× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

সারা দেশ
যশোরে করোনা রোগীর সেবায় থাকা ৫৪ চিকিৎসক আক্রান্ত
google_news print-icon

যশোরে করোনা রোগীর সেবায় থাকা ৫৪ চিকিৎসক আক্রান্ত

যশোরে-করোনা-রোগীর-সেবায়-থাকা-৫৪-চিকিৎসক-আক্রান্ত
যশোর জেলায় করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত ৬৬ জন চিকিৎসক। ডাক্তার-নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে জেলাব্যাপী ‘ডেডিকেটেড টিম’ তৈরি করা হয়েছে। করোনা ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ছাড়াও ৭৬ জন নার্স ও এক জন স্বাস্থ্য সহকারী আক্রান্ত হয়েছেন।

যশোরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১২ এপ্রিল। এরপর ক্রমান্বয়ে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। এর সঙ্গে বেরিয়ে এসেছে জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থার রুগ্ন অবস্থা।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবস্থা না থাকায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও গুরুতর রোগীরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা। পাশাপাশি অনেক চিকিৎসককে করোনা রোগীদের জন্য নিয়োজিত করায় অন্য রোগের চিকিৎসায়ও তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।

জেলায় করোনা সংক্রমণ শুরুর পর যশোর জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় করা হয় করোনা ইউনিট। জেলার ব্যস্ততম হাসপাতালে করোনা ইউনিট করায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় তৈরি হয় সংকট। আতঙ্কেও হাসপাতাল ছাড়েন অনেক রোগী।

জেলা সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, যশোর জেলায় করোনা মোকাবিলায় ৬৬ জন চিকিৎসক নিয়োজিত। এ ছাড়া ডাক্তার-নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে জেলাব্যাপী ‘ডেডিকেটেড টিম’ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলায় করোনা ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসা দিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৪ জন চিকিৎসক, ৭৬ নার্স ও এক জন স্বাস্থ্য সহকারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সিনিয়র রেডিওলজিস্ট সাজ্জাদ কামাল। এক নভেম্বর তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। শুরু থেকেই তিনি করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।

তবে ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা মানতে নারাজ জেলা সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন। বলেন, ‘বিশ্বব্যাপীই এটা স্বাস্থ্যসেবায় আঘাত করেছে। তারপরও যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা মোকাবেলায় সফল।’

শীতে সংকট বাড়ার শঙ্কা

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর জেলাজুড়ে বেড়েছে শীতকালীন রোগের প্রকোপ। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ শীতকালীন রোগে নভেম্বর মাসে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা ভর্তি হয় ১৫০ রোগী। ডিসেম্বরের ২২ দিনের মধ্যেই এ ধরনের রোগীর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে।

এর মধ্যে শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন ৩০ জন। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা এসব রোগীদের নিয়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।

যশোরে করোনা রোগীর সেবায় থাকা ৫৪ চিকিৎসক আক্রান্ত
যশোরে বাড়ছে শীতকালীন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা, হাসপাতালে মিলছে না বেড। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের আইসিইউ চালু না হওয়ায় করোনা আক্রান্ত গুরুতর ১৩ রোগীকে ঢাকা ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এখন রোগীর সংখ্যা বাড়লে কী করা হবে তা স্পষ্ট করতে পারেননি কেউ।

র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট

তাৎক্ষণিক করোনা শনাক্ত করতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ পদ্ধতিতে ১৬৪ জনকে পরীক্ষায় ২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

দ্রুত ফল পেয়ে সাধারণ নাগরিকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অ্যান্টিজেন টেস্ট পরীক্ষা করা আব্দুস সামাদ নামের এক জন বলেন, দ্রুত ফল পাওয়ায় ভোগান্তি থেকে বেঁচেছি।

করোনা পরিস্থিতি

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল জেলার প্রথম করোনা রোগী ছিলেন মণিরামপুর উপজেলার এক জন স্বাস্থ্যকর্মী। এরপর ওই মাসে জেলায় শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৫৫ জন। জুলাই থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ওই মাসের শেষে আক্রান্তে সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৭৮৫ জনে।

