× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

মতামত
What to do to eradicate cervical cancer
hear-news
player
print-icon

জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে করণীয় কী

জরায়ুমুখ-ক্যানসার-নির্মূলে-করণীয়-কী
আগামী ১০০ বছরের মধ্যে পৃথিবী থেকে জরায়ুমুখ ক্যানসার, গুটি বসন্ত ও পোলিওর মতো রোগ নির্মূল করা সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বরে ঘোষণা দেয়, জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূল করতে ২০৩০ সালের মধ্যে কিছু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে।

বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হন নারীরা। বিভিন্ন দেশে নারীরা সবচেয়ে বেশি যেসব ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তার মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ স্থানে আছে জরায়ুমুখ ক্যানসার, বাংলাদেশে যেটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

৯৯.৮ শতাংশের ক্ষেত্রে হিউম্যান প্যাপিলমা ভাইরাসের (এইচপিভি) সংক্রমণের ফলে রোগের সূচনা হয়। এ ক্যানসারের একটি পূর্বাবস্থা থাকে, যা ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সাধারণত যৌন সঙ্গমের ফলে ভাইরাসটি দেহে অনুপ্রবেশ করে।

জরায়ুমুখ ক্যানসার ছাড়াও এইচপিভির মাধ্যমে যোনিদ্বার, যোনি, মুখগহ্বর, পিনাইল/পুরুষাঙ্গ ক্যানসার হয়ে থাকে।

আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি কাদের

বাল্যবিবাহ, কম বয়সে সন্তান প্রসব, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, বেশিসংখ্যক সন্তান প্রসব কিংবা যৌন রোগ থাকলে জরায়ুমুখ ক্যানসার হতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলে এ রোগ হতে পারে।

এর বাইরে আর্থ-সামাজিক অবস্থা কিংবা স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে রোগটি হতে পারে।

জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে বৈশ্বিক তৎপরতা

আগামী ১০০ বছরের মধ্যে পৃথিবী থেকে জরায়ুমুখ ক্যানসার, গুটি বসন্ত ও পোলিওর মতো রোগ নির্মূল করা সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বরে ঘোষণা দেয়, জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূল করতে ২০৩০ সালের মধ্যে কিছু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে।

সংস্থাটি জানায়, ৯০ শতাংশ কিশোরীকে এইচপিভি টিকা দিতে হবে। এ ছাড়া ২৫ থকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৭০ শতাংশকে স্ক্রিনিং বা পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। এর বাইরে ক্যানসারপূর্ব অবস্থা বা জরায়ুমুখ ক্যানসার থাকা ৯০ শতাংশ নারীকে ২০৩০ সালের মধ্যে চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি পেলিয়েটিভ কেয়ারের আওতায় আনতে হবে। এ ব্যবস্থাকে ডব্লিউএইচওর ৯০-৭০-৯০ ম্যানডেট বলা হচ্ছে।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ডা. টেডরোস আধানম গেব্রিয়েসুস ২০১৮ সালের ‍মে মাসে জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে বৈশ্বিক তৎপরতার ডাক দেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের আগস্টে এ ক্যানসার নির্মূলে বৈশ্বিক কর্মকৌশল গ্রহণ করে ডব্লিউএইচও। একই বছরের ১৭ নভেম্বর সে কর্মকৌশলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশসহ ১৯৪টি দেশ এ কর্মকৌশলে নিজেদের সম্পৃক্ত করে।

বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়

জাতিসংঘের ২০২০ সালের ডেটা অনুযায়ী, আমাদের জনসংখ্যা ১৭ কোটি। উন্নয়নশীল দেশ থেকে আমরা বর্তমানে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২০ সালের ডেটা অনুযায়ী, আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার। এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে ২১.৮ শতাংশ মানুষ।

পৃথিবীর অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ অনেক বেশি। গ্লোবকনের ২০২০ সালের ডেটা অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার ২৬৮ জন নারীর জরায়ুমুখ ক্যানসার শনাক্ত হয়। এ ক্যানসারে বার্ষিক মৃত্যু হয় ৪ হাজার ৯৭১ নারীর।

যেহেতু এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো বেড়ে চলেছে এবং অপর্যাপ্ত পরীক্ষা হয়েছে, সেহেতু বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারের পরই জরায়ুমুখ ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নারীরা।

