মাদকের কারণে স্ত্রী সন্তানকে হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি

স্ত্রী সন্তানকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ফিরোজ। ছবি: নিউজবাংলা

মাদকের কারণে স্ত্রী সন্তানকে হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি

স্বীকারোক্তিতে ফিরোজ বলেন, মাদক কেনার টাকার জন্য স্ত্রীর কাছে স্বর্ণের কানের দুল ও নাকফুলটি চেয়েছিলেন। তা না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হন তিনি।

রাজশাহীর পুঠিয়ায় মাদকের কারণে স্ত্রী ও পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন ফিরোজ মণ্ডল।

জেলা আমলি আদালত-৩ এ বুধবার বিকেলে বিচারক রাসেল মাহমুদের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বুধবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আদালতকে ফিরোজ জানান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত তিনি। এ নিয়ে স্ত্রী পলি বেগমের সঙ্গে প্রায়ই কলহ হতো তার। সবশেষ সোমবার মাদক কেনার টাকার জন্য স্ত্রীর কাছে স্বর্ণের কানের দুল ও নাকফুল চেয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে পলিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন তিনি।

ধস্তাধস্তির সময় পাঁচ মাসের মেয়ে ফারিয়াও বালিশের নিচে চাপা পড়ে বলে আদালতকে জানান ফিরোজ। পাশেই ছিল তাদের আরেক সন্তান আড়াই বছরের ফাহিম আলী।

পলি ও ফারিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়লে স্বর্ণের কানের দুল ও নাকফুল নিয়ে পালিয়ে যান ফিরোজ।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে ফিরোজকে আটক করে দারুস সালাম থানা পুলিশ। বিকেলে পুঠিয়া থানা পুলিশের একটি দল তাকে পুঠিয়া নিয়ে যায়। ওসি রেজাউল জানান, রাতেই জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন ফিরোজ।

পুঠিয়া পৌর এলাকার গোপালহাটি ফকিরপাড়ার বাড়িতে সোমবার রাতে পাওয়া যায় ফিরোজের স্ত্রী পলি বেগম ও মেয়ে ফারিয়ার মরদেহ।

ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন ফিরোজ। তাকে আটকের পর মঙ্গলবার রাতে নিহত পলি বেগমের ভাই কাজল বাদী হয়ে পুঠিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

ওই মামলায় আসামি করা হয় ফিরোজ, তার বাবা হাসিব আলী ও মা চায়না বেগমকে।

ওসি রেজাউল জানান, অপর দুই জনকেও মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরও বিকালে আদালতে তোলা হয়েছে। তিন আসামিকেই কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-সন্তানকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’, আটক যুবক
মহাখালীর আরিফ হত্যায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার
প্রকৌশলীর বাসায় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ
‘মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পর’ হেফাজতে মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় জমি বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

যে গ্রামে দেয়াল শিল্পিত

যে গ্রামে দেয়াল শিল্পিত

টিকোইল গ্রামের প্রতিটি ঘরই এমন আলপনায় সাজানো। ছবি: নিউজাবংলা

টিকোইল গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়ির দেয়ালে আলপনা আঁকা। গ্রামের বাসিন্দারা যেন পেয়ে গেছেন বিশাল বিশাল ক্যানভাস। প্রত্যেকে হয়ে উঠেছেন সৌন্দর্যপিপাসু শিল্পী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সড়কপথে নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের টিকোইল গ্রামে ঢুকলে চোখে পড়বে বাড়িঘরের সামনের দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের আলপনা আঁকা। প্রায় সব বাড়ির দেয়ালে শিল্পকর্ম।

গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা হিন্দু ধর্মের অনুসারী। পূজাপার্বণসহ বিভিন্ন উৎসবে বাড়িকে সাজিয়ে তুলতেই তারা এঁকে থাকেন আলপনা।

টিকোইল গ্রামের একটা বাড়ির নামই ‘আলপনা বাড়ি’। দোতলা বাড়িটির দেয়ালে বড় করে লেখা এ নাম। এ বাড়ি থেকেই পুরো গ্রামে দেয়ালে আলপনা করার চল শুরু হয়েছে।