শুধু আগস্টেই এক হাজার ৪৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ৭ সেপ্টেম্বর আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ও ১৪ অক্টোবার চার হাজার ছাড়ায়।

৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ৬১৬ জন। সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৩১৮ জন। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ছয় জন, বাসায় কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২২৪ জন।

জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৫ জন।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু
করোনায় আরও ২৮ মৃত্যু
করোনায় আরও ২২ মৃত্যু
নওগাঁয় নতুন করে ১৮ জনের করোনা শনাক্ত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

সারা দেশ
Almost closed import of perishable goods through Benapole port
পেট্রাপোলে সময়ক্ষেপণ

বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় বন্ধ পচনশীল পণ্য আমদানি

বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় বন্ধ পচনশীল পণ্য আমদানি অধিকাংশ পচনশীল পণ্যের চালান দিনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে ওপারেই। ছবি: নিউজবাংলা
পণ্য আমদানিকারকরা জানান, রাজস্ব আয়ের একটা বড় অংশ আসে পচনশীল পণ্য আমদানি থেকে, কিন্তু বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্চ পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সিরিয়ালের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাক আটকে রাখায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে পচনশীল পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। 

গত কয়েক মাস ধরে বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দুপুরের পর ২০ ট্রাক জেনারেল পণ্যের পর মাত্র ৫ ট্রাক পচনশীল পণ্য রপ্তানিত নিয়ম চালু করেছে।

এদিকে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাতে কোনো পচনশীল পণ্য খালাস না দেয়ায় বন্দর থেকে ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে পরদিন। ফলে অধিকাংশ পচনশীল পণ্যের চালান দিনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে ওপারেই।

সিরিয়ালের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওপারে ট্রাক আটকে থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে পচনশীল পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। এ কারণে তারা বেনাপোল বন্দর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য বন্দরে।

সেইসঙ্গে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় বন্ধ পচনশীল পণ্য আমদানি

পণ্য আমদানিকারকরা জানান, রাজস্ব আয়ের একটা বড় অংশ আসে পচনশীল পণ্য আমদানি থেকে। কিন্তু বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্চ পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সিরিয়ালের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাক আটকে রাখায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে পচনশীল পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ফল, মাছ, সবজি, ক্যাপসিকাম, কাচা মরিচসহ অন্য পচনশীল পণ্য আমদানি হয় দুপুরের পরপরই। ফলে সন্ধ্যার আগেই এসব পণ্য চালান খালাস হয়ে চলে যেত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে, কিন্তু গত মাসখানেক ধরে ভারতীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ সিরিয়ালের নামে পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দুপুরের পর ২০ ট্রাক জেনারেল পণ্যের পর মাত্র পাঁচ ট্রাক পচনশীল পণ্য রপ্তানির নিয়ম চালু করেছে।

‘কোনো কোনো চালান সিরিয়াল পেয়ে রাতে প্রবেশের অনুমতি পেলেও বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাতে কোনো পচনশীল পণ্য খালাস না দেয়ায় পরদিন বন্দর থেকে ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ পণ্য চালান পচন ধরতে শুরু করে।’

পচনশীল পণ্য আমদানিকারকদের দাবি, সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জেনারেল গুডস আমদানির অনুমতি দেয়া হোক। শুধু পচনশীল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দুপুরের পর থেকে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য একসঙ্গে সব পচনশীল পণ্য চালান আমদানির অনুমতি দিলে পচনশীল পণ্য খুব দ্রুত সময়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে।

তারা জানান, গত মাসখানেক আগেও এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পচনশীল পণ্য আমদানি হতো। যা থেকে সরকার প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছিল। ফলে বর্তমানে আমদানির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ থেকে ১০ ট্রাকে। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাস ও নিষ্পত্তিকরণ বিধিমালা-২০২১ নামে একটি নতুন বিধিমালা জারি করেন। যার আওতায় ৬৩ ধরনের পচনশীল পণ্যের শুল্কায়নসহ সব কর্মকাণ্ড দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ ভারতীয় পেট্রাপোল কাস্টমস সহকারী কমিশনার অনিল কুমার সিংহ স্বাক্ষরিত এক পত্র জারি করে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের ম্যানেজারকে বলা হয়েছে। পচনশীল পণ্য দ্রুত রপ্তানির বিষয়টি সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে।

