লাভ হয়নি। সালিশে বসেও সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে বিদ্যালয়ের নামে জমি লিখে দেন পিয়ারজান বিবি নামের এক নারী। তিনি বর্তমানে বেঁচে নেই।

৪৭ বছর পর জমিদাতার নাতিরা দাবি করছেন, জমির মালিকানা পিয়ারজান বিবির ছিল না। তাই তাদের দাদি জমি লিখে দিতে পারেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জমিদাতার স্বজনদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ সময়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে কম আসতেন। এই সুযোগে বিদ্যালয় মাঠে কলাগাছের চারা রোপন করে জমিদাতার স্বজনরা।

খবর পেয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে গেলে তাদের দেয়া হয় নানা রকম হুমকি। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় মামলা করেন।

প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘গত ২৯ মে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় জমিদাতার স্বজনরা বিদ্যালয়কে ৩১ শতক জমি সাফকবলা দলিল করে দেবেন। বিনিময়ে তাদের তিন লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু এখন তারা জমি লিখে দেয়ার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে পাঠদানের জন্য একমাত্র টিনশেড ঘরটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, মাঠ থেকে কলাগাছ সরানো হয়নি। এ অবস্থায় গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়।’

জমিদাতা পিয়ারজান বিবির নাতি আবুল ইসলাম জানান, তারা তিন লাখ টাকা পেয়েছেন। তবে জমি লিখে দিতে হলে আগের দলিল বাতিল করতে হবে।

পিয়ারজান বিবির আরেক নাতি সুরুজ আলী বলেন, ‘আগের দলিল বাতিল করা না হলে নতুন করে জমি লিখে দেব না। গাছগুলো সরানোর বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, ‘একটি মীমাংসিত বিষয়কে জটিল করে তুলেছেন জমিদাতার স্বজনরা। ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িতে গুলি, আহত ২

বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িতে গুলি, আহত ২

বান্দরবানে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক আকাশ মারমা জানান, বান্দরবানের রুমা থেকে রাজস্থলী পোয়াইতি মুখ পাড়ার ১৯ জন পর্যটক ফেরার পথে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের গলাচিপা এলাকায় হামলার শিকার হন। এ সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে একদল সন্ত্রাসী। এতে দুই জন আহত হন।

বান্দরবানে একটি গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ২ আদিবাসী নারী আহত হয়েছেন। জেলার গলাচিপা এলাকায় শনিবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই নারীর একজন য়‌ইসিং‌নু মারমা, অন্যজন মেহাইসিং মারমা। তারা কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টান হাসপাতলে ভর্তি আছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক আকাশ মারমা জানান, বান্দরবানের রুমা থেকে রাজস্থলী পোয়াইতি মুখ পাড়ার ১৯ জন পর্যটক ফেরার পথে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের গলাচিপা এলাকায় হামলার শিকার হন। এ সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে একদল সন্ত্রাসী। এতে দুই জন আহত হন।

এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করছে স্থানীয়রা। জেএসএস অবশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়িতে হামলার ঘটনার কথা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা

সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা

কক্সবাজার সৈকতে উদ্ধার দুই মরদেহ রাফিদ ঐশিক (বাঁয়ে) এবং মেহের ফারাবি অভ্র।

কাসেদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘তারা কখন, কীভাবে সৈকতে গোসল করতে নেমেছিল; ছয় বন্ধুর মধ্যে দুজন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য প্রশাসন ও পরিবারকে বাকি চার বন্ধু কেন জানায়নি? আমার ধারণা, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে শুক্রবার যে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। দুজনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।

মারা যাওয়া দুই শিক্ষার্থীর বাড়িই যশোরে। তারা হলেন, যশোর উপশহরের এ ব্লকের কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমের ছেলে রাফিদ ঐশিক ও শহরের লাল দিঘির এলাকার কলেজ শিক্ষক শাহরিয়ার মেহের ইবনে মিজানের ছেলে মেহের ফারাবি অভ্র।

২৩ বছর বয়সী দুই তরুণ রাফিদ ঐশিক যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ও অভ্র ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনরা।

ওই দুই শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, পরিবারের সবাই শোকে স্তব্ধ। সন্তানের আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা-মা। তাদের সমবেদনা জানাতে বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশীরা।

রাফিদ ঐশিকের বাবা কাসেদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘গত ১৪ সেপ্টেম্বর ছয় বন্ধু একসঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে যায়। শুক্রবার দুপুর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। শনিবার দুপুরের দিকে জানতে পারি শুক্রবার দুপুরে ও বিকেলে সৈকতের সিগ্যাল পয়েন্টে দুই যুবকের মরদেহ ভেসে এসেছে। তাদের মধ্যে একজন আমার ছেলে রাফিদ ঐশিক ও আরেকজন তার বন্ধু অভ্র।’

তিনি বলেন, ‘তারা কখন, কীভাবে সৈকতে গোসল করতে নেমেছিল; ছয় বন্ধুর মধ্যে দুজন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য প্রশাসন ও পরিবারকে বাকি চার বন্ধু কেন জানায়নি? আমার ধারণা, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

মেহের ফারাবি অভ্রর ছোট ভাই আবির হোসেন বলেন, ‘বড় ভাইয়ের সঙ্গে শেষ শুক্রবার সকালে আম্মুর কথা হয়েছে। তারপর থেকে ভাইয়ার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। মরদেহ দ্রুত বাড়িতে আনতে আমরা কক্সবাজার প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছি।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীরুল গিয়াস জানান, দুইজনের মরদেহ মিলেছে। তারা কীভাবে সমুদ্রে গেছেন বা আগে কী ঘটেছিল তা তদন্ত করে জানা যাবে।