বাড়ির মালিক দাসু বর্মন। বাড়ির সামনে যেতেই দেখা হলো দাসু বর্মনের স্ত্রী দেখন বর্মনের সঙ্গে। পরম আতিথেয়তায় তিনি নিয়ে যান বাড়ির ভেতরে। বাড়িতে ঢুকতেই মনে হলো, আলপনার রাজ্যে চলে এসেছি। মাটির দেয়াল যেন সৃষ্টিশীলতার বড় বড় ক্যানভাস। আর এসব ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে ফুল, লতাপাতা, পাখি।

একটু সামনে যেতেই দেখা মিলল দেয়ালে বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি: বঙ্গবন্ধুর ছবি তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে কাজী নজরুল ইসলাম, ইলা মিত্র, শেখা হাসিনার ছবি।

ঘরের দেয়ালে বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি

মাটির ঘরের পাশে ‘আলপনা বাড়ি’তে যুক্ত হয়েছে দুটো পাকা ঘর। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে এ ঘর। সেই ঘরগুলোর দেয়ালও আলপনায় রাঙিয়ে তুলেছেন বাড়ির মেয়েরা।

দেখন বর্মন বলেন, লেখাপড়া তিনি কিছুই জানেন না। নিজের মনে যা ভালো লাগে তাই আঁকেন। কবে থেকে আঁকা শুরু করেছেন, তার হিসাব মনে না থাকলেও বলেন, ‘বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এলাম, তখন বাড়ি লেপার সময় আমি লাল মাটি দিয়ে করতাম, এতে রং আসত। বিভিন্ন ধরনের মাটি ও বিভিন্ন ফুল ও লতাপাতা দিয়ে রং তৈরি করলাম।

‘এরপর মনে হলো একটু নকশা করি। এভাবেই যখন যেটা মনে এসেছে, তারই নকশা করেছি। বাড়ির লোকেরা খুশি হতো, সবাই দেখত। এরপর বাড়তে বাড়তে গত ২০ বছর থেকে এখন দেশ-বিদেশ সব জায়গা থেকে মানুষ আসে দেখতে। গত দুই-তিন বছর থেকে প্রতিদিনই মানুষ আসে। সবাই বলে আপনি বিরক্ত হন না? আমি বলি না। কেউ বলে, কাকিমা একটা ছবি তুলব, সবার সাথেই কথা বলে আমার দিন কেটে যায়।’

আলপনা আঁকার কাজ করে থাকে শিশুরাও

আলপনা আঁকার খরচ কীভাবে ওঠে? দেখন বর্মনের উত্তর, ‘আমি দুটা কাপড় কম কিনে আলপনা আঁকি। বাড়িতে তিনটা গরু আছে। সেগুলো লালন-পালন করে চলে যায় সংসার। আমার কোনো ভিটেমাটি নেই। সরকারিভাবে বাড়িটা করে দিয়েছে। সেখানেই আছি।’

দেখন বর্মনের মেয়ে অনীতা বর্মন তাদের বাড়িতে রাখা একটা ভিজিটর বই বের করে এনে দেখান, বইয়ের পাতা ভরে গেছে দর্শনার্থীদের মন্তব্যে। অনীতা বর্মন বলছিলেন, নিজেদের ভালোলাগা থেকে এ আলপনাগুলো করলেও এখন সবাই দেখতে আসে। ভালোই লাগে।

অনীতা জানান, সাধারণ দুর্গাপূজার সময় আলপনা করেন তারা। এছাড়া কীর্তনের সময়ও নতুন করে আলপনা আঁকা হয়। তবে কোনো আলপনার রং চটে গেলে আবার আঁকেন। যেহেতু এখন দূরদূরান্ত থেকে লোক আসে দেখতে। এ কারণে দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে সুযোগ পেলেই আলপনা আঁকেন তারা।

দেখন বর্মনের আরেক মেয়ে জয়া বর্মন, মায়ের এমন সৃষ্টিশীল কাজ নিয়ে গর্ব অনুভব করেন। একজন নারী হয়ে তার মা গ্রামের অন্যদের পথ দেখিয়েছেন।