২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৪.৩ শতাংশ নারীর ভিজ্যুয়াল ইন্সপেকশন উইথ অ্যাসেটিক অ্যাসিড তথা ভিআইএ পদ্ধতির মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যানসার পরীক্ষা করা হয়েছে।

২০১০ সালে বাংলাদেশে হাজারে মাতৃমৃত্যু ছিল ৩১০। ২০১৫ সালে সেটি কমে দেড়শতে নেমে আসে। সেদিক থেকে দেখলে জরায়ুমুখ ও অন্যান্য ক্যানসারজনিত রোগে মৃত্যুহার বেড়েছে।

আমাদের করণীয় কী

জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূল ও আক্রান্তদের রক্ষায় আমাদের বেশ কিছু করণীয় আছে। সেগুলো এখন তুলে ধরছি।

১. আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এইচপিভি টিকাদান। এ নিয়ে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সার্ভিক্যাল ক্যানসার ভ্যাকসিনেশন (জরায়ুমুখ ক্যানসার টিকাদান) কমিটি একটি পাইলট কর্মসূচি চালু করে। সে কর্মসূচির আওতায় ছিল ৬৭ জন মেয়ে, যাদের বয়স ৯ থেকে ১৫ বছর। তাদের মধ্যে ৫০ জনকে টিকা দেয়া হয়। ১৭ জন কন্ট্রোল হিসেবে থাকে। ৯৭.৫ শতাংশ মেয়ের সেরো কনভারশন হয়। ৭ বছর পর তাদের ৯৩.৩ শতাংশের দেহে অ্যান্টি এইচপিভি ১৬/১৮ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গাজীপুরে আরেকটি পাইলট কর্মসূচি নেয়া হয়। ৬ মাসের ব্যবধানে দুটি টিকা দেয়া হয় ১০ বছর বয়সের মেয়েদের। সে কর্মসূচির প্রথম বছরে ৮৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৯৮ শতাংশ মেয়েদের টিকা দেয়া হয়।

টিকাদানের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

(ক) ২০২২ সালের মধ্যে এইচপিভি টিকা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতাভুক্ত করতে হবে।

(খ) বর্তমানে ৯০ শতাংশ টিকাদান কর্মসূচি হয় স্কুলভিত্তিক। স্কুলের বাইরে মেয়ের টিকা দিতে হবে। ছেলেদেরও টিকা দিতে হবে।

(গ) কিছু বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। যেমন: বাল্যবিয়ে না করা, একাধিক যৌনসঙ্গী না রাখা, অল্প বয়সে সন্তান ধারণ না করা, অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার সন্তান প্রসব না করা, ধূমপান না করা, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ৫ বছরের বেশি সময় গ্রহণ না করা, যৌনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা।

১০ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে টার্গেট গ্রুপ হলো ৮ লাখ ৩১ হাজার।

২. জরায়ুমুখ ক্যানসার মোকাবিলায় দ্বিতীয় লক্ষ্য হবে ৭০ শতাংশ নারীকে স্ক্রিনিং বা পরীক্ষার আওতায় আনা। উন্নত দেশে পাপ্স স্মেয়ার প্রচলিত আছে। যথেষ্ট ল্যাবরেটরি ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল না থাকায় বাংলাদেশে ভিআইএ বা ভায়া স্ক্রিনিং পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে স্ক্রিনিং শুরু করা হয়।

এ নিয়ে ২০০৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমউ) পাইলট প্রকল্প শুরু হয়। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল নাগাদ ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভায়া অ্যান্ড সিবিই সক্রিয় কার্যক্রম চালায়। ২০১৮-২১ মেয়াদে ‘ইলেকট্রনিক ডেটা ট্র্যাকিং উইথ পপুলেশন বেইজড সার্ভিক্যাল অ্যান্ড ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম’ নামের কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

বর্তমানে দেশে ভিআইএ কেন্দ্র আছে ৫০০টি। এ মুহূর্তে ভিআইএ সম্পৃক্তদের মধ্যে ২ হাজার ৩৮৬ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাদের মধ্যে ৪০০ চিকিৎসক, ১ হাজার ৯৫৬ নার্স, এফডব্লিউভি ও প্যারামেডিকস রয়েছেন।