বেনাপোল আমদানীকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাসের নিয়ম থাকলেও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ তা প্রতিপালন করছেন না।

পচনশীল পণ্য দ্রুত আমদানিতে সিরিয়ালের নামে দীর্ঘসূত্রিতা প্রথা বাতিল করে পূর্বের ন্যায় আমদানির পণ্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের দাবি করেছেন আমদানিকারকরা।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে পেট্রাপোল পোর্ট ম্যানেজারের সাথে কথা বলেছি। ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা জানিয়েছি অন্য পণ্যের সঙ্গে পচনশীল পণ্যের গাড়ির সারা দিনব্যাপী বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে সে অনুযায়ী সিরিয়াল মেইনটেন করার জন্য তাকে আমি অনুরোধ করেছি।’

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শাফায়েত হোসেন জানান, বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে সিরিয়ালের নামে পচনশীল পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে বেনাপোল বন্দরে আগের তুলনায় আমদানি কমে গেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ও অনেক কমে গেছে।

আরও পড়ুন:
ভারত থেকে চার চালানে ১০০০ টন আলু আমদানি
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
জাতির পিতার জন্মবার্ষিকীতে বেনাপোলে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি
বেনাপোল বন্দর দিয়ে সন্ধ্যার পর পচনশীল পণ্য আনা যাবে না
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্লেন্ডিং মেশিনে প্রায় আড়াই কেজি স্বর্ণ

মন্তব্য

সারা দেশ
In three years the money donated to Pagla Mosque has increased three times

তিন বছরে সোয়া তিন গুণ বেড়েছে পাগলা মসজিদে দানের টাকা

তিন বছরে সোয়া তিন গুণ বেড়েছে পাগলা মসজিদে দানের টাকা সাধারণত প্রতি তিন মাস পর পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে গণনা শেষে টাকার পরিমাণ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা
ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিতে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় দুই কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল আগের সব রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মেলে সাত কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা। সেই হিসাবে তিন বছরের বেশি সময়কালে মসজিদটিতে দানের টাকা বেড়েছে সোয়া তিন গুণের বেশি।  

মনের বাসনা পূরণের আশায় কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে প্রতিনিয়ত টাকা, অলংকারের মতো বিভিন্ন বস্তু ও হাঁস, মুরগির মতো জীবিত প্রাণী দান করেন স্থানীয়সহ অন্য জেলার লোকজন।

সাধারণত প্রতি তিন মাস পর দানবাক্সগুলো খুলে গণনা শেষে টাকার পরিমাণ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনাটি দেশজুড়ে থাকে আলোচনায়।

দানবাক্স গণনার পর প্রতিবারই টাকার পরিমাণটা সাধারণত আগের মাসের চেয়ে বেশি হতে দেখা যায়। গত তিন বছরের হিসাবে দেখা যায়, কিছু ব্যতিক্রম বাদে প্রতিবারই বেড়েছে দানের টাকা।

কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে গড়ে ওঠে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। সম্প্রসারণের পর মসজিদের আওতাধীন জায়গা দাঁড়িয়েছে তিন একর ৮৮ শতাংশে।

তিন বছরে সোয়া তিন গুণ বেড়েছে পাগলা মসজিদে দানের টাকা

তিন বছরের কোন সময়ে কত টাকা দান

পাগলা মসজিদে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছিল। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল গণনা করা হয় টাকা।

ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিতে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় দুই কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল আগের সব রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মেলে সাত কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা। সেই হিসাবে তিন বছরের বেশি সময়কালে মসজিদটিতে দানের টাকা বেড়েছে সোয়া তিন গুণের বেশি।

মসজিদটিতে ২০২১ সালের ১৯ জুন পাওয়া যায় দুই কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৪ টাকা। একই বছরের ৬ নভেম্বর পাওয়া যায় রেকর্ড পরিমাণ তিন কোটি সাত লাখ ৭০ হাজার ৫৮৫ টাকা।

পরে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ দানবাক্সে পাওয়া গিয়েছিল তিন কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ টাকা। এ ছাড়া ওই বছরের ৩ জুলাই পাওয়া গিয়েছিল তিন কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৪১৫ টাকা। একই বছরের ২ অক্টোবর মেলে তিন কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা।

তিন মাস এক দিন পর ২০২৩ সালের ৭ জানুয়ারি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ২০টি বস্তায় তখন চার কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

এরপর রমজানের কারণে চার মাস পর ৬ মে দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ১৯টি বস্তায় রেকর্ড পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ সাত হাজার ৬৮৯ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, হীরা ও বিপুল পরিমাণ রুপা পাওয়া গিয়েছিল। ওই বছরের ১৯ আগস্ট খোলা হয়েছিল এ মসজিদের আটটি দানবাক্স। তখন রেকর্ড ২৩ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সাড়ে ১৩ ঘণ্টায় ২০০ জনেরও বেশি লোক এ টাকা গণনা শেষে রেকর্ড পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৩২৫ টাকা পান।

একই বছরের ৯ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল দানবাক্সগুলো। তখন রেকর্ড ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। ওই সময়ে পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার।

পাগলা মসজিদে আটটি দানবাক্স থাকলেও তখন থেকে একটি বাড়ানো হয়।

গত বছরের পর এবার ৪ মাস না যেতেই আলোচিত ও ঐতিহাসিক মসজিদটির দানবাক্সে সব রেকর্ড ভেঙে মেলে পৌনে আট কোটি টাকা।

দান করেন কারা

দিনের পাশাপাশি গভীর রাতে গোপনে অনেকে দান করে থাকেন পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলোতে। টাকা, অলংকারের পাশাপাশি প্রতিদিন মসজিদে দান করা হয় হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল। কারা দান করেন এসব টাকা এবং কোন খাতে ব্যয় হয় এসব অর্থ, সে তথ্য জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা।

পাগলা মসজিদের নৈশপ্রহরী মো. মকবুল হোসেন এ মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন ২৭ বছর ধরে, যার ভাষ্য, ‘শুধু মুসলিম নয়, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে এসে দান করেন। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে। করোনার শুরুতে যখন জনসমাগম বন্ধ ছিল, তখনও অনেকে গভীর রাতে এসে দানবাক্সে দান করেছেন।’

তিনি জানান, অতীতে এ মসজিদে কেবল আশপাশের এলাকার মানুষ দান করতেন। আর এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসে টাকা-পয়সা দান করেন। এ ছাড়া বিদেশিরা অনেক সময় আসেন। পুরো মসজিদ ঘুরে দেখে যাওয়ার সময় দানবাক্সে বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন।

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান জানান, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দান করছেন এই মসজিদে। যারা দান করতে আসেন তারা বলেন, এখানে দান করার পর তাদের আশা পূরণ হয়েছে। আর এ বিষয়টির কারণেই এখানে দান করেন তারা।

তিন বছরে সোয়া তিন গুণ বেড়েছে পাগলা মসজিদে দানের টাকা

টাকা ব্যয় হয় যেসব খাতে

পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, প্রতি মাসে পাগলা মসজিদের স্টাফ বাবদ ব্যয় হয় পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২১ সালে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত ১২৪ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য এবং অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচের জন্য ১৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও করোনাকালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

তিনি জানান, পাগলা মসজিদের টাকায় ২০০২ সালে মসজিদের পাশেই একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এ মাদ্রাসায় ১৩০ জন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে। মসজিদের টাকায় তাদের যাবতীয় ভরণপোষণ ও জামাকাপড় দেয়া হয়ে থাকে। ওয়াকফ এস্টেটের অডিটর দিয়ে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে পাগলা মসজিদের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হয়।

শওকত উদ্দিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স পরিচালনার জন্য ৩১ সদস্যের কমিটি রয়েছে। এ কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়াও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই কমিটিতে আছেন।