জয়া বলেন, ‘আমার মায়ের কারণে জেলা প্রশাসকসহ দেশ-বিদেশের অনেক বড় বড় মানুষ এসেছেন। যাদের কাছে আমরা কোনোদিনই যেতে পারতাম না, তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। আমার মায়ের এই আলপনার জন্যই এ গ্রামটা সবার কাছেই পরিচিতি পেয়েছে। টিকোইল গ্রাম পরিচিতি পেয়েছে ‘আলপনা গ্রাম’ নামে।’

একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন জয়া বর্মন। বলেন, তাদের বাড়ির পেছনে থাকা সরকারি পুকুরটি সংস্কার করে সেখানে একটি বা দুটি ছোট নৌকা রাখা গেলে দর্শনার্থীরা নৌকার চড়ে আরও কিছুটা সময় গ্রামীণ পরিবেশে কাটাতে পারতেন।

আলপনায় তুলে ধরা হয় নানা মোটিফ

টিকোইল গ্রামে আলপনা আঁকার পথ দেখানো দেখন বর্মনের কাছে আলপনা আঁকা শিখেছেন তার নাতনি সাথী বর্মন। স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়া সাথী বর্মন বলছিলেন, তার আলপনা আঁকতে ভালো লাগে, তার দাদির কাছে গ্রামের সবাই আলপনা আঁকা শিখে এখন আলপনা করে বাড়িতে।

গ্রামের অন্য বাড়িগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মেয়ে ও বধূরা আলপনা আঁকা শিখে নিয়েছেন। টিকোইল গ্রামের শ্রীমতী শম্পা রাণী তেমনি একজন। তিনি এখন নিজ বাড়িতে আলপনা নিজেই আঁকতে পারেন।

শম্পা রাণী বলেন, তাদের গ্রামে অনেকেই আসেন আলপনা দেখতে, এটা তাদের ভালোই লাগে।

নেজামপুর গ্রামের সমাজকর্মী মনিরুল ইসলামের মতে, টিকোইল গ্রামের নারীদের করা আলপনার কারণে তাদের ইউনিয়ন নাচোল উপজেলায় সবার কাছে পরিচিত হয়েছে, পেয়েছে নতুন মাত্রা। এ গ্রামের কারণেই এখানে পাকা রাস্তা হয়েছে, বসেছে সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতি, জেলা প্রশাসনসহ সবার নজরে পড়েছে গ্রামটি। এর সুফল পাচ্ছে এলাকার সবাই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এ গ্রাম দেখতে এসেছেন গোলাম রশিদ। তিনি জানান, এই গ্রামটি সবার কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিল না। এখানকার নারীদের করা আলপনায় গ্রামটি শুধু দেশে নয়, বিদেশেও পরিচিত হয়ে উঠেছে।

সৃজনশীল দেখন বর্মনের একটা ইচ্ছা সবস ময়ই উঁকি দেয়। কোনো একদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে পৌঁছাবেন তার এ শিল্পকর্মের কথা, তার আলপনার কথা। কথার কথায় তিনি বলেন, ‘এত মানুষ আমার কাজ দেখে, যদি প্রধানমন্ত্রীর সাথে একবার দেখা করার সুযোগ হতো, তাহলে আমার আলপনা গ্রামে তাকে দাওয়াত দিতাম, আমাদের গ্রামের মানুষের করা আলপনা দেখে তিনি খুশি হতেন।’

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-সন্তানকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’, আটক যুবক
মহাখালীর আরিফ হত্যায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার
প্রকৌশলীর বাসায় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ
‘মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পর’ হেফাজতে মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় জমি বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

নারী দিবসে ৩ নারী গাড়িচালক নিল নেত্রকোণা

নারী দিবসে ৩ নারী গাড়িচালক নিল নেত্রকোণা

নেত্রকোণায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব উইমেন্স কর্নার উদ্বোধন করেন জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও লেডিস ক্লাবের সভাপতি কাজি সুমান্না আখতার। ছবি: নিউজবাংলা

চাকরি পেয়ে লিয়া বলেন, ‘নারীরা সবই পারছে। পাইলট হচ্ছে। ভাবলাম গাড়ি চালাব। প্রশিক্ষণ নিলাম। আজ সহজে চাকরিও পেয়ে গেলাম। দারুণ ভালো লাগছে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের গাড়িচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন তিন নারী।

