১০ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার ৪০৩টি আসনের জন্য নির্বাচনের প্রথম দফায় ৫৮টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়ে গেল। সামগ্রিকভাবে ভারতের রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের সব থেকে বড় এবং জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৮০টি আসন এই রাজ্যে। স্বাভাবিকভাবেই দিল্লির মসনদ কার দখলে থাকবে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে হিন্দি বলয়ের এ রাজ্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৪ সালের এপ্রিল-মে মাসে। অর্থাৎ আগামী দুই বছরে যে রাজ্যগুলোয় বিধানসভা নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনগুলোকে আগামী সাধারণ নির্বাচনের সেমিফাইনাল হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দেশের এবং উত্তরপ্রদেশের মসনদে বর্তমানে বিজেপির দখল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আদর করে বলেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’। তিনি গত বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনি প্রচারেও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের তত্ত্ব খাড়া করে ভোটারদের বোঝাতে চেয়েছিলেন, কেন্দ্র এবং রাজ্যে একই সরকার থাকলে উন্নয়নে গতি সঞ্চার হয়। পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা অবশ্য মোদির এই তত্ত্বকে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করে খারিজ করেছিলেন। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনি প্রচারেও নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ তত্ত্বের আধারে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চাইছেন।
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনি আচরণবিধি চালু হওয়ার আগে তিন মাস ধরে উত্তরপ্রদেশে নরেন্দ্র মোদি ও আদিত্যনাথ মহাসড়ক, নতুন বিমানবন্দর, স্টেডিয়ামের শিলান্যাস, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের’ যৌক্তিকতা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। এর জবাবে বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেছেন, ‘যদি বহুমাত্রিক সূচক সম্পর্কিত ১২টি সূচকের ভিত্তিতে বলা হয়, তবে উত্তরপ্রদেশের মানবসম্পদ ভারতে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার।’ উত্তরপ্রদেশের একটি বৃহৎ জনসংখ্যা সেই মৌলিক সুযোগ-সুবিধা এবং চাহিদা থেকে দূরে, যা অর্জন করতে পারলে দারিদ্র্যের চক্র ভাঙার ক্ষমতা পাওয়া যায়। এর অর্থ, উত্তরপ্রদেশের ৩৭ শতাংশ মানুষ এতটাই দরিদ্র যে তাদের পাশে সরকার না থাকলে তারা তাদের দারিদ্র্য ভাঙতে পারে না।
এমন দারিদ্র্যের মধ্যে লেখাপড়া শেখানো অনেকের পক্ষেই কঠিন। শিক্ষার অবস্থা খারাপ। নীতি আয়োগের ‘দ্য সাকসেস অফ আওয়ার স্কুল কোয়ালিটি ইনডেক্স’-এর রিপোর্ট অনুসারে, উত্তরপ্রদেশ ভারতের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্য। এটি সর্বনিম্ন স্তরে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন অনুসারে, সামগ্রিক পারফরম্যান্স স্কোর ছিল কেরলের জন্য ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং উত্তরপ্রদেশের জন্য ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ শিক্ষার অবস্থার উন্নতির জন্য উত্তরপ্রদেশকে এখনও মাটি ও আকাশের সমান দূরত্ব পেরোতে হবে।
দরিদ্র শিশুদের মিড-ডে মিলের বাজেট থেকে বড় হোর্ডিং লাগানোর ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ এক নম্বরে। ক্ষুধায় মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশ এক নম্বরে। করোনার সময় ওষুধের কালোবাজারিতে এক নম্বরে। বেসামরিক নাগরিকদের বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে এক নম্বরে। গঙ্গা নদীর তীরে পুঁতে রাখা মরদেহ থেকে কাফন সরানোর ক্ষেত্রে এক নম্বরে। এই কঠিন বাস্তবের কোনো ব্যাখ্যা নেই বিজেপির কাছে। আর তাই প্রায় এক দশক আগের মুজাফফরনগর দাঙ্গার সত্য-মিথ্যা কাহিনি এর সব শীর্ষ নেতা তুলে ধরেছেন এবং বিরোধীদের ভোট দিলে ‘মুজাফ্ফরনগর আবার জ্বলবে’ এমন কথা বলে অমিত শাহ জনগণকে ভয় দেখাচ্ছেন। বিজেপির তারকা প্রচারকরা এখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশান্তর, হয়রানির বিষয়টি জোরেশোরে তুলেছেন। বলা হচ্ছে, ২০১৭ সালে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলার বিস্তর উন্নতি হয়েছে।
বাস্তবটা কী? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ ২০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালে ৫৬ হাজার নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যেখানে ২০১৮ সালে ৫৯ হাজার ৪৪৫টি কেস নথিভুক্ত হয়। বছরের পর বছর ধরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশে অপহরণের ২১ হাজার ৭১১টি, দাঙ্গার ৮ হাজার ৯০৮টি এবং ডাকাতির ৩ হাজার ২১৮টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে সহিংস অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের মতো শিশুদের বিরুদ্ধেও অপরাধ গত কয়েক বছরে বেড়েছে। ২০১৮ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ১৯ হাজার ৯৩৬টি, ২০১৭ সালে ১৯ হাজার ১৪৫টি এবং ২০১৬ সালে ১৬ হাজার ৭৯টি মামলা রেকর্ড হয়েছে।
এসব তথ্য তুলে ধরেই ডাবল ইঞ্জিন তত্ত্বকে তুলোধোনা করছে সমাজবাদী পার্টি জোট, কংগ্রেসসহ অন্য বিরোধী দলগুলো। এবার উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে কংগ্রেস একাই লড়ছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই কংগ্রেসের আসনসংখ্যা তলানিতে ঠেকেছিল। সেবার জয়ী হওয়া দলের সাত বিধায়কের মধ্যে পাঁচজন গত পাঁচ বছরে দফায় দফায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ক্ষমতা দখলের জন্য নয়, কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে লড়ছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বহুজন সমাজ পার্টি এবং আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তাদুল মুসলিমিন বা মিম ভোটযুদ্ধে অংশ নিলেও কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোট কেটে তারা বিজেপি প্রার্থীকে সুবিধা পাইয়ে দিতে পারে।
মূল লড়াই বিজেপির সঙ্গে সমাজবাদী পার্টি নেতৃত্বাধীন জোটের। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে জোটের প্রধান সঙ্গী রাষ্ট্রীয় লোকদল। জাঠ কৃষক ও মুসলমান অধ্যুষিত এই অঞ্চলের দিকে এবার বিশেষ নজর রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষকদের। কারণ গত জানুয়ারিতে শেষ হওয়া ১৩ মাসের কৃষক আন্দোলন। ধর্মীয় বিভাজন ভুলে ওই আন্দোলনের শরিক ছিলেন পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা, বিশেষ করে আখচাষিরা।
মনে রাখা প্রয়োজন, ২০১৪ এবং ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন, ২০১৭-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে ধর্মীয় বিভাজনকে উসকে দিয়ে বাজিমাত করেছিল বিজেপি। কৃষক আন্দোলনের প্রভাবে গড়ে ওঠা গ্রামীণ মানুষের অসাম্প্রদায়িক জোট কি বিজেপিকে হারাতে ভোট দেবে বিরোধীদের?
আজকের দিনের কোটি টাকার প্রশ্ন এটিই। কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাকেশ টিকাইত নির্বাচনে বিজেপিকে শাস্তি দেয়ার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, ‘পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ হিন্দু-মুসলমানের ম্যাচের স্টেডিয়াম নয়।’ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা রাজ্যজুড়ে ‘বিজেপিকে শাস্তি দাও’ প্রচার অব্যাহত রেখেছে। কৃষক নেতারা যখন সাংবাদিক সম্মেলন করে কৃষকদের শহীদ হওয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তখন মোদি-যোগী-শাহের ক্ষমতার সবচেয়ে বর্বর, নিষ্ঠুর প্রতীক হিসেবে সেই চিত্র ফুটে উঠছে।
মোদি-শাহ-যোগী ত্রয়ী প্রতিনিয়ত মেরুকরণের এজেন্ডাকে তীক্ষ্ণ করতে তৎপর। যোগী উত্তরপ্রদেশের জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা ভোট না দিলে উত্তরপ্রদেশ কাশ্মীর, কেরালা এবং বাংলায় পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না।
বিজেপির নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে ,‘লাভ জিহাদের শাস্তি ন্যূনতম ১০ বছর এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা বৃদ্ধি করা হবে।’ উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিধানে বা ভারতীয় ফৌজদারি আইনে ‘লাভ জিহাদের’ কোনো সংজ্ঞা বা উল্লেখ নেই। ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘আমরা দেওবন্দে সন্ত্রাসবিরোধী কমান্ডো সেন্টার নির্মাণ সম্পূর্ণ করব। মিরাট, রামপুর, আজমগড়, কানপুর, বাহরাইচে নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কমান্ডো কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।’
পুরো ইশতেহারে সাম্প্রদায়িক বিভাজনমূলক স্বতঃসিদ্ধ অভিপ্রায় স্পষ্ট। জনগণের ইস্যুতে প্রথম দফায় যে অ-মেরুকরণ নির্বাচনের ধারা শুরু হয়েছে, তা দ্বিতীয় দফার মাধ্যমে পুরো নির্বাচনই চলবে বলে অনুমান করা যায়। নির্বাচন হবে সাত দফায়। তবে বিরোধী দলগুলোকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ যাতে একই রকম থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গে ঝড় তোলা ‘খেলা হবে’ স্লোগান উত্তরপ্রদেশেও ঝড় তুলেছে ‘খেদা হৈবে’ রূপান্তরে। রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, ভোটযুদ্ধ যতই পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে, ততই পরিবর্তনের হাওয়া বৈশাখী ঝড়ে পরিণত হবে। বাস্তবেই তা হবে কি না জানা যাবে ১০ মার্চ।
আশিস গুপ্ত: সাংবাদিক, নয়াদিল্লি
ফাইল ছবি
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়নের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। এদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজি), ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি-পদায়ন করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত চারজন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি এবং এনএসআই-এর পরিচালক (ডিআইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে সিআইডি’র অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত আইজি এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) ফারুক আহমেদকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি পদে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামানকে র্যাবে, এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) এ কে এম আক্তারুজ্জামানকে পুলিশ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) এবং মুক্তাগাছা ২য় এপিবিএন-এর অধিনায়ক মো. কুতুব উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আল মামুনকে মুক্তাগাছা ২য় এপিবিএন-এর অধিনায়ক, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সরকার মোহাম্মদ কায়সারকে বেতবুনিয়া পিএসটিএস-এর কমান্ড্যান্ট এবং এন্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানকে সারদা বিপিএ-এর অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুল ওয়ারীশকে রংপুর পিটিসির অতিরিক্ত ডিআইজি এবং কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিআইজি পদমর্যাদার চারজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। এপিবিএন-এর ডিআইজি (এফডিএমএন) এর কার্যালয়ের প্রলয় চিসিমকে নোয়াখালী পিটিসির ডিআইজি এবং সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিমকে এপিবিএন-এর ডিআইজি (এফডিএমএন) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণিকে রংপুর পিটিসির ডিআইজি এবং এসবির ডিআইজি একেএম মোশাররফ হোসেন মিয়াজীকে খুলনা পিটিসির ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচজন কর্মকর্তাকে নতুন স্থানে পদায়ন করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরকে পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহিদুর রহমানকে সারদা বিপিএ-এর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার সালমা সৈয়দ পলি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। সবশেষে, ঝিনাইদহ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মো. শহীদুল ইসলাম এবং পুলিশ টেলিকমের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জামায়াত মননীত রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াতের এক এমপির (রংপুর-৬) বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটার একাধিক প্রকল্পে ভাগনে-ভগ্নিপতি ও নিকট আত্মীয়কে সভাপতি বানিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ৩০ লক্ষ, কাবিটার ২৫ লক্ষ টাকা ও কাবিখার ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। তার সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় টিআরের (নগদ অর্থ) ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ বিভাজন করে তিনি প্রকল্প দাখিল করেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৯ নং সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাবিখা প্রকল্পে-১০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দে বর্ণিত গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে এমপির চাচাতো বোনের স্বামী ভগ্নিপতি ইয়াকুব আলীকে।
অপর প্রকল্পটি একই গ্রামের উল্লেখিত ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে। এই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা-পুত্র। তারা দুজনই সম্পর্কে এমপির ভাগনে ও ভগ্নিপতি।
এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পে নিকট আত্মীয়, দলীয় বিভিন্ন পদের নেতা-কর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সর্বত্র।
তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া প্রশ্ন করেন, ওয়াক্তিয়া ঘরের জন্য একাধিক প্রকল্পে এমপি তার বোনজামাই, ভাগনেকে প্রকল্প সভাপতি করায় এর সঠিক বাস্তবায়ন কতটুকু হবে।
ওই গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরনো জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে এমপি তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ আছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।’ এ কথা বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম গত শনিবার (২৭ জুন) নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর টার্মিনাল এলাকা, বিশ্বব্যাংক কর্তৃক নির্মাণাধীন নতুন টার্মিনাল ভবন, মাছ ঘাটের নির্মাণাধীন শেড, খানপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনারের নির্মাণাধীন টার্মিনাল, ড্রেজার বেইজ নারায়ণগঞ্জ, উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়, ডিইপিটিসি এবং ড্রেজার বেইজ হতে শীতলক্ষ্যা নদীর শাহ্ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সম্মুখভাগ এলাকা হয়ে ধলেশ্বরী নদীর মুক্তারপুর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত নৌপথ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালীন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, পরিচালক, প্রশাসন ও মানবসম্পদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) মো. সাইফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (পুর) এ এইচ মো. ফরহাদ উজ্জামান ও নৌসওপ বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শাহজাহানসহ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের সকল শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুলাউড়া উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন গত শনিবার (২৭ জুন) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. অরুণাভ দে-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম।
সংগঠনের সদস্য সচিব অজয় দাস ও সুজিত দে-এর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি আশু রঞ্জন দাস। অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।
প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদ মহিম দে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নকুল চন্দ্র দাস, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল সেনগুপ্ত, সাংবাদিক নাজমুল বারী সোহেল প্রমুখ।
ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াগামী নৌপথে ভুল বশত পদ্মার চরে আটকে পড়া ৯৯৯ ফোন পেয়ে লঞ্চে থাকা ৮৫ জন যাত্রী উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের একটি দল।
নৌপুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট থেকে ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে এমভি বোয়ালি নামে একটি লঞ্চ পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে পথিমধ্যে পদ্মা নদীর মাঝখানে কুশাহাটা নামক স্থানে যাত্রীসহ আটকা পরে যায়।
পরে ৯৯৯ মাধ্যমে নৌপুলিশকে সংবাদ দিলে দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া নৌপুলিশ উদ্ধার করে অন্য আরেকটি লঞ্চ এমভি চিশতিয়াতে স্থানান্তর করে।
এসময় নৌপুলিশের সহায়তায় রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নিরাপদে পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটে পৌঁছে দেয় যাত্রীদের। তবে এসময় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে শহরের জিরো পয়েন্টে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত পরিবারের সদস্যসহ হিন্দু নেতারা অংশ নেয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. বাবুল রবিবাস, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কুমার দাস ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা প্রহল্লাদ বাঁশফোর।
বক্তারা বলেন, গত ৬ জুন আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালীর মাথায় গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করেন ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের রেজাউল দেওয়ানের ছেলে হাসান আলী। পরে হাসপাতালে নিলে শ্যামল মারা যায়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, নিহতের পরিবার নিরাপত্তাসহ ঘটনার জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী ‘পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস’ ও ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ২০টি ভিন্ন প্রজাতির ১০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণ করবে।
রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপউপাচার্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. ইয়াকুব আলী; বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম; এবং জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সদস্য সম্পাদক ও কর্মসূচির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে এবার ২০ প্রজাতির ১০,০০০ গাছ বিতরণ ও রোপণ করা হবে। আম, ব্ল্যাককারেন্ট, আমলকী, হরিতকী, পেয়ারা, কাঁঠাল, আটা, সফেদা ও জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে।
মন্তব্য