আফগানিস্তান কি গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে

আফগানিস্তান কি গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে

বাইডেন প্রশাসন এই সময়কাল ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল এবং প্রতীকী ৯/১১ দিনে এই সৈন্য প্রত্যাহারটি সম্পন্ন হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে এসেছিল তালেবানদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম শেষ করার জন্য- তবে এখন তারা চলে যাচ্ছে এমন এক সময়ে যখন তালেবানরা ক্রমাগত ক্ষমতায়িত হচ্ছে, এবং শিগগিরই তারা আফগানিস্তানের দখল নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার শুরু হতে না হতেই তালেবানরা দেশজুড়ে শতাধিক জেলা বা এক তৃতীয়াংশ দখল নিয়েছে। আফগানিস্তানের ৩৮৭টি জেলার মধ্যে এখন লড়াই চলছে ১১৬ জেলায়। তবে তালেবান বলছে, ৩৪টি প্রদেশের ২০০ জেলা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

১৯১৯ সালে ব্রিটিশ শাসন ও শোষণ থেকে আফগানিস্তান মুক্তি লাভ করে। ১৯৬০ সালের দিকে রাজা জহির শাহের নেতৃত্বে আফগানিস্তান সব সূচকে উন্নয়নের শীর্ষে ছিল। ১৯৭১ সালে দাউদ খান বিদ্রোহ করে আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।

১৯৭৮ সালে আফগানিস্তানে রাশিয়া সমর্থক কমিউনিস্ট পার্টির আরেকটি পাল্টা অভ্যুথান ঘটেছিল। নতুন সরকার গঠিত হয়েছিল তবে কমিউনিস্ট পার্টির মূল বিষয় ভূমি সংস্কারের প্রশ্নে প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত রাশিয়া কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আফগানিস্তানে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিল, তবে তারা পরাজিত হয় এবং ১৯৮৯ সালে তাদের প্রত্যাহার করা হয়, যা ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের অন্যতম কারণ ছিল। সেই সময় তালেবানরা আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহায়তায় আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আধিপত্য রুখতে সক্ষম হয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই আমেরিকার মদতে গড়া বাহিনী আমেরিকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিতাড়িত করতে আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতায় যে তালেবানি শক্তির উত্থান ঘটে, সেই তালেবানি শক্তিই আমেরিকার জন্য বড় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল কায়েদা জঙ্গিরা ছিনতাই করা যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে হামলার ফলে আমেরিকা আল কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৯/১১ হামলার জন্য দায়ী করা হয় আল কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে। আফগানিস্তানে তালেবানের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন এবং বাকিদের ধরতে মার্কিন নেতৃত্বে শুরু হয় অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আফগানিস্তান যুদ্ধে যোগ দেয় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। যুদ্ধ শুরুর দুই মাসের মধ্যেই আফগানিস্তানের শাসনক্ষমতা থেকে তালেবানদের উৎখাত করা হয়। দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ইতিহাসে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আফগান যুদ্ধই হচ্ছে দ্বিতীয় দীর্ঘতম যুদ্ধ।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে অস্থায়ীভাবে আল কায়েদারদের তাড়িয়ে দেয়। এটি অর্জনে এই যুদ্ধে ৩,৫০০ এরও বেশি বিদেশি সেনা এবং ১০ লাখেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। গত ২০ বছরের জীবন, জীবিকা এবং অর্থ ব্যয়ের দিক দিয়ে এই সামরিক অভিযান সবচেয়ে ব্যয়বহুল। মার্কিন করদাতার জন্য অপ্রাপ্তির এই যুদ্ধে এতো মার্কিন ডলার ব্যয় এক বিস্ময়কর ঘটনা। বিশ বছর পেরিয়ে গেলেও ন্যাটো বাহিনী এখনও আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ।

ট্রাম্প প্রশাসন আফগানিস্তানের ইস্যুতে মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি থামাতে চেয়েছিল, তারা যুক্তি দিয়েছিল যে, ২০০১ সালের চেয়ে দেশটি আরও ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং তালেবানরা আরও উন্মুক্ত মনের অধিকারী হয়েছে। আর তাই আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তালেবানদের চুক্তি অনুসারে ২০২১ সালের ১ মের মধ্যে, সমস্ত বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

বাইডেন প্রশাসন এই সময়কাল ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল এবং প্রতীকী ৯/১১ দিনে এই সৈন্য প্রত্যাহারটি সম্পন্ন হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে এসেছিল তালেবানদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম শেষ করার জন্য- তবে এখন তারা চলে যাচ্ছে এমন এক সময়ে যখন তালেবানরা ক্রমাগত ক্ষমতায়িত হচ্ছে, এবং শিগগিরই তারা আফগানিস্তানের দখল নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার শুরু হতে না হতেই তালেবানরা দেশজুড়ে শতাধিক জেলা বা এক তৃতীয়াংশ দখল নিয়েছে। আফগানিস্তানের ৩৮৭টি জেলার মধ্যে এখন লড়াই চলছে ১১৬ জেলায়। তবে তালেবান বলছে, ৩৪টি প্রদেশের ২০০ জেলা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে মার্কিন-তালেবান শান্তিচুক্তি ভবিষ্যৎ ফল নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষক মহলে ধারণা।

আফগানিস্তানে মার্কিন প্রশাসনের নয়া পরিকল্পনা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আফগান রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতন্ত্রপন্থি সব পক্ষকে একত্রিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও প্রতিনিধিত্বও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আফগানিস্তানে বাইডেনের এই পরিকল্পনার অনেক বিরোধী রয়েছে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ ঘানির সরকার অন্তর্বর্তীকালীন কিংবা তথাকথিত অংশগ্রহণমূলক সরকার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধী।

আশরাফ ঘানি বারবার এ পদক্ষেপকে সরকারের ‘ক্ষমতাচ্যুতির পরিকল্পনা’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন-তালেবান সম্পাদিত চুক্তিতে অনেক কিছুই স্পষ্ট করে বলা নেই। যেমন-আফগানিস্তানের শাসনপদ্ধতি কেমন হবে, বিশেষ করে চুক্তি অনুসারে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহার করা হলে, তখন কাবুলের বর্তমান সরকারের ক্ষমতার পরিধি কেমন হবে সেই বিষয়ে স্পষ্টভাবে চুক্তিতে কিছু বলা নেই।

চুক্তি নিয়ে আফগানিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকার হতাশা ব্যক্ত করেছে। চুক্তির শর্তে রয়েছে, ৫০০০ তালেবান জঙ্গি, যারা আফগান সরকারের হাতে বন্দি, তাদের মুক্তি দিতে হবে। আশরাফ ঘানি বলেছেন, অপরাধীকে মুক্ত করে দিতে হবে, এমন শর্ত চুক্তিতে থাকা উচিত নয়।

অপরদিকে তালেবানরা গণতন্ত্রের প্রতি সহানুভূতি দেখালেও তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা। তাই বর্তমান আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানদের আদর্শগত চূড়ান্ত বিরোধ রয়েছে। নারী নেতৃত্ব ও নারী অধিকার নিয়েও সরকার ও তালেবানদের মধ্যে রয়েছে প্রকট বিরোধ। তাই তালেবানদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা কতটা বাস্তবসম্মত, সেটা নিয়েও রয়েছে সংশয়। কারণ তালেবানদের পক্ষে তাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। যদি কখনও শান্তির স্বার্থে তারা সরে আসতেও চায়, তাহলে তাদের অভ্যন্তরে দলীয় কোন্দল ও ভয়াবহ সংঘাত সৃষ্টি হবে বলা যায়। তবে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলেও আফগানিস্তানে শান্তি কতটা প্রতিষ্ঠা হবে সে নিয়েও রয়েছে বড় সংশয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন সৈন্যের অনুপস্থিতির সুযোগে আফগানিস্তানে আবারও তালেবান ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা শতভাগ। কেননা, বর্তমান সরকারের পক্ষে তালেবানদের মোকাবিলা সম্ভব হয়ে উঠবে না। ফলে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরু হবে আফগানিস্তানে।

সম্প্রতি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী গোপনে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর হতে তালেবান আফগানিস্তানে শাসনক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে, একের পর এক জেলা ও প্রদেশ দখলে নিচ্ছে এবং তালেবানের হাতে সরকারি বাহিনী অসহায় আত্মসমর্পণ করছে অথবা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে পিছু হটছে। যদিও প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের পাশে আছে। কিন্তু পাশে থেকে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখবে বা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো কী হবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছুই বলেননি মি. বাইডেন।

২০০১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২০-এর জানুয়ারি পর্যন্ত ৮২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এছাড়া ২ হাজার ৩০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ২০ হাজার ৬৬০ সেনা আহত হয়েছে। বলাবাহুল্য, এত ক্ষতির পরেও যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার তেমন বিশেষ কোনো কারণ এখন আর নেই। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ এসে হাজির হয়েছে। তাই আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা হলো কি না হলো সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তেমন আগ্রহ নেই।

পশ্চিমা বিশ্ব তথা যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের ছোট খাটো জঙ্গি দলগুলকে বর্তমানে নিজেদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছে না। বরং চীন এবং কোভিড মোকাবিলাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত মনোযোগকে ঘিরে রেখেছে। কিন্তু আলকায়েদা এবং আইএসআই খোরাসানের তৎপরতা যদি বাড়ে তাহলে সেটা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের জন্যও হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পশ্চিমা বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এ অঞ্চলে নীরব থাকা জঙ্গি সংগঠনগুলো আফগান ভূমিকে তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ আগেই দেখা গেছে তালেবান গোষ্ঠী আল-কায়েদাদের সমর্থন দিয়েছিল। এমন অবস্থায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়াও খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেটা আফগানিস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ তথা দক্ষিণ এশিয়াসহ পশ্চিমা বিশ্বের জন্যও অবশ্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে যেটাই হোক, কোনো কিছুই এখানে নিশ্চিতরূপে বলা না গেলেও এটা মোটামুটি ধারণা করা যায় যে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সামনে অবশ্যম্ভাবী গৃহযুদ্ধ এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার সম্ভাবনাকে ছাপিয়ে শান্তি ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আফগানবাসীদের এখনও এক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে।

বর্তমানে আফগানিস্তানের বাস্তবতা হচ্ছে- সেখানে তালেবানই প্রধান শক্তি। শহর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে বেশি থাকলেও শহরের বাইরে পুরো আফগানিস্তানের এক তৃতীয়াংশ তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে তালেবান। তখন তারা আরও শক্তিশালী হবে। হয়ে উঠবে অপ্রতিরোধ্য। বিপরীতে আফগান সরকার হয়ে পড়বে অসহায়। আমেরিকান ও ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হলে তালেবানের সামনে সরকারি বাহিনীর পতন কেবলই সময়ের ব্যাপার। ধারণা করা হয় যে, তালেবান যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় চার লাখ। তাদের মনোবল এখন তুঙ্গে।

অপরদিকে সরকারি বাহিনীর সদস্য সাকুল্যে দেড় লাখের নিচে, যাদের মনোবল একেবারেই ভঙ্গুর। এই অবস্থায় দুই পক্ষ যুদ্ধের মাধ্যমে নিষ্পত্তি চাইলে এ মুহূর্তে তালেবানের জয় হবে। সংকট নতুন রূপ গ্রহণ করবে। কাজেই সরকার ও তালেবান উভয়পক্ষকে ছাড় দিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে ঐকমত্য সরকার গঠন করে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে। আর সেটা যদি না হয় আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে সুদূরপরাহত।

এ মুহূর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে সকল বিবদমান পক্ষকে আলোচনার টেবিলে এনে ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার রূপরেখা নির্ধারণ করা। তালেবান নেতৃত্বেই এই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে হবে। আফগানিস্তানে কার্যকর শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে।

এর মধ্যে থাকবে প্রথমত ফেডারেল ধরনের শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রদেশগুলো একরকম স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনার সুযোগ পাবে। দ্বিতীয়ত, সকল পক্ষ বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে সমান্তরাল পররাষ্ট্র সম্পর্ক তৈরি করা।

অন্য কোনো দেশের জন্য ক্ষতিকর সন্ত্রাসী গ্রুপকে লালন-পালনের সুযোগ না দেয়া। তৃতীয়ত, সরকারের বাহিনীর সঙ্গে তালেবান মিলিশিয়ার একটি আনুষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে একক বাহিনীতে সমন্বয় এবং অন্য সব মিলিশিয়াদের বিলোপ সাধন। তবে সেটা অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। পরাশক্তিগুলোর আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আফগানিস্তানে যুগ যুগ ধরে চলা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে সেখানে এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধন হয়নি। ভবিষ্যতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সকল দলের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে শান্তির বাতাবরণ পরিবেশ সৃষ্টি করে আফগানিস্তানে শান্তি ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটের আশু সমাধান জরুরি।

লেখক: গবেষক-কলাম লেখক, সাবেক উপমহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের সঙ্গে ‘প্রতারক’দের বিচার হবে তো
পুলিশ হেফাজতে নারীর নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ কেন
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ: জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করা জরুরি
ইনডেমনিটি সভ্যতার কলঙ্ক
ইনডেমনিটি কলঙ্কিত অধ্যায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য