জেলার নারীদের সেবা দিতে সোমবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব উইমেন্স কর্নার এবং একই নামে অ্যাপ চালু করে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসন।

সেই অ্যাপে আবেদন করে প্রথম দিনই জেলা প্রশাসনের গাড়িচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন শহরের সাতপাই এলাকার নাজনীন আরা শাওন ও সুজেদা আক্তার এবং পূর্বধলা উপজেলার ইরফামা জাহান লিয়া।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব উইমেন্স কর্নার ও অ্যাপ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমানের স্ত্রী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও লেডিস ক্লাবের সভাপতি কাজি সুমান্না আখতার।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নারীনেত্রী, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে একই মঞ্চে জেলার নারীদের সব ধরনের সেবা নিশ্চিতে কর্নারটির পাশাপাশি একই নামে অ্যাপটি চালু করা হয়। উদ্বোধনের পরই অ্যাপটির মাধ্যমে আবেদন করা তিন নারীকে জেলা প্রশাসনের গাড়িচালক পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয় জেলা প্রশাসন। এদের মধ্যে একজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে দগ্ধ হয়েছিল পাঁচ বছর আগে।

অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করা ছয় শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি এবং পাঁচ উদ্যোক্তা নারীকে ঋণ সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, কর্নারটি পরিচালনায় এক লাখ টাকা দিয়ে তহবিল শুরু করা হয়েছে। সময়ে সময়ে তহবিল বাড়িয়ে কর্নারটির অ্যাপের মাধ্যমে জেলার সব নারীকে সেবা দেয়া হবে।

অ্যাপটির মাধ্যমে ঋণ পাওয়া শহরের পুলিশ লাইন এলাকার জান্নাতুলন্নাহার বেগম বলেন, ‘আবেদন করেই ১৫ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছি। এই টাকায় সেলাই মেশিন কিনে টেইলারিংয়ের কাজ করব। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল, প্রশিক্ষণও ছিল। কিন্তু টাকার জন্য মেশিন কিনতে পারছিলাম না। আজ খুবই খুশি লাগছে।’

জেলা প্রশাসনে চাকরি পেয়ে দারুণ খুশি শাওন, সুজেদা ও লিয়া। এ জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।

শাওন বলেন, ‘নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনে আমরা তিনজনই প্রথম নারী হিসেবে গাড়িচালকের চাকরি পেয়েছি। আমরা টেকনিক্যাল ট্রেনিং কলেজ থেকে ড্রাইভিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমাদের ভাগ্য খুলে গেছে। আমাদের জন্যে এর চেয়ে বেশি খুশির আর কিছুই নেই।’

লিয়া বলেন, ‘নারীরা সবই পারছে। পাইলট হচ্ছে। ভাবলাম গাড়ি চালাব। প্রশিক্ষণ নিলাম। আজ সহজে চাকরিও পেয়ে গেলাম। দারুণ ভালো লাগছে।’

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-সন্তানকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’, আটক যুবক
মহাখালীর আরিফ হত্যায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার
প্রকৌশলীর বাসায় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ
‘মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পর’ হেফাজতে মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় জমি বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে

বগুড়ার যুবলীগ নেতা আমিনুল রিমান্ডে

যুবলীগ নেতা ও বগুড়া পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

বগুড়ায় মোটরমালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারি পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এর একটিতে আমিনুলকে প্রধান আসামি করা হয়।

বগুড়া মোটরমালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় করা এক মামলায় যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে দুই দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক শাহরিয়ার তারিক সোমবার এ অনুমতি দেন। মামলায় জামিন জালিয়াতি করে কারাগারে রয়েছেন আমিনুলসহ ৩০ আসামি।

আমিনুল বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং বগুড়া সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।

বগুড়ায় মোটরমালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারি পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়।

এর মধ্যে একটিতে আমিনুলকে প্রধান আসামি করে ৩৩ জনের নামে মামলা করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোট ভাই মশিউল আলম দীপন।

মামলায় ৩৩ আসামির মধ্যে ৩০ জনের জামিননামার ভুয়া নথি তৈরি করা হয়। বিষয়টি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ধরা পড়ার পরপরই বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের গ্রেপ্তারের আদেশ দেয়।