অতীতে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসায় দান করা হলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ রয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক মসজিদ নির্মাণ করা হবে। তাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই অনুদান বন্ধ রয়েছে।

বিপুল পরিমাণ দানের টাকার বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদ এ এলাকার মানুষের একটি আবেগের স্থান, যে কারণে আমরা প্রতিবারই দান হিসাবে বিপুল পরিমাণ টাকা পেয়ে থাকি।

‘আমরা মানুষের স্বপ্ন ও ইচ্ছা অনুযায়ী বর্তমান মসজিদের স্থানে একসাথে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে এমন একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করব। আধুনিক স্থাপত্যের এ মসজিদ নির্মাণে অচিরেই নকশা চূড়ান্ত করাসহ কাজ শুরু হবে।’

তিনি জানান, প্রাপ্ত দানের টাকা থেকে পাগলা মসজিদ এবং এর অন্তর্ভুক্ত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও গোরস্থানের ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এ ছাড়া দানের টাকায় জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় সহায়তার পাশাপাশি গরিব ছাত্র ও দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।

দানের টাকায় আন্তর্জাতিক ইসলামি কমপ্লেক্স

মেয়র পারভেজ মিয়া জানান, পাগলা মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। কমপ্লেক্সটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে বানানো হবে। এ জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া একসঙ্গে পাঁচ হাজার নারীর নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

আরও পড়ুন:
বেনাপোল ছেড়ে ভোমরায়, নেপথ্যে...
ভারত থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করবে টিসিবি
তিন দিনের মধ্যে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে: প্রতিমন্ত্রী
ভারত থেকে আরও ৩০০ টন আলু আমদানি
নারীর দান করা দুই হাত জোড়া লাগল পুরুষের শরীরে

মন্তব্য

সারা দেশ
Chowmuhani market fire

চৌমুহনী বাজারে অগ্নিকাণ্ড

চৌমুহনী বাজারে অগ্নিকাণ্ড 

আগুনে পুড়েছে বেশকিছু দোকান। ছবি: নিউজবাংলা
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০টি দোকান পুড়ে গেছে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাতামতলা রোড ও বড় মসজিদ মার্কেটে ওই আগুনের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে ওই আগুনে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, বাদামতলা রোডের ভুইয়া হোসিয়ারি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। পরে আগুন আশপাশে দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে চৌমুহনী, মাইজদী, সোনাইমুড়ী, সেনবাগের পাঁচটি অগ্নিনির্বপাক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসে নাই।

নোয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি ২০টি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। তবে অগ্নিকান্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বলা যাবে। আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নিয়ন্ত্রিণে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কাজ করছে।

মন্তব্য

সারা দেশ
Pagal Hasans colleague Jahangir also left

চলে গেলেন পাগল হাসানের সহকর্মী জাহাঙ্গীরও

চলে গেলেন পাগল হাসানের সহকর্মী জাহাঙ্গীরও জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি
বৃহস্পতিবার ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও গীতিকার পাগল হাসান এবং তার সহকর্মী আব্দুস ছাত্তার। গুরুতর আহত হন তার অপর সহকর্মী জাহাঙ্গীর আলম, রুপন মিয়া ও লায়েছ মিয়া।

চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে গেলেন সঙ্গীত শিল্পী পাগল হাসানের সহকর্মী জাহাঙ্গীর আলম। রোববার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে বৃহস্পতিবারের সড়ক দুর্ঘটনায় পাগল হাসানসহ প্রাণ হারালেন তিনজন।

সবশেষ মারা যাওয়া জাহাঙ্গীর আলম ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও গ্রামের মৃত আফরোজ আলীর ছেলে।

এদিকে মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার চারদিন পার হলেও ঘাতক কোস্টারটির মালিককে শনাক্ত করতে পারেনি ছাতক থানা পুলিশ। দুর্ঘটনার পরদিন শুক্রবার দুপুরে পাগল হাসানের মা মোছাম্মৎ আমিনা বেগম সালেহা এ ব্যাপারে ছাতক থানায় মামলা করেন।