তাদের চার বন্ধুকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ

বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ

প্রতীকী ছবি।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে শামিম তার সাত বছর বয়সী ছেলে রেদওয়ানকে নিয়ে বাইসাইকেলে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এসময় চাঁদনী ট্রাভেলসের একটি বাস তাদের ধাক্কা দেয়। এতে শামিম ও তার ছেলে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে রাত ৯টার দিকে শামিম মারা যান।

বগুড়ার শাজাহানপুরে বাসের ধাক্কায় শামিম হোসেন নামের এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় তার ছেলে রেদওয়ান আহত হয়।

উপজেলার মাঝিড়া বাজার এলাকায় এমপি চেকপোস্টের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে শনিবার রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

৩৩ বছর বয়সী শামিম মাঝিড়া সেনানিবাসে ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (এফআইইউ) সৈনিক পদে ছিলেন।

তিনি মাঝিড়া বাজারের পাশে ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন।

শাজাহানপুর থানা পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে শামিম তার সাত বছর বয়সী ছেলে রেদওয়ানকে নিয়ে বাইসাইকেলে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এসময় চাঁদনী ট্রাভেলসের একটি বাস তাদের ধাক্কা দেয়। এতে শামিম ও তার ছেলে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বগুড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করে। রাত ৯টার দিকে শামিম মারা যান। বাসের চালক আজাদ মোস্তফা ও সুপার ভাইজার আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। বাসটিও জব্দ করা হয়।

শাজাহানপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক নান্নু খান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই সেনা সসদ্যরা বাসসহ চালক ও সুপারভাইজারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে দিয়েছেন।

শামীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা নান্নু।

শেয়ার করুন

লো-ভোল্টেজ ও লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রংপুর

লো-ভোল্টেজ ও লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রংপুর

প্রতীকী ছবি

রংপুর অঞ্চলের নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, ‘সাপ্লাই কম থাকায় লো-ভোল্টেজ হচ্ছে। আমরা বিষয়টি উচ্চ পর্যায় জানিয়েছি। একটি ট্রান্সমিটার নষ্ট হবার কারণে অন্যগুলো দিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা হচ্ছে। এ কারণে একটু লোডশেডিং হচ্ছে। সমস্যাগুলো দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে।’

বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ আর লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রংপুর নগরীর বাসিন্দারা। গত এক সপ্তাহ ধরে দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

স্থানীয় লোকজন জানান, দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলেও প্রায় এক মাস বিদ্যুতের লুকোচুরি চরমে উঠেছে। কখন বিদ্যুৎ আসে, কখন যায় তার ঠিক নেই। আবার লো-ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। গরমে ঘরে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা দায়। এ পরিস্থিতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে মন্দা। মার্কেটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কম।

শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)। পরিস্থিতির জন্য দু:খ প্রকাশ করেছে তারা।

নেসকো জানায়, রংপুর নগরীতে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা গড়ে ৮৫০ মেগাওয়াট। তবে সময় ভেদে কিছুটা হেরফের হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৬০০-৭০০ মেগাওয়াট।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। ওই কেন্দ্র থেকে আগে দেড় শ মেগাওয়াট পেলেও এখন মিলছে ৭৬ মেগাওয়াট।

কর্মকর্তারা জানান, রংপুরে নেসকোর তিনটি ইউনিট আছে। প্রতিটি ইউনিটে দুইটি করে পাওয়ার ট্রান্সমিটার। শুক্রবার সন্ধ্যায় নেসকো-১ (বাজার ফিডার) এর একটি ট্রান্সমিটার বিকল হয়। ট্রান্সমিটার কুড়িগ্রাম থেকে আনা হচ্ছে। ৪০ টন ট্রান্সমিটারটি স্থাপন করতে সময় লাগছে।

ট্রান্সমিটার মেরামত করে পুনরায় স্থাপনে কমপক্ষে সাতদিন সময় লাগবে। সাতদিনের আগে সংকট কাটছে না।

লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ নিয়ে নেসকোর দেয়া ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট নগরবাসী। তারা বলছেন, গড়ে প্রতিদিন ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের অভাবে এমন পরিস্থিতি হতে পারে না। আগে এর চেয়ে বেশি ঘাটতি থাকলেও মানুষের দুর্ভোগ ছিল কম।

নগরীর জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী সোলায়মান সাফিন বলেন, ‘দিনে ৬-৭ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনা চলছেই। অনেক সময় বিদ্যুৎ আসার পর থাকছে একটানা এক ঘণ্টারও কম।’

রংপুর প্রেসক্লাব বিপনী বিতানের ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘লো-ভোল্টেজের কারণে মেশিন চলছে না, মেশিন নষ্ট হচ্ছে।’

কামাল কাছনা এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলায় আমরা অতিষ্ঠ। সকালে বিদ্যুৎ থাকে না, দুপুরে থাকে না। আবার রাতে ৩-৪ ঘণ্টার লোডশেডিং।’

নগরীর গুঞ্জন মোড় এলাকার শাহানুর বেগম বলেন, ‘লো-ভোল্টেজে টেলিভিশন চলে না, ফ্যান ঘুরলেও বাতাস নেই। ফ্রিজ নষ্টের পথে।’

রংপুর অঞ্চলের নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, ‘সাপ্লাই কম থাকায় লো-ভোল্টেজ হচ্ছে। আমরা বিষয়টি উচ্চ পর্যায় জানিয়েছি। একটি ট্রান্সমিটার নষ্ট হবার কারণে অন্যগুলো দিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা হচ্ছে। এ কারণে একটু লোডশেডিং হচ্ছে। সমস্যাগুলো দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে।’

শেয়ার করুন