এ আদেশের পর গত ৪ মার্চ আমিনুলসহ ১৬ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাদের কারাগারে পাঠায় আদালত। এর আগের দিন আত্মসমর্পণ করা অন্য ১৪ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নান্নু খান জানান, দীপনের করা মামলার প্রধান আসামি আমিনুলকে সাত দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। আদালত দুই দিনের অনুমতি দিয়েছে। আমিনুল ছাড়া অন্য কোনো আসামির রিমান্ড আবেদন করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-সন্তানকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’, আটক যুবক
মহাখালীর আরিফ হত্যায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার
প্রকৌশলীর বাসায় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ
‘মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পর’ হেফাজতে মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় জমি বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

অন্যরকম বিয়ে

অন্যরকম বিয়ে

বরিশাল নগরীর পলাশপুর গুচ্ছগ্রামে অন‌ু‌ষ্ঠিত হ‌লো দুই প্রতিবন্ধীর বি‌য়ে। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, ২৫ হাজার টাকা চাঁদা তু‌লে ব‌র ক‌নের পোশাকসহ বিয়ের অনুষ্ঠানে আগত অ‌তি‌থিদের আপ‌্যায়নের ব্যবস্থা করে এলাকাবাসীরাই।

বরিশাল নগরীর পলাশপুর গুচ্ছগ্রামে অন‌ু‌ষ্ঠিত হ‌লো প্রতিবন্ধী যুগ‌লের বি‌য়ে। বর কালাম বেপারী দৃ‌ষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং ক‌নে সুমা আক্তার শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী।

রোববার তা‌দের বি‌য়ের পর, সোমবার অনু‌ষ্ঠিত হ‌য় গা‌য়ে হলুদ। পুরো আয়োজন আনন্দ-উল্লা‌সে মাতিয়ে রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিত ও স্থানীয়রা। এমনকি অতিথি আপ্যায়নে এলাকার লোকজন চাঁদা তু‌লে সহযোগিতাও ক‌রেন।

আলা‌মিন হোসেন না‌মে পলাশপুর এলাকার এক বা‌সিন্দা জানান, বর কালামের গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জের কালীগঞ্জ গ্রামে। মা–বাবা নেই। তারা দুই ভাই। কালাম ছোট। বড় ভাই আবদুস সালামও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।

বর কালাম শ্রমিকের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়ে পলাশপুরের গুচ্ছগ্রামে ছোট একটি ঘ‌রে ভাড়া থাকেন।

আর কনে সুমার বাবা বাবুল পালওয়ান। তিনি রিকশা চালান।

স্থানীয়রা জানান, ২৫ হাজার টাকা চাঁদা তু‌লে ব‌র ক‌নের পোশাকসহ বিয়ের অনুষ্ঠানে আগত অ‌তি‌থিদের আপ‌্যায়ন করা হয়। এলাকার নারী, পুরুষ, শিশুরা ব‌্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় অংশ নেন এ আনন্দ আয়োজনে।

রোববার বি‌য়ে শে‌ষে ক‌নের বা‌ড়ি থে‌কে ঘোড়ার গা‌ড়ি‌তে ক‌রে বর-ক‌নে‌কে আনা হয় বরের বা‌ড়ি‌তে।

বর কালাম বেপারী ব‌লেন, ‘আমার তো তেমন কো‌নো আয়-বা‌ণিজ‌্য নাই। একলা চলি। ভাতার টাহা দিয়াই চলতাম। একটু চিন্তায় আ‌ছি। তয় ভাল্লাগ‌তে‌ছে।’

ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের ৫ নম্বর ওয়া‌র্ডের কাউ‌ন্সিলর কেফা‌য়েত হোসেন র‌নি বলেন, ‘এলাকাবাসীর উ‌দ্যোগে এই বি‌য়ের আয়োজন হ‌য়ে‌ছে। বেশ মজা, আনন্দ করেছে সবাই। প্রতিবন্ধী ব‌রের সু‌বিধা‌র্থে আমি নিজে এক‌টি হুইল চেয়ার উপহার দিয়েছি। ভবিষ্যতেও তা‌দের যে কোনো প্রয়োজনে সহ‌যো‌গিতার চেষ্টা কর‌বো আ‌মি।’