ছাতক থানার ওসি মো. শাহ আলম জানান, ঘাতক কোস্টারটির নম্বর দিয়ে মালিকের পরিচয় জানানোর জন্য বিআরটিএ-কে বলা হয়েছে। মালিকের পরিচয় পাওয়ার পর জানতে চাওয়া হবে বাসটি কোন চালক চালিয়ে নিয়ে এসেছিল।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের ছাতক সুরমা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় যাত্রীবিহীন একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও গীতিকার মতিউর রহমান হাসান ওরফে পাগল হাসান এবং তার সহকর্মী আব্দুস ছাত্তার। গুরুতর আহত হন তার অপর সহকর্মী জাহাঙ্গীর আলম, রুপন মিয়া ও লায়েছ মিয়া। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় রোববার সকালে মারা যান জাহাঙ্গীর আলম।

আরও পড়ুন:
সড়কে প্রাণ গেল জনপ্রিয় শিল্পী পাগল হাসানের

মন্তব্য

সারা দেশ
Two Bangladeshi fishermen shot dead by Myanmar Navy

মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে আহত বাংলাদেশি দুই জেলে

মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে আহত বাংলাদেশি দুই জেলে নাফ নদে মাছ শিকার করে ফেরার পথে রোববার মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন বাংলাদেশি দুই জেলে। ছবি: নিউজবাংলা
ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি মাছ ধরা শেষে শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাট দিয়ে ফিরছিলাম। এ সময় নাইক্ষ্যংদিয়া সংলগ্ন অংশে মিয়ানমার নৌবাহিনীর একটি জাহাজ আমাদের অতিক্রম করছিল। মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে হঠাৎ আমাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে আমাদের দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়।’

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদে মাছ শিকার করে ফেরার পথে মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি দুই জেলে।

সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি এলাকায় রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত এক জেলেকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হলেও আরেকজনকে গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ‘তাদের একজন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়ার মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক ও আরেকজন মাঝের ডেইল এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইল।’

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রণয় রুদ্র বলেন, ‘আজ (রোববার) ১২টার দিকে দুইজন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে আমরা জানতে পারি তারা জেলে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‘আহতদের মধ্যে ইসমাইল সামান্য আহত। তাকে টেকনাফে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। অন্যজন ফারুকের তিনটি গুলি লেগেছে ডান পায়ে ও বাম ঊরু এবং বাম হাতের আঙুলে।’

ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি মাছ ধরা শেষে শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাট দিয়ে ফিরছিলাম। এ সময় নাইক্ষ্যংদিয়া সংলগ্ন অংশে মিয়ানমার নৌবাহিনীর একটি জাহাজ আমাদের অতিক্রম করছিল। মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে হঠাৎ আমাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে আমাদের দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়।

‘আমরা নাফ নদের বাংলাদেশের জলসীমায় ছিলাম এবং হাত উঁচু করে বাংলাদেশি পতাকা দেখিয়ে তাদের গুলি না করতে ইশারা করছিলাম। এরপরও তারা মানেনি; গুলি করতে থাকে।’

আহত জেলে মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘এফবি মায়ের দোয়া ট্রলার নিয়ে গত চার দিন আগে ৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাই। আজ (রোববার) ফেরার পথে সাগরে মিয়ানমারের অংশ অবস্থান নেয়া মিয়ানমারের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সংকেত দিয়ে তাদের দিকে যেতে বলে।

‘ওটা মিয়ানমারের জলসীমা হওয়ায় তারা শাহপরীর দ্বীপের দিকে চলে আসতে থাকে। এ সময় পরপর গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যরা অক্ষত আছে।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফে থেমে থেমে আসছে মর্টার শেলের শব্দ
বিএসএফকে মিষ্টি দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাল বিজিবি
সীমান্তে এবারও হচ্ছে না দুই বাংলার মিলনমেলা
মিয়ানমারের জান্তাকে সহিংসতা কমাতে বলল থাইল্যান্ড
টেকনাফে পিটুনিতে আহত ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মন্তব্য

সারা দেশ
In Naogaon school students wear black cloth over their eyes to demand safe roads