দেশে ৭ কোটি ৫ লাখ নারীর মধ্যে টার্গেট গ্রুপ হলো ৩ কোটি। ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভিআইএ পদ্ধতির মাধ্যমে ১০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ১৪.৩ শতাংশের পরীক্ষা হয়েছে। এ সময়ে পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪ লাখ ৪৭১ জনকে। তাদের মধ্যে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৮ হাজার ৩২৬ জনের ফল পজিটিভ এসেছে।

স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু করণীয় রয়েছে। সেগুলো নিচে উল্লেখ করছি।

(ক) দেশের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ৮৬ শতাংশ নারীর স্ক্রিনিং হয়নি। এ কারণে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থাৎ ভিআইএর সঙ্গে প্রাথমিক স্ক্রিনিং টেস্ট হিসেবে এইচপিভি ডিএনএ টেস্টের প্রবর্তন করতে হবে।

(খ) পলিসি প্রবর্তন গাইডলাইন তৈরি করতে হবে।

(গ) ন্যাশনাল স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম বা জাতীয় পরীক্ষা কর্মসূচির আওতায় ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের টার্গেট গ্রুপ হিসেবে নিতে হবে।

(ঘ) ডব্লিউএইচওর মতে, একজন নারীর জীবনে দুবার পরীক্ষা করালে আর জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রয়োজন হয় না। দুবার পরীক্ষার মধ্যে কমপক্ষে ৫ বছর বিরতি দিতে হবে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে কর্মসূচি সাজাতে হবে।

(ঙ) হাসপাতালভিত্তিক পরীক্ষার পরিবর্তে জনসংখ্যাভিত্তিক পরীক্ষা হতে হবে। এ ক্ষেত্রে টার্গেট জনসংখ্যা হবে ৩ কোটি।

এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করা যায়। যেমন: ‘সি অ্যান্ড ট্রিট’ নামে কুড়িগ্রামে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়। ২০১৯ সালের প্রথম সপ্তাহে চালু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত।

এ প্রকল্পের আওতায় ভিআইএ-মিনি কলপোস্কোপি-থার্মোকোয়াগুলেশন পদ্ধতিতে টার্গেট জনসংখ্যা ধরা হয় ৬০ হাজার। এর মধ্যে কাভারেজে এসেছে ৩০ হাজার ৭৫২ বা ৫০ শতাংশ।

কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমেও জরায়ুমুখ ক্যানসার পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৬০০ থেকে ৭০০ নারীকে পরীক্ষা করা হবে। মোট ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে ৯১ লাখ নারীর স্ক্রিনিং সম্ভব হবে।

৩. জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূল পরীক্ষার লক্ষ্য নিশ্চিতের পাশাপাশি আরেকটি দিক মাথায় রাখতে হবে। সেটি হলো পরীক্ষার বিষয়টি বাস্তবায়ন কারা করবে। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় নজরে আনতে হবে।

(ক) বিভাগীয় পর্যায়ে ৮টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ক্যানসার সেন্টার এবং অন্যান্য সেন্টারে জরায়ুমুখ ক্যানসার পরীক্ষা করাতে হবে। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের এর আওতায় আনতে হবে।

(খ) চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এইচপিভি জিনোটাইপের জন্য পিসিআর ল্যাব প্রস্তুত করতে হবে।

(গ) সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ৮টি বিভাগীয় ক্যানসার সেন্টারে পিসিআর ল্যাব তৈরি করতে হবে।

(ঘ) লক্ষ্য অর্জনে বর্তমানে উন্নয়নশীল ১০টি দেশ প্রাইমারি স্ক্রিনিং হিসেবে ভিআইএর পরিবর্তে এইচপিভি ডিএনএ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঢাকায় ৬৮টি পিসিআর ল্যাব, অন্যান্য শহরে ৫০টি পিসিআর ল্যাবসহ ১১০টি ল্যাবকে এইচপিভি জিনোটাইপিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে বিএসএমএমইউ, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ওজিএসবি হাসপাতালে এ ধরনের ল্যাব আছে।

(ঙ) নারীরা যেন নিজেরাই সোয়াবের মাধ্যমে স্যাম্পল নিতে পারেন, সে জন্য ভিডিও প্রদর্শনীর আয়োজন করতে হবে।