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-সন্তানকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’, আটক যুবক
মহাখালীর আরিফ হত্যায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার
প্রকৌশলীর বাসায় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ
‘মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পর’ হেফাজতে মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় জমি বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল

নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল

বিএফআরআইর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, শুধু কার্পজাতীয় মাছ নয়, প্রজননস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে অন্য বেশ কিছু মাছও কমে যাচ্ছে লেক থেকে। ইতিমধ্যে লেক থেকে বিলুপ্ত হয়েছে সিলন, দেশি সরপুঁটি, বাগাড়, মোহিনী বাটা ও দেশি পাঙাশ মাছ। আর বিপন্নপ্রায় মাছের মধ্যে রয়েছে দেশি মহাশোল, মধু পাবদা, পোয়া, ফাইস্যা, গুলশা ও সাদা ঘনিয়া। এ ছাড়া ক্রমহ্রাসমান মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, বাচা, পাবদা ও বড় চিতল।

কাপ্তাই লেকের মাছের প্রধান চারটি প্রজননস্থলের (চ্যানেল) মধ্যে দুইটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে এখন কার্পজাতীয় মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। পলি মাটি জমার পাশাপাশি পানির স্থায়িত্ব কমে যাওয়াসহ নানা কারণে প্রজননস্থলগুলো নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৮ সালে কাপ্তাই লেকের জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবুল বাশার। তার গবেষণায়ও চারটি চ্যানেল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রজননস্থলগুলো হচ্ছে চেঙ্গী চ্যানেল ও রীংকং চ্যানেল।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) রাঙ্গামাটি নদী-উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিএম শাহিনুর রহমান বলেন, চেঙ্গী চ্যানেল ও রীংকং চ্যানেল পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে, চ্যানেল দুইটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। কাসালং চ্যানেল ও বরকল চ্যানেলও নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন বৃষ্টি কম হচ্ছে। আগে পাহাড়ে এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টি হতো। টানা ৬ থেকে ৭ মাস বৃষ্টি হলে লেকে পর্যাপ্ত পানি থাকত। এখন আগের মতো বৃষ্টি হচ্ছে না। লেকে পর্যাপ্ত পানি হচ্ছে না। ফলে লেকে পানির স্থায়িত্ব কমে গেছে। প্রজননস্থলগুলো নষ্ট হওয়ার এটিও একটি কারণ।

বিএম শাহিনুর রহমান বলেন, কাপ্তাই লেকের পাড়ে পাহাড় রয়েছে। জুম পদ্ধতিতে চাষের জন্য এসব পাহাড় থেকে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। তাতে করে ভূমিধস হচ্ছে। প্রতিবছর পাহাড়ের মাটি ধসে লেকে পড়ছে। আর পলি মাটিতেই প্রজননস্থলগুলো ভরে যাচ্ছে, তাতে নষ্ট হচ্ছে সেগুলো।

দেড় যুগের ব্যবধানে কার্পজাতীয় মাছের উৎপাদন কমেছে ৮০ শতাংশ

প্রজননস্থলগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে কাপ্তাই লেক থেকে কার্পজাতীয় মাছের আহরণ কমে যাচ্ছে। বিএফআরআই থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০২-০৩ অর্থবছরে কাপ্তাই লেক থেকে ২৫৮ দশমিক ৭৫ টন কার্পজাতীয় মাছ আহরণ করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ৫৩ দশমিক ২ টন কার্পজাতীয় মাছ আহরণ করা হয়েছে। ১৮ বছরের ব্যবধানে লেক থেকে কার্পজাতীয় মাছের আহরণ কমেছে ৮০ শতাংশ।

কাপ্তাই

বিএফআরআইর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে গবেষণা করে এই তথ্য তুলে ধরেছি। পলি জমে লেকের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ কমে গেছে। পানি প্রবাহ না থাকলে কার্পজাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে না। তাই আগের মতো মাছের প্রজনন হচ্ছে না। প্রজননস্থল নষ্ট, হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় গভীর জলাশয়ের অভাবে মাছ বড় হতে পারছে না। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে হ্রদে পোনা ছাড়লেও পানিস্বল্পতার কারণে জেলেদের কেচকি জালে কার্পজাতীয় মাছের পোনা ধরা পড়ে যায়।