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চোখে কাপড় বেঁধে অবস্থান স্কুলছাত্রীর

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চোখে কাপড় বেঁধে অবস্থান স্কুলছাত্রীর নওগাঁ শহরের তাজের মোড় ও ব্রিজের মোড় সড়কে রোববার সকালে ঘণ্টাব্যাপী চোখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান করে শিক্ষার্থী ফাতেমা আফরিন ছোঁয়া। ছবি: নিউজবাংলা
নিসচা নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি এ এস এম রায়হান আলম বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যানবাহন চালক ও মালিকদের সচেতনও করছি।’

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে নওগাঁর সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে এক স্কুলছাত্রী।

শহরের তাজের মোড় ও ব্রিজের মোড় সড়কে রোববার সকালে ঘণ্টাব্যাপী চোখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান করে ওই শিক্ষার্থী।

ফাতেমা আফরিন ছোঁয়া নামের ওই শিক্ষার্থী নওগাঁ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে।

সড়কে অবস্থানের সময় ছোঁয়ার হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল, ‘সড়কে নিরাপত্তা চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই, দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ চাই’। এ সময় স্থানীয় পথচারীরা তার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

পথচারী জুলফিকার রহমার বলেন, ‘আমরা আসলে সড়কে কেউ নিরাপদ নয়। বাসা থেকে বের হলে সুস্থভাবে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারবো কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নাই।

‘একজন ছোট শিশু শিক্ষার্থীর এমন উদ্যোগ সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। সবার উচিত নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার হওয়া।’

আরেক পথচারীর ভাষ্য, ‘তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা বাচ্চাটির এমন প্রতিবাদ ও দাবি খুবই যৌক্তিক। আমরা তার দাবিকে সমর্থন করছি। তাকে দেখে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে।

‘প্রতিদিনই সড়কে তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে সবাই এক হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’

কী উপলব্ধি থেকে এবং কেন রাস্তায় দাঁড়াল, সে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ফাতেমা বলে, ‘টিভি -পত্রিকাতে প্রতিদিন দেখি মৃত্যুর খবর। তার অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। রাস্তায় বের হলে বা স্কুলে যাওয়ার পথে আবার বাড়িতে মা-বাবার কাছে ফিরতে পারব কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নাই। প্রতিদিন এত মৃত্যুর খবর দেখে খুবই কষ্ট পাই, ভয় লাগে।’

ফাতেমা আরও বলে, ‘বেশ কয়েক দিন আগে নওগাঁ শহরের ইয়াদ আলীর মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় এক বাবা-মা। আর বেঁচে যায় তাদের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু। এখন ভাবুন সেই শিশুটির কী হবে?

‘শিশুটি বাবা-মায়ের আদর-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল সারা জীবনের জন্য। আমি চাই নিরাপদ সড়ক। নিরাপদে সড়কে চলাফেরা করতে চাই। সরকারের কাছে আকুল আবেদন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

ফাতেমা আফরিন ছোঁয়ার বাবা সংগীতশিল্পী খাদেমুল ইসলাম ক্যাপ্টেন বলেন, ‘সুনামগঞ্জের ছাতকের সুরমা ব্রিজ এলাকায় গত ১৮ এপ্রিল জনপ্রিয় গানের গীতিকার, সুরকার শিল্পী মতিউর রহমান হাসান ওরফে পাগল হাসান মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। পাগল হাসান আমার সহকর্মী ও বন্ধু ছিল।

‘এর আগে ১৭ এপ্রিল নওগাঁ শহরের ইয়াদ আলীর মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় এনামুল হক ও বৃষ্টি আক্তার নামের দম্পতি। আর বেঁচে যায় তাদের পাঁচ বছরের শিশু জুনাইদ ইসলাম। এ ঘটনাগুলো আমার মেয়ের মনে মারাত্মকভাবে দাগ কেটে যায়। মেয়েটি আমার এত মৃত্যুর খবর প্রতিদিন শুনে নিজেকে স্থির রাখতে পারছে না।’

শিশুটির বাবা বলেন,“ফাতেমা আমাকে বলেছে, ‘আব্বু আমি নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়াতে চাই।’’’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ের এই মহৎ ও যৌক্তিক চাওয়াকে না বলতে পারিনি, যার কারণে পুরো সমর্থন জানিয়েছি। আজ আমার ছোট্ট মেয়েটা একাই যেভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিরাপদ সড়কের দাবি করছে, ঠিক সেভাবে দেশের সবাই যদি এমন করে সচেতন হতো ও দাবিগুলো তুলে ধরত, তবে প্রতিদিন এমন প্রাণহানির মতো ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আসত।

‘আমরা নিরাপদ সড়ক চাই। সবাই যেন ট্রাফিক আইন মেনে চলে সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন চাই। আর তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ, যানবাহন চালক ও মালিকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি এ এস এম রায়হান আলম বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যানবাহন চালক ও মালিকদের সচেতনও করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থী ফাতেমার এমন উদ্যোগ আমাদের অনেক মুগ্ধ করেছে। এমন দাবি ও সচেতনতাবোধ যদি সবার মাঝে জাগ্রত হতো তবে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। তার এমন উদ্যোগ ও দাবিকে সাধুবাদ জানাই।’

আরও পড়ুন:
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত, প্রাণে বাঁচল শিশুসন্তান
ফরিদপুরের দুর্ঘটনার যেসব কারণ জানা গেল
গাজীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন
নওগাঁয় ঠিকাদারকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় অভিযুক্ত শান্ত গ্রেপ্তার
নওগাঁ শহরে ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম

মন্তব্য

সারা দেশ
The temperature rose to 42 degrees in Chuadanga due to extreme heat

অতি তীব্র দাবদাহ চুয়াডাঙ্গায়, তাপমাত্রা ৪২.২

অতি তীব্র দাবদাহ চুয়াডাঙ্গায়, তাপমাত্রা ৪২.২ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে রোদের প্রখরতা। ছবি: নিউজবাংলা
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলমান অতি তীব্র দাবদাহ কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।

চু্য়াডাঙ্গায় অব্যাহত তীব্র দাবদাহ রূপ নিয়েছে অতি তীব্র তাপদাহে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রোববার বিকেল ৩টায় রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শনিবার জেলার তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২.৩ ডিগ্রিতে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের প্রখরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বেলা গড়ালেও উত্তাপ কমছে না। দিন ও রাতের তাপমাত্রায় খুব বেশি পার্থক্য না থাকায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলমান অতি তীব্র দাবদাহ কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।

জেলায় কয়েকদিন তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রির ঘরে ওঠানামা করলেও পারদ চড়েছে ৪২ ডিগ্রির ঘরে।

দেশের কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ বা দাবদাহ বইছে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তীব্র দাবদাহ ধরা হয়।

অন্যদিকে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে বলা হয় অতি তীব্র দাবদাহ।

চুয়াডাঙ্গা শহরের রাস্তায় কথা হয় নির্মাণ শ্রমিক হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘যে তাপ পড়চি, এমন তাপ জীবনে দিকিনি (দেখিনি)। রোদে দাঁড়ানো যাচ্চি না। কাজ করতিও পারচিনি (পারছি না)। একটু কাজ করচি আর একটু ছেমায় বসচি।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রোববার দুপুর ১২টার দিকে অতি তীব্র তাপদাহে করণীয় বিষয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সরকারি নির্দেশনা মেনে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় এ সময়ে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখা, জেলায় এক লাখ গাছের চারা রোপণ এবং জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জনসাধারণকে সচেতন করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে পথচারী ও এলাকাবাসীকে সতর্ক করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

এ ছাড়া খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
দাবদাহে অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে করণীয়
দাবদাহ: ৭ দিন বন্ধ স্কুল কলেজ
তীব্র দাবদাহের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রিতে
তাপপ্রবাহে আমের গুটি টেকাতে যে পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞ
সপ্তাহজুড়ে বাড়বে তাপপ্রবাহ, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত অস্বস্তি বাড়াবে

মন্তব্য

p
উপরে