ফেইসবুক লাইভে এসে ধানমন্ডিতে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন আবু মহসিন খান নামের একজন ব্যবসায়ী, যিনি সম্পর্কের দিক থেকে জনপ্রিয় ও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর।
আবু মহসিন খানের এভাবে আত্মহত্যার তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে খুব স্বাভাবিকভাবেই দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির পরিচয় হিসেবে এসব সংবাদের শিরোনাম ও মূল সংবাদে প্রাধান্য পায় চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর হিসেবে তার পরিচয়টি। পরে এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও অন্যত্র নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
পরে দেখছি কিছু সংবাদ মাধ্যম নিজেদের শুধরে নিয়ে ‘চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর’-এর পরিবর্তে ‘ব্যবসায়ী আবু মহসিন খান’ পরিচয় লিখছে। এ ক্ষেত্রে মূল আলোচনা এটিই যে, সংবাদ মাধ্যমগুলোর একজন মানুষকে কেন অমুক বা তমুকের শ্বশুর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে? তার তো নিজের পরিচয় আছে, আছে পেশাগত পরিচয়ও। সেসব পরিচয় কেন মুখ্য হয়ে উঠলো না সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে? আবার যেহেতু জনমতের চাপেই হোক বা সম্পাদকীয় নীতিমালার পরিবর্তনের ফলেই হোক, মেয়ের স্বামীর সাথে যুক্ত পরিচয়টি দূরে রেখে আবু মহসিন খানের ব্যক্তিগত বা পেশাগত পরিচয়েই এখন তাকে সংবাদগুলোতে পরিচিত করিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাহলে কি প্রথম দিকে ‘চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর’ হিসেবে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়াটা সংবাদ মাধ্যমগুলোর পেশাগত ভুল চর্চা ছিল?
শেষ প্রশ্নটিই মূলত এই লেখার আলোচ্য। যার উত্তর খুঁজতে হলে সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বোঝার পাশাপাশি মানুষের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কেও বোঝাপড়া জরুরি।
এ কথা সত্য যে, যে কোনো সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনাম প্রদানের মূল উদ্দেশ্যই হলো ঐ সংবাদটি সম্পর্কে পাঠককে আকৃষ্ট করা, পাঠককে ঐ সংবাদটি পাঠের উদ্দীপনা সরবরাহ করা। কিন্তু তারপরও তো একজন পাঠক দিনের সংবাদপত্রের প্রতিটি সংবাদ পড়েন না, অনলাইন পোর্টালের সকল বিভাগের সকল সংবাদ পড়েন না। এ ক্ষেত্রে পাঠকের আগ্রহের পাশাপাশি সংবাদের প্রকৃত সংবাদমূল্য ও অন্যান্য উপাদানই একটি ঘটনাকে অন্যান্য সমরূপী ঘটনা থেকে আলাদা করে তোলে ও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়।
এ ক্ষেত্রে এটিও মনে রাখতে হয় যে, সংবাদ হিসেবে একটি ঘটনার গুরুত্ব ঐ ঘটনায় সংবাদের কয়টি উপাদান যুক্ত আছে তার সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। ঢাকার একজন ব্যবসায়ী আবু মহসিন খানের আত্মহত্যার সংবাদটি ততক্ষণ পর্যন্ত একটি আত্মহত্যারই ঘটনা, যতক্ষণ না এর সাথে চিত্রনায়ক রিয়াজকে যুক্ত করা হলো। চিত্রনায়ক রিয়াজের সাথে আত্মহত্যাকারীর আত্মীয়তার সম্পর্ক যুক্ত হওয়ায় সংবাদটিতে যুক্ত হয়ে যাচ্ছেন একজন জনপ্রিয়, কিংবা নিদেনপক্ষে একজন আলোচিত ‘পাবলিক ফিগার’, যা আবার পাঠকের দিক থেকে সংবাদটির প্রতি নৈকট্য বা ‘প্রক্সিমিটি’-কেও উসকে দিচ্ছে। অর্থাৎ, একটি আত্মহত্যার ঘটনা, যাকে বহু পাঠকের কাছেই হয়তো নিত্যদিনের ঘটনা মনে হতে পারে, চিত্রনায়ক রিয়াজের নামটি যুক্ত হয়ে যাওয়ায় তা হয়ে ওঠে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম একট সংবাদ। কারণ যে পাঠকের আত্মহত্যা বা ব্যবসায়ী সম্পর্কে আগ্রহ নেই, তার আগ্রহ থাকতেও পারে একজন অভিনেতা বা চিত্রনায়ক সম্পর্কিত বিষয়াদির প্রতি।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হন, একেবারে নিয়ম করে এ বিষয়ে রোজ সংবাদও প্রকাশিত হয়। কিন্তু গতকাল বা গত সপ্তাহে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় কত জন ও কারা কারা নিহত হয়েছেন, সংবাদের পাঠক হিসেবে আমরা অনেকেই তা বলতে পারব না। বহু পাঠক সাধারণ হয়ে যাওয়া এসব সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ এখন আর আদৌ পড়েন কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে, যতক্ষণ না এর সাথে আরো বেশি মর্মান্তিকভাবে যুক্ত হয়ে যায় তারেক মাসুদ বা মিশুক মুনীরের মতো কারো কারো নাম।
যুগের পর যুগ ধরে সংবাদের উপাদান হিসেবে এই প্রক্সিমিটি, প্রমিনেন্স নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছে, চর্চা হয়ে আসছে। সেই দিক থেকে ভাবলে ব্যবসায়ী আবু মহসিন খানের দুঃখজনক এই আত্মহত্যার ঘটনাটিকে অন্যান্য আত্মহত্যা থেকে আলাদা করেছে মূলত দুইটি বিষয়। এর প্রথমটি নিশ্চিতভাবেই চিত্রনায়ক রিয়াজের সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক। দ্বিতীয়টি হলো ফেইসবুক লাইভে থাকা অবস্থায় তার নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যার ঘটনা।
আগ্রহোদ্দীপক বিষয় হলো, কিছুদিন আগে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে চিত্রনায়ক রিয়াজের কান্নার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে, যা নিয়ে হয়েছে ট্রল-মিম। তাহলে এই ঘটনার পর থেকে এই আত্মহত্যা নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা পাঠকমহল ও সামাজিক মাধ্যমে হয়েছে, চিত্রনায়ক রিয়াজের উল্লেখ এসব সংবাদে না থাকলে তা কি আদৌ হতো? এই প্রশ্নটি থেকেই যাবে।
প্রশ্নটি থেকে যাবে, কারণ এর সঠিক বা সঠিকতার কাছাকাছি উত্তর দিতে হলে যে ধরনের গবেষণালব্ধ তথ্য প্রয়োজন, আমাদের সাংবাদিকতার পেশাগত এলাকায় শুধু নয়, সাংবাদিকতা সম্পর্কিত বিদ্যায়তন বা অ্যাকাডেমিয়ায়তেও সে ধরনের গবেষণার ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতির কথা কাউকে পীড়া দিলে বলতে হবে, যথেষ্ট পরিমাণ গবেষণা অন্তত নেই। আমাদের গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের পাঠক-শ্রোতা-দর্শক তথা অডিয়েন্স আসলে কোন আধেয় বা সংবাদগুলো পড়ছে, কেন পড়ছে, অডিয়েন্স বিহেভিয়ার, নিউজ কনজাম্পশন নিয়ে আমাদের গবেষণামূলক কাজের পরিমাণ অত্যল্প। আর গবেষণালব্ধ তথ্যের অভাবের কারণেই আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো স্রোতে গা ভাসিয়ে চলছে দিনের পর দিন, সাংবাদিকতার প্রেক্ষাপট থেকে ভুল না করেও বাধ্য হচ্ছে অপরাধীর মতো শিরোনাম ও সংবাদের ভেতরের শব্দচয়ন বদলে দিতে।
কিন্তু এই ঘটনায় চিত্রনায়ক রিয়াজের নাম উল্লেখ কি আসলেই অনিবার্য ছিল? সংবাদমাধ্যমের কাজ সংবাদ প্রকাশ করা, পাঠক যা জানতে চান, তা নিজ উদ্যোগে খুঁজে জেনে নিবেন, এমন ভাবনা আমাদের মনে বা মাথায় আসতেই পারে। এ ক্ষেত্রে দায়টা সংবাদমাধ্যমগুলোও কি পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারে?
আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিটি সংবাদমাধ্যম নিজেদেরকে জনগণের সেবক হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং করে। কিন্তু এই সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার যে দিনশেষে একটি ব্যবসা ও পেশা, যা দিয়ে বহু মানুষের সংসার চলে, তা প্রকাশ করে সংবাদ মাধ্যমকে ‘মসীহা’ ভাবার ‘মিস্টিসিজম’ থেকেও পাঠককে বের করে আনা জরুরি, যার শুরুটা করতে হবে সংবাদ মাধ্যমগুলোকেই, ধীরে হলেও। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যমের পুঁজি বা মুনাফা কী করে আহরিত হয়, তা নিয়ে রাখঢাকের প্রয়োজন তো নেই। এই সংবাদে চিত্রনায়ককে যুক্ত করার প্রধান কারণ তো এর ভেতরই নিহিত! নাকি ভুল বলা হলো?
এটি দুঃখজনক যে, যেখানে আমাদের আলোচনা করার কথা ছিল এমন আত্মহত্যা কেন হয়, কিংবা সমাজের উপর এভাবে সামজিক মাধ্যমে লাইভ করে আত্মহত্যার ঘটনার বিরূপ প্রভাব নিয়ে, সেখানে সাংবাদিকতার মানদণ্ডে বলার মতো কোনো অপরাধ না করেও, সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে হয়ে যাওয়া পাবলিক ট্রায়াল নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ভাবা জরুরি খুবই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলা সামাজিক মাধ্যমে ‘ট্রোলিং’ মানসিকতা নিয়ে; অন্যদিকে ভাবা জরুরি সামাজিক মাধ্যমে আমাদের আচরণের প্রবণতা নিয়েও। মিডিয়া লিটারেসি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এটিও জরুরি যে, চর্চার ক্ষেত্রে গুণগত মান বজায় রাখলে জনমতের ভুল চাপে নতি স্বীকার না করা, অন্তত নতিস্বীকারের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা।
কিন্তু ভুলে ভরা গণমাধ্যম, উটকো অনলাইন পোর্টাল এবং সংবাদমাধ্যমের নাম ভাঙিয়ে নানা ধরনের অনৈতিক ও অপেশাদার চর্চাগুলো বর্তমান রেখে আমাদের প্রকৃত সংবাদমাধ্যমগুলো কি সেই সৎ সাহস দেখানোর অবস্থায় আদৌ আছে?
শিবলী নোমান, শিক্ষক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ফাইল ছবি
সরকারি চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুলিশের দুই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) এবং একজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) অবসরে গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ছিল তাদের শেষ কর্মদিবস।
অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- পুলিশ সদর দপ্তরের ডেভেলপমেন্ট শাখার অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ, ঢাকা রেঞ্জের প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এবং ডিআইজি মো. আবুল খায়ের।
অবসরে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ ডেভেলপমেন্ট শাখার আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ছিলেন।
জানা গেছে, চলতি মাসের ৪ জুন রেজাউল করিম মল্লিক অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। ওই সময় তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্বে ছিলেন। একই পদে থেকে তাকে অবসরে যেতে হলো। গত ২৮ জুন পুলিশের চার অতিরিক্ত আইজিপিকে বিভিন্ন দপ্তরে পদায়ন করা হলেও রেজাউল করিম মল্লিককে কোথাও পদায়ন করা হয়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হওয়ার আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ছিলেন। গত বছরের ১২ এপ্রিল রেজাউল করিম মল্লিককে ডিবিপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় রেজাউল করিম মল্লিক রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি-মন্ত্রী, আমলা ও দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বঞ্চনার শিকার হন বলেও জানা যায়।
অন্যদিকে ডিআইজি আবুল খায়ের ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের (টিডিএস) ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিন কর্মকর্তার শেষ কর্মদিবসে পুলিশ সদর দপ্তরের অফিসার্স ক্যাফেটেরিয়ায় বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হলো দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজার নামাজ।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক বিশিষ্টজন।
পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন রাখা হলে একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলাসহ অনেকে।
শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, প্রাচ্যনাট, বটতলা, দূরন্ত স্টেশন, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদলসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই গুণী মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার জন্য। এরপর প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
গত সোমবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শিল্প ও সংস্কৃতিকে মুক্তির সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনের নির্দেশ অমান্য করে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার কক্ষে সাহসী ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী বাংলাদেশে পাপেট থিয়েটারকে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি শিশুদের জন্য অসংখ্য কালজয়ী টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ আছে; ততদিন রিফাইন্ড বা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভারতে অবস্থান করা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করে এবং সেসব বক্তব্যের অনুবাদ প্রচার করেছে বাংলাদেশের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। তাই, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বক্তব্য প্রচারে কী ব্যবস্থা নেবে সরকার?
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা দেশের গণমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিফাইন্ড কিংবা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণ এবং নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এতে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব উত্তরাঞ্চলের মানুষকে চরম সংকটে ফেলে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ করা। এই কাজে চীনের বিপুল দক্ষতা (এক্সপার্টিজ) এবং প্রয়োজনীয় ফান্ড রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রকল্পটি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ হিসেবে জনগণ ও তার নিজস্ব স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়ার কারণ দেখি না। ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই এনগেজ করবে। যদি কারো কোনো সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা কনসার্ন থাকেও, বাংলাদেশ তা মাথায় রাখবে। এসব সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস না করেই কাজ করবে।
বিগত আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শুধু একটি নয়, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। আমরা যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করেই কাজ করব।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, এই প্রকল্প বা ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করা ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ নিজেদের স্বার্থেই দ্রুত করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন দেশের বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য শিল্পী এবং তার অবদান শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভি প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী। দেশের সকল প্রতিভাবান মানুষের তালিকা করা হলে মুস্তাফা মনোয়ার প্রথম সারির অনন্য মানুষ হিসেবে গণ্য হবেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে তার জান্নাত প্রার্থনা করেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের বৈচিত্র্যময় কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের কৈশোর থেকেই আমরা তার বহুমুখী প্রতিভা ও কাজের সাথে পরিচিত। তিনি শিল্পকলা ও সাহিত্যের জগতের বহু ক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন। নিজে যেমন মেধার অবিরাম চর্চা করেছেন, ঠিক তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার যখনই যেখানে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তার কর্মের আন্তরিকতা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সর্বোপরি এক অনন্য মননশীলতার গভীর ছাপ রেখে গেছেন।’
মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল বিটিভি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে পারাকে পরম সৌভাগ্য উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বিটিভি পরিবার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।
বিটিভি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই জানাজার নামাজে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং মরহুমের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নেন।
ছবি: সংগৃহীত
দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বা মব জাস্টিস কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের মাসে এই ধরনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ এবং আহত হয়েছিলেন ৭১ জন। সেই হিসাবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মব সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আহতের হার আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, জুন মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে গেছে এবং অধিকতর অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, ব্যাপক গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি—এসব সূচকে উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত এবং দলীয় সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দলীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা, উভয় ক্ষেত্রেই হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সহিংস ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।
এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে তিনজন। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
এ মাসে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ জন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে নদী, সড়ক, রেললাইন ও ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ৬৫টি অজ্ঞাত ও নামীয় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৫৩।
এমএসএফের সংগৃহীত তথ্য বলছে, জুনে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ৬ জন নিহত এবং ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জুনে ভারত থেকে ৪২৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের জীবন যাপন করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে সহিংসতা কিছু ক্ষেত্রে কমলেও ভারত থেকে পুশ ইনের চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা একটি বড় মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে ৩৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুনে ৯ জন মৃত ও ২ জন জীবিতসহ মোট ১১ নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মাসে মাদক কারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বার্ষিক সমাপনী মজুত গণনা, পরিসম্পদ মূল্যায়ন ও বাস্তব যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বুধবার সারাদেশের সব তেল ডিপো ও প্রধান স্থাপনা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিপিসির বণ্টন ও পরিবীক্ষণ অধিশাখার মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়েছে যে, বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও ডিপোসমূহে বার্ষিক সমাপনী মজুদ গণনা ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামস্থ প্রধান স্থাপনা থেকে শুরু করে দেশের সব ডিপো এবং স্থাপনার বিপণন কার্যক্রম এদিন স্থগিত থাকবে।
তবে বিমান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জেট-এ১ জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিপোর মজুদ ট্যাংকের বার্ষিক যাচাই কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে সরবরাহ সচল রাখতে হবে।
যমুনা অয়েল, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এই আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এবং কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব নামে একজন নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি কেএম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দিয়েছেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, এ মামলায় জামিন হওয়ায় সাবেক এই বিচারপতির মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।
এর আগে এ মামলায় গত ২১ জুন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গুলিতে খোবাইব (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় তার ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
মন্তব্য