তিনি বলেন, শুধু কার্পজাতীয় মাছ নয়, প্রজননস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে অন্য বেশ কিছু মাছও কমে যাচ্ছে লেক থেকে। ইতিমধ্যে লেক থেকে বিলুপ্ত হয়েছে সিলন, দেশি সরপুঁটি, বাগাড়, মোহিনী বাটা ও দেশি পাঙাশ মাছ। আর বিপন্নপ্রায় মাছের মধ্যে রয়েছে দেশি মহাশোল, মধু পাবদা, পোয়া, ফাইস্যা, গুলশা ও সাদা ঘনিয়া। এ ছাড়া ক্রমহ্রাসমান মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, বাচা, পাবদা ও বড় চিতল।

লেকের পাড়ে জুম চাষে নিরুৎসাহিত করছে সরকার

রাঙ্গামাটির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জিএম মোহাম্মদ কবির বলেন, পাহাড়ের ঢালে বন উজাড় করে ও তা আগুনে পুড়িয়ে জমি চাষের উপযোগী করার মাধ্যমে যে চাষাবাদ করা হয় তারই নাম জুম চাষ। লেকের পাশের পাহাড়গুলো খাড়া। গাছের শেকড় পাহাড়গুলোর মাটি ধরে রাখে। কিন্তু জুম পদ্ধততি চাষের জন্য পাহাড়ের বন উজাড় বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মাটি বালুর মতো যা বৃষ্টির পানির সঙ্গে সহজেই দুর্বল হয়ে ধসে পড়ে। বর্ষা মৌসুমের প্রথম কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাটিগুলো নরম হয়ে যায়, পরবর্তী সময়ে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে পাহাড়ের ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করে পাহাড়ের অভ্যন্তরে চাপ ও ওজন বৃদ্ধি করে পরবর্তী সময়ে ধসে পড়ে। তখন সরাসরি মাটি লেকে পড়ে ভরাট হয়ে যায়।

জিএম মোহাম্মদ কবির বলেন, জুম নিয়ন্ত্রণে আমরা সচেনতা ক্যাম্পেইন চালাচ্ছি। লেকের পাড়ে জুম পদ্ধতিতে চাষ না করার জন্য নিরুৎসাহিত করছি। ইতিমধ্যে আমরা ফলাফল পেয়েছি। লেকের পাড়ে জুম চাষ কমে আসছে।

কাপ্তাই লেকের জীববৈচিত্র্য নিয়ে বিএফআরআইর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবুল বাশারের গবেষণায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে পোনা ও মা মাছ নিধনও কার্পজাতীয় মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। গবেষণায় কার্পজাতীয় মাছের হার বাড়াতে লেকের তলদেশ খনন, প্রজননস্থলগুলো পুনরায় খননের মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং এগুলোকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-সন্তানকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’, আটক যুবক
মহাখালীর আরিফ হত্যায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার
প্রকৌশলীর বাসায় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ
‘মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পর’ হেফাজতে মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় জমি বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

‘অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেটে লাথি মারতে থাকেন বাবা’

‘অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেটে লাথি মারতে থাকেন বাবা’

নিজের চোখের সামনে মায়ের এমন বর্বর নির্যাতনের শিকার হওয়ার সেই বর্ণনা দিয়েছেন শাহজাদী মারিয়াম বিনতে শাহান। ছবি: নিউজ বাংলা

নড়াইলে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় এক কলেজছাত্রী তুলে ধরেন তার মায়ের নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ার চিত্র।

কয়েক দিন আগে তার স্কুলশিক্ষক বাবা নিজেরই এক ছাত্রীকে বিয়ে করেন। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। শনিবার নতুন বউকে নিয়ে বাড়ি আসেন। ঘরে উঠতে চাইলে মা ও তিন বোন মিলে বাধা দেন।

এ কারণে তার অন্তঃসত্ত্বা মাকে কিলঘুষি মারেন বাবা। পেটে জোরে জোরে লাথি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় মায়ের; মূর্ছা যান তিনি।