(চ) শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী, ক্যানসার সারভাইভার, সেবাদানকারী মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

৪. জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে তৃতীয় লক্ষ্য হলো ক্যানসারপূর্ব অবস্থায় থাকা এবং শনাক্ত হওয়া ৯০ শতাংশ নারীকে চিকিৎসা দেয়া।

বিএসএমএমইউয়ের গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, এনআইসিআরএইচ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে এ চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।

প্রতিটি জরায়ুমুখ ক্যানসারজনিত মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ এই ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। বর্তমানে বছরে ৪ লাখ নারীর স্ক্রিনিং হচ্ছে। কাজেই ৭০ শতাংশ নারীকে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা খুব কঠিন হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদের আরও পর্যালোচনা দরকার।

পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়া নারীদের দুইভাবে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। ডব্লিউএইচওর মতে, আলাদাভাবে ট্রেয়াজের মাধ্যমে একত্রিত করা। এ ক্ষেত্রে ভিআইএর আওতাধীন কলপোস্কপি/সিটোলোজি কিংবা ট্রিটিং স্ক্রিন অ্যান্ড ট্রিট তথা একই সময়ে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

(ক) প্রতিটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে কলপোস্কপি ক্লিনিক তৈরি

(খ) বিভাগীয় ৮টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ক্যানসার সেন্টারে

চিকিৎসকদের কলপোস্কপি, ক্রিয়োথেরাপি, থার্মাল অ্যাবলেশন, লিপ প্রসিডিউর বিষয়ে প্রশিক্ষণ।

(গ) ক্যানসারের সার্জারির জন্য আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণদান।

(ঘ) এনজিও, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেজ তৈরি।

(ঙ) ক্যানসার রেজিস্ট্রি, মৃত্যুহার রেজিস্ট্রির মধ্যে সংযোগ স্থাপন।

(চ) রেডিও থেরাপি ও কেমোথেরাপির প্রসার।

(ছ) পেলিয়েটিভ সেবার প্রসার।

(জ) স্বাস্থ্যবিমার প্রবর্তন।

আসুন আমরা সবাই মিলে সচেতন হই ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে থেকে জরায়ুমুখ ক্যানসারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে পৃথিবীর বুকে নতুন ইতিহাস রচনা করি।

লেখক: অধ্যাপক ও ইউনিট প্রধান, গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সদস্য সচিব, অনকোলজি কমিটি ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সচিব, ওজিএসবি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

মতামত
There is no death in a month in Corona

করোনায় মৃত্যুহীন এক মাস

করোনায় মৃত্যুহীন এক মাস সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল এক জনের মৃত্যুর খবর এসেছিল। ফাইল ছবি
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। এ সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫০ জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়ে এক মাস মৃত্যুশূন্য দেশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল এক জনের মৃত্যুর খবর এসেছিল।

শুক্রবার বিকেলে বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই শনাক্ত হয়েছেন ৪৫ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন করে এক দিনে কোনো মৃত্যু না থাকায় মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ১২৭ জনে রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৮।

নতুন করে করোনা শনাক্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪৫ জন। রাজশাহীতে দুইজন; নওগাঁ, জয়পুরহাট ও সিলেটে একজন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬ হাজার ৩১৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৫০ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের নতুন হার শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ।

সরকারি হিসাবে গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন আরও ২২১ জন। এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ৫৭৫ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনে ভর করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসে।

এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। সংক্রমণ এতটাই বেড়ে যায় যে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

দেশে করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয় গত বছরের ১১ ডিসেম্বর। এরপর দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। ২০ জানুয়ারি করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে প্রবেশ করে দেশ। ২৮ জানুয়ারি করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ দাঁড়ায়, যা দেশে করোনা সংক্রমণ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। এই ঢেউ নিয়ন্ত্রণেও আসে তুলনামূলক দ্রুত।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যুহীন দিন, শনাক্ত কমে ১৮
শনাক্ত বেড়ে ৩৩, মৃত্যুহীন দিন
করোনায় টানা ২০ দিন মৃত্যুহীন দেশ
হঠাৎ বাড়ছে শনাক্ত, মৃত্যু নেই ১৯ দিন
ছয় জেলায় শনাক্ত ২৩, মৃত্যু নেই

মন্তব্য

মতামত
Private medical colleges are not following the instructions

নির্দেশনা মানছে না বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ

নির্দেশনা মানছে না বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ নির্দেশনা মানছে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
দেশে ৭২টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধিকাংশই অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক সংখ্যা, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, অবকাঠামো, পাঠদান ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া হলেও তারা তাতে সাড়া দিচ্ছে না। উল্টো ক্ষমতা ও তদবিরের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানে উন্নত শিক্ষা লাভের সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এ জন্য সব বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষকসংখ্যা, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, অবকাঠামো, পাঠদান ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো এতে সাড়া দিচ্ছে না।

বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। তাদের নির্দেশনার তোয়াক্কা করছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে ৭২টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধিকাংশই অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চলছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকসংখ্যা, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, অবকাঠামো, পাঠদান ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া হলেও তারা তাতে সাড়া দিচ্ছে না। উল্টো ক্ষমতা ও তদবিরের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সময় বেসকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে নানা অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে সংকট কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃত চিত্র জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অধিদপ্তর তথ্য চেয়ে একাধিকবার চিঠিও দেয়। কিন্তু গত বছরের ১৩ অক্টোবরের পর থেকে মাত্র ২৮টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিগুলো পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়নি। যারা দিয়েছে তাদের অনেকের নাজুক পরিস্থিতি দেখা গেছে।

কলেজগুলোয় জোড়াতালির পাঠদানে মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসক তৈরির নামে স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও তারা রোগীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।

স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি মোট ১০৭টি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনসংখ্যা ১০ হাজার ৬৯৭। তার মধ্যে ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৪ হাজার ৩৫০ এবং ৭০ বেসরকারি কলেজে আসন রয়েছে ৬ হাজার ৩৪৭টি। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশেরই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণ, উন্নত মানের ল্যাবরেটরি, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর জন্য সুবিধা খুবই কম। ফলে এখান থেকে পাস করা চিকিৎসকদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। তবে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজেগুলো অসহযোগিতার কারণে এটি করা সম্ভব হচ্ছে না। অধিদপ্তর থেকে বেসরকারি মেডিক্যালের সার্বিক উন্নয়নে তাদের নজরদারি কার্যক্রম চলমান আছে। এ ধারাবহিকতায় একাধিক কলেজে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে সুপারিশসহ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অধিভুক্তি হালনাগাদ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ২০১২ সালের পর থেকে তা করা হয়নি। ৫৮ শতাংশ বেড অকুপেন্সি ঘাটতিসহ প্রায় সব বিভাগে শিক্ষক, ল্যাব, শ্রেণিকক্ষের সরঞ্জাম, লাইব্রেরির আসন এবং সার্ভিস রুলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে ২০১৮-১৯ থেকে সর্বশেষ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের জন্য অ্যাকাডেমিক অনুমোদন নবায়ন করার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সব শর্তাবলির দৃশ্যমান উন্নয়ন আবশ্যক বলে মন্তব্য করা হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ভর্তির আসন বৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর কমিটির কাছে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে ৮০ শতাংশ কলেজ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ নীতিমালা পরিপূর্ণভাবে মানতে পারছে না। এর মধ্যে ৩০ শতাংশের মতো প্রায় শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে দেশের বাইরে আছি। দেশে ফিরে বিস্তারিত কথা বলতে পারব। বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারবেন।’

অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. এ কে এম আহসান হাবিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবার মান উন্নয়নে দফায় দফায় চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কয়েক বছরে সাতটি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু কলেজগুলো বিভিন্ন সময় উচ্চ আদালতে রিট করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। অধিদপ্তর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিলেও বিভিন্ন সময় উচ্চপর্যায়ের তদবিরে কার্যত্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনেক কলেজ চিকিৎসা শিক্ষাদানে বেশ ভালো করছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চিকিৎসা আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক ডা. রশীদ ই মাহবুব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে আশির দশক থেকে শুরু করে প্রায় ৪০ বছর ধরে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে কথা হচ্ছে। কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশ লাগে, যা আজ অবধি সম্ভব হয়নি। আইন না থাকায় কোনো রকমে একটি নীতিমালা করে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সরকারিভাবে অনুমোদন নিয়ে অধিকাংশই নামকা ওয়াস্তে পরিচালিত হচ্ছে।

‘প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শনে বিএমডিসি, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার রয়েছে। তাদের কোনো সমন্বয় নেই। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও বিএমডিসির লাইসেন্স ছাড়া প্রায় সবকিছু প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষক, অবকাঠামো, মান নিয়ন্ত্রণ কোনোটাই সঠিকভাবে হচ্ছে না। এতে করে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জন করলেও সবাই পেশা-জীবনে তা প্রয়োগ করতে পারছে না, দক্ষ হচ্ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। এ জন্য আইন করে মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে।’

বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার বাধ্যবাধকতা রেখে গত বছরের ৩ মে এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নতুন আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য গত ৩০ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ বিল-২০২২’ সংসদে তোলেন। বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

ওই বিলে বলা হয়েছে, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজের প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১:১০। কোনো বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদিত পদের ২৫ শতাংশের বেশি রাখা যাবে না। বেসরকারি মেডিক্যাল বা ডেন্টাল কলেজে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় কমপক্ষে দুই একর এবং ডেন্টাল কলেজের জন্য এক একর জমি থাকতে হবে। অন্য এলাকায় এই জমির পরিমাণ চার একর ও দুই একর হতে হবে। এই জমি সংশ্লিষ্ট কলেজের নামে নিরঙ্কুশ, নিষ্কণ্টক, অখণ্ড ও দায়মুক্ত হতে হবে। মেডিক্যাল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজ এবং এর অধীন পরিচালিত হাসপাতাল কোনোভাবেই ইজারা বা ভাড়া নেওয়া জমিতে বা ভবনে স্থাপন করা যাবে না।

মন্তব্য

মতামত
Obesity is highest in Rangpur

স্থূলতা সবচেয়ে বেশি রংপুরে

স্থূলতা সবচেয়ে বেশি রংপুরে দেশের সাড়ে ২৬ শতাংশ মানুষ স্থূলতার সমস্যায় ভুগছেন। ছবি: সংগৃহীত
গবেষণায় উঠে এসেছে, অঞ্চলভেদে স্থূলতার হার সবচেয়ে বেশি রংপুরে। এই বিভাগের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ স্থূলতায় ভোগেন।

দেশের সাড়ে ২৬ শতাংশ মানুষ স্থূলতার সমস্যায় ভুগছেন। আর অঞ্চলভেদে স্থূলতার হার রংপুরে সবচেয়ে বেশি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক গবেষণায় জানা গেছে।

রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বৃহস্পতিবার এক সেমিনারে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অঞ্চলভেদে স্থূলতার হার সবচেয়ে বেশি রংপুরে। এই বিভাগের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ স্থূলতায় ভোগেন। ঢাকায় এই হার ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২৯ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ, সিলেটে ২৩ শতাংশ, বরিশালে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ ও ময়মনসিংহে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। খুলনায় এই হার ১৪ শতাংশ।

স্থূলতার সমস্যা আগে শুধু বয়স্কদের মধ্যে দেখা দিলেও এখন তরুণদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বলে গবেষণায় জানা গেছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশের জনগণের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের ৫৫ দশমিক ১ শতাংশের স্থূলতার সমস্যা রয়েছে। ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০ থেকে ২৪ বয়সীদের ২৯ শতাংশ ও ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৮ দশমিক ২ শতাংশের স্থূলতার সমস্যা রয়েছে।

স্থূলতায় শহর অঞ্চলের মানুষ বেশি ভুগছেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। শহর অঞ্চলের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ স্থূলতায় ভোগেন আর গ্রামে এই হার ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।

সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাবার সুস্থ থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একবার মুটিয়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা অনেক কঠিন। কিন্তু আমরা একটু সচেতন হলে, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা যদি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পালন করতে পারি, তবে স্থূলতার ভয়াল থাবা থেকে আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের রক্ষা করা সম্ভব।’

দেশে সংক্রামক রোগের চেয়ে অসংক্রামক রোগ দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে জানান তিনি।

এটি প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস স্থূলতা বাড়াচ্ছে
দেহের ওজন কমাবে মুখ বন্ধ রাখার ডিভাইস!

মন্তব্য

মতামত
1900 deaths per day in the country due to non communicable diseases

অসংক্রামক রোগে দেশে দিনে ১৯০০ মৃত্যু

অসংক্রামক রোগে দেশে দিনে ১৯০০ মৃত্যু বৃহস্পতিবার বনানীতে হোটেল শেরাটন আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ একবার দেখা দিলে আজীবন চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল। এই রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধিতে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায়ও।’

বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে বছরে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ (৭ লাখ) মৃত্যুই অসংক্রামক রোগে ঘটে থাকে। সে হিসাবে দেশে দিনে গড়ে এক হাজার ৯০০ মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটন আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে এ কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হারে বাড়ছে। আগে এই রোগের প্রবণতা বয়স্ক মানুষের মধ্যে দেখা যেত। এখন তরুণরাও আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষের জীবনাচার পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ।

‘দেশে প্রতিবছর ১০ লাখ মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে। এর মধ্যে ৭ লাখই মারা যায় অসংক্রামক রোগে। সে হিসাবে প্রতিদিন মারা যায় ১৯০০ মানুষ।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ একবার দেখা দিলে আজীবন চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল। এই রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধিতে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায়ও।

‘আমরা ভালো ও উন্নত চিকিৎসা দিতে গেলে গবেষণা দরকার। গবেষণা থাকলে সঠিক দিকনির্দেশনা আসে। তাতে করে নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হয়।

‘আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংক্রামক রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরই মাঝে অসংক্রামক রোগ বেড়ে গেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে মানসিক সমস্যা বেড়েছে। এর প্রভাবে আত্মহত্যা বাড়ছে।

এমন বাস্তবতায় আজ (বৃহস্পতিবার) মানসিক স্বাস্থ্য পলিসি কেবিনেট নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

সেমিনারে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন-অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। বলেন, ‘দেশে ৩৮টি মেডিক্যাল কলেজ ও পাঁচটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এগিয়ে গেছে। একইসঙ্গে সমস্যাও বেড়েছে। ভালো স্বাস্থ্য সেবার জন্য প্রয়োজন অবকাঠামো, ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর্মী। স্বাস্থ্য খাত সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল। আমারা টিবি, কলেরা, ডায়রিয়া নিয়ে কাজ করেছে। এসব এখন নিয়ন্ত্রণে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন। বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবীরসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন:
করোনায় হাসপাতালে বেড়েছে সুবিধা, এখন সেবায় নজর মন্ত্রীর
করোনা চিকিৎসায় বাংলাদেশ রোল মডেল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনা নিয়ন্ত্রণে বলেই অর্থনীতি ভালো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে, প্রস্তুত হোন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 
বুস্টার ডোজের বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু শিগগিরই

মন্তব্য

মতামত
There are 35 patients in four districts and 33 in Dhaka division

চার জেলায় ৩৫ রোগী, ঢাকা বিভাগেই ৩৩

চার জেলায় ৩৫ রোগী, ঢাকা বিভাগেই ৩৩ চার জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩৫ জন। ফাইল ছবি
নতুন করে করোনা শনাক্তদের মধ্যে ঢাকার ৩১ জন ও গাজীপুরের দুজন। এ ছাড়া দিনাজপুর ও কক্সবাজারে একজন করে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই শনাক্ত হয়েছেন ৩৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে টানা ২৯ দিন মৃত্যুশূন্য দেশ। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল একজনের মৃত্যুর খবর এসেছিল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন করে এক দিনে কোনো মৃত্যু না থাকায় মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ১২৭ জনে রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ১৩৮। নতুন করে করোনা শনাক্তদের মধ্যে ঢাকার ৩১ জন ও গাজীপুরের দুজন। এ ছাড়া দিনাজপুর ও কক্সবাজারে একজন করে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৫ হাজার ৮৬৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৫ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের নতুন হার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ।

সরকারি হিসাবে গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন আরও ২১৬ জন। এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ৩৫৪ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনে ভর করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসে।

এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। সংক্রমণ এতটাই বেড়ে যায় যে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

দেশে করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয় গত বছরের ১১ ডিসেম্বর। এরপর দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। ২০ জানুয়ারি করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে প্রবেশ করে দেশ। ২৮ জানুয়ারি করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ দাঁড়ায়, যা দেশে করোনা সংক্রমণ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। এই ঢেউ নিয়ন্ত্রণেও আসে তুলনামূলক দ্রুত।

আরও পড়ুন:
শনাক্ত বেড়ে ৩৩, মৃত্যুহীন দিন
করোনায় টানা ২০ দিন মৃত্যুহীন দেশ
হঠাৎ বাড়ছে শনাক্ত, মৃত্যু নেই ১৯ দিন
ছয় জেলায় শনাক্ত ২৩, মৃত্যু নেই
মৃত্যুহীন দিনে শনাক্ত ১৯

মন্তব্য

মতামত
Mental health policy policy approval

মানসিক স্বাস্থ্যপলিসি নীতিগত অনুমোদন

মানসিক স্বাস্থ্যপলিসি নীতিগত অনুমোদন প্রতীকী ছবি
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা ও সেই সেবা প্রাপ্তি কীভাবে সহজ করা যায়, মাঠ পর্যায়ে কীভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কীভাবে তাদেরও সমাজজীবনের অংশ করা যায় সেই জন্য এই স্বাস্থ্যনীতিটা।’

স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি মানসিক সমস্যাকে গুরুত্ব দিতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্যনীতি, ২০২২'-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

পরে সচিবালয়ে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এটা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। এটা বিশ্বব্যাপী একটা ট্রেন্ড যে মানসিক স্বাস্থ্য ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা অসম্পূর্ণ। সুতরাং যখনই স্বাস্থ্যের কথা আসবে, তখনই মানসিক স্বাস্থ্যের কথা আসবে।

‘আমাদের যেটা সার্ভে আছে সেখানে দেখা যায় যে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রায় ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ মানসিক রোগে অসুস্থ। এই সংখ্যাকে অ্যাড্রেস করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘সেই জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা ও সেই সেবা প্রাপ্তি কীভাবে সহজ করা যায়, মাঠ পর্যায়ে কীভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কীভাবে তাদেরও সমাজজীবনের অংশ করা যায় সেই জন্য এই স্বাস্থ্যনীতিটা।

‘এখানে বিশেষজ্ঞদের একটি দল গঠন করে তাদের নিয়ে চার-পাঁচ বছর ধরে কাজ করে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে তারপর এটা করা হয়েছে। জাতিসংঘের ইউএনসিআরপিডির কনভেনশন আছে যে মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানবাধিকার বিষয়টিকে যেন বিবেচনা করা হয়।’

আরও পড়ুন:
করোনায় মানসিক সমস্যায় ৮৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

মন্তব্য

মতামত
21 percent of the population suffers from high blood pressure

‘জনসংখ্যার ২১ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে’

‘জনসংখ্যার ২১ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে’ বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা
‘আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। শুধু হাসপাতাল বানিয়ে উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ থেকে জাতিকে রক্ষা করা যাবে না।’

বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। অর্থাৎ প্রতি পাঁচ জনে একজন এ রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক রোবেদ আমিন।

বুধবার রাজধানীর ফার্স হোটেলে ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। এর কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এই রোগের প্রকোপ ও বিস্তার কমাতে সম্মিলিত কাজ করার আহবান জানান তিনি।

বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি প্রোগ্রাম, প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ সম্মিলিতভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং দীর্ঘজীবী হোন।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, ‘আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। শুধু হাসপাতাল বানিয়ে উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ থেকে জাতিকে রক্ষা করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের বিষয়ে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘অধিকাংশ সময় এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ থাকে না। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা করা না হলে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইল এবং হার্ট বিট অনিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি স্ট্রোক হতে পারে।’

এ ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনির ক্ষতি হয়। নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২০১৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এনসিডি কর্নার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং ফলোআপ কার্যক্রম চলছে। সারাদেশে এই এনসিডি কর্নারের সংখ্যা ২০০তে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী ও কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মীর ইশরাকুজ্জামান এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।

আরও পড়ুন:
ওষুধ বন্ধ করে ঝুঁকিতে উচ্চ রক্তচাপের রোগী
লবণ কম খেলে ‘অর্ধেকে নামবে’ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গাজর খান

মন্তব্য

উপরে