20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
ইউএনওর ওপর হামলা: অভিযোগপত্র দাখিল

ইউএনওর ওপর হামলা: অভিযোগপত্র দাখিল

এতে ইউএনওর বাসভবনের সাবেক কর্মচারী রবিউলকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ইউএনওর বাসভবনের সাবেক কর্মচারী রবিউলকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র দাখিল শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমাম আবু জাফর নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামত, আসামি রবিউলের বাড়ি থেকে পাওয়া আলামত, সিসিটিভির ফুটেজ, ব্যক্তির সাক্ষ্যপ্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্টসহ নানা বিষয়ে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে রবিউলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

ইউএনও ওয়াহিদা খানম ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আছেন।

২ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি ডাকবাংলাতে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দুপুরে হেলিকপ্টারে করে ইউএনওকে ঢাকায় এনে জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। ওই দিন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তার দুই দিন পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে যুবলীগ নেতা আসাদুল ইসলাম ও রং মিস্ত্রি নবিরুল ইসলাম ও সান্টু কুমারকে গ্রেফতার করে। নবিরুল ও সান্টুকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর।

ওই দিন বিকেলে ঘোড়াঘাট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আসাদুল ইসলামের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম শাওন, ইউএনওর বাসভবনের মালি নাদিম হোসেন পলাশ ও মামলার অন্যতম আসামি শ্যামল কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

পরে র‌্যাব আসাদুলকে ঘোড়াঘাট থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান সরকারের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক আসাদুলকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

১১ সেপ্টেম্বর দায়িত্বে অবহেলা ও কাজে গাফিলতির অভিযোগে ঘোড়াঘাটের ওসি আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর রাতে জেলার বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের খতিব উদ্দীনের ছেলে ও ঘোড়াঘাটের ইউএনও বাসভবনের সাবেক কর্মচারী রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়।

১২ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে রবিউলকে ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করলে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।পরে আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিচারক রবিউলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

২০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের রিমান্ড শেষে দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হোসেনের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রবিউল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য