নিজের চোখের সামনে মায়ের এমন বর্বর নির্যাতনের শিকার হওয়ার সেই বর্ণনা দিয়েছেন শাহজাদী মারিয়াম বিনতে শাহান নামের এক কলেজছাত্রী।

নড়াইলে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে সোমবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি আরও বলেন, রক্তক্ষরণে তাদের মায়ের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়ে। দুই বোন মাকে প্রথমে নিয়ে যান নড়াইল সদর হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক তাদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তখন গভীর রাত। অ্যাম্বুলেন্সে করে মাকে নিয়ে যান খুলনা মেডিক্যালে। চিকিৎসায় মা তাদের কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

শাহজাদী মারিয়াম বলেন, ‘ওই ঘটনার পর আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন বাবা। এক বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নিই। কিন্তু আমরা এখন কোথায় উঠব, আমাদের ভরণ-পোষণ কীভাবে চলবে, তা ভেবে পাচ্ছি না। তা ছাড়া নানাভাবে আমাদের হুমকিধমকি দেয়া হচ্ছে। ভয়ে মামলা করতে পারিনি। আমরা এখন নিরাপত্তা চাই।’

নড়াইলে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে সোমবার বেলা ১১টা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভা। ছবি: নিউজ বাংলা

শাহজাদী মারিয়ামের বাবার নাম শাহান শাহ সরদার। বাড়ি সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামে। তিনি মাইজপাড়া বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নড়াইল মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আনিছুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া ইউসুফ, জাতীয় মহিলা সংস্থার নড়াইলের চেয়ারম্যান সালমা রহমান কবিতাসহ অনেকে।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ওই তরুণীকে নিরাপত্তা এবং এ ঘটনার উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-সন্তানকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’, আটক যুবক
মহাখালীর আরিফ হত্যায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার
প্রকৌশলীর বাসায় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ
‘মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পর’ হেফাজতে মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় জমি বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

১২ ইটভাটাকে ৫৯ লাখ টাকা জরিমানা

১২ ইটভাটাকে ৫৯ লাখ টাকা জরিমানা

অধিদপ্তরের উপপরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার নিউজবাংলাকে জানান, রাজধানীর পাশে আমিনবাজার ও আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অন্তত ৫০টি ইটভাটায় দীর্ঘদিন ধরে ইট পোড়ানো হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকাসহ নানা অভিযোগ পেয়ে এ অভিযান চালানো হয়।

রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে পরিবেশ দূষণ ও অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে উর্বর মাটি কাটার অভিযোগে ১২টি ইটভাটা ও একটি রিসাইক্লিলিং কারখানাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় ৫৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমিনবাজার, সালেহপুর ও চাঁনপুর এলাকার এসব ইটভাটায় অভিযান চালান পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার নিউজবাংলাকে জানান, রাজধানীর পাশে আমিনবাজার ও আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অন্তত ৫০টি ইটভাটায় দীর্ঘদিন ধরে ইট পোড়ানো হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকাসহ নানা অভিযোগ পেয়ে এ অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযানে নূর ব্রিকসকে ৫ লাখ, এইচ এম ব্রিকস-২-কে ৫ লাখ, একেবি ব্রিকসকে ৬ লাখ, এমএএইচ ব্রিকসকে ৫ লাখ, সোনার বাংলা ব্রিকসকে ৬ লাখ, ইউসুফ ব্রিকসকে ৬ লাখ, এমএইচএম ব্রিকসকে ৫ লাখ, এবিসি-১ ব্রিকসকে ৫ লাখ, এবিসি-২ ব্রিকসকে ৪ লাখ, এমআরবি ব্রিকসকে ৪ লাখ, মিতালী ব্রিকসকে ২ লাখ, এমএসএম ব্রিকসকে ৪ লাখ, মিথুন রিসাইক্লিং সেন্টারকে ২ লাখসহ মোট ৫৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ঢাকার চারপাশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবে সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

অভিযানের সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপস্থিত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাভার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল।

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-সন্তানকে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’, আটক যুবক
মহাখালীর আরিফ হত্যায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার
প্রকৌশলীর বাসায় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ
‘মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পর’ হেফাজতে মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় জমি বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, নারী গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg